কুলাউড়ায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কুলাউড়ায় ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘কালিন্দি রেলস্টেশন নির্মাণ’ কোম্পানীর বাস্তবায়নাধীন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শণ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার নিরাজ কুমার জাইশাওয়াল।

গতকাল বুধবার তিনি বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর রেলস্টেশন ও মুড়াউল রেলস্টেশন এলাকায় চলমান নির্মাণ কাজ সরেজমিনে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

এছাড়াও তিনি শাহবাজপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রেলপথ নির্মাণ কাজ পরিদর্শণ করেন। সন্ধ্যায় কুলাউড়া উপজেলার আছুরিঘাট এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজের অগ্রগতি তদারকি পরিলক্ষিত করেন। এসময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ১ম সেক্রেটারী মিসেস, এস সোনালী শাহী, রেলনির্মাণ কোম্পানীর প্রকল্প পরিচালক, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল হক, কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) রতন কুমার দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে ভারতীয় রেলনির্মাণ কোম্পানী ‘কালিন্দি’। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের মে মাসে কাজের পরিসমাপ্তি হবার কথা। কিন্তু কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছরে মাত্র ২০-২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে নেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এরপরও অদ্যবধি প্রকল্পের অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয়নি।

সহকারী হাইকমিশনার নিরাজ কুমার জাইশাওয়ালের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরিদর্শন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বড়লেখা ও কুলাউড়া রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন বাংলাদেশে তার রুটিন ওয়ার্কের অংশ। পরিদর্শনকালে কাজের মারাত্মক ধীরগতি দেখে তিনি ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এবং পরবর্তীতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে মর্মে ব্যক্ত করেন।

একযুগ হলেও ছাত্রলীগের কমিটি নেই; সাদামাটাভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বাঙালি জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্ণ করল। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, গৌরব, ঐতিহ্য ও সাফল্য নিয়ে ৭৬ বছরে পদার্পণ করল দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রলীগ। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও নিয়মিত কমিটি না থাকায় ও অনেক নেতাকর্মীর অনুপস্থিতির কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গতকাল বুধবার (৪ জানুয়ারি) সাদামাটাভাবে ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন সকাল ৯ টায় উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় কিছু সদস্য, গুটিকয়েক ছাত্রলীগের সদস্য আ.লীগ দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্যদিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শেষ করেন।

এ সময় উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত বসাক, আ.লীগ সদস্য তারেক আজীজ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামালউদ্দিন শান্তু, ছাত্রলীগ নেতা, তামীম হোসেন, আতিকুর রহমান টিটু, আরাফাত ফরিদী হিমেল, আলেক সরকার, হরতাল হোসেন, বাপ্পি, ফারাজুল ইসলাম, মাসুদ, রোকন, হায়দার, জেটি, আনোয়ারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ঢিলেঢালা ও সাদামাটা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগার এবং উপজেলা আ.লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

ছাত্রলীগের কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ আ.লীগের একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। আমরা সবসময় তাদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের জটিলতার কারণে এতোদিনেও এখানে কমিটি করা হয়নি। আমরা একাধিকবার তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ছাত্রলীগের কম উপস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন, কমিটি না থাকলে তো ছাত্রলীগের প্রোডাকশন কমবেই।

উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা সত্যিই লজ্জিত। আমি জেলা আ.লীগের প্রতিটি দলীয় মিটিংয়ে এ কমিটির কথা বলেছি। বিশেষ করে আ’লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, জেলা আ’লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে এ কমিটির জন্য কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলতে বলেছি। তিনি আরো বলেন দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় আমরা দলীয়ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যাপক সইদুল হক বলেন, আমি বিশেষ কাজে ঢাকায় থাকার পরেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য  সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সাথে কথা বলেছিলাম। আসলে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায়  ছাত্রলীগ করে আসা নেতাকর্মীদের অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আমি থাকলে হয়তো সকলের সাথে সমন্বয় করে উৎসবমূখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে পারতাম। আমি নিজেই জেলা আ’লীগ ও ছাত্রলীগের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। অজ্ঞাত কারণেই তারা কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটি আমাদের চরম ব্যর্থতা। তবে আগামী ৬ জানুয়ারি যানযটের উপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দেশব্যাপী একটি কর্মসূচি রয়েছে।  রাণীশংকৈল ছাত্রলীগ যেন সেটি সাড়ম্বরে পালন করতে পারে সে ব্যাপারে আমি সার্বিক সহযোগিতা করবো।
এ বিষয়ে সাবেক এমপি ও জেলা আ’লীগ সহ-সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা বলেন, আমি বিশেষ রাজনৈতিক কাজে ঢাকায় আছি তবে এরমধ্যে রাণীশংকৈলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের ব্যাপারে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আর, ইতোপূর্বে এবং সম্প্রতি উপজেলা কমিটির বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে আমি কথা বলেছি। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি এই কমিটি গঠন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলায় কমিটি কেন করা হয়নি এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজহারুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সভাপতি হওয়ার ৬ মাসের মাথায় কমিটির জন্য উপজেলা আ.লীগ ও জেলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে প্রায় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন সামনে আসায় তা আর করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে আমাদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে কমিটি না হওয়া  উপজেলাগুলোতে দুএকদিনের মধ্যেই চিঠি প্রেরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে। প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামধারণ করে। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির পতাকাবাহী ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

বাবার লাশ রেখে বিসিএস পরীক্ষার হলে মেয়ে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে বিসিএস পরীক্ষায় বসলেন মেয়ে‌। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে কিডনীজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মোঃ তাহির আলী (৬৫) মারা গেছেন। বাবাকে হারিয়ে অনেকটা নির্বাক হয়ে যায় মেয়ে রেবা বেগম। রেবা বেগম সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স শেষ করে এবারের বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। এমন অবস্থায় মনকে পাথরে চাপা দিয়ে বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষার হলে বসতে হলো রেবা বেগমকে। সে ৪৪ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে আর বাবাকে সে দেখতে পায়নি। এরমধ্যেই জানাজা শেষে বাবার লাশ দাফন হয়ে গেছে।

রেবা বেগমের বিসিএস পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ। বুধবার সকাল ১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে ওই কেন্দ্রে যায় সে। সহপাঠী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় ৪৪ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

রেবার পরিবার ও স্থানীয় লোকজনদের বরাত দিয়ে জানা যায, কুলাউড়ার উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর চাতলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা, সাবেক ইউপি সদস্য ও রবিরবাজারের বিশিষ্ট ফার্ণিচার ব্যবসায়ী মোঃ তাহির আলী। মঙ্গলবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মেয়ে রেবা বেগম বুধবার ৪৪ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। হঠাৎ করে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাহির আলীর মৃত্যু হয়। বাড়ি জুড়ে শোকের আবহাওয়া, চলছে লাশ দাফনের প্রস্তুতি। বাবার মৃত্যুর পর রেবা ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় সে।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় মনসুর শাহী ঈদগাহ মাঠে বাবা তাহির আলীর জানাজা হয়। জানাজায় তাহির আলীর আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্ৰামবাসী ,পাড়া প্রতিবেশী ও আশপাশের এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে জানাযা হয়। পরে মনুসর শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাহির আলী ৫ কন্যা, ৫ ছেলে ও দুই স্ত্রী রেখে গেছেন।

বিকেলের দিকে পরীক্ষা শেষে রেবা বেগম বলল, ‘বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বাবার আত্মাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না।’ আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। আর আমি যদি বিসিএস পাশ করি তাহলে আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ হবে।

নীলফামারীতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মা-ছেলে গ্রেফতার

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের একটি অভিযানিক দল। (৪ জানুয়ারী) বুধবার বিকেলে নীলফামারী-জলঢাকা সড়কের বাদিয়ার মোড় নামক স্থানে ব্যাটারি চালিত একটি অটোরিকসায় অভিযান চালিয়ে এসব ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গোতামারী এলাকার মনজুর আলমের স্ত্রী মমিনা খাতুন (২৭) ও মনজুর আলমের ছেলে আব্দুল খালেক (১৮)।

এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক(এসআই) শফিয়ার রহমান বাদী হয়ে নীলফামারী থানায় একটি মামলা করেছেন।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন জানান, অটোরিকসার পিছনের সিটে বসে আসছিলেন তারা। ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে এক’শ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। তারা নীলফামারীতে আসছিলো হাতিবান্ধা থেকে। তিনি বলেন, গ্রেফতার দু’জন মা ও সৎ ছেলে।

মুরাদনগরে ১২কেজি গাঁজা মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার ২

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে ১২কেজি গাঁজা ও মাইক্রোবাস সহ দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর গ্রামের মৃত. মোতালেব মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসাইন মূছা (৩৭) ও একই এলাকার মৃত. মতি মিয়ার ছেলে সহিদ মিয়া (৪৫)।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানার নবীয়াবাদ এলাকা হয়ে পার্শ্ববর্তী নবীনগর উপজেলায় একটি মাদকের চালান যাবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই হৃদয় পাল সহ একদল পুলিশ নবীয়াবাদ এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি মাইক্রোবাস দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ তা গতিরোধ করে আটক করে। এবং মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালিয়ে মাইক্রোবাসের বডির ফ্রেমে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার সহ দুই আসামীকে গ্রেফতার করে।

বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায় তারা জেলার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার মাদবপুর হতে এসব গাঁজা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নবীনগর যাচ্ছিল। আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার বিকেলে আসামীদের কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

নেত্রকোণায় ফিসারীতে বিষ প্রয়োগে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের শিবপ্রসাদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে তোঁতা মিয়া’ র ফিসারীতে বিষ প্রয়োগ করে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে দূর্বৃত্তরা।

গতকাল রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি ঘটেছে।

এলাকাবাসী জানায় দূর্বৃত্তরা রাতে এই ফিসারীতে বিষ প্রয়োগ করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

তবে আলামত হিসেবে একটি বিষের বোতল পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত তোঁতা মিয়ার পরিবার জানায়, বিষ প্রয়োগের ফলে ফিসারির সকল মাছ মারা গিয়েছে, বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দু’লক্ষ টাকা।

ফুলবাড়ীতে ছাত্রলীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে শোভাযাত্রা উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌকির হাসান তমালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোছাব্বীর রহমান হ্যাভেনের সঞ্চলনায় সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিঠু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মন্ডল বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিক মিলন ও সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি এমদাদুল হক মিলন বক্তব্য রাখেন।

ডিবিএন/ডিআর/মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

জন্মনিবন্ধন সংশোধনে ভোগান্তির অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করতে গিয়ে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নাগরিকদের সীমাহীন ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে। এতে ভোক্তভোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সংশোধনের জন্য আবেদন করেও যথাসময়ে তারা জন্মনিবন্ধন সদন পাচ্ছেন না। যার কারণে তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না। ফলে তাদের দিনের পর দিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিতে হচ্ছে। এদিকে যারা মোটা অংকের টাকা দিচ্ছেন তাদের জন্মসনদ দ্রুত সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বড়লেখা পৌরসভা, বড়লেখা সদর ও দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ও দক্ষিণভাগ উত্তর এবং সুজানগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য অনেকে পৌরসভা ও ইউনিয়ন অফিসে এসেছেন। তাদের কেউ নতুন জন্মনিবন্ধন নিতে এসেছেন। কেউ বা সংশোধনীর জন্য এসেছেন। সংশোধনী করতে আসা নাগরিকদের কারও সন্তানের নামে ভুল, কারও মা-বাবার নামে ভুল, কারও লিঙ্গ পরিচয়ে ভুল রয়েছে। এসময় অনেকে অভিযোগ করেন তারা প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সংশোধনের জন্য আবেদন করেও জন্মসনদ পাননি।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নে হিনাইনগর গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার সাহেদ হাসানকে পেয়ে কথা হয়। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাতিজির জন্মসনদে নামের ভুল সংশোধনের জন্য গত ০৬ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করেছি। পরে সেটির কপি ইউনিয়নে জমা দিয়েছি। এরপর থেকে অন্তত ৭ দিন ইউনিয়নে গিয়েছি। ইউনিয়নে যাওয়ার পর দায়িত্বশীলরা বলেন ইউএনও অফিসে যেতে। সেখানে দুইদিন গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির আরেঙ্গাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসাইন বলেন, আমার ভাতিজা-ভাতিজির জন্ম সনদে নামে ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করে একাধিকবার ইউনিয়ন ও ইউএনও অফিসে গিয়েছি। পরে প্রায় ৬ মাস পর তা সংশোধন হয়েছে।

উদ্যোক্তারা যাদের কাছ থেকে টাকাও নিচ্ছেন তাদের কাজ দ্রুত করে দিচ্ছেন-এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আরেঙ্গাবাদ গ্রামের আমার খালাতো ভাই আশুকুর রহমানের কাছ থেকে তার ছেলে-মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধনের জন্য ৬ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমার এক ভাতিজার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে গিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কারা টাকা নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়নের দায়িত্বশীলরা নিয়েছেন। এরকম অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি একটু রাগারাগি করায় তারা আমার কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে পারেনি। ’

বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার ফাহিম বলেন, আমার ও আমার মা-বোনের  জন্মসনদে নামে ও বয়সে ভুল ছিল। সংধোশন করলাম। সংশোধিত জন্মনিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেছি। সেটি দিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। দেড় বছর থেকে এখন দেখি অনলাইনে সংশোধিত তথ্য দেখাচ্ছে না। এখন সংশোধিত তথ্য অনলাইনে না দেখালে আমাদের আবেদন বাতিল করে দিতে পারে। অনেক দিন পৌরসভায় গিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালাম। তারা বলেন মৌলভীবাজারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে ঠিক করিয়ে আনতে। এখনও তা ঠিক হয়নি।

এদিকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বড়লেখা পৌরসভার মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত ফি নেন। এর বাইরে কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না। ইউনিয়নের নাগরকিদের আবেদন ইউএনও অফিস থেকে অনুমোদন হয়। তা যাচাই-বাছাই হতে একটু সময় লাগছে। আর বড়লেখা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌরসভার নাগরিকদের জন্ম সনদ সংশোধনের আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমোদন হয়।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, আগের ইউএনও বদলি হওয়া আর নতুন ইউএনও হিসাবে আমার যোগদানের মাঝখানে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের অনেক আবেদন জমা পড়েছে। এজন্য একটু সময় লাগছে। এরপরও যাদের খুব বেশি জরুরী তিনি তার ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাবেন। চেয়ারম্যান আমাদের কাছে তাকে পাঠিয়ে দিলে আমরা তা সাথে সাথে করে দেব।

টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়নে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের যুদ্ধের পাশাপাশি সামরিক শক্তি প্রদর্শনে আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের দিকে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত একটি ফ্রিগেট মোতায়েন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ’অ্যাডমিরাল গোর্শকভ’ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুতিনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও ফ্রিগেটের কমান্ডার ইগোর ক্রোখমল যুক্ত ছিলেন।

শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম অত্যাধুনিক “জিরকন” মিসাইল ব্যবস্থাসহ এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির নাবিকেদের তাদের মাতৃভূমির সেবাদানে সফল করতে সাহায্য করবে এই আশা ব্যক্ত করেন পুতিন।

নতুন পাঠ্যবইয়ে ভুল এবং তথ্যের অসঙ্গতি

শিক্ষা ডেস্কঃ গতবারের মতো এবছরও নতুন পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু ভুল এবং তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে ভুলগুলো চিহ্নিত করার পর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশোধনী পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

নতুন পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, ‘পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় ও নৃশংসভাবে গণহত্যা ঘটায়।’ প্রকৃতপক্ষে রাজারবাগে ছিল পুলিশ লাইনস, আর পিলখানায় ছিল ইপিআর সদর দপ্তর। আর ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ের ২০০ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, ‘১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।’ এ তথ্যটিও সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুকে শপথ পড়িয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

এ ছাড়া বইয়ের ১৮১ পৃষ্ঠায় ‘অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও গণহত্যা’ অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে, ‘২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে।’ প্রকৃত তথ্য হলো গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা শুরু হয় ২৫ মার্চ কালরাতে। ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা-১) ‘অংশগ্রহণের’ বদলে ‘অংশগ্রহনের’ ছাপা হয়েছে। ‘ছিল না’র বদলে ছাপা হয়েছে ‘ছিলনা’। বেশিরভাগ পাঠ্যবইয়েই হাইফেন, ড্যাশ ও কোলনের ব্যবহার যথাযথ হয়নি। এ ছাড়াও অন্যান্য বইয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা গত বছরের বইতেও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সব ভুল চিহ্নিত করে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে একটি সংশোধনী করা হবে। এরপর সেটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। ক্লাসে পড়ানোর সময় সংশোধনী দেখে পড়াতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যবইয়ে ভুলের বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। ভুলগুলো চিহ্নিত করার পর তা সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অবহিত করা হবে।