জেলা প্রশাসকদের ২৫ দফা দিক নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকভাবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটা বিপর্যয় চলছে। তাই অপ্রয়োজনীয় খরচের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ২৫টি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ দিকনির্দেশনাগুলো দেন তিনি।

সরকারের আর্থিক কারণে ইভিএম কেনা বাতিল করা হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সময়ে ইভিএম অগ্রাধিকার নয়। এখনই প্রয়োজন নয়, এমন খাতে ব্যয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার। এখন মূলত মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কল্যাণকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ২৫ নির্দেশনা হলোঃ 

১. খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৩. সরকারি অফিসসমূহে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।

৪. সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে।

৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

৬. দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রসমূহ যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে।

৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

১২. সরকারি দপ্তরসমূহের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলায় সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।

১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

১৪. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করতে হবে।

১৫. মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সেজন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

১৭. বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সঙ্কট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

১৯. সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে।

২০. নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়াতে হবে। সুইচগেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে।

২২. পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার, বিপণন ও ব্র্যান্ডিং করতে হবে।

২৪. জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

২৫. জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ, নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি প্রমুখ।

স্নাতক পাসে নিয়োগ দেবে এসিআই

চাকরির খবরঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই)। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ফিল্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ’ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সহজে আবেদন করতে পারেন।

পদের নামঃ ফিল্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাঃ প্রার্থীকে যেকানো বিষয়ে স্নাতক/ স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে। বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর ।

কর্মস্থলঃ বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।

বেতনঃ আলোচনা সাপেক্ষে।

আবেদনের প্রক্রিয়াঃ আগ্রহী প্রার্থীরা  https://hotjobs.bdjobs.com/jobs/aci/aci1446.htm   – এই লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ তারিখঃ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩।

সূত্রঃ বিডিজবস

রায়পু‌রে নির্মান শ্র‌মি‌কের করুন মৃত্যু!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পু‌রে ভব‌নের ছাদ থে‌কে প‌ড়ে এক নির্মান শ্র‌মি‌কের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। ঘটনাটি ঘ‌টে রায়পুর উপ‌জেলার নতুন বাজার এলাকায়। সোমবার (২৩ জানুয়া‌রি) নতুনবাজারের খাজুরতলা এলাকার একটি তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মোঃ রানা (৩৫) না‌মে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। জানা যায় ১০টায় ছাদে কাজ করার সময় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এই নির্মম দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহত শ্রমিক মোঃ রানা (৩৫) পৌরসভার মধুপুর গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে।

নিহতের বন্ধু মোঃ মাসুদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রানা কাজ খোঁজ করছিলেন। দু,দিন আগেও সে তার কাছে আসে এবং সোমবার সকালে খাজুরতলায় প্রবাসি জিহাদের ভবনের ছাদের সামনের অংশে কিভাবে রং লাগাবেন তা দেখতে রানাকে বলেছিলাম। পরে আমরা দুই জন কাজ করবো।  কিন্তু রানা ছাদে উঠার আগেই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গলায় রড ঢুকে গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলাম মৃত ঘোষণা করেন।

রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া জানান, ঘটনা শুনেছি। মৃতদেহটি স্বজনরা তাদের বাড়ীতে নিয়ে গেছেন। কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

থাইল্যান্ডে ভ্যান দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১১জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে চন্দ্র নববর্ষের ছুটিতে একটি যাত্রীবাহী ভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ার পর আগুন ধরে গেলে দুই শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় পুলিশের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ কর্নেল ইংগিওস পোলদেজ বলেন, ভ্যানটি ১২জন যাত্রী নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আমনাত চারোয়েন প্রদেশ থেকে ব্যাংককের দিকে যাচ্ছিল। গত শনিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভ্যানটি মধ্যাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের একটি হাইওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর একজন জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিতে সক্ষম হলেও অন্য যাত্রীরা আগুনে আটকে পড়ে এবং মারা যায়।

বেঁচে যাওয়া ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী থানাচিট কিংকাউ বলেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, অন্যদের চিৎকার শুনে হঠাৎ জেগে উঠি। তিনি বলেন, আমি জেগে উঠলাম এবং ভ্যানটি উল্টে গেছে বুঝতে পারি। কি হয়েছে আমি দেখতে পারিনি।

থানাচিট বলেন, দুর্ঘটনার পর পেছন থেকে শুরু করে পুরো ভ্যানটিকে আগুন গ্রাস করতে শুরু করে। আমি জানালায় লাথি মারতে শুরু করি এবং একটি ছোট গর্তে হামাগুড়ি দিয়ে কোনভাবে বের হতে পেরেছিলাম। এর পরই ভ্যানটি বিস্ফোরিত হয়।

পুলিশ কর্নেল ইংগিওস বলেন, ভ্যানটি জ্বালানি তেল এবং কমপ্রেসড গ্যাস উভয়ই ব্যবহার করত। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে, ভ্যানের গ্যাস ট্যাংকটি ফুটো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে জ্বালানির কারণে ভ্যানটিতে আগুন লেগে যায়।

রাণীশংকৈলে ৬০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ; বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাঠের পর মাঠ শুধু হলুদের বিশাল গালিচা, যতো দূরে চোখ পড়ে শুধু হলুদ আর হলুদ। গতকাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ। শীতের শিশির ভেজা সকালে কুয়াশার চাদরে ঘেরা বিস্তীর্ন প্রতিটি মাঠ যেন হলুদ বর্ণে ঘেরা এক স্বপ্নীল পৃথিবী। যেদিকে তাকাই শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধাঁলো বর্ণীল সমারোহ। মৌমাছির গুণগুণ শব্দে সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পণ এ অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনো মনমুগ্ধকর এক মুহূর্ত। ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির আর সকালের মিষ্টি রোদ ছুঁয়ে যায় সেই ফুলগুলোকে। ভালো ফলনের আশায় উপজেলার কৃষকেরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকেরা তাদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪,বারি-১৭, বাড়ি-১৮  ও বিনা সরিষা-৯ আবাদ বেশি করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অনন্তপুর এলাকায় রবিউল মানিক ১০ একর এবং কাদিহাট মালশাডাঙ্গা এলাকায় কৃষি অফিসের সার্বিক তত্বাবধায়নে ১০ জন কৃষককে নিয়ে তাদের জমিতে ২৫ একর বারি সরিষা-১৮ আবাদ করা হয়েছে। এ মৌসুমে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬০৫০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত মৌসুমে সরিষার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১২০ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় এ মৌসুমে ৮০০০ থেকে ৯০০০ মেট্রিক টন সরিষা কৃষক ঘরে তুলতে পারবে।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরিষা ক্ষেত থেকে প্রায় ৫ শত বক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন মৌওয়ালরা।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির চাষ হলে সরিষার ফলন ১০ ভাগ বেড়ে যায়। তাই সরিষার ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরিষা ক্ষেত থেকে বিনা খরচে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা। এতে মৌমাছি ব্যবসায়ী যেমন একদিকে মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষেতে মধু চাষ করায় সরিষার ফলনও বাড়ছে।

নন্দুয়ার ইউনিয়নের, আমজাদ আলী, বাচোর ইউনিয়নের মাহাতাব হোসেন, লেহেম্বা ইউনিয়ের রওশন আলী, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের গোলাম রব্বানী এবং ধর্মগড় ইউনিয়নের আজিরন বেওয়া বলেন, আমরা সরিষা চাষ কেরেছি খরচ তেমন  নেই। শুধু গৌবর সার দিয়ে জমি চাষের পর বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। তারপর গাছ বড় হলে দিতে হয় সেচ। সার বা কীটনাশক তেমন একটা দিতে হয় না। এ কারণে সরিষা চাষে অনেক লাভ। তাছাড়া এলাকার অনেক চাষি উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা বীজ বিনামূল্যে পেয়ে আবাদ করেছেন।

কেমন ফলন আশা করছেন?  জিঞ্জাসা করলে মুচকি হেসে তারা বলেন, বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৮ মন তো হবেই ইনশাল্লাহ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে সরকার কৃষকদের বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছে। সরিষা চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সরকারিভাবে এবার প্রায় ৫ হাজার ৩শ জন কৃষককে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমার নিজ উদ্যোগে ২৫০ জন কৃষককে সার ও বীজ দিয়ে সহায়তা করি। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে প্রতিনিয়ত দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তাই কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে সরিষার ব্যাপক চাষাবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকালে এ বছর সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কমলগঞ্জে আদম ব্যবসার টাকার জেরে ছুড়িকাঘাতে আহত দুইভাই, আটক ১

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজারে আদম ব্যবসার টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে শাহিন মন্নান ও বেলাল নামে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হেলাল ও বেলাল বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গতকাল রোববার বিকেলে আদমপুর বাজারে শাহিন এর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সামনে এঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানায়।

আহত মন্নান ও বেলাল উত্তরভাগ গ্রামের আমির মিয়ার ছেলে।

কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, তারা সকলেই আদম ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা মধ্যপ্রাচ্যে লোকজন পাঠায়, বিশেষ করে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে তারা জড়িত। বিগত কয়েকদিন থেকে টাকার ভাগাভাটোরা নিয়ে শাহিনের সাথে মন্নান ও হেলালের মনোমালিন্য চলছিল। এর জেরে শাহিনের কাছে দুই ভাই টাকা চাইতে আসলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহিন দুই ভাইকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

এব্যাপারে আদমপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া জানান, গত কয়েকদিন থেকে তাদের মধ্যে লেনদেন নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। বিষয়টি তিনি সমাধান করার কথা বলে রাখলেও তারা না মেনে ঝগড়ায় জড়িত হয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ থানার কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) জানান, সবাই আদম ব্যবসার সাথে জড়িত, টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই  বিরোধ চলে আসছে। তিনি বলেন, তারা সকলেই মধপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানোর কাছে নিয়োজিত।

তিনি আরও বলেন, আহত দুই ভাইয়ের মধ্যে বেলালের অবস্থা আশংকাজনক, মন্নানও আহত হয়েছে। তারা দুই ভাই বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শাহিনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিবের দায়িত্ব পেলেন আজিজুর

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ পদোন্নতি পেয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২ (অতিরিক্ত সচিব) মো. আজিজুর রহমান। আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২ (অতিরিক্ত সচিব) মো. আজিজুর রহমানকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করা সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদলের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

এর আগে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়েছিলেন তিনি।

ফুলবাড়ীতে আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে অনিশ্চয়তা

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে । ঢাকঢোল পিটিয়ে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও এ পর্যন্ত এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি ফুলবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। ফলে সংগ্রহ অভিযানের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সুত্র জানায়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ৬২৪ মেট্রিকটন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ফুলবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ২৮ টাকা কেজি দরে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান গত ১৮/১১/২২ ইং তারিখ শুরু করা হয়। সংগ্রহ অভিযানের মেয়াদ শেষ আগামী ২৮/০২/২৩ ইং তারিখ। কিন্ত সংগ্রহ অভিযান শুরুর দুই মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেননি তারা। ফলে সংগ্রহ অভিযানের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুল হক জানান, সরকার ঘোষিত মুল্যের চেয়ে বাজারে আমন ধানের মুল্য বেশি। তাই কৃষকরা গুদামে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। ফলে আমন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নওগাঁ জেলায় অর্পিত সম্পত্তির লীজ মানি থেকে চলতি অর্থ বছরে বিগত ৬ মাসে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮২২ টাকা রাজস্ব আদায়

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলায় চলতি ২০২-২০২৩ আর্থিক বছরে অর্পিত সম্পত্তি লীজ মানি বাবদ বিগত ৬ মাসে আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮শ ২২ টাকা। গত ১ জুলাই’২০২২ থেকে ৩১ ডিসেম্বর’২০২২ পর্যন্ত সময় উল্লেখিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ বছর আদায়ের লক্ষমাত্রা রয়েছে ৮ কোটি ১০ লক্ষ ২০ হাজার ১২০ টাকা।

নওগাঁ’র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মিল্টন চন্দ্র রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন নওগাঁ জেলার মানুষ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রাজস্ব প্রদানে খুবই আগ্রহী।

জেলায় মাস ভিত্তিক অর্পিত সম্পত্তির লীজ মানি বাবাদ রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে জুলাই’২২ মাসে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৫০ টাকা, আগষ্ট’২০২২ মাসে ৮১ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৭ টাকা, সেপ্টেম্বর’২২ মাসে ৯০ লক্ষ ১৪ হাজার ১৪ টাকা, অক্টোবর’২২ মাসে ১ কোটি ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৯৮ টাকা, নভেম্বর’২২ মাসে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫ টাকা এবং ডিসেম্বর’২২ মাসে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ১ হাজার ৮শ ২২ টাকা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মিল্টন চন্দ্র রায় প্রত্যাশা করে বলেন, যেহেতু প্রথম ৬ মাসে করছেন ধার্যকৃত লক্ষমাত্রার অর্ধেকের চেয়ে বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে, আগামী ৬ মাসে বাঁকী রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

সরকার দেশকে আওয়ামী লীগের দেশ বানাতে চায়, ঠাকুরগাঁওয়ে- মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারাই ভিন্নমত পোষণ করবে তাদেরকেই এ সরকার সন্ত্রাস বানিয়ে দেয়। তারা এদেশকে আওয়ামী লীগের দেশ বানাতে চায়। গত  শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি’র কার্যালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ফ্রন্টের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আগামীদিনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই জবরদখলকারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা এই সরকারকে আর কোনোভাবেই ভোট চুরির সুযোগ দেয়া হবে না।

এর আগে সকালে তিনি দলীয় কার্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের লোকেরা আসলেই অনেক সহজ-সরল। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাই। তারা বুঝতেও পারে না যে টোপর মাথায় পড়া একদিনের বরের যে কদর থাকে, একদিনের ভোটকে কেন্দ্র করে এ সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও ঠিক তাই।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ যে মারামারি, হানাহানি, মন্দির ভাংচুরের মতো সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো সব বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারই ঘটাচ্ছে। আর এতে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করা আওয়ামী লীগের কাছেই সুরক্ষিত নয়। এ সরকার বারবার সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো অস্ত্র বানিয়ে বিএনপির ওপর চাপিয়েছে।

২৭ দফা নতুন রূপরেখা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে কমিশন গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পরপর দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না – এ লক্ষ্যে সংশোধনী আনা হবে।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ফ্রন্টের সভাপতি মনোরঞ্জন সিংসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।