হাওরাঞ্চলের বাতাসে কৃষকের খুশির আমেজ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সময়টা গত জুলাই মাসের। আমন চাষের স্বপ্ন নিয়ে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের মনু নদী প্রকল্পভুক্ত এলাকার কৃষকেরা বীজতলা তৈরি করেন। কেউ কেউ বীজতলায় বীজও ছিটিয়ে দেন। কিছুদিন পর দেখা গেল চারা বড় হচ্ছে কিন্তু বৃষ্টির কারণে হাওরের পানি বাড়তে থাকায় আমনের জমি পানিতে ডুবে গেছে। সময় যত যায়, পানি ততই বাড়ে। কারো কারো বীজতলাও তলিয়ে যায়। পানিতে ডুবে যায় নিচু এলাকার অনেক রাস্তা- ঘাটও। এমন অবস্থায় হাওর পাড়ের কৃষকেরা যখন আমন চাষের আশা ছেড়ে দিবেন, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের জলাবদ্ধতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এবং দীর্ঘদিন ধরে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের স্বার্থে কাজ করা সংগঠন ‘হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ মৌলভীবাজারের নেতৃবৃন্দ।

আমন ধান রোপনের সময় আসলেও, জমি পানিতে ডুবে থাকায় রোপন শুরু করতে না পারা কৃষকদের সাথে নিয়ে জুলাই মাসের ২১ তারিখ হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাশিমপুর পাম্প হাউজের মাধ্যমে হাওরের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ অনিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। এরপর আগস্টের ৫ তারিখ মৌলভীবাজার চৌমোহানা চত্বরে হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র মানববন্ধন থেকে দ্রুততম সময়ে হাওরের পানি কমানোর জন্য পাম্প হাউজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং নিষ্কাশন স্লুইসগেট খুলে দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেওয়া হলে পরদিন থেকেই পাম্প হাউজের ৭টি নিষ্কাশন স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে দ্রুতই হাওরের পানি কমতে থাকলে কৃষকেরা আমন রোপন শুরু করলে কিছুটা বিলম্বে হলেও ১৩০০ শত হেক্টর জায়গায় আমন চাষ হয়।

হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ–সংকটে মনু নদী সেচ প্রকল্পের কাশিমপুরে পাম্প হাউজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে পারছিল না কতৃপক্ষ। কৃষকদের দাবি ছিল পাম্প হাউস ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে হাওরের পানি কমিয়ে ফসলি জমি চাষের উপযোগী করা। এ দাবিতে হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের চাষিরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে নিয়ে বৈঠক করে কাশিমপুর পাম্প হাউজে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

পানিতে ডুবে ছিল যে জমি, সে জমিতেই আজ হাওয়ায় দুলছে ‘হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র আন্দোলনের সোনালী ফসল। রোদের আলোয় চিকচিক করছে ধানের প্রতিটি শীষ। হাওর পাড়ের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের প্রতিটি এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে ধান কাটা, মাড়াই এবং শুকানোর কাজ।

কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার একাটুনা, কচুয়া, উলুয়াইল, বড়কাপন, বুড়িকোনা, বিরাইমাদ, রসুলপুর, খৈশাউড়া, রায়পুর, বানেশ্রী, পাড়াশিমইলসহ অনেক এলাকার ধান পেকে গেছে। কোথাও কোথাও মাঠ থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে ধান। কিছুটা বিলম্বে রোপণ করা ধান এখনো কাটার উপযোগী হয়নি। আরও সপ্তাহ খানেক পর সেসব ধান কাটা যাবে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বড়কাপন গ্রামের কৃষক ইন্তাজ মিয়া বলেন, ‘আমি ছয় কিয়ার (বিঘা) জায়গায় ধান ফলাইছি। ধান ভালাই অইছে ( হয়েছে) । এর মধ্যে দেড় কিয়ার জায়গার ধান কাটছি। বাকি ধান আরও ৮ থেকে ১০ দিন বাদে কাটমু। ধান রোয়ার (রোপণ) সময় পানি থাকায় নিন জমিত (নিচু জমিতে) ধান লাগাইতাম পারছি না। হাওর রক্ষা কমিটির আন্দোলনের পর পানি কমায় কিছু জায়গাত ধান লাগাইতাম পারছিলাম। আর না অইলে (হলে) এখন ধান তো স্বপ্নেও দেখতাম না।’

রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ের কানিকিয়ারি গ্রামের মনু মিয়া বলেন, ‘সার, ওষুধ দিতে দিতে বিরক্ত। পরিশ্রম করছি। কিন্তু ধান ভালা হওয়ায় এখন কষ্ট নাই। ধান বাইর অই(বাহির হয়ে) গেছে। ১০ দিন পর কাটা যাইব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে সেচের পর ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। হেক্টর প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মেট্রিক টন ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সারা জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন ধানের আবাদ হয়েছে।’

হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র সভাপতি এডভোকেট মঈনুর রহমান মগনু বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় এবছর কাউয়াদিঘী হাওরাঞ্চলে আমনের চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে, আমরা তখন হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ করলে, পাম্প হাউজ কর্তৃপক্ষ সেচ দিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের পানি স্বাভাবিক মাত্রায় নিলে কিছুটা দেরীতে হলেও কৃষকেরা আমন চাষ করেন এবং ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে।’

হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘যে ফসলের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, সেই ফসল দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেছে। আমরা কৃষকের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’ কৃষক ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো, আমরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।

গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলায় পশ্চিম তীরে চরম উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। এর পরেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই আজ রোববার (০৪ ডিসেম্বর) ইসরাইলের যুদ্ধবিমান থেকে গাজা উপত্যকায় বোমা ফেলা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে জানা যায়, আজ রোববার (০৪ ডিসেম্বর) ভোররাতে হামাসের অস্ত্র তৈরির স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। বোমা হামলার জবাবে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রাই এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আমাদের যুদ্ধবিমান একটি অস্ত্র কারখানায় হামলা চালিয়েছে। যেখানে রকেট তৈরি করে হামাস। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের একটি সুড়ঙ্গও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিমান হামলার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করার পর মূলত উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলি বাহিনীকে সমুচিত জবাব দেয়ার আহ্বান করেছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতার ক্রমবর্ধমান মাত্রা নিয়ে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বোরেল বলেছেন, গত কয়েকদিনেই ১০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল আইএসএফ (ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী) এর একজন সদস্যের হাতে একজন ফিলিস্তিনি ব্যক্তি আম্মার মিফলেহের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ছিল এর সর্বশেষ উদাহরণ।

বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ-শাসক সম্মেলন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ ঘটিকা পর্যন্ত পুলিশ-শাসক এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহম্মদ আলী আহসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়; বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার; বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ; জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সভাপতি এ. এস. এম. আজাদুর রহমান ও বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল হোসেন ইকবাল; বিজ্ঞ অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর; র‍্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাস্পের প্রতিনিধি সহকারী পুলিশ সুপার; তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রতিনিধি সহকারী সার্জন; জেল সুপার; উপ-পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর; সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি পরিদর্শক; কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক; ইন্সপেক্টর, পিবিআই ও সি.আই.ডি; ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এবং জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতে বিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনক্রমে স্বাগত বক্তব্যে মৌলভীবাজার বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলার ও বিভিন্ন থানার মূলতবী পরোয়ানার বিবরণী এবং সম্মেলনের আলোচ্য সূচী তুলে ধরেন।

বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উপস্থিতি কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার আইনি সমাধান, প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করত: সমাপনী বক্তব্যে বিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিষ্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান বলেন যে, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মৌলভীবাজার আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল হোসেন ইকবাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, আদালত ভবনের নিকটবর্তী জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সাধারণ পাঠাগার, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, পৌর জনমিলন কেন্দ্র, ১টি বেসরকারি হাইস্কুল ও ২টি সরকারি কলেজ থাকায় কর্ম দিবসে আদালত সড়কে বহু জনসমাগম হয়ে থাকে ও গাড়ি চলাচল করে। ফলে, যানজট সৃষ্টি ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়। তাই, আদালত এলাকায় যানচলাচল ব্যবস্থা আরো জোরদার করার এবং একই সাথে আদালতে আগত সাক্ষী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ আদালত প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ তত্ত্বাবধায়ক সুদর্শন কুমার রায় তাঁর বক্তব্যে মামলার তদন্ত কার্যসহ পুলিশের সার্বিক কাজে সু-পরামর্শ ও সহযোগিতা করায় মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত বিচারকগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ তাঁর বক্তব্যে দ্রুততার সাথে মেডিকেল সার্টিফিকেট, পোর্স্ট মোর্টেম রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট, ধর্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা রিপোর্ট প্রেরণ এবং স্পষ্টাক্ষরে ও কম্পিউটার কম্পোজ করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং জেলার বিভিন্ন থানায় তদন্তাধীন থাকা মামলার তদন্ত কার্য দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করত: তাদের নিরাপত্তা বিধান, গ্রেপ্তারের পর আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার, পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার, নিষ্পত্তির নিমিত্তে পি.আরমূলে জব্দ থানা মালখানায় থাকা আলামতের তালিকা তৈরি করে আদালতে প্রেরণ, বহন অযোগ্য ও পচনশীল আলামত নমুনা সংরক্ষণ করে ধ্বংসের নিমিত্তে আবেদন প্রেরণ এবং মৌলভীবাজার বিচার বিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিচারক ও থানার দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। দীর্ঘদিন যাবত তদন্তাধীন থাকা মামলাসমূহের গুরুত্বের সাথে দ্রুত তদন্ত কার্য সমাপ্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের এবং পারিবারিক মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ও লেভি ওয়ারেন্ট ও সকল পরোয়ানাসহ দ্রুততার সাথে তামিলের জন্য থানার দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগনকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এদিন সকালে শহরের কালেক্টর স্কুল থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম বিডি হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও ১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

এসময় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন,পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো,পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবলুর রহমান, মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

এর আগে দিবসের প্রারম্ভে রাত ১২ টা ১ মিনিটে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর ব্যানারে পৌরসভা এলাকার টাঙ্গন নদীর তীরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বলন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি    ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসার পর ঠাকুরগাঁও শহরে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ২৭ ও ২৮ মার্চে শহীদ মোহাম্মদ আলী এবং নরেশ চৌহানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ।

প্রসঙ্গত: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। এদিন ভোরে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে বিজয় উল্লাস করে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী উদ্যোমী জনতা।

বড়লেখায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় খালেদুর রহমান (২৩) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত খালেদ উপজেলার সুফিনগর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, খালেদুর আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজবাহাদুরপুর ইউপির সুফিনগর গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খালেদ দীর্ঘদিন থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে খালেদুর নিজ শয়নকক্ষের ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে স্বজনরা ডাকাডাকি করে তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন খালেদুর ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলছেন। পরে স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
বড়লেখা থানার তদন্ত অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন খালেদুর দুই বছর আগে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেন। এরপর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্বজনরা তার চিকিৎসা করিয়েছেন। এতেও তিনি কিছুটা সুস্থ হন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। লাশ ময়নাতদন্তের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ডেস্কঃ চলতি বছরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত তিন বছর করোনাসহ বিভিন্ন কারণে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

গতকাল শনিবার (৩ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মুহিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক বৃত্তি অব্যাহত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এ বৃত্তি পরীক্ষা নিতে হবে। তবে এ পরীক্ষা সব শিক্ষার্থী দিতে পারবে না। বিদ্যালয়ের বাছাই করা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষা দিতে পারবে।

প্রতিটি উপজেলা সদরে হবে এ পরীক্ষা। এ জন্য মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ হিসাব করে কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি দেওয়া হতো। যেহেতু সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই বিকল্প হিসেবে পুরোনো পদ্ধতির মতো করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে উত্তেজনা!

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রোমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রী ও তার সমর্থক এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উভয়পক্ষের চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীর নাম দফায় দফায় পরিবর্তন, হট্টগোল, অবরুদ্ধ, দরজায় লাথি মারা, দেহরক্ষীকে আহত করা, কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে অশোভন আচরণ ও পথরোধের ঘটনায় ৪ দিন অতিবাহিত হলেও ঘোষণা হয়নি কমিটি।

জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে  দীর্ঘ সাত বছর পর ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন শেষে রৌমারী ডাকবাংলোতে দ্বিতীয় অধিবেশনে

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিকের উপস্থিতিতে সভাপতি পদে ১৩জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৬জনের জীবন বৃত্তান্ত জমা হয়। পরে সকল প্রার্থীর সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সাক্ষাতকার শেষে জেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দলে নতুন-পুরাতনের সমন্বয়ে সভাপতি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মিনুর নাম বাদ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন মুখ রাজু আহমেদ খোকার নাম উঠে আসে। এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জাফর আলী কাউন্সিল ত্যাগ করেন। প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খোকাকে মেনে নিতে আপত্তি জানান।

প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কারণে তার কাছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিকল্প ব্যক্তির নাম চাইলে উনি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাখাওয়াত হোসেন সবুজ এবং চেক জালিয়াতি চলমান মামলার আসামী আবু হানিফের নাম প্রস্তাব করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দাগী আসামীদের মনোনীতের ব্যাপারে আপত্তি জানান। এতে প্রতিমন্ত্রী  জাকির হোসেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ঘর থেকে বের হতে দিবেন না মর্মে হুমকি দেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মীনি বেগম সুরাইয়া জাকির উত্তেজিত হয়ে কাউন্সিলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দকে গালিগালাজ করেন। অবস্থা ঘোলাটে দেখে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্থান ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, নৈতিকতার দিক থেকে আওয়ামীলীগের কমিটিতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে স্থান দিলে বিতর্কিত অবস্থা তৈরি হবে।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রীর এমন অশোভন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে-ব্যক্তি নয় আমরা চাই দলীয় স্বার্থে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে কমিটিতে ত্যাগী এবং পরিচ্ছন্ন নতুন মুখ আসুক।

এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিক রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কাউন্সিলে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা, অনাকাঙ্খিত ও অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এবং অনৈতিক আব্দারের কারণে রৌমারী কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় গঠতন্ত্রের আলোকে কমিটি ঘোষণা করা হবে। বিতর্কিত ব্যক্তি কমিটিতে স্থান পাওয়ার সুযোগ নেই। কারো ব্যক্তি স্বার্থে কমিটি ঘোষণা হবে না।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বাসের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে বাসের ধাক্কায় রায়না বেগম (৩৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের রহমান সিএনজি পাম্প এর সম্মুখে এ ঘটনাটি ঘটে।

রায়না বেগম (৩৫) হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জুনেদ মিয়ার স্ত্রী। রায়না বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আগিউন গ্রামের আব্দুল মুকিত মিয়া (ভাই) এর বাড়িতে থাকেন।

রায়না বেগমের ভাই মুকিত মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রায়না সকালে আমার বাড়ি থেকে ডাক্তার দেখাতে শহরের এসে ছিল শহরের কুসুমভাগ এলাকায় রাস্তা পারাপারে গিয়েছিল, সে সময় একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং এখন ও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

রাণীশংকৈলে পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অংশগ্রহণে দিবসটি পালন উপলক্ষে এদিন বিকাল ৫ টায় উপজেলা আ.লীগ আফিস থেকে একটি র‍্যালি বের করে পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।

পরে সন্ধ্যায় বন্দর চৌররাস্তা মোড়ে উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল হকের সভাপতিত্বে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আ.লীগ সহ- সভাপতি ও সাবেক মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা, ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক এমপি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী, উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা গোলাম সারওয়ার বিপ্লব, রেজাউল করিম, সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত বসাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, পৌর আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক, উপঃ কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক দিগেন্দ্রনাথ রায়, উপঃ আ.লীগ সদস্য তসদিকা হক, উপঃ মহিলা আ.লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, কাউন্সিলর হালিমা আক্তার ডলি প্রমুখ।

এছাড়াও আ.লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীসহ অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷ পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে রাণীশংকৈলের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সজ্জিত পোষাকে হাতে হাতে জাতীয় পতাকা ও ব্যান্ডপার্টির দেশাত্মবোধক গানের সুরে র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর আ.লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

প্রসঙ্গত: ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে ৩ ডিসেম্বর’৭১সালে মুক্ত হয়। পাক স্বৈরশ্বাসক গোষ্ঠির দাবানল থেকে মুক্তি পেতে বাঙালী ছাত্র-জনতা দাবি আদায়ের আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। উপজেলার খুনিয়াদিঘি এক হৃদয় বিদারক নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর বর্বরতার স্বাক্ষর বহন করে আসছে এটি। লোমহর্ষক কাহিনীর মাইল ফলক হিসেবে ধরা হয় এ ‘খুনিয়াদিঘি’ নামটিকে।

ফুলতলা ইউপি নির্বাচনে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউপি পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে মোট ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত গড়ায়। জুড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানের কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শুরু হয়।

এসময় যাচাই বাছাইয়ে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে মোট ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।

যাচাই বাছাই শেষে উপজেলা নির্বাচন অফিসার বলেন, নির্বাচন যেন সংঘর্ষে রূপ না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে সকল প্রার্থীদের প্রতি আহবান জানান এবং আচরণবিধি না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ও ১১ ডিসেম্বর প্রতিক বরাদ্ধ দেয়া হবে এবং ২৯ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।