ঠাকুরগাঁওয়ে নসিমনের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ১

হুমায়ুন কবির,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নসিমনের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বেল্লাল (২০)নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলার বড় খচাবাড়ী সোনালী পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বেল্লাল সদর উপজেলা বাহাদুর পাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ বাবুর ছেলে।

bike-nosimon collision

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খোচাবাড়ী হাট থেকে গরু বোঝাই একটি নসিমনের সাথে অপর দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লাগে বেল্লালকে ছিটকে পরে  গুরুতর আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় বেল্লালকে আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুরে নেয়ার পথিমধ্যে বেল্লালের মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও থানার (ওসি) কামাল হোসেন সাথে কথা হলে তিনি জানান। ঘটনার কথা শুনেছি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনা সেই ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ বিষয়টি দেখবেন মর্মে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে চা শ্রমিকদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ চা শ্রমিকেরা মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যেভাবে চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিবেন।

শনিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চা শিল্প মালিকদের বৈঠকে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়। চা বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহ আলমের নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েনে। তিনি রাত আটটায় বলেন, ‘পুরো শ্রমিকজাতি চেয়ে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে। তিনি মজুরি ঘোষণা করেছেন শ্রমিকেরা মেনে নিয়েছে। কাল থেকে কাজে ফিরে যাবে। তিনি মানসম্মত মজুরি নিধারণ করে দিয়েছেন তাঁর প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।’

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কিছু সাধারণ শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে আন্দোলন করতে চায়, তাঁরা কখনো চা শ্রমিকের মঙ্গল চায় না।’ কালিঘাট চা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অভান তাঁতি বলেন, ‘আমরা মানসম্মত মজুরি পেয়েছি। আমরা কালিঘাট নাট মন্দিরে সাধারণ শ্রমিকেরা জড়ো হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল শ্রমিকরা। ঘোষণা দেওয়ার পর এখন সবাই খুশি, আমাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি নাই।’

প্রসঙ্গত: ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চলতি মাসের ৯ আগস্ট থেকে চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ও পরে ১৩ আগস্ট থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করে আসছেন চা শ্রমিকরা। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও সেটা মানছেন না সাধারণ শ্রমিকেরা। আন্দোলন সফল করতে সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ অবরোধ করতে দেখা গেছে তাঁদের। দাবি আদায়ে গত কয়েক দিন ধরে বেশ উত্তাল ছিল চা বাগানগুলো। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে খবর আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে সভা করবেন। শনিবার বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এতে সাধারণ শ্রমিকেরা মেনে নেন।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ  বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১ থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ. কে. এম. জাকির হোসেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট জনরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সরকার ঘোষিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণের নির্দিষ্ট জায়গার প্রস্তাব চাওয়া হলে বেশ কয়েকটি জায়গার পক্ষে প্রস্তাব আসে। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার পর উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতি তিনটি জায়গা নালিয়ার দোলা, দাসের হাটের ছড়া ও টগরাইহাট প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

নালিয়ার দোলায় কৃড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন সরকার, আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি চাষী করিমসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে দাসের হাটের ছড়ায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সাইদ হাসান লোবান, কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরবক্ত এবং  টগরাইহাটে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন  ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আলী।

এসময় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন জায়গা নির্ধারনের পাশাপাশি অস্থায়ী ক্যাম্পাস ভাড়া নিয়ে  জরুরী ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য  প্রস্তাবিত এ তিনটি জায়গার নাম সংশ্লিষ্ট কমিটির নিকট তুলে ধরা হবে।

সকলের মতামত শোনার পর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ. কে. এম জাকির হোসেন নতুন এ কৃষি বিশ্ববিদ্যালকে বিশ্ব মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।  কুড়িগ্রামের উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ চাওয়া হলে তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেন। সকলের মতামতের ভিত্তিতে যে জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করলে ভালো হবে সেই স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেখানে স্থাপনের কথা জানান। পাশাপাশি স্থায়ী ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করার কথা বলেন তিনি।

মতবিনিময় সভার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জেলার মানুষের মাঝে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

নওগাঁয় বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষ করে লাভবান হলেন মৎস্যচাষী সাইদুর

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছের রেণু পোনা উৎপাদন এবং বিপনন করে লাভবান হয়েছেন সাইদুর রহমান নামের এক খ্যাতিমান মৎস্য হাচারী ব্যবসায়ী। অন্যান্য মাছের থেকে রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন করে অধিক লাভবান হয়েছেন তিনি। লাভবান হওয়ার আশায় এখান থেকে পোনা নিয়ে নিজ নিজ পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করছেন অন্যান্য পুকুর মালিকরাও।

নওগাঁ’র প্রথিতযশা একজন মৎচাষী সাইদুর রহমান। যিনি মাছ চাষ করে জিরো থেকে হয়েছেন হিরো। বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত মৎস্যচাষী। অর্জন করেছেন জেলা বিভাগ এবং জাতীয় পুরস্কার। তিনি রানীনগর উপজেলার নলামারা খালের স্লুইসগেট এলাকায় ২০ বিঘা জলাবিশিষ্ট একটি পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে রঙিন মাছের রেনু পোনা উৎপাদন শুরু করেছেন। পুকুরেই প্রাকৃতিকভাবে মা মাছ থেকে রঙিন মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করছেন। বানিজ্যিকভাবে সেসব পোনা অন্যান্য মৎস্যচাষীদের নিকট বিক্রিও শুরু করেছেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে ঐ জলা থেকে নীট মুনাফা করেছেন প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা। তিনি এ ক্ষেত্রে খুব আশাবাদী।

রঙিন মাছের পোনা উৎপাদনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য মাছ চাষীদের মধ্যে ব্যপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়। তারা এখান থেকে রঙিন মাছের পোনা সংগ্রহ করে নিজেদের পুকুরে রঙিন মাছ শুরু করেছেন। অন্য মাছের থেকে এই মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। স্বাভাবিক অন্য মাছের চেয়ে রঙিন মাছের চাহিদা বেশী বলে এসব মৎস্যচাষীরা ইতিমধ্যেই অনুভব করেছেন এবং সেইা অনুভব থেকেই তাদের পুকুরে বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছের চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মাছের পরিচর্যা করতে কর্মসংস্থান হয়েছে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের। তারা এখানে শ্রম দিয়ে প্রাপ্ত মজুরী দিয়ে তাদের সংসারের প্রাত্যহিক ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. এমামুল এহসান জানিয়েছেন উক্ত সাইদুর রহমানের রঙিন মাছের রেনু পোনা উৎপাদনে সাফল্যের বিষয়টি মৎস্য বিভাগ অবহিত রয়েছে। বর্তমানে বাজারে রঙিন মাছ খাওয়াসহ এ্যাকুইরিয়ামে প্রদর্শনের জন্য বিশেষ চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই মৎস্য বিভাগ এ ক্ষেত্রে বিশেষ উৎসাহ প্রদান করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাইদুর রহমানসহ অন্য যারা এই মাছ চাষে আগ্রহী তাদের সব রকমের সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

নওগাঁ জেলা এমনিতেই মৎস্য চাষে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত। গতানুগতিক মাছ চাষের পাশাপাশি রঙিন মাছ চাষীদের আগ্রহ জেলাকে এক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

রায়পু‌রে ‌ভি‌ডিও ক‌লে গৃহকর্মীর আত্মহত্যা, লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর প্র‌তি‌নি‌ধিঃ লক্ষ্মীপু‌রের রায়পু‌রে প্রে‌মি‌কের স‌ঙ্গে ভি‌ডিও ক‌লে পান্না আক্তার (১৯) না‌মে এক গৃহকর্মী আত্মহত্যা ক‌রে‌ছে ব‌লে অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে।  শ‌নিবার (২৭ আগস্ট) আনুমা‌নিক সকাল ৯ টায় রায়পুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড দ‌ক্ষিণ দেনা‌য়েতপুর ‌মিয়া রাজা বেপারী বা‌ড়ির আ‌মিন ম্যানশ‌নের ৫ তলা ভব‌নের ৩ য় তলার মোঃ নুরল আ‌মিন (৫৮) এর ফ্ল্যা‌টের সি‌লিং ফ্যান থে‌কে পান্না আক্তার (১৯ )’র লাশ উদ্ধার ক‌রে রায়পুর থানা পু‌লিশ।

সূ‌ত্রে জানা যায়, নিহত পান্না আক্তার উক্ত ঘ‌রে কাজ কর‌তেন। পান্না আক্তার ৫নং চরপাতা ইউ‌নিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড পুর্ব চরপাতা হাওলাদার বা‌ড়ির আবদুল হা‌মি‌দের মে‌য়ে।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, পান্না আক্তার যশোর জেলার প্রবাসী ইসরাফিল হোসেন না‌মে এক প্রবাসীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক হয় এবং মোবাইলে তাহাদের বিয়ে হয়। উভ‌য়ের বি‌য়ে পরবর্তী গত মঙ্গলবার ( ২৩ আগস্ট) যশোর থেকে ইসরাফিল এর পরিবার উক্ত পান্না আক্তার কে দেখতে আসে এবং পান্না আক্তার দেখে আবার চলে যায়।

শনিবার (২৭ আগস্ট) রাতে যে কোন সময় বাসার ভিতরের কক্ষে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিজ ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ব‌লে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয়।

নিহ‌তের মৃতদেহ উদ্ধার করে শ্রোতাল রিপোর্ট প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য লাশ প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা হেযবুত তাওহীদের মানববন্ধন ও সমাবেশ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ হেযবুত তাওহীদের পাবনা জেলা কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নৃশংসভাবে সংগঠনের এক সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের চৌরাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করেন হেযবুত তওহীদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, সহ-সভাপতি একরামুল হক,সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস মাহমুদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মানিক হোসেন, পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সুজন আলীসহ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,বিনা কারণে হেজবুত তাওহীদ কার্যালয় পাবনা জেলায় এক সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আহত করা হয়েছে আরো দশ জনকে।

ঘটনার এত দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ত্রাসীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তারা একটি মিছিল বের করে এবং মিছিলটি প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

বিশ্বে জ্বালানি সংকটের মধ্যেই প্রতিদিন বিপুল গ্যাস পোড়াচ্ছে রাশিয়া!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকটে দাম আকাশ ছোঁয়ার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়াতে শুরু করেছে রাশিয়া। জ্বালানি গবেষণা কোম্পানি রিস্তাদ এনার্জি বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে একথা জানিয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাশিয়া তাদের একটি গ্যাস স্থাপনায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে ফেলছে যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক কোটি ডলার।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের নতুন এই স্থাপনাটি ফিনল্যান্ড সীমান্তের কাছে, সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর-পশ্চিমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ গ্যাস আগে জার্মানিতে রপ্তানি করা হত। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত বিবিসিকে বলেছেন, রাশিয়া এই গ্যাস পুড়িয়ে ফেলছে। কারণ, এটি কোথাও বিক্রি করার নেই।গ্যাস পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রতিদিন প্রায় ৪৪ লাখ ৩০ হাজার কিউবিক মিটার গ্যাস পোড়ানো হচ্ছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর-পশ্চিমের পরটোভায়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্ল্যান্ট থেকে এই গ্যাস আসছে। জার্মানিতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া নর্ডস্টিম ১ পাইপলাইনের একটি কমপ্রেসর স্টেশনের কাছে এ গ্যাসক্ষেত্র অবস্থিত যেখান থেকে সমুদ্রের তল দিয়ে জার্মানিতে গ্যাস পাঠাত রাশিয়া।

গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রাশিয়া যন্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে এই পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তবে জার্মানির অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর গ্যাস নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। কিন্তু গবেষকরা ওই প্ল্যান্টে গত জুন থেকে উল্লেখ্যযোগ্য মাত্রায় উষ্ণতা ছড়ানোর বিষয়টি খেয়াল করেছেন। এর জের ধরে ইউরোপ জুড়ে জ্বালানির মূল্য নজিরবিহীন হারে বেড়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, এবছরের আরো কিছু আগের দিকে ফিনল্যান্ডের কিছু নাগরিক প্রথমে দেখতে পান যে রাশিয়ার সীমান্তের ওপারে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তারা মনে করেন সেখানে হয়তো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। নর্ডস্ট্রিম ওয়ান পাইপলাইন যেখান থেকে শুরু হয়েছে, পোর্তোভায়ার এই স্থাপনাটি তার খুব কাছে। এই পাইপলাইন দিয়েই জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। জুন মাসের পর গবেষকরা দেখতে পান যে ওই স্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসা তাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে।

ধারণা করা হয় ওই স্থাপনায় প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে ফেলার কারণে সেখানে এই তাপ উৎপন্ন হচ্ছে।

 

দেশের প্রথম ৬ লেনের সেতু “কালনা সেতু”

সিএনবিডি ডেস্কঃ খুব শীঘ্রই স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’র পর ‘কালনা সেতু’র দ্বারও উন্মোচন হতে যাচ্ছে। কালনা সেতুর উদ্বোধন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর আরেকটি স্বপ্নপূরণ হবে। এপারে নড়াইলের কালনা ঘাট। ওপারে গোপালগঞ্জের শংকরপাশা। মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদী। এ নদীর ওপরই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা সেতু। সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পর এখন লাইটিংসহ চলছে দৃষ্টিনন্দন কিছু কাজ। আগামি ৩০ আগস্টের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা হলেই চূড়ান্ত হবে উদ্বোধনের দিনক্ষণ।

কালনা ব্রিজ

দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু ‘কালনা সেতু’। নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) সেতু এটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। উভয় পাশে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা। এশিয়ান হাইওয়ের ওপর অবস্থিত এটি। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিলেটের তামাবিল হয়ে ঢাকা, ভাঙ্গা, নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, কোলকাতা পর্যন্ত সরাসরি ভূমিকা রাখবে। তবে এতদিন কালনা পয়েন্টে মধুমতি নদী ধারা বিচ্ছিন্ন ছিল। সেতু নির্মাণের ফলে সেই বিচ্ছিন্নতা আর থাকবে না। শুধু জাতীয় ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। ভারত, কোলকাতা, আসামসহ দেশের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর, বেনাপোল ও নোয়াপাড়া নদীবন্দরের মধ্যে যোগাযোগের মাইলফলক রচিত হবে। নড়াইলের লোহাগড়ায় ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) চালুসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এর আগে, গত ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কালনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কালনাঘাট থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। ফলে ঢাকার সঙ্গে নড়াইল, বেনাপোল, যশোর, খুলনাসহ আশপাশের সড়ক যোগাযোগ কোথাও ১০০ কিলোমিটার, কোথাও আবার ২০০ কিলোমিটার কমে যাবে। তবে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ নির্মাণ করা হলেও ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এ ধরনের সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’র সুফল পাচ্ছে না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ। ভাঙ্গা থেকে নড়াইল-যশোর-বেনাপোল পর্যন্ত বর্তমানে দুই লেন সড়ক চালু আছে। এই অংশে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পাধীন বলে জানিয়েছেন কালনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান।

“শেখ হাসিনাকে ভোটের মাঠে পরাজিত করা যাবে না”

মোঃমিনহাজ উদ্দীন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ শেখ হাসিনাকে ভোটের মাঠে পরাজিত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ২৬ আগস্ট শুক্রবার স্থানীয় রাজমহল কমিউনিটি সেন্টারে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকীর আলোচনা সভা ও মেজাবন অনুষ্ঠানে আ’লীগ নেতার এই মন্তব্য করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাহ হিরুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসানের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ মোতালেব সিআইপি।
শোক সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জহির উদ্দীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবণা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক চেয়ারম্যান বিজয় কুমার বড়ুয়া প্রমূখ। আলোচনা শেষে ৬ হাজার লোকের মেজবানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের সাথে আছে। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে পরিশ্রম করছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতির স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নতির উচ্চমাত্রায় নিতে কাজ করছেন।
আলোচনা সভায় আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, জাতির পিতার খুনীদের বিদেশ থেকে এনে অবিলম্বে রায় কার্যকর করতে হবে। জাতির জনকের শাহাদত বার্ষিকীতে শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামীতে যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে এসব ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে।
আলোচনা সভায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মির্জা কচির উদ্দীন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, আনোয়ার কামাল, সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মো. জোবায়ের, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জান মোহাম্মদ সিকদার, নুরুচ্ছফা চৌধুরী, শ্রীনিবাস দাশ সাগর, এডভোকেট হুমায়ুন কবির রাসেল, বিএমএ নেতা ডা. শাহ্ আলম, কাশেম মিয়া, ফরিদ আহমদ, নাজমুল হাছান মিন্টু, মুজিবুর রহমান, তৈয়বুল হক বেদার, আবুল কালাম আজাদ, এম কামাল উদ্দীন, মোজাহিদ বিন কাইছার, আজিজুর রহমান, মোহাম্মদুল হক, নুরুল ইসলাম, এমএস মামুন, মামুনুর রশিদ চৌধুরী, নুরুল হক, হারুনুর রশিদ রাশু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জহির উদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এলাহী আরজু, আব্দুল হান্নান ফারুক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিদওয়ানুল হক সুজন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, কৃষকলীগের সভাপতি আলী আহমদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তাঁতী লীগের আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন, ছাত্রলীগের সভাপতি একেএম আসিফুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রিয়াদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিএনবিডি ডেস্কঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (২৭ আগস্ট)। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের শোকের মাসের এদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এ উপলক্ষ্যে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এ উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।

নজরুলের সৃষ্টিকর্ম প্রসঙ্গে নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন, যার প্রভাব তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। সেই সময়ে ধর্মান্ধ মুসলমানদের তিনি পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন বলিষ্ঠ নেতার মতো।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

কাজী নজরুল ছিলেন চির প্রেমের কবি। তিনি যৌবনের দূত। তিনি প্রেম নিয়েছিলেন, প্রেম চেয়েছিলেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী, কিন্তু তাঁর প্রেমিক রূপটিও প্রবাদপ্রতিম। তাই, মানুষটি অনায়াসেই বলতে পারেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং ধানমণ্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

বাংলা কবিতায় নজরুলের আবির্ভাব একেবারেই ধূমকেতুর মতো। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন, তা নিয়ে এখনও গবেষণা হতে পারে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)