পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী গ্রামে যে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে তা ইউক্রেনের ছাড়া অন্য কোনো দেশের বলে কোনো তথ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই বলে জানিয়েছে দেশটি। গতকাল বুধবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপত্র অ্যাড্রিনে ওয়াটসন এক বিবৃতিতে একথা বলেন। 

অ্যাড্রিনে ওয়াটসন বলেন, পোল্যান্ডের ভেতরে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও স্বাভাবিকভাবেই তার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করছে ওয়াশিংটন।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক কৌতুক অভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি পীড়াপিড়ি করছেন যে, এই ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ঘটনার সঙ্গে তার দেশ জড়িত নয়। ওয়াটসন বলেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা যাচাই-বাছাইয়ের পর এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দ্বিমত নেই। ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ভাগ্যজনকভাবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে পড়েছে বলে দুদা জানিয়েছেন।

মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো তদন্ত করবে না বরং পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে যে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে তার ওপরই নির্ভর করবে। তিনি বলেন, পোল্যান্ড ও ইউক্রেন-দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই দেশের ওপরে সম্পূর্ণভাবে আস্থা রয়েছে।

এছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ঘটনার ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানিয়ে দেয়া হবে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পার্সটুডে।

ফুলবাড়ীতে দিনভর থানা হেফাজতে থেকে বিয়ে করে মুক্তি পেল যুবক

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ গভীর রাতে বিধবা নারীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত আবুবকরের ছেলে এনামুল হক(৪০)। ৯৯৯ মারফত সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ১৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সারাদিন থানা হেফাজতে রাখা হয় তাকে। তারপর এলাকার মাতব্বররা দিনব্যাপি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ রফা করার চেষ্টা করলেও বিয়ের দাবীতে অনড় থাকেন ওই বিধবা নারী।  দিনশেষে বিয়েতে রাজী হলে যুবককে ১৬ নভেম্বর রাতে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, বড়লই মিয়াজি পাড়া গ্রামের মৃত ফজলুল হকের বিধবা কন্যা ঝরনা বেগম (৪০) এর সাথে দীর্ঘদিন থেকে পাশ্ববর্তী ফকিরপাড়া গ্রামের এনামুল হকের পরকীয়া প্রেম চলছিল। এ অবস্থায় গত সোমবার রাতে পরকীয়া প্রেমিকার সাথে মেলামেশা করতে গেলে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে  আটক হন তিনি।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহাবুল হক বলেন, আমি উপস্থিত ছিলাম না, শুনেছি ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে রাতেই তাদের বিয়ে হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সারওয়ার পারভেজ জানান, ওই নারীর অভিযোগ না থাকায় এবং ছেলে বিয়েতে রাজী হওয়ায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ছেলেকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে রাতেই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এখন তারা স্বামী – স্ত্রী।

বৈশাখী টিভির বগুড়া সংবাদদাতা নিউজ করেতে গিয়ে নিজের জীবনাবসান

সাবিক ওমর সবুজ বগুড়া প্রতিনিধিঃ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৈশাখী টেলিভিশনের বগুড়া সংবাদদাতা কমলেশ মোহন্ত সানু মারা গেছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

গত শুক্রবার  নিউজ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

আজ দুপুরে বগুড়ার ফুলবাড়ি মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। কমলেশ মোহন্ত সানু’র অকাল মৃত্যুতে বৈশাখী পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিইউজে) নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার বগুড়ার ছিলিমপুরে বাসের ধাক্কায় কমলেশ মোহন্ত শানু গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

তার অকাল মৃত্যুতে  শোকাবহ জেলার সাংবাদিক,সেচ্ছাসেবীরা ও সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সপ্তম শ্রেণীর রহিম আহমদ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বর্ণি ইউপির উত্তর বর্ণি গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত রহিম বর্ণি ইউপির পাকশাইল গ্রাম মৃত হোসেন আহমদের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রহিম আহমদের বাবা-মা নেই। সে উত্তর বর্ণি গ্রামের নানা বাড়ি থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খাবার খেয়ে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে রহিম। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়মত রহিম ঘুম থেকে না ওঠায় তার খালা শয়নকক্ষের জানালা খুলে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে রহিমের দেহ ঝুলছে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, ‘লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে পাচারকালে ট্রলিসহ ৮০ বস্তা সার জব্দ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার আবাদ তাকিয়া মাদ্রসা মোড় হতে বুধবার (১৬ নভেম্বর) রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্রিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কৃষি অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন প্রকারের ৮০ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করা হয়। পরে সার বিক্রেতা মেসার্স মুনজুর টেড্রাসের মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ (ত্রিশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। 

জান গেছে, উপজেলার মনিশগাঁও বাজারের মের্সাস মনজুর ট্রেডার্সের মালিক মনজুর আলম নিধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুড়া মাহাত পাড়া গ্রামের সার ব্যাবসায়ী ফজিরউদ্দীন ও মনতাজ আলীর কাছে ৭৫০ টাকার পটাশ ১৫০০, ১১০০ টিএসপি ১৬৫০,  ১১০০ ইউরিয়া ১২৫০, ৮০০ ডিএপি ৯০০ টাকায় বিক্রি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্রিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্রজিতসাহা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবের আলম, উপ-সহকারি কর্মকর্তা মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রলিসহ ৮০ বস্তা সার জব্দ করে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ মুঠোফোনে বলেন, মনিশগাঁও বাজারের মের্সাস মনজুর ট্রেডার্সের মালিক মনজুর আলমের সার বিক্রি করার কোন বৈধতা নেই, তার পরেও সে সার কোথায় পেল এবং সে সার আবার চড়া দামে বিক্রি করলো এটা খতিয়ে দেখা হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্রজিত সাহা এদিন রাত ৯ টায় জানান, পাচার করার সময় ৮০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। পরে মেসার্স মুনজুর ট্রেডার্সের মালিককে নিয়ম বর্হিভূতভাবে চড়াদামে সার বিক্রির অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: এ উপজেলায় কতিপয় অবৈধ সার ব্যবসায়ী চক্র কৃষি অধিদপ্তরের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় চড়াদামে সার পাচার করে আসছে মর্মে অনেকে জানান।

শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে চিনি বিক্রি ও ৩৫ বস্তা চিনি মজুদ রাখার কথা অস্বীকার করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তা আদায় করা হয়। 
বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের মৌলভীবাজার রোডস্থ ও সেন্ট্রাল রোডে র‌্যাব-৯ ফোর্সের সহযোগিতায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মৌলভীবাজার রোডস্থ আদি ভান্ডারকে অতিরিক্ত (৩৫ বস্তা) চিনি মজুদ করে রেখে অস্বীকার করায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সেন্ট্রাল রোডস্থ মেসার্স প্রাণ গোপাল বাণিজ্যালয়কে নির্ধারিত মূল্য তালিকা থেকে বেশী দামে চিনি বিক্রয় করা এবং ক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করাসহ দোকান এক নামে আর রসিদ অন্য নামে থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ এবং তা আদায় করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন সাংবাদিকদের বলেন, শ্রীমঙ্গলের পাইকারী বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি, বিশেষ করে চিনি এবং তেলের উপরে। আমরা শুনেছি, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যে চিনির একটা সংকট দেখা দিয়েছে। একই সাথে সয়াবিন তেলের ও সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমরা অভিযানে দেখলাম চিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে এবং তেলও রয়েছে। আমরা অনিয়ম পেয়েছি, অনেকে মাল বিক্রির ভাউচার দিচ্ছেন না এবং ভাউচার দিলেও সেটা পাকা মেমো না, কাঁচা মেমো। উনাদের মূল্য তালিকার চেয়েও বেশী মূল্যে চিনি বিক্রি করছেন। এখানে আমরা কারসাজি দেখেছি। এই কারণে সেন্ট্রাল রোডের এক পাইকারী ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার ও মৌলভীবাজার রোডের এক পাইকারী ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। আজকের অভিযানে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়েছে। আগামীতে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ও অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলায় ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে মাদকাসক্তির প্রতিকার নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা সদর উপজেলায় একতা যুব সংগঠনের উদোগে  ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে মাদকাসক্তির প্রতিকার নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬ নভেম্বর সকালে নেত্রকোণা সদর উপজেলার সাজিউড়া একতা যুব সংগঠনের উদ্যোগে সাজিউড়া মফিলা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০০ জন ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্পদ ব্যাক্তি ফজলে রাব্বি, মো হারুন মিয়া, শিক্ষক রঞ্জন কুমার,বারসিক কর্মকর্তা রুখসানা রুমী,তহুরা আক্তার মাদকাসক্তির প্রভাব, লক্ষন, কান, প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করেন। যখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখন তার মধো কিছু কিছু চিহ্ন পরিলক্ষিত হয় যেমন আচার-আচরণ পরিবর্তন, রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না।দিনের দিন ঝিমাচ্ছে, গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা কাজের কোন মনোযোগ থাকে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা লিপ্ত থাকে,ঘরের বাহিরে যাওয়া প্রবনতা বেশি থাকে।আর্থিক চাহিদা বাড়তে থাকে তখনই বুঝতে হবে মা বাবার। মাদকাসক্তির প্রভাব ব্যাক্তিগত পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে অধপতন পরিলক্ষিত হয়।মাদকাসক্তি প্রভাবে যুবকদের নৈতিক অধপতন সঙ্গে সঙ্গে সমাজে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত ব্যাক্তিরা স্বভাবিক জীবন বিসর্জন দিয়ে অকালে মৃত্যু বরন করে এমনকি আত্মহত্যা পথ বেছে নেয়। শিক্ষক রঞ্জন কুমার মাদকাসক্ত ব্যাক্তিরা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।আমাদের তরুণরা এখন ভয়াবহ মাদকাসক্তি শিকার হচ্ছে। তাই যুব সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্ত প্রতিরোধে কাজ করতে।

যুব হারুন মিয়া বলেন, আমাদের যুব সংগঠন বিকালে প্রতিদিন খেলা ধুলার আয়োজন করতে হবে। মাদকাসক্তি গ্রাস যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। এবং মাদক ক্ষতিকর দিক গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

কড়া নাড়ছে ম্যারাথন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বছর ঘুরে ডাক দিয়েছে মৌলভীবাজারে আবার শুরু হয়েছে হাফ ম্যারাথনের আয়োজন। এবারের আয়োজনে সাড়ে ৬০০ দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে অনেক বিদেশিও অংশ নেবেন। আছেন নারীরাও। এবারের আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে বেঙ্গল কনভেনশন হল মৌলভীবাজার হাফ ম্যারাথন-২০২২।

মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাব ও মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটি যৌথভাবে এ ম্যারাথনের আয়োজন করছে। প্রতিবারের মতো পর্যটন জেলার সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চান আয়োজকেরা। আগামী ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই হাফ ম্যারাথন।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা–পরবর্তী সময়ে অনেকের মধ্যে নানা রকম বিষণ্নতার তৈরি হয়েছে। সাধারণ জীবন যাত্রা চলাচলের অনেকের মধ্যে স্থবিরতা এসেছে। এই অবসাদ, স্থবিরতাকে ভেঙে দিয়ে আবার সবাইকে চাঙা করে তোলাই এই ম্যারাথনের উদ্দেশ্য। এই চায়ের দেশ এই জেলার সৌন্দর্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও ম্যারাথনের অন্যতম একটা প্রধান দিক। তবে এর সঙ্গে এবার যুক্ত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা।

সেই লক্ষ্যে এবার হাফ ম্যারাথনে মৌলভীবাজার জেলার মানচিত্রের ভেতর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধের ছবি–সংবলিত টি-শার্ট ও মেডেল তৈরি করা হয়েছে। এই স্মৃতিসৌধটি রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে। এ ছাড়া ম্যারাথন উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র।

আয়োজক ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়েছিল। ৭ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়ে গেছে। নিবন্ধন ফি ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। ১৮ নভেম্বর সকাল সোয়া ছয়টায় উপজেলা শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কের বেঙ্গল কনভেনশন হল থেকে এই দৌড় শুরু হবে। দুই রকম দূরত্বে এই দৌড় হবে। এর একটি ১০ কিলোমিটার দূরত্বের। এই দূরত্বের অংশগ্রহণকারীরা শহরতলির কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা বাজারের দক্ষিণ প্রান্ত ছুঁয়ে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে ফিরবেন।

অপরটির দূরত্ব হবে ২১ দশমিক ১ কিলোমিটারের। এই দূরত্বের অংশগ্রহণকারীরা প্রেমনগর চা-বাগান থেকে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে ফিরে আসবেন। এই হাফ ম্যারাথনকে সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও সফল করতে তৈরি হচ্ছেন ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এক কিলোমিটার পরপর পানির বুথ, সড়কের বিভিন্ন মোড়ে দৌড়ের দিকনির্দেশনা, প্রাথমিক চিকিৎসার কাজে এঁরা নিয়োজিত থাকবেন।

মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ইমন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। চার দিনেই রেজিস্ট্রেশন শেষ হয়ে গেছে। এখনো অংশ নিতে অনেকে অনুরোধ করছেন। কিন্তু আয়োজন সুশৃঙ্খল রাখতে আমরা নতুন করে কাউকে আর নিচ্ছি না।’

সাইক্লিং কমিউনিটির আরেক অ্যাডমিন সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ‘এবার হাফ ম্যারাথনের তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হবে। মহামারী করোনার পর কয়েকটি লক্ষ্য নিয়ে আমরা এই হাফ ম্যারাথনের আয়োজন করেছি। বিশেষ ভাবে গুরুত্ব বহন করবে ও এই ম্যারাথন উৎসর্গ করা হবে রীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান এর নামে। অন্যান্য  দিক ও এসবে প্রাধান্য পাবে সেগুলো হলো মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে তুলে ধরা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুরক্ষায় দৌড়ের উপকারিতা প্রচার এবং জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সবার সামনে উপস্থাপন করা।’

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর / মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

বাঞ্ছারামপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মো .নাছির উদ্দিন-বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ এর বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলানায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার ভূমি মো.কাজী আতিকুর রহমান।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তৌহিদ এর সভাপতিত্বে ও বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উজানচর কংশ নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধর,উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,বিভিন্ন মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি,শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসাবে উজানচর কংশ নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়  নির্বাচিত হয়েছেন।  বাঞ্ছারামপুর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন উজানচর কংশ নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মো.আশাদুজ্জামান বিএ, বিএড, বিপিএড, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে পুরস্কার ও সনদ গ্রহন করেন।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উজানচর কংশ নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়ের ২জন শিক্ষার্থী কবিতা আবৃতি ও উপস্হিত বক্তৃতায়  শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া অন্যান্য বিজয়ীদের মাঝে ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর / মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

স্ত্রী শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঙ্গলবার ব্যতিক্রমী একটি যৌতুক মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি করেছেন উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত নুরুল ইসলাম। এই যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় তিনি স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চার জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে স্ত্রী লিপি বেগম, শ্বশুর মনির উদ্দিন ও শাশুড়ি হোসনা বেগমের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস ফেরত নুরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ানীবাজার উপজেলার গয়লাপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের মেয়ে লিপি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করে লিপি বেগম পিত্রালয়ে চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রতি মাসে তিনি স্ত্রীর কাছে ১০ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। গত ২৮ আগস্ট নুরুল ইসলাম দেশে ফিরছেন জানিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে আসতে বলেন। দেশে আসার ১৫ দিন পূর্বে লিপি বেগম কৌশলী হয়ে স্বামীর বাড়ি এসে বসবাস শুরু করেন। গত ২০ আগস্ট লিপি বেগম স্বামীকে বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করার কথা বলে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা নিয়ে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি লিপি।

প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরে নুরুল ইসলাম স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজখবর করে জানতে পারেন তিনি তাকে আনতে গিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে পিত্রালয়ে চলে গেছেন। তিনি আর ফিরবেন না। স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন- ৩ লাখ টাকা যৌতুক দিলে স্ত্রীকে স্বামীর সংসারে ফেরত পাঠাবেন।

বড়লেখার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকরাম হোসেন জানান, স্ত্রী ও তার পিত্রালয় পক্ষের যৌতুক দাবির ব্যাপারে স্বামীর দায়েরকৃত মামলায় আদালত ৪ আসামির মধ্যে স্ত্রীসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।