একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন হবে আজ

জাতীয় ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন ও বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি)। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টায় শুরু হবে এ অধিবেশন।

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতাসহ কমিটির সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন। এই সভায় অধিবেশনের কার্যদিবস এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এবারের সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সংসদ উপনেতা মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে এ পদটি শূন্য হয়।

এদিকে বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অধিবেশনের প্রথমদিন ভাষণ দেবেন। পরে তার এই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা হবে। সবশেষে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৬ নভেম্বর সংসদের ২০তম অধিবেশন শেষ হয়।

সূত্র জানায়, ২১তম অধিবেশনে মোট ১৭টি বিল উত্থাপিত হতে পারে। এসবের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আটটি বিল পাস হতে পারে। গত ২০তম অধিবেশনে পাস না হওয়া ১০টি বিল জমা রয়েছে। নতুন সাতটি বিল জমা পড়েছে বলে আইন শাখা জানিয়েছে।

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতাসহ কমিটির সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন। এই সভায় অধিবেশনের কার্যদিবস এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এবারের সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সংসদ উপনেতা মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে এ পদটি শূন্য হয়।

এদিকে বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অধিবেশনের প্রথমদিন ভাষণ দেবেন। পরে তার এই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা হবে। সবশেষে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৬ নভেম্বর সংসদের ২০তম অধিবেশন শেষ হয়।

সূত্র জানায়, ২১তম অধিবেশনে মোট ১৭টি বিল উত্থাপিত হতে পারে। এসবের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আটটি বিল পাস হতে পারে। গত ২০তম অধিবেশনে পাস না হওয়া ১০টি বিল জমা রয়েছে। নতুন সাতটি বিল জমা পড়েছে বলে আইন শাখা জানিয়েছে।

সোমালিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে আল শাবাব জঙ্গিদের দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের আট সদস্যসহ কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার (৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান দেশটির একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।

এটি আল কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল শাবাবের ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা। গত বছর থেকে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অঞ্চল থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করে সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী।

হিরশাবেল রাজ্যের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হাসান-কাফি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। তারা নারী ও শিশু।

তিনি বলেন, ৯ জন সদস্যের একটি পরিবারের মাত্র একটি শিশু বেঁচে আছে। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবারগুলোও তাদের অর্ধেক সদস্যকে হারিয়েছে। দুটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের সরকার বলছে, এসব অভিযানে শত শত আল শাবাব যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং কয়েক ডজন বসতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যদিও তার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অভিযান হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী মোগাদিশুর বেশ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা ও হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘন ঘন হামলা চালিয়েছে আল শাবাব।

সোমালিয়ায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সরবরাহকেও ব্যহত করেছে আল শাবাবের কর্মকাণ্ড। এতে হর্ন অব আফ্রিকার দেশটিতে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশু ও পানিতে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় রাস্তায় পড়ে থাকা বিদ্যুৎস্পর্শে তায়্যিবা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে পানিতে ডুবে হাফেজ আতিকুর রহমান (২২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভূকশিমইল ও হাজীপুর ইউনিয়ন এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ভূকশিমইল ইউনিয়নের ছিলারকান্দি গ্রামের খসরু মিয়ার মেয়ে তায়্যিবা সকাল ৯টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুৎ লাইনের তারে অসাবধানতায় হাত দেয়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তায়্যিবা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

অপরদিকে, এদিন সকাল ১০টার দিকে কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে হাফেজ আতিকুর রহমান হাজীপুরের কটারকোনা হোসাইনিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে মারা যায়। তিনি ওই মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছিলেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্র আতিকুর রহমান মৃগী রোগী ছিলেন বলেও জানান ওসি।

ডিবিএন/ডিআর/মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিতদের সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ফুলেল শুভেচ্ছা

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারের বারুতখানাস্থ সিলমার্ট কমপ্লেক্সে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট- চট্টগ্রাম ফেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক উৎফল বড়ুয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষে ফুলেল শুভেচছা ও অভিনন্দন জানান।

এসময় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী, সহসভাপতি (প্রথম) মনিরুজ্জামান মনির, সহ সভাপতি (দ্বিতীয়) সাঈদ চৌধুরী টিপু, সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, সহ সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ (মাইস্লাম রাজেশ), কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মিঠু দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক  সুলতান সুমন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. এনামুল কবীর, পাঠাগার সম্পাদক মো. আবু বক্কর, দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ, নির্বাহী সদস্য মো.আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন , রনজিত কুমার সিংহ, মো.শাহীন আহমদ প্রমুখ।

ঐতিহাসিক গ্যাসচুক্তি হলো তুরস্ক এবং বুলগেরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেশ সমস্যায় পড়েছিল বুলগেরিয়া। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক চুক্তি হলো তুরস্ক এবং বুলগেরিয়ার। এবার তুরস্কের ট্রানজিট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে দেশটি। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির ফলে বছরে এক দশমিক পাঁচ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস তুরস্কের ভেতর দিয়ে বুলগেরিয়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। ১৩ বছরের জন্য চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডায় বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন

অনলাইন ডেস্ক: ঘন কুয়াশা আর তাপমাত্রা নিচে নেমে আসায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। যান চলাচল ও দৈনন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে গরম কাপড়ের জন্য সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার। গত কয়েক দিন ধরে এমনই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর।

ভোর থেকে শুরু হয় এই ঘন কুয়াশা। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। সেই সঙ্গে প্রবাহিত হয় মৃদু ঠান্ডা হাওয়া। দুপুরের দিকে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা-ও ঢেকে যায়। দুপুর নাগাদ শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও বিকেল থেকে আবারও বাড়ছে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার প্রকোপ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে মাত্র দুই গজ দূরেও দেখা যাচ্ছে না কিছু। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে অল্পসংখ্যক যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ জনসমাগম স্থানগুলোতে লোকজনের উপস্থিতিও কম। জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ বের হলেও কাজ না পেয়ে অনেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিকেরা পথে ও মাঠে নেমে সামান্য কাজ করেই শীতে কাবু হয়ে পড়ছেন। হিমশীতল আবহাওয়ায় মুহূর্তেই জমে যাচ্ছে শরীর। একাধিক গরম কাপড় গায়ে দিয়েও শীত নিবারণ করা যাচ্ছে না। তাই কাজ ছেড়ে হাত গুটিয়ে একটু তাপের জন্য ছুটতে হচ্ছে আগুনের আঁচ পেতে।

স্থানীয় দিনমজুর ইয়াসিন আলী বলেন, ‘সকালে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছি, কিন্তু যে ঠান্ডা, এতে করে শরীর আর পেরে উঠছে না। কয়েক দিন ধরে একই পরিস্থিতি থাকায় কাজে না এসেও উপায় নেই।’

ভ্যানচালক রহমান শাহ  বলেন, ‘অন্যান্য দিন ভোর ৫-৬টায় বাড়ি থেকে বের হই। এখন তো ৮ টায়ও বের হতে পারি না। কুয়াশায় চোখে কিছু দেখা যায় না। তার ওপরে বেকায়দা ঠান্ডা।’

স্থানীয় কৃষক তমাল বলেন, ‘কুয়াশা ও শীত সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের হলেও মাঠে থাকা ফসলের জন্য ভালো। এতে করে শাক-সবজি ভালো ফলন দেয় বা বেড়ে ওঠে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার আরাজি গোপিনাথপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নেকমরদ বঙ্গবন্ধু কলেজের অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক তছিরউদ্দিন (৭৯) গতকাল মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, ৩ কন্যা, ১ পুত্র সন্তানসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল  মঙ্গলবার বীর মুক্তিযোদ্ধা তছিরউদ্দিন বিকেল ৫টায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। ওইদিনেই বিকেলে তার  বাড়িতে রাণীশংকৈল থানার ওসি জাহিদ ইকবালের সঙ্গীয় পুলিশসহ তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ,স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্তানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে রাণীশংকৈল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও  মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

চৈত্রঘাটের ধলাই সেতুটি বন্ধে জনদূর্ভোগ চরমে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপির সাথে জেলা সদরে যাতায়াতের ধলাই নদীর উপর চৈত্রঘাট সেতু ফের বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায়, দীর্ঘ ১২ দিন যাবত মেরামত শেষ হওয়ার পরও সেতু চালু হতে না হতেই কয়লা বোঝাই পারাপারের সময় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। গত শুক্রবার ভোরে সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ায় পুণরায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সেতু ফের বন্ধ হওয়ার ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।

জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর বিকালে চৈত্রঘাট এলাকায় ধলাই সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে ভারী যানবাহন ব্যতিত হাল্কা যান চলাচলের অনুমতি প্রদান করে সেতুটি চালু করে দেয়। ঐদিন বিকাল থেকে হাল্কা যান চলাচল শুরু হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যায় কয়লা বোঝাই একটি ট্রাক সেতু পারাপারের সময় ধ্বসে পড়ে। এরপর থেকে পুণরায় মৌলভীবাজারের সাথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বিকল্প সড়কে চা বাগান ঘুরে যানবাহন চলাচল করছে। এঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ ট্রাক আটক করে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করে।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কয়লা বোঝাই ট্রাক সেতু পারাপারের সময় পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। থানায় একটি ডায়েরীও করা হয়েছে। এই স্থানে নতুন সেতুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার সরেজমিন গিয় দেখা যায় জনসাধারণের ভুগান্তির চিত্র। সাধারণ মানুষ দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে বলেন সেতুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে। অতীব শীগ্ৰই এর চলাচলের উপযুক্ত না হলে আমাদের করুন পরিস্থিতি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেন দেখে যায়। আমরা কিভাবে আছি কিভাবে চলাচল করছি এমন অভিযোগ তুলে ধরেন আটকে পড়া সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে ধলাই নদীর উপর চৈত্রঘাট এলাকায় সেতু নির্মিত হয়। মৌলভীবাজার জেলা শহর ছাড়াও শমশেরনগর চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়ক ও সেতু, কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়ন এবং কুলাউড়া উপজেলার তিন ইউনিয়নের হাজারো লোকজন প্রতিদিন এই সড়ক ও সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন।

দেশের শিক্ষাব্যয় নিয়ে ইউনেসকোর প্রতিবেদনে দ্বিমত শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা ডেস্কঃ দেশের শিক্ষাব্যয় নিয়ে ইউনেসকোর প্রতিবেদনের দ্বিমত প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনেসকোর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট ২০২২’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা বাবদ ব্যয়ের ৭১ শতাংশই বহন করতে হয় পরিবারকে। এ ছাড়া এনজিও বা বেসরকারি স্কুলের ফি ও ব্যয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তিনগুণ।বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় নয়গুণ।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সারাদেশে ২০ হাজার বেসরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত। বাকি প্রায় ২ হাজার ননএমপিও প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশ খরচ (বেতন-ভাতা ও অন্যান্য) সরকারিভাবে অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। এর বাইরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি-উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়ে থাকে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। তবে শিক্ষামন্ত্রী দাবি করছেন, গত দুই বছর ধরে এই খাতে কোনো অনিয়ম হয়নি। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির আওতায় এনে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমরা সবাইকে স্কুলে আনার প্রতি জোর দিয়েছিলাম। ২০১৮ সাল থেকে শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষার স্তরভিত্তিক মান নিয়ে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। এ বছর থেকে সেটি কার্যকর করা হচ্ছে।

চায়ের উৎপাদন বাড়লেও বেড়েছে ভোগের চাহিদা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দেশে চায়ের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি জুন – অক্টোবরে হয়। যদিও চায়ের ভোগের পরিমাণ বাড়তে থাকে অক্টোবর থেকেই। গত নভেম্বরের পর চায়ের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না বাড়লে আগামী মৌসুমে চায়ের আমদানির সম্ভাবনা দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ ভোগ ছিল ৯ কোটি ৩৩ লাখ কেজি। যদিও ওই সময় (২০২১ সালে) চায়ের উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি। প্রতি বছর চায়ের ভোগ ৪-৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির হিসাবে গত বছর চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি কেজি করা হয়। তবে নভেম্বর পর্যন্ত চা উৎপাদন হয়েছে ৮ কোটি ৬০ লাখ কেজি। সর্বশেষ ডিসেম্বরেও এক কোটি কেজির কম চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের উৎপাদনের চেয়েও অভ্যন্তরীণ ভোগ বেশি হবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে চা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, গত কয়েক বছর দেশের চায়ের ভোগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চায়ের ভোগ ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ কেজি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৮ কোটি ৬৬ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ভোগ ছিল ৮ কোটি ৭৩ লাখ কেজি, ২০২১-২২ অর্থবছরে চায়ের বার্ষিক ভোগ ৯ কোটি ৩৩ লাখ কেজি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চায়ের ভোগের পরিমাণ বেড়ে সাড়ে ৯ লাখ কেজি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চায়ের অভ্যন্তরীণ ভোগের পরিমাণ ঠেকেছে ৪ কোটি ৭৬ লাখ ২৬ হাজার কেজি, যা বিগত অর্থবছরের দেশীয় বার্ষিক ভোগের ৫১ শতাংশের বেশি।

Google Newsডিজিটাল বাংলা নিউজ” অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চা উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা চলতি মৌসুমে ব্যাহত হয়েছে মূলত চা শ্রমিকের মজুরি ও ধর্মঘটের কারণে। বছরের মাঝামাঝি টানা ২০ দিনের ধর্মঘটের কারণে দেশের চা উৎপাদন কমে যায়। যার কারণে জুলাই ও আগস্টে চা উৎপাদন কমে যায়। জুলাইয়ে আগের বছরের চেয়ে কম অর্থাৎ ১ কোটি ১২ লাখ ৬৭ হাজার কেজি এবং আগস্টে আগের বছরগুলোর তুলনায় কম অর্থাৎ উৎপাদন হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৬২ হাজার কেজি। যদিও সেপ্টেম্বর মাসে বিগত কয়েক বছরের চেয়েও রেকর্ড ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। সর্বশেষ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে চা উৎপাদন হয়েছে ৮ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার কেজি। যদিও ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছিল ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার কেজি চা।

চা- বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় চা ভোগ্যতার চেয়েও কম উৎপাদন হলে বাংলাদেশে চায়ের আমদানি বাড়াতেই হবে। তা না হলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন কুমার বর্মণ গনমাধ্যম সূত্রে বলেন, দেশে চায়ের ভোগ প্রতি বছরই বাড়ছে। দেশীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে চায়ের ভোগ বাড়ে। তাছাড়া শীতকালীন মৌসুম, নির্বাচনকালীন পরিবেশ চায়ের ভোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। চা উৎপাদন চাহিদা অনুযায়ী না হলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। এক্ষেত্রে চায়ের উৎপাদন বাড়ানো না গেলে দেশীয় চায়ের দামও বাড়তে পারে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো না গেলে, রপ্তানির জন্য তৈরি থাকতে হবে দেশের ভোগের চাহিদা মেটাতে।