নওগাঁর আত্রাইয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অপর্ণের মধ্য দিয়ে আত্রাইয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (১৫ আগষ্ট) সকালে আত্রাই (আহসানগঞ্জ) রেলওয়ে ষ্টেশানের উত্তরপার্শে অস্থায়ী বেদীতে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া আত্রাই উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা কমপ্লেক্স এর সন্মুখে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকিকৃতিতে পুস্পস্তবক অপণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আত্রাই-রাণীনগর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ তারেক সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল, সাধারন সম্পাদক মোঃ আক্কাছ আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা (ভারপ্রাপ্ত) কমন্ডার আব্দুল মালেক মোল্ল্যা, বীর মুক্তি যোদ্ধা শ্রী নীরেন্দ্র নাথ দাস, বীর মুক্তি যোদ্ধা খালেকুজ্জামান বুলুসহ আ’লীগের সকল অঙ্গ সংগঠন, সরকারী- বেসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক কামাল উদ্দিন টগর, ইয়ূথ টিভি আত্রাই প্রতিনিধি সুজন কবিরাজ,বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

অপর দিকে উপজেলা আ’লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুব রহমানের প্রতিকৃতিকে পুস্পস্তবক অপর্ণের পর দলীয় কার্যালয় থেকে আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্র লীগ, মহিলা আ’লীগ যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতাকমীদের সমন্বয়ে উপজেলায় একটি বিশাল শোক র‌্যালী বের করা হয়।

ফুলবাড়ীতে ডাঃ আনোয়ার হোসেনের অপসারণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডাঃ আনোয়ার হোসেনের উপর প্রধান শিক্ষক সলিমুল্লাহ ও কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক মিথ্যাচার, অশোভন আচরণ প্রদর্শন এবং ফুলবাড়ী উপজেলা শিক্ষক সমিতি কর্তৃক অপসারণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ। গত রবিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা সদরের তিনকোণা মোড়ে  পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ সমবেত হয়ে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট রাতে উপজেলার দক্ষিণ কুটিচন্দ্রখানা জেলেপাড়া সরকারী প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সলিমুল্যাহ অসুস্থ হলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ  তোলেন ওই শিক্ষক। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র ব্যানারে ফুলবাড়ীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় শিক্ষকগণ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন ও অপসারণের দাবী জানান। এরই প্রতিবাদে রবিবার সকালে সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে প্রধান শিক্ষক ও কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডাঃ আনোয়ার হোসেন এর প্রতি অশোভন আচরণ, মিথ্যাচার এবং শিক্ষক সমিতি কর্তৃক অপসরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় জনগণের পক্ষে আব্দুল আজিজ বাবুল, মিজানুর রহমান মিজান, মেহেদি হাসান, মাহাবুল হক, জাহিদ হাসান নয়ন বক্তব্য রাখেন। পরে মানববন্ধনকারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করেন।

বদলগাছীতে স্কুলের মালামাল চুরি ও লুটপাটের অভিযোগ

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফতাব হোসেনকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দিয়ে বাঁধাপ্রদান, বিদ্যালয়ের দলিলসহ জমি বন্ধক ও বিভিন্ন মালামাল চুরিসহ নানাভাবে হেনেস্থা করার অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এ টি এম আব্দুল্লাহ ও তার ছোট ভাই দপ্তরী বুলবুল হোসেন এর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এ টি এম আব্দুল্লাহ গত ২২.০৩.২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সরকারি বিধি মোতাবেক কোন বিদ্যালয়ে শুন্য পদে প্রধান শিক্ষক যোগদান করলে সাথে সাথে তাকে সকল প্রকাল মালা-মাল, নথিপত্র, ফাইল, রেকর্ড ও তালাচাবিসহ সব কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু যোগদানের পর সহকারী শিক্ষক তার মত সব কিছু করতে থাকেন। বিভিন্ন ভাবে প্রধান শিক্ষকের উপর মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার শুরু করেন। কোন ভাবেই সে দায়িত্বভার ছাড়তে রাজি নয়। এলাকার অবিভাবক ও বিভিন্ন শিক্ষক এর কাছে থেকে প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন আব্দুল্লাহর একটি সিন্ডিকেট, নেটওর্য়াক আছে, কোন প্রধান শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও সবোর্চ্চ ৬মাসের মধ্যে বদলী নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এই সিন্ডিকেটের মূল শিক্ষক আব্দুল্লাহ এখন পর্যন্ত বিলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক কিদ্যালয়ে কখনো সরকারী শিক্ষক আবার কখনো প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর দীর্ঘ ৫মাস তার বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ করে কিছুদিন পূর্বে একটি স্টক রেজিষ্টার, কিছু মালা-মাল ও নথিপত্র দায়সাড়া ভাবে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ফাইলপত্র, রেকর্ড ও আলমিরাসহ সকল প্রকার তালাচাবি নিজের কাছে রেখে দেয়। ওই সহাকারী শিক্ষক এর বাড়ি একই গ্রামে (বিলাশবাড়ী) এবং তার ছোট ভাই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী। দুই ভাই মিলে প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যালয়ের সম্পদ চুরি এবং ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের কোন নিষেধ-বারন শোনেনা এবং সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করেনা। গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ে নৈশ্য প্রহরী তার বন্ধু ও পরিচিতদের নিয়ে আড্ডা দেয়। বিদ্যালয়ে ছাদে বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য সরকার কৃর্তক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে যায়।

আশ্রয় কেন্দ্রটি নির্মানের সময় ২০মিলি, ১৫মিলি, ১০মিলি রড ,স্টিলের ২০ফিট পাইপ, প্লাষ্টিকের ২০ফিট পাইপসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে আশ্রয়কেন্দ্রটি পুরাতন হয়ে গেলে পূর্বের প্রধান শিক্ষকগন ও এসএমসি কমিটির লোকজন মালামালগুলির হিসাব সংরক্ষণ করে ষ্টোর রাখা হয়।

পরবর্তীতে করোনা কালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকার কারনে সকারী শিক্ষক ও তার ভাই দপ্তরী মালামালগুলো রাতের অন্ধকারে বিক্রি করে দেয়। বিদ্যালয়ের ২০১৯সালের পূর্বের রেকর্ডপত্র, নথিপত্র, ফাইলপত্র অফিস কক্ষের আলমিরা থেকে চুরি করে বাড়িতে নিয়ে রেখেছে। উদ্দেশ্য প্রধান শিক্ষককে ফাঁসানো ও হেনেস্থা করা। বিদ্যালয়ের জমির দলিল ও বিদ্যালয়ের জমি অন্যোর কাছে টাকার বিনিময়ে বন্দক রেখেছে। জমির কোন কাগজপত্র না থাকায় জমি বে-দখল হয়েছে। কোন প্রকার খারিজ করা যাচ্ছেনা। শ্রেণীকক্ষের ৩২টি বেঞ্চ চুরি করা হয়েছে, পানির মটর, সেলিং ফ্যান, ইলেকট্রিক সুইজ, বাল্ব, তালাচাবি নষ্ট করা হয়েছে হয়রানি ও টাকা খরচ করানোর জন্য। বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে এলাকার বখাটে ছেলেদের দিয়ে পাঠদানে বাঁধা সৃষ্টি করে মানসিক নির্যাতন ও হেনেস্তার সৃষ্টি করছে। বর্তমানে উন্নয়ন মূলক কাজের সকল প্রকার অর্থ যৌথ হিসাব নং (ব্যাংকে একাউন্টে) জমা আছে। টাকা উত্তোলনের অভাবে কাজ করা যাচ্ছেনা। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সহ-সভাপতি চেকে স্বাক্ষরের জন্য ২০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে।

এমন পরিস্থিতিতে গত জুলাই মাসের ১৭তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর কাছে অভিযোগ জানালেও কোন সুরাহা করা হয়নি। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের ভয়ে ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যেন অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যাই। অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক আফতাব হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২০বছর ধরে সহাকারী শিক্ষক এ টি এম আব্দুল্লাহ এই স্কুলে কর্মরত আছেন। এখানে কোন প্রধান শিক্ষককে তিনি ঠিকতে দেয়না। এর আগেও বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক তার অত্যাচারে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে গেছেন। তার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কোন প্রধান শিক্ষক না থাকলে সিনিয়র হিসেবে সে প্রধান শিক্ষকের দাযিত্বভার গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট করে খেতে পারবে। আমি যেসব অভিযোগ করেছি তার সবগুলোর সঠিক। তদন্ত করলেই তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়িয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরী বুলবুল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে। তা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি বিদ্যালয়ের কোন মালামাল চুরির সাথে জড়িত নয়। অবিযোগ পত্রে উল্লেখিত সকল মালামাল বিদ্যালয়ের ষ্টোররুমে সংরক্ষিত আছে। আমার উপর অর্পিত যেটুকু দায়িত্ব সেটাই সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করি।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক এ টি এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধান শিক্ষকই নানাভাবে আমাদের হেনেস্থা করছেন। প্রধান শিক্ষক হওয়ার কারনে যা মন চায় সেটাই করে। আমাদের অবগত না করেই স্কুলের সকল কাজে নিজেই সিন্ধান্ত নেয়। আমরা মাঝে মধ্যে এসবের প্রতিবাদ করার কারনে হয়তো উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন। স্কুলের কোন ডকুমেন্টস বা গুরুত্বপূর্ণ নথি নেই আমাদের কাছে নেই । আর যেসব জিনিসপত্র চুরির কথা বলা হয়েছে সেগুলো চুরি করার প্রশ্নই আসেনা।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাম্মী আকতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে থেকে চেকে সই করার জন্য আমি ও সহ-সভাপতি আসলাম হোসেন ঘুষ দাবি করেছি এটা সঠিক নয়। তিনিই (প্রধান শিক্ষক) স্কুলের নানা কাজে নিজেই একক সিন্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তদন্ত হোক সব বেরিয়ে আসবে সঠিকটা কি।

বদলগাছী উপজেল শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান বলেন, বিলাশবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে অভিযোগটি জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর দিয়েছে। আমরা এর একটা কপি পেয়েছি। জেলা শিক্ষা অফিস হতে চিঠি এলেই আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করব। স্কুলের সুষ্ট পরিবেশ যেন বজায় থাকে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

রাণীশংকৈলে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সোমবার ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন সকাল ১০টায় পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১ মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরে উপজেলা হলরুমে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, আ’লীগ সভাপতি সইদুল হক, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালী বেগম, আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ, ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন-সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা। আরো বক্তব্য দেন-কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিমউদ্দীন,

পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন আ’লীগ নেতা সহ-অধাপক প্রশান্ত বসাক ও উপ সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের কথা তুলে ধরেন। পরে বিভিন্ন ইভেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সসাস’র নাট্য প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

সাবিক ওমর সবুজ : “নাটক হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার” স্লোগানে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদের (সসাস) জাতীয় নাট্য প্রতিযোগিতা-২০২২ এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকার বেইলী রোডস্থ গার্লস গাইড এসোসিয়েশনে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও নাট্য সংসদের সভাপতি নাট্যকার শাহ আলম নূর, নাট্য সংগঠক মোস্তফা মনোয়ার, নাট্যকার বদিউর রহমান সোহেল।

আটটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশ গ্রহণে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় বিকল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ (রাবি), ১ম রানারআপ ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক সংসদ নারায়ণগঞ্জ, ২য় রানারআপ দিশারী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট, ৪র্থ অনুপম শিল্পীগোষ্ঠী লক্ষ্মীপুর, ৫ম প্রভাতি সাংস্কৃতিক সংসদ ঝিনাইদহ, ৬ষ্ঠ ব্যতিক্রম সাহিত্য সাংস্কৃতিক জোট (ইবি), ৭ম পারাবার সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ চট্টগ্রাম এবং ৮ম সম্মিলন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ বগুড়া।

সেরা নির্দেশক হিসেবে আব্দুর রহমান (বিকল্প রাবি) এবং সেরা অভিনেতা অর্ণব (ঐতিহ্য নারায়ণগঞ্জ) পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।  বিজয়ীদের হাতে ক্রেষ্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

প্রতিযোগিতায় প্যানেল বিচারক ছিলেন নাট্যকার আবু হেনা আবিদ জাফর, নাট্যকার মাহবুব মুকুল ও আবদুল্লাহিল কাফি। অতিথি বিচারক ছিলেন সজল জহির, আব্দুল গণি বিদ্বান, হুসনে মোবারক, মনিরুল ইসলাম, আবু সাঈদ খান, এবি এম নোমান আযাদ ও মাহদী হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, যে কোনো কাজ করতে হলে ভেবে চিন্তে করতে হবে। কাজের আগে বেশি বেশি হোমওয়ার্ক করতে হবে। নাটক শুধু করলেই মানুষ গ্রহণ করবেনা, অব্যাহত চর্চা করে নাটক মানুষকে উপহার দিতে হবে। তিনি নাট্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) কে ধন্যবাদ জানিয়ে এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।

আহসান হাবিব খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদের (সসাস) নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান। ব্যবস্পনায় ছিলেন সসাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ, মোশাররফ মুন্না, মুজাহিদুল ইসলাম মাসুম, রাশেদুল ইসলাম, জুবায়ের ইসলাম, মাহদী হাসান, নাজমুস সাকিব, মিজানুর রহমান, ওয়াহেদুজ্জামান আহমেদ,  মুরসালিন সরকার, আবু জার গিফারী।

চ্যাম্পিয়ন নাট্যদলের হাতে পুরস্কার ও নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ফুটবল থেকে ভারতকে নিষিদ্ধ করল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্কঃ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতকে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছে। গতকাল সোমবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) উপর বিবৃতিতে ফিফা এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়।

আর এ নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপও আয়োজন করতে পারবে না ভারত। শিগগিরই এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফিফা।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ব্যুরো অব ফিফা কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে এআইএফএফকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এই সংস্থায় তৃতীয় পক্ষের অনুচিত প্রভাবের ফলে ফিফা সনদের পরিষ্কার লঙ্ঘন হয়েছে। এর কয়েক মাস আগেই এআইএফএফের সংবিধান সংশোধন করে দ্রুত নির্বাচন করার জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। স্বয়ংশাসিত ক্রীড়া সংস্থায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ফিফার আইন বিরুদ্ধ। ফলে কমিটির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এআইএফএফকে চলতি বছরের মে মাসে নির্বাচিত প্রশাসক কমিটির (সিওএ) তত্ত্বাবধানে রেখেছিল। জুন মাসে সিওএ এ ব্যাপারে দেখভালের জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু ফিফা থেকে তীব্র আপত্তি জানানোর একদিন পরে সেই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। আগামী ১৭ আগস্ট এআইএফএফ-এর নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও গঠনতন্ত্র তৈরির বিষয়ে সিওএ’র কাছ থেকে তাদের শুনানি গ্রহণ করবে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এদিন এআইএফএফ সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ।

ফিফা আরও বলেছে, তারা ভারতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগে রক্ষা করছে। ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আশাবাদী যে, বিষয়টির ইতিবাচক ফল মিলবে।

উল্লেখ্য, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (সিওএ) দ্বারা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) পরিচালিত হচ্ছে। ফিফার আইন অনুযায়ী যা স্পষ্টভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়ে থাকে।

 

রৌমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ!

সাকিব আল হাসান, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, খাস জমি দখল সহ এমনকি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তার এহেন কর্মকান্ডে সাধারণ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি থেকে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন। অথচ এখনো জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি পদে বহাল আছেন মোজাফফর হোসেন। ২০০৫ সাল থেকে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি সহ সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির নেতা কিভাবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয় জানতে চাইলে তৎকালীন রৌমারী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, কমিটি করার সময় জানতাম না তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি সাথে যুক্ত। অবশ্যই পরে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে শুনিছি। ২০২১ সালের ১৫ আগষ্টের একটি পোষ্ট কেন্দ্র করে ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী সেলিম মিয়ার নামে মামলাও করেছিলেন মোজাফফর হোসেন। ওই মিথ্যা মামলায় পরে সেলিম মিয়া জামিন পান। মোটকথা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিক হাসান মেসবাহ ও সাজুর ওপর হামলার প্রতিবাদে নবাবগঞ্জে মানববন্ধন

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একটি ক্লিনিকে ইনডেপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক হাসান মিসবাহ ও সাজু মিয়াকে আটক করে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মানববন্ধন সমাবেশ হয়েছে। গত রবিবার সকাল ১১ টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী, সাংবাদিক সংগঠন, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবশে বক্তারা রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের এসপিএ রিভার সাইড মেডিকেল সেন্টারে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহের সময় এই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাদের দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকের সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব আইন বাতিল করতে হবে। সমাবেশে প্রস্তাবিত গণমাধ্যমকর্মী আইনেরও সমালোচনা করা হয়।

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হামলায় গুরুতর আহত হাসান মিসবাহ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ওই ক্লিনিকের অনিয়ম তুলে ধরতে গিয়ে মেধাবী এই সাংবাদিকের জীবন আজ ঝুঁকির মুখে। এ ধরনের অপকর্ম চলতে থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধী ক্লিনিক মালিক, কর্মচারীসহ যারা যারা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না কেউ।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন প্রধান বলেন, আমরা জেনেছি অনুমোদন না থাকায় ইতিমধ্যে ওই ক্লিনিককে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন ওই ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুয়া চিকিৎসকের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। এছাড়া হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশের এসআই মিলন হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করলেই হবে না, বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে স্থায়ী ভাবে চুড়ান্ত বহিষ্কার করতে হবে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে একাত্তর টিভির উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ সুলতান মাহমুদ ও দৈনিক দেশ বার্তা এর প্রতিনিধি মোঃ অলিউর রহমান মিরাজ ডেইলি সান এর প্রধিনিধি মোঃ রোকানুজ্জামান রোকন ও চ্যানেল এস এর প্রধিনিধি আজিনুর রহমান রাজু ও দৈনিক এশিয়াবাণী প্রত্রিকার প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রাজু সহ সকল গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

২৫ বছর পরে পরিচালনায় জনি ডেপ

বিনোদন ডেস্কঃ হলিউডের অভিনেতা জনি ডেপকে ২৫ বছর পরে পরিচালনায় ফিরতে দেখা যাবে। ইতালীয় শিল্পী অ্যামেডিও মোডিগ্লিয়ানিকে নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করছেন তিনি। ছবির নাম ‘অ্যামেডিও মোডিগ্লিয়ানি’।

সম্প্রতি হলিউডের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, জনি ডেপ ও প্রবীণ অভিনেতা আল পাচিনো একত্রে সিনেমাটি প্রযোজনা করবেন। তবে সিনেমাটিতে কারা অভিনয় করবেন সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এমনকি জনি নিজেই এতে অভিনয় করছেন কি না সেটাও নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদন জানা যায়, জনি তার প্রযোজনা সংস্থা ইনফিনিটাম নিহিলের ইউরোপীয় শাখা আইএন্টু-এর জন্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন। আল পাচিনো এবং ব্যারি নিভিডি এই সিনেমাটির সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। সেখানে আরো বলা হয়েছে, আগামী বছরের বসন্তে ফ্রান্সে সিনেমাটির কাজ শুরু হবে। এ বছরই কোনো এক সময় এর অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন হবে।

সিনামটির মুল উদ্দেশ্য অ্যামেডিও মোডিগ্লিয়ানি এবং তিনি একজন ইতালীয় চিত্রশিল্পী, যিনি কিনা মৃত্যুর পর খ্যাতি পেয়েছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি শিল্পের কদর পাননি। আর তাই নিজেকে ব্যর্থ মনে করতেন এই শিল্পী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ব্রেভ’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন জনি ডেপ। এরপর আর পরিচালক হয়ে কাজ করেননি তিনি।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন খুনি নুর চৗেধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানো সম্পর্কে যা জানালো

সিএনবিডি ডেস্কঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশন। গতকাল সোমবার (১৫ আগস্ট) অটোয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

অটোয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কানাডা বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধু-প্রতিম একটি দেশ। গত একান্ন বছর যাবৎ দুটি দেশ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক সঙ্গে কাজ করে চলেছে। দুটি দেশের সম্পর্কও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের ১৮ সদস্য, যাদের মধ্যে শিশু, একজন সন্তানসম্ভবা নারী, অন্যান্য নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান খুনি নূর চৌধুরী বিগত ২৬ বছর ধরে কানাডায় আশ্রয় পেয়ে আসছে। কানাডা এমনই একটি দেশ যেটি মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কিন্তু ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য এই সুনির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে নূর চৌধুরীর মতো একজন জঘন্য ও সাজাপ্রাপ্ত খুনির তথাকথিত অধিকার তার অপরাধের শিকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারগুলোর ওপর প্রাধান্য পেয়েছে। তবে দুঃখজনক ব্যাপারটা হলো কানাডার ইমিগ্রেশন বোর্ডে এই জঘন্য খুনির অপরাধকে “মানবতা বিরোধী অপরাধ” বলে অভিহিত করার পরও এই জঘন্য দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যতম খুনি নূর চৌধুরী বিগত ২৬ বছর ধরে কানাডায় আশ্রয় পেয়ে আসছে। কানাডায় বসবাসকারী সবার এই জঘন্য খুনির চরম মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিষয়ে সম্যক অবহিত হওয়া প্রয়োজন। সবার জানা উচিত যে, কীভাবে মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিয়ে বিগত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন জঘন্য সাজাপ্রাপ্ত খুনি এই চমৎকার দেশ কানাডায় নির্বিঘ্নে আশ্রয় ও সুরক্ষা পেয়ে আসছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘তারপরেও আমরা সবাই জানি কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন ও সহযোগিতা ক্রমাগতভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মধ্যে কানাডা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বন্ধু রাষ্ট্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কানাডার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু যেমন: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, জলবায়ু সংকট, লিঙ্গ সমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি কানাডার সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য।

এছাড়া, ২০২১ সালের পর থেকে দুই বন্ধু-প্রতিম দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়েছে এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি সই হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ঢাকা ও টরেন্টোর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে যাতে করে মানুষে মানুষে যোগাযোগ, ব্যবসা-বিনিয়োগের সম্প্রসারণ বাড়বে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ডাইরেক্ট স্ট্রিমে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি, অটোয়ার কূটনৈতিক জোনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যানসারি নির্মাণের জন্য কানাডার জমি লিজ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রদান ইত্যাদি বিষয় বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করেছে। এসব বিষয়ে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমরা কানাডার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সবকিছুর পরও জঘন্য ও সাজাপ্রাপ্ত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানোর বিষয়টা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে একটি অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে বিরাজমান রয়েছে। কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশন সাজাপ্রাপ্ত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য সব বাধা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বাংলাদেশ সব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসায় বিশ্বাসী। হাইকমিশন জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে করে সম্ভাব্য সব পর্যায়ে কীভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত নেওয়া যায় এবং এই জঘন্য খুনির বিচারের রায় কার্যকর করে জাতির সবচেয়ে কলঙ্কজনক খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়। জঘন্যতম খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে হাইকমিশন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং অতি অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করে সেভাবে কাজ করছে এবং কাজ করে যাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

অটোয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এটি পরিষ্কারভাবে বলা প্রয়োজন যে, হাইকমিশন জঘন্য ও সাজাপ্রাপ্ত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। হাইকমিশন কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে যাতে তারা খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মানবিক ভূমিকা রাখে।

এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে, বিগত সরকারের আমলগুলোতে কানাডা সরকার খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে চাইলেও তদানিন্তন সরকারগুলো এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বা আগ্রহ দেখায়নি।

পরিশেষে, হাইকমিশন কানাডায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টায় সামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।’

ডঃ খলিলুর রহমান, পিএইচডি

বাংলাদেশ হাইকমিশনার, অটোয়া, কানাডা।