বাইডেন পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রিপাবলিকানরা। এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

রয়টার্সের এক বিবৃতিতে হাউস ওভারসাইট কমিটির প্রধান জেমস কোমার জানায়, বাইডেন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রাজস্ব বিভাগ ও টুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে কমিটি। মূলত বাইডেন পরিবারের বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে খতিয়ে দেখবে হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠরা।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয়ের জন্য জো বাইডেনকে জবাবদিহিতা করতে হবে বলে জানান কোমার। জো বাইডেনের ছেলে ৫২ বছর বয়সী হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে একটি তদন্ত চলছে।

এদিকে, বাইডেনের কাছে আরও কিছু সরকারি নথি পাওয়ার খবর জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে কবে বা কোথায় সেগুলো মিলেছে জানানো হয়নি। গত নভেম্বরে বাইডেনের সাবেক কার্যালয়ে মেলে ১০টি গোপন সরকারি নথি।

বড়লেখায় ট্রাক্টর চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ট্রাক্টর চাপায় মেহের আলী (৫০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১১ জানুয়ারি) উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের ধর্মদেহী (ঘিলাবিল) এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

নিহত মেহের আলী হবিগঞ্জ সদরের বাসিন্দা মৃত রজব আলীর ছেলে। বড়লেখা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেহের আলী ঘিলাবিল এলাকায় মাটি কাটার কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ঘটনার সময় একটি ট্রাক্টরে মাটি ভরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন ওই ট্রাক্টরে শ্রমিক হিসেবে মেহের আলী ছিলেন। এসময় তিনি ট্রাক্টরের চালকের কাছে বিড়ি চেয়ে তা আনতে চলন্ত গাড়ি থেকে অসাবধানতবশত ছিটকে পড়ে যান। এতে ট্রাক্টরটির চাপায় এআ মেহের পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বড়লেখা থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মেহের আলী ট্রাক্টর চাপায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে এফএনবি’র উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ চলমান শীতের প্রকোপে আক্রান্ত ঠাকুরগাঁওয়ের পৌরশহরের ১৫০ জন দুস্থ শীতার্তের মাঝে শীতবস্ত্র হিসাবে কম্বল বিতরণ করেন, ফেডারেশন অব এনজিওস ইন বাংলাদেশ(এফএনবি)। গতকাল বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রঙ্গণে এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো: মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান, এফএনবির ঠাকুরগাঁও সভাপতি ব্র্যাক সমন্বয়কারী শরিফা বেগম, সাধারণ সম্পাদক ব্যুরো বাংলাদেশের যোনাল ম্যানেজার আরিচ হোসেন, সহ সভাপতি এসো জীবন গড়ি এর নির্বাহী পরিচালক নভেল ইসলাম শাহ্ প্রমুখ।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে এখন শীতের তীব্র প্রকোপ, এসময় সরকারের পাশাপাশি এফএনবি শীতার্ত মানুষের কথা চিন্তা করে শীতবস্ত্র নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এজন্য এফএনবি প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

নেত্রকোণা কম্পিউটার বেসিক এন্ড আইসিটি এ্যাপ্লিকেশন এবং গবাদিপশুসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান ২০২৩ অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ “প্রশিক্ষিত যুব, উন্নত দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণায় কম্পিউটার বেসিক এন্ড আইসিটি এ্যাপ্লিকেশন (অনাবাসিক) এবং গবাদিপশু, হাঁস- মুরগী পালন প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষি বিষয়ক (আবাসিক) প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বিকেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নেত্রকোণার আয়োজনে উপ-পরিচালক মোঃ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে যুব ভবনের হলরুমে এ উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নেত্রকোণা মোঃ মনির হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অরুনাভ দেবনাথ ডেপুটি কো-অডিনেটর যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্র নেত্রকোণা।

অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিনিয়র প্রশিক্ষক ডাঃ জুবায়েদুর ইসলাম, কম্পিউটার প্রশিক্ষক এস.এম শহীদুল্লাহ, মৎস্য প্রশিক্ষক এমদাদুল হক, মোঃ ইয়াছির আরাফাতসহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

যেভাবে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ শুরু হলো

‘ইজতেমা’ আরবি শব্দ যার অর্থ সম্মেলন, সভা বা সমাবেশ। ‘বিশ্ব ইজতেমা’ শব্দটি বাংলা ও আরবি শব্দের সম্মিলনে সৃষ্ট। তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হলো ‘বিশ্ব ইজতেমা’। যা বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাবলিগ জামাতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।  সাধারণত প্রতিবছর শীতকালে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে, আর তাই ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসকে বেছে নেয়া হয়।

যেভাবে ইজতেমা’র শুরুঃ আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রাহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন তাবলিগের প্রচার-প্রসার ও ব্যাপকতা বাড়তে থাকে। তাবলিগের সাথী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়।

বাংলাদেশে যেভাবে ইজতেমা আসেঃ ১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশে তাবলিগের দাওয়াতি কাজ শুরু হয়। আর তা ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন সময়ে মাওলানা আব্দুল আজিজ (রাহ.) বাংলাদেশে ইজতেমার হাল ধরেন। তখন থেকেই বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা শুরু হয়।

১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে প্রথমবারের মতো তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ২ বছর অতিক্রম হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে চট্টগামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে দ্বিতীয়বারের মতো তাবলিগের সম্মেলন বা ইজতেমার আয়োজন করা হয়। তার ১০ বছর পর ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে তাবলিগের এ সম্মেলন শুধুমাত্র ইজতেমা নামেই প্রচার ও পরিচিত ছিল।

যেভাবে বিশ্ব ইজতেমা নামকরন হয়ঃ জানা যায়, ‘বিশ্ব ইজতেমা’ তাবলীগের দেয়া নাম নয়, বরং তাবলীগের লোকজন এটাকে বার্ষিক সম্মেলন বলতেন। এক সময় তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে বিদেশীদের পাঠানো শুরু হয়। “যখন বিদেশ থেকে লোক আসা শুরু করলো, তখন গ্রামের লোক এটাকে বিশ্ব ইজতেমা বলা শুরু করলো। শুরার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বললেন জনগণের চাহিদার উপর আল্লাহতায়ালা বিশ্ব ইজতেমা করে দিয়েন”। ‘বিশ্ব ইজতেমা’ নাম নিয়ে তাবলীগ জামাতের মধ্যেই শুরুতে বিতর্ক ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব ইজতেমা নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।

বিশ্ব ইজতেমার প্রসারনঃ তাবলিগের প্রচার-প্রচারণা দিন দিন প্রসারিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে তাবলিগের সাথী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সংখ্যা। এ কারণে ৮ বছর পর ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতিমা আয়োজন করা হয়। সে বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলিগের এ ইজতেমায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও তাবলিগের সাথীরা অংশ গ্রহণ করে। আর সে বছর থেকেই এ ইজতেমাকে বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে এ ইজতেমা।

১৯৬৬ সালের পর থেকে প্রতি বছরই টঙ্গীর তুরাগ নদীর উত্তর পূর্ব তীর সংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু জমি মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ ইজতেমা। যা বিশ্ব ইজতেমা নামে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

সে হিসাবে ২০১৮ সালে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদেশি মেহমান ও রাষ্ট্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর ১০১ দেশ থেকে ইজতেমা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে এ ইজতিমায়। ২ ধাপে ইজতেমা আয়োজনের পরও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি হওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৩২ জেলার অংশগ্রহণে ২ ধাপে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়। এর ফলে প্রতিটি জেলা এক বছর পর পর টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় উপস্থিত হতে পারবে।

যে সব জেলা টঙ্গীর বিশ্বে ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাদের জন্য জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। সে আলোকে গত ২বছর ধরে জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমাও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব ইজতেমাতে যা শেখানো হয়ঃ ইজতেমার মূল আমল হলো- বয়ান। প্রতিদিন ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর লম্বা সময় নিয়ে বয়ান করা হয়। জোহর এবং আসরের পরেও ছোট্ট পরিসরে বয়ান হয়। সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশেষ শ্রেণী বা পেশার মানুষ যেমন ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবি, সাংবাদিক ও আলেমদের নিয়ে আলাদা আলাদা বয়ান হয়। এ সময় মাঠে থাকা অন্যরা তালিমের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বয়ান সাধারণত ভারত-পাকিস্তানের বিজ্ঞ আলেম ও মুরুব্বিরা করে থাকেন। বয়ান উর্দুতেই বেশি হয়। পরে এটা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাংলায় অনুবাদ হয়। তবে বাংলাদেশের কেউ বয়ান করলে সরাসরি বাংলাতেই করেন। বিদেশি মেহমানদের জন্য এসব বয়ান তাদের নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়, এমনকি শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য বয়ানের মর্মার্থ বুঝানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

এ সব বয়ানের মূল উদ্দেশ্য থাকে, মানুষের মধ্যে ঈমানি চেতনা বৃদ্ধি এবং দ্বীনের প্রচার-প্রসারের ভাবনা তৈরি করে তাদেরকে জামাতে বের হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। এক্ষেত্রে শুধু বয়ানের দ্বারা সবাই তৈরি হয়ে যায় না। বরং পুরো ইজতেমার সময় জামাতে লোকজনকে বের করার জন্য আলাদাভাবে তাশকিল করা হয়। বস্তুত উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে প্রদেয় বয়ান ইজতেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর ইজতেমার মুনাজাত হলো, দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে রওয়ানাকারী জামাতের সদস্যদের জন্য। আসলে ইজতেমার আখেরি মুনাজাত ইজতেমা শেষ- এ জন্য করা হয় না। বরং ইজতেমা থেকে অনেক জামাত দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে বের হয়। এসব জামাত রওয়ানা হওয়ার সময় তাদের উদ্দেশ্য নির্দেশনামূলক একটি বয়ান হয়। যাকে হেদায়েতি বয়ান বলা হয়। বয়ান শেষে দ্বীনের রাস্তায় বের হওয়া সব জামাতের জন্য, সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য- বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আর এই মুনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা শেষ হয়। দোয়ার পর জামাতগুলো তাদের গন্তব্য জেনে সে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। হজরত নবী করিম (সা.) কোথাও কোনো জামাত পাঠালে এভাবে তাদেরকে হেদায়েত, নির্দেশনা ও তাদের জন্য আন্তরিক দোয়া দিয়ে বিদায় দিতেন। এ ধারা পরম্পরায় ইজতেমার মাঠে এই বিশেষ দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইতজেমা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম পর্বের শেষ দিন ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি উভয় পর্বে মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ!

 

শ্রীমঙ্গলে সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার বিশেষ অভিযানে দুই জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ পরোয়ানাভুক্ত তিন (০৩) আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মোঃ আমিনুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার-দলের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জিআর ২৫৫/১৭ (শ্রীমঙ্গল) এর ১বছর ১মাসের সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামী ১। মোঃ সৈয়দ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।

অপর আরেক অভিযানে এএসআই মোঃ নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও দলের সহায়তায় একই মামলার ১বছর ১মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ২। মোঃ কয়েছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

অন্য এক অভিযানে এসআই মোঃ আলা উদ্দিন সঙ্গীয় থানা পুলিশের দলের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে সিআর-১৯৭/২০ (শ্রীমঙ্গল) এর আসামী ৩। আব্দুল হেকিমকে গ্রেপ্তার করেন।

বুধবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়। এর সত্যতা নিশ্চিতে শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে গ্ৰেফতারী পরোয়ানা ছিল তাদেরকে গ্ৰেফতার করে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের মাস্টার্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্কঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

গতকাল বুধবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২০ সালের এমএ, এমএসএস, এমবিএ, এমএসসি ও এম মিউজ (নিয়মিত/অনিয়মিত, প্রাইভেট, গ্রেড উন্নয়ন ও সিজিপিএ উন্নয়ন) শেষ পর্ব (আইসিটিসহ) পরীক্ষা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবে। আর এ পরীক্ষা চলবে ২১ মার্চ ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে।

রুটিন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন- nu masters routine 2020 

দেশব্যাপী দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজের কার্যক্রম চলছে

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজের কার্যক্রম চলছে। আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত করোনার টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ টিকার দ্বিতীয় বুস্টার পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৭১ জন। আর এখন পর্যন্ত এ ডোজের আওতায় এসেছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৫ জন। দেশব্যাপী প্রথম ডোজের টিকার আওতায় এসেছে ৩৪ হাজার ৭৭ জন। দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৪১ জন এবং বুস্টার ডোজের আওতায় ৪১ হাজার ১৩৭ জন। আর দ্বিতীয় বুস্টার ডোজের আওতায় এসেছেন ২৫ হাজার ৮৭১ জন মানুষ।

করোনার টিকা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজের আওতায় এসেছেন ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ১৮২ জন। দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এসেছেন ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯১ হাজার ৬৫২ জন। বুস্টার (তৃতীয়) ডোজের আওতায় এসেছেন ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৮ জন। আর দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজের আওতায় এসেছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৫ জন।

তাদের সবাইকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে ২০২১ সালের ১ নভেম্বর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৮ শিক্ষার্থী টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৬ জন। গত এক দিনে ৩২১ শিক্ষার্থী নিয়েছেন প্রথম ডোজ টিকা। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৪ জন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়নি।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৭ জনকে করোনা প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ফাইজারের বিশেষ এ টিকার ডোজ পেয়েছে ৩০ হাজার ৯৩৩ শিশু। আর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ২০৯ জনকে। গত এক দিনে টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৩২ শিশু।

এ ছাড়া দেশে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৫ জন ভাসমান জনগোষ্ঠীর মানুষ টিকার আওতায় এসেছেন। তাদের জনসন অ্যান্ড জনসনের সিঙ্গেল ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। আর ১৫ হাজার ৯৭৩ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে রয়টার্সের বরাতে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান।

তিনি জানান, পাঁচজন নিহত হয়েছে। তবে তালেবান পরিচালিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ওস্তাদ ফরিদুন বলছেন, হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। হামলাকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর বেশ কয়েকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় হতাহত হয়েছে। বেশিরভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।

মেট্রোরেল স্টেশনে সন্তান প্রসব করলেন এক নারী

অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনে সন্তান প্রসব করেছেন সোনিয়া রানী রায় নামে এক নারী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল  ৯টার দিকে আগারগাঁও স্টেশনের ফার্স্ট এইড সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মেট্রোরেলে করে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন সন্তানসম্ভবা সোনিয়া। কিন্তু মেট্রোরেলের ভেতরে তার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে আগারগাঁও স্টেশনের ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে রোভার স্কাউট ও মেট্রোরেল স্টেশন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সোনিয়ার স্বামী সুকান্ত সাহা বলেন, আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিল। তাকে নিয়মিত চেকআপ করা লাগত। তাকে আজ (বৃহস্পতিবার) হাসপাতলে ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে মেট্রোরেলের ভিতরে প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে মেট্রোরেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রোভার স্কাউটের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আমাদের ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন। তবুও ডাক্তার দেখানোর জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবাই প্রচণ্ড সহযোগিতা করেছেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন। পরদিন থেকে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয় মেট্রোরেল। বর্তমানে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চলছে।