প্যারিসে মরক্কো-ফ্রান্স সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বিশ্ব ফুটবলের আসরে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান দেশ মরক্কো। এই জয়ের উদযাপনে মাতে পুরো বিশ্ব। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও এই জয় উদযাপন করছিল মরক্কোর সমর্থকরা। ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত হলে তাদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেয় ইংলিশদের হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া ফরাসি সমর্থকরা। কিছুক্ষণ পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ।

গতকাল শনিবার (১০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে ফ্রান্সের বিখ্যাত প্যারিসিয়ান অ্যাভিনিউয়ের সামনে জয় উদযাপন করতে থাকেন। তাদের সতর্ক করে হুইসেল বাজায় পুলিশের সদস্যরা। কিন্তু সতর্কবার্তা এড়িয়ে ফ্রেঞ্চ ও মরক্কোর সমর্থকরা উদযাপন করতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে।

এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ায় দুই দলের সমর্থকরা বিজয় উদযাপন করছিল। তারা পতাকা নেড়ে স্লোগান দিচ্ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

রয়টার্সের টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মরক্কো-ফ্রান্স সমর্থকরা দোকান ভাঙচুর করছে। পুলিশের সঙ্গে মারামারি করছে। চ্যাম্পস এলিসিসের কাছাকাছি অ্যাভিনিউ ডি ফ্রিডল্যান্ডে আগুনও দেখা যায়।

শ্রীমঙ্গলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের অলিগলিতে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায়  দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসিন মিয়ার নেতৃত্বে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিটুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সন্দ্বীপ তালুকদার ও থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শ্রীমঙ্গল শহরের নতুনবাজার, পোষ্টঅফিস রোড, হবিগঞ্জ রোড, পুরানবাজার, স্টেশন রোড এলাকায় সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এই অভিযানকে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানান এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসিন মিয়া মধু বলেন,পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল শহরের সৌন্দর্য ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা এবং সচেতনতা কামনা করেন। এ ব্যাপারে তার কোন দূর্বলতা নেই, ফুটপাত যারা দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, শ্রীমঙ্গল পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে এজন্য যানজট নিরসনে ও অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করে সুন্দর করে রাখা সকলের দায়িত্ব।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশ কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশমুখে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রায় সব প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও গাবতলী এলাকায় ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বসানো হয়েছে পুলিশের তল্লাশি চৌকি।

দেখা গেছে কাউকে সন্দেহ হলেই তল্লাশি করছে পুলিশ। গাড়ি থামিয়েও চলছে তল্লাশি। তবে পুলিশি তল্লাশির নামে কিছু ক্ষেত্রে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরীহ অনেককেও আটক করা হচ্ছে। কয়েকজন  ভুক্তভোগীরা এ বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ঢাকার গাবতলীতে আমিনবাজার ব্রিজের ওপর পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাস, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য পরিবহনও তল্লাশি করে ছাড়া হচ্ছে। তল্লাশি সময় পরিবহনের কাগজপত্রও যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেছে।

এদিন সকাল থেকে সায়েদাবাদ, মতিঝিল, কাকরাইলসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, রাজধানীতে নিয়মিত চেকপোস্ট বসছে। কারণ, ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলছে। ১৪ ও ১৬ ডিসেম্বর এবং ২৫ ডিসেম্বরের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিন সামনে। এর আগে যেন কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চেকপোস্ট বসিয়েছি।

তবে তল্লাশি চৌকিগুলোতে কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা যাত্রীকে আটক, ঢাকায় আসা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা হয়রানি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ক্রয়ের নতুন রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মূল্যস্ফীতির যাতাকালে যখন পিষ্ট পুরো পৃথিবী তখনই স্বর্ণ কেনার ধুম লেগেছে। বেশ কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে রিজার্ভের জন্য। শুধুমাত্র বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০০ টন স্বর্ণ কেনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়ার টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বমন্দা সামাল দিতে এ পরিস্থিতি।

বিশ্বজুড়ে জেঁকে বসেছে আর্থিক মন্দা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল ভোগ করছে সারা বিশ্ব। দামের উর্ধ্বগতি আর জ্বালানির সংকটে ত্রাহিরাহি অবস্থা ইউরোপ ও তার মিত্রদের শিবিরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা উদ্যোগ থাকলেও অর্থনীতিতে সুফল খুব একটা নেই।

২০২৩ এর অর্থনীতি কোথায় দাঁড়াবে কিংবা কি হবে তার নানা হিসেব-নিকেশের মাঝে বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের বিক্রি। স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে বছর ব্যবধানে ২৮ শতাংশ। ২০২১ সালে যেখানে এই ধাতব মুদ্রা বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের পরিমাণ ছিলো প্রায় ৩ হাজার টন, ২০২২ এর তিন প্রান্তিকেই যা পৌনে ৪ হাজার টনে পৌচেছে। অলংকার, বার, কয়েনের বিক্রিও বেড়েছে। তবে জিরো কোভিডনীতির কারণে প্রযুক্তি খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হওয়ায় এ খাতে স্বর্ণ বিক্রিতে কিছুটা ভাটা রয়েছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের কেনাবেচায় বেশ বড় ধরণের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। তৃতীয় প্রান্তিকে এসে আমরা বেশ কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছি। চীনের কোভিড নীতির কারণে প্রযুক্তিখাতে স্বর্ণের ব্যবহার কমেছে। আর যুদ্ধের কারণে বেশ কয়েকটি দেশ স্বর্ণ কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে এর প্রভাব হয়তো আমরা দেখতে পারি। তবে, তা সুখকর কিছু বয়ে আনবে না।

অর্থের পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউরোপের দেশগুলোর কোষাগারে হাহাকার। বিশেষ করে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার উল্টো ফল ভোগ করা ইইউভুক্ত দেশগুলো এখন খুব একটা ভালো নেই। অথচ বছরের শুরুতে বিশ্বের সবগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাত্র ১০০ টনের মতো স্বর্ণ কিনে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজে যুদ্ধের দামামা। তাতে ২০০ টন স্বর্ণ কিনে প্রতিষ্ঠানগুলো। তৃতীয় প্রান্তিকে দুই প্রান্তিকের যোগফলেরও দ্বিগুন কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। আর তাতেই সর্বোচ্চ স্বর্ণ কেনার হিসেবে ভেঙ্গে যায় ৫৫ বছরের ইতিহাস।

ক্রেমলিনের এ আঘাত সইতে তুরস্ক থেকে তুর্কেমেনিস্তানে চলছে অর্থনৈতিক মারপ্যাচ। রাশিয়ার স্বর্ণ যেহেতু লন্ডন বুলিয়ান মার্কেটে নিষিদ্ধ, তার বিক্রি নিয়ে চলছে তাই নানা খেলা। ডলারের চাপে খোদ ওয়াশিংটন যেখানে বিদ্ধ, সেখানে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে কতুটুক কাজ করবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের খেলা নতুন বছরে অর্থনীতির দিগন্তে কি নতুন সূর্য্যের বার্তা দিবে সে প্রশ্ন রয়েই যায়।

মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস উদযাপন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: আজ ৮ই ডিসেম্বর মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনীর সেনারা মৌলভীবাজার থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন, বিজয় র‌্যালী ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিচারণ ও আলোচনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার -৩ (রাজনগর সদর) আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিছবাহুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলায়মান আলী, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আবুল খয়ের চৌধুরী, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান।

৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে তারা ব্যর্থ হতে থাকে। এ অঞ্চলের পরাজিত পাকিস্তানি সৈন্যরা তখন সিলেট অভিমুখে পালাতে শুরু করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হন।

২ ডিসেম্বর রাতে মৌলভীবাজারের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়। আক্রমণের মুখে পাক সেনারা শমশেরনগরে টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে।

মৌলভীবাজারে ছিল পাক সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী মৌলভীবাজার দখলের উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বড়টিলা নামক জায়গায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ১২৭ জন সেনা নিহত হন।

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের বহুমূখী মরন পণ লড়াই ও ভারত থেকে মুক্তি বাহিনী ক্রমশ ক্যাম্প অভিমুখে এগিয়ে আসার খবরে পাক বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৮ ডিসেন্বর ভোরে মনুব্রীজ সহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাক বাহিনী ধংশ করে তারা শেরপুর হয়ে সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। এর পর মুক্ত হয় মৌলভীবাজার শহর। উড়ানো হয় লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

এর আগে হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। ৭১ সালের ৩০ এপ্রিলের পর থেকে পাকিস্থান হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেন্বর পর্যন্ত রাজাকারদের সহায়তায় মৌলভীবাজারে হত্যা করেছিল অর্ধশতাধিক মুক্তি যোদ্ধাসহ নীর অপরাধ মানুষকে।

মৌলভীবাজার মুক্ত করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়া, জমির মিয়া, নীরোধ চন্দ্র রায়, সিরাজুল ইসলাম,আব্দুল মন্নান, উস্তার উল্লাহ সহ কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ শহীদ হন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন গুলো পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা সভা ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অয়োজন করেছে।

ফুলবাড়ীতে মাইক্রোবাস সহ ৪২ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ৩

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাইক্রোবাসে করে গাঁজা পাচারের সময় ৪২ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক চোরাকারবারীকে পুলিশ আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার ৮ডিসেম্বর ভোরে ফুলবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) সারওয়ার পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপজেলার আমতলা জকারহাট এলাকায় ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়ক থেকে তাদের আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার কুরুষা ফেরুষা জায়গীরটারী গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩৫) তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৪) রংপুর জেলার তাজহাট এলাকার আলম বাদশার ছেলে নাজমুল ইসলাম মনি (২৫)। এসময় শিমুলবাড়ী ঠাকুরপাঠ এলাকার শহিদার খন্দকারের ছেলে মাদক চোরাকারবারী শাহিন খন্দকার (৪৫) মোটরসাইকেল ফেলে কৌশলে পালিয়ে যান।

ফুলবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) সারওয়ার পারভেজ জানান, মাইক্রোবাসে করে গাঁজা পাচার হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ৪২ কেজি গাঁজা ও মাইক্রোবাস সহ ৩ কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারী হাতেনাতে গ্রেফতার হয় একজন পালিয়ে যায়। আটককৃত ৩ জন ও পলাতক ১জন সহ মোট ৪ জনের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আটকদের কুড়িগ্রাম জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চলতি বছর ভারতে বজ্রপাতে ৯০৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ভারতে তাপপ্রবাহ ও বজ্রপাতের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো বেড়েছে। এ সময় বজ্রপাতের কারণে ৯০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় দেশটির ভূবিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার (৭ ডিসেম্বর) পার্লামেন্টে উত্থাপন করা ভূবিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে  জানা যায়, মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভারতে তাপপ্রবাহ আট গুণ বেশি ছিল। সব মিলিয়ে বছরে ২৭ বার তাপপ্রবাহ এবং ১১১ বার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় বজ্রঝড় পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে এবং এই সংখ্যা ছিল ২৪০।

প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, গত নভেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার কারণে চলতি বছর ২ হাজার ১৮৩ জন মারা গেছে, যা ২০১৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

মন্ত্রণালয়টির দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, বজ্রপাত, বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাত এ বছর ৭৮ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশটিতে গত মার্চে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ ছিল এবং এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন দূষণকারী দেশ ভারত, তবে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এখানে মাথাপিছু নির্গমনের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে, গত আগস্টে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারতে বর্ষা মৌসুমে তাপমাত্রা চলতি শতাব্দীতে বেড়েছে এবং দেশটিতে ভবিষ্যতে আরও ঘনঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সালের পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী দাবদাহে অন্তত ১ লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

লাউ চাষে স্বাবলম্বী শাহাজান ভূঁইঞা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে শাহাজান ভূঁইঞার মাচায় ঝুলছে শীতকালীন ছোট, বড় ও মাঝারি অসংখ্য লাউ। মাত্র দশ শতক জমিতে শখের বসে হাজারী জাতের লাউ চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে চাষাবাদের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকার অধিক লাউ বিক্রি করেছেন। আশার চেয়ে অধিক ফলন হওয়ায় আরো লক্ষাধিক টাকার লাউ বিক্রয় করা যাবে বলে এমনটাই মনে করছেন শাহাজান।

জানা গেছে, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ি ইউপির বাছিরপুর গ্রামের কৃষক শাহাজান ভূঁইঞা (৬০)। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী মাত্র দশ শতক জমিতে ২ মাস পূর্বে হাজারী জাতের লাউয়ের বীজবপন করেন। সঠিক ভাবে শ্রম ও অপকারি পোকামাকড় নিধনে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দিনগড়ানোর সাথে সাথে পাল্টে গেছে ফলনের দৃশ্যপট। এলাকা ও হাটে টাটকা লাউয়ের ভালো চাহিদা ও দাম পাওয়ায় তিনি আনন্দিত। এছাড়াও তিনি ফ্রান্স বিন, লালশাক, পালনশাক, করলা, ধনিয়াপাতা, সীম, লাইশাক ও সরিষা ইত্যাদির আবাদ করেছেন।

লাউ চাষি শাহাজান ভূঁইঞা বলেন, আমি শখেরবসে দু’মাস পূর্বে হাজারী জাতের লাউের বীজ রোপন করি। কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক ভালো ফলন হয়েছে। এলাকায় ও বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো লক্ষাধিক টাকার লাউ বিক্রি করতে পারব।

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলার নিন্মাঞ্চলে লাউ, মিষ্টিকুমড়া জাতীয় সব্জি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনায় আবাদ করলে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি সাবলম্বী হওয়া সম্ভব। শাহাজান ভূঁইঞা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন। আশা করি তার মতো এলাকার অনেকেই সব্জি চাষে এগিয়ে আসবে এবং বেকার যারা আছেন তাদের আগ্ৰহ যোগাবে শাহাজান ভূঁইঞার এই উদ্যোগ দেখে।

২০২২ সালে গুগলে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে যে শব্দ

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন গুগল প্রতি বছরের শেষ দিকে বছরজুড়ে কোন শব্দটি সবচেয়ে বেশিবার সার্চ করে থাকেন সাধারণ মানুষ তার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও গুগল কর্তৃপক্ষ ‘বার্ষিক সার্চ রিপোর্টে এ ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ করেছে । রিপোর্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে গুগলে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে ‘ওয়ার্ডল’ শব্দটি। এটি একটি অনলাইন গেমের নাম। এছাড়া, গুগল তাদের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা বা ট্রেন্ডিং শব্দগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেও ভাগ করেছে। এরমধ্যে খেলা, অভিনেতা/অভিনেত্রী, খেলোয়াড়সহ আলাদা ক্যাটগরি রয়েছে। খবর-বিবিসি


<<<গুগলের প্রকাশিত২০২২ ‍সালের ট্রেন্ডিং শব্দগুলো ট্রেন্ডিং শব্দগুলোর তালিকা>>>

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২১ সালে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার জোস ওয়ার্ডল তার নাম অনুযায়ী ওয়ার্ডল নামের গেমটি তৈরি করেন। খুবই সহজ আবার জটিল শব্দের খেলার এ গেমটি সাধারণ মানুষের নজর কাড়ে। বিশেষ করে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ফেব্রুয়ারিতে গেমটি কিনে নেওয়ার পর অনেক মানুষ এর খোঁজ করেন।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী বড় কিছু ঘটনাও গুগল সার্চে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। যার মধ্যে রয়েছে রানি এলিজাবেথের মৃত্যু। এছাড়া অভিনেতা জনি ডিপ ও তার স্ত্রী আম্বার হিয়ার্ডের মামলার শুনানি, অস্কারে ক্রিস রককে উইল স্মিথের চড় মারার বিষয়টি নিয়ে গুগলে অসংখ্য মানুষের আগ্রহ ছিল।

প্রযুক্তিবিষয়ক পোর্টাল টেক ক্রান্চ জানিয়েছে, গুগলের প্রকাশিত ২০২২ সালের সর্বোচ্চবার সার্চ দেওয়ার তালিকার ২য় স্থানে আছে ‘ভারত বনাম ইংল্যান্ড’ বাক্যটি। চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইংল্যান্ড।

আর ৩য় স্থানে রয়েছে ইউক্রেন শব্দটি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করে রাশিয়া। এরপর ইউক্রেন সম্পর্কে তথ্য জানতে অসংখ্য মানুষ গুগলে খোঁজ করেন। ৪র্থ স্থানে আছে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাম। তিনি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মারা যান। ৫ম স্থানে রয়েছে ‘ভারত বনাম দক্ষিণ’ আফ্রিকা বাক্যটি

ঠাকুরগাঁওয়ের কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর রাজ্জাক আবারো জনতার হাতে আটক

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কুখ্যাত  মোটরসাইকেল চোর আব্দুর রাজ্জাক মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় আবারো পাশ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলায় গত মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর রাতে জনতার হাতে আটক হয়। পরদিন বুধবার (৭ডিসেম্বর)পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

অর্ধশত মোটরসাইকেল চুরি মামলার আসামী কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর আব্দুর রাজ্জাক রানীশংকৈল পৌরসভার ভান্ডারা এলাকার বাসিন্দা এবং পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কাউন্সিলর। এর আগেও সে পীরগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরি করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনারদিন উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের শিরাইল গ্রামের আজিরউদ্দীনের ছেলে নুরুল ইসলাম তার বাজাজ ১২৫ সিসি ডিসকোভার মোটরসাইকেল নিয়ে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বৈরচুনা সড়ক পাড়ায় তার শ্বশুর বাড়িতে যায়। মোটরসাইকেলটি বাড়ির সদর দরজার সামনে রেখে ভিতেরে গিয়ে শ্বশুরের সাথে কথা বলে অনুমানিক ২০ মিনিট পর বের হয়ে দেখতে পান, কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর রাজ্জাক ও তার দুই সহযোগী মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে তাদের ধাওয়া করেতে করতে নুরুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জনকে খবর দেয়। এক পর্যায়ে সন্ধা ৬টার দিকে নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের গতিরোধ করা হলে রাজ্জাক চোরের দুই সহযোগী পালাতে সক্ষম হলেও জনতার হাতে আটক হয় রাজ্জাক। জনতা তাকে গন ধোলাই দেয়।

পরে থানা পুলিশ গিয়ে রাজ্জাককে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় থানায় নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে পীরগঞ্জ থানায় রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মোটর সাইকেল চুরির দায়ে মামলা দায়ের করেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে। তার জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার এক মাসও হয়নি। আবারও সে ধরা খেলো। তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল চুরির মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।