পাকিস্তানে বাসের সঙ্গে তেলের ট্যাংকারের সংঘর্ষে নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাঞ্জাব প্রদেশের জালালপুর পিরওয়ালা জেলার কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে তেলের ট্যাংকারের সংঘর্ষে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকালে মুলতান-সুক্কুর মোটরওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোর ৪টার দিকে মোটরওয়েতে বাস ও তেল ট্যাংকারের সংঘর্ষে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৮ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনার পর মোটরওয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় আটজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে ২ জন হাসপাতালে মারা যায়। বাসটিতে চালক ও হেলপারসহ ২৬ জন ছিলেন। তারা পাঞ্জাবের রাজধানী শহর লাহোর থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় করাচিতে যাচ্ছিলেন।

মুলতানের নিশতার হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. আমজাদ চান্দিও বলেন, আহতদের মধ্যে ৪জনকে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে এবং হাসপাতালের মর্গে ২০টি মৃতদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ এলাহি, মুলতানের কমিশনারের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ঘটনার সবদিক তদন্ত করা উচিত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা উচিত।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান নগরীতে মালবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের কমপক্ষে ১৩ জন নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

 

ফুলবাড়ীতে পুলিশি অভিযানে ৪২ কেজি গাঁজা জব্দ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে। শনিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার অনন্তপুর খামারটারী গ্রামের ছলিমউদ্দিনের ছেলে মাদক চোরাকারবারি সফিকুল ইসলাম (৪০) এর বসত বাড়ী তল্লাশি করে রান্না ঘরের মাচাং এর নিচ হতে গাঁজাগুলো জব্দ করা হয়। এসময় সফিকুল ও তার স্ত্রী  মল্লিকা বেগম (৩৫) কৌশলে পালিয়ে যান।
ফুলবাড়ী থানার এসআই এনামুল হক জানান, জব্দকৃত ৪২ কেজি গাঁজা থানায় এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পলাতক স্বামী- স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ফুলবাড়ী থানার মামলা নম্বর-১০।

বিধবার বাড়ির মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে ভাতিজা, চেয়ারম্যানকে ও থানায় বিচার দিয়েও পাচ্ছেনা সুরাহা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের চাপোড় পার্বতীপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সী বিধবা হোসনেয়ারা। ৭ বছর পূর্বে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর গত দুই বছর ধরে তার বাড়ির চলাচলের মূল রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে রেখেছে তার আপন ভাতিজারা। এই দীর্ঘ  দুই বছরে তিনি বিচার পাইনি সংশ্লিষ্ঠ  ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের কাছে। গত শনিবার (১৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

৭ বছর পূর্বে স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই বিধবা মহিলার উপর নেমে আসে একের পর এক নির্যাতন। একেই তো নেই স্বামী, সন্তান একমাত্র ছেলে সেও জীবীকার তাগিতে ঢাকায় গার্মেন্টসে। তাই কোন খানেই অভিযোগ করে লাভ হচ্ছেনা ওই বিধবার। ভাতিজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তপ তৈরি হয়েছে যেন তার কাছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রধান রাস্তাটিও ২ বছর ধরে বন্ধ করে দিয়েছে তারা। কষ্ট করে একটি সরু গলি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই গাছ রোপনের তুচ্ছ  ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাতিজারা মারপিট করে  বিধবা হোসনেয়ারাকে । গুরুত্বর আহত হয়ে হোসনেয়ারা রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে থানায় আতিক হোসেনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে চুপচাপ রয়েছে, নেয়নি পরবর্তী পদক্ষেপ।

এ ঘটনা এছাড়াও ২০২০ সালে বিভিন্ন প্রজাতির ১০টি মূলবান গাছ জোর পূর্বক কর্তন করার অভিযোগ করে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। সেটিও সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম শালিস করে কোন সুরাহ দেননি। নিরুপায় হয়ে বিষয়টি থানায় জানালেও কোন কাজ হয়নি। ২০২১ সালে মে মাসে আবারও ভাতিজারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিধবা চাচিকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি তার।

এ ব্যপারে অভিযোগকারি হোসেনয়ার আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, বাবু মোর কেউ নাই, চেয়ারম্যানক বিচার দেছু ওয়া দেওনিয়ালাক দায়িত্ব দেছে।  পুলিশক অভিযোগ দেছু ওমা ঘটনা দেখে চুপ থাকছে। মোর বিচার কেউ করবেনি তুমা মোর সাথে নির্যাতন জুলুমের ব্যাপারলা পেপারত দ দেশবাসি জানোক, যে গরিব লোকের বিচার নাই টাকা ছাড়া উপায় নাই।

এ প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল থানার ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি মহিলাটি আইন আদালতে যেতে পারছেনা। আগামী শুক্রবার এর একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানালেন ডিজিটাল বাংলা নিউজ ডট কমের চেয়ারম্যান

আজ শোকাবহ ১৫-ই আগস্ট (সোমবার), জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী। বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হদয়বিদারক, বেদনাবিভুর ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন আজ। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে।
১৯৭৫ সালের এই দিন ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় সেইসময় প্রাণে রক্ষা পান।
বাঙালি জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তান, মহানায়ককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের রুহের মাগফিরাত কামনা করি ও তাঁদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

আজ ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস; বাঙালির ইতিহাসের কলঙ্কিত এক দিন

সিএনবিডি  ডেস্কঃ আজ ১৫ই আগস্ট (সোমবার) জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী আজ। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বেদনাবিধুর, অন্ধকারময় ও বিভীষিকাময় একটি দিন। বাঙালির ইতিহাসের কলঙ্কিত এক দিন ১৫ই আগস্ট। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিন ভোরের আলো ফোটার আগেই বাঙালি জাতিকে মুক্তির আলো দেখানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারই প্রিয় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করেছিল চক্রান্তকারী কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য। ঘাতকেরা ওই দিন নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়নি, যা ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

যা হয়েছিল ১৪ই আগস্ট দিবাগত রাত শেষে ১৫ই আগস্ট ভোরেঃ গোপন বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যার ছক কষে হত্যাকান্ডের মিশনে নেমে পড়ে ঘাতকদল। ১৫ই আগস্ট ভোরে ষড়যন্ত্রকারীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়। এদের একদল ছিল মেজর হুদার অধীনে বেঙ্গল লেন্সারের ফার্স্ট আর্মড ডিভিশন ও ৫৩৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা যারা মুজিবের বাসভবন আক্রমণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ও ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদদাতা সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত তাঁর “মিডনাইট ম্যাসাকার ইন ঢাকা” বইয়ে লিখেন যে, মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বর্ণনা সবসময় রহস্যে ঘনীভূত থাকবে। তিনি আরও লিখেন যে, মুজিবের বাসভবনের রক্ষায় নিয়োজিত আর্মি প্লাটুন প্রতিরোধের কোনো চেষ্টা করে নাই। মুজিবের পুত্র, শেখ কামালকে নিচতলার অভ্যর্থনা এলাকায় গুলি করা হয়। মুজিবকে পদত্যাগ করা ও তাঁকে এ বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য বলা হয়।

ভোর সাড়ে ৫টা দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করেছেন। ঠিক তখনই বাড়িটি লক্ষ্য করে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়।ধানমন্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার আগেই শেখ মুজিবুর রহমান আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকাণ্ডের খবর জেনে যান। গুলির শব্দ শুনেই বঙ্গবন্ধু তার ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। ঘুম থেকে উঠে পড়েন গৃহকর্মী আব্দুল আর রমা। বেগম মুজিবের কথায় রমা নিচে নেমে দেখেন সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে।

এরই মধ্যে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু নিচতলায় নামতে থাকেন। দোতলায় বেগম মুজিব আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করেন। রমা তিনতলায় চলে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামালকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ঘটনা শুনে শার্ট-প্যান্ট পরে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। সুলতানা কামাল আসেন দোতলায়। শেখ জামাল তার স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় বেগম মুজিবের কক্ষে যান।

ওদিকে গোলাগুলির মধ্যে অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন মহিতুল (বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী)। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জের চেষ্টার একপর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন ‘আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি…’। বঙ্গবন্ধু তার কথা শেষ করতে পারেননি। একঝাঁক গুলি জানালা দিয়ে অফিসের ভেতরে এসে দেয়ালে লাগে।

কাচের জানালা ভেদ করে গুলি এসে মহিতুলের ডান হাতে বিদ্ধ হয়। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে নিচতলার ওই ঘর থেকে বারান্দায় বের হয়ে বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছ। তোমরা গুলি করছোনা কেন? ‘ । এ কথা বলেই বঙ্গবন্ধু ওপরে চলে যান, মূখে প্রচন্ড বিষন্নতার ছাপ। স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন ভয়ংকর কিছু একটা হচ্ছে। এরপর শেখ কামাল নিচে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আর্মি আর পুলিশ ভাইরা, আপনারা আমার সঙ্গে আসেন, সামনে এগিয়ে যান আর প্রতিরোধ করেন।’ এ সময় শেখ কামালের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান মহিতুল ইসলাম ও পুলিশের ডিভিশনাল সুপারিনটেনডেন্ট নুরুল ইসলাম খান।

ঠিক তখনই মেজর নূর, মেজর মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ও ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা সৈন্যদের নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। গেটের ভেতরে ঢুকেই তারা ‘হ্যান্ডস্ আপ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। উন্মাদের মতো ফায়ার করতে থাকে এদিক সেদিক।

এ সময় কোনো কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করে বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। তখন মহিতুলকে বলতে থাকেন, ‘আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। আপনি ওদেরকে বলুন’।

মহিতুল তা বলার সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা তার হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ব্রাশফায়ার করে। ওখানেই মারা যান শেখ কামাল।

জবাবে সফিউল্লাহ বলেন, ‘আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আইট অফ দ্য হাউজ?’

এদিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্নেল জামিল তার ব্যক্তিগত লাল রঙের গাড়িটি নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের কাছে আসতেই ঘাতকরা তার গাড়ির গতিরোধ করে ও গুলি করে জামিলকে হত্যা করে।

এর কিছুক্ষণ পর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে চলে আসে। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে। হাতে ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতে তিনি সিঁড়ির পাশে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে থাকেন।

এ সময় নিজ ঘরে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ছিলেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজি জামাল। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে অবস্থান নেয়। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বাইরে আসা মাত্রই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে।

মেজর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গের সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। তখন ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, “তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?”

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি-বেয়াদবি করছিস কেন?” এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি অবস্থান নেয় বজলুল হুদা ও নূর। বঙ্গবন্ধুকে নিচে আনার সময় নূর কিছু একটা বলতেই মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে। বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। নিথর দেহটা সিঁড়ির ওপর পড়ে থাকে। রমার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে গুলির কথা শুনে বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের এবং গৃহকর্মীরা বাথরুমে আশ্রয় নেয়। সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখেই বেগম মুজিব চিৎকার করে বলেন, “আমি যাব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেল।”

বেগম মুজিব অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনেন। শেখ রাসেল, শেখ নাসের এবং রমাকে নিয়ে আসে। ওই ঘরেই বেগম মুজিব, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতক আজিজ পাশা রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

শেখ নাসের, শেখ রাসেল আর রমাকে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করানো হয়। লাইন থেকে নিয়ে পাশের ঘরে বাথরুমে নিয়ে শেখ রাসেলকে হত্যা করে। লাইনে দাঁড়িয়ে শেখ রাসের প্রথমে রমাকে ও পরে মহিতুলকে জড়িয়ে ধরে বলে, “ভাইয়া আমাকে মারবে না তো?”

এ সময় শেখ রাসেল মায়ের কাছে যেতে চাইলে আজিজ পাশা মহিতুলের কাছ থেকে জোর করে দোতলায় নিয়ে যেতে বলে। তখন এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই শেখ রাসেলকে হত্যা করে। গুলিতে রাসেলের চোখ বেরিয়ে আসে। মাথার পেছনের খুলি থেতলে যায়।

ধানমন্ডির ৩২ যে বাড়িটিতে ৬২’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সবকিছু মিলে এ বাড়িটি ছিল জনতার মিলনক্ষেত্র, বাঙ্গালির রাজনৈতিক তীর্থ ক্ষেত্র। বাংলাদেশের শীর্ষ জনপ্রিয় বাড়ি। বঙ্গবন্ধুর সেই প্রিয় বাড়িটি যেন রক্তগঙ্গা বয়ে যায়। যেন গুলির শব্দ আর কামানের গর্জনে কেঁপে ওঠে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

১৫ই আগষ্টে শহীদ হয়েছিলেন যারাঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত হন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেছা, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্ণেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, প্রায় একই সময়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্ত:সত্তা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় বেন্টু খান। জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সকল শহীদকে।

১৫ই আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি: 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত মাসব্যাপী শোক দিবসের কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। ১৫ আগস্ট সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতিহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতিহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। উক্ত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। এ ছাড়াও, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ওই দিন প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। দুপুরে সারাদেশে অসচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও গণভোজের আয়োজন।

একইসাথে আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও ১৬ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরদিন ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

এরপরে ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আলোচনা সভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়াও, রয়েছে ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসুচী।

১৫ আগস্ট এর ইতিহাস

সিএনবিডি ডেস্কঃ ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস এবং এই বিশেষ দিনটির পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ এক কালজয়ী ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরবেলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকবাহিনী।  খুব অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ১৮ জন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল । সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পাষন্ড ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশু রাসেল,শিশু বাবু,এমনকি অস্তঃসত্ত্বা বধূও। ঘাতকদের উদ্যত অস্ত্রের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। ১৫ আগস্ট শোকার্দ্র বাণী পাঠের দিন, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী।

সেই কালো রাতে যারা শহীদ হয়েছিলেনঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কালরাতে ঘাতকবাহিনীর হাতে নিহত হন বাঙালি জাতির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেছা, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্ণেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, প্রায় একই সময়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্ত:সত্তা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় বেন্টু খান। জাতি এই বিশেষ দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে এই সকল শহীদকে।

১৫ আগষ্টের পটভূমিঃ বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষ দর্শনে দেশের সংবিধানও প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। শোষক আর শোষিতে বিভক্ত সেদিনের বিশ্ববাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে। পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন তা অবিস্মরণীয়। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই অমর আহ্বানেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিপীড়িত কোটি বাঙালি। সেই মন্ত্রপূত ঘোষণায় বাঙালি হয়ে উঠেছিল লড়াকু এক বীরের জাতি।

আবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেও বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠেই জাতি শুনেছিল মহান স্বাধীনতার অমর ঘোষণা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাকে বন্দি থাকতে হয় পাকিস্তানের কারাগারে। তার আহ্বানেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বন্দিদশায় মৃত্যুর খবর মাথায় ঝুললেও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি অকুতোভয় এ মহান নেতা। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বীরের বেশে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু।

দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি দেশের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। দেশগড়ার এই সংগ্রামে চলার পথে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ ও অবদানকে ভুলে যাবে না। অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু তাই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সাধারণ বাড়িটিতেই বাস করতেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পেতেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী উচ্চাভিলাষী কয়েকজন সদস্যকে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করেছে ওই চক্রান্তেরই বাস্তব রূপ দিতে। এরাই স্বাধীনতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে হামলা চালায় গভীর রাতে। হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাসও। বঙ্গবন্ধুর নৃশংসতম হত্যাকান্ড বাঙালি জাতির জন্য করুণ বিয়োগগাথা হলেও ভয়ঙ্কর ওই হত্যাকাণ্ডে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে। হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার।

১৯৭৬ সালের ৮ জুন ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হত্যাকারী গোষ্ঠীর ১২ জনকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তারা ছিলেন- ১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব, ২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব, ৩. মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব, ৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব, ৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব, ৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব, ৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব, ৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব, ৯. কর্নেল কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব, ১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব, ১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব, ১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তবে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় মতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা এবং নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বিচার সম্পন্ন হয়। জোট শাসনের পাঁচ বছর এই রায় কার্যকরের পথে বাধা সৃষ্টি করে রাখা হলেও বর্তমান মহাজোট সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পাঁচজনের রায় কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। দণ্ড প্রাপ্ত কয়েক খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছেন। ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয় কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

যা ঘটেছিল সেই কালো রাতেঃ বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী (রেসিডেন্ট পি এ) জনাব আ ফ ম মোহিতুল ইসলাম এর এজাহারে বর্ননানুসারে, ১৯৭৫ সালে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে কর্মরত ছিলেন। ১৪ আগষ্ট (১৯৭৫) রাত আটটা থেকে ১৫ আগষ্ট সকাল আটটা পর্যন্ত তিনি ডিউটিতে ছিলেন ওই বাড়িতে। ১৪ আগষ্ট রাত বারোটার পর ১৫ আগষ্ট রাত একটায় তিনি তাঁর নির্ধারিত বিছানায় শুতে যান।

মামলার এজাহারে জনাব মোহিতুল উল্লেখ করে বলেন, ‘তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম তা খেয়াল নেই। হঠাৎ টেলিফোন মিস্ত্রি আমাকে উঠিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনাকে ডাকছেন। তখন সময় ভোর সাড়ে চারটা কী পাঁচটা। চারদিকে আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু ফোনে আমাকে বললেন, সেরনিয়াতের বাসায় দুষ্কৃতকারী আক্রমণ করেছে। আমি জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করলাম। অনেক চেষ্টার পরও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে লাইন পাচ্ছিলাম না। তারপর গণভবন এক্সচেঞ্জে লাইন লাগানোর চেষ্টা করলাম। এরপর বঙ্গবন্ধু ওপর থেকে নিচে নেমে এসে আমার কাছে জানতে চান পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে কেন কেউ ফোন ধরছে না। এসময় আমি ফোন ধরে হ্যালো হ্যালো বলে চিৎকার করছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধু আমার হাত থেকে রিসিভার নিয়ে বললেন আমি প্রেসিডেন্ট বলছি। এসময় দক্ষিণ দিকের জানালা দিয়ে একঝাঁক গুলি এসে ওই কক্ষের দেয়ালে লাগল। তখন অন্য ফোনে চিফ সিকিউরিটি মহিউদ্দিন কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। গুলির তান্ডবে কাঁচের আঘাতে আমার ডান হাত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এসময় জানালা দিয়ে অনর্গল গুলি আসা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শুয়ে পড়েন। আমিও শুয়ে পড়ি।

কিছুক্ষণ পর সাময়িকভাবে গুলিবর্ষণ বন্ধ হলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়ালেন। আমিও উঠে দাঁড়ালাম। ওপর থেকে কাজের ছেলে সেলিম ওরফে আবদুল বঙ্গবন্ধুর পাঞ্জাবী ও চশমা নিয়ে এলো। পাঞ্জাবী ও চশমা পরে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। বঙ্গবন্ধু বললেন আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি এত গুলি চলছে তোমরা কি কর? এসময় শেখ কামাল বলল আর্মি ও পুলিশ ভাই আপনারা আমার সঙ্গে আসুন। কালো পোশাক পরা একদল লোক এসে শেখ কামালের সামনে দাঁড়ালো। আমি ও ডিএসপি নূরুল ইসলাম খান শেখ কামালের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নরুল ইসলাম পেছন দিক থেকে টান দিয়ে আমাকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে গেল। আমি ওখান থেকে উঁকি দিয়ে বাইরে দেখতে চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি গুলির শব্দ শুনলাম। এসময় শেখ কামাল গুলি খেয়ে আমার পায়ের কাছে এসে পড়লেন। কামাল ভাই চিৎকার করে বললেন, আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল, ভাই ওদেরকে বলেন।’

মোহিতুল ইসলাম এজাহারের বর্ণনায় বলেন, ‘আক্রমণকারীদের মধ্যে কালো পোশাকধারী ও খাকি পোশাকধারী ছিল। এসময় আবার আমরা গুলির শব্দ শোনার পর দেখি ডিএসপি নূরুল ইসলাম খানের পায়ে গুলি লেগেছে। তখন আমি বুঝতে পারলাম আক্রমণকারীরা আর্মির লোক। হত্যাকান্ডের জন্যই তারা এসেছে। নূরুল ইসলাম যখন আমাদেরকে রুম থেকে বের করে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলেন তখন মেজর বজলুল হুদা এসে আমার চুল টেনে ধরলো। বজলুল হুদা আমাদেরকে নিচে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড় করালো। কিছুক্ষণ পর নিচে থেকে আমরা বঙ্গবন্ধুর উচ্চকণ্ঠ শুনলাম। বিকট শব্দে গুলি চলার শব্দ শুনতে পেলাম আমরা। শুনতে পেলাম মেয়েদের আত্মচিৎকার, আহাজারি। এরইমধ্যে শেখ রাসেল ও কাজের মেয়ে রুমাকে নিচে নিয়ে আসা হয়। রাসেল আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, আমাকে মারবেনাতো। আমি বললাম না তোমাকে কিছু বলবে না। আমার ধারণা ছিল অতটুকু বাচ্চাকে তারা কিছু বলবে না। কিছুক্ষণ পর রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রুমের মধ্যে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেজর বজলুল হুদা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর ফারুককে বলে, অল আর ফিনিশড।’

অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ফারুক রহমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেন, খোন্দকার মোশতাকের নির্দেশে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তিনি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই বাসভবনে অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল রশিদ দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গভবনে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডালিম ছিলেন বেতার কেন্দ্রে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বন্টন করেছেন ফারুক নিজেই।

ছোট্ট রাসেলের শেষ আকুতি টলাতে পারেনি খুনীদের মন।“আল্লাহ’র দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সঙ্গে জার্মানীতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানীতে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন” মৃত্যুর আগে খুনীদের কাছে এই আকুতি ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের। তবে সেদিন রাসেলের এই আর্তচিৎকারে খোদার আরশ কেঁপে উঠলেও টলাতে পারেনি খুনী পাষাণদের মন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মত এই নিষ্পাপ শিশুকেও পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে রাসেলকে হত্যার এই নৃশংস বর্ণনা দিয়েছেন। এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার গ্রন্থে লেখেন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যার পর রাসেল দৌড়ে নিচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো বাড়ির কাজের লোকজনের কাছে আশ্রয় নেয়। রাসেলের দীর্ঘকাল দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমান রমা তখন রাসেলের হাত ধরে রেখেছিলেন। একটু পরেই একজন সৈন্য রাসেলকে বাড়ির বাইরে পাঠানোর কথা বলে রমার কাছ থেকে তাকে নিয়ে নেয়। রাসেল তখন ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে তাকে না মারার জন্য আল্লাহ’র দোহাই দেয়।

রাসেলের এই মর্মস্পর্শী আর্তিতে একজন সৈন্যের মন গলায় সে তাকে বাড়ির গেটে সেন্ট্রিবক্সে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এর প্রায় আধ ঘণ্টা পর একজন মেজর সেখানে রাসেলকে দেখতে পেয়ে তাকে দোতলায় নিয়ে ঠান্ড মাথায় রিভলবারের গুলিতে হত্যা করে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র দুরন্তপ্রাণ শেখ রাসেল এমন সময়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন যখন তার পিতার রাজনৈতিক জীবনকে দেখতে শুরু করেছিলেন মাত্র।

শেখ রাসেলকে হত্যার আগে ঘাতকরা একে একে পরিবারের অন্য সদস্য বড় ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, মা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এবং বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। ১৯৬৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছিলেন না। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা স্বামীর সঙ্গে ছিলেন জার্মানিতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানাও। তাইতো বেঁচে যান তারা।

 

সোহেল তাজ কি সত্যিই আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে যাচ্ছেন?

রাজনীতি ডেস্কঃ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে যাচ্ছেন? সোহেল তাজের ছোট বোন মাহজাবিন আহমদ মিমির এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরেই এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে এর আগেও অনেক গুঞ্জন উঠেছিল।

গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোহেল তাজের রাজনীতিতে ফেরার বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব নিউজ শেয়ারও করেছেন তিনি। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতিও নাকি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সোহেল তাজের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা সব সময় খোলা। দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও চান সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হোক। জাতীয় চার নেতার সন্তানেরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকুক, এটি তিনিও চান। তাই সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশেই সক্রিয় হচ্ছেন। তাকে দলের আগামী কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১১ আগস্ট সোহেল তাজের ছোট বোন মাহজাবিন আহমদ নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশনে তানজিম আহমদ (সোহেল তাজ) দলীয় নেতৃত্বে আসছেন ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয়তু শেখ হাসিনা!! বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

এ ব্যাপারে সোহেল তাজ গণমাধ্যমকে জানান, আমি দলের (আওয়ামী লীগের) জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে দল যদি মনে করে, আমি অবদান রাখতে পারি-তাহলে আমাকে ডাকলে যাব। আমি আওয়ামী লীগের জন্য অতীতে প্রস্তুত ছিলাম, এখনো প্রস্তুত, ভবিষ্যতেও তৈরি থাকব।

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে গণমাধ্যমকে মাহজাবিন আহমদ মিমি বলেন, মন্ত্রিত্ব ও সংসদ-সদস্য পদ ছেড়ে দিলেও সোহেল তাজ সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। সব জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থেকে দলের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের একমাত্র পুত্র তানজিম আহমদ সোহেল তাজ ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। এর পরের বছর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সোহেল তাজ।

তবে এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিমান করে ২০০৯ সালের ৩১ মে প্রথমে মন্ত্রিত্ব পরে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন। আর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকেও আস্তে আস্তে দূরে সরে যান।

অন্যদিকে, সোহেল তাজের ছেড়ে দেওয়া গাজীপুরের কাপাসিয়া আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারই মেজ বোন সিমিন হোসেন রিমি।

তবে রাজনীতি ছেড়ে চুপচাপ ঘরে বসে ছিলেন না সোহেল তাজ। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

সালমান রুশদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্রিটিশ উপন্যাসিক সালমান রুশদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সালমান রুশদির ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া) খুলে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন কথা বলতে পারছেন। আজ রোববার (১৪ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে তার এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পেনসিলভানিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন সালমান রুশদি। এর আগে ওয়াইলি জানিয়েছিলেন, ছুরিকাঘাতে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছে সালমানের লিভারে। ক্ষতিগ্রস্ত হাতে শিরাগুলোতে। হারাতে পারেন এক চোখ। কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি।

রুশদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় রয়েছে এমন একজন লেখক অতিশ তাসির টুইটারে পোস্ট করে জানিয়েছেন, রুশদির শরীর থেকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও তিনি এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে তিনি কথা বলতে পারছেন।

এদিকে, সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার-এর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের একটি কাউন্টি আদালতে হাজির করা হয় তাকে। তবে হামলার দায় স্বীকার করেননি তিনি। জানা গেছে, নিউ জার্সির বাসিন্দা হাদি লেবানন বংশোদ্ভূত। দেশটিতে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সাথে হাদি বা তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে সালমান রুশদির ওপর হামলা চালানো হয়। হাদি নামের এক যুবক দৌড়ে মঞ্চে উঠে ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এশিয়া কাপের সূচি

স্পোর্টস ডেস্কঃ আগামী ২৭আগস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপ ক্রিকেট।  টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই হবে দুবাই ও শারজাহতে। প্রত্যেকটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হতে যাচ্ছে এবারের আসর।

এশিয়ার ৫ টেস্ট খেলুড়ে দলের সঙ্গে এবারও অংশ নিবে একটি সহযোগী দেশ। আসরে অংশ নিচ্ছে এশিয়ার পাঁচটি টেস্ট খেলুড়ে দলের সঙ্গে একটি সহযোগী দেশ। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, হংকং এবং সিঙ্গাপুর। ২০ আগস্ট শুরু হওয়া এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত।

৬ দলের এশিয়া কাপে থাকছে দুই গ্রুপ। ‘এ’ গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি সহযোগী দেশ। ‘বি’ গ্রুপের কঠিন লড়াইয়ের নামবে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। দুই গ্রুপে থেকে সেরা সুটি দল উঠবে সুপার ফোরে। সুপার ফোরে প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিপক্ষে একবার করে লড়ে সেরা দুই দল উঠবে ফাইনালে।

‘লাল সিং চাড্ডা’র বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অমর্যাদার অভিযোগে এফআইআর দায়ের

বিনোদন ডেস্কঃ দীর্ঘ চার বছর পর প্রেক্ষাগৃহে ফিরে তার ভক্তদের হতাশ করেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলিউড সুপারস্টার আমির খান। গত ১১ আগস্ট তার বহুলপ্রতীক্ষিত ‘লাল সিং চাড্ডা’ মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমা দেখে হতাশ দর্শক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, এই ছবির বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে এই ছবিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবমাননা করা হয়েছে। সেই সাথে হিন্দু ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, এ সিনেমায় আমির খানকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মী হিসেবে দেখা গেছে। জানা গেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অসম্মান করা, দিল্লি পুলিশের কাছে দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি দেয়া, বিভিন্ন গোষ্ঠির মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে আদালতে এই এফআইআর দায়ের করেছেন বিনীত জিন্দাল নামে দিল্লির এক আইনজীবী।

আইনজীবীর দাবি, এই ছবিতে একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে কার্গিল যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে, যেটা বাস্তবে অসম্ভব। কারণ এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে না। কঠোরভাবে প্রশিক্ষিত সেনা সদস্য ছাড়া কেউই সীমান্তে যাওয়ার অনুমতি পায় না। তাই এখানে নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অসম্মান করছেন।

এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন আইনজীবী। তার দাবি, ছবির একটি দৃশ্যে পাকিস্তানি একজন কর্মী লাল সিং চড্ডাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি নামাজ পড়ি এবং প্রার্থনা করি। লাল, আপনি কেনো তা করেন না? সেখানে লালের উত্তর ছিল, আমার মা বলেছেন, এই সব পূজাপাঠ ম্যালেরিয়া। এতে দাঙ্গা হয়। এটিকে হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে মানহানিকর বিবৃতি বলে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। এতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দাঙ্গার উস্কানি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।

উল্লেখ্য, অস্কারজয়ী সিনেমা ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর হিন্দি সংস্করণ হলো ‘লাল সিং চাড্ডা’। এ সিনেমা মূলত এক ব্যক্তির চোখ দিয়ে একটি দেশের সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দেখার কাহিনি। পুরোদস্তুর আমেরিকার সেই গল্পকে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন পরিচালক অদ্বৈত চন্দন এবং কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আমির খান ও কারিনা কাপুর।