হামহাম জলপ্রপাতে আগুনে পুড়ল আড়াই একর বন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হামহাম জলপ্রপাতের সড়কের পাশের বাঁশবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় আড়াই একর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনে বনের সরু সড়কের পাশের বাঁশবাগানসহ গুল্মলতা ও উদ্ভিদ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গেলো সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা বন বিটের গহীন বনে এ ঘটনা ঘটে।

হামহাম জলপ্রপাত ঘুরতে যাওয়া একজন পর্যটক প্রথমে ফেসবুকে এ তথ্য জানান। তার তথ্যমতে, হামহাম জলপ্রপাত যাওয়া-আসার পথে বনের প্রচুর জায়গাজুড়ে আগুন লেগেছে। আগুনের ব্যাপক উত্তাপ থাকায় রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করাও দায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কুরমা বন বিট কর্মকর্তা বিপস্নব হোসেন বলেন, জলপ্রপাতে যাওয়ার সড়কের বাঁশবাগানে আগুন লাগার খবর খবর পেয়ে বনকর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হামহাম জলপ্রপাতে এ পথ দিয়ে যাওয়া-আসার সময় কোনো পর্যটকের ফেলে যাওয়া সিগারেটের আগুন থেকে লাগতে পারে।

এর আগে সম্প্রতি মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের পাতারিয়া বনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বনের প্রায় ৪০ হেক্টর এলাকার বৃক্ষরাজি ও শত শত বন্যপশু পুড়ে যায়। এই বনে লাগাতার প্রায় ৮ দিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় দেশের পর্যটন শিল্প মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অজগর সাপ, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণ, কচ্ছপ, বনরুই, সজারুসহ বিভিন্ন সরীসৃপ প্রজাতির আবাস্থল এবং বিরল কীটপতঙ্গ ও বেশ কিছু প্রজাতির বৃক্ষের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা খোদ বন বিভাগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন। এছাড়াও সম্প্রতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন বিভাগের ছাত্র ডরমিটরি লেকের উত্তর-পশ্চিম ও হিড বাংলাদেশের পশ্চিমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় বনাঞ্চলের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিকে গেল ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে লাউয়াছড়ায় পৃথক অগ্নিকান্ডে তিন একর জায়গা পুড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক পর্যটক জানান, লাউয়াছড়া, হামহাম ও মাধবকুন্ডের পাতারিয়া বনে পৃথক আগুনের ঘটনা সাধারণ বিষয় নয়। বাংলাদেশের এ সবুজ বনাঞ্চল ধ্বংস করে পর্যটকশূন্য করতে কেউ কাজ করছে ও বৃক্ষরাজি লুট করছে। তারা জানান, বনের প্রতি হেক্টরে সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকার বৃক্ষ পুড়েছে এমনটা যদি ধরা হয়, তাহলে পাতারিয়ার ৪০ হেক্টর, লাউয়াছড়ার ৩ হেক্টর ও হামহামের ৩ হেক্টরসহ মোট ৪৬ হেক্টর বনে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকার বৃক্ষ পুড়েছে।

সানবার্ন দূর করতে অ্যালোভেরার ব্যবহার

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে বেশ উপকারি। অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক নির্যাস সানবার্ন দূর করে। ত্বককে হাইড্রেট রাখে। ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা সূর্যের সংস্পর্শে আসা ত্বককে শীতল রাখে। এটি ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ত্বকের জ্বালা কমাতেও সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

চলুন তাহলে জেনে নেই অ্যালোভেরার কিছু ব্যবহার- 

শুধু অ্যালোভেরা জেলঃ 

অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগালে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়। ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে যায়। আপনার ত্বক হয়ে ওঠবে উজ্জ্বল।

কাপড় দিয়ে ত্বকে প্রয়োগঃ 

অল্প পরিমাণ পানির সাথে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এবার একটি পাতলা কাপড়ে মিশ্রণটি লাগান। ১০-১৫ মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে কাপড়টি রাখুন। এটি প্রদাহ কমাবে। ত্বকের লালভাব কমাতে সাহায্য করবে। ত্বক শীতল  করবে।

অ্যালোভেরা দিয়ে গোসলঃ

একটি বাথটাবে গরম পানি আর কয়েক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল যোগ করুন। কমপক্ষে ২০ মিনিট গা ভিজিয়ে রাখুন। এটি চুলকানি দূর করবে। শরীরের ব্যথা কমাবে।

অ্যালোভেরার জুসঃ

অ্যালোভেরার জুস খুবই স্বাস্থ্যকর। অ্যালোভেরার রস পান করলে রোদে পোড়া ত্বক সেরে ওঠে। ত্বকের লালভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

অ্যালোভেরা মাস্কঃ

কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এটি আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি লালভাব কমাতে এবং ত্বকে শীতল অনুভূতি প্রদান করতে সহায়তা করবে।

 

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে আপ লাইনে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রেন ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন ছেড়ে দুপুর ১টার দিকে দাড়িয়াপুর এলাকায় পৌঁছালে ৭টি বগির বেশ কয়েকটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। মূলত গরমের কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনের স্লিপার ভেঙে গেছে। ঘটনার পর থেকে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউন লাইনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য আখাউড়া লোকোশেডে খবর দেয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শেষ করার পর বন্ধ লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটায় বর্নাঢ্য রেলী উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সকাল ১১ টায় জাতীয় ও সুবর্ণ জয়ন্তী পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি  গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন (এম পি)।

অনুষ্ঠানে  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আইনুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ মশিউর রহমান।

ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া বাদশা, ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী সরকার প্রমুখ।

লবণ চাষে স্বাবলম্বী হবো, দেশের লবণেই চাহিদা মেটাবো : এডভোকেট মোঃ শাহাব উদ্দিন

লবণ চাষী কল্যাণ সমিতি মহেশখালী, কক্সবাজার এর সভাপতি এডভোকেট মোঃ শাহাব উদ্দিন সমিতির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে ৫ দফা দাবী উত্তাপন করেছেন। ৫ দফা দাবি উত্তাপন করে এডভোকেট মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেন, “লবণ চাষে স্বাবলম্বী হবো, দেশের লবণেই চাহিদা মেটাবো।”

দাবী উত্তাপন করে তিনি আরো বলেন, বিসিক এর পক্ষ থেকে ২০২৩ সালের মওসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ লক্ষ মেঃ টন। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০/৮৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ইনশাল্লাহ আর মাত্র ১০/১৫ দিন ভালো আবহাওয়া পেলে আমরা লবণ চাষীরা বিসিক এর টার্গেট পূর্ণ করতে পারবো।

লবণ চাষী কল্যাণ সমিতি মহেশখালী, কক্সবাজার এর পক্ষ থেকে সভাপতি এডভোকেট মোঃ শাহাব উদ্দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে যে ৫ দফা দাবী উত্তাপন করেছেনঃ

১। ২০২৩ সালের মওসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে আগামী মৌসুমে লবণ আমদানী বন্ধ রাখা। 

২। বর্ষা মৌসুমে লবণ চাষীদের প্রতি কেজি ১০ টাকা দামে চাউল বরাদ্দ দেওয়া।

৩। লবণ মাঠের খাস জমিন চাষীদের নামে বরাদ্দ দেওয়া যাতে লবণের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়।

৪। চাষীদেরকে বিসিক এর মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে লবণ চাষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। যার ফলে ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ লবণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। 

৫। চাষীরা বর্তমান মওসুমে লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে দেশে গত ৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিক জানায়, গত মঙ্গলবার ১০ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে মোট লবণ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। আর গত বছর লবণ উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

বিসিক আরো জানায়, চলতি লবণ মৌসুমে মোট চাষকৃত জমির পরিমাণ ৬৬ হাজার ৪২৪ একর, যা গত বছর ছিল ৬৩ হাজার ২৯১ একর। গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষের জমি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ একর। চলতি লবণ মৌসুমে লবণ চাষির সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৬৭ জন, যা গত বছর ছিল ৩৭ হাজার ২৩১ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ২৩৬ জন।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সাল থেকে বিসিকের মাধ্যমেই দেশে পরিকল্পিতভাবে লবণ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থিত বিসিকের লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যালয়ের আওতাধীন ১২টি লবণকেন্দ্রের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার সব উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণ চাষের জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদান এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সড়ক নেই সেতু দাঁড়িয়ে তিন বছর!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কায়েরচক এলাকায় হাকালুকি হাওরে কংক্রিটের একটি সেতু সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) ছাড়া তিন বছর ধরে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক’জন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি অপরিকল্পিত সেতু, কেউ একটি দিন ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি। সেতুর দুই পাশে চলাচলের জন্য রাস্তা না থাকায় সাধারণ জনগনের কোনো কাজে আসছে না। সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন না ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সরু একটি খালের মাঝখানে নির্মিত সেতুটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি অযত্নে অবহেলায়। এর দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক নেই চলাচলের কোন সুবিধা। খালের পানি শুকিয়ে আছে। খালের নিচ দিয়ে মানুষ পারাপার করছে।

এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য খসরুজ্জামান বলেন, এখানে একটি সেতু দরকার। কিন্তু এত উঁচু সেতুর প্রয়োজন নেই। সেতুটি প্রায় ১৫-১৬ ফুট উঁচু। এটি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ কারণে এ সেতু থেকে কেউ কোনোদিন চলাচলের সুবিধা পায়নি। কেউ এটি এক দিনের জন্য ব্যবহার করার সুভাগ্য হয়নি। সংযোগ সড়ক বিহীন সেতুটি দৃশ্যমান দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সাতটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

মদনগৌরী গ্রামের শামসুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। অবশেষে সেতুটি নির্মিত হলো ঠিক। তবে সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সড়ক। সেতুটি নির্মাণের তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে স্টেচু হয়ে দৃশ্যামান খাম্বার মত দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের এত অর্থ খরচ করে বিগত তিন বছরের বেশি সময় পার হলো আমরা সাধারণ জনগনের ভোগান্তির যেন কোন অন্ত নেই। এটা স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয় লোকজন জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় হাজার হাজার মানুষ খাল পারাপার করে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গ্রামের বাসিন্দা সাতিরুল ইসলাম বলেন, এ হাওর এলাকার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য আশপাশের এলাকায় নিয়ে যেতে হলেও রাস্তার বেহাল দশায় তা ব্যাহত হচ্ছে।

খসরুজ্জামান বলেন, এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি গ্রামবাসীর।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কুলাউড়া পিআইও অফিসের উদ্যোগে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে খরচ হয় ৩০ লাখ টাকা। তবে সেতুর সঙ্গে সড়ক নির্মাণের কোনো কথা বা নির্দিষ্ট অন্য কিছু ছিল না শুধু সেতুবিহীন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, সেতুর দুই পাশে মাটি দেওয়া হয়েছে এ বছরও। আশা করছি, আগামী বছর সড়কটি হাঁটার জন্য প্রস্তুত হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শিমুল আলী বলেন, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ফেলা হলেও তা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহাগাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরুপ ট্যাব পেল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫`শ শিক্ষার্থী

মো: মিনহাজ উদ্দীন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো`র জনশুমারী ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের ট্যাবসমূহ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর ৫০০জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরুপ ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে।

২৭ এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ উল্যাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম, লোহাগাড়া উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমশুল আলম, সুখছড়ি উজিরভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এয়াকুব, মাইজবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্তকারী  জুয়েল চন্দ্র দেব।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) শরীফ উল্যাহ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কে আলোকিত মানুষ হিসেবে  গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক  ইতিহাস জানতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন সেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদেরকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং  অর্জিত জ্ঞানকে দেশের কল্যাণ  নিয়োগ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল বলেছেন, শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হতে হবে। আলোকিত মানুষ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে  ডিজিটাল বাংলাদেশ পার হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরুপ ট্যাব পেয়ে অনেক খুশী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দরা।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীমঙ্গলে মৌসুমের প্রথম চা নিলাম শুরু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মৌসুমের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিলাম কেন্দ্রে এবার চা মৌসুমে মোট ২৩টি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা’র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধনের পর ২০১৮ সালের ১৪ মে এ নিলাম কেন্দ্রে প্রথম চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর এখানে নিয়মিত চায়ের নিলাম হয়ে আসছে।

বুধবার চা মৌসুমের প্রথম নিলাম শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের অস্থায়ী কার্যালয় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সম্পন্ন হয়।

মৌসুমের প্রথম চা নিলামে প্রতি কেজি গড়ে ২৫০ টাকা দরে প্রায় ৩০ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এবারের নিলামে শ্রীমঙ্গলের ৫টি ব্রোকার্স হাউসের মাধ্যমে চা বিক্রি হয়। মোট ৩৮ জন বায়ার চা নিলামে অংশ নেন। নতুন চা মৌসুমের প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হয় সাবেরী টি এস্টেটের গ্রীণ টি। যার নিলাম দর ছিল প্রতি কেজি ১ হাজার ৯৫০ টাকা।

শ্রীমঙ্গল চা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. চেরাগ আলী বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে এবারের চা মৌসুমের প্রথম নিলাম প্রায় ৩০ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে। এ নিলামে কিছু চা অবিক্রিত ও রয়ে গেছে। আগামী নিলামগুলোতে আরো বেশি চা বিক্রির প্রত্যাশা করছি।’

সোনার বাংলা ব্রোকার্স লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ বলেন, চলতি বছরের প্রথম চা নিলামে সর্বমোট মোট ৫৬ হাজার কেজি চা উত্তোলন করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ চা বিক্রি হয়েছে। যে ৫৬ হাজার কেজি চা নিলামে উত্তোলন করা হয় তার মধ্যে শ্রীমঙ্গল ব্রোকার্স লিমিটেডের মাধ্যমে নিলামে উত্তোলন হয় ৩৮ হাজার ৩৫৬ কেজি। বাকি সাড়ে ১৭ হাজার কেজি চা উত্তোলন করেন সোনার বাংলা ব্রোকার্স লিমিটেড, জালালাবাদ টি ব্রোকার্স লিমিটেড, রূপসী বাংলা টি ব্রোকার্স লিমিটেড ও জি.এস ব্রোকার্স লিমিটেড এ চারটি প্রতিষ্ঠান।’

শ্রীমঙ্গলস্থ চা নিলাম কেন্দ্রের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘২০২২ সালে শ্রীমঙ্গলস্থ দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্রে মোট ১৭টি চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের চা মৌসুমে চট্টগ্রামে প্রথম নিলাম সম্পন্ন হয় ১৭ এপ্রিল। এ নিলাম কেন্দ্রে এবার চা মৌসুমে মোট ২৩টি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

প্রাথমিকে চলতি বছরের শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শেষ

শিক্ষা ডেস্কঃ ২০২৩ সালের জন্য সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তাই নতুন করে কোনো আবেদন নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। গতকাল বুধবার (২৬ এপ্রিল) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সব পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষক বদলি কার্যক্রম-২০২৩ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বদলিসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। আগামী বছর আবারও যথাসময়ে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা যায়, তদবির, ঘুষবাণিজ্য সর্বোপরি শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনলাইনে করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, চলতি বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনেকটা হয়রানিমুক্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে আন্ত-উপজেলা, দ্বিতীয় ধাপে আন্তজেলা এরপর আন্তবিভাগ বদলি কার্যক্রম শেষ করার পর সর্বশেষ আন্তসিটি করপোরেশন ও মহানগরে বদলির কার্যক্রম ঈদের আগে শেষ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে চলতি বছরে আর কোনো বদলি কার্যক্রম হবে না।

এ বিষয়ে শিক্ষকদের কোথাও যোগাযোগ না করার জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঈদের ৬ষ্ঠ দিনেও ঢাকায় ফিরছেন মানুষ

অনলাইন ডেস্কঃ ঈদের ৬ষ্ঠ দিনেও পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীর চাপ দেখা গেছে গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর ও কমলাপুরে।

পাঁচ দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার (২৪ এপ্রিল) খুলেছে অফিস-আদালত। তবে, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজ এখনো বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এসব কারণে ঈদে গ্রামে ফেরা অনেকেই একটু লম্বা ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীর গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুরে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ঢাকার বিভিন্ন বাসে শনিবার পর্যন্ত যাত্রীর চাপ আছে। সেই টিকিটগুলো আগেই বিক্রি হয়ে আছে।

এদিকে, ঈদের ৬ষ্ঠ দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। ঈদের আগে নানা ব্যস্ততায় যারা বাড়ি ফিরতে পারেননি, তারা এখন যাচ্ছেন পরিবারের কাছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ফিরছে। নির্ধারিত সময়ে ছেড়েও যাচ্ছে। ট্রেনে এবারের ঈদযাত্রা খুব স্বস্তিদায়ক হয়েছে।