ফুলবাড়ীতে ২৯৯ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার ও অর্থ জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সংকট সৃষ্টির লক্ষে অবৈধ মজুদ করার অপরাধে এক সার ব্যবসায়ীর গুদাম ও বাড়ী তল্লাশী করে ২৯৯ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করে দাম বৃদ্ধির আগের দামে জনগণের মাঝে বিক্রি করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ওই ব্যবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা পুলেরপাড় বাজারের আকাশ ফার্টিলাইজার এর সত্বাধিকারী মিজানুর রহমানের গুদাম এবং বাড়ীতে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন দাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় পুলের পাড় বাজারস্থ ওই ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা  ৫০ বস্তা টিএসপি, ৫২ বস্তা ডিএপি, বিএডিসির কাগজপত্র বিহীন ৫৫ বস্তা ডিএপি ও ৫২ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করে। পরে ওই ব্যবসায়ীর বসতবাড়ী তল্লাশী করে শয়ন কক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির আগের কেনা ৯০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধাকৃত সারের আনুমানিক মুল্য ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ফুলবাড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন সহ উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন দাস বলেন, উদ্ধারকৃত সার দাম বৃদ্ধির পুর্ব মুল্যে জনগণের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ সার ও কীটনাশক রাখার অপরাধে ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৫১ ধারায় ওই ব্যবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মনন

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করার লক্ষ্য নির্ধারন করেছে সরকার। এই লক্ষ্যে পৌছতে হলে দেশের মানুষেরও পরিবর্তন দরকার হবে। সকলেই দেশের উন্নয়ন চায় কিন্তু প্রকৃত উন্নয়ন তখোনই হবে যখন দেশের মানুষের মনন বদল হবে। বাংলাদেশেও অনেক সৎ মানুষ রয়েছে তবে সংখ্যাটি খুবউ নগন্য। বেশীরভাগ মানুষেই অসততা করে অর্থ সম্পদ গড়ার ভাবনা করে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে করে আবার কেউ আছে যারা অবৈধ পথকেই নিজেদের যোগ্যতা ভাবে। মিথ্যা বিলাস জীবন দেখাতেও অনেকে অপরাধ করে। মুখে দেশ প্রেমের কথা বললেও তা নেই তাদের। রাজনৈতিক নেতা শিক্ষিত সমাজ কিংবা পন্ডিত ব্যক্তিরাও এর বাইরে নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ গরীব জনগোষ্ঠি পেটের দায়ে অপরাধ করে এবং ছুটকা চুরি করে। মূল অপরাধ বোধ শিক্ষিত এবং নেতাদের মধ্যেই বেশী। যারা অর্থবিত্ত্বের মালিক হয়ে এখন উচু তলার মানুষ তাদের মধ্যেও সবাই সৎ উপার্জন করে উচ্চতায় পৌছায়নি। জনগনের অর্থ লুট করে বা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে বিত্ত্বের পাহাড় গড়েছে দেশে এবং বিদেশে। কেউ কেউ অন্ধকার জগতেও জড়িত। এরাই যখন নীতিকথা বলে তখন হাস্যকর মনে হয়।

রাজনৈতিক নেতারাও অনেকে ধোঁয়া তুলসি পাতা নয়। এই নেতারাই যখন জনগনের নামে দেশের উন্নয়নের কথা বলে জনগন মতলবটি ঠিক বুঝে যায়। কিন্তু কিছুই বলতে পারেনা। সব বুঝেও নিষ্পেসিত হয় দু:খ সয়ে। জনগনের কথা বলে ক্ষমতায় গিয়ে অর্থবিত্ত্বের মালিক হয় নেতারাই। সচেতন শিক্ষিত এবং ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া অপকর্মটি করা সম্ভব হয়না। দেশের অপরাধ জগতটি নিয়ন্ত্রন করে উচু তলার মানুষেরাই। দেশের আইন প্রশাসন সহ সবই কেনা বেচা হয় এই চক্রটির মাধ্যমে। দরিদ্র জনগোষ্ঠি শারীরিক পরিশ্রম করে উৎপাদন বাড়ালেও নিজেদের ভাগ্য বদল হয়না। চিত্রটি বিশেষ মহল বা গোষ্ঠির নয় দেশটা’ই অপরাধের অভয়ারন্যে পরিনত হয়ে গেছে।

পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যাদের সম্পদ না থেকেও উন্নত দেশের তালিকায়। আবার বহু দেশ সম্পদ থেকেও দারিদ্রতার চরম দুর্ভোগে পতিত। দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়- মানসিক উন্নয়নও জরুরী। সেই কারনেই বাংলাদেশের মানুষের নৈতিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা জরুরী। নেতৃত্বের মধ্যেই দেশপ্রেম আর নৈতিকতা শেখাতে হবে সর্ব্বাজ্ঞে। দলের গঠনতন্ত্র এবং নেতৃত্বের যোগ্যতাটি পরীক্ষিত বিবেচনায় হতে হবে। যেদিন দেশে দেশ্বাত্ববোধ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন হবে সেদিন দিন ক্ষন বলতে হবেনা, দেশ উন্নত হয়ে যাবে। প্রতিযোগিতামূলক নেতৃত্ব দেশ বদলে দিবে। রাজনীতির সজ্ঞাটিও বদলে যাবে তখন। নেতৃত্বের কাছে বিনীত অনুরোধ মানুষের মননশীলতা বদল করার রাজনীতি করুন। দলের পক্ষে অর্থ দিয়ে বাহুবল নয়।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।

 

বগুড়ার শেরপুরে চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে চোলাই মদসহ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে শেরপুর থানা পুলিশ। গতকাল ২ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, বিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় শেরপুর থানাকে মাদক ও অপরাধ মুক্ত করার লক্ষ্যে শেরপুর থানার একটি আভিযানিক দল শেরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত হাজিপুর এলাকার সোলাইমান এর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৫) এর চা-পান সিগারেটের দোকানের সামনে নির্মানাধীন ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপর অভিযান চালিয়ে পৌরশহরের রামচন্দ্রপুর পাড়ার লিটন বাশফোড় এর স্ত্রী মিনতি বাশফোড় (২৭) নামের নারী মাদক ব্যবসায়ীকে ৫২.৮(বায়ান্ন দশমিক আট) লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদসহ গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, আসামীকে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কাঁচা মরিচের ঝাঁজে বাজার গরম!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে সব্জির দাম স্বাভাবিক থাকলেও কাঁচা মরিচের ঝাঁজে মূল্য তালিকায় লাগামহীন হয়ে পড়েছে। তিন-চার দিনের ব্যবধানে এবার কাঁচা মরিচের দাম ডাবল সেঞ্চুরি পার করলো। জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম এখন ২০০ টাকা পেরিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম। ফলে দাম বেড়েছে।

বুধবার (৩ আগস্ট) জেলা শহরের বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গত তিন দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ৪০ টাকা করে।

কাঁচা মরিচ বিক্রেতারা অবশ্য সরবরাহ স্বল্পতাকে দুষারোপ করছেন। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাবৃষ্টিতে কাঁচামরিচের উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাই বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম চড়া মূল্য বিক্রি হচ্ছে। যার জন্য বেশি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

কয়েকজন কাঁচামালের আড়ৎদার জানিয়েছেন, প্রতিদিন বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন কাঁচামরিচের বাজারে ঝাঁজ বেশি। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সেই মরিচ।

টিসিমার্কেট এলাকার সব্জি বিক্রেতা রুবেল আহমদ জানান, বর্তমানে পাইকারি আড়তে কাঁচামরিচের সরবরাহ কম। আমাদের বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শহরের পশ্চিমবাজারের নিয়মিত ক্রেতা সঞ্জিব দে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে যাওয়াই দূরহ হয়ে পড়েছে। একেতে পণ্যের দাম কমলে দশ পণ্যের দাম বাড়ে। সব্জির দাম কিছুটা কমলেও কাঁচা মরিচের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে।’

নার্গিস আক্তার নামের এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘দুই-তিনদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় বেশি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ যার যেভাবে ইচ্ছে খুশী মতো বিক্রি করছে।

রাণীশংকৈলে ওসি’র পরিচয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর নামে চলছে চাঁদাবাজি

হুমায়ুন কবির কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় পৃথক ৩টি অজ্ঞাতনামা মামলার ভয় দেখিয়ে গতকয়েকদিন ধরে চলছে পুলিশের নামে নীরব চাঁদাবাজি। এলাকাছাড়া নীরিহ মানুষের উপর যেন মরার উপর খড়ার ঘাঁ।

গত ২৭ জুলাই বাচোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র ভিএফ নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে শিশু নিহতের ঘটনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খতিবুর রহমানসহ পুলিশের পৃথক ৩টি মামলায় প্রায় ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এতে গ্রেফতার আতংঙ্কে দিন পার করছে এলাকাবাসী।

এ সুযোগে ওসি পরিচয়ে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। যদিও পুলিশ প্রশাসন বলছে তদন্ত ছাড়া নিরীহ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনকে মামলার ভয় দেখিয়ে ওসি পরিচয়ে গত সোমবার (১ আগষ্ঠ) হুমকি দিয়ে বলে যে, ব্যাটা মেম্বার হয়ে বসে আছিস মামলা থেকে বাঁচতে এক্ষুণি বিকাশে টাকা দে নতুবা তোকেও অজ্ঞাতনামা মামলার আসামী বানাবো।

মামলা থেকে রেহাই পেতে বাবুল ২৬ হাজার টাকা দেয় বিকাশে। এমনি ভাবে খড়রা গ্রামের হাকিমের পুত্র রুহুল কেও ওসি পরিচয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আলমের কাছেও মামলার ভয় দেখিয়ে ০১৭৭৩৭১৮০৪১ নং মোবাইলে ফোন দিয়ে ০১৭৬৪৭৫৯১৩৫ নং বিকাশে ১০ হাজার টাকা দাবী করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত ওসি আব্দুল লতিফ সেখ বলেন, ওসি’র পরিচয়ে একটি প্রতারকচক্র বিভিন্ন ভাবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করছে,আমরা নাম্বার গুলি যাচাই করার চেষ্ঠা করতেছি।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে তদন্ত চলছে ওসি পরিচয়ে প্রতারক চক্রকে খুব শিঘ্রই  আইনের আওতায় আনা হবে।

কুলাউড়ায় কুস্তি উৎসব অনুষ্ঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মাথার ওপর তীব্র রোদ-বৃষ্টির আনাগোনা। তবু ও খেলা দেখতে হবে, শামিল হতে হবে কুস্তির আনন্দ উৎসবে। এমনি আমেজে ভড়ে উঠেছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিংগাজিয়া চা বাগানে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী কুস্তি উৎসব।

গতকাল মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতিতে কুস্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন বাগানের পণ্ডিত বিপ্লব উপদ্ধ্যায়। উপজেলার বাগানের উপরলাইন এবং নিচুলাইন নামক দুই স্থানে চলে এই ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলা। সূর্য ডুবার আগে পর্যন্ত চলে এই উৎসব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার রাজ্যে যারা বসবাস করতো তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসে বসবাস করা শুরু করে। তারা তাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য শত বছর ধরে চলা এই কুস্তি উৎসব পালন করে আসছে। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতের অনুসারে নাগপঞ্চমীতে কুস্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই কুস্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটিকে ঘিরে সারাদিন গ্রামের সবার ঘরে ঘরে ভালো খাবার রান্না হয়ে থাকে, খাওয়া দাওয়া করে কুস্তির জন্য সমবেত হয়। এই কুস্তি উৎসবের কুস্তি প্রতিযোগী জয় পাবার জন্য মাস খানেক আগ থেকেই নিজের শরীরের যত্ন নিতে শুরু করেন কুস্তিবাজ খেলোয়াড়রা।

সরেজমিন দর্শকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লড়াই ছাপিয়ে বন্ধুত্বে ছড়ায় এই কুস্তি। সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন কেটাগরিতে ভাগ করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়ে থাকে এই কুস্তি খেলায়।

কুস্তিগিররা জানান, এতো দর্শকের ভিড়ে নিজের হার দেখা অনেক খারাপ লাগা কাজ করে। তারা আরও জানান, মর্দাঙ্গি দেখানো পুরো বছরে একবারই সুযোগ পাওয়া যায়। সেইটাতে সবাই বিজয়ী হতে চায়। আর যে এই কুস্তিতে জয়ী হয় সে আগামী ১ বছরের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী কুস্তিগির নির্বাচিত হয়ে থাকে।

বিজয়ী কুস্তিবিদরা জানান, আজকের দিনটার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করি। আজ আমরা যারা জয়ী হয়েছি সবাই অনেক খুশী এবং ভালো লাগছে।

এছাড়াও লং জাম্পে বিজয়ী সৌরভ রায় বলেন, আমি অনেক জায়গায় লং জাম্পে বিজয়ী হয়েছি তবে এই দিনের জন্য আমিও অনেক আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে থাকি, এইটা সব সময় আমার জন্য স্পেশাল দিন। বিজয়ী হয়ে অনেক ভালো লাগছে।

কুস্তি প্রেমী শ্রাবণ পাশি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত অলিম্পিকে কুস্তি খেলে গোল্ড মেডেল জয় লাভ করে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তারাও এই রকম উৎসব থেকেই উঠে এসে আজ স্বর্ন পদক জিততে পারে।

যদি বাংলাদেশ সরকার এর কোনো ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেয় আমার মনে হয় এখান থেকে ও ভবিষ্যতে ভালো কুস্তিগির বের করা যাবে এবং তারা এই বাগানসহ দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, কুস্তি ছাড়াও লং জাম্প, হাই জাম্প, ভার উত্তোলন খেলাও অনুষ্ঠিত হয়।

৬ দিন পর রায়পু‌রে নি‌খোঁজ হওয়া গৃহবধু উদ্ধার

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুর প্র‌তি‌নি‌ধিঃ অবশেষে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের সেই নিখোঁজ গৃহবধু আকলিমা আক্তারকে (১৯) উদ্ধার করেছে ফাঁড়ি পুলিশ। সোমবার রাতে জেলা সদরের দালালবাজারের রানীরহাট এলাকার এক সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের কালুপুর এলাকায় নিখোঁজ হয়েছিলো আকলিমা। মঙ্গলবার সকালে (২ আগষ্ট) গৃহবধু আকলিমাকে উদ্ধার করে তার মা ও চাচির হাতে তুলে দিয়েছেন পুলিশ।

এ ঘটনায় গৃহবধু আকলিমার মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে বুধবার (২৭ জুলাই)  রায়পুর থানায় বাদী হয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ৪ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আবার পাল্টা অভিযোগ করেন মেয়েটির স্বামী হাসান।

রায়পুর থানার (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গৃহবধূ আকলিমার নিখোঁজের ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ৬দিন পর সোমবার রাতে জেলার দালালবাজারের রানিরহাট বাজারে সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে তার মা ও খালার কাছে হস্তান্তর করা হয়। মেয়েটি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে উভয়পক্ষকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়েটি মানসিক-শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৮ মাস পূর্বে মোহাম্মদ হাসান আকলিমাকে বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই নির্যাতন করত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আকলিমা বাবার বাড়িতে আসতে চাইলে হাসান আসতে দিতো না। গত বুধবার রাতে মেয়ের খোঁজ নিতে বিলকিস  বেগম হাসানকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেনি। পরে হাসান তার শাশুড়িকে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। ওইদিন রাতে তারা হাসানের বাড়িতে এসে আকলিমার খোঁজ করে পাননি। এ সময় হাসান জানায়, আকলিমা আপনাদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার থানায় জিডি হয়েছে।

নবাবগঞ্জে এমপি শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাংসদ শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ।

গতকাল মঙ্গলবার (২ আগষ্ট) বিকাল ৪টায় উপজেলা আঃ লীগ কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে উপজেলার সকল ইউনিয়নের দলীয় নেতা কর্মীরা অংশ নেয়।

মানববন্ধনে উপজেলা আঃ লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আঃ লীগের সহ-সভাপতি মোঃ সাদেকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ পারুল বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সায়েম সবুজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোঃ আবুল বাশার সবুজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম মিয়া, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান সবুজ, উপজেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ছানোয়ার রহমান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শামসুজ্জামান শানু, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমপি শিবলী সাদিককের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দল ও জনগনের কাছে তাকে হেয়প্রতিপন্য করতেই  নানামুখী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন, তারই অংশ হিসেবে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

শেরপুরে হাটের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ!

সাবিক ওমর সবুজ, বগুড়াঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জামাইল হাটের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন ইজারাদার ও স্থানীয়রা। অন্যদিকে হাটের জায়গা নয়, নিজের বৈধ সম্পত্তির উপরেই ঘর নির্মাণ করছেন বলে দাবী করেছেন স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার হাটবার। প্রায় ৪০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই হাট জমজমাটভাবে লাগায় শতাধিক গ্রামবাসির একমাত্র অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যম ছিল। কিন্তু সেই হাটের জায়গা অবৈধ দখলদার ও অবৈধ টোল আদায়কারীদের দৌরাত্বের দখলে আসায় জৌলুশ হারিয়েছে হাটটি। ফলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন হাটে আসা অসংখ্য ব্যবসায়ীরা।

গত ১ আগস্ট সোমবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের জামাইল এলাকায় বিগত ১৯৮৩-৮৪ সালে এ হাটটি গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে হাটটি সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়। অথচ সেই হাটকে নিজনামে সম্পত্তি  বলে দাবী করেন অনেকেই। ফলে দিনে দিনে দখল করে নেয়ায় সংকুচিত হয়ে আসছে ওই হাটের জায়গা। এ দিকে সম্প্রতি হাটের পাশেই ২০০ ফুট পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করা শুরু করেছেন আব্দুর রাজ্জাক নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি। তিনি একই এলাকার মৃত রমজান আলী আকন্দের ছেলে। অবৈধভাবে ঘর নির্মাণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাটের ইজারাদার আলহাজ্ব শেখ। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক তার নিজের জায়গা দাবী করে ঘর নির্মাণ করছেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এখানে হাটের কোনো জায়গা নেই। আমার বাবা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৬৮ শতক ও মাদ্রাসাকে ৮৫ শতক জায়গা দান করেছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গাতেই এই হাট বসছে। আমি আমার ফুফুর কাছ থেকে কেনা জায়গায় ঘর নির্মাণ করছি।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ আব্দুর রাজ্জাক হাটের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে খাজনা আদায় করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা মৃত সাখাতউল্লাহ’র ছেলে নুরুল ইসলাম, মৃত ইছাহাক মুন্সীর ছেলে হানিফ উদ্দিন মুন্সী, হাবিল মুন্সীর ছেলে খোদাবক্স, মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে শামছুল হক এবং অবৈধদখল রাজ্জাকের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন অবৈধ দখল মুক্ত হাট চাই।

ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, প্রায় ৩৭/৩৮ বছরের পুরানো জমজমাট হাটটি এখন অবৈধ দখলদারদের কারণে ছোট হয়ে আসছে। প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া কখনই এ হাটের জৌলুষ ফেরানো সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান বলেন, ওই হাটের জায়গা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির কথা শুনেছি। এ ছাড়া হাটের জায়গায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের সময় আমি নিজেই গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বন্ধ করে দিয়েছি। অনতিবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ হাটের দখল মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর নিজের জায়গা দাবি করায় তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা অফিসে আসতে বলেছি। তবে প্রচলিত হাট বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন অনুযায়ী কোনো স্থানে দীর্ঘদিন হাট বসলে তা সরকারি সম্পত্তি হয়ে যায়।

বাংলাদেশী নাগরিক,পরিচয়পত্রে ‘ভেনুজুয়েলার’ নাগরিক!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা রোমানা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নামের দ্বিতীয় অংশ ‘বেগম’ এর জায়গায় ভুল করে ‘আক্তার’ লেখা হয়। এটি সংশোধন করতে দিয়েছিলেন তিনি। তবে নাম সংশোধন হয়েছে ঠিকই। তবে ফের হয়েছে আরেকটি ভুল। তার জন্মস্থান লেখা হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রোমানা বেগম নন; মৌলভীবাজারে বসবাসকারী ১২ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা লেখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত তারা।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলার তালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা রোমানা বেগম বলেন, ‘অবাক করার বিষয় হলো আমার জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। কিন্তু আমার জন্মস্থান লেখা হলো আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। আমি পাড়াগায়ের মানুষ। এমন দেশের নাম আমার জানা ছিল না। এই দেশ কোথায় তাও আমি জানতাম না। অথচ জন্মস্থান হয়ে গেছে ভেনেজুয়েলা।’

চলতি বছরের মে মাসে নাম সংশোধন করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন রোমানা বেগম। কয়েকদিন আগে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র হয়ে গেছে’ মোবাইল ফোনে এমন মেসেজ পান। তারপরই অবাক করার এ বিষয়টি জানতে পারেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মৌলভীবাজার সদর, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সিলেটের সুনামগঞ্জেও এ ধরনের ভুল পাওয়া গেছে। কী কারণে এটা হয়েছে, ত্রুটিটা কোথায় আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রধান কার্যালয়ে সিস্টেম ম্যানেজারকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে জাতীয় পরিচয়পত্র করা থাকলে ডাটাবেজে যে তথ্য থাকে ভুল সংশোধনের সময় সেটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কার্ডে চলে আসে। এক্ষেত্রে সার্ভারে কোনো ভুল না প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা হয়েছে সেটা দেখা হবে। দ্রুত সবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করে দেওয়া হবে।’