ঘুরে আসুন মুক্তিযুদ্ধের “শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের” স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর

তিমির বনিক: মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন চেতনার দেশমাতৃকার মুক্তির পথে একজন বীরশ্রেষ্ঠের জীবনদানের গল্প আঁকড়ে আছে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউপি’র ধলই চা বাগানে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। তার স্মৃতিতে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর ও আর্কাইভ। আজ আমরা জানবো কমলগঞ্জে অবস্থিত ধলই চা বাগানের স্মৃতি বিজরিত জায়গাগুলোর কিছু কথা।

মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শহীদ হামিদুর রহমানকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন যশোর জেলার মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে। বাবা আব্বাস আলী মন্ডল ও মা মোসাম্মাৎ কায়সুন্নেসা কোলে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ১৯৭০ সালে তিনি যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিপাহি পদে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে গ্রামে পালিয়ে আসেন। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি।

যেভাবে শহীদ হলেন হামিদুর রহমান: ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সিলেটের কমলগঞ্জ এলাকায় যুদ্ধ করছিলেন। দলের অধিনায়কের নির্দেশে ২৮ অক্টোবর সকালে হামিদুর রহমান ধলই বিওপিতে পাকিস্থানীদের ঘাটি দখলের জন্য অগ্রসর হন। একটি মেশিনগান নিয়ে জীবন বাজি রেখে হামিদুর রহমান একাই দুইটি পাকিস্থানি যুদ্ধ ট্যাংক ধ্বংস করেন। এতে শত্রুঘাটির অধিনায়ক ও বেশ কয়েকজন সৈন্য নিহত হয়। একসময় যুদ্ধরত অবস্থায় এই বীর সন্তান শত্রুদের পাল্টা আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার আত্মত্যাগের কয়েকদিনের মধ্যেই ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সহযোদ্ধারা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের ওপারে নিয়ে ভারতের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর: স্বাধীনতার ২০ বছর পর ১৯৯২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ধলই চা বাগানের বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তার স্মরণী উদ্বোধন করেন সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির পক্ষে (তৎকালীন বিডিআর) লে. কর্ণেল মো: বজলুল করিম একটি নামফলক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেন। পরে ২০০৩ সালে ৩০ এপ্রিল ধলই চা বাগানের ধলই বিওপি সংলগ্ন ৭৪ শতাংশ জমির উপর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকার দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমান। বর্তমান আওয়ামী সরকারের আমলে স্মৃতিসৌধ উন্নয়ন করেন ও তার পাশে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি’র বর্তমান ক্যাম্পের সামনে আছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান’ স্মৃতি আর্কাইভ। সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ছোটবেলার ছবি, আছে তার পারিবারিক তথ্য ও ছবি। যা বাস্তবায়ন করেছে ৪৬ বিজিবি ও শ্রীমঙ্গল সেক্টর। এছাড়া ভানুগাছ চৌমুহনী হতে মাধবপুর ও পাত্রখোলা প্রধান সড়ক’কে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়ক নামকরণ করা হয়েছে।

স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা ও সমাধি হস্তান্তর: প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডের উদ্যোগে দলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের কবর নিয়ে সাংবাদিকদের তৎপরতা ও স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করেন। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

কীভাবে যাবেন স্মৃতিসৌধে: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে যেতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় যেতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে কমলগঞ্জ আসা যায়। ঢাকার ফকিরাপুর কিংবা সায়েদাবাদ থেকে হানিফ, শ্যামলী, এনা ও সিলেট পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেটগামী জয়ন্তিকা, উপবন বা পারাবাত এক্সপ্রেস ট্রেনেও কমলগঞ্জ যাওয়া যায়।অথবা শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে যে কোন যানবাহন ব্যবহার করে গন্তব্য যেতে অসুবিধে হবেনা। কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলস্টেশন হতেও স্থানীয় পরিবহনে (সিএনজি, রিকশা) চড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে যেতে পারবেন।

রাণীশংকৈলে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ পালিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : “প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি”-এ শ্লোগান নিয়ে দেশব্যাপি কার্যক্রমের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ পালিত হয়। এ উপলক্ষে এদিন সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালি শেষে উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির, সহকারী কমিশনার(ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা,

বিভিন্ন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান ও প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপজেলা হলরুমে ইউএনও’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও অন্যরা অংশ নেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। পরে ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে কেন্দ্রিয় কার্যক্রম প্রচারিত হয়। কেন্দ্রিয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কুড়িগ্রামে দাফনের ১২ দিন পর কবর থেকে মাইশার মরদেহ উত্তোলন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের শিশু মারুফা জাহান মাইশার (৫) এর হাতের আঙ্গুল অপারেশন করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার রুপনগর থানার মামলায় মাইশার লাশ দাফন করার ১২ দিন পর উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভেলাকোপা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মাইশার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকার রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন দাস, কুড়িগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ রেদওয়ান ইসলাম, স্থানীয় কমিশনার মোঃ জমসেদ আলী টুংকু ও মাইশার পরিবারসহ এলাকাবাসী।

মাইশার বাবা মোঃ মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েকে ওরা হত্যা করেছে। মেয়ের লাশ গোসলের সময় দেখতে পাই পেটে ২০টি সেলাই। আমি নিশ্চিত ওরা আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি মামলা করেছি, আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। মাইশার মরদেহ  বাড়িতে আনা পর্যন্ত কোন কাগজ পত্র দেন নাই।’

তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন দাশ বলেন,’আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর ময়না তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে মাইশার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করে সম্মতি দিলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সোমবারই মাইশার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হলো।’

নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ রেদওয়ান ইসলাম বলেন,’মাইশার বাবার দেয়া মামলার প্রেক্ষিতে আজকে লাশ উত্তোলন করা হল। ময়নাতদন্তের পর যে রিপোর্ট আসলে সেই রিপোর্ট দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, শিশু মাইশার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়া গ্রামে। সাড়ে চার বছর আগে মাত্র ৯ মাস বয়সে চুলার আগুনে মাইশার ডান হাতের আঙুল পুড়ে কুঁকড়ে যায়। গত ৩০ নভেম্বর ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাইশার আগুনে পোড়া হাতের আঙুলের অস্ত্রোপচার করার সময় শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে সেদিনই শিশুটির মরদেহ নিয়ে কুড়িগ্রামে ফিরে আসেন তার বাবা-মা। আঙ্গুলের অপারেশন করতে গিয়ে পেট কাটার ফলে মাইমার মুত্যু হয়। পরিবারের দাবি মাইশাকে হত্যা করে কিডনি, ভাল্ব বের করে নিয়েছে অভিযুক্ত চিকিৎসকরা।

নেত্রকোণার আটপাড়ায় মাদক বিরোধী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলায় মাদকের অপব্যবহার রোধ কল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে  তোলার সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে উপজেলা মাল্টিপারপাস হল রুমে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ।

এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা কার্যালয়ের  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আলী হায়দার রাসেল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মো. খায়রুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান নন্দন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া নাজনীন চৌধুরী রেখাসহ আরো অনেকে।

পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ পালিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সময় মতো বাচ্চা নিলে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের হবে উন্নতি, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর ) দুপরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বর্ণালী পাল এর সভাপতিত্বে ও পরিবার পরিকল্যাণ উপ-পরিচালক খন্দকার মাহবুবুর রহমান এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ, পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।

“২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা চলে যাবো”

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে চলে যাবো।”

আজ সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি’ শীর্ষক আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার চারটি ভিত্তি সফলভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে। এগুলো হচ্ছে, স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটি। আমরা এখানেই থেমে থাকিনি, ২১০০ সালের ব-দ্বীপ কেমন হবে- সে পরিকল্পনাও নিয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবকিছু হবে। সেখানে নাগরিকরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে এবং এর মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতি পরিচালিত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এবং সমাজকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরে তরুণ প্রজন্মকে সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের সৈনিক হিসেবে তোমাদের (তরুণদের) স্মার্ট নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, জয় সিলিকন টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল জাদুঘর ও একটি সিনেপ্লেক্স এবং বরিশাল জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেখ কামাল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক দুটি বইয়ের ডিজিটাল ও প্রিন্ট সংস্করণের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক  এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২-এর থিম সং, ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’ এর মূল ভিত্তি হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন।
তাঁর ওপর বার বার হামলা এবং ভয়-ভীতির তোয়াক্কা না করে দেশের উন্নয়নের একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। অর্থাৎ ২১ থেকে ৪১ কিভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে তার একটা কাঠামো,পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করে বাংলাদেশের জনগনের জন্য আমি রেখে যাচ্ছি। এই ব-দ্বীপ প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা পায়, দেশ উন্নত হয় এবং উন্নত দেশে স্বাধীনভাবে সুন্দরভাবে যেন তারা স্মার্টলি বাঁচতে পারে। সেই ব্যবস্থাও করে দিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, এখন সব নির্ভর করছে আমাদের ইয়াং জেনারেশন ও যুব সমাজের উপর। ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের উন্নতি’। এটাই ছিল আমাদের ২০১৮ এর নির্বাচনী ইশতেহার। আমরা সেই কাজই করে যাচ্ছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উদযাপনকালেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইসিটি অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি, ই-গভর্নমেন্ট এবং  ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশন ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে ২০০৮ সালে নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করেছে। সারাদেশে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি দিয়েছে এবং স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপন করেছে।

বাংলাদেশের এই রূপান্তরের নেপথ্য কারিগর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার ছেলে জয় যদি আমাকে পরামর্শ না দিতো তাহলে হয়তো আমার পক্ষে এটা করা সম্ভব হতোনা।”

১৯৯২ সালে বিএনপি’র আমলে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবল লাইন- সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপে সংযোগ দিতে চাইলে ‘তথ্য পাচার’ হয়ে যাবার অযুহাতে তা খালেদা জিয়ার সরকার প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে ২১ বছর পর সরকারে এসে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ১০ হাজার স্কুলের জন্য অর্ধেক দামে নেদারল্যান্ড থেকে কম্পিউটার আমদানীর চুক্তি করলে কেবল শেখ রেহানার কন্যা, বর্তমান ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকির নামে সে কোম্পানীর নাম ‘টিউলিপ’ হওয়ায় পরবর্তী বিএনপি সরকার সে চুক্তি বাতিল করলে দেশতো কম্পিউটার পায়নি উপরন্তু অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে নিস্কৃতি পায় বলেও তাদের অজ্ঞানতার উদাহারন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা সরকারে এসে এই খাতের উন্নয়নে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করি। সফ্টওয়্যার, ডাটা-এন্ট্রি, ডাটা-প্রসেসিং-এর উন্নয়নে আইটি-ভিলেজ এবং হাইটেক-পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিই। শুল্কমুক্তভাবে কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সফ্টওয়্যার আমদানির অনুমোদন দেই।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কানেকটিভিটি রয়েছে বলে করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেও কোন কাজ থেমে থাকেনি বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে এমনকি দ্বীপ-পাহাড়-হাওড়-চরাঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশ নিশ্চিত করেছি। করোনার সময় ঘরে বসেও অনেকে কাজ করে পয়সা উপার্জনের সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে মাট ৮ হাজার ৮০০টি ডিজিটাল সেন্টার চালু আছে। যেখানে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তা হবার সুযোগ পেয়েছে। ৫২ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ জাতীয় তথ্য বাতায়ন তৈরি করেছি। আমাদের ‘মাই-গভ’ মডেল এখন ফিলিপাইনে এবং ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ফর স্কিলস্, এডুকেশন, এম্প্লয়মেন্ট, এ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ’ সোমালিয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন অনেক দেশই বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে এবং বাংলাদেশের কাছ থেকে সহযোগিতাও নিচ্ছে। আমরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর পাশাপাশি করোনাকালিন ভার্চুয়াল কোর্টও চালু করেছি।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার ৫শ’টি ‘জয় ডি-সেট ল্যাব’, ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন করেছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লার্নিং এন্ড আর্নিং অ্যাপ করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের স্বীকৃতিরও ব্যবস্থা করে দিয়েছে। দৃষ্টি-প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ডিজিটাল টকিং বুক তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের কল-সেন্টার ভিত্তিক সেবা, যেমন, জরুরি সেবা প্রাপ্তিতে ৯৯৯, যেকোন তথ্য জানার জন্য ৩৩৩, কৃষকবন্ধু সেবা প্রাপ্তিতে ৩৩৩১-সহ টেলিমেডিসিন সেবা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যখন বিদেশে যান তখনও তাঁর ফাইল দেখা বন্ধ হয়না। কেননা তাঁর সরকার ২০১৯ সালে ‘ই-গভর্নমেন্ট মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শতভাগ সরকারি সেবা অনলাইনে প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

ইন্টারনেটকে আরো সহজলভ্য করতে ব্যান্ডউইথের দাম কমানো এবং মোবাইল ফোনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেয়ায় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৮ কোটি মোব্ইাল সীম ব্যবহার হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর সরকার ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের উপবৃত্তি মায়েদের মোবাইলফোনে চলে যায়। এই বৃত্তি দেয়া যখন শুরু হয় তখন ২০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোন ছিল না। তাদের মোবাইলফোন কিনে দিয়ে আমরা সেটা চালু করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছি। এজন্য পৃথক ফান্ডও বাজেটে রয়েছে। পাশাপাশি আইডিয়া প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট (বিগ), ‘শতবর্ষের শত আশা’ এবং ‘স্টার্টআপ সার্কেল’ সৃষ্টি করে অনুদান দিচ্ছি। বিনিয়োগের জন্য ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে সরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং শেয়ারবাজারে পৃথক এসএমই বোর্ড চালু করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ভেঞ্চার তহবিল পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০-এর বেশি স্টার্টআপ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও সার্ক দেশগুলোর মধ্যে প্রথমে অবস্থান করছে।

করোনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তার ফলে দেয়া নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া, উন্নত দেশগুলোর হিমশিম খাওয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশেরও নিজেদেরকে অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসেবে ঘোষণার কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এখনো আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিছুদিন আমাদের একটু অসুবিধা হয়েছে। তারপরতো আমরা করে যাচ্ছি। কাউকে বঞ্চিত করিনি। অর্থাৎ আমাদের সেই সক্ষমতাটা এসেছে।

খবর: বাসস।

বাংগরা বাজার থানায় ৪০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বাংগরা বাজার থানায় ৪০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী কে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়,আজ ১১/১২/২০২২ইং রবিবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নানের নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ বাঙ্গরা বাজার থানার নেতৃত্বে এসআই হৃদয় পাল সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ০৫নং পূর্ব ধৈইর (পশ্চিম) ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের খৈয়াখালী সাকিনস্থ ৩৯নং উত্তর হাটাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে খৈয়াখালী বাজার টু কোরবানপুরগামী পাকা রাস্তার উপর চেক পোষ্ট করে ৪০ (চল্লিশ) কেজি গাঁজাসহ দুই জন আসামি গ্রেপ্তার করে।এ সময় একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

আটক আসামিরা হলেন ময়মনসিংহ জেলা ফুলবাড়িয়া থানার মোঃ রফিকুল ইসলাম ছেলে মোঃ তরিকুল ইসলাম (২৯),ও ময়মনসিংহ জেলা ফুলবাড়িয়া থানার মোঃ ইমান আলী ছেলে মোঃ আবুল কাশেম (৩২)।

বাংগরা বাজার থানার ওসি মোঃ রিয়াজ উদ্দীন চৌধুরী জানান,এবিষযে আটককৃতের নামে মাদকদ্রব্য আইনে বাংগরা বাজার থানায় মামলা দায়ের পুর্বক আটককৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর / মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবীসহ ৩ নারীকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইতালির নতুন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এক বান্ধবীসহ তিন নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। গতকাল রোববার (১১ ডিসেম্বর) দেশটির রাজধানী রোমের একটি ক্যাফেতে বন্দুকধারীর গুলিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় বিবিসি।   

নিহতরা হলেন – ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবী নিকোলেটা গোলিসানো আর অন্য নারীরা এলিসাবেটা সিলেঞ্জি ও সাবিনা স্পের্যান্ডিও। আহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় একটি ক্যাফেতে পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মেলোনির বান্ধবী নিকোলেটা গোলিসানো। ক্যাফের ভেতর স্থানীয় ব্লক বাসিন্দাদের একটি কমিটির বৈঠক চলছিল।এই ঘটনায় ৫৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কমিটির বোর্ডের লোকদের সাথে তার আগে থেকে বিরোধ ছিল।

এই ক্যাফেতে কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট লুসিয়ানা সিওরবা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারী তার পিস্তল দিয়ে গুলি করার আগে চিৎকার করে বারবার বলতে ছিলেন “আমি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলব”। এরপর সে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

রোমের মেয়র রোবের্তো গুয়ালতিয়েরি এই গুলির ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সহিংসতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ সোমবার (১২ ডিসেম্বর) একটি জরুরি বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছে তিনি।

বান্ধবীর ছবি দিয়ে জর্জিয়া মেলোনি ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার কাছে ও সবসময় এমনই হাসিখুশি আর সুন্দর থাকবে। এভাবে চলে যাওয়াটা ঠিক হলো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

 

দুস্থদের মাঝে ত্রাণ ও পূর্নবাসন দপ্তরের ৩ হাজার পিস কম্বল বিতরণ

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গরীব-অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে ৩ হাজার পিস কম্বল বিতরন করেছে উপজেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন দপ্তর । উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগনের মাধ্যমে একযোগে এসব কম্বল বিতরন করা হয়।

এর অংশ হিসাবে সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে উপেজলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দুস্থদের মাঝে ৩৫০ টি কম্বল বিতরন করেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী। এ সময় নাওডাঙ্গা ইউপি সচিব শফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ও সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা ত্রাণ,পুর্নবাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন  কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩৫০ পিস কম্বলসহ ৬ ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার পিস কম্বল দুস্থদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। এখনও পর্যাপ্ত কম্বল মজুদ আছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো বিতরন করা হবে।

ফের জেগে উঠেছে গুয়াতেমালার ‘ফুয়েগো’ আগ্নেয়গিরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের জেগে উঠেছে গুয়াতেমালার ‘ফুয়েগো’ আগ্নেয়গিরি। ওই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দেশটির সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শনি ও রবিবারের অগ্নুৎপাতের জেরে এখনও পর্যন্ত কাউকেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করেনি প্রশাসন। তবে স্থানীয় লোকজনকে খাবার, জল, ওষুধ এবং টর্চ নিয়ে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে, যাতে বিপদ বুঝলেই তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে, আগ্নেয়গিরিটির নাম ফুয়েগো। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ হলো আগুন। শনিবার রাত থেকেই লাভা উদগীরণ শুরু করে আগ্নেয়গিরিটি। গলিত পাথর এবং ছাইতে ঢেকে যায় আগ্নেয়গিরিটির ওপর ২ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত আকাশ। বাতাসে ভেসে সেই ছাই প্রবেশ করতে শুরু করে ৩৫ কিলোমিটার দূরে গুয়াতেমালা শহরে। এ ছাড়া মাইলের পর মাইলজুড়ে বাতাসের কারণে ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। রানওয়েতে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় লা আরোরা বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি ফ্লাইট দিক পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, গড়ে প্রতি চার-পাঁচ বছরে একবার ফুয়েগোতে অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়। সবশেষ ২০১৮ সালে এটিতে অগ্ন্যুৎপাত দেখা দিয়েছিল। এতে ২১৫ জনের প্রাণহানী ঘটেছিল।