আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর অধিকাংশই ফাঁকা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে জন্মশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মাথা গুজার ঠাঁই দিতে আশ্রয়নের উদ্দ্যেগ নেয় সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পে একসঙ্গে ১২টি বসতঘর। সেখানে পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও রয়েছে। অথচ সাতটি ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউপি’তে অবস্থিত ‘মুকুন্দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের’ দৃশ্যের কথা বলছি।

সরেজমিনে গত মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়, মুকুন্দপুর গ্রামে ফানাই নদের তীর ঘেঁষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলো স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পৃথক পাঁচটি ঘরে একটি করে ভূমি ও গৃহহীন পরিবার থাকে। আর বাকি সাতটি ঘরে তালা ঝুলছে। বিদ্যুৎ এর লাইন টেনে ১২টি ঘরে মিটারসহ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুটি নলকূপ ও স্থাপন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি অকেজো পড়ে আছে সাক্ষী হয়ে। প্রকল্পের উপকারভোগীদের কেউ কেউ উঠানে সবজি চাষ করেছেন।

প্রকল্প লাগোয়া একটি বাড়ির উঠানে গৃহস্থালিন কাজ করছিলেন গৃহবধূ সালমা আক্তার। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সালমা বলেন, ‘আসল মানুষেরা তো জমি-ঘর পাইছে না। এর লাগি আশ্রয়ণের সাতটি ঘর খালি।’

প্রকল্পের সামনের রাস্তায় দেখা মেলে নেছা বেগম (৫৫) নামের হতদরিদ্র এক বৃদ্ধা নারীর। তাঁর বাড়ি মুকুন্দপুর গ্রামেই। স্বামী নেই। প্রতিদিন মুকুন্দপুরসহ আশপাশের এলাকায় এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকার জন্য দেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে তাঁর ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরের জেগায়, পরের ঘরে থাকি। আমার নাম সরকারর কাছে যায় না। একটা ঘর পাইলে হারা জীবন আল্লাহর কাছে দোআ করতাম।’

রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লিটন হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, তিনি ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইউপি সদস্য পদে জয়ী হন। আগের ইউপি সদস্যের দায়িত্বকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়। শুরু থেকেই প্রকল্পের সাতটি ঘর খালি পড়ে আছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু পরে এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শিমুল আলী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর খালি পড়ে থাকার ব্যাপারে তাঁর জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে কিছু লোক থাকেন না বলে শুনেছি। এরকম লোকের তালিকা তৈরি করে তাদের দলিল বাতিল করা হবে। সেখানে নতুন করে ভূমি ও গৃহহীন সত্যিকার অর্থে ঠিক ঐ পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের ভূমির দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করা হবে।’

নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে নেত্রকোণা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অসিত সরকার সজল, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ফয়েজ আহমেদ, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক,নেত্রকোণা সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাহমুদা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে নেত্রকোণা পাবলিক হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন বানার্ড আর্নল্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টুইটারের মালিক ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছেন ফ্রান্সের লাক্সারি গ্রুপ এলভিএমএইচের কর্ণধার বানার্ড আর্নল্ট। প্রায় চার দশকের চেষ্টায় বিলাসবহুল পণ্য বিক্রেতা ৭৩ বছর বয়সী এ ফরাসি ব্যবসায়ী নিজেকে শীর্ষ ধনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে বার বার ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের পতন হওয়ায় ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে গেছে।

ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৮ কোটি ডলার। তার তুলনায় ৭২ বছর বয়সী আর্নল্টের সম্পদের পরিমাণ ১৮৮ কোটি ডলার, ১০ কোটি ডলার বেশি।

চলতি বছর ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ইলেকট্রিক কার কোম্পানি টেসলার শেয়ারের দাম হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় তার মোট সম্পদের মূল্য কমে গেছে। যে কারণে শীর্ষ ধনীর তালিকার প্রথম স্থান হারাতে হয়েছে তাকে। যদিও এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালেও মাস্কের নাম এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে নেমেছিল।

উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ ধনীর খেতাব ছিনিয়ে নেওয়া বানার্ড আর্নল্ট ব্যবসায়িক গ্রুপ ‘মোয়েত হেনেসি-লুই ভুটন’ বা এলভিএমএইচের প্রধান নির্বাহী। ফ্যাশন, জুয়েলারি, অ্যালকোহলের বাজারে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে পরিচিত কিছু বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের মালিক এলভিএমএইচ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লুই ভুটন, ট্যাগ হিউর, সেফোরা, ডম পেরিগনন, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর, ফেন্ডি, গিভেঞ্চি, মার্ক জ্যাকবস, স্টেলা ম্যাককার্টনি, লোওয়ে, লোরো পিয়ানা, কেনজো, সেলিন, সেফোরা, প্রিন্সেস ইয়টস, বুলগারি, টিফানি অ্যান্ড কোং প্রভৃতি।

রাণীশংকৈলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সারাদেশের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২২খ্রিঃ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদ হলরুমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিত সাহার  সঞ্চালনায়- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে দিবসটি উপর শহীদদের স্মরণে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি ও জেলা আ.লীগ সহ সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম নেজামুল হক, বীর মুক্তি যোদ্ধা হাবিবুর রহমান,উপজেলা মহিলা আ.লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রেসক্লাব (পুরাতনের) সভিপতি  মো. আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মৌসুমী আক্তার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাহিমউদ্দিন, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলালউদ্দিন, যুব উন্নয়ন অফিসার আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্যামুয়েল মার্ডি, তথ্য কর্মকর্তা হালিমা আকতার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ফরাদুজ্জামান, প্রেসক্লাব (পুরাতন) সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কালের কন্ঠের প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম শিল্পী, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সঠিক এবং সর্বমোট সংখ্যা প্রনয়ণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, এবং ’৭১-এ পরাজিত শক্তির উত্তরসূরিরা এখন ‘নব্য রাজাকারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে, তাই তাদের রুখে দিতে তারা সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান। সেইসাথে নতুন প্রজন্মকে এ দিবসটির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানানো হয়।

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সবার পছন্দের কিমা চিজ বল

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ ছোট-বড় সবার পছন্দের খাবার কিমা চিজ বল। বিকেল বা সন্ধ্যায় অনেকেই কিমা চিজ বল খেতে চান। চাইলে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় না গিয়ে আপনি বাসায় তৈরি করতে পারেন। আজ আমরা জানাব, কীভাবে সহজে ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কিমা চিজ বল তৈরি করবেন। 

আসুন আমরা জেনে নিই বাসায় সহজে কিমা চিজ বল তৈরির পদ্ধতি। তার আগে চলুন দেখে নিই কী কী উপকরণ লাগবে-

উপকরণঃ চিকেন কিমা- ১/২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি- ১ টেবিল চামচ,  কাঁচামরিচ কুচি- ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ পেস্ট- ১ টেবিল চামচ, আদা ও রসুন পেস্ট- ১ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়ো- আধা চা চামচ, জিরার গুঁড়ো- আধা চা চামচ, ময়দা- ৪ টেবিল চামচ, ডিম- ২ টি, মোজারেলা চিজ- ২ টেবিল চামচ, লবণ- আধা চা চামচ, ঘি- ৪ টেবিল চামচ, পরিমাণমতো টমেটো সস।

প্রস্তুত প্রণালিঃ প্রথমে একটি পাত্রে চিকেন কিমা, পেঁয়াজ কিমা, কাঁচামরিচ কুচি, পেঁয়াজ পেস্ট, আদা ও রসুন পেস্ট, গরম মসলার গুঁড়ো, জিরার গুঁড়ো, ময়দা, ডিম, মোজারেলা চিজ, লবণ ও ঘি দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন।

মাখানো হয়ে গেলে বলের আকারে তৈরি করে ভেতরে টমেটো সস ও মোজারেলা চিজ দিয়ে ডিমে চুবিয়ে ময়দায় জড়িয়ে ঘি দিয়ে ভাজুন। ভাজা হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু কিমা চিজ বল। এ রেসিপিটি সহজে প্রস্তুত করতে ও রন্ধন প্রণালি সম্পর্কে জানতে উপর্যুক্ত ভিডিওটিতে ক্লিক করুন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিরাজুর রহমান মিরাজ(২২) নামক এ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৩ টায় দিকে উপজেলার জুড়ী-ফুলতলা সড়কের রতনা চা-বাগান এলাকার এলাপুর নামক স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যে মারা যান।

মিরাজ জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা। মিরাজ রাজকি এলবিনটিলা মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর সেলিমের চতুর্থ সন্তান।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সাথে সাথে তার সঙ্গে থাকা মামাতো ভাই তাকে নিয়ে ১ম অবস্থায় জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এসময় জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিলেট যাত্রা পথিমধ্যে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন মিরাজের বাবা প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকা জুড়ে কান্নার রুল বহিছে।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল জানবেন যেভাবে

শিক্ষা ডেস্কঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ৩টার দিকে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদের কথা বলা হলেও আরও পাঁচ হাজার যুক্ত করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচিত প্রার্থীরা মোবাইল নাম্বারে ফলাফলের এসএমএস পাবেন। এ ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব সনদের মূলকপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ৩ কপি, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জনের প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ নিয়োগ পরীক্ষায় মোট আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থী।

কঙ্গোতে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্য-আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সরকারি নথিপত্রে এমনটি দেখা গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

নগরীর অনেক এলাকার পুরোটাই কর্দমাক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়। এসব সড়কের মধ্যে কিনশাসার সঙ্গে প্রধান সমুদ্র বন্দর মাতাদিকে সংযুক্তকারী এন১ মহাসড়কও আছে।

এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, এন১ মহাসড়ক ৩ থেকে ৪ দিন বন্ধ থাকতে পারে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীদপ্তর জেনারেল ম্যানেজমেন্ট অব মাইগ্রেশন মৃতের সংখ্যা সংকলিত করেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিন-জ্যাক এমবুঙ্গানি এমবানদা রয়টার্সকে বলেছেন, তার মন্ত্রণালয়ের গণনায় ১৪১ জনের মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গেছে, কিন্তু সংখ্যাটি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে ক্রস-চেক করে দেখতে হবে।

টুইটারে কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়ার পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ একটা সড়ক গভীর একটি খাদের মধ্যে হারিয়ে গেছে, লোকজন পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছে।

উল্লেখ্য, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আর দ্রুত নগরায়নের বিকাশ ঘটায় ভারী বৃষ্টিপাতের পর আকস্মিক বন্যার জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে কিনশাসা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে প্রায় ভারী বর্ষণ আর বন্যা দেখা যায়।

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

আজ ১৪ই ডিসেম্বর (বুধবার), শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।  মুক্তিযুদ্ধকালীন  ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। পরাধীনতা থেকে মুক্তির মাত্র দুদিন আগে বেছে বেছে দেশের অমূল্য সম্পদ অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে দেশকে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশে এই মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা।

একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পায়। বুদ্ধিজীবীদের নিথর দেহজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন, চোখ, হাত-পা বাঁধা, কারও কারও শরীরে একাধিক গুলি, অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে। লাশের ক্ষতচিহ্নের কারণে অনেকেই তাদের প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্তও করতে পারেননি।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন,অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড.আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরো অনেক বুদ্ধিজীবী  ওইদিন শহীদ হন।

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৭টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে  বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

এ ছাড়াও বিকেল ৩টায়  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্ত্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাকফুল-অতঃপর! ২য় পর্ব!

নাকফুল-অতঃপর!কলমে-মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত আমাদের এই গল্প! 

এসো না বলি অকপটে ঘটছে যা আমাদের সাথে, ভয় কি যা ঘটার ঘটেছে বলেতে, শুরু টা যেখান থেকে সেখান থেকেই বলি- আর বলতে বেশ ভালোই লাগে যে – করি কি উপায়!

হ্যালো- আসসালামু আলাইকুম। ওপাশ থেকে শব্দ টা স্পষ্ট না, তাই ফোনের লাইন কেটে পুনরায় ফোন দিলাম নিজেই, পরিচয় জানালেন তার নাম সুইটি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে বলেছেন, বললাম বলুন কি বিষয় তিনি জানালেন আপনার বিয়ের বিষয় কথা বলতে চান, বললাম কি জানতে চান বলুন, যা জানতে চান বলবেন গড়গড় করে বলে দিবো, তার আগে বলুন আপনি কোন পক্ষ, তিনি বিষয় টা বুঝতে পারলেন নাহ। আমি বললাম দেখুন আমার তিনটা মেয়ের সাথে বিয়ে কথা চলছে, তাই বলছি কোন পক্ষ, তিনি বললেন আমি আপনার ছোট আপু যিনি বিয়ের কথা বলছে সেই পক্ষ। আমি বললাম গ্রামের নাম বললে ভালো হয়। তিনি বললেন আমার বাবা আপনার সাথে ফোনে কথা বলেছিলো। বললাম বুঝতে পারছি, আপনার বাবা কেমন আছেন, তিনি জানালেন তিনি বেশ ভালো আছেন।
আমি বললাম, জানেন আপনার বাবা আমাকে ভিডিও ফোনে কল দিয়েছিলেন। আপনার বাবা কে দেখে চমকে উঠেছিলাম, ঠিক চমকে উঠেছি বললে ভুল হবে, সত্যি বলতে আমার কলিজাতে খোঁচা দিয়ে উঠেছিলো, কারণ আপনার বাবার মুখ আর সুন্দর চাপ দাঁড়ি গুলো ঠিক আমার বাবার মত দেখতে। বাইশ বছর আগে আমার আব্বা কে দেখেছি, আপনার বাবার সাথে আমার আব্বার এত মিল ভাবতে পারিনি, আপনার বাবা কে বলেছি, তিনি আমাকে বলেছেন অনেক কথা, আমার আব্বাকে নিয়ে, তিনি আমার আব্বার সাথে অনেক কাজ করেছেন এক সময় আমার আব্বার ব্যবস্যায় সহোযোগিতাও করেছেন। আব্বার সাথে তার অনেক সুসম্পর্ক ছিল, তাই আমাদের সাথে নতুন করে আরও একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। আমি তার কাছে দোয়া চেয়েছি যেন আমার আব্বার সম্মান রাখতে তাদের সন্মান দিতে পারি।
ক্ষমা করবেন অনেক কথা বলছি, এখন বলুন তো আপনার পরিবারের সবাই কে আছে, দুলাভাই কেমন আছেন? সুইটি আপু? আমার প্রশ্ন টা শুনতে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি জানালেন তিনি এখন বিয়ে করেননি, আমি ঠিক কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ, কারণ আমাদের বাঙালি সমাজে বড় বোন রেখে ছোট বোন কে বিয়ে দেওয়ার রীতি নেই, যে ক’টা ঘটনাক্রমে ঘটে তা অপ্রত্যাশিত।
তারপর তিনি নিজেই জানালেন তিনি ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন আর স্বাধীন ভাবে কিছু করতে চান তাই আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না। পরিবার থেকে ঠিক করেছে ছোট বোন কে বিয়ে দিবে তাই আমার বড় বোন আপনার ছোট আপু কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, এখন আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছে আপনাকে যাচাই করা আমি যদি মতামত দেই তবেই বিয়ে টা হবে।
তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি স্মোক করি কিনা। আমি স্পষ্ট বুঝতে না পেরে আবার জানতে চাই। তিনি বললেন আমি সিগারেট খাই কিনা, আমি বললাম হ্যাঁ খাই তো! তিনি বললেন সত্য বলার জন্য ধন্যবাদ, কিছু মনে করবেন না আমি পেশায় নার্স তাই একটু স্বাস্থ্য সচেতন। আমি বললাম বেশ তো খুব ভালো পেশা, তো কোথায় চাকরি করেন তিনি ঢাকার নাম করা একটা প্রাইভেট হাসপাতালের কথা বললেন। আমি কিছুটা অবাকই হলাম এত সুনামধন্য হাসপাতালের নার্সের পরিবারের সদস্যের সাথে সম্পর্ক হতে যাচ্ছে বেশ ভালো তো।
তিনি জানাতে চাইলেন আমি কি করি, আমি বললাম বাউন্ডলে বলতে পারেন। তিনি বললেন এভাবে বলছেন কেন সত্যি টা বলুন, বললাম দেখুন আগে চাকরি করতাম এখন করি না। বললেন তাহলে কি করেন আর চলেন কি করে? বললাম আসলে আগের চাকরিতে যে কাজটা করতাম সেই কাজটাই করি অন্য একজনের সাথে, বিনিময়ে যে লাভ হয় তার একটা অংশ পাই তাই দিয়ে পেট চলে যায় আর কি!
আর কি কি জানতে চান বলুন, আমি গড়গড় করে বলে দিবো। তিনি বললেন অনেক কিছুই তো জানতে চাই, কিন্তু আপনি কি সব বলবেন? আমি বললাম আরে নাহ, আমি আপনাকে বলেছি যা জানতে চাইবেন সব গড়গড় করে বলে দিবো, যা জানতে চান কোন সংকোচ সংশয় না করে বলতে পারেন।
তিনি বললেন, না মানে আপনি নাকি আগে বিয়ে করেছিলেন? আমি বললাম আরে এই কথা।
তাহলে বলছি শুনুন-
আঠারো সালের ২৬ শেষ মার্চ ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে যাই পরের দিন হঠাৎ করে দুলাভাইরা মিলে মেয়ে দেখতে নিয়ে যায়, যথারীতি তাদের মেয়ে দেখে অনেক পছন্দ, তারা আমাকে সিদ্ধান্ত দিতে বলে আমিও বলে দেই তাদের পছন্দই আমার পছন্দ। মেয়েটা উল্লাপাড়া কলেজে পড়েন দেখতে ঠিক কেমন ঠিক করতে পারছিলাম নাহ কিন্তু প্রথম দেখাতে মনে হয়েছিলো মেয়ে টার কপালে একটা মায়া আছে, যদিও মেয়ে টার পরিবার অনেক গরীব আর অশিক্ষিত, তখন মনে হয়েছিলো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া মানুষ শুধু শিক্ষা দিয়ে মানুষ কে বিচার করি কি করে, এমনও তো হতে পারে তারা আমাকে শিক্ষিত মানুষ হিসাবে অনেক সম্মান করবে, ব্যস হয়ে গেলো বিয়ে!
আমি ঢাকায় ফিরে এলাম কিন্তু আমার কাছে যে খবর গেলো তা আমার ভাবনাতেই ছিলো নাহ। যেখানে ঢাকায় ফিরে আগামী মাসে নতুন বউ ঘরে তুলে আনার স্বপ্নের বিভোর, আমার ঘরে লক্ষী আসবে, সেখানে খবর পেলাম আমার ঘরের হবু লক্ষী উড়াল দিয়েছিলো, গোপনে তাকে তার বাবার বাড়িতে তারা ফেরত নিতে সক্ষম হয়েছে। তারপর প্রথম মাস আমার পরিবারের কাউকে জানাই নাই, কারণ আমি মেয়েটির মায়ার পড়েছিলাম। চেয়েছিলাম যেকোনো মূল্যে তার সাথে সংসার করতে চাই, কারণ বিয়ে মানুষের জীবনে একবারই হয়। বিনিময়ে আমাকে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়, যদিও কোর্টে যেতে হয়নি তাদের চেয়ারম্যানের আদালতে অনেক টাকার বিনিময়ে মামলা ডিসমিস করা হয়, খোলা তালাক কার্যকর করা হয়!
তারপর লোকলজ্জার ভয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়না, করোনার সময় বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম।
এই হলো আমার গল্প আপনার আরও কিছু জানা’র থাকলে বলতে পারেন আমার বলতে সমস্যা নাই। তখন সুইটি আপু বললো না ঠিক আছে, আমিও এমনটাই শুনেছি।
আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম, অনেক রাত হয়েছে এখন রাখি, আপনার তো সকালে অফিস আছে আমারও অফিস আছে।
আমি বললাম আর একটা কথা শুনুন, আমি সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো বলি তাই আমার ভালো মন্দ দুটোই অকপটে স্বীকার করি। আমি একটা তত্ত্বে বিশ্বাসী সেটা হলো, আমার মন্দ দিক অন্যের কাছে না শুনে যদি কেউ, আমার নিজের কাছে শুনে বিশ্বাস করে তো আমি মনে করি তার সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক হতে পারে, কিন্তু তৃতীয় পক্ষের কাছে শুনে যারা বিশ্বাসী তাদের সাথে কক্ষনও ভালো কিছু আশা করা যায় না। আমার ভালো মন্দ দুইই আপনাকে বলবো যদি বিশ্বাস রাখতে পারেন তো সামনে আগাতে পারেন নয়তো সামনের দিকে না আগানোই ভালো!
পরের দিন সন্ধ্যায় হোয়টসএ্যাপে সুইটি আপু আমার ছবি চাইলো আমি আপু কে তিনটি ছবি পাঠালাম, ফিরতি মেসেজে লিখলো এমন ছবি দেখলে আমার ছোট বোন তো আপনাকে পছন্দ করবে নাহ। আমি লিখলাম, এর চেয়ে ভালো তো নেই, কোথায় থেকে দিবো, এর পরে আরও একটা ছবি পাঠালাম ক’দিন আগের তোলা, ছবিটা ছিলো মাথা ন্যাড়া করা, কারণ দু’মাস আগে আমি চিকেনপক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম।
সত্যি বলতে এই রোগ টা আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে, কারণ এই রোগ টার জন্য মা ঢাকায় আমার বাসায় আসে। মা একদিন বলে চুল দাঁড়িতে তোকে খুবই পাগল পাগল লাগে, তোকে ন্যাড়া করে দিবো। ছোট বেলায় তোকে কতবার নিজের হাতে ন্যাড়া করে দিয়েছি, আজও নিজের হাতে তোকে ন্যাড়া করে দিবো। আমিও শিশু বেলার মত মার কোলে বসে গেলাম, মা যখন আমার মাথা ন্যাড়া দিচ্ছিল তখন আমি মার কোলে জান্নাতের সুবাস পাচ্ছিলাম। সে দিন আবারও সত্যিকারের বিশ্বাস কাজ করছিলো, আল্লাহ তায়ালা মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত কেন ঘোষণা করেছেন তার প্রমাণ পেলাম।
যাইহোক আমি সুইটি আপু কে ন্যাড়া মাথার ছবি দেবার কারণ মুলত আমি কেমন, তার সুস্পষ্ট বর্ণনা দেওয়া। আমি শুধু চেয়েছি আমার ভালো মন্দ, এমন কি আমার স্বভাব চরিত্রে কি আছে সব সত্যিটা বলা।
আসলে আমি কোনভাবে নুন্যতম মিথ্যের আশ্রয় নিতে চাই নাই। আমার অতীত বর্তমান সব জেনে যদি কোন পরিবার আত্মীয় করতে আছে, তবেই তাড়া আমার আপন মানুষ হবে! একটা পরিবার চেয়েছিলাম মাত্র। হয়তো বা একটা সুন্দর পরিবারে একটু আশ্রয়!
পরের দিন সকালে ছোট আপু ফোন করে বললেন আমরা তোর সাথে যে মেয়ে মানে জয়িতা কে পছন্দ করেছি জয়িতা কে আমরা আমাদের বাড়িতে এনেও দেখেছি, কথা বলেছি, জয়িতা খুবই ভালো মেয়ে খুব সহজসরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। দেখতেও বেশ সুন্দর তোকে অনেক ভালো রাখবে, এমন ভালো মেয়ে কোথায় পাবি নাহ। তোর ভাগ্নে জয়িতার ছবি পাঠাচ্ছে, মাকে দেখাবি তারপর মার সাথে মিলে তোদের সিদ্ধান্ত দিবি।
কিছুক্ষণ পর মাকে জয়িতার ছবি দেখালাম, মা আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন জয়িতা কে অনেক পছন্দ, মা কে বললাম আগের দুটো মেয়ে কি পছন্দ নাহ। মা বললেন জয়িতা বাবা পুরাতন আত্মীয়, আর জয়িতা কে বিয়ে করলে তোর জন্য ভালো হবে।
আমি শুধু বললাম মা, জয়িতা অনেক ছোট মেয়ে আর আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আর একবার ভাবলে হয় নাহ। মা বললেন এটা আমার সিদ্ধান্ত বাকি টা তোর ব্যপার, আমি মাকে বললাম ঠিক আছে, তোমার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বাকি দুটা সমন্ধ নিষেধ করে দিচ্ছি।
তারপর রেডি হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য মার রুমে অনুমতি নিতে গেছি, মা বললেন অফিস না আগে গয়না কিনে দিবি। মাকে বললাম কিসের গয়না কিনবে মা। তিনি জানালেন তোর বড় ভাবির জন্য ডায়মন্ডের রিং দিয়েছিস তাদের বিয়ের সময়, এখন তোর বউয়ের জন্য ডায়মন্ডের গয়না কিনে দিবি।
মাকে নিয়ে গুলশান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে গেলাম, মা নিজের হাতে পছন্দ মত ডায়মন্ডের নাকফুল কিনে নিলেন তার হবু বউমার জন্য। ফেরার পথে মাকে অনেক খুশি মনে হলো, ঠিক তখনই আমার মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস জন্ম নিলো জয়িতার সাথেই আমার বাকি জীবন, কারণ মা তাকে পছন্দ করলো নিজের হাতে নাকফুল কিনলো, মার দোয়া বুঝি এবার পেলাম আর পিছনে ফেরার সুযোগ নাই।
বিকালে ছোট দুলাভাই ফোন করে জানালেন যেহেতু জয়িতা কে মা পছন্দ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাই আগামী শুক্রবার মাকে নিয়ে তুই বাড়ি আসবি আর শনিবার জয়িতাদের বাড়ি থেকে ১২-১৫ জন মুরুব্বি আসবে। জয়িতার পরিবারের সবাই আমাদের বাড়িতে আসার পর তোকে সরাসরি দেখে যদি তাদের পছন্দ হয় এবং সব কিছুর সাথে মতের মিল হয় তো, তারা আমাদের পরের দিন তাদের বাড়িতে দাওয়াত করবে এবং বিয়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করবো।
আমি দুলাভাই কে জানালাম যেটা করলে ভালো হয় করুন, আপনাদের সাথেই আছি।
সেদিনও অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত ১০ টা বেজে গেলো, তখনই সুইটি আপু মানে জয়িতার বোড় বোন ফোন দিলেন। অনেক কথার মাঝে বললেন দেখুন ভাই আমার বোন তো অনেক ছোট মানুষ তাকে আপনার ছোট বোনের মত করে আগলে রাখতে হবে, আর আপনার মা যদি তাকে নিজের মেয়ের মত করে ভালোবাসেন তবেই সম্ভব। আমি বললাম দেখুন আপু, আমার মা তিন টা মেয়ের মধ্যে আপনার বোনকে পছন্দ করেছে আর আপনার বোন তো বেশি সময়ই আমার মার সাথে থাকবে।  আমার মা অনেক আগের যুগের মানুষ খুব সহজসরল। আপনার বোন যদি মার মাথায় একটু তেল দিয়ে দুটা ভালো করে কথা বলেন তো, মা অনেক খুশি আর ভালো থাকবেন। মাকে যদি জয়িতা খুশি রাখে তো আমি আপনার বোন কে মাথায় তুলে রাখবো,
মনে রাখবেন আমার মাকে যে ভালো রাখবে তার জন্য সাতখুন মাফ।।
সুইটি আপু বললেন, সে জন্য আপনাকেও চেষ্টা করতে হবে। আমি বললাম দেখুন আপু ছোট দুলাভাই আজ বলেছেন জয়িতা খুব ভালো মেয়ে তার সাথে কথা বলেছি, মেয়ে টা ছোট কিন্তু তারা হচ্ছে কাঁদা মাটির মত, যেমন সুন্দর করে গড়ে তুলবি, তেমন সুন্দর ব্যবহার করবে। তখন আমি বলেছি, তাই যদি হয় তো, সেটা কারিগরের উপরই সেটা নির্ভর করছে। ধরুন, সে কাঁদা মাটি দিয়ে, পুতুল বানাবে, নাকি হাঁড়ি পাতিল বানাবে, নাকি ঘরের লক্ষী বানাবে সেটা নির্ভর করে কারিগর কতটা দক্ষ তার উপর। তাহলে বিষয় টা দাড়াচ্ছে আপনার বোন যদি কাঁদা মাটি হয় আর আমি যদি ভালো আর দক্ষ কারিগর হই তবেই একটা সুন্দর ঘর আর সুন্দর জীবন পাওয়া যেতে পারে, আর যদি আমি ভালো কারিগর না হই তো সব গোলমেলে। বিষয় তো এমনই দাঁড়ায়!
এবার সুইটি আপু বললেন আচ্ছা ভাইয়া কাল কি আমরা দেখা করতে পারি? বললাম জ্বি, আমাদের সম্মতিতে পরের দিন বিকেল ৪টায় নির্দিষ্ট জায়গায় আপুর সাথে দেখা করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হলো।
সেদিন সন্ধ্যায় ছোট আপু ফোন করে মাকে জানিয়ে দিলেন আগামী শনিবার জয়িতাদের বাড়ি থেকে ১২-১৫ জন মেহমান আসবে আর বড়ো আপুর পরিবার থেকে আমাদের বংশের মুরুব্বি মিলে ৫০ মানুষের মেহমানদারীর জন্য কি কি বাজার করলে তাদের সসম্মানে মেহমানদারী করা যাবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
যথারীতি পরের দিন সকালে অফিসে গেলাম এবং সুইটি আপুর হাসপাতালের পাশেই একটা অফিসে ইমারজেন্সি মিটিং পরে গেলো, ঠিক দুপুরে মিটিং টা শেষ করে সুইটি আপুকে ফোন দিলাম যে আপু আমরা কি এথন দেখা করতে পারি, তিনি জানালেন তার অফিসের ডিউটি ঠিক বিকাল তিনটা পর্যন্ত তাই ৪ টা সময় দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।
তারপর আমার বনানী অফিসে মিটিং আরও একটা মিটিং শেষ করে সুইটি আপুর সাথে ঠিক ৪ টায় নির্ধারিত স্থানে একটা রেস্তোরাঁয় বসে গেলাম।
তিনি তার সাথে একজন সিনিয়র সহকার্মীকে নিয়ে এসেছেন জানালেন তিনি তার রুমমেট আর বন্ধু সমতুল্য। আমি তাদের জন্য কি অর্ডার করবো জানতে চাইলাম, তখন সুইটি আপুর সিনিয়র জানতে চাইলেন আমি দুপুরের খাবার খেয়েছি কি-না। বললাম আসলে একটানা মিটিং এ-র মধ্যে ছিলাম আর মিটিং এ-র মধ্যে চা-নাস্তা অনেক বার খেতে হয় তাই নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের খাবার খাওয়া হয় না আপু।
তখন তিনি বললেন এই জন্য আপনার শরীর টা এমন বাতাসে উড়ে। তখন আমি বললাম ঠিক আছে এখন বলুন তো সুইটি আপু বেশি শুকনা না-কি আমি বেশি শুকনা? সিনিয়র আপু বললেন সুইটি তো ডায়েটকন্ট্রোল করে তাই শুকনা, বলতেই সবাই মিলে হাসির রোল পরে গেলো।
খাবার খেতে খেতে কথা চলতেই থাকলো, মাঝেমধ্যে অফিসে ফোন আসছে আবার মতিঝিল একটা অফিসের বিল আটকে আছে সেই বিলটা আজই সন্ধ্যায় আনতে যাওয়ার কথা। তাদের বলতেও পারছি নাহ আমাকে যেতে হবে, কিন্তু আমি যে ছটফট করছি তা তারা দুজন ঠিক বুঝতে পারছেন।
তখন সুইটি আপু বললেন ভাইয়া আপনি তো সারাদিন অফিসের কাজে বাইরে থাকেন আমার বোন ছোট মানুষ সে তো একা এই ঢাকা শহরের বাসায় থাকতে পারবে নাহ।
বললাম দেখুন আপু আমার দুঃখী মা বাসায় একা থাকেন আপনার বোন তো মাকে নিয়ে বাসায় থাকবে, আর অফিসের মাঝেও যতটুকু সময় বের করে আপনার বোন কে সময় দেবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এমন অনেক গুলো শর্ত জুড়ে দিয়ে সুইটি আপু বলছে দেখেন ভাইয়া আমাকে আপনার সম্পর্কে জেনে সিন্ধান্ত দিতে বলছে আমি যদি হাঁ বলি তবেই বিয়ে টা হবে।
তখন আমি মাথার ক্যাপটা খুলে আমার মাথার টাঁক বের করে বললাম দেখুন আমার মাথায় চুল পড়ে গেছে আর কিছু চুল পাঁকতে শুরু করছে, তাই অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। আমি কিন্তু বুড়োর কাতারে পরে যাচ্ছি, আপনার বোন ছোট মানুষ তার সাথে সব কিছু নিয়ে কথা বলুন, তার মতামত নিন, তার মতামতের বিরুদ্ধে কিছু করবেন নাহ। তাতে আপনার বোন সুখী হতে পারবে না। জয়িতার মনের বিরুদ্ধে কিছু করবেন নাহ, হাত জোর করে অনুরোধ করছি আপু।
সুইটি আপু বললো আপনার মা কি সব সময়ই আপনার বাসায় থাকবে, আমি বললাম না তিনি যতদিন ভালো লাগবে আমার বাসায় থাকবে, তারপর ভাইয়ার বাসায় আবার বোনের বাসায়। আমার কথা হলো মা যেখানে ভালো থাকবে সেই থাকবে, ধরুন যতদিন মা আমার বাসায় থাকবে তাকে খুশী রাখতে হবে। আমার মাকে যে খুশী রাখবে তার জন্য আমার কলিজা কেটে দিতে পারি আর যদি কেউ মাকে কষ্ট দেবার চেষ্টা করে তো তার কলিজা ছিঁড়ে নিতে আমি এক সেকেন্ডও সময় নিবো নাহ।
তিনি বললেন বুঝতে পারছি না কি কি জানাবো আমার পরিবারের কাছে, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনাকে। বললাম দেখুন আমি নিজেকে কারো কারো কাছে বইয়ের পাতার মত প্রকাশ করি, একটা বইয়ের পাতায় হাজার টা শব্দ থাকে সেখান থেকে সঠিক শব্দ টা যদি বেছে নিতে না পারেন তো সেটা আপনার ব্যর্থতা।
আর আমি আপনার চোখ দেখে বুঝতে পারছি আপনার মনে কি চলছে। তিনি বললেন আমার মনে কি চলছে, কথাটা একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন। তার মনের কথাটা সামনাসামনি বলাটা উচিৎ হবে না ভেবে বললাম, নিজেকে প্রশ্ন করুন, উত্তর টা আপনার চোখেই আছে।
শেষে বললাম একটা কথা রাখবেন আপু আপনার সিদ্ধান্ত টা মেহেরবানি করে আগামী শুক্রবারের আগে জানাবেন, কারণ আগামী শুক্রবার মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা, তবে আমার মনে হচ্ছে হয়তো যাওয়ার প্রয়োজন হবে না তাই আগেই জানাবেন।
তারপর রেস্তোরাঁর বিলটা সুইটি আপু জোর করে নিজে দিয়ে দিলেন।
আমরা মেইন রাস্তার এসে দাঁড়িয়ে তার জন্য রিক্সার অপেক্ষায় আছি, আমি হঠাৎ সুইটি আপুকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার বোন কি নামাজ পড়ে তিনি জানালেন, নামাজ পড়ে, বললাম কোরআন শরীফ পড়তে পারে? তিনি জানালেন কোরআন শরিফ পড়া শিখছে, বললাম খুব ভালো, জানেন তো আমার পরিবার নামাজ আর ধর্মীয় রীতি নিতি মেনে চলে সেই সাথে আমিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি।
তিনি আমার মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে বললেন, শুনেন জয়িতা কে বোরকা পর্দা ছাড়া কোথাও যেতে দেই নাই, আমিও অবশ্য গ্রামে গেলে বোরকা পড়ি। আর এখানে তো আমি স্বাধীন, তাই নিজের পছন্দ মত পোশাক পড়ি। এতক্ষণে আমি সুইটি আপুর দিকে ভালো করে তাকাই নাই, যখন দেখলাম তখন আর তার দিকে দ্বিতীয় বার তাকাতে পারলাম না, কারণ তার ওড়না টা ঘাঁরের একপাশে চিপটি পিন দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন।
হঠাৎ সুইটি আপুর ফোনে তার মার ফোন এলো তিনি কিছুক্ষণ তার মার সাথে কথা বলে আমাকে ফোনে কথা বলতে অনুরোধ করলেন আমি তাকে অনুরোধ করলাম দেখুন এখানে মেইন রোডের হর্ণের মধ্যে কথা বলা কঠিন তাই অন্য সময় আমাকে ফোন করতে বলুন প্লিজ।
সুইটি আপু বললো জয়িতা কথা বলবে, জয়িতার কথা শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না, কারণ জয়িতার সাথে কক্ষনও কথা বলা হয়নি।
জয়িতা প্রথমে সালাম বিনিময়ে করে তারপর আমি জয়িতা কে বলি আপনি যার সাথে কথা বলছেন তাকে কি জানেন। জয়িতা বললো জানি, আমি বললাম কতটা জানেন, জয়িতা বললো আমি সব জানি। আমি অবাক হয়ে বললাম, আমার যে একটা দুর্ঘটনা মানে বিয়ে ছিলো জানেন? জয়িতা বললো জানি। বললাম আমার যে বয়স অনেক বেশি মাথার চুল পড়ে গেছে তা জানেন, জয়িতা বললো আপনার ছবি আমি দেখেছি। আমি বললাম আচ্ছা আপনার সাথে যে সমন্ধটি নিয়ে কথা হচ্ছে তা কি জানেন? জয়িতা বললো, আমি তো সব জানি, সব জেনেই রাজি হয়ে হয়েছি। জয়িতার কথা শুনে যেন থমকে গেলাম, কি বলবো বুঝতে পারছি নাহ, শুধু মনে হলো মানুষ এত সহজসরল হতে পারে, এমন কারো কাছেই কি একটু আশ্রয় খুঁজেছি, চাতক পাখির মত!
জয়িতা ওপাশ থেকে বলছে, কিছু বলুন। আমি বললাম দেখুন আপনার সাথে আপনার মা আছে তাই হয়তো নিজের মনের কথা বলছেন নাহ। তাই আপনার কাছে কি আমার নম্বর আছে? থাকলে পরে ফোন দিবেন, আর নিজের মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে যাবেন নাহ। পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করবেন না মেহেরবানি করে। জয়িতা আমাকে আরও বেশি অবাক করে বললো তার কাছে আমার নম্বর আছে পরে আবার ফোন করবে। আমার সাথে অনেক কথা আছে, বলেই ফিক করে একটা হাসি দিলো, তার পবিত্র মুখটার হাসিতে যেন আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো।
যাই হোক সুইটি আপুদের রিক্সায় তুলে দিয়ে আমিও রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সায় বসে সুইটি আপুর কথা ভাবতেই মনটা বিষাদে ভরে গেল, তার সামনে যতক্ষণই ছিলাম আমি শুধু তার মুখ আর চোখের দিকে তাকিয়ে অজান্তেই নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল, কারণ সুইটি আপু এখনো বিয়ে করেন নাই। আসল সত্য টা হয়তো জানি নাহ, হয়তো তার পরিবার আর ভাইবোন দের মানুষ করতে গিয়ে বিয়ে করেন নাই। সেই ক্ষেত্রে তার এক চোখে তৃপ্তির ঢেঁকুর দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু অন্য চোখে যে জগত এর সব শূন্যতা তাকে ঘিরে ধরেছে, তার বয়স আমার চেয়ে ঢের বেশি তা আমার জুহুরির চোখে ঠিকই ধরতে পেরেছি, যদিও তাকে খুশি করতে তাকে বলেছিলাম হাঁটুর বয়সি একটা মেয়ে আবার জোর করে বিল দিতে চায়।
আমি সুইটি আপুর চোখে যে একাকিত্বের ছায়া দেখতে পেলাম তা নিজেকে অপরাধী ভাবতে বাধ্য করছে, যে বয়সে তার সুন্দর একটা পরিবার তথা ছেলেমেয়ের কোলাহলে তার কোল আর ঘরে আনন্দের ফুঁকলি ফুটবে, সেখানে সুইটি আপু নিঃসঙ্গতা সঙ্গে নিয়ে তার ছোট বোন কে আমার সাথে বিয়ে দিতে এসেছে।
আহা রে আহ আর ভাবতে পারছিলাম, আমিও এত বড় স্বার্থপর মানুষের মত আচার করছি, ছিঃ ছিঃ ছিঃ, আমরা মানুষরা শুধু নিতে জানি দিতে জানি নাহ। অহহা রে সুইটি আপু তোমারা কেন নিজের কথা ভাবো নাহ, কেন, কেন! আহা রে সুইটি আপু আপনার জন্য যদি কিছু করতে পারতাম, আল্লাহ রে আল্লাহ আমাকে একটা রাস্তা দেখিয়ে দিন।
হঠাৎ মাথার মধ্যে একটা বুদ্ধি এলো জয়িতার সাথে যদি আমার বিয়ে টা ভেঙে যায়, অথবা আমি নিজে যদি ভেঙে দেই তো কেমন হয়। তখন মার কথা মনে হলো, জয়িতা কে মা অনেক পছন্দ করছে, বিয়ে টা ভেঙে দিলে মা অনেক কষ্ট পাবে। আচ্ছা এমন যদি হতো যেকোন ভাবে জয়িতার সাথে বিয়ে টা বিলম্বিত হোক ততদিনে সুইটি আপু বিয়ে করে একটা সুন্দর পরিবার আর তার জীবনটা সুন্দর হাসিখুশি তে ঘরে উঠুক!
আচমকা একটা ধাক্কায় আমার ভাবনা টা ভেঙে গেল, রিক্সাওয়ালা বলছে মামা নামেন আমরা চলে এসেছি।
পরের দিন দুপুরে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলো, ফিসফিস করে বলছে আমি জয়িতা। আমি ফোন কেটে পুনরায় ফোন দিলাম, জয়িতা ওপাশ থেকে ফোন ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলছে ফোন কেটে দিলেন কেন? আপনি ফোন কাটলেন কেন? কৈফিয়ত দিন, আমি অবাক পিচ্চি মেয়ে বলে কি! বললাম দুঃখিত আমি দেখলাম আপনার ফোনে টাকা নষ্ট হবে তাই। জয়িতা বলছে আমার ফোনে টাকা কাটলে আপনার কি? আমি ফোনে টাকা ভরেই কল দিছি, আমি বললাম আসলে ছেলেরাই তো কল দেয় তা-ই আর কি।
জয়িতা বললো আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি কি দুপুরে খেয়েছেন না খেলে খাবার খেয়ে তারপর ফোন করবেন আমি আপনার অপেক্ষায় থাকবো। আমি তার পরিপক্বতার মুগ্ধ হলাম কোন দিন কেউ দুপুরে ফোন করে খোঁজ দিতে আসে নাই, আমি খেয়েছি কি নাহ, আমি কি এমন কাউকেই খুঁজতাম!
এবার জয়িতা বললো আচ্ছা আপনি কি আমার ছবি দেখেছেন, আমি হুম বলে সম্মতি দিলাম, আমার চেহারা কি আপনার পছন্দ হয়েছে, বললাম মা আপনাকে অনেক পছন্দ করেছে। জয়িতা বলছে, আপনার মা আমাকে পছন্দ করেছে আর আপনার পছন্দ হয়নি তাই না? আমি দেখতে কালো তাই। বললাম সেকি আমি কি এমন কিছু বলেছি, জয়িতা বলছে তাই তো আমাকে পছন্দ করলে আমাকে আপনি করে বলতেন নাহ, আমি না আপনার কত ছোট। বললাম ঠিক আছে তুমি করে বললে তুুমি খুশি তো জয়িতা?
জয়িতার মুখের সুন্দর হাসিটা শুনতে পেলাম, জয়িতা বলছে একটা সত্যি কথা বলবেন, সত্যি আমাকে বিয়ে করবেন নাকি মার কথা মত এসব করেছেন, আমি আমার মনের কথা বলেছি এবার আপনার মনের সত্যি কথা টা বলেন (তখন মনে হলো জয়িতা তোমাকে যদি সত্যি আমার মনের কথাটা বলতে পারতাম তুমি অনেক খুশি হতে)। দেখ জয়িতা তোমার পরিবারের আমার পরিবারের মুরুব্বিরা মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের ভালোর জন্যই করেছে বিশেষ করে আমার মার দোয়া আর পছন্দের জন্য আমি সব করতে পারি আর তোমাকে বিয়ে করাটা তো আমার সৌভাগ্য।
মনে হলো জয়িতা অনেক খুশী হলো। জয়িতা ওপাশ থেকে বললো শুনেন এটা আমার বান্ধবীর ফোন আপনি আবার ফোন করবেন নাহ, দরকার হলে আমিই ফোন করবো, এখন রাখি। বলতেই ফোন কেটে দিলো আরও কিছু বলতে চাইলাম বলা হলো না। তবে একটা প্রশান্তির ঢেকুর তুলে ফোনটা রেখে দিলাম।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত অফিস থেকে বাসায় ফিরছি ছোট দুলাভাইয়ের ফোন এলো মনে আনন্দ নিয়ে ফোন ধরলাম, ওপাশ থেকে গরম আবহাওয়া, ছোট দুলাভাই ইচ্ছে মত ক্ষোভ ঝাড়লো আমার উপর। তার কথা এত কষ্ট করে বিয়ে টা ঠিক করলাম আর তুই সব ভেস্তে দিলি। জয়িতার বাড়ি থেকে শনিবার আমাদের বাড়িতে বিয়ের ব্যপারে আসার কথা ছিল কিন্তু তারা আর আসবে নাহ।
বললাম কেন? তিনি বললেন তোর সাথে জয়িতার বড় বোনের সাথে দেখা করে কি বলেছিস আর তার কি ঠিক করেছিস হাঁ।
বললাম তিনি কি বলছে? দুলাভাই আমাকে বললো তুই নাকি তার সাথে পাগলামি করছিস, আর তোর বয়স অনেক বেশি তাদের মেয়ে অনেক ছোট তাই তারা বিয়ে দিবে নাহ। সব শেষ করে দিলি, সব শেষ। আমার সব কষ্ট বৃথা গেলো। বললাম, দেখুন ভাই পৃথিবীতে যা কিছু হয় আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়।
পরের দিন দুপুরে জয়িতার কান্না ভেজা কন্ঠে ফোন মেয়ে টার জন্য বুকটা বেদনায় ভরে গেলো, আমি কিছু বলার আগেই পাগলি মেয়েটা ইচ্ছে মত ক্ষোভ রাগ ঝেরে দিলো। বললাম আগে তো বল কি হয়েছে, এমন পাগলামি করছো কেন জয়িতা। জয়িতা বলছে, এখন আমি পাগলামি করছি নাহ, নিজে যে পাগলামি করে বিয়ে টা ভেঙে দিলেন এখন আমাকেই বলছেন পাগলামি করছি হাঁ।
আপনি কেন এমন করছেন, কি চান আপনি, আমি দেখতে সুন্দরী নাহ, বেশি শিক্ষিত নাহ, তাই কৌশলে বিয়ে টা ভেঙে দিলেন হাঁ? জীবন প্রথম ছোট্ট একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম আর সেই স্বপ্ন আপনি পাগলামি করে ভেঙে দিলেন, আপনার কাছে আমার জীবনের কোন দাম নাই, তাই তো সাহেব।
জয়িতা কে ধমক দিয়ে বললাম অনেক হয়েছে এবার আমাকে বল কি হয়েছে, জয়িতা বললো আপনি নাকি পাগল তাই সুইটি আপু জানিয়েছেন ছেলের মাথায় সমস্যা আছে। আবোলতাবোল বলে আর মাথা গরম, আবার বয়স অনেক বেশি, জয়িতা সুখী হতে পারবে নাহ, তাই বিয়ের সমন্ধটি ভেঙে দিয়েছে।। বলেই আবার কান্না, জয়িতার কান্না আমার বুকটা ভেঙে দিচ্ছে, অনেকক্ষণ পর জয়িতা কিছু টা শান্ত হলো, বললাম জয়িতা এবার আমার কটা কথা শুন লক্ষী মেয়ের মত। জয়িতা এখন বল তো তুমি কি চাও? জয়িতার এক কথা, আপনি সময় মতই গ্রামের বাড়ি আসবেন আর প্রমাণ করে দিয়ে যাবেন আপনি পাগল কি-না। তারপর আমি দাঁত ভাঙা জবাব দিবো।
জয়িতাকে বললাম তো আমি আসলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? জয়িতার ছাপছাপ কথা, আপনার বিরুদ্ধে এমন বদনাম আমি সহ্য করতে পারবো নাহ। বললাম আমার বদনাম হলে তোমার কি জয়িতা,, জয়িতা অভিমানের সুরে বললো আপনি এভাবে বলতে পারলেন সাহেব, আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি সন্মান করি, তাই আপনার সন্মান নষ্ট হতে দিতে পারি নাহ, বুঝেছেন সাহেব।
জয়িতা কে বললাম চিন্তা করো নাহ, বিষয় টা নিয়ে আমি ভেবে দেখবো। জয়িতা বললো ভাবাভাবির কিছু নাই আপনি আসবেন সবাই কে দেখাবেন, এটাই আমার শেষ কথা। আপনার কাছে আমার শেষ অনুরোধ, আপনার পায়ে ধরি, যদি না আসেন মনে রাখবেন আমি বিষ খেয়ে মরে যাবো তার জন্য আপনি দায়ী। বলেই ফোন টা রেখে দিলো আর কিছু বলার সুযোগই পেলাম নাহ।
পরের দিন ফজরের সময় মাকে ওজুতে সহোযোগিতা করার সময় দেখলাম মার মন টা বিষন্ন। নামাজ শেষে মাকে জিজ্ঞেস করলাম মা তোমার মন খারাপ কেন? মা বললো তোর কি আর কখনও সংসার হবে না রে ময়না। মার আদরের ডাক ময়না, যা আমাকে অনেক শান্তি দেয়, মাকে বললাম চলো কাল গ্রামে তোমার মেয়েদের বাড়িতে বেড়াতে যাই, মা তোমার মনটা তো ভালো হবে, আমি অফিস থেকে ফেরার পথে বাসের টিকিট কেটে আনবো, কালই গ্রামে যাবো, মা বললেন খুব ভালো হয়!
পরের দিন সেই শুক্রবার সকাল নয়টায় বাসে উঠে বসলাম শুধু মনে হচ্ছিল আজকের গ্রামে যাওয়ার উদেশ্য ছিলো জয়িতা কে আমার ঘরের লক্ষী করে নিয়ে আসার অথচ আজ যেন উদেশ্যহীন পথ চলা। এবার অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলো যার কন্ঠ ভেসে এলো তাতে কিছু টা স্বস্তি ফিরে পেলাম। জয়িতা জানতে চাইলো আমি গ্রামে আসছি কি-না?
আমি বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলাম, তুমি কি করে জানলে জয়িতা আমরা বাড়ি আসতেছি। আমার মনটা ছটফট করছিলো আপনি আমার কথা ফেলতে পারবেন না, মাকে নিয়ে সময় মত অবশ্যই আসবেন, আমার মন বলেছে আমি ভুল মানুষ কে ভালোবাসিনি, সঠিক মানুষটার জন্য অপেক্ষায় আছি! একটি শব্দই আমার অজান্তেই অশ্রু সিক্ত করলো!
সেদিন আল্লাহর রহমতে ছোট আপুর বাড়িতে পৌঁছাতে পেরেছি! পরের দিন সকালে ছোট আপুর বাড়ির সন্নিকটে আমার বড় খালা মানে আমার মার আপন বড় বোনকে দেখতে গেলাম মা ছোট আপু ভাগ্নে আরও এক বড় ভাই, যাইহোক আমার বড় খালার ভাতিজার স্ত্রী হচ্ছে জয়িতা বড় বোন যিনিই নিজে ছোট আপুকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর খালার বাড়িতে জয়িতার বড় বোনের পরিবারের সবাই এসে হাজির আমাকে যেন চিড়িয়াখানার বানর দেখার মত করে দেখতে এলেন জয়িতার বড় বোন, তার মেয়ে, শশুর শাশুড়ী পাড়া প্রতিবেশি প্রায় তিরিশজন মানুষ আমাদের ঘিরে আসে, তারা একে অপরের সাথে সৌজন্য বিনিময় করছেন বিশেষ করে মাকে নিয়ে কারণ সেখানকার সবাই মা কে অনেক শ্রদ্ধা করেন ভালোবাসেন। মা অনেকদিন পর ঢাকা থেকে সেই আত্মীয় বাড়িতে গিয়েছেন।
হঠাৎ একজন ভদ্র মহিলা আমাকে পরিচয় দিলেন তিনি জয়িতা বড় বোনের শ্বাশুড়ি, তিনি অদ্ভুত ভাবে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন ভাই তুমি আমাদের ছোট খালার ছোট ছেলে কত ছোট দেখেছিলাম, এখন কত সুন্দর হইছো, তুমি নাকি কম্পিকম্পিউটার পাশ দিছো, মেলা বড় শিক্ষিত হইছো, খুব ভ্যালা ভাই, মনে কষ্ট নিয়ো নাহ ভাই জয়িতার পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছে।
আমি ঠিক কি বললো বুঝতে পারছিলাম নাহ। কিছু টা দুরে একটা ভদ্র মহিলাকে দেখলাম ছোট আপুনির সাথে কথা বললেন। দেখুন তো আপু আমার ভাই সত্যি পাগল কি-না। পরে আপু বললেন সেই ভদ্র মহিলাই জয়িতার বড় বোন।
পরের দিন সকালে মাকে নিয়ে ঢাকার উদেশ্য রওনা হচ্ছিলাম হঠাৎ জয়িতা ফোন করে জানালো তার সাথে একবার দেখা না করলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে নাহ। আমি বললাম কি করে সম্ভব। জয়িতা বললো আজ সন্ধ্যার সময় তাদের গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের মাঠে যেতে বাকি সব সে ব্যবস্থা করে রাখবে। জয়িতা বললো সাহেব জীবনের এই শেষ অনুরোধ টা ফেলে দিবেন নাহ, কথা দিন আসবেন।
জয়িতাকে কথা দিলাম আসবো ইনশাআল্লাহ।
আমিও যে তোমার পবিত্র মুখটা দেখার অপেক্ষায় জয়া। আহহা অপরপ্রান্ত থেকে একটা স্নিগ্ধ হাসি আমার প্রাণে স্পন্দন সৃষ্টি করলো!

চলবে…………………………………………………………………………………………………………………………………..

[বি: দ্র: আমার ক্লাস নাইনে প্রথম ক্লাস ছিলো বাংলা, একদিন ক্লাসে দেরিতে ডোকার সময় স্যার বললো কিরে অভিসারে গিয়েছিলি না-কি, অভিসার শব্দের অর্থ সেদিন বুঝতে পারিনি, তবে জয়িতার সাথে জীবনের প্রথম অভিসার শীতের আগমনী সন্ধ্যায় হৃদয়ঙ্গম হয়েছি তা নাকফুল- অতঃপর! এর প্রথম পর্বে উল্লেখ করেছি তবে জয়িতার সাথে আমার চলমান ঘটনার পরিসমাপ্তি কি হবে জানি না, কথা দিলাম জয়া মানে জয়িতার সাথে আত্মকেন্দ্রিক সম্পর্ক নিয়ে শেষ পর্বে বর্ণনা দিবো, ও হ্যাঁ রাতের গভীরতা বাড়ছে জয়া ফোন দিচ্ছে, জয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পারিয়ে দিবে হবে- নয়তো! এবার রাখি সুহৃদ – কথা হবে নাকফুল- অতঃপর এর শেষ পর্বে!]