ঈদের পোশাক কিনতে না পারায় এসএসসি পরীক্ষার্থী’র আত্মহত্যা
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় ডৌয়াতালায ইউনিয়নের খুচনি চোরা গ্রামে এক শিক্ষার্থী ইদের পোশাক কিনতে না পেরে মা বাবার সাথে অভিমান করে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থী ঐ গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে এবং ভাইজোড়া মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
সাবেক আইনজীবীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি ডলারের মামলা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর একসময়ের আইনজীবী মাইকেল কোহেনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, মক্কেলের সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রে আইনজীবী (অ্যাটর্নি) হিসেবে কোহেন তাঁর দায়িত্বের খেলাপ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কোহেনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প শিবিরের আক্রমণ বেড়েছে। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার মামলা ঠুকলেন ট্রাম্প।
সাবেক পর্নো তারকা স্টরমি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার মূল সাক্ষী কোহেন। এ মামলায় ৪ এপ্রিল ট্রাম্প আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৪ ডিসেম্বর।
ট্রাম্পের নেওয়া আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে কোহেনের মুখপাত্র ও আইনজীবী ল্যানি ডেভিস বিবিসিকে বলেন, তিনি নিশ্চিত, তাঁর মক্কেলের (কোহেন) বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি বিফলে যাবে।
মামলাটি করা হয়েছে ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালতে। মামলায় ট্রাম্প, তাঁর পরিবারের সদস্য ও ব্যবসা সম্পর্কে কোহেন অনুপযুক্ত, আত্মকেন্দ্রিক ও বিদ্বেষপ্রসূত বিবৃতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় কোহেনের কাছে অন্তত ৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন কোহেন। তিনি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের একজন ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন। তাঁকে প্রায়ই ট্রাম্পের ‘দালাল’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।
২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে কোহেনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। তদন্তের মুখে ট্রাম্পের নির্দেশে যত বেআইনি কাজ করেছেন, তার বিবরণ দিতে বাধ্য হন কোহেন।
জালিয়াতি ও নির্বাচনী প্রচারের অর্থ সংগ্রহে অনিয়মের দায়ে ২০১৮ সালে কোহেনের তিন বছরের কারাদণ্ড হয়। তাঁকে জরিমানাও করা হয়। কোহেন কারাগার থেকে বেরিয়ে ট্রাম্পের একজন বড় সমালোচক হয়ে উঠেছেন।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাবিপ্রবি মজার ইস্কুলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ
রিয়া মোদক, হাবিপ্রবি প্ৰতিনিধি: খোশ আমদেদ মাহে রমজান এবং আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এইচএসটিউ মজার ইস্কুলের আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত দুঃস্থ অসহায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিট থেকে গরীব ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল মাঠে এই ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উক্ত অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হাবিপ্রবি মজার ইস্কুলের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ, সহকারী প্রক্টর ড. মো. ইয়াসিন প্রধান, ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, হাবিপ্রবি মজার ইস্কুলের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “একজন শিশুকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখাচ্ছেন, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরা ভালো মানুষ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে, এবং তাদের দেখাদেখি সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুরা একদিন দেশের হয়ে সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বাবারা, তোমরা ভালো মানুষ হও। আমি আশাবাদ ব্যক্ত করবো, তোমরা ভালো মানুষ হবে। মজার ইস্কুল শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।”
ঈদ সামগ্রী বিতরণ শেষে মজার ইস্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল মাঠেই ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মজার ইস্কুলের সাবেক, বর্তমান, এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সুবিধাবঞ্চিত অসহায় দরিদ্র পথ শিশুদের, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন এবং ছোট্ট মাথায় বুনে রাখা স্বপ্নকে লালনের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর, “নিরক্ষর মুক্ত দেশ গড়া, মজার ছলে শেখাবো মোরা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরুণ, স্বপ্নচারীর হাত ধরে গড়ে উঠে হাবিপ্রবি মজার ইস্কুল।
বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলের আশেপাশের এলাকাগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র শিক্ষার্থী ও পথ শিশু, যারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের নানা ভাবে বুঝিয়ে মজার ইস্কুলে নিয়ে আসা হয়। হাবিপ্রবির অভ্যন্তরে অবস্থিত হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক স্কুলে অস্থায়ী ভাবে তাদের ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্কুল ছুটির পর বিকেল থেকে শুরু হয় মজার ইস্কুলের ক্লাস।
মজার ইস্কুলের শিক্ষকদের দৃঢ় প্রত্যয়, শিক্ষার্থীদের জন্যে ভালোবাসা, মজার ছলে পড়ানো, ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে কোনো শিক্ষার্থী একবার ক্লাসে আসলে আর ফেরত যেতে চায়না। শিক্ষকদের বন্ধুত্বসুলভ আচরণ টেনে আনে শিক্ষার্থীদের। এই স্কুলে আসা শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম, রাবার, পেন্সিল সহ যাবতীয় সুবিধা পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত ও মানসিক পরিশুদ্ধির জন্যে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম ও পকেট খরচের টাকায় চলে এই সংগঠন। কেউ হয়তো সন্ধ্যার নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা কেনায় সেই টাকা ব্যয় করেন। কেউ কেউ এটাকে আত্মশুদ্ধির জায়গা হিসেবেও কল্পনা করেন। বর্তমানে এই স্কুলের শিক্ষক আছেন ষাটেরও অধিক। শিশু শ্রেনী থেকে শুরু করে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ানো হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস নেন এখানে। প্রতিদিন বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিট থেকে ৬ টা পর্যন্ত চলে পথশিশুদের ক্লাস কার্যক্রম।
শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহর মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
জাতীয় ডেস্কঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। একই সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার (১২ এপ্রিল) ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও শ্রদ্ধা নিবেদন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলতাফুন্নেছা।
আলতাফুন্নেছা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর আড়াইটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডা. জাফরুল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শুক্রবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১০টায় তার মরদেহ নেওয়া হবে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। জুমার নামাজ শেষে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। ৮২ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি সমস্যার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। বর্তমানে তার মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
বাড়িতে বসে সাজাভোগ করছেন ২৩ জন আসামি!
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বয়স, স্বভাব-চরিত্র, অতীত কর্মকাণ্ড, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অপরাধের ধরন ও সাজা বিবেচনা করে তাকে প্রবেশনে পাঠাতে পারেন আদালত। তবে প্রবেশনে পাঠানো আসামিকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয়। শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। গত কয়েক বছর ধরে মৌলভীবাজারে কিছু মামলায় এ ধরনের রায়ের মাধ্যমে প্রবেশনে পাঠানো হয়েছে বেশ কয়েকজন আসামিকে। বর্তমানে প্রবেশনে আছে মোট ২৩ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
ছোটখাটো অপরাধ কিংবা প্রথমবার দণ্ডিত আসামিকে ঘরে বসে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বসবাস করে সাজা ভোগের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা প্রতিপালন হয়নি। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ বিধানের প্রতিপালনে উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসামিকে প্রবেশনে পাঠানোর কথা শোনা যায়।
দন্ডিত আসামিরা হলেন জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউপির সিরাজনগর গ্রামের মো. নুর মিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউপির নোয়াগাঁও গ্রামের মোশারফ হোসেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউপির বৌলাশির গ্রামের কামাল মিয়া. জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের কবির আহমদ, একই গ্রামের মুহিবুর রহমান, সদর উপজেলার তৈলোক্য বিজয় গ্রামের মো. জহিরুল হক, মল্লিকসরাই গ্রামের স্বপ্না বেগম, কুলাউড়া উপজেলার ভুইগাঁও গ্রামের চিনু মিয়া, কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি গ্রামের মো. মঈন উদ্দিন, সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার সোমেনা বেগম, বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা-বাগানের শ্রাবন্তী উড়িয়া, রাজনগর উপজেলার কামালপুর গ্রামের আলী আহমদ, কুলাউড়া উপজেলার কলিমাবাদ গ্রামের মো. আলী হোসেন, একই উপজেলার কৌলা গ্রামের মো. সালেক মিয়া, সদর উপজেলার বিন্নিগ্রামের মো.শামীম মিয়া, কুলাউড়া উপজেলা ক্লিভডন চা-বাগানের নিরলা উরাং, সদর উপজেলার কালকাপন গ্রামের অমর দেব, একই গ্রামের রুপন দেব, কমলগঞ্জ উপজেলার চতিয়া গ্রামের আব্দুস সালাম, একই উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের রুমন মিয়া, সদর উপজেলার মাতারকাপন গ্রামের তনজুর রহমান ওরফে প্রকাশ তনজু, একই উপজেলার সৈয়ারপুর গ্রামের হেলাল মিয়া এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের অবায়েদুল হক মামুন। তাদের সবাইকে এক বছরের জন্য ঘরে থেকে পরিবারের সাথে সাজা ভোগ করার রায় দিয়ে আদালত প্রবেশনে পাঠানো হয়।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ জানান, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত জেলায় প্রবেশনে পাঠানো হয় ৩৮ জন আসামিকে। এর মধ্যে ১৫ জন দণ্ডিত আসামি তাদের প্রবেশনকাল শেষ করেছে। বর্তমানে ২৩ জন প্রবেশনে রয়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব ২০১৯ সাল থেকে তিনি পালন করে আসছেন।
প্রবেশন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ৫ জন, ২০২২ সালে ১৭ জন ও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ জনকে প্রবেশনে পাঠিয়েছেন আদালত। ইতোমধ্যে ১৫ জনের প্রবেশনকাল শেষ হয়েছে। বাকি ২৩ জন বর্তমানে প্রবেশনে আছেন।
মৌলভীবাজার জজ আদালতের আইনজীবী পংকজ সরকার বলেন, কোনো অপরাধ করে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে দণ্ডিত ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অতীত কর্মকাণ্ড, আসামির বয়স ইত্যাদি বিবেচনায় এনে আদালত দণ্ডিত ব্যক্তিকে কারাগারে না রেখে শর্তসাপেক্ষে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ঘরে বসে সাজা ভোগে রাখতে পারেন বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করছে পশ্চিমা স্পেশাল ফোর্স!
সম্প্রতি অনলাইনে পেন্টাগনের কয়েক ডজন গোপন নথি ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওইসব গোপন নথিতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ তাদের স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করেছে। খবর-বিবিসির।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে একটি নথি ২৩ মার্চের। ঐ নথিতে উল্লেখ আছে ইউক্রেনে যুক্তরাজ্যের ৫০ জন, লাটভিয়ার ১৭ জন, ফ্রান্সের ১৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন এবং নেদারল্যান্ডস স্পেশাল ফোর্সের ১ জন সদস্য অবস্থান করছে। স্পেশাল ফোর্সের ৯৭ জন সদস্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তবে এই সেনারা ইউক্রেনের কোন অঞ্চলে অবস্থান করছে তা নথিতে উল্লেখ নেই।
এদিকে, ইউক্রেনে নিজেদের স্পেশাল ফোর্সের ৫০ জন সেনা থাকার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাজ্য। তবে দেশটি জানিয়েছে, যেসব গোপন নথি ফাঁস হয়েছে সেগুলো দেখে বোঝা যায়, ‘এগুলো মারাত্মক ভুল’ তথ্য।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নথিগুলো আসল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বলা হচ্ছে, এসব নথির কিছু অংশ কাঁটছাট করা হয়েছে।
অভিনেত্রী ইয়াং চাই ইয়ালকের মরদেহ উদ্ধার
জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী ইয়াং চাই ইয়ালক। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অগনিত ভক্তদের হৃদয়ে স্থান পাওয়া এই দক্ষিণ কোরিয়ান অভিনেত্রীর নিজ অ্যাপার্টমেন্টে মরদেহ পাওয়া গেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৬। খবর-নিউইয়র্ক পোস্ট।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) অভিনেত্রী ইয়াং চাই ইয়ালকের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তবে এখনও ‘জম্বি ডিটেকটিভ’খ্যাত এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। বর্তমানে পুলিশি তদন্ত চলছে।
এদিকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী, ইয়াং চাই ইয়ালকের শেষকৃত্য ঘরোয়াভাবে সম্পূর্ণ করা হবে। জীবদ্দশায় অভিনয়ের প্রতি ছিল তার ভালোবাসা। তার আত্মার শান্তিকামনা করছি। ইয়াং চাই-ইয়ালকের জন্য আপনারা সবাই প্রার্থনা করবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো ‘ডেবিল’স রানওয়ে’-তে প্রথম দেখা যায় ইয়াং চাই-ইয়ালকে। তবে নেটফ্লিক্সে প্রচারিত ‘জম্বি ডিটেকটিভ’-এ অভিনয় করে তারকা খ্যাতি পেয়ে যান রাতারাতি। পরবর্তী কে-ড্রামা সিরিজ ‘ওয়েডিং ইম্পসিবল’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছিলেন তিনি। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেই ইয়াং চাই ইয়ালক।
সন্তান জন্ম দিতে টাকাসহ অন্যান্য উৎসাহ ভাতা
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জন্মহার বাড়াতে সাউথ কোরিয়া সরকার ও স্থানীয় সরকার সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য টাকাসহ অন্যান্য উৎসাহ ভাতা দিচ্ছে। বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারসহ সাউথ কোরিয়া জনসংখ্যাগত এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ২০২২ সালে সাউথ কোরিয়ার সন্তান জন্ম দেয়ার গড় সংখ্যা ০ .৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছর রেকর্ড ছিল ০.৮১ শতাংশ। উন্নত দেশগুলিতে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জন্মহার সাধারণত ২.১ শতাংশ।
গত এক দশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখানো সাউথ কোরিয়ার ওইসিডি তালিকায় সামাজিক নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার ব্যয়ের জন্য সর্বনিম্ন। ২০২২ সাল থেকে সাউথ কোরিয়া প্রসূতি মায়েদের সন্তান জন্মের পর ১ হাজার ৫১০ ডলার পর্যন্ত টাকা দিচ্ছে। যা বিখ্যাত দেশ ফ্রান্সের চেয়েও বেশি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য প্রতি মাসে আরও ১৫১ ডলার দেয়া হবে, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং একক অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য চিকিৎসা খরচ, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা, শিশুর সেবা এমনকি ডেটিং খরচও।
অফিস ফর গভর্নমেন্ট পলিসি কোঅর্ডিনেশনের দ্বারা গত বছর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ মহিলারা সন্তান নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। সিউল ফাউন্ডেশন অফ উইমেন অ্যান্ড ফ্যামিলির একটি সমীক্ষায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন যুবক একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
কোরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টাডিজের এক সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, সাউথ কোরিয়ার তরুণ মহিলাদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ বিবাহ এবং পিতামাতাকে অপরিহার্য হিসাবে দেখেন। বাকি মহিলাদের জীবনে এই বিষয়গুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ২০২২ সালে সাউথ কোরিয়ায় মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার বিয়ে হয়েছে।
পরিবারগুলো সন্তান ধারণ থেকে বিরত থাকার এই সমস্যাগুলো এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যাগুলো সৃষ্টির আরও দিক হলো-কঠিন কর্মসংস্কৃতি, আকাশছোঁয়া আবাসন খরচ , শিক্ষার ব্যয় এবং লিঙ্গ বৈষম্য ।
সাউথ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওল সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, গত ১৬ বছরে সমস্যাটির জন্য ২১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা একটি ব্যর্থতা ছিল। তিনি সংকট মোকাবেলায় সাহসী এবং নিশ্চিত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আনন্দে ঘা ভাসাচ্ছে হাওর পাড়ের কৃষকরা
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষকরা সাধারণত ধান চাষে অভ্যস্ত ছিলেন। সম্প্রতি তারা সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পান। দুই মৌসুম ধরে তারা চাষ করছেন মিষ্টি কুমড়ার। এই ফলনই তাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
জানা গেছে, নিজের জমি, বসত ঘর, পুকুরে পাড়সহ আশপাশের খালি জায়গায় কুমড়া ফলাচ্ছেন হাকালুকি হাওর পাড়ের চাষিরা। বাদ নেই হাওরের উন্মুক্ত প্রান্তর। মাঠের পর মাঠ কুমড়ার চাষ করছেন তারা। কিন্তু কিছু দিন আগেও জুড়ী উপজেলার হাওর পাড়ের কৃষকরা শুধু ধান চাষ করতেন। তাদের অপর চাষ ছিল মাছের। হাওরের সচ্ছল পানিতে তারা প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ চাষ করতেন। নতুন করে তাদের চাষে যোগ হয় বিভিন্ন প্রজাতির সবজির। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা- প্রতিটি ঋতুতেই তারা এখন সবজির চাষ করছেন। বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওর হয়ে যায় মাছের অভয়ারণ্য। শীত-গ্রীষ্মে ধান, সবজি ইত্যাদি।
সবজির পাশাপাশি এ হাওর এলাকায় বাদাম ও ভুট্টার চাষও হয়। এবার জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৯৪ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর এর প্রায় সবটুকুই হাকালুকি হাওর ঘিরে।
চাষিরা বলছেন, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তারা মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন। মাটি ও মাচা পদ্ধতিতে এ চাষ করছেন তারা। ফলন আসার পর নির্দিষ্ট সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন তারা। তাদের কষ্ট সফল হচ্ছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাজারে মিষ্টি কুমড়ার বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলেও জানান তারা।
উপজেলার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে সবসহ খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। এবার এ খরচের তুলনায় ফলন বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায়ও ভালো। প্রতিদিন পাইকাররা জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার একেক জন চাষি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দুই-তিন লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন বলেও জানান চাষিরা।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় এবার ৯৪ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতেই ভালো ফলাফল এসেছে। বাম্পার ফলনে চাষিরা অনেক খুশি।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি কৃষকরা হাকালুকিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে বাদাম ও ২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ সব ধরনের ফসল ভালো হয়েছে।
