ইকুয়েডরে কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের একটি কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বন্দি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির অন্যতম বিপজ্জনক গুয়াকিল শহরের কারাগারে দু’টি অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইকুয়েডরে কারাগারে দাঙ্গা ও প্রাণহানির ঘটনা খুবই সাধারণ। তবে, দেশটির কারাগারে সহিংসতার কারণ হিসেবে অপরাধীদের শাস্তি ব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলাকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে মাদকের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইকুয়েডর। প্রচুর অর্থ থাকার কারণে ইকুয়েডরের বন্দর এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের প্রভাব বাড়ছে। এসব সন্ত্রাসীগোষ্ঠী মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত।

মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়মিত গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। এসব সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কারাগারের মধ্যেও এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক পাচারের রুট নিয়ে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে।

বেপ‌রোয়া অ‌টো‌রিক্সায় কে‌ড়ে নিল স্কুল শিক্ষার্থীর প্রান!

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ প্র‌তিটা প‌রিবা‌রে মা বাবার স্বপ্ন থা‌কে শন্তান বড় হ‌বে, স্কু‌লে যা‌বে প্রকৃত শিক্ষার আ‌লোয় আ‌লোকিত হ‌বে প‌রিবার, সমাজ তথা‌পি শন্তা‌নের জীবন। কিন্তু সেই  স্বপ্ন য‌দি উড়ন্ত ছি‌লের মত থাবা দি‌য়ে বি‌লিন ক‌রে দেয় তার ছে‌য়ে বড় বেদনার আর কিছু হ‌তে পা‌রে না। আধু‌নিক ডি‌জিটাল জামানায় কর্মজীব‌নে এস‌ছে অ‌নেক প‌রিবর্তন সা‌থে বে‌ড়ে‌ছে বিপ‌ত্তি ও। বল‌ছিলাম ব্যাটা‌রি চা‌লিত অ‌টো‌রিক্সার কথা। যার নিয়ন্ত্রন বল‌তে কিছুই নেই  ম‌নে হয়। প্র‌তি‌নিয়ত কোথাও না কোথাও ঘটা‌চ্ছে দুর্ঘটনা, সা‌থে ঘট‌ছে প্রানহা‌নি।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপ‌জেলা‌ধিন উত্তর চরবংশ‌ী ইউ‌নিয়‌নের খা‌শের হা‌টে নিয়ন্ত্রনহীন অ‌টো‌রিক্সা মূহ‌র্তের ম‌ধ্যে কে‌ড়ে নিল শিশু স্কুল শিক্ষার্থী জা‌মি‌লের প্রান, সা‌থে কে‌ড়ে নি‌য়ে‌ছে এক‌টি প‌রিবা‌রের স্বপ্ন।

বাড়ী থেকে স্কুলের সামনে দাঁড়ায় শিশু জামিল। তাৎক্ষনিক একটি অটোরিকশা এসে ধাক্কা দেয় তাকে। এসময় ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্নক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সাথে সাথে হাসপাতাল নেওয়ার পর মারা যায়। স্বজনদের মাঝে শোক বইছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ এ‌প্রিল) সকালে খাসেরহাট বাজারের পাশে ব্রাইট স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিন বাদ আছর পর নিহত শিশু জামিলকে দাফন করা হয়।

নিহত শিশু জামিল চরবংশী গ্রামের মাঝি বাড়ির জাকির মাঝির ছেলে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিশু জামিল বাড়ি থেকে বের হয়ে খাসেরহাট ব্রাইট স্কুলের সামনেএসে দাঁড়ায়।  এ সময় বেটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মাথায় সে গুরুতর জখম হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রায়পুর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’

অনলাইন ডেস্কঃ আজ ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ বা স্বামী সমাদরের দিন। স্বামীর শ্রম, সময় এবং কাজকে মূল্যায়ন করার ভাবনা থেকেই উৎপত্তি হয় এই দিনের। স্বামীর কাজের মূল্যায়নের এই দিবস ঠিক কবে, কোথায় পালন শুরু হয়েছিল, তা বলা কঠিন। সাধারণত প্রতিবছরের এপ্রিলের তৃতীয় শনিবার এটি পালিত হয়।

স্বামী সমাদরের এই দিবসে সমাদর পেতে স্বামীর ভেতর বেশ কিছু গুণ থাকা জরুরি। যেমন স্বামী অত্যন্ত পরিশ্রমী হবেন, তিনি একজন নিঃস্বার্থ প্রেমিক ও বন্ধু হবেন, স্ত্রীকে খুশি রাখতে পারবেন, হাসাতে পারবেন এবং স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে হবেন যথেষ্ট সহায়ক ও আন্তরিক। এই পর্যায়ে স্বামীদের বলছি, কতগুলো বিষয় আছে, যা স্ত্রীদের বিরক্তির উদ্রেক করে। সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

প্রিয়তম স্বামীর জন্য আজকের দিনে তাঁকে কোনো উপহার দিতে পারেন। তাঁর পছন্দের কোনো খাবার রান্না করে খাওয়াতে পারেন।

সবশেষে আরেকটি তথ্য দিয়ে রাখছি। মাস কয়েক পরই আসছে ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ অর্থাৎ স্ত্রী সমাদর দিবস। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শনিবারে এই দিবস। ফলে স্ত্রী সমাদরের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে পারেন দায়িত্বশীল স্বামীরা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে তিনি সুস্থ আছেন। আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির ওয়াকাইয়ামা শহরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওয়াকাইয়ামা শহরের সমাবেশে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি মঞ্চে ওঠার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। তবে, নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতার কারণে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ফুমিও কিশিদাকে ছোড়া বোমাটি প্রাণঘাতী ছিল না। সেটি ‘স্মোম বোম্ব’ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের বোমায় ব্যাপক পরিমাণে ধোঁয়া সৃষ্টি হলেও বিস্ফোরণজনিত ক্ষয়ক্ষতি হয় না।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে একটি সভায় বক্তব্য দেওয়া সময় জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এখন করনীয়:

টানা তৃতীয় মেয়াদ পূর্ন করতে চলেছে সরকার। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে সরকার ব্যপক উন্নয়ন করেছে দেশে। যে কোন সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ এখন ভাল অবস্থানে। যে উন্নয়ন দেশে হয়েছে তা অন্য কোন সরকার করতে পারেনি। কিন্তু এতসব উন্নয়ন করেও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয় কেন? কেন সরকারকে উৎখাতের ডাক দেয় বি এন পি? কেন বলাবলি হয় সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০ টার বেশী আসন পাবেনা! সত্যই কি দেশের অবস্থা এই রকম? তাহলে জনগন কাকে নির্বাচিত করবে এবং কেন? বিষয়টি ভাববার সুযোগ রয়েছে!

প্রথম কথাটি হলো সরকারের কাছে দেশের জনগনের চাওয়াটি কি? কোন ব্যক্তিকে আর্থিক সুবিধা করে দেওয়া সরকারের কাজ নয়। সরকার দেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে এবং সেটাই করেছে। দেশের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের দ্বিতীয় দ্বায়িত্বটি হলো দেশকে উন্নয়নমূখী করে গড়ে তোলা। বর্তমান সরকার সফলতার সঙ্গেই তা করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েগেছে। বিরোধী দল এই সাফল্যকে তাদের ব্যর্থতা হিসাবে অনুমান করেছে। রাজনীতির কারনে এই সাফল্যকে সরকারের ব্যর্থতা বলে প্রচারনা চালিয়েছে। জনগন তাদের এই প্রচারনাকে গ্রহন করেনি। সত্যটি জেনে বিরোধী দলের সংগে সম্পৃক্ত হয়নি-সমর্থনও করেনি। এখন বিরোধী দলের প্রচার মাধ্যম যে সব প্রচারনা চালাচ্ছে তা’ও সত্য নয়।

কিন্তু বাস্তবতাটি হলো সরকারী দলে ভীতি আছে। এবং নিজ দলের মধ্যেই ভীতিটি সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ভীতিটি হলো দলে ঢুকে পরা অসাধু রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই বনিয়ারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে গেছে। এই দুর্নীতিবাজ বনিয়ারাই দলের সুনাম নষ্ট করেছে আর বিপুল অর্থ বিলিয়ে ত্যগী নেতা কর্মীদেরকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। ত্যগী কর্মী বাহিনীকে নেতৃত্বের কাছ পৌছতে দেয়নি। এখন বেশীরভাগ এলাকায় এরাই দলকে নিয়ন্ত্রন করে।

রাজনৈতিক বনিয়ারা এখন নেতৃত্বও চায়। দলের মনোনয়ন চায় আগামী নির্বাচনে। অর্থ বিলানো শুরু করে দিয়েছে। এই বনিয়াদের দ্বিতীয় গ্রুপটি মনোনয়ন চায়না। তারা নেতৃত্বকে টাকা দিয়ে কিনে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে চায়। আরেকবার সরকার গঠন করলে এরাই হবে দলের মূল বেনিফেশিয়ারী। রাজনৈতিক বনিয়াদের অর্থ পেতে নীতিনির্ধারকরাও পিছিয়ে নেই। দলের আসল বিপদটি এখানেই। সরকারের মেয়াদকালে এরাই সুবিধা নিয়েছে ভবিষ্যতেও এরাই সুবিধা নিবে। ত্যগী কর্মী বাহিনী আগেও কিছু পায়নি এবারও পাবেনা। দলে কোনঠাসা এই কর্মী বাহিনীটি দলের সেফগার্ড। যে কোন দুর্যোগ এলে এরাই রাজপথে জীবন দেয়। এই ত্যগী কর্মীরা এবার বনিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। কেউ কেউ দলের মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র হয়ে লড়বে। ভোট কাটবে দলের। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দি হবে আওয়ামী লীগ। দলের সেফগার্ড এই কর্মী বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করা না গেলে নির্বাচনের ফলাফল বিপদজনক হতে পারে। বহু এলাকায় দলীয় সরকারের আমলে মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ত্যগী কর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।খোঁজ নিলে অনেক এলাকাতেই এর প্রমান পাওয়া যাবে। নির্বাচনে বি এন পি বা সম্মিলিত বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকাতে পারবেনা। কিন্তু দলের কর্মী বাহিনী নিস্ক্রিয় হলে জনপ্রিয়তা থেকেও আওয়ামী লীগের অবস্থান বদলে যেতে পারে। এখনো সময় আছে, দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে অবহেলীত কর্মীবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করুন।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা

নিউমার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউছিয়া মার্কেট বন্ধ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে আগুনের ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি চাঁদনী চক ও গাউছিয়া মার্কেটও বন্ধ রয়েছে। আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিটের চেষ্টার পর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নিভতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এরআগে, গত ৪ এপ্রিল বঙ্গবাজার মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে কয়েক হাজার দোকান পুড়ে ছাই হয়। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

নিউমার্কেট আগুন নিয়ন্ত্রণে সড়ক বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন নিউ সুপার মার্কেটে লাগা আগুন নির্বিঘ্নে নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কলেজ থেকে নিউ মার্কেটমুখী সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগার পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। সড়কে শুধু ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) শাহজাহান সিকদার বলেন, আজ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে নিউ সুপার মার্কেটে এ আগুন লাগে এবং ৫টা ৪৩ মিনিটে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯টি এবং সর্বশেষ ২৮টি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

অনলাইনে বাগান বিলাসের চারার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী ঝিকরগাছার ইউসুফ

জহিরুল ইসলাম, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ “জীবনে সফল হতে হলে  দুটি জিনিস প্রয়োজন জেদ আর আত্মবিশ্বাস”। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় অনলাইনে বাগান বিলাস চারার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ইউসুফ মোল্লা (২৩) নামে এক যুবক, তিনি উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের টাওরা গ্রামের আয়ূব আলী মোল্লার বড় ছেলে।

প্রথমে সখের বসে অনলাইনে একটি, দুইটি করে চারা বিক্রি শুরু করেন। ভালো বিক্রি দেখে  অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া, সফলও হয়েছেন। যাকে সবাই বলতো বেকার, ভাদ্দইমা, জীবনে কিছু হবে না তো কে দিয়ে, সবার কাছে ছিলো হাসির পাত্র, সেই ছেলেটাই আজ সবার কাছে অনুকরণীয়, তাকে দেখে অনেকেই এখন এ ব্যবসা প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠছে। তার ছিলো না কোন পুঁজি, আর এখন তার ব্যবসার মুলধন প্রায় দশ লক্ষ টাকা।

বাড়ির ছাঁদে গড়ে তুলেছেন বাগান বিলাসের চারার নার্সারি। পাশাপাশি বাড়ির পাশেই ১৭ শতক জমি বন্ধক নিয়ে বাগান বিলাসের চারা তৈরি করছেন। তিনি জানান প্রথমে বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করে সেই চারা বিক্রি করতেন। আর এখন তিনি গাছ ক্রয় করে সেই গাছে কলম দিয়ে চারা তৈরি করেন। তার বাগান বিলাসে চাইনিজ স্লিপিং বিউটি, মেটাল বিউটি, পিংক গ্লো সহ প্রায় ২০০শ জাতের চারা আছে। এক একটি চারা প্রকারভেদে বিক্রি হয় ১০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। তিনি জানান দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুরিয়ারের মাধ্যমে চারা পৌঁছে দেন।

যার মাঝে সীমাহীন উৎসাহ, বুদ্ধি ও একটানা কাজ করার গুণ আছে, তার সফল হওয়ার সম্ববনা সবচেয়ে বেশি। এই ইউসুফ যেনো তারই প্রমাণ। সবাই যদি তার নিজের কাজের প্রতি যত্নবান হয়, আর জীবনে সফল হওয়ার আত্নবিশ্বাস থাকে সে সফল হবেই। ইউসুফ বলেন, কোন কাজই ছোট না, আপনি যে কাজই করুন মন দিয়ে করুন, দেখবেন জীবনে সফল হবেন।

তিনি বলেন আমিও একদিন বেকার ছিলাম, সবাই আমায় অবহেলা করতো, আমি যখন প্রথমে এ ব্যবসা শুরু করি তখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো, অথচ আমি সফল হয়েছি, নিজের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিলো। ভারত থেকে চারা এনেছি,  আবারও যাবো আশা আছে এখন থেকে নিয়মিত ভারতে যাবো সেখান থেকে চারা আনতে পারলে একটু কম দামেও বিক্রি করা যায়। আর বলেন ব্যবসার মুল হলো সততা।

হাওরে ব্লাস্ট রোগে ধান আক্রান্ত; কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের হাওর অঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র সম্বল বোরো ফসল। হাওর পারের কৃষক এ বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। তাদের পুরো বছরের খোরাকী এবং সকল ব্যয়ভাড় বহন করে চলে ধান বিক্রি’র টাকা দিয়ে। কৃষকরা ধার দেনাও মিটান ওই টাকা থেকে। তবে, এবছর বোরো মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদী খরা, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ও পানি সেচের সুবিধা না থাকায় জেলার হাওরগুলোতে কৃষকের রোপণকৃত ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ধানে চিটা ধরায় চরম লোকসানে পড়েছেন হাওর পারের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক ও বর্গা চাষীরা।

কোথায়ও পুরো জমির ধানে চিটা ধরায় শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে ধান কেটে লাভবান হবেন না দেখে অনেক কৃষক ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে জেলার সচেতন মহল বলছেন, মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা তৎপর হলে এমনটি হতো না।

মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর, হাইল হাওর, করাইয়ার হাওর ও বড় হাওরসহ ছোট বড় বেশ কয়েকটি হাওর রয়েছে। এসব হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। কিন্তু ওই সকল হাওরে ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধানে চিটা ধরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। একদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্য দিকে বোরো চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জেলায় এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৫৭ হেক্টর। হাওরে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫১ হেক্টর জমি। তবে স্থানীয়রা বলছেন হাওরগুলোতে আবাদকৃত পুরো ব্রি-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যার পরিমাণ সরকারি তথ্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। গত বছর হাওরের যে এলাকায় (মৌজায়) প্রতি বিঘাতে ১৫ থেকে ২০ (মণ ধান) পেয়েছেন কৃষকরা। এ বছর ওই এলাকায় প্রতি বিঘাতে কৃষকরা ৪ থেকে ৫ মণ ধান পাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহেদ আহমদ জানান, ৮০ শতাংশ ব্রি ২৮ ও ২৯ জাতের ধান জমি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধান কাটতে চাইছেন না কৃষকরা। আমিও গত সোমবার কিছু ধান কেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

কৃষক রিয়াজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত ওষুধ এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে এমনটি হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এতো বড় বিপর্যয়ের মুখে পরতে হতো না কৃষকদের।

বাদে ভুকশিমইল গ্রামের আরিফুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন কৃষি উপ-সহকারী আছেন এটা আমি সহ অনেক কৃষকই জানেন না। কৃষকের সংকট কিংবা দুর্দিনে তাদের কোন ভাবে কাছে পায়নি।

হাওর কাউয়াদীঘির পূর্ব পারের পশ্চিম ভাগ গ্রামের খায়রুল মিয়া ও মতিন মিয়া জানান, ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্তের কারণে চিটা ধরায় আমরা অনেক লোকসানে পড়েছি। গত বছর প্রতি বিঘাতে যে জমিতে ১৫ মণ ধান পেয়েছিলাম। এবার ৩ মণ ধান পেতে পারি।

একই এলাকার শহিদ মিয়া, সাদিকসহ অনেকে জানান, এ বছর খরার কারণে এবং পানির অভাবে আমাদের জমির ধানে চিটা ধরে অনেক জমির ধান কাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার যে সকল জমিতে ধান হয়েছে তার উৎপাদন ও অনেক কম।

এ হাওরের ছালিক মিয়া জানান, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াতে এবং নদী, খালে পানি না থাকায় জমিতে পানি দিতে পারিনি। তাই আমার কয়েক বিঘা ধানি জমি নষ্ট হয়েছে।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ জানান, আবহাওয়ার কারণে ধানে ব্লাস্ট রোগ আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে ঠান্ডা-দিনে গরম এই পরিস্থিতিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের জন্য খুবই ক্ষতিকর প্রভাব পরেছে। আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করে আসছি ব্রি-২৮ জাতের ধান রোপণ না করতে। কিন্তু তার পরেও কৃষকরা ব্রি- ২৮ জাতের ধান রোপণ থেকে সরে আসছেন না তারা।

ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর খননকালে ১২ কেজি ওজনের কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

হুমায়ুন কবির, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি পুকুর খননকালে ১২ কেজি ওজনের কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১২ এপ্রিল) উপজেলার কিসমত ভৈষা গ্রামের তমিজউদ্দিনের চাঁড়াল দিঘি থেকে মাটি খননকালে এ মূর্তিটি পাওয়া গেছে ।

জানা গেছে, পুকুর খননের সময় শ্রমিকেরা একটি কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি দেখতে পেয়ে চেচামেচি শুরু করলে ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে হরিপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে কালো পাথরের বিষ্ণু মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করেছে। বিষ্ণুমূর্তিটির ওজন প্রায় ১২ কেজি।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরীফুল হক বলেন, বিষ্ণুমূর্তি কষ্টিপাথরের কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি। মূর্তিটি জেলার ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।