জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্কঃ বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আজ শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের এসব নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তবে চিন্তার কারণ নেই, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও কমানো হবে।

এদিকে, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা। অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। হঠাৎ করে সব ধরনের তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

তেলের দাম বাড়ানোর কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। সাভারে একটি পাম্পে তেল না পেয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাজধানীতে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। এ অবস্থায় দ্রুত বাস ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।

উল্লেখ্য, পরিবহন মালিকরা বলছেন, যে হারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, সে হারে ভাড়া না বাড়ালে গাড়ি রাস্তায় নামানো সম্ভব হবে না। কারণ, লস দিয়ে কেউ গাড়ি চালাবে না। এ জন্য দ্রুত সরকারকে ভাড়ার বিষয়টি সমাধান করতে হবে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছেন নাঈম ও এবাদত

স্পোর্টস ডেস্কঃ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডে খেলতে আজ শনিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশ ছাড়ছেন ব্যাটার নাঈম শেখ ও পেসার এবাদত হোসেন। একের পর এক ক্রিকেটাররা ইনজুরিতে পড়ায় তাদের পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে রাত ৭ঃ৪৫ মিনিটে তাদের ফ্লাইট। জিম্বাবুয়েতে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হারের পর ওয়ানডে সিরিজেও রয়েছে হারের শঙ্কা। প্রথম ম্যাচে তিনশর বেশি রান তুলেও স্বাগতিকদের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে তামিম ইকবালের দল।

গতকাল শুক্রবার (৫ আগস্ট) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে লজ্জাজনক হারের দিনে চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন সবচেয়ে ইনফর্ম ব্যাটার লিটন দাস। বাংলাদেশ ইনিংসে সিকান্দার রাজার করা ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেয়ার জন্য ছুটছিলেন, ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই ব্যথা অনুভব করলে মাঠে শুয়ে পড়েন লিটন। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এশিয়া কাপেও তাকে পাওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা।

প্রথম ওয়ানডেতে চোট পাওয়ার তালিকায় লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম ছাড়াও রয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শরিফুলের চোট গুরুতর না হলেও ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই আগেই শরিফুলের বিকল্প হিসেবে নেয়া হচ্ছে আরেক পেসার এবাদত হোসেন এবং লিটনের জায়গায় খেলতে পারেন নাঈম শেখ।

উল্লেখ্য, ওয়ানডে সিরিজটা হার দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ব্যাট করে ৩০৩ রান তুলেও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যায় ৫ উইকেটে। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে আগামীকাল রবিবার (৭ আগস্ট) হারারেতে।

গাড়ি দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে হাসপাতালে অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্কঃ গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাশ। দুর্ঘটনার সময় নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ( ৬ আগস্ট) ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম লস অ্যাঞ্জেলসে।

জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে আঘাত হানে গাড়িটি। দুর্ঘটনার পরে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী। ঘটনাস্থল থেকে অ্যান হ্যাশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যেই বাড়ির সাথে গাড়িটি ধাক্কা খেয়েছে, সেই বাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অ্যান হ্যাশ নব্বইয়ের দশকে একাধিক হলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার মাঝে ‘আই নো হোয়াট ইউ ডিড লাস্ট সামার’, ‘সিক্স ডেইজ সেভেন নাইটস’ এবং ‘ডোনি ব্রাসকো’ অন্যতম। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ছোট পর্দায় অভিনয় করছেন।

তাইওয়ানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থার উপ-প্রধানের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিটের উপপ্রধান উপ-প্রধান ওউ ইয়াং লি-হসিং এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে একটি হোটেল কক্ষে তার মরদেহ পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (সিএনএ) বরাতে রয়টার্স এমন খবর জানিয়েছে।

সিএনএ জানিয়েছে, আজ সকালে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি হোটেলের কক্ষে সামরিক বাহিনী পরিচালিত ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপ-প্রধান ওউ ইয়াং লি-হসিংকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ওউ ইয়াং তাইওয়ানের পিংতুংয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাউন্টিতে ব্যবসায়িক সফর করছিলেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উত্পাদন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের জন্য চলতি বছরের শুরুতে ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপ-প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, চীনের সাথে তাইওয়ানের সামরিক উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই দেশটির শীর্ষ সামরিক গবেষণা কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে দেখা উঠেছে নানা প্রশ্ন।

 

তাইওয়ানের চারপাশ জুড়ে চলছে চীনের নজিরবিহীন সামরিক মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের পর থেকে তাইওয়ানের চারপাশ জুড়ে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার (৭ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তা চলবে। এ বিশাল সামরিক মহড়াতে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হবে। চীনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস এ খবর দিয়েছে।

চীনা গণমাধ্যম জানিয়েছে, যৌথভাবে অবরোধ সৃষ্টি, সমুদ্র অভিযান এবং স্থল ও আকাশ পথের যুদ্ধের মহড়া চালাবে চীনা সামরিক বাহিনী। মহড়ায় চীনের জে-২০ স্টিলথ জঙ্গিবিমান অংশ নিচ্ছে।

মহড়া শুরুর আগেই গ্লোবাল টাইমসহ চীনের গণমাধ্যমগুলো একে ‘নজিরবিহীন মহড়া’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, চীন প্রথমবারের মতো তাইওয়ান দ্বীপের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড বুধবার জানিয়েছে যে, তারা তাইওয়ান দ্বীপের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ- পূর্ব এলাকায় বাস্তব যুদ্ধের মহড়া পরিচালনা করবে। এর মধ্যে ৬টি স্পটে চীনা সামরিক বাহিনী তাজা গুলি ব্যবহার করবে বলে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড জানিয়েছে।

ময়লার ভাগাড়ে রুপ নিয়েছে কমলগঞ্জ ভূমি অফিস

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউপি ভূমি অফিসের প্রধান ফটক ঘেঁষেই বসে স্থানীয় মাছ বাজার। ভূমি অফিসে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটিও দখল করে রেখেছেন স্থানীয় দোকানিরা। প্রতিদিন মাছ বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ভূমি অফিসের ফটকের সামনেই। তা থেকে ছড়াচ্ছে বিশ্রী দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ অফিসটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী আর অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অফিসের ফটকের দু’পাশেই ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তাতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলায় গা সহা হয়ে গিয়েছে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী আর সেবা গ্রহীতাদের। কিন্তু গত কিছু দিনের ভ্যাপসা গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে পচা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষিত করছে। জমে থাকা পানি পচে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

দুর্গন্ধে তাদের অফিস করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শুধু অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজনের অফিসে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেককে নাকে রুমাল দিয়ে অফিস করতে দেখা যায়। কেউ কেউ হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে অফিসে চলাচল করছেন।

প্রতিদিন এমন অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। অফিসের কর্মকর্তা আর স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেও পাচ্ছেন না এ দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির কোনো প্রতিকার! উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়ন অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নৃত্য গোপাল গোস্বামীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি ও সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্গন্ধে অফিস করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি বাজার কমিটিকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মাছ বাজারের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে একটি পরিকল্পনা ও নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। অতি দ্রুত এর সুরাহার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নওগাঁয় কাঙ্খিত বৃষ্টি হওয়ায় রোপা আমন ধান রোপনের উৎসব

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : কাঙ্খিত বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে নওগাঁ জেলার অবারিত মাঠ জুড়ে রোপা আমন ধানের চারা রোপনের উৎসব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় আমন ধান রোপন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যে হতাশা দেখা দিয়েছিল তা এখন আশায় পরিনত হয়েছে। মাঠে মাঠে জমিতে হাল চাষ, সেচ দেয়া, বীজতলা থকে চারা উত্তোলন আর সে চারা চাণকৃত জমিতে রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ জেলার কৃষকরা। ক্ষেতের পানিতে কলের লাঙ্গল আর দেশীয় জাতের লাঙ্গলের শব্দ, দুর থেকে ভেসে আসা কৃষকদের নানা হাকডাকে মুখরিত এখন দিগন্ত জোড়া মাঠ।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মঞ্জুরে মওলা জানিয়েছেন, নওগাঁ জেলায় জমিতে খরিপ-২/ রোপা আমন ধানের চারা রোপনের ভরা মওসুম হচ্ছে জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। কাঙ্খিত বৃষ্টি হওয়ায় এ জেলার কৃষকরা তাদের জমিতে পুরোদমে ধান লাগাতে শুরু করেছেন।

সূত্রমতে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ১ হাজার হেক্টর, উন্নত ফলনশীল (উফশী) জাতের ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৫ হাজার ১১০ হেক্টর।

উপজেলা ভিত্তিক ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ২৫০ হেক্টর, উফশী জাতের ৮৭২০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১০১৫ হেক্টরসহ মোট ৯ হাজার ৯৮৫ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৩০ হেক্টর, উফশী জাতের ১৭,৪৪০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১২২০ হেক্টরসহ মোট ১৮ হাজার ৬৯০ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ১০০ হেক্টর, উফশী জাতের ৫,৩০০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১২৯৫ হেক্টরসহ মোট ৬ হাজার ৬৯৫ হেক্টর। বদলগাছি উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৫ হেক্টর, উফশী জাতের ১২,৭৯০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১৫৩০ হেক্টরসহ মোট ১৪ হাজার ৩২৫ হেক্টর। মহাদেবপুর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৩১০ হেক্টর, উফশী জাতের ১৮,৬২০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৯৬৮৫ হেক্টরসহ মোট ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টর। পত্নীতলা উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৭০ হেক্টর, উফশী জাতের ২৩,০৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৪০১০ হেক্টরসহ মোট ২৭ হাজার ১৫০ হেক্টর। ধামইরহাট উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ২১০ হেক্টর, উফশী জাতের ১৯,৬৫৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৫৯০ হেক্টরসহ মোট ২০,৪৫৫ হেক্টর। সাপাহার উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৫ হেক্টর, উফশী জাতের ৮৫৪৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১২৪০ হেক্টরসহ মোট ৯,৭৯০ হেক্টর। পোরশা উপজেলায় হাইবীড জাতের ৫ হেক্টর, উফশী জাতের ১৪,৪৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১১০০ হেক্টরসহ মোট ১৫,৫৮০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ১০ হেক্টর, উফশী জাতের ১৫,৬৩০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৮৫ হেক্টরসহ মোট ১৫,৯২৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৫ হেক্টর, উফশী জাতের ২৬,৭৫৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩১৪০ হেক্টরসহ মোট ২৯,৯০০ হেক্টর।

চলতি আমন মওসুমে চাষকৃত জমির ধান থেকে মোট ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৪৭৭ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হবে বলে প্রত্যাশা কৃষি বিভাগের। এর মধ্যে হাইব্রীড ধান থেকে ৪২৯০ মেট্রিকটন, উফশী জাতের ধান থেকে ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাতের ধান থেকে ৪৯ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন চাল।

রাশিয়ায় অনলাইন বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (৩ আগস্ট) মস্কোর অদূরে এ আগুনের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, এ সময় কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ। ধোঁয়ার কুণ্ডলী অনেক ওপরে উঠে যেতে দেখা যায়।  ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।  জীবন বাঁচাতে যে যেভাবে পেরেছেন বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুটি ফায়ার হেলিকপ্টার আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে গ্রাহকরা আগুনের কারণে তাদের পণ্য পাননি তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ত্রা শহরের পেট্রোভস্কে গ্রামে এ আগুন লাগে। এই আগুন ৫০ হজার স্কয়ার ফিট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ১০০০ কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে বের করে আনা হয়। ‘ওজন’ নামের ওই কোম্পানির গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে সব কর্মীকে আগুন লাগার পর বের করে আনা হয়। আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি তবে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, সংবাদে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় আগুনের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। আগুন নেভাতে ১৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করেন। প্রায় ৪০টি  সরঞ্জামের পাশাপাশি এ সময় তিনটি হেলিকপ্টারও ছিল।

নওগাঁয় হাসপাতালে যাবার পথে দুর্বত্তের হামলায় গৃহবধু আহত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাবার পথে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক গৃহবধুকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বত্তদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (০৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের রুবীর মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনাটি ঘটে।

হামলার শিকার ওই গৃহবধু শহরের খাস নওগাঁ মহল্লার সুইপার কলোনীর বিশ্বনাথ দাসের স্ত্রী রাণী বাঁশফোর। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ওই গৃহবধু। হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শহরের খাস নওগাঁ মহল্লার সুইপার কলোনীর বাসিন্দা রাণী বাঁশফোর এর স্বামী বিশ্বনাথ দাস সেনানিবাসে ঝাড়ু–দার হিসেবে কাজ করেন। স্বামীর চাকুরীর কারণে রাণী বাঁশফোর তাঁর ছেলে শিব কুমারকে সঙ্গে নিয়ে ওই কলোনীতে মায়ের বাড়িতে দীর্ঘ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে মাদকের রমরমা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। ওই কলোনীতে থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ করে আসছিলেন ওই নারী। সঙ্গত এই কারণেই মাদক ব্যবসায়ীদের রোষাণলে পড়তে হয় তাকে। এক সময় ওই এলাকায় তুলশী কুমার চৌধুরী নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিনব কায়দায় ওই এলাকায় গাঁজার ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও প্রতিবাদে মাঠে নামেন রাণী বাঁশফোর। ওই মুহুর্তে তুলশী কুমারের ক্রোধের মুখে পড়তে হয় তাকে। এর এক পর্যায়ে তুলশী কুমার তার স্ত্রী পারুলকে দিয়ে সুকৌশলে হামলার পরিকল্পনা করে।

গত বুধবার সকালে অসুস্থতাজনিত কারনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছিলেন রাণী বাঁশফোর। পথিমধ্যে শহরের রুবীর মোড় এলাকায় পৌছালে রিকশাটি থামিয়ে জোরপূর্বক তাঁদেরকে রাস্তার আড়ালে নিয়ে যায় দুর্বত্তরা। সেখানে ছেলের সামনেই মা রাণী বাঁশফোরকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে তুলশী কুমার চৌধুরীর স্ত্রী পারুলসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে ধস্তাধস্তি শুরু করে প্রাণপণ চেষ্টায় সেখান ছিটকে পালিয়ে আসেন রাণী বাঁশফোর। এরপর মাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান ছেলে শিব কুমার। সেখানে ভর্তি করা হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ওই নারী।

রাণী বাঁশফোর এর ভাই রাজা বাঁশফোর বলেন, আমার বোন মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছে। তুলশী কুমার তার স্ত্রীকে দিয়ে এখানে গাঁজার ব্যবসা করে। এর প্রতিবাদ করাটাই আমার বোনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আমার বোনকে মেরেও শান্ত হয়নি। ওইদিন বিকেলে প্রায় শতাধিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জ্বিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমিসহ আমাদের পুরো কলোনির বাসিন্দাদের উপর আবারো হামলা চালানো হয়েছে। পরিবারের অনেকেই এখন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। এখন মামলা করতে থানায় যেতেও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত তুলশী কুমার চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের উপর রাণীর পরিবারের সদস্যরা হামলা করেছিলো। আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে লড়ে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে তাদের উপর হামলার অভিযোগটি সঠিক নয়। এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদককে সামনাসামনি দেখা করতে অনুরোধ জানান তিনি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সুইপার কলোনীতে হামলার ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বি এন পি

বি এন পি’র নেতারা নির্বাচন বর্জনের সাথে সাথে নির্বাচন বন্ধেরও ঘোষনা দিয়েছে। প্রায় সব নেতারাই বলছে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবেনা। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বি এন পি’র দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না কথাটি বেআইনি। সংবিধান এমন এখতিয়ার কাউকে দেয়নি। মেয়াদ উত্তীর্ন হলে সরকারও এক মিনিট ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা। নির্বাচন কমিশনই সরকারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিবে। পুনরায় নির্বাচন করেই সরকার গঠন করতে হবে দেশে। তাহলে বি এন পি এমন উদ্বাত্যপুর্ন বক্তব্য দিচ্ছে কোন পরাশক্তির ইন্দনে?

একটি উপায় অবশ্য আছে, যদি জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে! সেই সক্ষমতাও কি বি এন পি’র আছে? নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশনের কাজে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা সংবিধান কাউকে দেয়নি।তাহলে দলটি নির্বাচন বন্ধের এমন হুশিয়ারী দিচ্ছে কেন?

বি এন পি নেতাদের বক্তব্যের ভাষাটিও সৌজন্যতা ছাড়িয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যে ভাষায় বি এন পি নেতারা হুশিয়ারী দিচ্ছে ধৃষ্ঠতাপুর্ন এবং অশালীন। আওয়ামী লীগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মত দল নয়। শেখ হাসিনাও নদীতে ভেসে এসে ক্ষমতায় বসে যাননি। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং জনগন ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। যারাই শেখ হাসিনাকে হারিকেন ধরিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করার কথা বলেন তারা আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। শেখ হাসিনা ডাক দিলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কি করতে পারে তা একবার নয় বার বার প্রমান করেছে। ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে স্তব্দ করা যায়না তা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। আর শেখ হাসিনা এমন কোন ভুল করেননি যার জন্য জনগন বি এন পি’র ডাকে রাস্তায় নেমে আসবে। সেই চেষ্টাও ১৪ বছরে কম করেনি কেউ! নির্বাচন করবেননা ভাল কথা! কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে হলে ভেবে চিন্তেই বলুন। এমন কিছু বলা সঠিক হবেনা যা করে দেখাতে পারবেন না। নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাতবায়ন করতে না পারলে দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। আর নেতারা পরিনত হয় রাজনীতির জোকারে।

আওয়ামী লীগ অভিজ্ঞ দল এবং নেতারা জানে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ক্ষেপিয়ে ভুল রাজনীতিতে ফেলতে হয়। সেই রাজনীতির ফাঁদেই বি এন পি পা দিয়েছে মনে হয়। নেতাদের বক্তৃতা বিবৃতি শুনেই বোঝা যায় দলটি শোচনীয় পরাজয়ের দিকে এগুচ্ছে। বি এন পি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তৃতা বিবৃতি মানুষের গ্রহনযোগ্যতা হারাচ্ছে। দলটির ভুল সিদ্ধান্ত এবং আস্ফালন প্রমান করছে দলে নেতৃত্ব সঙ্কট এখন প্রবল। গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচনের বিকল্প কোন পথ নেই। অন্য কোন উপায়ে ক্ষমতায় দখলের স্বপ্ন কেউ দেখে থাকলে তা স্বপ্নই থেকে যাবে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।