মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিতরণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর পেয়েছে সারা বাংলাদেশে আরও ২৬ হাজার ২ ‘শ ২৯ টি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবার।

বৃহষ্পতিবার (২১জুলাই) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ভিডিও কনফারেন্সে এসব ঘর হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি মাগুরা ও পঞ্চগড় জেলার সকল উপজেলাসহ ৫২টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষনা করেন।

এরই আলোকে মৌলভীবাজারের ৪ উপজেলায়ও আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘরের দলিল পেয়েছে ১ শত ৬০ টি পরিবার। বৃহষ্পতিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে শুরুতে এ উপলক্ষে প্রথম ধাপে আলোচনা অনুষ্ঠান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান প্রদর্শন করা হয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ।

বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা। মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে।দারিদ্র বিমোচন অগ্ৰনি ভূমিকা পালন করবে ও মানুষ স্বাবলম্বী হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান,স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মল্লিকা দে,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা, পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক,গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার প্রাপ্ত পরিবারবর্গ সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর হস্তান্তরের পর পরই তার পক্ষে নির্বাচিত ভূমিহীনদের মাঝে জমির কবুলিয়তনামা ও ঘরের চাবি তুলে দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, জেলার ৪ উপজেলার ১ শত ৬০ টি পরিবারের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১১৮টি,রাজনগরে ৭টি,বড়লেখায় ১০টি এবং জুড়ী উপজেলায় ২৫টি পরিবারের মাঝে চাবি হস্তান্তর করা রয়েছে।

বিদ্যুৎ-পানি-জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্কঃ করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের অবস্থা তুলে ধরে দেশের জনগণকে বিদ্যুৎ-পানি-জ্বালানিসহ সবক্ষেত্রে সাশ্রয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মুজিববর্ষ উপলক্ষে দ্বিতীয় ধাপে ৫ বিভাগে গৃহহীনদের দুই শতক জমির কাগজপত্র ও ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলাধীন চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলাধীন চর ভেড়ামারা আশ্রয়ণ প্রকল্প, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন মহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলাধীন জাঙ্গালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হয়ে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের কাছে ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেন।

এসময় তিনি বলেন, একদিকে করোনা, অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সময় আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার ফলে আমাদের সার কিনতে সমস্যা হচ্ছে, খাদ্য কিনতে সমস্যা হচ্ছে। এসব কারণে শুধু বাংলাদেশ না বিশ্ববাপী মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আজকে উন্নত দেশগুলোতে পর্যন্ত হাহাকার দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা ইউরোপসহ সব জায়গায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার সাথে ডিজেল, জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ উন্নত দেশগুলোও নিয়েছে। তাই সবাইকে অুনরোধ করতে হবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে।

বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যাতে পরে না থাকে, খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। লন্ডনের মতো জায়গায় এক লিটারের বেশি খাবারের তেল কেউ কিনতে পারে না। আমাদের এখানে তো ইচ্ছে করলেই পাঁচ লিটার তেল কিনতে পারছে। তবে আমাদের সাশ্রয় করতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। সেজন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আপদকালীন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকার সবসময় পাশে আছে। সতর্ক থাকবেন তাহলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমাস সরকার সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্যই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ দেয়া হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই সুযোগ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবনটাকে আরও উন্নত করবেন এবং নিজেরাও ভূমি কিনে ঘর বাড়ি করার যোগ্যতা যেন অর্জন করতে পারেন সেটাও আমরা চাই। কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মর্যাদার সঙ্গে যেন বেঁচে থাকতে পারেন। এ সমাজটাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন সবধরনের নাগরিক সুবিধা পেতে পারেন সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।

উল্লেখ্য, গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন এবং এরপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

 

নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মওসুমে ৯৩৫৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করেছেন কৃষকরা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : চলতি খরিপ-২/২০২২- ২৩ মওুমের রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ‍ে মোট ৯ হাজার ৩শ ৫৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করেছেন কৃষকরা। মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনচাষের বিপরীতে কৃষকরা এই বীজতলা তৈরী করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ  অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ- পরিচালক জানিয়েছেন, কৃষকরা এ মওসুমে ৮ হাজার ৭শ ৫৫ হেক্টর জমিতে উন্নতফলনশীল উফশী জাতের, ৫২৫ হেক্টর স্থানীয় জাতের ও ৭৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের বীজতলা তৈরী করেছেন।

সূত্রমতে, উপজেলাভিত্তিক বীজতলার পরিমাণ হচ্ছে সদর উপজেলায় হাইব্রীড ৩০ হেক্টর, উফশী ৪৩০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১৫ হেক্টরসহ মোট ৪৭৫ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ৫ হেক্টর,  উফশী জাতের ৯৫৫ হেক্টরসহ মোট ৯৬০ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় হাইব্রীড ৩ হেক্টর, উফশী জাতের ২৮৫ হেক্টর, স্থানীয় ৫৫ হেকটরসহ মোট ৩৪৩ হেক্টর। বদলগাছী উপজেলায় উফশী জাতের ৭০০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১০০ হেক্টরসহ মোট ৮০০ হেক্টর। মহাদেবপুর উপজেলায় হাইব্রীড ১০ হেক্টর ও উফশী জাতের ৯৫০ হেক্টরসহ মোট ৯৬০ হেক্টর। পত্নীতলা উপজেলায়  উফশী জাতের ১২৩০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৫০ হেক্টরসহ মোট ১৪৮০ হেক্টর। ধামইরহাট  উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ২২ হেক্টর,  উফশী জাতের ৯৭০ হেক্টর ও স্থানীয়  জাতের ২০ হেক্টরসহ মোট ১০১২ হেক্টর। সাপাহার উপজেলায় কেবল উফশী জাতের ৪৩০ হেক্টর। পোরশা উপজেলায় কেবল উফশী জাতের ৬৫০ হেক্টর। মান্দা উপজেলায়  হাইব্রীড জাতের ১ হেক্টর ও উফশী জাতের ৮১০ হেক্টরসহ মোট ৮১১ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় হাঈব্রীড জাতের ২ হেক্টর, উফশী জাতের ১৩৪৫ হেক্টল ও স্থানীয় জাতের ৮৫ হেক্টরসহ মোট ১৪৩২ হেক্টর।

ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদী থেকে জীবিত অবস্থায় বস্তাবন্দি শিক্ষার্থীকে উদ্ধার

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদী থেকে জীবিত অবস্থায় বস্তাবন্দি মাহফুজা খাতুন (১৪) নামে এক মাদরাসার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭ টায় পৌরশহরের টাঙন নদী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মাহফুজা খাতুন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের ক্বারী মৃত মোস্তফা কামালের মেয়ে। সে ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেছা কওমী মহিলা মাদরাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করে।

খালপাড়ার বাসিন্দা জয় মহন্ত অলক বলেন, নদীর নিচে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে আমাকে একজন মোবাইলে কল করেন। আমরা প্রথম দেখায় মনে করেছিলাম, মারা গেছে। পরে ছবি তোলার জন্য একটু কাছে গিয়ে দেখি বস্তাটি নড়ে উঠল। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের বস্তাটি খুলতে বললাম। বস্তা খোলার পর দেখা গেল বেঁচে আছে। পরে সাথে সাথে তাকে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।

মাহফুজা খাতুনের বড় বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমার বোন টাঙন নদীর পাশে এক মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ঘটনা কি ঘটেছে জানি না। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছি।

খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেছা কওমী মহিলা মাদরাসার মুহতামিম হযরত আলী বলেন, স্বাভাবিক নিয়মের মতো রাত ১১টায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। ফজরের সময় তাকে রুমে দেখতে না পেয়ে সহপাঠীরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে। তার অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। তারপর পাশেই টাঙন নদীর নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় তাকে পাওয়া গেলে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মাহফুজা শহরের একটি মাদরাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করে। মেয়েটির সাবেক স্বামী তার দলবল নিয়ে রাত আনুমানিক ২-৩টার দিকে কৌশলে মাদরাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে নির্যাতন করে তাকে বস্তাবন্দি করে টাঙন নদীতে ফেলে রাখে। সকালে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০ দিনে স্পেনে তীব্র তাপদাহে ৫ শতাধিক মানুষ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ১০ দিনে স্পেনে ভয়াবহ তাপদাহে অন্তত ৫ শতাধিক মানুষ মারা গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। গতকাল বুধবার (২০ জুলাই) কার্লোস স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে  প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এই তাপদাহের সময় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ৫ শতাধিকেরও বেশি লোক মারা গিয়েছে। তিনি নাগরিকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানান।

গতকাল বুধবার আবহাওয়া সংস্থা এএমইটি জানিয়েছে, ৯-১৮ জুলাইয়ে স্পেনে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র বিয়াট্রিজ হারভেলা বলেন, ১৯৭৫ সালে আধুনিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ভৌগলিক সম্প্রসারণ এবং সময়কালের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ। তিনি বলেন, শুধু আরও দুটি তাপপ্রবাহ দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিল। এরমধ্যে একটি ছিল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে, যেটি ২৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল এবং আরেকটি ছিল ২০০৩ সালের আগস্টে, যা ১৬ দিন ধরে চলেছিল।

উল্লেখ্য, পশ্চিম ইউরোপের বেশির ভাগ অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপদাহে আক্রান্ত স্পেন। এতে গত সপ্তাহে কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত উঠেছে এবং কয়েক ডজন দাবানল ছড়িয়েছে।

লোহাগাড়াকে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারমুক্ত ঘোষণা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারমুক্ত উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আজ ২১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ২৬হাজার ২২৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের জমিসহ গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের  শুভ উদ্বোধন শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে উপজেলা পাবলিক হল রুমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এম ইব্রাহীম কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) শরীফ উল্যাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোহাম্মদ শাহজাহান,উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হানিফ, লোহাগাড়া থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আখতার আহমদ সিকদার, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুহাম্মদ মাহবুব আলম শাওন ভুঁইয়া, বড়হাতিয়া ইউপির চেয়ারম্যান বিজয় কুমার বড়ুয়া, পদুয়া ইউপির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হারুনুর রশিদসহ অনন্য ইউপির চেয়ারম্যানবৃন্দ।

সভায় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ উল্যাহ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো করে বিশ্বের দরবারে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশ এখন আগের মতো পিছিয়ে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লোহাগাড়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা দিয়েছেন নিঃসন্দেহে এটি লোহাগাড়াবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সুখের বিষয় এবং অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুজিব শতবর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় ঘোষণা তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নির্দেশনা আজ বাস্তবে রুপ নিয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে লোহাগাড়া উপজলাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার জন্য নিরলসভাবে আমরা করেছি। আজকেও ৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দলিলপত্রসহ জমি ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলায় ৩৮৪ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করে লোহাগাড়াকে গৃহহীন- ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীমঙ্গলে ইলেকট্রনিক্স দোকানে ভোক্তা-অধিকারের অভিযান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো.আল-আমিন এর নেতৃত্বে র‌্যাব-৯ ফোর্সের সহযোগিতায় বুধবার (২০ জুলাই) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হবিগঞ্জ রোড, নতুনবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত গরম ও লোডশেডিং এর কারণে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে ফ্যান, চার্জ লাইট, চার্জার ফ্যান বিক্রয় করছেন এই ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় কর্তৃক আজকের অভিযান পরিচালিত হয়।

অতিরিক্ত দামে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রয় করা, যথাযথভাবে ক্রয় ও বিক্রয় ভাউচার সংগ্রহ না করা, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য পণ্য বিক্রয় করার তাকে সংরক্ষণ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে হবিগঞ্জ রোডে অবস্থিত মেসার্স আশা ইলেকট্রনিকসকে ১ হাজার টাকা, মা ইলেকট্রনিকসকে ২ হাজার টাকা, নতুনবাজারে অবস্থিত চৌধুরী ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা, মেসার্স দুলাল স্টোরকে ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আজকের অভিযানে সকল ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রয় করা এবং ক্রয় ও বিক্রয় ভাউচার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সয়াবিন তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ন্যায্য দামে প্রাপ্তি নিশ্চত করার লক্ষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে মোট ৪ টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৬ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়।

স্মৃতিতে পদ্মা নদী পারাপার

বাঙালী জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্ধোধনের পর আমার মা‘সহ পরিবারের অন্যান্য কতিপয় সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে নানা বাড়ি গিয়েছিলাম। পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে নানা বাড়ি, দাদা বাড়ি যাওয়ার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। তবে এবারের পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে নানা বাড়ি যাওয়ার আনন্দই আলাদা। শিবচর থানার মাদবরের চর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড়েই নানাবাড়ি। আমার জানামতে তিনবার পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে নানাবাড়ী। নদীর ভাঙনে ভিটাবাড়ি, ক্ষেত-খামার সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যায়। নানা বাড়ির সেই আভিজাত্য ও জৌলুস না থাকলেও আপ্যায়নের কমতি ছিল না।

প্রায় ৪৫ বছর পূর্বে দ্বিতীয়বার নদী ভাঙ্গনের পর আমার নানা (মা‘র বাবা) ইন্তেকাল করেছেন। তারপরও ঘুরে দাড়িয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু তৃতীয়বার নদী ভাঙ্গনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। একজন মাত্র নানা ছিলেন, মা‘র ছোট চাচা, যিনি মা‘র কয়েক বছরের বড়, তিনিও গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইন্তেকাল করেছেন। সেই নানার একমাত্র পুত্রের আপ্যায়নের ধরন দেখে বুঝা যায়নি নানারা কেউ বেঁচে নেই। এটাই নানা বাড়ি বেড়ানোর আনন্দ।

পদ্মা সেতু অতিক্রম করেই মা‘কে বললাম, ‘মা, মাত্র ৮ মিনিটে এই বিশাল পদ্মা পাড় হলাম‘। উত্তরে মা বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। শেখ হাসিনার কারণেই পদ্মা সেতু হইচে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শেখ হাসিনারে নেক হায়াত দারাজ করুক। একশ বছর বাঁচাইয়া রাখুক‘। ঐদিনই সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরে আসার পর ছোট ভাই মা‘কে জিজ্ঞাসা করলো, ‘মা, চাচার বাড়িতে কেমন বেড়াইলা?‘ প্রতুত্তরে মা বললেন, ‘মুখে যাইই খাইছি, কিন্তু পদ্মা ব্রিজ দেইখ্যা মনডা ভইরা গেছে‘।

বাবার চাকরির সুবাদে শিশুকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে আসছি। দাদাবাড়ি কুতুবপুর, নানাবাড়ি মাদবরের চর। দুটোই ঢাকা থেকে পদ্মা নদীর অপর পাড়ে হওয়ায় প্রতিবছরই এক বা একাধিকবার বাবা-মায়ের সাথে গ্রামে আসতাম। সুতরাং খরস্রোতা বিশাল পদ্মা নদী পারাপারে আনন্দ-বেদনার অনেক স্মৃতি রয়েছে। এমন একটা সময় ছিল, যাত্রী বহন বা মালামাল পরিবহনে বিশাল আকারের নৌকা ব্যবহৃত হতো। যতটুকু মনে পড়ে যাত্রী বহনের বড় নৌকাকে বলা হতো ‘পালা নৌকা‘। মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত বড় নৌকাকে বলা হতো ‘ঘাসি নৌকা‘। এছাড়া দূরপাল্লায় যাতায়াতে ধনী শ্রেণির মানুষেরা কারুকাজ করা নিজস্ব মালিকানাধীন বড় নৌকা ব্যবহার করতো, যা ‘গয়না নৌকা‘ হিসেবে পরিচিত ছিল।

বর্তমানে দূরপাল্লায় যাতায়াতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত সুন্দর সুন্দর একতলা দোতলা বড় বড় বাস ব্যবহার করা হয়। এই পরিবহনগুলো এতটাই বড় যে, যানজট এড়াতে, ঢাকা মহানগরের ছোট ছোট রাস্তায় চলাচল করে না। পরিবহন কোম্পানিগুলো ছোট আকারের বাস বা মিনিবাসে শহরের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টার থেকে যাত্রী সংগ্রহ করে নিজস্ব টার্মিনালে নিয়ে বড় বাসে তুলে দেয়। ঠিক তেমনি, সেকালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছোট ছোট দ্রুতগতি সম্পন্ন নৌকা দিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীদের সংগ্রহ করে নিয়ে পদ্মা নদীর পাড়ে নির্দিষ্ট ঘাটে  অপেক্ষারত ‘পালা নৌকা‘য় তুলে দেওয়া হতো। তারপর বিশাল আকারের ঐ পালা নৌকা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতো। বৃহত্তর ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সকল জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা আসতো। আমরা নানাবাড়ি বাড়ি থেকে রওয়ানা হলে মাদবরের চর ঘাট থেকে লঞ্চে উঠতাম, দাদাবাড়ি থেকে রওয়ানা হলে ‘লাউখোলা‘ ঘাট বা ‘গস্তির হাট‘ থেকে লঞ্চে উঠতাম। সূর্যোদয়ের আগেই লঞ্চঘাটে আসতে হতো। বালুমাটির লঞ্চঘাট। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে লঞ্চঘাট প্রায়শই পরিবর্তন হতো। লঞ্চের কর্মচারিরা ১২-১৪ ইঞ্চি চওড়া একটি লম্বা কাঠের সিঁড়ি দিয়ে সুবিধামত স্থানে ঘাট হিসেবে ব্যবহার করে যাত্রী উঠানামার ব্যবস্থা করতো। খুবই সাবধানে সেই সিঁড়ি বেয়ে লঞ্চে উঠতে হতো। অসাবধানতাবশত পা পিছলে পরলে সরাসরি পদ্মায়। সাথে সাথেই ঢেউয়ের আঘাতে পদ্মার স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। লঞ্চে উঠতে সহায়তার জন্য একটি লম্বা বাঁশের লগি ব্যবহার করা হতো। বাঁশের সগির গোড়াটি ঘাটে বালির মধ্যে গেঁথে দিয়ে বাঁশের সরু প্রান্তটি ধরে রাখতো লঞ্চে থাকা কর্মচারী। বাঁশের লগিটির আগা সরু হওয়ায় উহা দুলতে থাকতো। এছাড়া বৃষ্টির দিন হলে কাঠের সিঁড়িটি পিচ্ছিল হয়ে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যেত। লঞ্চগুলি কখনই আড়াআড়িভাবে পদ্মা নদী পাড়ি দিত না। লঞ্চ স্রোতের প্রতিকূলে কয়েক কিলোমিটার উজান বেয়ে কোনাকুনিভাবে ঢেউ কেটে কেটে উজানেই বিপরীত পাড়ের দিকে এগুতে থাকতো, এবং একই সঙ্গে লঞ্চ স্রোতের টানে ভাটির দিকেও যেতে থাকতো। শেষ পর্যন্ত লঞ্চ বিপরীত পাড়ে পৌঁছতো বটে, তবে গন্তব্যের চেয়ে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে। তারপর লঞ্চ উজান ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতো।

একবার ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে আমাদের বহনকারী লঞ্চ মুন্সিগঞ্জের জশিলদা বরাবর উজানে এসে পদ্মা নদী পাড় হওয়ার জন্য উজানের দিকে রওয়ানা হয়েছিল। নদীতে বড় বড় ঢেউ। আমি আপার কেলাস কেবিনের সামনে ডেকের উপর সারেং এর রুমের দরজা বরাবর দাড়িয়ে ছিলাম। ঢেউ এত উঁচু ছিল যে, মাঝে মাঝে সারেং সাহেবের ডেস্ক থেকে আকাশ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। লঞ্চ কর্মচারীরা ডেকের উপর সামনে পিছনে থাকা সকল যাত্রীদের নিজ নিজ আসনে যেতে বাধ্য করেছিলেন। লঞ্চ কোনক্রমেই কোনাকুনি অবস্থান নিতে পারছিল না। মনে হচ্ছিল, লঞ্চটি সামান্য কোনাকুনি হলেই ঢেউ এসে লঞ্চটিকে কাঁত করে ফেলবে। এমনি পরিস্থিতিতে সারেং খুবই দক্ষতার সাথে অস্বাভাবিক ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলা করে উজানেই এগুতে এগুতে কয়েক ঘন্টা লড়াই করে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে খরস্রোতা পদ্মা নদী পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছিল। স্মৃতিতে এমনি বিপদসংকুল ঘটনাও রয়েছে অনেক। কূয়াশাচ্ছন্ন রাতে ফেরি পারাপারে ডুবু চরে আটকা পড়ার স্মৃতির পাশাপাশি স্পীডবোটে পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে বিপদাপন্ন হওয়ার স্মৃতিও রয়েছে।

একবার মা‘কে নিয়ে মাদবরের চর থেকে ঢাকা আসার পথে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে এসে জানলাম, ফেরী ছাড়তে দেরী হবে। আমাদের তাড়া আছে। দ্রুত ঢাকা পৌঁছতে হবে। উপায় কি? দ্রুতগতির স্পীডবোটে পাড় হওয়া যায়। কিন্তু এমনিতেই মা‘ নদী ভয় পান। কারন, মা‘র বয়স তখন ৮-৯ বছর। আমার মায়ের বর্ননা অনুযায়ী, নদীর পাড়ে বাড়ী  হওয়ার সুবাদে ধান সিদ্ধ করার জন্য বাড়ীর মহিলারা নদী থেকে পানি আনতো। ফুফুদের সাথে আমার মা ছোট কলস নিয়ে পদ্মা নদীতে পানি আনতে গিয়েছিলেন। ফুফুরা পানি নিয়ে ফিরছেন। নিজ কলসের পানি ঘোলা হওয়ায় মা তাঁর ফুপুকে বলেছেন, ‘ আমার কলসির পানি ঘোলা কেন‘? পরিস্কার পানির জন্য বায়না ধরছিলেন তিনি। একজন ফুফু বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘তুই যাইয়া পরিস্কার পানি নিয়া আয়‘। যেই কথা সেই কাজ। মা তার কলস নিয়ে ফিরে গেলেন নদীতে। পদ্মা নদীর পানিতে সাধারণত অধিক পরিমাণে পলি মাটি মিশ্রিত থাকে বিধায় পদ্মার পানি ঘোলা থাকে। তথাপি শিশুদের অবুঝ মন। পরিস্কার পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক পা এগিয়ে কলস ভরতে গিয়ে স্রোতের টানে কলসসহ ভেসে গেলেন আমার মা। সকলেই পানির কলস কাঁখে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। হঠাৎ সকলের নজরে এসেছে, জরিনা (আমার মা‘র নাম জরিনা) ফিরে নাই। নাই নাই নাই। এরমধ্যে ফসলের মাঠ থেকে আমার নানা ফিরে এসেছেন। তিনি মেয়েকে খুঁজছিলেন আদর করে মেয়ের মাথার চুল আচড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জরিনাকে। এমন সময় ফুফুরা বললেন, ‘জরিনাতো গাঙে (নদীতে) পানি আনতে গেছিল‘। নানা চিৎকার দিয়ে বললেন, ‘ আরে খাইছে তো, আমার জরিনারে গাঙেই নিয়া গেছে। কে কোতায় আছস গাঙ পাড় আয়‘। তাৎক্ষণিকভাবে নানা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে নদীর পাড়ে চলে গেলেন। নদীর দিকে তাকিয়ে ভাটিতে খুঁজতে লাগলেন তাঁর প্রিয় কন্যাকে। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন নদীর ঢেউয়ের সাথে চুলের মত কিছু একটা ভাসছে। দু/একজন বলেছিলেন, কচুরিপানা উল্টে গিয়ে ভাসলে অমন দেখা যায়। কিন্তু নানা‘র মন সায় দিচ্ছিল না। তিনি বললেন, ‘কচুরীপানা হোক, যাই হোক ঐ চুলগুলো ধর, ঐডাই ধর, ঐডাই আমার জরিনা‘। এই কথা বলেই নানা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। এরই মাঝে অনেকেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। অনেকে নদীর তীর থেকে বড় বড় বাঁশ বা লগি ফেলে সহযোগিতা করছিল। নানা এক হাতে মেয়েকে ধরেছেন, আরেক হাত দিয়ে বাঁশ বা লগি ধরেছেন। নদীর পাড়ে থাকা লোকজন বাঁশ টেনে তাদের কিনারে এনেছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক চেষ্টা তদবিরে সেযাত্রায় মা বেঁচে গিয়েছিলেন বটে, কিন্তু নদীর প্রতি আমার মা‘এর যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছিলো, তার এতবছর পরও পুরোপুরি কাটেনি।

মাওয়া ঘাটে দ্রুত ফিরে যেতে সময়ের স্বল্পতার কারণে পদ্মা নদী পাড় হওয়ার জন্য শেষপর্যন্ত মা‘সহ স্পীডবোটে চড়ে বসলাম। এমনিতেই স্পীডবোট গুলো নদী পারাপারে প্রতিযোগিতা করে চলে। কাওড়াকান্দি শাখা নদী থেকে মূল পদ্মায় নামতেই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দুটি স্পীডবোট ধাক্কা লাগে এবং ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষাকাল, টইটুম্বুর নদীতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়া ছোট স্পীডবোটে থাকা যাত্রীদের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সকলেই আল্লাহর নাম জপতে থাকে। স্পীডবোট ভাসতে ভাসতে পাশ্ববর্তী বালুচরে পৌঁছলে যাত্রীরা দ্রুত চরে নেমে পরে। স্পীডবোট চালক মেরামত করে বোট চালু করে বটে। কিন্তু যদি মধ্যনদীতে এমন ঘটনা ঘটতো, কি হতো? ভাবতেই গা শিউরে উঠে। এমনি পরিস্থিতিতে নদীর প্রতি ভীত আমার মা‘র মনের অবস্থা কি হতে পারে? যে সকল যাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লঞ্চে ঢাকা রওয়ানা হতো, তারা সাধারণত তিনবেলার খাবার সঙ্গে নিয়ে আসতো। টিফিন ক্যারিয়ারে বাটিতে বাটিতে বিভিন্ন ধরনের রসালো খাবার। ঘ্রাণে জিভে পানি এসে যায়। এসব খাবার লঞ্চে বসে খেতে আলাদা একটা আনন্দ। অনেকটা পারিবারিক পিকনিকের আমেজ। আমার খুবই ভাল লাগতো ইলিশ মাছ ভাজা, ডিম ভাজা, মসুর ডালের চড়চড়ি, সাথে ইলিশের সাথে ভাজা শুকনো মরিচ।

এছাড়া লঞ্চে পদ্মা পারাপারে বিভিন্ন ধরনের ‘স্ট্রিট ফুড‘ জাতীয় খাবারের বর্ননা না দিলেই নয়। লঞ্চের পিছনে ডেক থেকে দুই হাতের উপর ভর করে নীচে নামতেই ডান দিকে একটি চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানে ‘কুকিজ‘ নামে ‘S’ shape এর টোস্ট বিস্কুট এর মত খাবার পাওয়া যায়। লঞ্চের যাত্রীরা কড়া মিষ্টি চা দিয়ে ভিজিয়ে খেতে খুবই পছন্দ করেন। বিশেষ করে শীতকালে রাতের লঞ্চের যাত্রীরা। ফুটবল খেলার মাঠে দর্শকরা যেমনিভাবে আগ্রহ সহকারে চিনাবাদাম চিবোতে পছন্দ করে, ঠিক তেমনি লঞ্চের যাত্রীরা কোড়ানো নারিকেল ও চিনি মিশিয়ে বিশেষ ধরনের ‘মচমচে চিড়া ভাজা‘ খুবই আগ্রহ নিয়ে খায়।

লঞ্চের কেরানী সাহেব, যিনি ভাড়া আদায় করার সময় টিকিট দিয়ে থাকেন, উনার টিপিক্যাল ব্যবহার এর কথা উল্লেখ না করলেই নয়। লঞ্চের কেরানী সাহেবের ভাড়া আদায় করার পদ্ধতি ছিল খুবই ইন্টারেস্টিং। ভাড়া আদায় বিষয়টি যাত্রীদের নিকট ‘টিকিট কাটা‘ হিসাবে পরিচিত। কেরানী সাহেব সাধারণত প্রতিটি ফ্লোরের একপ্রান্ত থেকে শুরু করে প্রতি জনে জনে ভাড়া আদায় করেন। কাজের সুবিধার্থে দুই/একজন সহকারী তার সাথে রাখেন। যে সকল যাত্রীরা ভাড়া কম দিতে চেষ্টা করেন বা প্রকৃত ভাড়া দেওয়ার মত সামর্থ্য থাকতো না, তারা পালিয়ে বেড়াতো, কম ভাড়ায় টিকিট সংগ্রহ করার বিভিন্ন ফন্দিফিকির করতো। পরবর্তিতে কেরানী সাহেবের নির্দিষ্ট রুমে সাক্ষাৎ করে যে কোন উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করতো। কারন টিকিট ছাড়া লঞ্চ থেকে নামার কোন উপায় নাই। লঞ্চ নির্দিষ্ট ঘাটে পৌঁছার পর কেরানী সাহেব তার বিশেষ ধরনের চামড়ার ব্যাগটি কাঁধে ঝুলিয়ে লঞ্চ থেকে নামার সিঁড়ির সামনে সহকারীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যাত্রীরা নামার সময় সিঁড়িতে পা দেওয়ার আগে টিকিটটা জমা দিতে হতো। যদি কোন যাত্রী যে কোন কারণে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি এমন হতো, তবে ঐ মূহুর্তে কাছেই দাড়ানো কেরানী সাহেবের নিকট ভাড়া দিয়ে নেমে যেতেন। আর যদি ভিন্ন কোন ছলচাতুরি করার চেষ্টা করতেন তবে, সময় নষ্ট না করে কেরানী সাহেবের সহকারীরা ঐ যাত্রীকে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

তবে আমার জানামতে, ব্যতিক্রম ঘটনাও রয়েছে। বর্তমানে অতি উচ্চ শিক্ষিত বিদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী জনৈক অধ্যাপক  ছাত্রজীবনে টিকিট না দিয়ে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পরার ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। অবশ্য তিনি ছলচাতুরি করেননি, উনার কাছে টিকিট কাটার মত প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ছিল না। হয়তো জীবনে আর কখনো লঞ্চে বা নৌকায় বা ফেরীতে পদ্মা নদী পার হতে নাও পারি। কিন্তু যখনই মোটরগাড়িতে চড়ে মাত্র ৭-৮ মিনিটে পদ্মা নদী পার হবো, তখন  স্মৃতির ভান্ডারে জমে থাকা অসংখ্য স্মৃতি মনে দোলা দিবে চিরদিন।

সাবাস শেখ হাসিনা। চিরকৃতজ্ঞ তোমার প্রতি। তোমার দৃঢ়তা ও সাহসিকতার জন্যই বাঙ্গালী জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক ‘পদ্মাসেতু‘ আজ বাস্তবতা।

তোমার পিতা দিয়েছে দেশ, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, তুমি দিয়েছো পদ্মা সেতু। আমাদের টাকায় আমাদের পদ্মা সেতু, এটাই আমাদের গর্ব।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

বিজয়ের ‘লাইগার’ সিনেমার ট্রেলারেই বাজিমাত!

বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার যাত্রাটা খুব সহজ ছিল না। পদে পদে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। আর তারই ফলস্বরূপ বলিউডে অভিষেক করছেন বিজয়। ‘লাইগার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখছেন তিনি। সিনেমাটির ঘোষণার পর থেকেই ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ‘লাইগার’ সিনেমাটির ট্রেলার। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এ সিনেমার ট্রেলারে বিজয়কে একজন মিক্সড মার্শাল আর্ট ফাইটারের ভূমিকায় দেখা যায়। আরও রয়েছে বক্সিং রিং-এ দুর্দান্ত লড়াইয়ের দৃশ্য। মুম্বাইয়ের বস্তির এক চা বিক্রেতা হয়ে কীভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের মিক্সড মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বিজয় সে নিয়ে এগোবে গল্প। এই সিনেমায় বিজয়ের বিপরীতে অভিনয় করছেন অনন্যা পান্ডে। অ্যাকশন এবং রোমান্সের মিশেলে ভরপুর সিনেমার ট্রেলারটি ভক্ত-অনুরাগীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

‘লাইগার’ সিনেমার পরিচালক পুরী জগন্নাথ এবং প্রযোজক করণ জোহর। সিনেমাটিতে একটি ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে বক্সিং কিং মাইক টাইসনকে। আর বিজয়ের মায়ের চরিত্রে রয়েছেন রম্যা কৃষ্ণন।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট ‘লাইগার’ সিনেমার মুক্তির কথা রয়েছে। হিন্দির পাশাপাশি পাঁচটি ভাষায় সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা।

 

সংকটের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সুরিয়া তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে গতকাল বুধবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে শুরু হয় শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। পার্লামেন্টে ভোটের পর রনিল বিক্রমাসিংহে গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র শ্রীলঙ্কার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ছয়বারের প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি পেয়েছেন ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দুল্লাস আলাহাপেরুমা পেয়েছেন ৮২ ভোট এবং অনুরা কুমার পেয়েছেন ৩ ভোট।

নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন রনিল এবং বলেন, শ্রীলঙ্কা কঠিন সময় পার করছে। সংকট সমাধানে সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন রনিল। এর আগে ছয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গেল কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গেল মে মাসে বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী করা হয় রনিলকে। এরপর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া দেশ ছেড়ে পালালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে।