টিলা ধসে ৪ চা শ্রমিকের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা-বাগানে টিলা ধসে ৪ চা-শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ৪জন নারী ঘর লেপার জন্য মাটি সংগ্রহ করতে আসেন। টিলা থেকে মাটি কেটে নেওয়ার সময় হঠাৎ সেটি ধসে পড়ে। সেসময় মাটি চাপায় তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।’

লাখাইছড়া চা-বাগানে ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর সত্যতা নিশ্চিত করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, মাটি কাটতে গিয়ে ঠিলা ধসে ৪জনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা ৪ জন এই নারী, তারা হলেন, চা-শ্রমিক হীরামনি ভূমিজ (৩০), পূর্ণিমা ভূমিজ (২৮), রাধা মাহালি (৪০) ও শকুন্তলা ভূমিজ (৪০)। আহতদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ডলার ব্যয়ে মিতব্যয়ী হই: অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করি

চলমান বৈশ্বিক সংকটে সংবাদপত্রের বিভিন্ন প্রতিবেদন পড়ে আমরা সাধারণ মানুষ কয়েকটি ‘শব্দ‘এর সাথে বেশ পরিচিত হয়েছি। যেমন, ‘দেশের অর্থনীতি, রিজার্ভ ফান্ড, রেমিটেন্স, ইত্যাদি। সকল দেশেই সংকট মোকাবেলা করার জন্য সরকারি কোষাগারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চিত থাকে। এই সঞ্চিত অর্থই ‘রিজার্ভ ফান্ড‘। একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে ঐ দেশের এই রিজার্ভ ফান্ড এর পরিমাণের উপর। কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যত বেশি রিজার্ভ ফান্ড আছে, সে দেশের অর্থনীতি তত বেশি শক্তিশালী। সুতরাং দৈনন্দিন অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার না করে, সঞ্চয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ রেমিটেন্স ও রপ্তানী আয়। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সেবা খাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ (Foreign Direct Investment) এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ পরিবারের সদস্যদের স্বচ্ছলতার জন্য দেশে পাঠায়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থই ‘রেমিটেন্স‘। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে রেমিটেন্স থেকে। যদিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ভিন্ন পথে চলে যায়, সরকারের হাতছাড়া হয়। যদি প্রবাসীদের পাঠানো পুরো অর্থ বৈধ উপায়ে দেশে আনানোর ব্যবস্থা করা হতো, তবে বাংলাদেশে রেমিটেন্স এর পরিমাণ অনেক বেশি হতো। কিন্তু প্রবাসীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও জরুরী প্রয়োজনে কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত নিকটজনের কাছে পৌঁছানোর জন্য অবৈধ হুন্ডির মাধ্যম বেছে নেয়।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বর্ননা করছি। আমার বড় মেয়ে কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া শেষে চাকুরী করছে। সম্প্রতি সে তার একমাত্র ছোটবোনকে উপহার কেনার জন্য কিছু পরিমাণ মার্কিন ডলার কানাডার রয়েল ব্যাংক অব কানাডা (RBC)‘র মাধ্যমে পাঠিয়েছিল। সেই ডলারের সমমূল্যের  বাংলাদেশি টাকা বাংলাদেশের ব্যাংকের একাউন্টে জমা হতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারনেই হয়তো প্রবাসীরা বাংলাদেশে তার পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় বা কোন জরুরি প্রয়োজনে বা তাৎক্ষণিক যে কোন প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে  বাধ্য হয়েই অবৈধ হুন্ডির মাধ্যম ব্যবহার করেন। কারন হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ গ্রাহক তার প্রবাসী নিকটজনের টেলিফোন বার্তা পাওয়ার অল্পক্ষনের মধ্যেই হাতে পেয়ে যায়। সুতরাং বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার আয় বৃদ্ধির জন্য বৈধ উপায়ে প্রেরিত অর্থের সমমূল্যের বাংলাদেশি মুদ্রা গ্রাহকের নিকট দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

যাই হোক, সরকার দৈনন্দিন অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যেমন জ্বালানি, ঔষধ, শিল্পের কাঁচামাল, দেশে উৎপাদিত হয় না এমন খাদ্য দ্রব্যসহ অসংখ্য প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানির জন্য ব্যয় করে। সরকার সর্বদা আমদানি ব্যয় ও রপ্তানী ব্যয় সামঞ্জস্য রাখতে সচেষ্ট থাকে। এই আমদানি ব্যয় যখনই দৈনন্দিন অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার তুলনায় বেশি হয়, তখনই সরকারকে রিজার্ভ ফান্ড থেকে খরচ করতে হয়। আমদানি ব্যয় বাড়লে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

সরকার সাধারণতঃ রিজার্ভ ফান্ড থেকে খরচ করতে চায় না। আমদানী ব্যয় কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিলাসবহুল পন্য, অপ্রয়োজনীয় পন্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রকার শর্তারোপ করে থাকে। দেশে উৎপাদিত হয় এমন দ্রব্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠিন শর্ত আরোপ করা হলে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে অভিজ্ঞজন মনে করেন।

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে জ্বালানি তেল আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটে বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কষ্ট হলেও, সাধারণ মানুষ বাস্তবতার নিরিখে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। সরকারি গাড়ী ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের জরুরি সভা ভার্চুয়ালি করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে একটি বড় আকারের ডলার সাশ্রয় হবে। তবে সরকারি গাড়িতে যথেচ্ছ জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। সরকারি জ্বালানি তেলের বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহার রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, কর্মকর্তা অফিসে থাকাকালীন সময়ে সরকারি পরিবহনের সরকারি চালকগণ ডলার ব্যয়ে উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জ্বালানি ব্যবহার করে এয়ানকন্ডিশন চালু করে বিশ্রাম নিতে থাকেন। ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ীতে এরকম দেখা যায় না। কারন সরকারী পরিবহনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয় স্লিপ এর মাধ্যমে। বিল পরিশোধ করা হয় সরকারী তহবিল থেকে। অপরদিকে ব্যাক্তিগত গাড়ীর জ্বালানি ক্রয় করতে মালিকের পকেট থেকে ক্যাশ টাকা ব্যয় করতে হয়।

দৈনন্দিন জীবনের জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারকে বাধ্য হয়ে বর্ধিত মূল্যেই জ্বালানি আমদানি করতে হয়। নিয়মিত অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় এই বর্ধিত মূল্য পরিশোধ করতে অপারগ হইলে সরকার  রিজার্ভ ফান্ড থেকে খরচ করতে বাধ্য হয়। রিজার্ভ ফান্ড কমলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হবে। সাধারণত  দুর্যোগকালীন সময় যখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস সংকুচিত হয়, তখন সংকট মোকাবেলায় সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আমদানি করতে রিজার্ভ ফান্ড ব্যবহার করে।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। চলতি আগস্টের প্রথম সাত দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৫৫ কোটি ডলারের। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। রেমিটেন্সের এই ধারাবাহিকতায় প্রমাণ হয় যে, বৈশ্বিক সংকট থাকলেও রেমিটেন্সের প্রবাহে ব্যাত্যয় ঘটেনি। কিন্তু বৈশ্বিক সংকটে জ্বালানী তেল আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ভূত অতিরিক্ত ব্যয় মোকাবেলায় সরকার যেমনি সরকারি বিদেশ ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, ঠিক তেমনি বেসরকারি ও ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর পরিহার করা প্রয়োজন। কারন আমরা বেসরকারি বা ব্যাক্তিগত সফরে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার ব্যয় করি। আমরা বিদেশ ভ্রমনে প্রয়োজনীয় ডলার যেভাবেই সংগ্রহ করি না কেন, সব বৈদেশিক মুদ্রা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই সরবরাহ করা হয়, যা রেমিটেন্স ও রপ্তানী আয় ও অন্যান্য উপায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়। আমরা যদি  জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ না করি, অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করি তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার সাশ্রয় হবে।

এছাড়া বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বিলাসী দ্রব্যাদি আমদানি করা হয়। আমরা বলতে পারি, আমার ব্যক্তিগত টাকায় আমি আমদানীকৃত বিলাসী দ্রব্যাদি ব্যবহার করবো, তাতে সরকারের কি। কিন্তু এই বিলাসী দ্রব্যাদি আমদানি করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সুতরাং আমরা যদি আমদানীকৃত দ্রব্যের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করি এবং বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য ব্যবহার করি, তবে আমদানিও কমবে, ডলারও সাশ্রয় হবে। ফলে সংকটকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে রিজার্ভ ফান্ড থেকে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করা প্রয়োজন হবে না। দেশের অর্থনীতি মজবুত থাকবে।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

চা শ্রমিকদের দুঃসহ দিনজীবন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ‘দেশের চা শিল্পের ১৬৮ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি ১৬৮ টাকাও হলো না। এখনও আমাদের মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। ২ কেজি চালের মূ্ল্যর সমান। দুই হালি ডিমের দামের সমান।’- কথাগুলো বলছিলেন চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী। তার এই একটি কথাই স্পষ্ট করে দেয় চা শ্রমিকদের দুঃসহ দিনযাপনের ইতিবৃত্ত। চা শ্রমিকরা এখনও দৈনিক সর্বোচ্চ বেতন ১২০ টাকা হলেও চা মালিকদের দাবি শ্রমিক প্রতি মাথাপিছু দৈনিক ব্যয় তাদের ৪০০ টাকা। কিন্তু তারপরও কেন শ্রমিকদের অসন্তোষ? বিষয়টি জানতে কথা হয় বেশ কয়েকজন চা শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের সদস্যের সঙ্গে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৬৭টি চা বাগানে ৫ লাখ চা শ্রমিকের মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক প্রায় ১ লাখ। সেই একজন শ্রমিকের মজুরির ওপর কমপক্ষে ৫ জনের ভরণপোষণ নির্ভর করে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ৩০০ টাকা মজুরি পেলেও তো সেটা সম্ভব হবে না। সরকারদলীয় এমপি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুশ শহীদ জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের জন্য ৫০০ টাকা মজুরির পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন।

চা বাগান সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, শ্রমিকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নবম স্থানে উঠে এসেছে। এমনকি করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চা শ্রমিকরা উৎপাদনে সক্রিয় থাকায় ২০২১ সালে দেশে ৯৬ দশমিক ৫০৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। চা শ্রমিক ইউনিয়ন যেখানে দাবি করেছে মাত্র ৩০০ টাকা। আর প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চা শ্রমিকরা দৈনিক ২৩২ রুপি (২৭৭ টাকা) পেয়েও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ শীর্ষ চা উৎপাদনকারী দেশ চীন ও কেনিয়ার চেয়ে বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। এ তো শুধু মজুরির কথা। চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৈষম্যহীনভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো।

সরকারি তথ্য মতে, দেশে মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ ডলার অর্থাৎ ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৮০ টাকা; সেখানে চা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ আয় মাসিক ৩,৬০০ টাকা হিসাবে বার্ষিক মাত্র ৪৩,২০০ টাকা। বর্তমানে চা শ্রমিকরা দৈনিক সর্বোচ্চ মজুরি পান ১২০ টাকা। সব শ্রমিকের পক্ষে এটা অর্জন করা সম্ভব নয়। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি হওয়ার কথা প্রতি দুই বছর অন্তর। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পূর্বের চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তী পর্যায়ে ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তিতে চা শ্রমিকদের মজুরি ১০২ টাকা থেকে ১২০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১ জানুয়ারি হতে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার কথা। বর্তমানে চুক্তির মেয়াদ ১৯ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি স্বাক্ষরে চা শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার দাবি জানানো হলেও মালিক পক্ষ কোনো আলোচনায় আসেনি। অবশেষে চা শ্রমিক ইউনিয়ন দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ২ ঘণ্টা করে ৪ দিনের কর্মবিরতি শুরু করেছে।

গত ১৩ আগস্ট থেকে দেশের ১৬৭টি চা শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু করে। বাগানে বাগানে মিছিল, সমাবেশ, পথসভা ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও পালন করছে তারা। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। প্রথমে তিনি চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বসেন।

তবে চা বাগান মালিক পক্ষ চা শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত নয় বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, মজুরি বৃদ্ধি করা হলে চা বাগানগুলোকে দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে বলে দাবি করেন বাংলাদেশি চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী।

তিনি বলেন, পাতা না তুললে দুইপক্ষেরই ক্ষতি। এ মৌসুমে একজন শ্রমিক ৫০ কেজি থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত পাতা তুলতে পারে। সপ্তাহে দুই-তিন হাজার টাকা বেশি রুজি করতে পারে। একজন চা শ্রমিকের পেছনে মজুরি, রেশন, বাসা, মেডিকেল ও বোনাসসহ মালিকের মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানানো হয়। প্রকৃত অর্থে চা শ্রমিকরা কী পান?

বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে পাঁচ, সাত সদস্যের চা শ্রমিক পরিবার কোনোমতেই চলতে পারছেন না বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।

শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক মনি গোয়ালা ও দেওড়াছড়া চা বাগানের মায়া রবিদাস বলেন, আমরা চা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মজুরি হিসাবে মাসে ৩,৬০০ টাকা পাই। আর সপ্তাহে সাড়ে ৩ কেজি হারে গম দিলেও ওজনে ৩ কেজিই হয়। মাসে ১২ কেজি। তবে ১২ বছরের নিচে সন্তান থাকলে গমের পরিমাণ কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। চিকিৎসা হিসাবে বাগানের পক্ষ থেকে যেটুকু পাওয়া যায় তা অতি নগন্য।

চা বাগানেই বেড়ে ওঠা সন্তোষ রবি দাস অঞ্জনের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএস পরীক্ষার। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের জন্য যত ভর্তুকির কথা বলা হয় তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয় না। বরং দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা বলতে প্যারাসিটামল আর নাপা। আর এরপর টি স্টেটের হাসপাতালে প্রাথমিক কাটা-ছেঁড়ার চিকিৎসা হয়। সেখানেও ১-২ জন চিকিৎসক থাকে যাদের অনেকে আবার এমবিবিএস নয়, ডেন্টাল থেকে পাস করা। এরপর জরুরি কিছু হলে ওসমানী হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে না হলে ঢাকায়। কিন্তু এই সব খরচ তো চা শ্রমিককেই দিতে হয়।

অবশ্য এ সব ভর্তুকির বিষয় পাশ কাটিয়ে যে বিষয়টি তার কথায় প্রাধান্য পায় তা হলো অর্থনৈতিক অধিকার। তিনি বলেন, তাই শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক  শ্রমআইন প্রণয়ন এবং শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান ও ৯০ দিন কাজ করলেই সব শ্রমিককে স্থায়ী করার বিধান বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বলেছি সবার স্বার্থে আপাতত আন্দোলন বন্ধ করতে। আজ ও আগামী ২৩ তারিখ মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও আমরা তিনপক্ষ মিলে সভায় সবার কথা তুলে ধরব। এই মুহূর্তে মালিকরা কত টাকা মজুরি দেবে, সেটা বলার এখতিয়ার আমার নেই। সেটা আলোচনায় বসে তারা দুইপক্ষ ঠিক করবে। দরকার হলে বার বার আলোচনা হবে। আমরা চাই, একটি শ্রমবান্ধব পরিবেশ, শিল্পবান্ধব পরিবেশ।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নিপেন পাল বলেন, মজুরির বিষয়ে মহাপরিচালক কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। তিনি আমাদের আন্দোলন বন্ধ রেখে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছিলেন, আমরা সেটা মানিনি। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলন বন্ধ করে আলোচনা হতে পারে, আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আলোচনা সম্ভব হবে না এমনটা তো নয়।

‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস ফোর’ এ দেখা যাবে জনি ডেপকে !

বিনোদন ডেস্কঃ দর্শকদের জাদুর দুনিয়ায় মন্ত্রমুগ্ধ করে এবার আসছে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ সিরিজ। জনপ্রিয় এই সিরিজের দুটি কিস্তিতে ‘গেলাট গ্রিন্ডেলওয়ার্ল্ড’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনি ডেপ। আর এবার ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস ফোর’-এ আবারও দেখা যাবে জনি ডেপকে।

অ্যাম্বার হার্ড গৃহ নির্যাতনের অভিযোগ তোলার পর তৃতীয় কিস্তিতে ডেপের পরিবর্তে নেয়া হয়েছিল ম্যাডস মিকেলসেনকে। তবে এবার মিকেলসেন নিজেই সম্প্রতি তার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সময় তো বদলেছে, আদালতেও তিনি জিতেছেন, ডেপ ফিরতেই পারেন এখন। তাই আশা করা যাচ্ছে  ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস ফোর’-এ আবারও দেখা যেতে পারে জনি ডেপকে। তিনি আরো বলেন, জনি ডেপের চরিত্রে রাজি হতে ইতস্তত বোধ করছিলেন তিনি। কারণ তিনি জনির ভক্ত। এজন্য তিনি জনিকে অনুকরণও করতে চাননি।

উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারের বড় ধাক্কা সামলে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন জনি ডেপ। নেটফ্লিক্সের ফ্রেঞ্চ ড্রামা ‘জিন দু বারি’তে দেখা যাবে জনি ডেপকে। এই ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন ফরাসি রাজা ‘লুই ফিফটিন’-এর চরিত্রে। এছাড়াও ইতালীয় শিল্পী অ্যামেডিও মোডিগ্লিয়ানিকে নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করছেন তিনি।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রশিক রায় জিউ মন্দিরে আবারও ১৪৪ ধারা জারি

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে অবস্থিত শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে আবারও ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এ ১৪৪ ধারা জারির আদেশ প্রদান করেন সদর ইউএনও আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরের জমির দখল নিয়ে হিন্দুধর্মের সনাতন ও ইসকন পন্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিলো। ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রশিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গাপূজা নিয়ে ইসকন মতাবলম্বীদের সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইসকনভক্তদের হামলায় ফুলবাবু নামে একজন সনাতন ধর্ম অনুসারী নিহত হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন মন্দির সিলগালা করে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নিজে নেন।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরের সনাতন ও ইসকন ধর্মাবলম্বীরা মন্ডপে জন্মাষ্টমী পূজা প্রস্তুতিতে পূর্বের ন্যায় উত্তেজনা বিরাজ করে। ফলে ১৮ আগষ্ট ভোর ৬টা থেকে আজ ২০ আগষ্ট রাত ১২টা পর্যন্ত মন্দির ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়া হয়। এ সমস্যা সমাধানে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় একাধিকবার এ বিষয় উত্থাপন করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সদর ইউএনও আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান বলেন, “ওই মন্দিরের জমি নিয়ে স্থানীয় সনাতন ও ইসকন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০০৯ সালে এখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। জন্মাষ্টমী পূজা উদযাপনে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”

সোমালিয়ায় একটি হোটেলে জঙ্গি হামলায় ১০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর একটি হোটেলে জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাবের হামলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৯ আগস্ট) রাতে ‘হায়াত হোটেলে’ এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, হামলাকারীরা ভবনে প্রবেশ করে গুলি চালানোর আগে হোটেলের বাইরে দুটি বিস্ফোরণ ঘটায়। আল শাবাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হোটেলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াই চলছে। হোটেল থেকে বেশির ভাগ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আব্দিকাদির জানান, ওই ভবনের ভেতরে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে সোমালি বাহিনীর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের ওই হোটেল ভবনের একটি কক্ষে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে অধিকাংশ লোকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জঙ্গি হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত নয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে এর দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল শাবাবা গ্রুপ।

উল্লেখ্য, জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আল শাবাব। এই গোষ্ঠীটি দক্ষিণ ও মধ্য সোমালিয়ার বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

 

ডিমলায় সাংবাদিক বাদশা সেকেন্দার ভুট্টুর বাবার দাফন সম্পন্ন

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারী: ‘দৈনিক মানবকন্ঠ’ ও ‘দৈনিক চাঁদনী বাজার’ এর ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি এবং ডিমলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক বাদশা সেকেন্দার ভুট্টুর বাবা নুরুন্নবী ইসলাম দুলাল মারা গিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্তান্ত ছিলেন। মুত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে প্রেসক্লাব ডিমলার সভাপতি সাংবাদিক সারোয়ার জাহান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাবিবুল হাসান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম আতিক ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান মৃধাসহ প্রেসক্লাব ডিমলার সকল সাংবাদিক সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনগুলো গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রামের বাড়ি ডিমলা কোরানীপাড়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে শ্রী কৃষ্ণের ৫২৪৮ তম জন্ম তিথি উদযাপন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে শ্রী কৃষ্নের শুভ আবিভার পূর্ন্যতিথি জন্মাষ্টর্মী উপলক্ষে স্বল্প পরিসরে সামাজিম দূরত্ব বজায় রেখে পূর্জা অচর্না গীতা পাঠ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৯ আগষ্ট) সকাল দশটায় সাহেবগঞ্জ পালপাড়া সাবজনীন দূর্গামাতা মন্দির প্রাঙ্গনে আত্রাই উপজেলা জন্মাষ্টর্মী উদযাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আত্রাই উপজেলা জন্মাষ্টর্মী উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র নাথ পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী অনিক ইডসলাম, আত্রাই থানা তদন্ত ওসি লুৎফর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্কাছ আলী, সহ-সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা ববাদল, সাংঘঠনিক সম্পাদক ফজলেরাব্বী জুয়েল,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাপজ বেগম, আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক কামাল উদ্দিন টগর, বীর মুক্তি যোদ্ধা শ্রী নীরেন দাশ, সভাপতি আত্রাই উপজেলা হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ শ্রী স্বপন কুমার দত্ত, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার হালদার,বিমান কুমার সাহা, সহ-মহিলা সম্পাদিকা স্বরশতী কর্মকার, সহ-মহিলা সম্পাদিকা ছবি রানী দাশ, শ্রী সঞ্জয় কুমার দাশ, শ্রী উজ্জল কুমার মমহন্ত।

অনুষ্ঠানেবিভিন্ন বয়সী সনাতন ধর্মাবলী নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান টি সঞ্চলনা করেন আত্রাই উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ সাধারন সম্পাদক অমরেন্দ্র নাথ সাহা (রনি)। আলোচনা শেষে আত্রাই উপজেলা হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ এক বিশাল বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গনে জমায়েত হয়।

ফের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। গতকাল বুধবার ওনচন উপকূল থেকে পশ্চিম সাগরে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। গত মঙ্গলবার আমেরিকা পরমাণুবাহী ক্ষেপণাস্ত্র মিনিটম্যান-থ্রি পরীক্ষা করার পর উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় দুই মাস পর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ পিয়ংগান প্রদেশের ওনচন শহর থেকে পশ্চিম সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোঁড়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত মাসের প্রথম দিকে বেশ কিছু অস্ত্রের পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি। সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকা। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কত দূরে গিয়ে আঘাত হেনেছে তা এখনো বের করা যায় নি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামে মিত্রদের গ্রীষ্মকালীন মহড়া ২২ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং সম্ভাব্য কয়েক হাজার সেনা যোগ দেবে। এ বছর উত্তর কোরিয়া ব্যাপক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এরমধ্যে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রের শাস্তিস্বরুপ বিকৃতভাবে মাথার চুল কেটে দেওয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গান্ডিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র বিষ্ণু দেবকে শাস্তি স্বরুপ বিকৃতভাবে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তসলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার দুপুরে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রের বাবা বিনোদ দেব। পরদিন মঙ্গলবার অভিযোগের তদন্তের জন্য প্রধান শিক্ষক, নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্র ও তার অভিভাবকদের ইউএনও’র কার্যালয়ের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ইউএনও।

বিষ্ণুর পিতা বিনোদ দেব বলেন, ঘটনার দিন স্কুল ছুটি হওয়ার পরও বিষ্ণু বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুজি শুরু করি। পরে জানতে পারি যে, তার মাথার চুল কেটে দিয়ে প্রধান শিক্ষক ক্লাশে আবদ্ধ করে রেখেছেন। আমি ছেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। সোমবার সকালে আমি স্কুলে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তার লোকজনকে নিয়ে আমাকে হুমকি দেন। পরে আমি ছেলেকে নিয়ে ইউএনও’র কাছে আসি। তিনি ন্যায় বিচার করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির আরেক ছাত্র মোমিন জানান, আমি ও সহপাঠী জাহিদ হাসানের চুল আঁকাবাকা করে কেটে দিয়ে প্রধান শিক্ষক সকল ছাত্রকে বলেছেন, আমার কাছে ৭টি কাঁচি রয়েছে, কেউ যদি একটু চুল বড় রাখে তাহলে এমনভাবে কেটে দেবো। আমরা ভয়ে কয়েকজন মাথা ন্যাড়া করে নিয়েছি।

সংবাদকর্মীরা গত সোমবার দুপুরে ঘটনার বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে প্রধান শিক্ষক তসলিম উদ্দীন দ্রুত স্কুল ত্যাগ করে বেরিয়ে যান। অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা গতকাল ছিলেন না বলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি।পরে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র সিনহা জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের মাথার চুল বিকৃতভাবে কেটে দেওয়া শিক্ষকতা চাকুরীর নীতিমালা পরিপন্থী। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ওই শিক্ষককে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো।
বালিয়াডাঙ্গী ইউএনও যোবায়ের হোসেন বলেন, একজন অভিভাবক পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রের চুল বিকৃতভাবে কেটে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ১৬ আগস্ট বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই প্রধান শিক্ষককে আমার কার্যালয়ে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ওই প্রধান শিক্ষকের দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।