মন্টিনিগ্রোতে বন্দুকধারীর গুলিতে ১০জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপের দেশ মন্টিনিগ্রোতে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৬জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গত শুক্রবার (১২ আগস্ট) দেশটির রাজধানী পোডগোরিকো থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে সেটিনজে শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী মূলত পারিবারিক বিবাদে জড়িত ছিলেন। তার বাড়িতে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার পর পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি করলে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে আরেক বেসামরিক নাগরিকের গুলিতে তিনি নিহত হন।

উল্লেখ্য, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী দ্রিতান আবজোভিচ মর্মান্তিক এ ঘটনার পর তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।

 

মনু নদের বাঁধরক্ষা প্রকল্প সম্পন্নে অনিশচয়তার ভাঁজ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের সদর, রাজনগর এবং কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বহমান মনু নদী, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী ভাঁঙ্গনরোধ কল্পে “মাষ্টার প্রকল্প” নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার ভাঁজ বিরাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ বছরওয়ারী প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ে ঘাটতি, ঠিকাদার মহলের ধীরেচলা নীতি এবং প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচারনার বেষ্টনীতে ঘুরপাক খাচ্ছে সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি।

বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফুঁসে উঠা মনুনদের বাঁধ ভাঙ্গাবন্যা এবং তীর ভাঙ্গার অব্যাহত প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গত ২০২০ সনে প্রণীতহয় মনু নদের বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প। ঐ বৎসরেই একনেক কর্তৃক প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ার পর তার ব্যয় ধরা হয় ৯৯৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। গত ২০২১ সন থেকে ২০২৩ সনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার কথা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন তালিকায় রয়েছে ৩০.২৪০ কিলোমিটার এলাকার বাঁধ পূর্ননির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ ৬৭টি স্পটে টেকসই সংরক্ষন বাঁধ এর জন্য প্রায় ৭৬ লক্ষ সি.সি. ব্লক এবং সাড়ে ১১লাখ জিওব্যাগ প্রতিস্থাপন, মৌলভীবাজার শহর এবং শহর সংলগ্ন এলাকায় আড়াই কিলোমিটার ফ্লাডওয়াল নির্মাণ, তিন উপজেলা জুড়ে ৮৬ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং ১২.১৭ কিলোমিটার নদী খনন। বাঁধ নির্মাণ এবং পূনঃনির্মাণের জন্য তিন উপজেলায় নদী তীরবর্তী ২২৮ একর জমি অধিগ্রহনও প্রকল্পের অন্তরভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে যথাযত নিয়মে টেন্ডারগ্রহনের ভিত্তিতে ৩৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে কর্মসম্পাদনের জন্য বাঁছাইকরা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ঠিকাদারী প্রতিষ্টানই জেলার বাহিরের। নিজ স্বযোগ্যতা বলে তারা বাছাইভুক্ত হয়েছেন। যথা নিয়মে ঠিকাদারী প্রতিষ্টানগুলো কাজ করতে চাইলেও মূল সমস্যা হচ্ছে অর্থ বরাদ্ধ নিয়ে। ৯৯৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকারমধ্যে এ পর্যন্ত বরাদ্ধ এসেছে ৫৭.৯৮ কোটি টাকা। তার বাহিরে ঠিকাদারদের বকেয়া পাওনা দাড়িয়েছে ৮০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, প্রকল্প খাতে ২০২০-২১অর্থ বছরে বরাদ্দ এসেছে ৩কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এসেছে ৫৪.৯৮ কোটি টাকা। এই অপ্রতুল বরাদ্দের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় সৃষ্টি হযেছে।

মৌলভীবাজার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃআক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ২৬ ভাগ। তিনি বলেন, অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকরা তাদের জমির মূল্য না পাওয়ায় বাঁধনির্মান ও মেরামতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

২৬ ভাগ কাজে দুর্ণীতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজের গুনগত মান বজায় রাখার লক্ষে সচেতনতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে, কেননা উক্ত প্রকল্পের জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক প্রকল্পের মূল অঙ্গ যাহা কমিটির কর্তৃক চূড়ান্ত। এখানে কাজ না করে বিল প্রদান করার কোন সুযোগ নেই।

বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে পুলিশের উপস্থিতিতেই মোবাইল ও টাকা ছিনতাই

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে যাওয়ার পথে পুলিশ সদস্য ও ভিটকিমের পরিবারের নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ ৪টি স্মার্টফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ জেলার কড্ডার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে বুধবার (১০ আগস্ট) এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেন নওগাঁ সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস.আই) উজ্জ্বল হোসেন। ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের শৈলগাছী ঈদগাহপাড়া গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া শিক্ষার্থী গত সোমবার (০৮ আগস্ট) স্কুলে যাবার পথে নিখোঁজ হয়। এনিয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা সদর মডেল থানায় জিডি করলে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মেয়েটির অবস্থান ঢাকার উত্তরায় নিশ্চিত হয়। মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মাইক্রোবাস যোগে মেয়েটিকে উদ্ধার করতে রওনা দেন সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল হোসেন।মাইক্রোবাসে এস.আই উজ্জ¦ল হোসেন, শাপলা বেগম নামে এক নারী কনস্টেবল ও মেয়েটির পরিবারের সদস্যসহ ৫ জন ছিলেন। পথিমধ্যে দিবাগত রাত ৩ টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ জেলার কড্ডার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় মাইক্রোবাসটি পৌঁছালে কয়েকজন ছিনতাইকারী সেটিকে থামায়।

এরপর এস.আই উজ্জ্বল হোসেনসহ ওই মাইক্রোবাসে থাকা ভুক্তভোগীদের নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ ৪টি স্মার্টফোন ছিনতাই করা হয়। পরে ছিনতাইকারীরা সেখান থেকে চলে গেলে আবারো মাইক্রোবাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে উত্তরা থেকে অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নওগাঁয় ফেরত আসেন।

এ বিষয়ে উপ পরিদর্শক (এস.আই) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে যাওয়ার পথে সিরজগঞ্জের কড্ডার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় মাইক্রোবাসে ছিনতাইকারীরা আক্রমন করে। ওই মুহুর্তে আমাদের পুলিশ সদস্যসহ ভিকটিমের পরিবারের ৪টি স্মার্টফোন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। এবিষয়ে পরের দিন ফোন হারিয়েছে মর্মে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছি।

সিরজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, কয়েকটি মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন নওগাঁ সদর মডেল থানার এস.আই উজ্জ্বল হোসেন। ইতিমধ্যে ২ জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই মোবাইলগুলো উদ্ধার করা যাবে।

নওগাঁ সদর থানার মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ভিকটিম উদ্ধারে গিয়ে থানার কোন উপ পরিদর্শক (এস.আই) ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন কি না? সেটা আমার জানা নেই।

নবাবগঞ্জে শামীম ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগীদের সাথে প্রতারনায় অন্যান্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ক্ষতিগ্ৰস্থ

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শামীম ডায়ানস্টিক সেন্টারে রোগীদের সাথে প্রতারণা করার কারণে অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

ডাক্তার একজন রোগীকে এক্সরে করার পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শামীম ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ওই রোগীকে আলটাসানোগ্ৰাম করে দেয়া হয়।ফলে একদিকে রোগীরা আর্থিক ক্ষতি ও অপর দিকে ভুল চিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বেও ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগীদের নানা ভাবে প্রতারিত করা হয়েছে এবং ভুল / অপচিকিৎসার ফাঁদে ফেলিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়েছে বলেও রেকর্ড রয়েছে।যেমন নবাবগঞ্জে জাল সাক্ষর করে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের অভিযোগ।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসপাতাল এর সামনে অবস্থিত শামীম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জাল সাক্ষর করে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সনদ প্রদান করছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেকনোলজিষ্ট হিসেবে একজন কর্মরত ছিলো দীর্ঘ দিন ধরে।মালিক পক্ষ তাকে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করার চাপ সৃষ্টি করলে তিনি কাজ ছেড়ে দেন। এমনঅবস্থায় তিনি দেড় মাস ধরে বাসায় বসে ছিলেন। তিনি নবাবগঞ্জ হাসপাতাল মোড়ে একদিন ওষুধ কিনতে গিয়ে একজনের হাতে একটি রক্তেরগ্রুপ নির্ণয় রিপোর্ট দেখতে পান। সেই রিপোর্ট এ দেখতে পান তার সিল ও সাক্ষর রয়েছে। রিপোর্টিতে তিনি দেখেন শামিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১৩/০৬/২২ এ করা রিপোর্ট ।

অভিযোগকারী জানান, শামীম ডায়াগনস্টিকে যে কোন ব্যক্তির দ্বারা উক্ত রিপোর্ট তৈরি করে আমার জাল সাক্ষর করা হচ্ছে। যাহা একটি গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন।

এমনিভাবে নবাবগঞ্জ শামীম ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে উপর্যপরি দুর্নীতি অনিয়ম ও প্রতারণার ব্যবসা অব্যাহত রাখায় অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার ক্ষতিরগ্ৰস্থ হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহন করা জরুরি বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

উৎপাদন বেড়েছে ফসলের; খাদ্যাভাব হবে না বাংলাদেশে

যে যতই বলুক বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হইয়া যাবে, কিসের শ্রীলঙ্কা? আমরা কৃষক আছি না। আমরা কৃষকরা মাঠে আছি। মাটিকে ঘুষ দিতে হয় না। মাটির সাথে পরিশ্রম করলে, মাটি আমাদের সাথে কথা বলে। আমাদের অভাব নেই। আমাদের ঘরে টাকা আছে, আমি মনে করি কৃষকের ঘরে টাকা আছে। আমরা কৃষকরা নেতৃত্ব দিব। খাদ্যের জন্য আমাদের ভিক্ষা চাওয়া লাগবে না। আমরা উৎপাদন করতে পারি। খাদ্যের অভাব হবে না বাংলাদেশে। আমাদের হাতে বল আছে, আমাদের ক্ষমতা আছে। আমি মনে করি আমরাই পারবো বাংলাদেশ জয় করতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারবে বাংলাদেশ জয় করতে, আমরা কৃষকরা তাঁর সাথে আছি‘। আমরা বাড়িও চাইবো না, গাড়িও চাইবো না, টাকাও লাগবে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ কৃষকদের দিকে খেয়াল রাখবেন। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করবেন, বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা করবেন‘।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত নুরুন্নাহার কৃষি খামারের স্বত্বাধিকারী মোছাঃ নুরুন্নাহার বেগম গত ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) সম্মাননা ২০২০‘ প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একথাগুলো বলেছেন। মোছাঃ নুরুন্নাহার বেগমের বক্তব্যে বাংলাদেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র, মনোবল উৎপাদনে সক্ষমতা ও সফলতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেছেন, ‘ আমরা কৃষকরা এখন আর সেই কৃষক নাই। আমাদের  পোশাক এখন অন্যদের মতই‘…। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমীন তাঁর অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, কৃষক এখন আর পাখির রব শুনে রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে গরু আর লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যান না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাঠে হাড়ভাঙা খাটুনিতে ব্যস্ত থাকেন না। অধিকাংশ কৃষকের গায়ে এখন আর ছেঁড়া লুঙ্গি দেখা যায় না। বর্তমান কালের কৃষকের পরনে থাকে ফুল প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং পায়ে জুতা বা সেন্ডেল। চৈত্র-বৈশাখের প্রখর রৌদ্রে পুড়ে আউশ ও আমন ধান বা পাটের বীজ বপনের জন্য তাদের গরু টানা কাঠের লাঙলে জমি কর্ষণ করতে দেখা যায় না। মুগুর দিয়ে জমিতে ঢেলা ভাঙা, জমির উর্বরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাঁধে ঝুলিয়ে বা মাথায় টোপর ভর্তি গোবর-খড়কুটা পরিবহন ও তা মাঠে ছড়ানো আজ অদৃশ্য। বোরো ধানের জমিতে সেওতি দিয়ে পানি সেচের দৃশ্য কল্পনাতীত। এখন আর পাট ও আউশ এবং আমন ধানের জমিতে নিরানি দিয়ে আগাছা দমন করতে দেখা যায় না। সর্বত্র কলের লাঙল, নিড়ানি ও সেচ যন্ত্র এবং ফসল কর্তন, মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্রের সমারোহ। বিকাল ৪টার পর সাধারণত কৃষককে মাঠে দেখা যায় না। তারা বিকালে গ্রামের বাজারে গড়ে  ওঠা দোকানে বসে ফুরফুরে মেজাজে চা, বা কোমলপানীয় পান করেন, টেলিভিশন দেখেন ও রাজনৈতিক আড্ডায় লিপ্ত হন।

গ্রামীণ কৃষাণীর ফসলের মাড়াই-ঝাড়াই, বিনিদ্র রজনীতে ধান সেদ্ধ, রোদে ধান শুকানো ও কাঠের ঢেঁকিতে ধান ভানতে হয় না। গৃহস্থালিকাজে নিয়োজিত বছরি কামলা বা ঠুকা কামলার আহার জোগাতে তাদের বিশাল পাত্রে রান্নার কাজ অদৃশ্য। কৃষাণীরা এখন আর গরু-মহিষের খাবারের চাড়ি পরিষ্কার, চাড়িতে পানি দেয়া, গোয়ালঘর ও গোশালা ঝাড়ু দেয়া ও গোবর শুকিয়ে জ্বালানি তৈরি করেন না। এমনকি খড়কুটা বা গাছের পাতা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেও তেমন একটা দেখা যায় না। অনেক কৃষাণী এখন গ্যাসের চুলায় রান্না করেন। ভোরবেলা ও বিকালে তাদের এখন প্রাণবন্ত মনোভাবে সবুজে আচ্ছাদিত গ্রামীণ পাকা রাস্তায় পদচারী ও আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায়। শীত নিবারণে কৃষক পরিবারে পুরনো ও জীর্ণ শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে নির্মিত কাঁথার জায়গা দখল করে নিয়েছে জমকালো চাদর আর চিকচিকে কম্বল ও রকমারি নকশার কাঁথা। তাই কৃষাণীরা এখন আর শরতের বৃষ্টিস্নাত দিনে কাঁথা সেলাইয়ে আগ্রহী নন। গ্রীষ্মের খরতাপে বিদগ্ধ হয়ে কৃষাণীকে খেসারি, ছোলা ও মুগডাল মাড়াই-ঝাড়াইকরণ এবং ক্লান্ত-অবসন্ন দেহের ফুরসত নিতে আম্রবৃক্ষতলে বসে পান চিবোতে দেখা যায় না। প্রকারান্তরে তারা বৈদ্যুতিক পাখার সুশীতল হওয়ায় বসে টেলিভিশনে ডিশ অ্যান্টেনার সুবাদে ভারতীয় চ্যানেলে নিয়মিত সিরিয়াল দেখেন।

কৃষকের সন্তান এখন উৎসব-আনন্দে স্কুলগামী। সরকারি উপবৃত্তির সুবাদে স্কুলের প্রতিটি শিশুর গায়ে থাকে  পোশাক, পায়ে শোভা পায় রঙিন ও ঝকঝকে জুতো। শিশুরা বই আর টিফিন বহন করে পিঠে ঝোলানো ব্যাগে। গৃহিণী মা তার সন্তানের হাত ধরে নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যায়। তাঁরা এখন সন্তানের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার কাজে ব্যতিব্যস্ত।

কৃষি ও কৃষক পরিবারের এ উল্লেখযোগ্য কাঙ্ক্ষিত ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দিশারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সরকারের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ কৃষক ও কৃষাণীর মুখে হাসি এবং প্রাণে আনন্দের উচ্ছ্বাস। পরিশ্রমী কৃষক এবং মেধাবী কৃষিবিদদের গবেষণা ও মন্ত্রনালয়ের সম্প্রসারণ কর্মসূচির প্রয়াসেই এ সাফল্য।

সোমবার ১ আগস্ট ২০২২,  ইকোনমিক টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল জোরালো। আবার চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ভুগতে শুরু করেছে বিশ্বের বহু দেশ।
তবে আঞ্চলিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিজেদের অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় পার করে বাংলাদেশ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। উৎপাদন খাতের বিস্তৃত ভিত্তি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে উদ্দীপনাসহ এটি এশিয়ার জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতি হতে পারে।

স্বাধীনতার ৫১ বছরে বাংলাদেশে কৃষির অগ্রযাত্রা সারা বিশ্বের বিস্ময়। এই সাফল্যের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, কৃষিপ্রধান দেশে কৃষির সম্পূর্ণ বিকাশ ও উৎকর্ষ ব্যতিরেকে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে তিনিই কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘… আমার মাটি আছে, আমার সোনার বাংলা আছে, আমার পাট আছে, আমার গ্যাস আছে, আমার চা আছে, আমার ফরেস্ট আছে, আমার মাছ আছে, আমার লাইভস্টক আছে, যদি ডেভেলপ করতে পারি এইদিন আমাদের থাকবে না‘।

এই ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কৃষির গবেষণার গুরুত্ব অনুধাবন করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কৃষিশিক্ষায় আকৃষ্ট করতে ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক সমাবর্তন  অনুষ্ঠানে চাকুরী ক্ষেত্রে কৃষিবিদদের মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেন। জাতির জনক প্রদত্ত সেই মর্যাদা এ দেশের কৃষিবিদ সমাজে আজো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করে।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন ছাড়া কিছুতেই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। তাই বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে কৃষি খাতকে সচল ও মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন বিপুল কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ। কিন্তু হায়েনার দল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবনযাপন করে মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন স্বজনহারা বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব হাতে নেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও  দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে কৃষির উন্নয়নে, তিনি যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন করেন এবং বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। কৃষিবিদ ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে কৃষিতে। এককালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক শত্রুরা যেই বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি‘ বলে বিদ্রূপ করেছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশে অভাবনীয় খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জনসংখ্যা আধিক্য, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস, ইত্যাদি চ্যালেঞ্জের মুখেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ খাদ্য ও আমিষের চাহিদা পূরণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় উচ্চ ফলনশীল, লবনাক্ততা ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের মাঝে দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বান্ধব প্রধানমন্ত্রী কৃষকের সহায়তায় আর্থিক প্রনোদনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করেছেন। সার, বীজ সহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ নামেমাত্র মূল্যে বা কখনো কখনো বিনামূল্যে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রচলন, কৃষির উন্নয়নে নবদিগন্তের সূচনা করেছে।

করোনা অতিমারীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যতটুকু না ঋণাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। বৈশ্বিক এই সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মিডিল ইনভেস্টরস সার্ভিস বলেছে, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি হলেও শ্রীলঙ্কার মতো সংকট হবে না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান করোনা অতিমারী এবং ছয় মাসের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।… দেউলিয়া হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানেও সংকট তীব্র হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের তেমন পরিস্থিতিতে পরার ঝুকি কম‘।

বৈশ্বিক সংকট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সারাবিশ্বে সারের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কৃষি মন্ত্রণালয় আর্থিক ভুর্তকি দিয়ে কৃষকের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ সহ বিভিন্ন সংস্থা কৃষি ভর্তুকি না দিতে পরামর্শ দিলেও কৃষকবান্ধব নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এটা ভর্তুকি নয়, বিনিয়োগ‘। বাংলাদেশে কৃষির ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে, ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে শস্য উৎপাদন অব্যাহত ছিল বলেই করোনা কালে খাদ্যাভাব দেখা দেয়নি।

২০২০ সালে বৈশ্বিক অতিমারি করোনা সংকটকালে ‘ডব্লিউএফপি’ অনুমান করে বলেছে, করোনা প্রতিরোধে লকডাউনের কারণে শুধু শিল্প নয়, কৃষিতেও উৎপাদন কম হবে, ফলে বিশ্বে ৩ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে। ডব্লিউএফপিএর ভবিষ্যত বানী ভুল প্রমাণিত করে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসময়ে বলেছিলেন, ‘করোনা ও বন্যা যাই হোক না কেন, খাদ্য সংকট হবে না বাংলাদেশে’।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

নওগাঁয় প্রাইভেট কার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে স্বামী ও গর্ভবতী স্ত্রী’র মর্মান্তিক মৃত্যু

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী ও গর্ভবতী স্ত্রী’র মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহা-সড়কে মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা মোড়ের দক্ষিন পার্শ্বে খদ্দোরনারায়নপুর লাটাহার ব্রীজের সন্নিকটে একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গভীর খাদে পানিতে তলিয়ে গেলে এই দূর্ঘটনাটি ঘটেছে।

মহাদেবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আযম উদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ১২টার দিকে মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কুলিহার গ্রামের ইট ব্যাবসায়ী মোঃ আব্দুল খালেকের পুত্র শিমুল (৩০) তাঁর স্ত্রী জিনিয়া (২৫) কে সাথে নিয়ে নিজস্ব প্রাইভেট কারে করে নওগাঁর দিকে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে হঠাৎ করে সেখানে নির্মনাধীন সাইলোতে মাটি ভরাটের কাজে নিয়োজিত একটি ট্রাক ঐ কারের সামনে মেইন রাস্তায় উঠে পড়ে। ঐ ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ব্রীজের গার্ডার ভেঙ্গে রাস্তার পূর্ব পার্শ্বের গভীর খাদে পড়ে গড়ে যায়। কারটি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এ সময় শিমুল নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিল।

স্থানীয় লোকজন এবং নওহাটা পুলিশ ফাড়ির সদস্যরা এসে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে নওগাঁ হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কোন ময়না তদন্ত ছাড়াই পিতার নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহাদেবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ জানিয়েছেন পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উক্ত শিমুল মাত্র কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন। অতি সম্প্রতি ঐ কারটি ক্রয় করেছেন। তার স্ত্রী জিনিয়া গর্ভবতী ছিলেন।

নেত্রকোণায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু উপর লিখিত বই বিতরণ

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলায় ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরে অর্ধ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধু উপর লিখিত বই বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে পূর্বধলার জুগলী মোড় এলাকায় ঢাকা উত্তর মহানগর কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মাজাহারুল ইসলাম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও বই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ আজিজ,১০ নং নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক সাগর, আওয়ামী লীগ নেতা দিদার হোসেন, যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এরশাদ শেখ, কৃষক লীগ নেতা রাজিব আহসান, শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ আহ্বায়ক শাহীনুল ইসলাম শাহীন, পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ সহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

৫০ টাকা দাম ছাড়ালো ডি‌মের হা‌লি

অর্থনীতি ডেস্কঃ দিনদিন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এখন বেড়ে গেছে ডিমের দাম। বাজারে ডি‌মের দাম হা‌লিতে এখন ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং অনেক খামার বন্ধ হয়ে মুরগি ও ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ার জন্য ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

আজ শনিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে খুচরো দোকানে লাল ডিমের ডজন যেখানে ১১৫ থেকে ১২০ টাকার বিক্রি হয়েছে, সেই ডিমের ডজন আজ ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর হালিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। আজকের বাজারে একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ টাকা। অপরদিকে, পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। আর প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকায়।

অন্যদিকে, মুরগির ডিমের পাশাপাশি বেড়েছে হাঁসের ডিমের দামও। হাঁসের ডিমের প্রতি ডজন ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। প্রতিটি হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৬ টাকা দিয়ে একজন ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে।

হাতিরপুলের খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডিমের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ার পরও বিক্রি তেমন কমেনি, বরং বেড়েছে। কারণ বেশি দামের কারণে মানুষ মাছ, মাংস, মুরগি কিনতে পারছে না। ফলে ডিমের ওপরই তাদের ভরসা। আরও বাড়তে পারে বলে এই আশংকায় মানুষ একটু বেশি করেই ডিম কিনছে। মহল্লার দোকানের চেয়ে বাজারে ডজনে ৮ থেকে ১০ টাকা কম, তাই মানুষ বাজার থেকে কিনছে।

নিউমার্কেটের একজন ডিম বিক্রেতা বলেন, পরিবহন খরচের পাশাপাশি ডিমের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই প্রতিদিনের ক্রেতা চাহিদার চেয়ে ডিমের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বাড়ছে। ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগির দাম আরও বাড়বে বলেও আশংকা করছেন এই ব্যবসায়ী।

কারওয়ান বাজারের ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডিমের চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি ডিম ও মুরগি আসে গাজীপুর থেকে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের খামারি ছিলেন ৪ হাজারেরও বেশি। গরমে মুরগি মরে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে লোকসানের মুখে অনেকে খামার বন্ধ করে দেন। যারা চালু রেখেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পোল্ট্রি খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে তাদের অনেকেও খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

 

দেশ জুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা চা শ্রমিকদের

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিত টানা ৪ দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছেন চা শ্রমিকরা। তার পরেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সারাদেশের চা বাগানে কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মৌলভীবাজারের ৯২টি, হবিগঞ্জের ২৪টি, সিলেটের ২৩টি বাগানসহ সারাদেশের ২৪১টি বাগানের শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু এই চার দিন কর্মবিরতি পালন করেও কোন ফলাফল না পাওয়ায় শনিবার চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য সারাদেশের সব চা বাগানে কর্মবিরতি করে মহাসড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন সর্বস্তরের চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

আজ থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, বড়লেখা উপজেলার সবকটি চা বাগানসহ সারাদেশে একযোগে  অনিদির্ষ্ট কালের এই কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তিন দিন ধরে চট্রগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশের চা-বাগানে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করছেন চা-শ্রমিকেরা।

বিজয় হাজরা বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা তিন দিন নাগাদার সারাদেশে চা–বাগানে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছি। কিন্তু আমাদের কর্মবিরতিকে মালিকপক্ষ কোনো প্রকার গুরুত্বই দিচ্ছে না। কাল দুই ঘণ্টা কর্মবিরতির শেষ দিন। আপনারা প্রতিটি চা-বাগানে প্রস্তুতি নিন। যদি কালকের ভেতর কোনো আশানুরূপ সমাধান না আসে, তাহলে প্রতিটি চা-বাগানের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে নিকটস্থ শহরের মহাসড়কে অবস্থান করুন। প্রতিটি চা-বাগানে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলুন।’

এ সময় সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, ভাড়াউড়া বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

চা-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিজয় প্রতিনিধিকে বলেন, ‘১৯ মাস ধরে আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি। ১৩টি সভা হয়েছে তাদের সঙ্গে। মালিকপক্ষ আমাদের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকার সঙ্গে ১৪ টাকা বাড়াতে চায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ১৩৪ টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। প্রতিটি চা-শ্রমিকের পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। আমরা মালিকপক্ষের কাছে দাবি রেখেছি আমাদের মজুরি ৩০০ টাকা করা হোক।’

এদিকে কর্মসূচির চতুর্থ দিনেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চা বাগান কেন্দ্রিক চট্রগ্রামসসহ সিলেটের চা-শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন।

উপজেলার ভুরভুরিয়া চা-বাগানের নারী চা-শ্রমিক সরস্বতি পাল বলেন, ১২০ টাকার মজুরি দিয়ে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। কোনোদিন এর চেয়ে বেশি সময়ও কাজ করতে হয়। শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু মালিকপক্ষ মজুরি ১২০ টাকা থেকে ১৪ টাকা বাড়ানোর কথা বলেছে। সন্তানদের নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জীবন যাপন করার জন্য এই দাবি জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কয়েকটি পত্রিকায় মালিকপক্ষের বক্তব্য দেখলাম। তারা নাকি রেশন দিচ্ছে, ঘর দিচ্ছে, অনেক সুবিধা দিচ্ছে, সাথে বলতে দেখা যায় এই আন্দোলন নাকি অযৌক্তিক। কিন্তু শ্রমিকেরা রেশনও ভালো করে পাচ্ছে না। সারাবছর শুধু লাল আটা দেওয়া হয়। একটি ঘরের কক্ষে গাদাগাদি করে শ্রমিকদের বাস করতে হয়। এখনো নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে। শুক্রবার কর্মবিরতি শেষে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে মালিকপক্ষকে বাধ্য করতে হবে। আন্দোলন এর জন্য সবাইকে প্রস্তুত হয়ে রাজপথে আহ্বান ও অনুরোধ জানান।’

এদিকে কুলাউড়া উপজেলার লোহাইনি চা বাগান ও হিংগাজিয়া চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক সংসার এই ১২০ টাকা হাজরি দিয়ে চলে। তারা চাল কিনলে লবন কিনতে পারে না। এই অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতির কারনে অনেক পরিবার অনাহারে থাকতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারছেন না। ফলে তাদের সন্তান দেশের সম্পদ না হয়ে বোঝা হচ্ছে বলে মনে করছেন।

ইটা চা বাগানের চা শ্রমিক সন্তান রুহুল আমিন বলেন ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে এখন এক লিটার তেলও মিলে না। দুই কেজি চাল কিনতেই এই টাকা চলে যায়। যাতে চা শ্রমিকদের বাঁচতে পারে এর জন্য হলেও মানবিক কারণে জীবন যুদ্ধে লড়াইয়ে বেঁচে থাকা যায় অন্তত ৩০০ টাকা মজুরি হওয়া অনেক প্রয়োজন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি (সিলেট) রাজু গোয়ালা একটি সাক্ষাৎকারে জানান, টানা চার দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করার পরেও কোন ধরনের ফলাফল পাই নাই,  এর জন্য শনিবার থেকে অনিদির্ষ্ট কালের জন্যে কর্মবিরতি ঘোষণা হয়েছে।

এবার প্রেমের টানে দিনাজপুরে এসে অস্ট্রিয়ান সুদর্শন যুবকের বিয়ে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রেম অবিনশ্বর, প্রম কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ড ও বাধা  মানে না। তাইতো প্রেমের টানে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ছুটে আসছেন ভিনদেশি প্রেম পাগল তরুণ-তরুণী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের এসেছেন  দিনাজপুরে এসেছেন ৩৫ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ান সুদর্শন অ্যাড্রিয়ান বারিসো নিরা।  এখানে এসে বিয়ে ও করে ফেলেছেন তার মনের মানুষকে। গত মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাতে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ধুমদাম ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিয়েও করেছেন নুসরাত জাহান রুম্পা নামের প্রেমিকাকে। খবর পেয়ে তাদের দেখতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।

অ্যাড্রিয়ান বারিসো নিরা অস্ট্রিয়ার হিয়ানার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী। একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি মুসলিম। এর আগে  গত রোববার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশে আসেন তিনি।  পরদিন ঢাকা থেকে দিনাজপুরে যান তিনি।  স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালে অ্যাড্রিয়ানের সঙ্গে আমেরিকায় দেখা হয় দিনাজপুরের উপশহরের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে নুসরাত জাহান রুম্পার। পরে ফেসবুকসহ নানান সামাজিক মাধ্যমে তাদের কথা হয়। ২০২০ সালে তারা বিয়ে করার জন্য সম্মত হলেও করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সেটি পিছিয়ে যায়। পরে অ্যাড্রিয়ান বাংলাদেশে এসে বিয়ে করেন।

এ বিষয়ে নববধূ রুম্পা বলেন, মনের দিক দিয়ে অনেক ভালো মানুষ অ্যাড্রিয়ান। তার ব্যবহার খুবই ভালো। আমরা যেন সারাজীবন এভাবে একসঙ্গে থাকতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন। আমাকে তার দেশে নিয়ে যেতে চায় সে। এতে প্রায় ছয় মাসের মতো সময় লাগবে।’ অ্যাড্রিয়ান বলেন, ‘২০১৯ সালে তাকে এক ঝলক দেখেছিলাম। এরপর দীর্ঘ চার বছর ধরে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে দেখেছি তার থেকেও অনেক ভালো। এদেশের প্রকৃতি ও মানুষ খুব ভালো। এছাড়াও  খাবার ভীষণ সুস্বাদু। আমি স্ত্রীকে আমার দেশে নিয়ে যেতে চাই। আমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি। অ্যাড্রিয়ান বারিসো নিরা ও নুসরাত জাহান রুম্পার বিয়ের খবরটি দিনাজপুর শহরে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।