রাণীশংকৈল দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ “উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ‍‍”এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। 

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন শাহরিয়ার আজম মুন্না।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ, ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল, উপজেলা আইসিটি সহকারী প্রোগ্রামার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, উপজেলা মহিলা আ.লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম,  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৈয়ব আলী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাহিমউদ্দিন, মৎস অফিসার, রাকিবুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমি আকতারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান মিলে মেলায় মোট ১৭ টি স্টলে তাদের ডিজিটাল উদ্ভাবনী ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। এদের মধ্যে বিদ্যূৎ বিভাগ, কৃষি দপ্তর ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর এই তিনটি স্টলকে শ্রেষ্ঠ স্টল হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম।

বিড়াল হত্যার দায়ে শাস্তি দিলেন বন আদালত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় মামুন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছেন আদালত। বিড়ালটি হত্যার এক বছর বিচারিক কার্যক্রম পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

আদালত সূত্র মতে জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেওয়া হলো। মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান গত সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরে মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান।

বন বিভাগ অধিদপ্তর বন মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন বুধবার সাজার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামুন মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপজেলার কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সে সূত্রের জের ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা পুলিশ।

বন বিভাগের বন মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথমবারের মত জরিমানা করা হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যায় সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

লোহাগাড়ায় বন্য প্রাণী উদ্ধার

মোঃ মিনহাজ উদ্দীন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথ অভিযানে মহা বিপন্ন প্রজাতির তিনটি প্রাণী উদ্ধার হয়েছে। গতকাল রাতে চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন লোহাগাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান।

এ ঘটনায় এরশাদ নামের এক জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আটককৃত এরশাদ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দক্ষিণ পাড়ার নোয়াব মিয়ার ছেলে।

উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সজারো ও দুইটি লজ্জাবতী বানর। উদ্ধার করা প্রত্যেকটি প্রাণীই বিলুপ্ত প্রজাতির।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন লোহাগাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, চুনতি অভয়ারণ্য  বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ হোসেনসহ থানা ও বন রেঞ্জ এর কর্মকর্তারা।

লোহাগাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর জানান,গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে  চেক পোস্ট বসিয়ে বন্য প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।

চুনতি অভয়ারণ্য  বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ হোসেন বলেন,উদ্ধার করা প্রত্যেকটি প্রাণীই বিলুপ্ত প্রজাতির। উদ্ধার অভিযান শেষে প্রাণীগুলো চুনতি অভয়ারণ্যে রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো অবমুক্ত করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং নিষিদ্ধ প্রসাধনী বিক্রি বন্ধে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেই লক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন এর নেতৃত্বে র‌্যাব-৯ এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার, কুলাউড়া রোড, মৌলভীবাজার রোড, রবিরবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ও বাজারে মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

উক্ত তদারকি অভিযানে প্রতিশ্রুতি অনুসারে পণ্য বিক্রয় না করা, নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রসাধনী বিক্রয় করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য সংরক্ষণ ও তৈরি করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারে অবস্থিত বিসমিল্লাহ ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকা, কুলাউড়া রোডে অবস্থিত দূর্জয় ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকা, রবিরবাজার রোডে অবস্থিত ডায়মন্ড বেকারীকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। অভিযানে মোট ৩ টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়। জেলা সহকারী পরিচালক মোঃ আল আমিন বলেন আমাদের এই অভিযান প্রতিনিয়ত চলমান থাকবে, আমাদের পাশাপাশি সকল’কে সচেতন হতে হবে।

সিলেট কারারক্ষী নিয়োগে জালিয়াতি; হাইকোর্টের রুল

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সিলেট কারাগারে আরেকজনের পরিচয়ে কারারক্ষীর চাকরি করা জহিরুলকে সরিয়ে প্রকৃত জহিরুলকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে সারাদেশের কারাগারে কারারক্ষী পদে ৮৮ জনের নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এক মাসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আইজি প্রিজন্সকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। সঙ্গে ছিলেন মো. আবুল কালাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

জানা যায়, ২০০৩ সালে কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কুলাউড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এশু। নিয়োগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়েছিল। কিন্তু পরে আর যোগদানপত্র না পাওয়ায় চাকরির আশা ছেড়ে শহরে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পর জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ওই পদে আরেকজন চাকরি করছেন। এরইমধ্যে জালিয়াতির বিষয়টির তদন্তেও সত্যতা পাওয়া যায়।

সিলেটের কারা উপ মহাপরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল সুপার ইকবাল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে।

এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম এশু চাকরি ফিরে পেতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। রিটে কারারক্ষী পদে আবেদনকারীর যোগদানপত্র গ্রহণে এবং আবেদনকারীর পদে চাকরি করা অন্য জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কেন ৫ বিবাদীকে নির্দেশনা দেওয়া হবে না, মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। রিটে বিবাদী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপ মহাপরিদর্শক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, কারারক্ষী হিসেবে চাকরিরত জহিরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুইশ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের জাল-জালিয়াতি বা একজনের স্থলে আরেকজন শারীরিকভাবে কাজ করছেন বলে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর এ বিষয়গুলো তদন্ত করে ২০০ জনের মধ্যে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ জন পাওয়া গেছে, তারা প্রকৃত ব্যক্তির পরিবর্তে কর্মরত। আবার অনেকে রয়েছেন তারা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, যেটা ওনাদের প্রকৃত ঠিকানা নয়। আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতি করেছেন। এটি ফৌজদারি অপরাধ। এরইমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় খেরসনে নিযুক্ত রুশ গভর্নরের রহস্যজনক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দখলকৃত খেরসনে প্রাণ হারিয়েছেন রাশিয়া নিযুক্ত ডেপুটি গভর্নর কিরিল এস্ত্রেমোসোভ (৪৫)। আজ বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) এক রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে রাশিয়া এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। খবর বিবিসির। 

কিরিলের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়িতে করে খেরসন থেকে আরমিয়ানস্কে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি লরি কিরিলের গাড়িটিকে পিষে দেয়। তিনি দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি তাদের।

এদিকে, ঘাতক লরির গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রুশ প্রশাসন। কিরিল জেলেনস্কি প্রশাসনের পরিকল্পিত হত্যার শিকার বলেও ইঙ্গিত তাদের।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন কিরিল। এর আগে, জেলেনস্কি প্রশাসন ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবেও আখ্যা দেয় তাকে।

পাওনা টাকার জেরে হত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলউড়ায় মুন্সি জয়নাল মিয়া হত্যা মামলার মূল আসামি মো: মসনবী উর রাহিম প্রকাশ মুছা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।

আজ বৃৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) কুলাউড়া থানা পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গৌরাং গোলা গ্রাম থেকে মুন্সি জয়নাল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: মসনবী উর রাহিম মুছাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুছ ছালেক এর দিক নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: নাঈমুল হাসান তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে মামলার অপর আসামি শরীফ মিয়া ও মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। কুলাউড়া থানা সুত্রে জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা  পৌনে ৬টার দিকে মামলার প্রধান আসামি পাঁচ পীর গ্রামের সামসুল আলমের ছেলে মো: মসনবী উর রাহিম মুছা জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজারে ফল ব্যবসায়ী মুন্সি জয়নাল মিয়াকে কুলাউড়ার জয়চন্ডি ইউনিয়নের রঙ্গিরকুল গ্রামের নয়াবাগিচা মোস্তফা মিয়ার বাংলোর পাশে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেও পরে পেটে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা মুন্সি জয়নাল মিয়াকে উদ্ধার করে কুলাউড়া সদর হাসপাতালে নেওয়অর পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত মুন্সি জয়নাল মিয়ার ছেলে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত মুন্সী জয়নাল মিয়ার কাছে টাকা পাওনার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয় বলে আটক আসামিরা কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

রাষ্ট্রীয় খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

জাতীয় ডেস্কঃ বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার (৯ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. তৌহিদুল ইসলামের সই করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অর্থায়নেও সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

তবে বৈদেশিক সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্কলারশিপ, ফেলোশিপের আওতাধীন মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়ন এবং বৈদেশিক সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগীর আমন্ত্রণে ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত বিশেষায়িত পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সীমিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

জনবল সংকট নিয়ে প্রকৌশলী বিভাগ যেন পঙ্গুত্বের শিকার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জনবল সংকটে পঙ্গুত্ব নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। অফিসে কর্মকর্তা/কর্মচারীর শূন্য পদ থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত ব্যাহতের পাশাপাশি প্রত্যাশিত সেবাবঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলীসহ ২১টি পদের ১০ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় পঙ্গুত্ব বরণ করে চলছে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কার্যক্রম। যার কারণে অফিসের টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রকল্পের কার্যক্রম প্রস্তুতসহ নিয়মিত কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে সেবাপ্রত্যাশীরা একদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে এলাকাবাসী হচ্ছে সেবাবঞ্চিত।

শূন্য পদগুলোর মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য, উপ-সহকারী প্রকৌশলী তিনজনের মধ্যে একজন, হিসাব সহকারী একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য, অফিস সহকারী একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য, কম্পিউটার অপারেটর একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য, কার্য সহকারী পাঁচজনের মধ্যে তিনজন, নৈশপ্রহরী একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য ও কমিউনিটি অর্গানাইজার একজনের স্থলে একটি পদ শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা বলেন, কুলাউড়া বৃহৎ একটি উপজেলা। জনবল সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত সেবাবঞ্চিতের পাশাপাশি কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। শূন্য পদগুলোতে জনবল দেয়ার জন্য এলজিইডির সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

এলজিইডির সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নির্মল কুমার বিশ্বাস বলেন, এলজিইডিতে এমনিতেই জনবল সংকট রয়েছে। আশাকরি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর / মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

চিলাহাটি রেলস্টেশন পরিদর্শন করলেন ভুটানের প্রতিনিধি দল

মোকাদ্দেস লিটু, ডোমার, (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও ঢাকা-মংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চিলাহাটি রেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন ভুটানী প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের সাথে বানিজ্য সম্প্রসারণ ও একই সাথে খরচ কমাতে চিলাহাটি থেকে মংলা পর্যন্ত রেলপথ ব্যবহার করতে চায় ভূটান। আজ ১০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চিলাহাটি রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন। তারা অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ঢাকা-মংলা থেকে মালামাল স¦ল্প সময়ে ও সুবিধাজনক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বচক্ষে দেখেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় তারা বলেন, অবকাঠামোগত কাজ শেষ করা গেলে এই রেলপথ দিয়ে বানিজ্যের বড় সম্ভবনা তৈরি হবে। একই সাথে চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করা গেলে এই সম্ভবনা আরও বেশি গতি পাবে। ভবিষ্যতে ভুটান ঢাকা ও মংলা পোর্ট থেকে পন্য পরিবহনে চিলাহাটি শুল্ক ও স্থলবন্দর ব্যবহার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে ভারত থেকে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহি মিতালি এক্সপ্রেস এবং পণ্যবাহী রেল চিলাহাটি স্টেশন হয়ে বাংলাদেশে চলাচল করছে। তবে বাংলাদেশের সাথে বানিজ্য সম্প্রসারণে এবং খরচ কমাতে এই রেলপথ ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ভূটান।

বর্তমানে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সড়ক পথে পণ্য আমদানি রপ্তানি হচ্ছে। তবে চিলাহাটি রেলপথ ব্যবহার করা গেলে মংলা বন্দরের দুরত্ব যেমন কমবে একই সাথে অনেক বেশি পণ্য আনা নেয়া করা যাবে। ফলে খরচ ও দুরত্ব দুইই কমবে। আর সে কারনে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বানিজ্য সম্প্রসারনে এই রেলপথ নতুন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিচ্ছে।

আজ সকালে এডিবির একজন বিশেষজ্ঞকে সাথে নিয়ে ভূটানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল চিলাহাটি স্টেশন পরিদর্শন করেন। এসময় লুপ লাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এর আগে রেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তারা একটি বৈঠক করেন। পরিদর্শন শেষে ভূটান প্রতিনিধি দলের পক্ষে সফরে আসা এডিবি কনসালট্যান্ট ফিরোজ আহম্মেদ জানান, এই রেলপথ ব্যবহার করা গেলে মংলা বন্দরে সহজে বানিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। এসময় চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করা গেলে বানিজ্যের ক্ষেত্র বাড়বে।

রেলবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে যে লুপ লাইন রয়েছে সেটির ধারন ক্ষমতা ৬০০ মিটার থেকে ৭৫০ মিটার করা হচ্ছে। যার কাজ দ্রত শেষ হবে। এটি শেষ হলে ৫০ টি পর্যন্ত পণ্যবাহী ওয়াগন রাখা সম্ভব হবে।

এসময় চিলাহাটি স্টেশনে ভূটান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমল প্রধান; বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস; বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক পাকশি শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ; প্রকল্প পরিচালক চিলাহাটি হলদিবাড়ি রেলপথ প্রকৌশলী আব্দুর রহিম; উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রমিজ আলম, ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মাহমুদ উন নবী, বিজিবি কর্মকর্তা, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মশিউর রহমান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। চিলাহাটি রেস্ট হাউসে রেলকর্মকর্তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে তারা বুড়িমারী রওয়ানা দেন।