নাইজেরিয়ায় মসজিদে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১৫মুসল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নাইজেরিয়ার একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ১৫ মুসল্লিকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গত শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায় শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার জামফারা প্রদেশের একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে বুকুয়ুম প্রশাসনিক এলাকার রুয়ান জেমা শহরের জুমুয়াত কেন্দ্রীয় মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মোটরবাইকে করে এসেছিল, তারা বন্দুক নিয়ে সোজা মসজিদে ঢুকে পড়ে এবং মুসল্লিদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এ হামলা হয়। হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে ডাকাত নামে পরিচিত ভারী অস্ত্রধারী এসব সন্ত্রাসী গত দুই বছরে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়াজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এসময় সেখানে তারা হাজার হাজার অপহরণের ঘটনা ঘটানোর পাশাপাশি শত শত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এতে করে আফ্রিকার এ দেশটির এসব এলাকায় ভ্রমণ করা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, গত আগস্টে সন্ত্রাসীরা রুয়ান জেলার বাসিন্দাদের ক্ষতি করবে না, এমন আশ্বাসের বিনিময়ে তাদেরকে নগদ ২১ হাজার ডলার, পেট্রোল ও সিগারেট দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে শহরটির বাসিন্দারা। সাধারণত মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে এসব সন্ত্রাসী আসে। হামলাস্থলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, লুটপাট করে এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে।

এদিকে, গত জানুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ বুহারি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে নাইজারের বিভিন্ন স্থানে সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাত হচ্ছে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর।

উল্লেখ্য, এর আগে এ মাসের শুরুতে একটি মসজিদে নামাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে অস্ত্রের মুখে কয়েকজন মুসল্লিকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জামফারার জুগু শহরের জুমুয়াত কেন্দ্রীয় মসজিদে আসরের নামাজ চলাকালে মুসল্লিদের তুলে নিয়ে যায় তারা।

 

জি কে শামীম ও সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

সিএনবিডি ডেস্কঃ অস্ত্র মামলায় ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদন্ডের পাশাপাশি আসামিদের লাইন্সেন করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, জি কে শামীমের দেহরক্ষী মো. জাহিদুল ইসালাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন।

আজ রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ব্রেন্স অফিসার গোলাম নবী এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম রায় ঘোষণার এদিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‌্যাব। নিকেতন এ-ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাড়িতে তার অফিসে র‌্যাব দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
সেসময় তার কার্যালয় থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচার আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।  মামলাগুলো হলো- অস্ত্র মামলা, মানি লন্ডারিং মামলা এবং মাদক মামলা। মামলার এজাহারে শামীমকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ি বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর গুলশান থানার অস্ত্র মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক চার্জশিট দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ এবং চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলায় ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি আমিনুল ইসলাম জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে বলে ডকুমেন্ট দেখালেও তার সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়নি। পরে ওই অস্ত্রের নকল কাগজপত্র নিয়ে ২০১৭ সালে প্রথমে এসএম বিল্ডাস কোম্পানিতে যোগদান করেন। পরে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি আসামি জি কে শামীমের দেহরক্ষী হিসেবে যোগদান করে কাজ করে আসছিলেন। তিনি মূলত অবৈধ অস্ত্রটি ৭০ হাজার টাকায় ক্রয় করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করেন। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ত্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্ট করতেন। এর মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন শামীম।

মেয়েদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ দাবি ফুটবল কন্যা সাবিনার

স্পোর্টস ডেস্কঃ সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা পেলেন সাফজয়ী জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও তার পরিবার। সেখানেই মেয়েদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ দাবি করেন ফুটবল কন্যা সাবিনা।

গতকাল শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এবং দুপুর ২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবিনা খাতুন ও তার মা মমতাজ বেগম, বোন শিরিনা আক্তার এবং প্রয়াত কোচ আকবর আলীর স্ত্রী রেহানা আক্তার।

অনুষ্ঠানে সাবিনা খাতুনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান ও ক্রেস্ট  প্রদান করা হয়। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশু, মাহমুদ হাসান মুক্তি প্রমুখ।

সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেও সাবিনা ভুলছেন না শেকড়ের অস্তিত্ব। যেই সবুজবাগ থেকে তিনি আজ লাল-সবুজের পতাকাবাহী, সেখানে খেলোয়াড় তৈরিতে এখনো নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। তাই এখানে স্থায়ী মাঠের পাশাপাশি প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল লিগ আয়োজনের দাবি ইতিহাস সৃষ্টিকারী অধিনায়কের।

সাবিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমাদের ইচ্ছা আছে ভালো কিছু করার। আমরা যদি আশপাশে থাকা মানুষের সহযোগিতা না পাই, তবে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যাবে। আমি ডিসি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আমাদের একটা মাঠ চাই। একটা নির্দিষ্ট মাঠ থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডিভিশনের জন্য যখন খেলা হয়, তখন এই মাঠকে কাজে লাগানো যাবে।’

বাবাহারা পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সাবিনা খাতুন। ফুটবলে তার এই দীর্ঘ পথচলায় অনুপ্রেরণার সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন বড় বোনকে। আর তাই পরিবারের সচ্ছলতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চেয়েছেন সমর্থন।

সাবিনা খাতুন বলেন, ‘সাতক্ষীরাবাসী আমাদের যেভাবে ভালোবাসছেন, তা দেখে আমি বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। আমার পরিবার আমার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমি বলছি, আমার বোনের জন্য যদি একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে খুব সুবিধা হয়।’

স্থায়ী মাঠ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসবে অনেক ফুটবলার এমনটাই প্রত্যাশা হিমালয়জয়ী এই ফুটবলারের।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সাবিনা খাতুন হ্যাটট্রিক করেন এবং ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি টুর্নামেন্টের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ নির্বাচিত হন। গত শুক্রবার তাকে সাতক্ষীরায় ওরিয়ন স্পোর্টস  একাডেমির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজার প্রতিমার র্পূণ রুপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা

হুমায়ুন কবির (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দুর্গা পূঁজোকে সামনে রেখে নিপূণ হাতে কাঁদামাটি, খড়, বাঁশ, সুতলি ও রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজে দিনরাত ব্যাস্ত সময় পার করছেন মৎশিল্পীরা। উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষী, স্বরসতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। মন্ডপে,মন্ডপে  চলছে অবকাঠামো তৈরির কাজ, কোথাও চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ, আবার কোথাও শুরু হয়েছে রংয়ের কাজ। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা ঘনিয়ে আসায় যেনো দম ফেলার ফুসরত নেই রাণীশংকৈল প্রতিমা তৈরির কারিগরদের।

শরতের উজ্জ্বল আকাশে সাদা মেঘের  আনাগোনার মধ্যে, কাশফুলের শুভ্র আন্দোলনের সাথে তাল মিলিয়ে বাঙলা পঞ্জিকায় বছর ঘুরে আসে শরৎ। প্রকৃতিতে ঋতুর রাণী শরতের আগমনেই সনাতন ধর্মালম্বীদের মনে দোলা দেয় দশভুজা মহামায়া ত্রিনয়নী দেবীর আবাহনী। জানান দেয় শারদীয় উৎসবের। দুর্গতিনাশিনী দেবীর আগমনী বার্তায় ভক্তকূলে আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাইতো দেবী দুর্গাকে ঢাঁক, ঢোল, উলু আর শঙ্খ ধ্বনিতে বরণ করতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন ভক্তকুল।

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আকার আর নানা সব কারুকাজে দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানোর ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত  প্রতিমার র্পূণরুপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা।

পৌরশহরের কলেজপাড়া মন্দির, গোবিন্দ মন্দির ও হাটখোলা মন্দিরের কারিগর দীনবন্ধু, জগন্নাত রায় এবং অনুপ মালাকার জানান এবার গতবারের থেকে জিনিশপত্রের দাম বেশি, বিশেষ করে রংয়ের দাম। তাই কাজ করে তেমন পোষায়না তবুও বাপ দাদার পেশা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।

রাণীশংকৈল পৌরশহরের কলেজপাড়া পূজামন্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মিন্টু বসাক জানান, মহাপঞ্চমীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের শুরু পরদিন ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে পূজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ । প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতনীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই উৎসব।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ছবিকান্তদের তথ্যমতে এবার উপজেলায় মোট ৫৪টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপ নেই। তিনি আরো বলেন উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন পূজা ভালোভাবে পালনের লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন সুষ্ঠুভাবে পূজা পালনের জন্য শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, নজরদারি ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য প্রশাসনিক ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবং প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার রাখার নির্দশ দেয়া হয়েছে।

ধুনটে বাড়িঘর ভাঙচুর ও টাকা গহনা লুটপাটের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনট নিমগাছি ইউনিয়নে বিরোধের জের ধরে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও টাকা গহনা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান বুলবুল আহম্মেদ।

ধুনট থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের সোনাহাটা বাজার এলাকায় আরিফুর রহমান এর ছেলে বুলবুল আহম্মেদের বাড়িতে গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল অনুমান ৮ টার সময় একই এলাকার মৃতঃ বাহার উদ্দিন মন্ডল এর ছেলে আফিজার মন্ডল (৪৫), শফিকুল ইসলাম মন্ডল (৪০), আফিজার মন্ডল এর ছেলে শিপন মিয়া (৩০), শফিকুল ইসলাম মন্ডল এর ছেলে হাসান মিয়া (২৫), মৃতঃ ছালেক আলী ছেলে জুয়েল মিয়া (২২) ও মৃতঃ বাকী এর ছেলে শাহিন (৩৫),  গণ পারিবারিক কলহ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লাঠিসোটা, লোহার রড, রাম দা, দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র হইয়া বুলবুল আহম্মেদ এর বসতবাড়ীতে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বুলবুল আহম্মেদের মাতা বুলবুলি বেগমকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে ফুলা জখম করে পড়নের কাপর চোপড় টেনে হেঁচড়ে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটায়।

এক পর্যায়ে তারা বুলবুল আহম্মেদের বসতঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র  ভাংচুর করে অনুমান ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে, তাহার বসতঘরের বিছানার নিচে থাকা নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও ওয়ারড্রপের ড্রয়ারে থাকা ৩ ভরী ওজনের স্বর্ণের গহনা যাহার মূল্য ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে বাহির করে নেয়।

বসতবাড়ি আসবাবপত্র ভাঙচুর টাকা গহনা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বুলবুল আহম্মেদ গত শুক্রবার বিকেলে ধুনট থানায় ৬জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের কর।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, তাহার লিখিত অভিযোগ টি সরজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদ থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলিয়ানীরকুটি মুড়িয়া ঘাটে দুধকুমার নদের তীরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার বেশ কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী নদের তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করায় ক্রমাগত  ভাঙ্গনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বসত ভিটা, বাড়িঘর ও ফসলি  জমি হারিয়ে এ-সব মানুষ এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে । তাদের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে  মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রবিউল খাঁন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আতিক হাসান রাজা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আবেদ আলী, নাজির হোসেন, সাদিকুল ইসলাম, ওসমান গণি, লিটন, আজিবর প্রমূখ।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন চলছে। এর মাঝে তীরের নিকট থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী। এতে হুমকীতে পড়েছে বসত বাড়ি, মসজিদ, মাদরাসাসহ ফসলী জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

বাঞ্ছারামপুরে ৪৩ টি দূর্গা মন্ডপে প্রতিমা তৈরীতে চলছে জোড় প্রস্তুতি

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এবারে ৪৩ টি দূর্গা মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা,মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর কয়েক দিন বাকী থাকলে ও ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা। ইতিমধ্যে মন্ডপে মন্ডপে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ । কর্ম ব্যস্ততা  বেড়েছে মৃৎশিল্পীদের। প্রতিমা তৈরী শিল্পীদের যেন দম ফেলার সময় নেই। বিরামহীন ভাবেই কাজ করছেন তারা।

জমজমাট এই পূজোর আয়োজনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মৃৎ শিল্পীরা কাদা-মাটি, থড়-কাঠ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে এই কার্যক্রম। শিল্পীরা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে দেবীদূর্গা, লক্ষী, স্বরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, মহিষাশুরসহ সকল মূর্তিকে স্ব স্ব মহিমায় প্রষ্ফুটিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

বাঞ্ছারামপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিন্টু রঞ্জন সাহা বলেন এবার দুর্গাদেবীর আগমন হবে হাতিতে চড়ে ও গমন হবে নৌকায় চরে। সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, দুর্গা উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১অক্টোবর ষষ্ঠীর  মাধ্যমে, ২ অক্টোবর দেবীর সপ্তমীবিহিত, ৩ অক্টোবর দেবীর মহাঅষ্টমীবিহিত, কুমারী পূজা, সন্ধি পূজা, ৪ অক্টোবর দেবীর নবমীবিহিত এবং ৫ অক্টোবর দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও দর্শন বিসর্জন এবং সন্ধ্যা আরত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।

প্রতিমা তৈরীর কারিগর(মৃৎশিল্পী) সন্জিত পালের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বাড়ী টাঙ্গাইল নরসিংদী আমার প্রতিমা তৈরির কারখানা আছে আমরা চুক্তি ভিত্তিক প্রতিমা তৈরীর কাজ করি। এখন পর্যন্ত ৩০টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি,কাজের খুব চাপ এখন দিনরাত কাজ করি। প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর জন্য ৭০হাজার থেকে ৮০ হাজার  টাকা চুক্তি ভিত্তিক কাজ করি জিনিষ পত্রের দাম অনেক বেশি পুষায় না।কারখানাতে তৈরি করলে খরচ আরো বেশী পড়ে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে কাজের চাপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারন নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ করতে হবে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সূত্রধর ডিজিটাল বাংলা নিউজকে বলেন, এবছর উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ৪৩ টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এ বছর পৌর সভায় ৫ টি, সদর ইউনিয়নে ২টি, উজানচর ইউনিয়নে ৬ টি, দরিয়াদৌলত ৩ টি, ছলিমাবাদ-৩ টি, রুপসদী ৬টি, তেজখালি-৩ টি, ফরদাবাদ ইউনিয়নে-১০টি, মানিকপুর ইউনিয়নে ৩ টি, দরিকান্দি ১টা এবং ছয়ফুল্লাকান্দি ১টা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের হয়ে এবার অস্কারে যাচ্ছে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’

বিনোদন ডেস্কঃ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অস্কারের ৯৫তম আসরের সেরা ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম (বিদেশী ভাষা প্রতিযোগিতা) বিভাগে বাংলাদেশ থেকে লড়বে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৯৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটির সাবমিশন কোঅর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মারুফ।

২০২৩ সালের ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৫তম অস্কারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। এর আয়োজনে থাকছে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে ২৪টি শাখায় দেয়া হবে পুরস্কার।

জানা যায়,গত ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের কার্যালয়ে ছবি দুটি দেখার পর মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবিকে চূড়ান্ত করে ৯৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটি ও অস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান, চলচ্চিত্র সমালোচক অধ্যাপক আবদুস সেলিম, চলচ্চিত্র সমালোচক ও পরিচালক শামীম আখতার, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু এবং চিত্রগ্রাহক পংকজ পালিত।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন খান, মাহমুদ আলম, বাবলু বোসসহ আরও অনেকে।

 

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি-বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়ে ৩৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু বজ্রপাতের কারণে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি ও হরিয়ানার গুরুগ্রামে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। খবর আল জাজিরা।

টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে এরই মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভূমিধস। ক্ষতির মুখে পড়েছে অনেক ঘরবাড়ি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শহর দুটির সব স্কুল ও কলেজ। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। যার কারণে রাস্তায় দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। এতে অফিসগামীসহ যানজটের ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গতকালও (শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর) চার ঘণ্টা জ্যামে বসে ছিলাম। বৃষ্টির পানির কারণে রাস্তার পরিস্থিতি অনেক খারাপ। রাস্তাগুলো ডুবে গেছে। এ পরিস্থিতিতে রাস্তায় বের হওয়া অনেক ভোগান্তির।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যে গত পাঁচ দিনে বজ্রাঘাতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাত থেকে নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হবে, এ বিষয়ে নির্দেশিকা দিয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমে ভারতে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে প্রচুর বজ্রপাত হয়। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর ভারতে বর্ষাকাল। জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ভারতে অস্বাভাবিক বজ্রপাত হচ্ছে এবং এর কারণে মৃত্যুর হারও বাড়ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের বজ্রপাতের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। এর ফলে মানুষজনের মাঝে উদ্বেগও বাড়ছে। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, জলাশয় কমে যাওয়া, দূষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে।

 

গভীর রাতে গৃহবধুর ঘরে ঢুকতে গিয়ে দায়ের কোপে যুবক আহত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে গভীর রাতে এক সন্তানের জননী গৃহবধুর ঘরে ঢুকতে গিয়ে দায়ের কোপে এক যুবক আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কিশামত শিমুলবাড়ী ঝাঁউকুটি এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অভিযোগে জানা, ওই গৃহবধুর স্বামী কাজের সন্ধানে ঢাকায় থাকার সুবাদে একই এলাকার মৃত ছফর আলীর ছেলে লুৎফর রহমান তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিভিন্ন রকম হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাত লুৎফর। এক পর্যায়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে লুৎফর রহমান আবারও ওই নারীর শয়ন ঘরের পাশে এসে নারীকে নিচু স্বরে ডাকতে ডাকতে ঘরের দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলে। কিন্তু ওই নারী তাতে সাড়া না দিলে লম্পট লুৎফর টিনের বেড়া টপকিয়ে ভিতরে ঢোকে। এ অবস্থায় নিজের ইজ্জত বাঁচাতে ওই নারী দা দিয়ে লুৎফরকে আঘাত করলে তার কপাল ফেঁটে যায়। চিৎকার চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে লম্পট লুৎফর কৌশলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় মজিবর রহমান ও মমিনুল ইসলাম জানান, ওই নারীর স্বামী কাজের সন্ধানে ঢাকায় থাকায় লুৎফর গত এক বছর থেকে ওই নারীকে প্রায় সময় কু-প্রস্তাব দিতো। ওই নারী তার ডাকে সারা না দেওয়ায় লম্পট লুৎফর তাকে জোড়র্পবক ধর্ষন করার জন্য গেলে তাকে দা দিয়ে কোপায়। দায়ের কোপে লম্পট লুৎফর আহত হয়। আমরা লম্পট লুৎফরের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। ।

ভুক্তভোগী গৃহবধু (৩০) বলেন, অনেক দিন থেকে লুৎফর আমাকে তার সাথে দৈহিক মেলামেশা করার জন্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় সে জোর পুর্বক ধর্ষনের হুমকি দেয়। সেদিন রাতে সে বেড়া টপকিয়ে আমার বাড়ীতে ঢোকে এবং আমাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। আমি ইজ্জত বাঁচাতে দা দিয়ে ওকে আঘাত করি। পরে সে পালিয়ে যায়। আমি এ নির্যাতনের বিচার চাই। তিনি আরও জানান, অভিযোগ দেওয়ার তিনদিন অতিবাহিত হলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় চরম দুচিন্তায় আছি। এদিকে লম্পট লুৎফর হুমকি- ধামকি অব্যাহত রেখেছে।

ভুক্তভোগীর বড় বোন জানান, বোন জামাইয়ের কোন জমিজমা না থাকায় আমার বাড়ীতে থাকতো। আমার বোন জামাই ঢাকায় থাকায় লম্পট লুৎফর প্রায় সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসতো এবং রাতের অন্ধকারে এসে আমার বোনকে বিরক্ত করতো। এর আগেও অনেক বার ধর্ষন করার জন্য বাড়ীতে এসেছে লম্পট লুৎফর। এ বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই জানেন। আমি লম্পট লুৎফরের উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদুল হক জানান, লোকমুখে ঘটনা শুনে সকালে ওই বাড়ী গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। ওই গৃহবধুকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত লুৎফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ওই নারীকে চিনি না।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।