দুধের সরে ভিন্ন স্বাদের তৈরি ভাপা পিঠা

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ শীত আসলেই বাহারি পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায় বাঙালির ঘরে ঘরে। বিশেষ করে ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভুলে না কোনো বাঙালি পরিবার। খেজুরের গুড় আর নারকেল মেশানো ভাপা পিঠা খেতে সবাই পছন্দ করেন। তবে এবার ভাপা পিঠার স্বাদ আরও বাড়াতে এতে মিশিয়ে নিন ক্ষীরসা ও দুধের সর। চলুন জেনে নেওয়া যাক রেসিপি-

উপকরণঃ শুকনো চালের গুঁড়া- ২ কাপ, নারকেল কোড়ানো- আধা কাপ, গরুর দুধ-  আধা লিটার, লবণ- আধা চা চামচ, সবুজ এলাচ- ৩টি, কাজুবাদাম কুচি- পরিমাণমতো, দুধের সর- ১ কাপ, কিসমিস- পরিমাণমতো ও খেজুরের গুড়- পরিমাণমতো।

পদ্ধতিঃ

একটি পাত্রে গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে ২/৩ কাপ পরিমাণ করে নিন। এবার একটি পাত্রে চালের গুঁড়া নিয়ে তার মধ্যে লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর ঘন করে জ্বাল দিয়ে নেওয়া গরুর দুধ মিশিয়ে নিন চালের গুঁড়ার সঙ্গে। এবার মিশ্রণটি ঢেকে রাখুন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

এবার একটি পাত্র চুলায় বসিয়ে তাতে ৩টি এলাচ দিয়ে আধা কাপ দুধ গরম করে নিন। দুধ অনবরত নাড়তে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। চুলার আঁচ মাঝারি রাখুন। এরপর এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ঢেলে দিন ঘন দুধের মধ্যে। আবারও ভালো করে নাড়তে থাকুন। একেবারে ঘন হলেই তৈরি হয়ে যাবে ক্ষীরসা।

এবার একটি স্টিলের ছাঁকনির সাহায্যে চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর ছেঁকে নিন। হাত দিয়ে ধীরে ধীরে ছেঁকে নিতে হবে গুঁড়া। এর মধ্যে এবার মিশিয়ে নিতে হবে ব্লেন্ড করে নেওয়া দুধের সর। ভাপা পিঠার ছাঁচে কিংবা ছোট বাটিতে কিছুটা চালের গুঁড়া নিয়ে নিন। এবার তার উপরে সামান্য ক্ষীরসা দিয়ে সামান্য চালের গুড়া দিয়ে ঢেকে দিন। তার উপরে খেজুরের গুড় ও নারকেল দিয়ে আবারও চালের গুঁড়া ছড়িয়ে দিন।

এবার দুধের সর মিশিয়ে সবশেষে চালের গুঁড়া দিয়ে ঢেকে তার উপরে কিসমিস ও বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন। এবার একটি পাতলা সুতি বা নেটের কাপড়ে পিঠার ছাঁচ মুড়িয়ে নিন।

অন্যদিকে একটি হাঁড়িতে পানি ভরে ঢেকে চুলায় বসিয়ে দিন। অন্য একটি ঢাকনার মাথার অংশ খুলে ফেলুন, যাতে গরম পানির ভাপ বের হতে পারে। পানি ফুটে উঠলে হাঁড়ির ওপরে খোলা ঢাকনাটি বসিয়ে দিন। এবার তার ওপরে কাপড়ে মোড়ানো পিঠা বসিয়ে ছাঁচ তুলে নিন। কিছুক্ষণ পর পিঠার রং পাল্টে গেলেই তুলে ফেলতে হবে। এভাবেই একেকটি পিঠা তৈরি করে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন ক্ষীরসা ও দুধের সরে তৈরি ভিন্ন স্বাদের ভাপা পিঠা।

 

কুলাউড়ায় ট্রেনের টিকিট কাটলেন “হিলারি ক্লিনটন”

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য এক কলেজ শিক্ষার্থী কাউন্টারে আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট না পেয়ে কালোবাজারে থেকে কিনেন টিকিট। টিকিটে যাত্রীর নাম লেখা ছিল, ‘হিলারি ক্লিনটন’। ঘটনাটি গত শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনে ঘটে। ওই যাত্রীর বাড়ি পার্শ্ববর্তীৎ উপজেলা জুড়ির গোয়ালবাড়ী এলাকায়।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই কলেজছাত্র বলেন, জরুরি কাজে তার ঢাকায় যেতে হয়। অনলাইনে ও স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। পরে স্টেশনে এক কালোবাজারির কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট কিনেন। টিকিটটি অনলাইনে কাটা- টিকিটে যাত্রীর নাম প্রথমে নজরে পড়েনি। পরে দেখেন, তাতে ‘হিলারি ক্লিনটন’ লেখা। এতে তিনি বিস্মিত হয়ে যান।

জানা গেছে, অনলাইনে আইডি খুলতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, মুঠোফোনের নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা লাগে। নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইনে একটি আইডি থেকে সপ্তাহে চারবারের বেশি টিকিট কাটা যায় না। তবে, কালোবাজারিরা বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের একাধিক সিম এ কাজে ব্যবহার করে থাকেন। তারা এসব সিমের মাধ্যমে আইডি খুলেন। এ ক্ষেত্রে একই এনআইডি অথবা একাধিক এনআইডিও ব্যবহার করেন।

ভুয়া নামে খোলা আইডির বিপরীতে টিকিট কেটে চড়া মূল্যে বিক্রি করেন। অনলাইনের সফটওয়্যারে এনআইডি যাচাইয়ের (ভেরিফাই) সুযোগ নেই। এ কারণে কালোবাজারিরা এ সুযোগ কাজে লাগান। তাদের এ অপতৎপরতার কারণে অনলাইনে অনেকেই টিকিট পান না।

রেলওয়ের কতৃপক্ষের অনলাইনের সফটওয়্যারের সঙ্গে এনআইডির সার্ভারের লিংক থাকলে সহজেই এ অপতৎপরতা ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক তৌফিকুল আজীম বলেন, লিংক থাকলে সহজেই টিকিট ক্রেতার নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হবে।

আফ্রিকায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালে দুই বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাফরিনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার (৮ জানুয়ারি) ভোর সোয়া ৩ টার দিকে প্রধান জাতীয় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি স্যাল এ ব্যাপারে বলেছেন, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ৪০ জনের মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। এই ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ফায়ার ব্রিগেড বলেছে, ৬০ জনের ধারণক্ষমতার একটি বাস মৌরীতানিয়ার সীমান্তের কাছে রোসো শহরের দিকে যাচ্ছিল। এই সময় বিপরীত দিক থেকে আসার আরেকটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সেনেগালের জাতীয় ফায়ার ব্রিগেডের অপারেশন প্রধান কর্নেল চেইখ ফল বলেছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে আহতদের কাফরিনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ায় যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

বগুড়ার দুইটি আসনেই হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল

সাবিক ওমর সবুজ, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ৪ ও ৬ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েকজন ভোটারের সমর্থন না পাওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

বিএনপির দুই সংসদ সদস্য পদত্যাগ করার পর বগুড়ার দুটি আসন থেকেই উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন হিরো আলম। আসন দুটি হলো বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম)। কোনো আসন থেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আলোচিত হিরো আলম বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মনোনয়নপত্র তোলেন। ২ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন শুনানির পর তা বাতিল করে।

মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতের তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের হাতে পছন্দের ‘সিংহ’ প্রতীক তুলে দেন। ওই সময় তিনি ৬৩৮ ভোট ভোট পান। এতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তবে ভোটের মাঝমাঠে গিয়ে অবশ্য তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।।

শ্রীমঙ্গলে কুখ্যাত মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল গত (৭ জানুয়ারি) থানা এলাকায় ৬০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আলী হোসেন পাপ্পু (৩০) নামে এক  মাদক কারবারিকে আটক করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই রাকিবুল হাসান, এসআই সাইফুল ইসলাম, এসআই  আনোয়ারুল ইসলাম পাঠান, এএসআই হান্নানসহ শ্রীমঙ্গল থানার একটি দল শহরের মিশন রোডের জনৈক আব্দুল মুহিতের মালিকাধীন টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে কারবারিকে আটক করে।

আটকের পর পুলিশ তল্লাশি করে তার কক্ষ থেকে ৬০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৮ হাজার টাকা।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, গ্রেফতারকৃত পাপ্পু শ্রীমঙ্গল শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। গত ঘটনায় থানায় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পুলিশি হেফাজতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তীব্র এই শীতের মধ্যেই বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্কঃ তীব্র শীতের মধ্যেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল রোববার (৮ জানুয়ারি) রাতে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আগামী দু’দিনে রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। তবে বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এ অবস্থায় সোমবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু এলাকায় প্রশমিত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।

চীনে ঘন কুয়াশায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনে ঘন কুয়াশায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং আহতভয়েছে ২২ জন। আজ রোববার (৮ জানুয়ারি) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য জিয়াংশি প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, সেখান ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম গুইঝো প্রদেশে বাস উল্টে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

শীতের তীব্রতায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

শিক্ষা ডেস্কঃ দেশে গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা অতি মাত্রায় বেড়েছে। প্রচণ্ড এই শীতে অভিভাবকদের অবস্থা যেখানে জবুথবু সেখানে ভোরে কুয়াশার মধ্যে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও করুণ। ভোরেই স্কুলে যেতে হয় বলে শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পড়েছেন বেশ ভোগান্তিতে।

আজ রোববার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের দৃশ্য। ক্লাস শুরুর নির্ধারিত সময়ের পরেও অনেক বাচ্চাদের তাড়াহুড়ো করে স্কুলে আসতে দেখা যায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্কুলে নিয়ে আসায় এদের মধ্যে অনেককে কান্না করতেও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলছেন, যেখানে প্রাপ্তবয়স্করাই শীতে জবুথবু অবস্থা সেখানে পাঁচ-ছয় বছরের শিশুকে ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়ে স্কুলে নিয়ে আসা অমানবিক। এই শীতের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু স্কুলে যেতে চায় না।

তারা আরও বলেন, এতো সকালে ঠান্ডার মধ্যে স্কুলে যাতায়াতের কারণে বাচ্চাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেহেতু শীতের মাত্রা অত্যধিক এবং এটা ক্ষণস্থায়ী। তাই প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধ রাখলে বাচ্চারা একটু স্বস্তি পেত।

নার্সারিতে পড়া ৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, তার ছেলের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৮টায়। কিন্তু স্কুলে আসার জন্য ৭টার আগেই তাকে ঘুম থেকে ওঠাতে হয়। এই শীতের সকালে তাকে স্কুলে নিয়ে আসতে একপ্রকার জোর-জবরদস্তি করতে হয়।

এদিকে স্কুল শিক্ষকরা বলছেন, এ ভোগান্তি সাময়িক সময়ের জন্য। আর স্কুল চালু বা বন্ধ রাখা বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষার্থীদের এতো সকালে শীত উপেক্ষা করে স্কুলে আসতে বেগ পেতে হলেও প্রাকৃতিক আবহাওয়ার সঙ্গে বাচ্চাদের মানিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা আরও বলছেন, আমাদের দেশে যেহেতু শীতের প্রভাব জানুয়ারি মাসে বেশি থাকে। আর এটা বছরের প্রথম হওয়ায় চাইলেও স্কুল বন্ধ রাখা বা শিফট পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কারণ এ সময় ভর্তি, বই বিতরণসহ নানা কার্যক্রম চলে। ফলে স্কুল বন্ধ রাখলে, বাচ্চারা অনেক পিছিয়ে পড়বে।

হাওর পাড়ে সবজি চাষে আয়েশার সাফল্য

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাওর তীরবর্তী গ্রাম উত্তরসূর। এই গ্রামেই কৃষি বিপ্লবের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই শীতের মৌসুমে সবজি চাষাবাদ করে সফলতার মুখ দেখেছে একটি খামার। লাভবান হওয়ায় এখন তারা খামারটি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা করছেন।

সদর ইউনিয়নের উত্তরসূর গ্রামে দেখা যায়, হাইল হাওরের তীরের গ্রাম উত্তরসূরে গড়ে উঠেছে কাজী অ্যান্ড আজাদ এগ্রো ফার্ম। প্রায় আট একর জমির মধ্যে এই খামার গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা কাজী আয়েশা। সেখানে এবার চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের শীতকালীন সবজি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে লাউ থেকে। খামারটির চারপাশে এখন লাউয়ের ছাউনিতে ঘেরা। পাশাপাশি চাষ করা হয়েছে লালশাক, কলমিশাক, বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজি। যা বাণিজ্যিকভাবে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী বাজারগুলোতে।

কাজী অ্যান্ড আজাদ এগ্রো ফার্মের পরিচালক কাজী মামুন বলেন, লাউয়ের পাতা সবুজ ও নরম। পুরুষ ও স্ত্রী ফুল যথাক্রমে রোপণের ৪২-৪৫ দিন ও ৫৭-৬০ দিনের মধ্যে ফুটে। প্রতিটি লাউয়ের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি। প্রতি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২টি লাউ ধরে। চারা রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে প্রথম ফসল তোলা যায়। তিন একর জমিতে লাউ চাষে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকা। গত কয়েক মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা হয়েছে।

শুধু সবজিই নয় কাজী অ্যান্ড আজাদ এগ্রো ফার্মে পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের আম, লিচু, আনার, পেয়ারার গাছ। আধুনিক পদ্ধতিতে রোপণ করা হয়েছে বরই গাছ ও মরিচের গাছ। যেগুলো থেকে ইতোমধ্যে ফসল তুলে বাজারে পাঠানো হয়েছে। খামারের মাঝখানে আছে একটি পুকুর। যেখানে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এছাড়া ডেইরি ও ক্যাটল ফার্ম তৈরির জন্য একটি শেড নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এখানে তোলা হবে প্রায় ৪০টি গরু। সবমিলিয়ে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন এই খামার আশার আলো দেখিয়েছে।

কাজী মামুন বলেন, আমাদের খামারটি চালু হয়েছিল এক বছর আগে। এরপর শীতকালীন সবজি চাষাবাদ শুরু করি। খামারের সাথী ফসল হিসেবে আমরা এগুলো চাষ শুরু করি। এখানে বাণিজ্যিকভাবে কৃষি পণ্য উৎপাদনের কোনো উদ্যোক্তা আগে ছিল না। এরপর প্ল্যান করি এখানে একটি খামার করার। ছোট করে শুরু করেছিলাম, এখন অনেক বড় হয়েছে। এই খামার নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে অদূর ভবিষ্যতে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, আমরা নতুন নতুন এলাকায় সবজি চাষের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন নতুন জমিতে আবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি।

আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়

আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে। গত দুদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এ জেলায়। রোববার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও আজ চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে যৌথভাবে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এ এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে শীত নিবারণের চেষ্টায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। তীব্র শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীত থেকে বাঁচতে সরকারি বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন এসব সাধারণ মানুষ।

যশোর আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। সবমিলিয়ে শীতে কাঁপছে গোটা যশোরাঞ্চল।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত দুদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এ জেলায়। আজ রোববারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, যা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। এখন তাপমাত্রা কমে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

এদিকে রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। আজ সকালে ঢাকাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের তুলনায় আজ রাজধানীর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে আজকেও ঢাকাতে কুয়াশা সেভাবে কমার কোনো আভাস নেই।