পাকিস্তানে বিস্ফোরণে পুলিশসহ নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে আলাদা দুই বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২২ জন। আজ মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটে। খবর ডেইলি ডনের।

বিস্ফোরণে নিহত চার ব্যক্তির মধ্যে দুজন পুলিশের সদস্য। বিস্ফোরণ দুটির লক্ষ্যবস্তু ছিল পুলিশ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোহাইব মহসিন বলেন, কোয়েটার শাহরাহ-ই-ইকবাল এলাকার কান্দাহারি বাজারের কাছে থাকা পুলিশের একটি গাড়ির পাশে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এই কাজে বিস্ফোরকভর্তি একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়। এই বিস্ফোরণে পুলিশের দুজন সদস্য নিহত হন। বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

তিনি বলেন, কোয়েটার শারিয়াব পাঠাক এলাকার কাছের মুনির মেঙ্গাল সড়কে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে অপর বিস্ফোরণটি ঘটে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে কোয়েটা সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

এদিকে, নিষিদ্ধ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

 

বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ ২ কারবারি আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র‍্যাব-৯ এর অভিযানে ফেন্সিডিল সহ ২ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। সোমবার (১০এপ্রিল)  র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র এএসপি আফসান-আল-আলম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় র‍্যাব -৯ এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সাড়ে ৩ টায় অভিযান করা হয়েছে। উক্ত অভিযানে ২৪৭ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার ও ২ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউপি এলাকার বাসিন্দা মৃত কুতুব উল্ল্যার ছেলে মো. মামুনুর রশিদ (২৪) ও একই এলাকার পূর্ব লামুয়া গ্ৰামের বাসিন্দা মৃত রহমত মিয়ার ছেলে ইমরান মিয়া (২৩)।

তাদের বিরুদ্ধে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ধারায় মামলা দায়ের করে জব্দকৃত মালামালসহ ২ মাদক কারবারিকে নিকটস্থ শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, ফেন্সিডিল সহ ২জনকে র‍্যাব-৯ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা মামলা লিপিবদ্ধ করে জব্দকৃত মালামালসহ ২জনকে মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওসি।

“রাজনীতি”

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের রাজনীতি ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। শঙ্কা বাড়ছে রাজনীতিতে। একটি সঙ্গবদ্ধ দল প্রচারনা চলাচ্ছে যে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। হিসাবটি কে করেছেন এবং কিভাবে করেছেন তা জানা যায়না। প্রচারনাটি নিয়ে সরকারের কিছু নেতাদের মনে ভয় ভীতি রয়েছে কথাটি মিথ্যা নয়। এই নেতাদের কারনে দলের ক্ষতিও হয়েছে। সংখ্যাটি কম বেশী সকলেরই জানা। ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা কমে সব দেশেই। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রমটি পরিস্কার।

দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। সামরিক পোশাকে গনতন্ত্রের লেবাসে দেশ পরিচালনা করেছেন সামরিক ছাউনিতে বসে। ক্ষমতায় বসে ব্যক্তি প্রচারনা আর সম্পদের লোভে ব্যস্ত থেকেছেন নেতারা। বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন দেশকে। দেশের অর্থনীতি কিংবা উন্নয়ন মূখ থুবড়ে পরেছিল। শাসক দলের নেতারা জড়িয়ে পরেছিল দুর্নীতি আর অর্থপাচারে। খাম্বার নামে দুর্নীতি আর বিদ্যুৎ খাতের লুটপাট জাতীয় উৎপাদনকে ধংস করে দিয়েছিল। ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ করে ফেলা হয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগন ভোটের মাধ্যমে সেই অপশক্তিকে হটিয়ে আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। সেই থেকে দেশের অবস্থা ক্রমান্নয়ে কেবল উন্নতই হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যপক পরিবর্তন সহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় অকল্পনীয় পরিবর্তন এসেছে দেশে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা এবং দক্ষিনের ১৯টি জেলা উন্নয়নে যূক্ত হয়েছে। অর্থনীতির চাকা ঘুড়ে জাতীয় রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়নের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। দেশের উৎপাদন এবং রপ্তানী পাকিস্তান এবং ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশীরাই বাংলাদেশের সাফল্যের বিবরন ছেপেছে। দেশের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে। এই সাফল্যকে নস্যাত করতে পূর্বের ক্ষমতাসিন দল বি এন পি দেশে যা করেছে এবং করছে জনগন তা’ও প্রত্যখ্য করেছে। পার্থক্যটি এখন পরিস্কার। দেশের জনগন এখন যথেষ্ঠ সচেতন এবং শুধু রাজনৈতিক সমর্থনের কারনে কোন দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বিষয়টি এমন নয়। দেশের মানূষ একটি নেতৃত্বহীন অসমর্থ দল কে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে মনে হয়না। যে দলের দুই প্রধান নেতা ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হয়ে দন্ডপ্রাপ্ত আসামি সেই দলের পক্ষে মাঠে নামার যৌক্তিক কোন কারন নেই।

সত্যটি হলো দেশের উন্নয়ন/ সফল্য দেখে বি এন পি নেতারাই শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলছেন। এটা ঠিক যে বহু আওয়ামী লীগের নেতার বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষুদ্ধ কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানূষ শেখ হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় আবারও। এখন বিদেশী পর্যব্যক্ষকরাই বলছে শেখ হাসিনাই আবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। দেশে সরকার বিরোধী জোট বড় হয়েছে, ব্যপক প্রচারনাও চলছে দেশে বিদেশে কিন্তু দেশের রাজনীতির রিয়ালেটি এটাই। আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষ আর জোট যা’ই বলিনা কেন তাদের জন্য বাস্তবতাটি কঠিন। একটি সুষ্ঠ এবং অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন আমরাও চাই। কিন্তু বাস্তব অক্ষমতার কারনেই বি এন পি তা হতে দিবে মনে হয়না। দলটির নির্বাচন বর্জনের ঘোষনাও মাঠের বাস্তব চিত্রেরই প্রতিফলন। নিরপেক্ষতার অযুহাতে নির্বাচন বর্জন করবে বি এন পি।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা

‘বন্ধন এক্সপ্রেস’এ অভিযানে ভারতীয় পণ্য সহ আটক ৫

জহিরুল ইসলাম, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল রেলস্টেশনে কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় উপজেলা প্রশাসন তিনজনকে ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। রবিবার (৯ এপ্রিল) বেনাপোল রেলস্টেশনে যৌথ বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে।

এছাড়া এ অভিযানে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ১১ লাখ টাকা এবং বিজিবি ১০ লাখ টাকা ছাড়াও বেনাপোল কাস্টমস বিপুল পরিমাণ মদ ও কসমেটিকস জব্দ করেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকালে বেনাপোল রেলস্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মদ, শাড়ি, থ্রিপিস, বিপুল পরিমাণ কাপড় ও কসমেটিকস জাতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম জানান, রেল যাত্রীসেবা বাড়াতে ও চোরাচালানীদের প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রেলস্টেশনে বহিরাগতদের রুখতে পরবর্তীতে আরও কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনজনকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে। মোট পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার তানভীর রহমান জানান, বেনাপোল রেলস্টেশনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ কাপড় ও কসমেটিকস জাতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। জব্দকৃত মালামাল বেনাপোল কাস্টম গোডাউনে জমা করা হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের পক্ষে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপ-কমিশনার তানভীর আহম্মেদ, জেলা টাস্কফোর্সের শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে যশোর-৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মোজাহিদ, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূইয়া এবং রেল পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুলাউড়ায় টমটম গাড়ির ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বেপরোয়া গতিতে টমটম গাড়ির ধাক্কায় সোহান আহমদ (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। রবিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার মনসুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান ওই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুলাউড়া শহর থেকে একটি যাত্রীবাহী টমটম কাদিপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। টমটমটি মনসুর এলাকায় পৌঁছামাত্র সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু সোহানকে ধাক্কা দেয়।

পরে টমটমচালকসহ স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, ঘাতক টমটমচালক ও টমটম থানা হেফাজতে রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।

পৈতৃক সম্পত্তি বুঝে পেতে এতিম মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

বরগুনার তালতলীতে পৈতৃক সম্পত্তি চাচার দখল থেকে বুঝ পেতে চাচার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এতিম ভাতিজি। রোববার বিকেল ২ টার সময়ে তালতলী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মৃত্যু মহিউদ্দিন বাবুল জমাদ্দারের (এতিম মেয়ে) মেয়ে মারজিয়া আক্তার (১৮) বলেন, ২০১৬ সালে আমার পিতার বিষপানে মৃত্যু হয়। পিতার মৃত্যুর ২ দিন পূর্বে আমার বাবাকে তার ভাই মজিবর জমাদ্দার জুতা দিয়ে পেটায়। এ কারনেই তিনি হয়তো আত্মহত্যা করেছেন। আমার পিতার রেখে যাওয়া চিরকুট দেখে বোঝা যায় তার মৃত্যুর জন্য আমার চাচা দায়ী। পিতার মৃত্যুর পর থেকে আমার চাচা পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভোগ করে আসছে। আমার পিতার জমি আমাদেরকে বুজিয়ে দিচ্ছেন না চাচা মজিবর জমাদ্দার। তিনি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কিছুই মানে না। তার ক্ষমতার উৎস ফজলুল হক জমাদ্দার এবং মিন্টু হাওলাদার।

এসময়ে তিনি আরো বলেন,আমার পিতার যতটুকু জমি আছে সেগুলোর সঠিক বুজ পেতে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। এছাড়াও তিনি চাচার  হুমকি ধমকি দিচ্ছেন বলে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।সংবাদ সন্মেলনে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের মৌন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের মৌন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি আটককৃত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক রহিম শুভ’র নিঃশর্ত মুক্তি, যমুনা টেলিভিশনের রংপুরের স্টাফ রিপোর্টার মাজহারুল মান্নান, দেশ টিভির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি অসীমসহ বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জন্য এ মৌন প্রতিবাদ এবং মানববন্ধন করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকরা। এ উপলক্ষে এদিন জেলার বিভিন্ন সাংবাদিকদের সংগঠনের আয়োজনে শহরের চৌরাস্তায় ঘন্টা ব্যাপি মৌন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম বিপ্লব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি পার্থ সারথি দাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আমিন সরকার, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের সকল সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধ ও যেসব সাংবাদিকদের কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে। তাদের দ্রুত মুক্তি না দিলে সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

মৌলভীবাজারে ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’ পালিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’ উপলক্ষে রেলী, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার জেলা শাখা। রোববার (৯ এপ্রিল) বাদ আছর মৌলভীবাজার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে একটি মুবারক রেলী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় তালামীযের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মনজুরুল করিম মহসিন বলেন, মুসলমানদের কাছ থেকে আজও বদরের চেতনা হারিয়ে যায়নি। মুসলমানরা বদরের চেতনায় আবারো জেগে উঠবে। পৃথিবীর যেখানেই অসংগতি ও অপশক্তি ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সেখানেই বদরি চেতনায় মুসলমানরা সুসংগঠিত হবে। যুগে যুগে এ চেতনা ইসলামের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।

মৌলভীবাজার জেলা তালামীযের সভাপতি আলী রাব্বি রতনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির খানের পরিচালনায় অনু্ষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, আনজুমানে আল ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মাওলানা শামছুল ইসলাম, কাগাবালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন মুস্তফা, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালেহ এলাহি কুটি, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ এনামুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা শফিকুল আলম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মাসুক, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সালাহউদ্দিন ইবনে শিহাব ,ইউকে আল ইসলাহের সদস্য মাওলানা জুনেদ খান, সদর উপজেলা আল- ইসলাহর সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসাইন, শহর আল ইসলাহ’র সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন, তালামীযে ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জায়েদ আহমেদ চৌধুরী, জেলা তালামীযের সাবেক সভাপতি নিলুর রহমান, মাও. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন কামরান, শেখ কাদের আর হাসান, সহ সাধারন সম্পাদক রাজন আহমদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আয়াস আহমদ, আমেরিকা প্রবাসি সমাজ সেবক শাহ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ,  মোতাহার হোসেন, টাউন কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. আরমান আলী, জেলা তালামীযের  সাংগঠনিক সম্পাদক আফসার আহমদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম, সামাইয়ূন কবির , প্রচার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, সহ-প্রচার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আবুল, জেলা দায়িত্বশীল নাইম আলী কামরান , সাইদুল ইসলাম, মিতুল আহমদ, মাসুম সিদ্দীক , গিয়াস উদ্দিন রাফি, পারভেজ আহমদ এবং বদরুল ইসলাম প্রমুখ। আনুষ্ঠানিকতা সুন্দর ভাবে সুসম্পন্ন করতে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সুফল বয়ে আনেন।

মালবেরী চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নওগাঁ’র সোহেল রানা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার বরেন্দ্র অধ্যুষিত এলাকায় বিদেশী জনপ্রিয় ফল মালবেরী উৎপাদনের উজ্জল সম্ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। ঠা ঠা বরেন্দ্র বলে খ্যাত সাপাহার উপজেলায় সফল কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা তাঁর সমন্বিত বরেন্দ্র এগ্রো খামারে মালবেরী চাষ করে তার প্রকৃষ্ঠ উদাহরন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই সফলতা দেখতে প্রতিদিন আগ্রহ উদ্যোক্তাবৃন্দ তাঁর খামারে আসছেন এবং নিজেরাও মালবেরী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

মালবেরী প্রধানত পাহাড়ী এবং শীত প্রধান দেশের একটি জনপ্রিয় ফল। বিশেষ করে অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান এসব দেশে মালবেরী চাষ হয়ে থাকে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু কিছু এলাকায় মালবেরী চাষ হচ্ছে। সোহেল রানা তাঁর ধারাবাহিক অনুসন্ধানী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এখন থেকে চার বছর আগে তাঁর এগ্রো খামারে অন্যান্য অনেক ফলের সাথে প্রায় ৫০টি মালবেরী গাছের চারা রোপন করেন। থাইলান্ড থেকে সরাসরি এবং ঢাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মালবেরী চারা সংগ্রহ করেন। তিনি তাঁর এই খামারে ৮ প্রজাতির মালবেরী চারা রোপন করেন।

রোপনের এক বছর পর থেকেই ফল ধরতে শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশী মালবেরী উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল ধরেছে। চলতি বছর মুল সিজনে প্রতিটি গাছে গড়ে কমপক্ষে ১০ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি মালবেরী উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন তিনি। বর্তমানে বাজারে তিনি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সেই হিসেবে এ বছর মুল সিজনে ২ লক্ষ টাকার মালবেরী বিক্রি করবেন। এ ছাড়াও গাছ গুলোতে বছরে আরও একবার মালবেরী উৎপাদিত হবে। সেখান থেকেও আসবে অতিরিক্ত আয়। অথচ খরচ তেমন নাই বললেই চলে। ব্যবহার করেন কেবলমাত্র জৈবসার। রোগবালাই কিংবা পোকা মাকড়ের কোন আক্রমন নাই। নিরাপদেই চাষ করেন তিনি।

সোহেল রানার এই এগ্রো খামারের সফলতার কাহিনী লোকের মুখে মুখে। তার উপর বিদেশী ফল মালবেরী চাষ ও লাভের কথা শুনে প্রতিদিন প্রচুর আগ্রহী লোকজন দেখতে তার খামারে ভীড় করছেন। নিজেরাও মালবেরী চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন সোহেল রানার কাছ থেকে।

মালবেরী চাষের অপরা সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, এই ফল উচ্চমানের পুষ্টিগুন সম্পন্ন। বিশেষ করে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মালবেরী খুবই
উপকারী। সাপাহারের সোহেল রানার মত যদি কেউ মালবেরী চাষে এগিয়ে আসেন কৃষি বিভাগ সবরকমের পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

যৌতুকের ১০ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় লাশ হয়ে বাড়ী ফিরলো আমতলীর রীমা!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বিয়ের সাড়ে ৯ মাসের ব্যবধানে যৌতুকের নির্মম বলি হয়ে শনিবার বিকালে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মন্নান হাওলাদারের কন্যা ইসরাত জাহান রিমা (১৯) । গত ৮ই এপ্রিল রাত নয়টার সময়ে রীমার লাশ বহনকারী গাড়ী আমতলীতে পৌঁছে। এ সময়ে এলাকার শোকের পরিবেশ এতটাই ভারী ছিল যে কেহ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

গত বছর ১৩ই জুলাই রীমা স্বামীর সাথে ঢাকায় গিয়ে আগারগাঁওয়ের তালতলায় সংসদ ভবন কর্মচারী কোয়ার্টারে থাকতেন। সেই বাসায় স্বামী সাদ্দাম হোসেন সহ শশুর বাড়ির লোকজন ১০ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য রীমার উপর নির্যাতন চালাতো বলে রীমার পরিবারের দাবী। গত শুক্রবার সকালে রীমা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে জানায় শশুর বাড়ির লোকজন।   তবে রীমার পরিবারের দাবী যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে রীমাকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে সাদ্দাম ও তার স্বজনরা।

রীমার পরিবারের লোকজন জানায় রীমার স্বামী সাদ্দাম আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের মৃত্যু হানিফ মোল্লার ছেলে।সে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের পরিবহন শাখায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকুরী করেন।

রীমার বাবা মন্নান হাওলাদারের অভিযোগ করেন,বিভিন্ন সময়ে স্বামী সাদ্দাম ও তার বাসায় থাকা স্বজনরা রীমাকে প্রায়ই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামী সাদ্দাম হোসেন রীমার বাবার বাড়ী থেকে ১০ লক্ষ টাকা  যৌতুক এনে দিতে বলে। রিমা এতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই দিন বিকেলে এবং রাতে স্বামী সাদ্দাম, শ্বাশুড়ী আয়েশা বেগম, ননদ আসমা আক্তার ও ননদের স্বামী মাসুদ গাজী রিমাকে ব্যাপক নির্যাতন করে।

শুক্রবার দুপুর ১২ টায় রিমা ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রিমার বাবাকে আত্মহত্যার খবর জানায়। রীমার বাবা মান্নান হাওলাদার আরও বলেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় পৌছে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের কপালে কাটা দাগ এবং থুতনি এবং গলায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়েকে ওরা হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। রিমার ভাই রাব্বি বলেন, আমার বোন আত্মহত্যা করে নাই। ওরা মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। ওদের করা একটা ভিডিও পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে, আমার বোনের অর্ধেক হাটু খাটের উপর আর গলায় ফ্যানের সাথে ওড়না ঝুলছে। এটা কিভাবে আত্মহত্যা হয়?

Google Newsডিজিটাল বাংলা নিউজ” অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রীমার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে রিমার আমতলী বাসায় চলছে হৃদয় বিদারক দৃশ্য। স্বজন আর রিমার মা রাজিয়া বেগমের আত্ম চিৎকারে আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠছে। বার বার মেয়ের নাম নিয়ে মা মুর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরাও কাঁদছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন স্ত্রীকে হত্যার কথা অস্বীকার করে বলেন,সে নিজে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। তার নিকট কোন যৌতুক চাওয়া হয়নি এবং নির্যাতনও করা হয়নি।

এ ব্যাপারে ঢাকার শের-ই বাংলা নগর থানায় স্বামী সাদ্দাম হোসেন, শ্বাশুরী আয়েশা বেগম, ননদ আসমা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ গাজীকে আসামী করে একটি হত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর থানার অফিসার ইন চার্জ উৎপল বড়ুয়া বলেন,রিমার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের পর আসামীদের প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিয়ের মেহেদি শুকাতে না শুকাতেই যৌতুকের নির্মম শিকার নুসরাত জাহান রিমা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন আমতলীর এলাকাবাসী।