স্বপ্নের মেট্রোরেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্কঃ রাজধানীবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল অবশেষে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেট্রোরেলের শুভ উদ্বোধন করতে রাজধানীর উত্তরায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে রয়েছেন ছোট বোন শেখ রেহানা এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় উদ্বোধনস্থলে পৌঁছান।

উদ্বোধনস্থলে পৌঁছেই তিনি ফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী এখান একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির টিকিট কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে মেট্রোতে চড়বেন। তিনিই হবেন এর প্রথমযাত্রী।

অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চে আরও উপস্থিত আছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রওশন আরা মান্নান, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, ডিএমটিসিএলের এমডি মন সিদ্দিক, এমআরটি লাইন-৬ এর প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার, ঢাকায় নিযুক্ত নতুন জাপানি রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি এবং বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে প্রমুখ।

মেট্রোরেলের উদ্বোধন দেখতে হাজারো মানুষ নানা রঙের পোশাক পরে আনন্দমুখর পরিবেশে সমবেত হন উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে। উদ্বোধনী মঞ্চের পেছনের ব্যানারে একপাশে বঙ্গবন্ধু, অপর পাশে প্রধানমন্ত্রীর ছবি, মাঝখানে দুটি মেট্রো রেলের ছবি শোভা পাচ্ছিল।

উদ্বোধনের পর রুটের মধ্যবর্তী স্টেশনে কোনো স্টপেজ ছাড়াই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। পরদিন (বৃহস্পতিবার) থেকে যাত্রীরা মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ছয়টি বগিবিশিষ্ট ১০ সেট ট্রেন চলাচল করবে। পরে চলাচলের সময় বাড়ানো হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সম্পূর্ণভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হলে প্রতি সাড়ে তিন মিনিট অন্তর একটি ট্রেন চলবে। প্রতিটি স্টেশনে, যাত্রীদের ওঠা ও নামা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনটি অপেক্ষা করবে। প্রতিটি ট্রেন ২,৩০০ জন যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।

২০১৭ সালের ১ আগস্ট থেকে রেল প্রকল্পের জন্য ভায়াডাক্ট ইনস্টল করা শুরু করে বাস্তবায়ন সংস্থা।

উত্তরা ফেজ-৩ এবং পল্লবী, রোকেয়া সরণি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর এবং জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এ মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার।

২০১৬ সালের ২৪ জুন মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত।
পরে নগরীর আগারগাঁও পয়েন্টে এলিভেটেড ভায়াডাক্টের প্রথম অংশ এবং এমআরটি লাইন-৬ এর নয়টি স্টেশনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মোট ২২,০০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৬,৬০০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা প্রদান করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়, প্রাণহানি বেড়ে ৫৭

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারঝড় প্রত্যক্ষ করছে। এরই মধ্যে এ ঝড়ে ঠান্ডা ও তুষারপাতের কারণে পিচ্ছিল হয়ে থাকা সড়কে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৫৭ জনের। গতকাল সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) নাগাদ কেবল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো কাউন্টিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারঝড় প্রত্যক্ষ করছে। এ  ঝড়ে এখন পর্যন্ত কানাডা সীমান্তবর্তী গ্রেট লেক থেকে শুরু করে মেক্সিকো সীমান্তের রিও গ্রান্দে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে ৫৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। রাজ্যগুলো হলো: কলোরাডো, ইলিনয়, কানসাস, কেন্টাকি, মিশিগান, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, নিউইয়র্ক, ওহিও, ওকলোহামা টেনেসি এবং উইসকনসিন।

নিউইয়র্ক রাজ্যের বাফেলো কাউন্টির নির্বাহী মার্ক পোলোনকার্জ বলেন, ‘ভয়ঙ্কর এ তুষারঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি। কারণ এরই মধ্যে আয়ার কাউন্টি তুষারে ঢেকে যাচ্ছে; বাফেলোর বেশিরভাগ এলাকাসহ অধিকাংশ এলাকার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’

আজ মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তুষারপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে মার্ক পোলোনকার্জ আরও বলেন, আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি, তবে সেখানে পৌঁছাতে এখনও অনেক দেরি।

উল্লেখ্য, নর্থইস্ট রিজিওনাল ক্লাইমেট সেন্টারের মতে এর আগে ১৯৭৭ সালে বাফেলোতে এর চেয়ে ভয়াবহ তুষারঝড় হয়েছিল। সে সময় ২৯ জন মানুষ ঠান্ডা এবং তুষারপাতজনিত কারণে পিচ্ছিল রাস্তায় সড়ক ও বিভিন্ন ‍দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় তুষারপাতের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, বাফেলো বিমানবন্দরে ৪৯ ইঞ্চিরও বেশি বা ৪ ফুটেরও বেশি পুরু তুষার জমেছিল।

 

কমলগঞ্জে মলদ্বার বিহীন ও ঠোঁট কাটা নবজাতকের জন্ম!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মলদ্বার বিহীন ও ঠোঁট কাটা অবস্থায় এক নবজাতকের জন্ম হয়। গত শুক্রবার জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের দক্ষিণ পাড়ার দরিদ্র চা শ্রমিক গোপাল ভর ও গীতাবতী দম্পতি। টাকার অভাবে চিকিৎসা না করেই নবজাতকে বাড়িতে নিয়ে আসেন চা শ্রমিক পরিবার।

জানা যায়, মৌলভীবাজার আল-হামরা প্রাইভেট হাসপাতালে রাত ১ টায় চা শ্রমিক গীতাবতী চতুর্থ সন্তানের জন্মদান করেন। জন্মের পর দেখা যায় নবজাতকের মলদ্বার বিহীন ও ঠাঁট কাটা। জন্মের দুই দিন পর নবজাতককে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন পরিবার। চিকিৎসকরা বলেছেন মলদ্বার সার্জারী করলে ঠিক হয়ে যাবে। তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে যান।

নবজাতকের বাবা অটোরিক্সা চালাক গোপাল ভর বলেন, ডাক্তার বলেছেন চিকিৎসার জন্য টাকা লাগবে। আমরা গরিব মানুষ টাকা দিয়ে চিকিৎসা করতে পারছিনা। কেউ যদি সাহায্য করেন তাহলে হয়তো আমার বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভুইয়া বলেন, সাধারণত খুব কম নবজাতক এ ধরনের বিরল ভাবে জন্ম নেয়। তবে সার্জারির মাধ্যম এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জন্মের পর কোন অসংগতি দেখলই শিশু সার্জনের কাছে নেওয়া উচিত। যতদ্রুত সম্ভব সার্জারি করালে বাচ্চাটা সুস্থ হয়ে উঠবে।

চীনে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  এশিয়ার বৃহত্তম দেশ চীনে কয়েক দিন ধরে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশটিতে করোনার সময় দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরই করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।এদিকে চীন ঘোষণা দিয়েছে,  এখন থেকে বিদেশ থেকে আসা কাউকে আর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে। 

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সন্ধান মেলে। এরপর দেশটিতে প্রায় তিন বছর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। চলতি বছরের নভেম্বরে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে দেশটির সাধারণ মানুষ। তাদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় চীন সরকার। যার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো—বিদেশ থেকে আসা কাউকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না।

সম্প্রতি চীনে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমমিশ খাচ্ছেন চীনের স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মধ্যেই দেশটি এ ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখন থেকে দেশটি আর করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করবে না।

কঠোর বিধিনিষেধ তুলে নিলেও সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে সম্ভাব্য সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে শি জিনপিং বলেছেন, পরিস্থিতি বদলে গেছে এখন চীনকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চীনে বিদেশিদের জন্য ২০২০ সালের মার্চে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন নিয়ম জারি করা হয়। ওই সময় কোয়ারেন্টাইনের সময় ছিল ১৪ দিন। এরপর এটি কমিয়ে আনা হয়।

রাণীশংকৈলে লাউ চাষে ব্যাপক ফলন; চড়া দামে চরম খুশি লাউ চাষিরা

হুমায়ুন কবির, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এবার শীত মৌসুমে লাউ চাষে ব্যাপক ফলন হয়েছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় দশ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করেছে কৃষকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাউ ক্ষেতের মাঁচায় ঝুলছে ছোট বড় অসংখ্য লাউ। দেখে মন জুড়িয়ে যায় কৃষকসহ পাইকারদের। দেখা গেছে লাইলন জাতের সুতা দিয়ে ও বাঁশের খুটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে লাউয়ের মাঁচা। আর এই মাচায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের অসংখ্য  লাউ। যদিও এর আগে আমরা লাউ চাষ বাড়ির চালের উপর বা বাড়ির এক পাশের কোন পড়ে থাকা জমিতে দেখতে পেতাম। দেশে কৃষিতে উন্নয়নের ছোঁয়ায় হাইব্রিড জাতের  লাউ এখন কৃষকের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিনত হয়েছে।

দেখা গেছে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা আগের তুলনায় এখন লাউকে শীতকালীন একটি অর্থকরি ফসলে পরিনত করেছে এবং হাইব্রিড জাতের লাউ চাষে অন্যান্য সবজি চাষের তুলনায় খরচ কম হওয়ায় এবং অর্থ বেশি পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন লাউ চাষের দিকেই ঝুঁকছেন বেশি। কারণ শীত কালীন শুধু নয়, গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে বাজারে লাউয়ের চাহিদা রয়েছে। এলাকায় নতুন হাইব্রিড জাতের লাউয়ের ব্যাপক চাষ হয়েছে। গোলাকার ও আকর্ষনীয় হাল্কা সবুজ রঙের এই লাউয়ের প্রচুর ফলন পাওয়া যায়। বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। ফলে দিন দিন এর চাষ বাড়ছে। মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ দিনে এসব লাউ পরিপক্ক হয়ে যায়।

উপজেলার বনগাঁও গ্রামের মো. হোসেন এবং সন্ধ্যারই সরকারপাড়া গ্রামের তোজাম্মেল হক  বলেন, আমরা গত বছর কয়েক ২৫ শতাংশ করে জমিতে লাউ চাষ করে লাভবান হয়েছি তাই এবার আমরা প্রায় এক একর করে জমিতে লাউ চাষ করেছি এবং খরচের তুলনায় লাভের অংক বেশি গুনছি। লাউ  চাষে তেমন বেশি খরচ হয়না। আমাদের এক একর জমিতে খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার  টাকার মতো লাউ বিক্রি করে ফেলেছি। সাইজ বুঝে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লাউ বিক্রি করতে পারছি। আরো সব মিলে লাখ দেড়েক টাকার মতো লাউ বিক্রি করতে পারবো ইনশাল্লাহ।

অপরদিকে কুমোড়গঞ্জে এলাকার লাউ চাষি সফিকুল বলেন, আমি আমার লাউ বিক্রির পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের কাছে থেকে লাউ সংগ্রহ করে ঢাকার পাইকারের কাছে বিক্রি করি। হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে অনেক গুনে খরচ কম। প্রতি সপ্তাহে লাউ দুই থেকে তিন বার কাটা লাগে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে কয়েক মাস পযন্ত ফলন পাওয়া যায়। আর হাইব্রিড জাতের লাউ মারিয়া, ডায়না,নবাব,লাল তীর কোম্পানির ডায়না, বারি লাও -৪ সহ আরো বহু কোম্পানীর হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করছে কৃষকরা।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ বলেন,এবার এ উপজেলায় প্রায় দশ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করেছে কৃষকেরা। আমরা কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে সাথে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এটি একটি শীতকালীন আগাম সবজি হওয়ায় কৃষকেরা অনেক লাভবান হয়। যা অন্যান্য সবজির তুলনায় এই সবজি চাষে তেমন খরচের পরিমাণ কম।

আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন মাশরাফী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ক্রিকেটার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন মাশরাফী। 

পোস্টে তিনি লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনার আন্তরিক ভালবাসায় আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। নড়াইলের সাংসদ আপনি নিজে, আমি আপনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী।

পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া একটি বৃহৎ সংগঠন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সব নেতাকর্মীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান—আপনাদের সার্বিক সহযোগিতায় আমি এই দায়িত্ব সৎ-নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। আমার পরিবার ও নড়াইলবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সবার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক শেষে মাশরাফীর যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে বলেন। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় নতুন কমিটির ১৫ জন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্ল্যাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও সিমিন হোসেন রিমি।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয় পান মাশরাফী। পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় তাকে।

 

বাদাঘাটে ফসলি জমির মাটি কেটে সাবাড় দেখার যেন কেউ নেই!

সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাটে ফসলি জমির মাটি কেটে পরিবহনের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ভরাট এবং ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি মহল। এতে জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কাচা-পাকা রাস্তায় দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

রবিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলাধিন হাটখোলা ইউনিয়নে প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মেরিন একাডেমি সংলগ্ন সতর গ্রামের বিভিন্ন ফসলি জমির মাটি ট্রাক্টর দিয়ে সোনাতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা ও স্থাপনা ভরাটে পরিবহন করছে।

সিঙ্গাই নদী সংলগ্ন এলাকার একাধিক স্থানে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার সময় প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাহেন্দ্র ট্রাক্টর চলাচল করায় অন্যান্য জমির ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া ধুলায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকার প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে কৃষকদের কাছ থেকে কেনা ফসলি জমির মাটি প্রতি দিন ভেকু মেশিনের মাধ্যমে কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জমি হারাচ্ছে উর্বরতা।

একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা বানিয়ে মাহেন্দ্রতে মাটি নেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাঁদের ক্ষতি করে এই ব্যবসা করা হচ্ছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে। সরকার যে কোন সময় এ
এলাকার জমি অধিগ্রহন করবে ভেবে স্থানীয় জমির মালিকরা তাদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছে বলে তারা জানান।

অথচ আইনে বলা হয়েছে, কোনোভাবেই ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি এই আইন অমান্য করে মাটি কাটলে দোষীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদ- অথবা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। অথচ আইন অমান্য করেই প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি কাটা চলছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার, যেন দেখার কেউ নেই।

সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হবে। তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে আলাপকালে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানান, অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“আওয়ামী লীগের সম্মেলন”

আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়ে গেল সম্প্রতি। এক দিনের এই সম্মেলনে কোন চমক ছিলনা। নেতৃত্বও বদল হয়নি। সভাপতি বদল হবেনা সেকথা সকলেরই জানা। কিন্তু সাধারন সম্পাদক পদে নতুন মূখ আসবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিল অনেকে।এই পদেও ওবায়েদুল কাদের তৃতীয় বারের মত নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন কোন ঘোষনা ও ছিলনা একদিনের এই সম্মেলনে। অবশ্য সরকারের মেয়াদ পূর্নকরে নির্বাচনের জন্য ব্যপক পরিবর্তন এই মুহুর্তে সঠিকও হতনা। নির্বাচনি প্রস্তুতিতে নেতৃত্বকে এখনোই মাঠে নামতে হবে। কারন আগামি নির্বাচন সহজ হবে না।

হঠাৎ করেই বি এন পি এবং সমমনা দলগুলি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। গত মাসে তারা বিভিন্ন জেলা শহরে শো ডাউন করেছে। ঢাকাতেও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল। ঢাকার সেই সমাবেশ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু জনমনে কম করে হলেও একটি আতঙ্ক তুলে দিয়েছে। বি এন পি’র জন্য এটাই যথেষ্ঠ ছিল। কিছু নেতা এবং দল জামাতের চেয়েও যঘন্য ভাবে সরকারের বিরুদ্ধ্ব মাঠে নেমেছে। এই নেতা বা দলগুলির রাজনীতিতে কোন গুরত্ব নেই। কিন্তু এরা বি এন পি”র লাউড স্পিকার হয়ে প্রতিদিন রেকর্ড বাজাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা মাঠে থাকলে এই ব্যর্থ নেতাদের কন্ঠ থেমে যাবে সহজেই। এই সত্যটি আওয়ামী লীগ উপলব্ধি করতে পেরেছে এটাই এবারের সম্মেলনের বড় সাফল্য।

সরকারের সাফল্যকে নাম সর্বস্ব নেতারা ব্যর্থতা এড়াতে ঠিকাদারের দায়িত্ব পেয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে (যদি সঠিক সময়ে হয়) আওয়ামী লীগকে বিজয়ী হতে হলে এখনোই মাঠে নামতে হবে। সবাই না হলেও অনেক নেতাই নিজ এলাকায় জনসমর্থন হারিয়েছে। এই নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হলে অনেকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দিতায় পরবেন। কোন কোন নির্বাচনি এলাকায় নিজ দলের বিরোধী প্রার্থীদেরও মোকাবেলা করতে হতে পারে। নতুন রূপে নেতৃত্বকে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া সঠিক হবে। নেতৃত্ব বদল না হলেও প্রার্থী বদলের প্রয়োজন হবে। নতুন কমিটিতে পদ বদল না করে তেমনটিই করা হয়েছে কিনা সময় বলে দিবে। দেশে এখন নেতা নয় জননেতা দরকার। সমিষ্টগত ভাবে প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে দল এবং দেশের কথা ভেবে রাজনীতি করবেন- এমনটাই প্রত্যাশা রইলো। সভানেত্রী সহ সকল নব নির্বাচিত নেতৃত্বক্ব অভিনন্দন জানাই। জয় বাংলা।।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।


বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আ’লীগ নেতাসহ আহত- ৭

অনলাইন ডেস্ক: বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ ছালাম হাওলাদারসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বাদোখালী এলাকার আঃ আজিজ হাওলাদার ও আঃ ছালাম হাওলাদারের পরিবারের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ৬ জনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে এবং অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় জামাল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন-বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ ছালাম হাওলাদার (৫৪), তার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু (২৯), মামুন হাওলাদার (২৪) এবং ছালাম হালাদারের ভাই জামাল হাওলাদার (৪৫)।

আঃ আজিজ হাওলাদারের পক্ষের আহতরা হলেন-আঃ আজিজ হাওলাদার (৪৫), তার ভাই মাজীদ হাওলাদার (৪২) এবং আসাদ হাওলাদার (৩৫)। জামাল হাওলাদার ছাড়া অন্য আহতরা বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় আঃ ছালাম হাওলাদারের মামলায় আঃ আজিজ হাওলাদারের ভাই শহিদ হাওলাদার (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ ছালাম হাওলাদার বলেন, সকালে সুপারি ক্রয়ের জন্য ৪ লাখ টাকা নিয়ে বাগেরহাটে যাচ্ছিলাম। বাড়ির পশ্চিম পাশের ইটের রাস্তায় পৌছালে আঃ আজিজ হাওলাদার ও তার লোকজন আমাকে গালিগালাজ শুরু করে। কারণ জানতে চাইলে তারা আমার উপর হামলা করে। মাজিদ হাওলাদার আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এক পর্যায়ে আমার ডাক চিৎকারে আমার দুই ছেলে ও আমার ভাই এগিয়ে আসলে, ওরা তাদেরকেও মারধর করে। আমার ব্যাগ থেকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। দেড় লক্ষ টাকা ব্যাগের মধ্যে পাই। আমি আমার টাকা ও আমাদের সবাইকে মারধরের বিচার চাই।

এদিকে আঃ ছালাম হাওলাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে আঃ আজিজ হাওলাদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়েছে। আমরা তিন ভাই আহত হয়েছি।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনায় আঃ ছালাম হাওলাদার একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত শহিদ হাওলাদার নামের এক আাসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক মণিপুরী মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩য় বার্ষিক পাঙাল কনভেনশন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘৩য় ইন্টারন্যাশনাল পাঙাল কনভেনশন ২০২২’। ভারত- বাংলাদেশের মণিপুরি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী মণিপুরি সম্প্রদায়ের মিলন মেলায় পরিনত হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার আদমপুরের জি,কে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মুসলিম মণিপুরি (পাঙাল) কমিউনিটির আয়োজনে ৩য় ইন্টারন্যাশনাল পাঙাল কনভেনশন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তোরিও ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। মণিপুর রাজ্যের এমএলএ, ইসলামী চিন্তাবিদ,কবি ও সাহিত্যিক সহ ভারতের ৫১ জনপ্রতিনিধি অংশ নেন এ কনভেনশন অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুসলিম মণিপুরি (পাঙাল) কমিউনিটির সভাপতি আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন মৌলভীবাজারের (শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ) ৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ  ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি।

হকতিয়ার খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমান স্বপন ও হুমায়ুন রেজা সোহেলের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, ভারতের মণিপুর রাজ্যের প্রাক্তন এমএলএ মো. ফয়জুর রহীম, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা.আহমদ হোসেন, ভারতের মণিপুর রাজ্যের আমোকক সভাপতি এস.এম.জালাল, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন, অবসর প্রাপ্ত কর্নেল সালেহ আহমেদ,কমলগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, কবি আব্দুস ছামাদ,শিক্ষক খুরশেদ আলী প্রমুখ।

এছাড়া দেশ-বিদেশের উচ্চ পদস্থ  কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এ কনভেনশনে। দিনভর আলোচনা সভায় দুই দেশের মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের সুখ দুঃখের কথা ভাগাভাগি করা হয়। আলোচনা হয় আগামীতে নিজেদের মাঝে এভাবে তথ্য সংস্কৃতি বিনিময় করা যায়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য ; এর আগে ২০১৯ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশে ‘অ্যাসেম্বলী অব মণিপুরি মুসলিম ২০১৯’ এবং একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ভারতের মণিপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল মৈতৈ পাঙাল কনভেনশন ২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।