ফুলবাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা, আটক-৩

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: সাংবাদিক ও ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে তিন জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় তাদের দুই সহযোগী কৌশলে পালিয়েছে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আটকৃতরা হলেন, জেলার উলিপুর উপজেলার যমুনা ডালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং শীর্ষ নিউজ-২৪ এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী সিরাজুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার মালতিবাড়ী মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয় দানকারী মিঠু মিয়া (৩০) ও নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে এবং সিএনএন ওয়ার্ল্ড-২৪ এর রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী আব্দুল আজিজ মিয়া (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি দল শিমুলতলা বাজারের মজিবর রহমানের ঔষধের দোকান ও আনিছুর রহমানের আয়শা ফার্মেসিতে গিয়ে নিজেদেরকে ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয় দেন। এ সময় তারা দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স ও মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ আছে কিনা দেখতে চান। দোকানদার লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে তারা দুই দোকানের মালিকের কাছে বিশ হাজার টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা না দিলে মামলার হুমকি দেন তারা। এরপর পাশের আশরাফুলের চায়ের দোকানে গিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অজুহাতে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেন। তাদের অসংলগ্ন কথা-বার্তায় দোকানদারদের সন্দেহ হলে উপস্থিত লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।

এসময় কৌশলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে আব্দুস ছালাম (৩৬) ও উলিপুর ধরনীবাড়ী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মোস্তাফিজার রহমান বাবু (২৮) পালিয়ে যান। পরে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করে বিকালে আটক তিনজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডোমারে দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাস স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে নীলফামারীর ডোমারে দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৯নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা প্রশাসন।

মেলায় ‘উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং স্টার্ট আপ’ স্লোগানে অংশগ্রহন করেন চিলাহাটি মার্চেন্টস্ উচ্চ বিদ্যালয়, সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দখানা জি আর উচ্চ বিদ্যালয়, ডোমার বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ডোমার মহিলা ডিগ্রী কলেজ।

‘হাতের মুঠোয় সেবা’ স্লোগানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ডোমার থানা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস। ‘শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ স্লোগানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। ‘ডিজিটাল সেবা’ স্লোগানে উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠান স্টল নিয়ে মেলায় অংশ গ্রহন করেন।

মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।

এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রৌশন কানিজ, ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী, উপজেলা আওয়ামীরীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক চৌধুরী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিগন মেলায় স্টল পরিদর্শন ও বিকালে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হরিবল বোনার্জি জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দেশে হাজার হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন। লেখাপড়া চালিয়ে যেতে যাদের থাকে পাহাড়সম প্রতিবন্ধকতা। ঠিক তেমনই চোঁখের আলোয় পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে পায়না হরিবল বোনার্জি। তবু থেমে যায়নি। বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হামাগুঁড়ি দিয়ে এগিয়ে চলে স্বপ্নের পথে। অদম্য ইচ্ছে আর আগ্রহে শিক্ষার আলোয় নিজেদের আলোকিত করার প্রাণপণ চেষ্টা। সুস্থ সবল মানুষের মত মেধা মননে কৃতিত্ব রাখছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হরিবল বোনার্জি ।

চোঁখের আলো নেই, অন্তরের আলো দিয়ে ২০২২ সালের সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় হরিবল বোনার্জি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগে অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হরিবল বোনার্জি (১৭) এর বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউপি হুগলিছড়া চা বাগানে। মা বিশখা বোনার্জি ও বাবা অনিল বোনার্জি দু’জনেই চা বাগানের শ্রমিক। প্রাথমিক পড়ালেখা শুরু হয় এনজিও ব্রাক স্কুল থেকে। সেখান থেকে ভাল ফলাফলে পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের পাশেই মৌলভীবাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাসের আবাসিক হোষ্টেলে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যায় অবিরল।

হরিবল বোনার্জি বলেন, ‘আমি যে পড়ালেখা করে এতদূর এগিয়ে আসতে পারবো সেটা কখনো ভাবতেই পারি নি। আমরা পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠির লোক চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী। ব্র্যাক স্কুলে থেকে আমি পিএসসি পরীক্ষা দেই। জিপিএ ৪.৮৩ অর্জন করি। এরপর পড়ালেখার প্রতি আরো বেশি আগ্রহ জন্মে যায়। ভর্তি হই মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে সমাজসেবা অফিসের সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের ছাত্রাবাসে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের পিছিয়ে পরা চা শ্রমিকদের বিনামূল্যে টিউশনিও পড়িয়েছি। করোনাকালীন সময়ে যখন স্কুল বন্ধ ছিল তখন আমার গ্রামের শিক্ষার্থীদের একসাথে নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি।’

তিনি বলেন, পড়ালেখার জন্য আসলে দিনে একটানা দশ ঘন্টা পড়তে হয় না। মনযোগ দিয়ে কয়েকঘন্টা পড়লেই হয়। পরীক্ষার হলেও আমার অন্যান্য সাধারণ ছাত্রদের সাথে পরীক্ষা দিয়েছি। শুধুমাত্র আমি সহযোগি হিসেবে অষ্টম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি বলে বলে দিয়েছি আর সে লিখে লিখে দিয়েছে। আমার স্বপ্ন ছিল একজন গায়ক হওয়া। অনেকটা পথও এগিয়েছিলাম। কিন্তু আর গায়ক হয়ে উঠা হয়নি। এখন একজন সমাজকর্মী ও শিক্ষক হতে চাই।

হরিবল বোনার্জি তার এই সফলতার জন্য সকল শিক্ষক, মা-বাবা, সমাজসেবা অফিসের রিসোর্স শিক্ষক, স্কুলের শিক্ষকগণ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সহযোগিকে উৎসর্গ করতে চান। ভবিষৎ জীবনে সফল হওয়ার জন্য সে সকলের কাছে আশির্বাদ ও দোয়া চাই।

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খ. ম ফারুক আহমদ বলেন, আমদের একজন অন্ধ ছাত্র হরিবল বোনার্জি এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। সে গরীব পরিবারের সন্তান। অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করে এই ফলাফল অর্জন করেছে। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি। আশাকরি সে তার জীবনে সফল হবেন। আগামীতে আশা করি হরিবলের জন্য আরো ভালো ও সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে।

শপথ নিলেন চিলমারী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুকুনুজ্জামান শাহীন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুকুনুজ্জামান শাহীন চেয়ারম্যান হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। সোমবার বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো.সাবিরুল ইসলাম নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ সহ চিলমারী উপজেলার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত ২২আগষ্ট চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রমের মৃত্যু হলে পদটি শুন্য হয়। পরে গত ২ নভেম্বর ওই পদে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে অধ্যাপক রুকুনুজ্জামান শাহীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

রাণীশংকৈল মডেল সপ্রাবি প্রধান শিক্ষকের অবসর উপলক্ষ্যে বিদায় সংবর্ধনা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলার ঐতিহ্যবাহ, সুনামধন্য এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিনের চাকুরির অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক রিসোর্স সেন্টার হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বিদ্যায়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রাহিমউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুঞ্জুরুল আলম,সীমান্ত বসাক,ঘনশ্যাম রায়, মডেল সপ্রাবি পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, স্কুল পি টি’র সভাপতি সারোয়ার হোসেন বিপ্লব, সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত বসাক।

এছাড়াও সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ধীরেন্দ্রনাথ রায়,বদরুল আলম,অভিভাবকবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ৷

শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ে সুদক্ষ ও সুনামের সহিত শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়।

ফুলবাড়ীর শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসায় শতভাগ পাশ

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

জানা গেছে, এ বছরের অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় ওই মাদ্রাসা থেকে মোট ১০জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। তাদের মধ্যে ১জন জিপিএ-৫ সহ সকলেই সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে উত্তীর্ন হয়। এ খবর ছিটমহল এলাকায় পৌছিলে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে মিষ্টি বিতরণ শুরু করেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম মিয়া জানান, ১০ পরীক্ষার্থীর সকলেই উত্তীর্ন হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আগামীতে আরও ভাল ফলাফল করার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

মৌলভীবাজারে আমনের বম্পার ফলন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জমিতে নতুন ধানের মৌ-মৌ গন্ধে যেন মূখরিত মৌলভীবাজারের চারিপাশ ভড়ে। কেউ ধান কাটার কাজ করছেন। আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলতি আমন মৌসুমে আনুষ্ঠানিক ভাবে খামার যান্ত্রিকী করণের মাধ্যমে একই জমিতে রোপা আমন ধান রোপনের পর কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে যান্ত্রিক নির্ভর হলে শ্রমিক সংকট থাকবে না। যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে দেখা দেয় শ্রমিক সংকট। অনেকেই সময়তো সোনালী ফসল ধান ঘরে তুলতে পারেনা। এতে অনেক জমিতে ধান ঝরে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি হতাশায় ভূগতে থাকেন। রোপন ও কাটার কাজ যান্ত্রিক হওয়ায় কম খরচে কৃষকরা ফলন ভালো পাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু এলাকায় জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও পাতাকুঁড়ি এগ্রোর সহযোগীতায় খামার যান্ত্রিকী করণের আওতায় রোপা আমন ধানের চারা রোপন ও কর্তনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ লক্ষে মাঠে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে এক আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান, বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সামসুদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কুমার দত্ত, স্থানীয় কৃষি যান্ত্রিকী করণ খামার মালিক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীনসহ অন্যন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নিরোজ কান্তি রায়, স্থানীয় কৃষক বাচ্চু মিয়া, রাজু আহমদ।

পরে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান পুষ্পমাল্যের সাজানো ফিতা কেটে আমন ধান কাটার উদ্বোধন করেন। শেষে তিনি যান্ত্রিক ভাবে উৎপাদিত মাঠের ফসল কম্বাইন হারভেস্টার চালিয়ে কর্তন করেন। খামার যান্ত্রিকী করণের উদ্যেক্তা সৈয়দ উমেদ আলী বলেন, এ বছর ১২৩ বিগা জমিতে হাইব্রিড ও ব্রি ৭৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৮৩ বিগা জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা রোপন করেন এবং ওই জমিতে ধান কর্তন করছেন কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্র দিয়ে। ধান কাটা,মাড়াই ও ঝাড়াই এক সাথে হয়ে যায়।

যে কারনে শ্রমিক কম লাগে। এতে খরছ কমে যায়। শ্রমিক সঙ্কট প্রতি বছরই লেগে থাকে যেকারণে আমরা যন্ত্রের উপর পরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পরেছি। কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার,পাওয়ার টিলার, শেলো পাম্পসহ সবকিছুই ডিজেলের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি ধানের মূল্য যদি আরেকটু বৃদ্ধি করা হয় তাহলে কৃষক উপকৃত হবে এবং কৃষকের আগ্রহ বাড়বে।

তিনি আরও জানান, হাইব্রিড ধান বিজে ফলন ভালো হয়, তবে প্রতি কেজি বিজ ক্রয়করতে হয় ৩‘শ টাকা থেকে ৪৩০ টাকা দিয়ে। বিএডিসি থেকে বিজ ক্রয় করলে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি কেজি বিজের মূল্য। তিনি সরকারি ভাবে হাইব্রিড বিজ উৎপাদন ও কৃষক পর্যায়ে কমমূল্যে বিতরণ করলে উৎপাদন কয়েকগুন বেড়ে যাবে।

স্থানীয় কৃষি যান্ত্রিকী করণ খামার মালিক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীন জানান, যান্ত্রিকী করণের কারণে খরচ কমে গেছে, জমিতে ফলন ভালো হচ্ছে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে কমবয়সী চারা রোপন করা যায়। এতে করে ফলনও ভালো হয়। আগে যে জমিতে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬মন ধান পাওয়া যেত, ওই সব জমিতে ২২ থেকে ২৪ মন ধান এখন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যে জমিতে ধান কাটছি, সে জমিতেই মেশিন দিয়ে চারা রোপণ করেছি। কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্র দিয়ে ধান কর্তন করছি, সেটি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ অনেকটা কমে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক সামসুদ্দিন আহমদ জানান, এবছর বিভিন্ন জাতের ব্রি-ধান ও হাইব্রিড ধান কৃষকরা চাষাবাদ করেছেন। আমন ধান চাষে এ বছর অনুকুল পরিবেশ ও পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি বছর অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরা খুশি।

এ বছর জেলায় আমন ধানের চাষাবাদের জমির পরিমানের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১ লক্ষ ১ হাজার ৪ শত হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজার ৬ শত হেক্টর পরিমাণ জমি। যার সম্বাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ আশা করছে এবছর ৩ লক্ষ মেট্রিক টনের উপরে উৎপাদন হবে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এক ইঞ্চি জমি যাতে খালি পরে না থাকে সে জন্য, কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি ও প্রনোদণা দিচ্ছে সরকার। এতে করে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ জাগছে। নবান্নের এই উৎসবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে রোপা আমণ রোপণ এবং কর্তন অনুষ্ঠানে আমরা এসেছি। এই জমিতে একেবারে অমন রোপণ থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে কর্তন হচ্ছে।

পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের একটি উদাহরণ আমরা দেখেছি। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেমন শ্রম কমেছে, অর্থ ব্যয় যেমন কমেছে, উৎপাদন বেড়েছে। সব কিছু মিলিয়ে কৃষকরা লাভমান হচ্ছেন। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এখান থেকে মৌলভীবাজারের সকল কৃষকদেরকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।

কৃষি বিভাগ জানায় আমন ধান চাষে এ বছর অনুকুল পরিবেশ ও পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি বছর অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নীলফামারীতে কয়লা সংকট সমাধানে ইটভাটা মালিকদের মানববন্ধন

মোঃ রাকিবুল হাসান, নীলফামারী: কয়লা সংকট সমাধানে মানববন্ধন করে ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি জিগজ্যাক । ইটভাটায় ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং কয়লা সংকট সমাধানের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন করেছে জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি । গত রোববার ২৭ নভেম্বর সকালে জেলা প্রশাসক নীলফামারী কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়েছে।

এ সময় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মানববন্ধনে জেলার ৬৪টি ইট ভাটার মালিকসহ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি দেওয়ান সেলিম আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জিগজ্যাগ ভাটার সংখ্যা আট হাজারের অধিক। যাতে পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ দক্ষ শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু কয়লা সংকট ও লাইসেন্স জটিলতায় বন্ধ হচ্ছে অধিকাংশ ভাটা। এতে মানুষ কর্মসংস্থান হারানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিকরা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ ২০৩০ সাল পর্যন্ত যেন জিগজ্যাক ভাটার লাইসেন্স দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কয়লা সংকট দূর করে কম দামে কয়লা সরবরাহেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া।

নতুন প্রজাতির সাপের উদ্ভাবন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: নতুন এক প্রজাতির ‘ঢোঁড়া সাপ’ পেয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে দেশে বিচরণকারী রেকর্ডকৃত সাপের প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৪টিতে। ইতোপূর্বে গবেষকরা বাংলাদেশের সমতল, নদী-বিল-জলাভূমি ও সামুদ্রিক প্রেক্ষাপটে ৯৩টি সাপের বিচরণ রেকর্ড করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন উইংয়ের চারজন গবেষক এ গবেষণা কাজটি সম্পন্ন করেন। এ সম্পর্কিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ সম্প্রতি ২৫ নভেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী বাংলাদেশ জার্নাল অব জুয়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষকরা দেশের প্রথিতযশা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ওই নতুন প্রজাতির সাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন।

ওই চার গবেষক দলের অন্যতম গবেষক ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আদনান আজাদ বলেন, দেশে নতুন প্রজাতির একটি সাপ রেকর্ডভুক্ত হলো। এর নাম ‘দাগিঘাড়-ঢোঁড়া’। এর ইংরেজি নাম Bar-necked Keelback। দেশে সাপটির উপস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহে প্রায় দেড়বছর যাবত ডিপ ইকোলজির গবেষক ও ভলান্টিয়াররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন। এ সাপের বাইটকেস হিস্ট্রিও লিপিবদ্ধ করেন তারা।

তিনি বলেন, গবেষক ও ভলান্টিয়াররা দেশের ১৬টি জেলায় অবস্থিত নদী ও জলাভূমিগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকবার এ সাপটির দেখা পাওয়া গেছে। কিন্তু সাধারণ ঢোঁড়া সাপ মনে করে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি তারা। ২০১৯ সালে বন্যপ্রাণী বিষয়ক একটি বইতে বিশেষ দাগটি তাদের নজরে আসে। এরপর তা অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে ও বিশেষজ্ঞদের দেখানোর পর নিশ্চিত হয়েছেন এটা বাংলাদেশের নতুন জাতের সাপ।

দেশের প্রথিতযশা বন্যপ্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী প্রফেসর ড. মনিরুল খান বলেন, এ সাপটি দেশের যে কয় জায়গায় পাওয়া গেছে তাতে মনে হচ্ছে সারাদেশেই আছে। এ সাপটি অনেকটা আমাদের সাধারণ ঢোঁড়া (Checkered Keelback) সাপের মতোই দেখতে বিধায় অভারলুক (উপেক্ষিত) হয়েছে এতদিন। সাধারণ ঢোঁড়া থেকে এর খুব বড় ধরনের শারীরিক পার্থক্য নেই। তাই এতদিন ধরে সাপটি আমাদের প্রকৃতিতে বসবাস করলেও পৃথক একটি প্রজাতির বলে তাকে চিহ্নিত করা যায়নি। এ সাপটি প্রচলিত নাম নেই, ‘দাগিঘাড়-ঢোঁড়া’ বলা যেতে পারে।

দেশে ইতোপূর্বে এর আগে ৯৩ প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে ঢোঁড়া সাপের প্রজাতি রয়েছে ছয়টি। সম্প্রতি ‘লালঘাড়-ঢোঁড়া’ তালিকাভুক্ত হওয়ায় দেশে সাপের প্রজাতির সংখ্যা এখন ৯৪টি বলে জানান প্রফেসর মনিরুল খান।

ঢোঁড়া সাপ দেশের পরিচিত সাপের মধ্যে অন্যতম। ছোট মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুরসহ ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে এরা খাদ্য শৃঙ্খলের এক অসাধারণ ভুমিকা পালন করে। তবে ক্রমাগত মানুষের আবাসভূমির বিস্তার, কৃষি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, জলাশয় ভরাট করে বসতি স্থাপনে এদের আবাসস্থল সংকোচনের পাশাপাশি জলাভূমি দূষিত হয়ে যাওয়ায় এরা খাদ্য ও আশ্রয় হারিয়ে বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

ফুলবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক বরখাস্ত

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় জেল হাজতে আটক সহকারী শিক্ষক মোতালেব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২০৮৮/৮ নম্বর আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি উপজেলার গোরকমন্ডপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে।

আদেশ সুত্রে জানা গেছে, মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুড়িগ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) অনুযায়ী দায়েরকৃত জিআর ১৯৭/২২ (ফুল) নম্বর মামলায় গত ১৩ই অক্টোবর হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বিধায় বি,এস,আর পার্ট-১ এর ৭৩ নং বিধির নোট-২ অনুযায়ী সরকারী চাকুরী থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত কালীন সময়ে তিনি প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ১৬ টাকার ওষুধ ৫২০ টাকায় বিক্রি!

উল্লেখ্য যে, সহকারী শিক্ষক মোতালেব হোসেন,কর্মস্থলে যাওয়া আসার সুবাদে উপজেলার নাওডাঙ্গা ডিএস দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রীর সাথে বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক মেলামেশা করেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ছাত্রী মোতালেব হোসেনকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন গত ২৪ আগস্ট গভীর রাতে ছাত্রীর বাড়ীতে শালিস বৈঠক ডাকেন । কিন্তু বৈঠকে ছাত্রী ন্যায্য অধিকার না পাওয়ায় তার পিতা বাদী হয়ে পরের দিন রাতে ফুলবাড়ী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় গত ১৩ অক্টোবর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হৃদয় কৃষ্ণ বর্মন জানান, ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বদলীর আদেশও স্থগিত রয়েছে।