শপথ নিলেন ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি (৪৫)। মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও বেছে নিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার (২২ অক্টোবর) দেশটির স্থানীয় সময় সকালে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবে, এরপর আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবে তারা।  

এর মাধ্যমে ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকার পেতে যাচ্ছে।

মেলোনির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল ব্রাদার্স অপ ইতালি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ফরচা ইতালিয়া ও মাত্তেও সালভিনির লিগের সঙ্গে জোট বেঁধে গত মাসের জাতীয় নির্বাচনে জয় পায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইতালির ৬৮তম সরকারের প্রধান হচ্ছেন মেলোনি। এ সরকার ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাবেক প্রধান মারিও দ্রাগির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রশাসনের স্থলাভিষিক্ত হবে। দ্রাগি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শেষ দায়িত্বের একটি পালন করতে শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গোট শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষিত মেলোনিকে কঠিন সব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে।  এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মন্দার হুমকি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ইউক্রেইন যুদ্ধকে ঘিরে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা।

শুক্রবার রাজধানী রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মেলোনি। এরপর প্রেসিডেন্ট দপ্তরের কর্মকর্তা উগো জাম্পেত্তি সাংবাদিকদের বলেন, জর্জিয়া মেলোনি নির্দেশ মেনে তার মন্ত্রীদের তালিকা জমা দিয়েছেন।

তালিকা অনুযায়ী, ব্রাদার্স অব ইতালির রাজনীতিকরা মন্ত্রিসভার নয়টি পদ পাচ্ছে আর লিগ ও ফরচা পার্টি উভয়েই পাঁচটি করে পদ পাচ্ছে, টেকনোক্রাটরা পাবেন বাকি পাঁচটি পদ।

লিগের জাংকার্লো জর্জিয়েত্তি দেশটির অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন আর ফরচা পার্টির আন্তোনিও তইয়ানি সামলাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

ফ্রান্সে বড়লেখার যুবকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, হত্যার অভিযোগ

তিমির বনিক: মৌলভীবাজারের বড়লেখার এক যুবকের ফ্রান্সে মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৩ই অক্টোবর ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার নাম কাওছার হামিদ আলী (৩৫)। তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার পানিধার এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আলীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছে তার পরিবারবর্গ।

পরিবারের অভিযোগ, আলীকে মারধর করে হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতেই ঘাতকরা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলে ফেসবুকে প্রচার করছে। বর্তমানে তার লাশ ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে রয়েছে। তার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

কাওছার হামীদ আলীর বাবা আবুল হোসেন মুঠোফোনে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে কথা হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কাওছার হামিদ আলী দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছে। সেখানে সে উবার চালিয়ে আয়-রোজগার করত।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে ফ্রান্স থেকে সামাদ নামে এক ছেলে আমাকে ফোন করে বলেন, আলী আমার কি হয়? আমি বলেছি সে আমার ছেলে। তখন সামাদ বলেন, বড়লেখা ও কুলাউড়ার কয়েকজন যুবক আলীর কাছে উবারের আইডি ব্যবহারের টাকা ও ঘর ভাড়ার টাকা পান। আলী নাকি টাকাটা দিচ্ছেন না। তাকেও ফোনে মেলেনা ও খুঁজেও পাওয়া যায় না। এই টাকাটা কীভাবে পাওয়া যায়। তখন আমি বলেছি, বিষয়টি আমার তো জানা নেই। এসময় তিনি ফোনে শুনতে পান সামাদের পাশে থাকা কারা কাকে বলছেন, ওকে মার।

তিনি বলেন, ওইদিনই আমার ছেলেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। গত ২০ অক্টোবর ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমাকে মোবাইলে কল করে জানানো হয়, আমার ছেলে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর ফ্রান্স থেকে একজন সাংবাদিকসহ আরো কয়েকজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা আমার কাছে বলেছেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তার ছেলেকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

এদিকে আলীর মৃত্যুর খবর দেশ-বিদেশে অনেকে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাসে শেয়ার করছেন দেখা যায়। তারাও আলীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাসার মালিক আলীর কোনো খোঁজ না নেওয়ায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল ওয়াহিদ মুঠোফোনে বলেন, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সচিব শারহাদ শাকিল আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে ফ্রান্সের পুলিশ তাকে জানিয়েছে, কাওছার হামিদ আলী দুর্ঘটনায় মারা যায়নি; তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকারীরা আলীর নিজ এলাকা বড়লেখা ও কুলাউড়ার বলে তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানতে পেরেছেন। তাদের নাম-পরিচয়ও তিনি জেনেছেন।

নূরুল ওয়াহিদ বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে প্যারিসের মাখদরমি এলাকায় উবারের আইডি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক প্রথমে আলীর ঘাড়ে আঘাত করে। এরপর পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপরে ফেলে দেয়। এতে আলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৩ দিন তিনি কোমাতে ছিলেন। এরপর ১৩ অক্টোবর মারা যান।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি রাত দেড়টার পরে কাজ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান সামাদ কার সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলীর ওপর আঘাত করছে। তখন তিনি সামাদ ও আলীকে চিনতে পেরে ঘটনাটি মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। ঠিক তখন কুলাউড়ার একজন পেছন থেকে এসে আলীকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর ফেলে দেয়। এরপর সবাই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এখন হত্যার ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরা কৌশলে আলী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে বলে প্রচার করছে।

নূরুল বলেন, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির লোকজন বলেছেন আলী ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাসার মালিক আলীর কোনো খোঁজ নেননি। এতে তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন ঘটনার সঙ্গে বাসার মালিকের কোনো সম্পৃক্ততা হয়তো থাকতে পারে! সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আলীর লাশ দেশে পাঠানো হবে।

বড়লেখা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলী আহমদ চৌধুরী জাহেদ মুঠোফোনে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বলেন, ফ্রান্সে আমাদের এলাকার বাসিন্দা কাওছার হামিদ আলী মারা গেছেন বলে তার পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি। আমরা তার বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নিয়েছি। কান্নার শব্দে পরিবেশ ভাড়ি হয়ে উঠেছে।

নি‌ষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৫ জে‌লের কারাদন্ড

‌মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ মা ই‌লিশ রক্ষায় প্র‌তি‌নিয়ত অ‌ভিযান প‌রিচালনা করে যা‌চ্ছে রায়পুর উপ‌জেলা প্রশাসন। ধারাবা‌হিক অ‌ভিযা‌নের অংশ হি‌সে‌বে গত বৃহস্প‌তিবার (২০ অ‌ক্টোবর) রা‌তের অন্ধকা‌রে মেঘনায় ভ্রাম্যমান অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌রে রায়পুর উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার অঞ্জন দাশ।

অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌লে মা ই‌লিশ ধরার নি‌ষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৫ জে‌লে‌কে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় ১০ (দশ) দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় ৪ টি ই‌ঞ্জিন চা‌লিত মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয় এবং ১ লক্ষ মিটার জাল জব্দ ক‌রে তা আগু‌নে বিনষ্ট করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত প‌রিচালনা কা‌জে সা‌র্বিক সহ‌যোগীতা ক‌রেন সহকা‌রি ক‌মিশনার (ভূ‌মি) রা‌সেল ইকবাল, উপ‌জেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক, সহকা‌রি মৎস কর্মকর্তা মোঃ বেলা‌য়েত হো‌সেন, মৎস  সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আবদুল্ল্যাহ আল মাহমুদ ও হাজীমারা ফাঁ‌ড়ি পু‌লিশ। জনস্বা‌র্থে নি‌ষেধাজ্ঞা চলাকালীন এমন ধর‌নের অ‌ভিযান ধারাবা‌হিক ভা‌বে চল‌বে ব‌লে জানান উপ‌জেলা প্রশাসন।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম (২৪) ও আনোয়ার হোসেন (২২) নামে দুই মটরসাইকেল আরোহী যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ বারডালি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নিহত দুুই যুবকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরনাগাঁও গ্রামে। শহিদুল ওই গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে এবং সে একজন তুলা ব্যবসায়ী। অপর নিহত যুবক একই এলাকার বাসিন্দা। তবে তার পিতার নাম জানা যায়নি।

বালিয়াডাঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার প্রদীপ চন্দ্র রায় জানান, এক পথচারীর মাধ্যমে জানতে পেরে তারা দ্রুত কালমেঘ বারডালি নামক এলাকার কেয়া ইট ভাটার সামনের মোড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এবং মরদেহর পকেটে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে তাদের সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহগুলো দেখে ধারনা করেছেন মোটরসাইকেল আরোহী দুজন বালিয়াডাঙ্গী থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের অভিমুখে যাচ্ছিল অপরদিক থেকে আসা বাঁশবাহী নসিমনের সাথে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ মরদেহ দুটিকে বাঁশের আঘাতে ঠেলে হেচড়ে বহুদুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আনাম ডন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেশে চা উৎপাদনে নতুন সবোর্চ্চ রেকর্ড!

তিমির বনিকঃ দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় দেড় কোটি কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর আগে কোনো মাসেই দেশে এত চা উৎপন্ন হয়নি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম গনমাধ্যমেকে জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভর্তুকি মূলে সার বিতরণ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিং, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে চা উৎপাদনে এই রেকর্ড হয়েছে।

এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে গত আগস্ট মাসে মজুরি নিয়ে চা শ্রমিকরা যে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন, তার সম্মানজনক সমাধান হওয়ায় সেপ্টেম্বরে চা উৎপাদনে রেকর্ড হওয়ার একটি কারণ বলে জানান তিনি। উৎপাদন বাড়ায় রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম।

বাংলাদেশ চা বোর্ড জানিয়েছে, দেশের ১৬৭টি চা বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে দেশে সেপ্টেম্বর মাসে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। অতীতের যে কোনো মাসের উৎপাদন রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এই উৎপাদন। এর আগে মাস ভিত্তিক উৎপাদনের সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। ওই মাসে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল দেশে।

সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড উৎপাদন চা শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা’ উল্লেখ করে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, চলতি আগস্ট মাসে শ্রমিক কর্মবিরতির কারণে উৎপাদন কিছুদিন বন্ধ থাকলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয় এবং বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, চা রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা, নিয়মিত বাগান মনিটরিং, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমকল্যাণ নিশ্চিতকরণের ফলে এ বছর চায়ের উৎপাদন অনেক ভালো। সরকারের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বাগান মালিক, চা ব্যবসায়ী ও চা শ্রমিকদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে চা শিল্পের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

চা বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশের ১৬৭টি বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানে সবমিলিয়ে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২১ সালে দেশে মোট ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল, যা ছিল ২০২০ সালের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ১১ হাজার কেজি বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক বছরে এত বেশি চা উৎপাদন হয়নি। শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকেই গত বছরে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছিল; ২০২০ সালে যা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ টন।

বর্তমান ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে-এমন আশার কথা শুনিয়ে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ২০২২ সালে ২০২১ সালের চেয়েও বেশি চা উৎপন্ন হবে দেশে। মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতেও উৎপাদন কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল। এটাই প্রতীয়মান হয় যে, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। চা বোর্ডের পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলে চা চাষিদের ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলের’ মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়। যার ফলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে বেশি চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

চা উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানিতে ভালো করছে না বাংলাদেশ। একসময় চা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চা থেকে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি মুদ্রা দেশে আসছে না। উল্টো উন্নতমানের চা আমদানি করে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা চলে যাচ্ছে।গত ২০২১-২২ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে অবশ্য ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চা রপ্তানি থেকে ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।

এ প্রসঙ্গে আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে চা উৎপাদন বাড়ায় এখন বিভিন্ন দেশ কম চা আমদানি করতে হবে। এতে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে রপ্তানিও বাড়বে। তবে সত্যি কথা বলতেকি, চা রপ্তানি বাড়াতে হলে আমাদের চায়ের গুণগতমান বাড়াতে হবে। বিদেশে যে মানের চায়ের চাহিদা বেশি, সেই মানের চা উৎপাদন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় দেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৮ কোটি কেজি চা উৎপাদন ছিল সর্বোচ্চ, যা ছাপিয়ে ২০১৯ সালে উৎপাদন ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি হয়। সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ২০২০ সালে উৎপাদন কমে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজিতে নেমে আসে। ২০১৯ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি। দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ১৩৬টিই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে সর্বোচ্চ ৯১টি, হবিগঞ্জে ২৫টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২১টি, পঞ্চগড়ে ৮টি বাগান, রাঙামাটিতে ২টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বাগান আছে।

নওগাঁয় আবৃত্তি পরিষদ নওগাঁ’র ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দিনব্যপী কর্মসূচী অনুষ্ঠিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ’র ঐতিহ্যবাহি আবৃত্তি সংগঠন আবৃত্তি পরিষদ নওগাঁ ”আপন” তাদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে দিনব্যপী কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুরাতন কালেক্টর চত্বরর থেকে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়ে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বেলুন ও ফেষ্টুন উড়িয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক। এ সময় পরিষদের সদস্যরা সমবেত কন্ঠে অন্তর মম কবিতাটি আবৃত্তি করেন। পরে সেখানে একটি উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি ডাক্তার ময়নুল হক দুলদুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্রফেসর মোঃ শরিফুল ইসলামখান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কায়েস উদ্দিন, সহ-সভাপতি এ্যাড. জাহাঙ্গীর ইসলাম বুলবুল, সাধারন সম্পাদক রফিকুদ্দৌলা রাব্বীসহ পরিষদের সকল পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলঅদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও বগুড়্ধাসঢ়;র বরেন্য আবৃত্তি শিল্পীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যপী অন্যান্য অনুষ্ঠিত কর্মসূচীর মধ্যে ছিল অসীম কুমার মহন্তের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় “ জন্মের আগেই মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন” এবং তামিম মাহমুদ সিদ্দিক-এর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় “ ভালো থেকো ফুল” নামের দু’টি পৃথক আবৃত্তি প্রযোজনা,
বরেন্য আবৃত্তি শিল্পীদের একক আবৃত্তি এবং পুরস্কার বিতরনী। এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান

পূর্নাঙ্গ স্থলবন্দরে পরিনত হতে যাচ্ছে কুলাউড়ার চাতলাপুর

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ভারতে রপ্তানি আয় বাড়াতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলছে এর সম্ভাব্যতা যাচাই। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সম্প্রতি এই শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করে যান।

স্থল বন্দর সূত্র জানায়, কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করতে বিদ্যমান সুবিধা-অসুবিধা জানার জন্যই সচিবের এই পরিদর্শন। স্বাধীনতার আগে থেকেই কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর সীমান্তে অবস্থিত এই স্থল শুল্ক্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সীমান্তের ওপারে রয়েছে ভারতের কৈলাশহর হয়ে আগরতলা। প্রথমে এই সীমান্ত হয়ে বৈধ পথে দুই দেশে লোকজন পারাপার শুরু হয়। পরে শুরু হয় পণ্য আমদানি-রপ্তানি। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী, মাছ, শুঁটকি, সিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি পণ্য ভারতে যায়। পাশাপাশি ভারত থেকে সাতকড়া, আদাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্য বাংলাদেশে আসে।

দেশীয় রপ্তানিকারকরা জানান, এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে আমদানির চেয়ে ভারতে রপ্তানি পণ্যই বেশি যায়। অবশ্য যোগাযোগ ও অবকাঠামো সমস্যা বিদ্যমান ছিল অনেক দিন। এমনকি বাংলাদেশি পণ্যবাহী গাড়িগুলো সীমান্তে আসার পর প্রথমে মালপত্র বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে আনলোড করা হতো। পরে ভারতীয় ট্রাক এসে সেসব পণ্য সীমান্তের অভ্যন্তর থেকে নিয়ে যেত। ফলে বাড়তি অর্থ আর সময় ব্যয় করতে হতো ব্যবসায়ীদের। ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা। যে কারণে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার দাবি জানান তারা।

আমদানি-রপ্তানিকারক কর্মকর্তা পার্থ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে গত এপ্রিল মাস থেকে এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে সব ধরনের পণ্য ভারতে সরাসরি রপ্তানি শুরু হয়। বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরিগুলো সরাসরি ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে। পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়িগুলোও সরাসরি বাংলাদেশে আসছে। গত আগস্ট মাস থেকে ভারতের আসাম, মেঘালয় থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কগুলো বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাওয়া-আসা শুরু করে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র মতে জানিয়েছে, ভারতে তেলবাহী ট্যাঙ্ক যাওয়া শুরু হওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার বিষয়ে নড়েচড়ে বসে বানিজ্য মন্ত্রনালয়। এরই ধারাবাহিকতায় চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

কুলাউড়া নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান খোন্দকার জানান, সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার বিষয়ে করণীয় নিয়ে সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আলোচনাও করেন।

ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক জেল হাজতে

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত উপজেলার গোরক মন্ডল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোতালেব হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন  নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এর আগে, ওই শিক্ষক উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে পরবর্তি ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মোতালেব হোসেন, কর্মস্থলে যাওয়া আসার পথে উপজেলার বালারহাট ডিএস দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্কের সুবাদে প্রায়ই তিনি ছাত্রীর বাড়ীতে যাতায়ত করতেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ওই ছাত্রী মোতালেব হোসেনকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে।

পরে গত ২৪ আগস্ট বুধবার গভীর রাতে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে স্থানীয়দের শালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু বৈঠকে ন্যায় বিচার না পাওয়ায় ওই ছাত্রীর পিতা আনোয়ারুল ইসলাম পরের দিন রাতে ফুলবাড়ী থানায় শিক্ষক মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোতালেব হোসেন উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে। তার পুর্বের দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও আবুল কালাম আজাদ ওই শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আকবর কবীর জানান,বিষয়টি শুনেছি। পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিতভাবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বড়লেখায় গাছ চুরির মামলায় ৫ জনকে সাজা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গাছ চুরির মামলায় পৃথক চারটি ধারায় পাঁচ আসামির ৪ বছর ৫ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আদালত তাদের অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ও আদেশ দিয়েছেন। বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আলা উদ্দিন (৫৫), মুহিবুর রহমান (২৮), মুজিবুর রহমান (২৫), লেবেল আহমদ (২৬) ও আব্দুস সহিদ (৩৫)। তাদের সকলের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এজাহার ও আদালত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মায়নুর রশিদের ভূমি থেকে ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বিভিন্ন প্রজাতির ২০টি মূল্যবান গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মায়নুর রশিদ মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত রায় ঘোষণা করেন। এরমধ্যে ১ নং আসামি আলাউদ্দিন পলাতক আছেন। রায়ে একটি ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। অপর ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, অন্য দুটি ধারার একটিতে ৩ মাসের সশ্রম কারদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপরটিতে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রের তথ্য মতে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকরাম হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাস ও লরির ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। আজ শনিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী বাসটি তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরাখপুর যাচ্ছিল। পথে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

রেওয়ার পুলিশ সুপার নবনীত ভাসিন বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, আহত ৪০ জনের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসযাত্রীরা সবাই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।