ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল, পর্তুগালে ২৩৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে তিনটি দেশ পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেন। দমকলবাহিনীর হাজার হাজার কর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। তবুও দাবানল কমার কোনো লক্ষণ নেই। আজ রোববার (১৭ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত পর্তুগালে দাবানলে ২৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দাবানলে স্পেনে মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন আগামী দিনে ইউরোপে এমন আরও দাবানল হতে পারে। আবহাওয়ার এমন বিরূপ পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে দাবানল থেকে বাঁচাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলে পুড়ছে হাজার হাজার হেক্টর জমি ও বাড়িঘর।

গত মঙ্গলবার থেকে পর্তুগালে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং স্পেনে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছেছে। এতে গ্রামাঞ্চল দাবানলে জ্বলছে। গত বৃহস্পতিবার পর্তুগালের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি এলাকায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা জুলাই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দাবানলে এ বছর দেশটির ৩০ জাহার হেক্টর বা ৭৫ হাজার একর জমি ধ্বংস করেছে। ২০১৭ সালে পর্তুগাল বিধ্বংসী দাবানলের শিকার হয়েছিল যাতে প্রায় ১০০ জন মারা গিয়েছিল। গত শুক্রবার উত্তর পর্তুগালের ব্রাগানকা অঞ্চলে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি উড়োজাহাজ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন উড়োজাহাজের এক পাইলট।

এদিকে, ইতালিতে সরকার পো উপত্যকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং গ্রীসে দমকলকর্মীরা এথেন্সের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ক্রিটের উত্তর উপকূলে রেথিমনোর কাছে ফেরিজা এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করছে। রেথিমনোর কাছে সাতটি গ্রামের লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মরক্কোর উত্তরাঞ্চলীয় লারাচ, ওয়েজান, তাজা ও তেতুয়ান প্রদেশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি গ্রাম খালি করতে হয়েছে। এ ছাড়া কাসার এল কেবির এলাকায় একটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আগুনে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় জানালেন

শিক্ষা ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং নভেম্বরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

আজ রোববার (১৭ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পরীক্ষার এই তারিখ ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ১৯ জুন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সিলেটসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ২১ হাজার বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডের অধীনে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।

৮ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ৭০৫ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

অর্থ-বানিজ্য ডেস্কঃ এবার বিদেশে ৮ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ৭০৫ কোটি টাকা টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। তদন্তে এমন ৮টি প্রতিষ্ঠানের দেশের টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

তদন্তে জানা যায়, তারা হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। শিগগিরই মানিলন্ডারিংয়ের মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ই-অরেঞ্জ ২৩২ কোটি টাকা, আনন্দের বাজার ৩০০ কোটি টাকা, ধামাকা ১১৬ কোটি টাকা, টুয়েন্টিফোর টিকিট লিমিটেড ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, রিং আইডি ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আকাশনীল ডটকম ৩ কোটি টাকা এবং সিরাজগঞ্জ শপ ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা অর্থ পাচার করেছে।

তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সিআইডি সুত্রে আরো জানা গেছে, দালাল ডটকম ও থলে ডটকমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ সিআইডির হাতে রয়েছে। চলছে পরিমাণ অনুসন্ধানের পালা। এর বাইরেও ৩৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।

গ্রিসে কার্গো বিমান বিধ্বস্তে ৮ আরোহী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় কাভালা শহরের কাছে একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার (১৬ জুলাই) ইউক্রেনভিত্তিক একটি কোম্পানির দ্বারা পরিচালিত এন্তোনভ-১২ কার্গোটি সার্বিয়া থেকে জর্ডানে উড়ে যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইআরটি জানায়, বিমানটি ১২ টন ওজনের মালামাল বহন করছিল।  ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু রানওয়েতে আর পৌঁছাতে পারেননি। তার আগেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি এবং তাতে আগুন ধরে যায়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানায়, সাতটি ফায়ার সার্ভিস ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত বিস্ফোরণের কারণে তারা বিমান বিধ্বস্তের জায়গায় যেতে পারেনি।

ফায়ার ব্রিগেডের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আমরা কার্গোটিকে বিপজ্জনক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিধ্বস্ত কার্গো বিমানটিতে কী পণ্য ছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে বিশেষ বিপর্যয় প্রতিক্রিয়া ইউনিট ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে। বিমানে থাকা পণ্যগুলোকে বিপজ্জনক উপাদান হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলে গ্রিসের বিশেষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটও তদন্ত করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইউক্রেন, সার্বিয়া বা জর্ডান থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রথমধাপে মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমতি পেলো ‘বঙ্গভ্যাক্স’

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করোনা টিকা বঙ্গভ্যাক্স প্রথমধাপে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের (ট্রায়াল) অনুমতি পেয়েছে।

আজ রবিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গ্লোব বায়োটেকের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনবলেন, আজ দুপুরে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদনের বিষয়টি আমাদেরকে জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।

এ বিষয়ে বঙ্গভ্যাক্স ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, মানবদেহে প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ছাড়পত্র পেয়েছে দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা বঙ্গভ্যাক্স। ৬০ জনকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এই টিকার ট্রায়াল শুরু হবে। প্রাথমিক ফলে এই টিকা ডেল্টাসহ বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ১১টি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। এর আগে এই টিকার অ্যানিমেল ট্রায়ালও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লোব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বঙ্গভ্যাক্স টিকাটি প্রাকৃতিক বিশুদ্ধ এমআরএনএ (মেসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক এসিড) দিয়ে তৈরি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বঙ্গভ্যাক্স টিকা এক ডোজের। এটি অনুমোদন পেলে বিদেশেও চাহিদা তৈরি হবে।

প্রসঙ্গত, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ২০২০ সালের ২ জুলাই দেশে প্রথমবারের মতো করোনার টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের তিনটি টিকাকে অনুমোদনপ্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যাদের সর্বোচ্চ তিনটি টিকা অনুমোদনপ্রার্থী তালিকায় রয়েছে।

এরপর গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিগত পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল বিএমআরসির কাছে প্রটোকল জমা দেওয়া হয়। এরপর বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী সংশোধিত প্রটোকল জমা দেওয়া হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। পরে ২০২১ সালের ২২ জুন বিএমআরসি মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়, যদিও এর আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির দেহে পরীক্ষা করার শর্ত দেওয়া হয়। গত ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি বানরের দেহে ট্রায়াল শুরু করে, যা শেষ হয় ২১ অক্টোবর।

‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমার প্রথম গানেই প্রশংসায় ভাসছেন রণবীর-আলিয়া

বিনোদন ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত মাসে প্রকাশ পায় রণবীর আলিয়া অভিনীত ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমার ট্রেলার। প্রকাশের পর বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে। আর এবার প্রকাশ পেয়েছে এই সিনেমার গান। আর প্রথম গান প্রকাশের পরেই প্রশংসায় ভাসছেন রণবীর-আলিয়া।

পরিচালক অয়ন মুখার্জি রণবীর-আলিয়া জুটির বিয়ে উপলক্ষে এই সিনেমার ‘কেসারিয়া’ গানের ঝলক শেয়ার করেন। আর প্রকাশের পর সেই ক্লিপটি ভাইরাল হয়ে যায়। এবার সম্পূর্ণ গান এসেছে প্রকাশ্যে।

এদিকে গান প্রকাশের ঘণ্টাখানেকের মাঝেই ভিউ হয়ে যায় ১ মিলিয়ন। গানটি গেয়েছেন অরিজিত সিং। সুর করেছে প্রিতম। গানটি লিখেছে অমিতাভ। ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের এই গান চিত্রটিতে রণবীর এবং আলিয়ার রসায়ন দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা।

অয়ন মুখার্জির পরিচালনার এ সিনেমাতে মুখ্য চরিত্র শিবা ও ইশার চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর-আলিয়াকে। এই সিনেমার সেটে বন্ধুত্ব আর তারপর প্রেম। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের প্রেম পায় পরিণয়। নবদম্পতি এরই মধ্যে জানিয়েছে তাদের ঘরে আসছে নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা হওয়ার খবর আলিয়া নিজেই জানিয়েছে। রণবীর-আলিয়া ছাড়াও এই সিনেমাতে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, মৌনি রায়, নাগার্জুন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমার।

 

নওগাঁর উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) কোয়ার্টার এখন প্রভাবশালীদের দখলে

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন সংস্কার না করা ও সঠিক নজরদারির অভাবে নওগাঁয় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ৯৮টি এসএএও কোয়ার্টার বেদখল হতে শুরু করেছে। আনুমানিক ষাটের দশকে নির্মিত এসব কোয়ার্টার দীর্ঘদিন অযত্নে ফেলেে রাখায় তা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিচ্ছে। মূল্যবান জমিগুলো দখলে নিয়ে সেখানে নতুন করে দোকানপাট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সুদ ব্যবসা, জুয়া, মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনসহ নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে এসব কোয়ার্টারে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি দেখেও দেখছেন না কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে সরকারের কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আনুমানিক ষাটের দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের আমলে বীজ সংরক্ষণ ও বিপননের জন্য সীড স্টোর হিসেবে এই কোয়ার্টারগুলো নির্মান করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালে কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সৃষ্টি হয়। সেই সময় সারাদেশে খাদ্যশষ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহযোগীতা দিতে সীড স্টোরগুলো সংস্কারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। যার নাম দেয়া হয়েছে এসএএও কোয়ার্টার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে অবস্থিত ৯৯টি এসএএও কোয়ার্টার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কর্তৃক সংস্কারের মাধ্যমে বসবাস উপযোগী করে ১৯৮জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে কয়েক বছর আগে মান্দা উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের এসএএও কোয়র্টার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অবশিষ্ট ৯৮টি কোয়ার্টারের মধ্যে বর্তমানে জেলার সদর উপজেলায় ১৫টি, রাণীনগরে ৮টি, আত্রাইয়ে ৮টি, বদলগাছীতে ৮টি, মহাদেবপুরে ১০টি, পত্নীতলায় ১০টি, ধামইরহাটে ৭টি, সাপাহারে ৫টি, পোরশায় ৫টি, মান্দায় ১৪টি ও নিয়ামতপুরে ৮টি রয়েছে। জেলায় ৯৮টি এসএএও কোয়ার্টার থাকলেও এর মধ্যে বসবাসের উপযোগী ৩টি উপজেলার ৭টি এসএএও কোয়ার্টার রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জেলার ৯৮টি এসএএও কোয়ার্টারের মধ্যে যেগুলো মূল বাজার সংলগ্ন মূল্যবান সম্পত্তি তার অধিকাংশই প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে। অনেক কোয়ার্টার দখল করে ভবনের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে টানানো হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সাইনবোর্ড। অনেক জায়গায় পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভেঙে চারিদিকে দেয়াল তুলে নিজের সম্পত্তি বলে দখল করা হয়েছে। বিভিন্ন এসএএও কোয়ার্টারের মূল্যবান সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে দোকান ঘর নির্মান করা হয়েছে। সেখান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করেন প্রভাবশালীরা। দোকানগুলো ভাড়া নিতে জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা থাকার সুবাদে বেশ কিছু কোয়ার্টার দখলে নিয়েছে বখাটেরা। ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টার দখলে নিয়ে কোথাও আবার নিয়মিত বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

কোয়ার্টারে আধুনিক ওয়াফাই সুবিধা, টিভি, চেয়ার, টেবিলসহ অসংখ্য আসবাবপত্র দিয়ে সেখানে রাতভর আড্ডাবাজি, নিয়মিত মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও সুদ ব্যবসা করা হয়। কোয়ার্টারে আড্ডারত বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসীরা। এসব কোয়ার্টারের সামনে দিয়ে যাবার পথে যৌন হয়রানি ও ইভটিজিং এর স্বীকার হতে হয় অনেককেই। কিছু কিছু কোয়ার্টারগুলোতে বখাটেদের টর্চার সেলও তৈরী রয়েছে। এসএএও কোয়ার্টারের কক্ষে মাদক সেবন, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করা হয় প্রতিনিয়নত। কোয়ার্টারের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় মাদকসেবীদের আলামত। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে তাদের সখ্যতা থাকায় ইউনিয়নে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ভয়ে তাদের কিছু বলতেও পারেন না।

ইউপি চেয়ারম্যানসহ কৃষি বিভাগকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও জায়গাগুলো দখলমুক্ত করতে পারছে না উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড়ে এসএএও কোয়ার্টারের সম্পত্তিতে মুদি দোকান নির্মান করেছেন নাইম হোসেন। তিনি বলেন, এখানে পৌর মেয়র কিছু জমি দখলে নিয়ে তার বহুতল ভবনে যাবার রাস্তা তৈরী করেছেন। ইজি বাইক চালকরা তাদের সংগঠনের একটি অফিস করেছে। কোয়ার্টারের মূল ভবন পুরোটাই বাংলাদেশ প্রাক্তন সেনা সংস্থার সাইনবোর্ড টানিয়ে দখল করে রেখেছে। তাই ভাবলাম আমিও একটা দোকান করি।

নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড়ে এসএএও কোয়ার্টারের মূল ভবন দখলকারী বাংলাদেশ প্রাক্তন সেনা সংস্থা নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি অবঃ সার্জেন্ট ইনতাজুল হক মোল্লা বলেন, আমাদের সংগঠনের স্থায়ী কোন কার্যালয় না থাকায় প্রায় ১০ বছর আগে ভবন দখলে নিয়ে এখানে অস্থায়ীভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আগে সংগঠনের খরচ চালাতে কিছু দোকানপাট এখানে ভাড়া দিতাম। এখন আর দেয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে কৃষি বিভাগ বাদী হলে একাধিকবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কখনো এই ভবনটি ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলা হলে আমরা দখল ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো।

শহরের গোস্তহাটির মোড়ে এসএএও কোয়ার্টারের সম্পত্তিতে দোকানঘর নির্মাণ করে আসবাবপত্র রেখেছেন নওগাঁ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক সনি। তিনি বলেন, আমার বাড়ির সামনের কোয়ার্টারের জমিতে যেসব দোকানঘর রয়েছে তা আমার নয়। আপনারা এসব খবর আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস থেকে নিয়ে এসেছেন। আর কোন খবর পান না? আপনি কিসের সাংবাদিক? এ বিষয়ে কিছু জানতে হলে আমার সাথে দেখা করেন।

সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহীনুর রহমান বলেন, চন্ডিপুর ইউনিয়ন এসএএও কোয়ার্টার একেবারেই বোর্ড বাজার সংলগ্ন। তাই এই জমির বর্তমান মূল্য অনেক বেশি। শামসুর রহমান বাচ্চু, সুমনসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা এই কোয়ার্টার ভেঙে ৭টি দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। প্রত্যেক দোকানঘর থেকে অগ্রীম জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া আদায় করা হয়।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন এসএএও কোয়ার্টার দখল করে ৭টি দোকানঘর নির্মাণকারী সুমন হোসেন বলেন, দাদাদের আমলে জমিটি সীড স্টোর তৈরী করতে দান করা হয়েছিল। তবে ওই সময় আমাদের ২ জন দাদা বাদী হয়েছিলেন। জমিটি খতিয়ানমূলে আমার বাবার নামে থাকায় এখন আমরা ভাইয়েরা মালিক। তাই এটা দখল করে ভেঙে কিছু দোকানপাট তৈরী করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ চাইলেও আমরা এই জমির দখল ছাড়বো না।

সদর উপজেলার কির্তীপুর ইউনিয়নে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র বলেন, ৩ বছর আগে থেকে আমাদের কোয়ার্টার বখাটেরা দখল করে রেখেছে। সেখানে টিভি, ওয়াইফাই সংযোগ, একাধিক চেয়ার টেবিল রেখে রাতভর আড্ডাবাজি, নিয়মিত সুদ ব্যবসা, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা করে তারা। বখাটেদের উৎপাতে আশেপাশের বাড়িগুলোতে থাকা মা-বোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে। ৩ বছর আগে তৎকালীন উপজেলা কৃষি অফিসারসহ সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক বরাবর অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় ওই বখাটেদের সামনাসামনি কিছু বলার সাহস আমরা পাই না। জায়াগাটা মূল বাজার সংলগ্ন হওয়ায় বখাটেরা সেটি কোনভাবেই ছাড়তে চাচ্ছে না।

জেলার একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তরা জানান, প্রতি বছর বেহাত-বেদখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। যেগুলো দখল হয়ে আছে তার বেশিরভাগ গুলোই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে থাকা প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে রেখেছেন। তাদেরকে উচ্ছেদ করলে আবারো তারা কিছুদিন পর পর কোয়ার্টার দখলে নেয়। সরকারী এই মূল্যবান সম্পত্তি রক্ষার্থে বহুবার সীমানা প্রাচীর নির্মানের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাড়া মিলেনি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মনজুরে মাওলা সাংবাদিককে বলেন, বসবাস অনুপযোগী হওয়ায় আমাদের এসএএও কোয়ার্টারগুলোতে এখন আর থাকা যায় না। যতই দিন যাচ্ছে কোয়ার্টারের জমির মূল্য বাড়ছে। এসব জমির উপর নজর পড়ছে প্রভাবশালীদের। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের নেতারা জমিগুলো হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো আমাদেরকেই মামলা-হামলার স্বীকার হতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ উইং) শামছুল হক বলেন, সারাদেশে বেদখল হওয়া এবং দখলমুক্ত এতো বেশি সংখ্যক এসএএও কোয়ার্টারের সীমানা প্রাচীর রাজস্ব থেকে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কৃষি বিভাগের এই সম্পদ রক্ষার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

জোটের রাজনীতি:

বাংলাদেশে জোটের রাজনীতি এখন নিয়ম হয়ে গেছে। বড় দলগুলি দেখাতে চায় কারা কারা তাদের সঙ্গে রয়েছে। কিছু দলের নিবন্ধন আছে কর্মসূচী নেই, সাংগঠনিক শক্তিও নেই তাদের। নেতার পরিচয়েই নাম সর্ব্বস্ব দলের নেতারা বড় দলে জোটভূক্ত হয়ে দালালি করে। এমন রাজনীতি আসলে অনৈতিক। জাতীর কাছে তাদের কোন অঙ্গীকার নেই। এরা জাতি বা দেশের জন্য রাজনীতি করেনা। তাদের মূল লক্ষ্য হলো যে কোন উপায়ে ক্ষমতার সঙ্গে থাকা। নির্বাচন এলে দেনদরবার করে আসনের ভাগ চাওয়া। নমিনেশন বিক্রি করে নগত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। কিছু মানুষ চড়া মূল্যে দলের টিকিট কিনে। এদের বেশীর ভাগই নির্বাচিত হতে পারেনা। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে সেই পরিচয় বিক্রি করেই নিজেকে রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দেয়। গনমাধ্যমে তাদের প্রচারও হয়। টেলিভিশনে টক শো করে জ্ঞান বিলায় জাতিকে। যাদের সঙ্গে নীতি আদর্শের মিল নেই, যে দলের নেতৃত্বেও তারা পরিচালিত হয়না এমন দলের সাথে ঐক্য করার যূক্তিটি কি? যদি ঐক্যই করতে হয় তাহলে সেই দলের নীতি আদর্শকে ধারন করে দলের কর্মী হয়েই রাজনীতি করা উচিৎ। ভিন্ন দলের আদর্শ প্রচার করা তো দালালী। নামসর্ব্বস্ব এসব দলের কর্মীও নেই ভোটারও নেই। জোটের মুল দলের মার্কা নিয়ে সেই দলের কর্মসুচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগনের কাছে ভোট চাওয়া প্রতারনার সামিল। জোটভুক্ত দলের কারনে মুল দলের যোগ্য নেতারা নমিনেশন বঞ্চিত হন। দলের নির্দেশে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে একসময় হতাশ হয়ে ছিটকে পরেন দল থেকে। এরাই ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। অথচ দুর্দিনে এরাই দলেকে ধরে রেখেছে হামলা মামলা উপেক্ষ করে। আদর্শের কথা ভুলে শত্রুতায় রূপ নেয় সতীর্থের সঙ্গে। শুরু হয় জেদাজেদী আর শত্রুতা। এমন শত্রুতায় প্রানও গেছে অনেকের।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যেও একই চিত্র এখন লক্ষনীয়। বিষয়টি ভাবনার বটে। আওয়ামী লীগ দেশে যে উন্নয়ন করেছে তা প্রচার করে দলীয় কর্মীবাহিনী নির্বাচনে নামলে জোট করেও দলকে হারানো যাবেনা। জোট বিহীন নির্বাচন হলে স্থানীয় নেতারাই দলের কর্মীবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাবে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের কর্মীবাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব দল মিলে চেষ্টা করেও জয়ী হতে পারবেনা। দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত কর্মীরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে সরকার পরিচালনায় দল থাকবে চাপ মূক্ত। এমন রাজনীতিই প্রত্যাশিত ছিল কারন, জনগন একটি দলের আদর্শ এবং কর্মসূচীকেই সমর্থন করে ভোট দেয়। যারা দলের আদর্শ বিশ্বাস করেনা তাদেরকে মন্ত্রী বানাতে ভোট দেয়না। বাংলাদেশে জোটভুক্ত রাজনীতির বাস্তবতাটি পরিবর্তন প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করলে দলের যোগ্য নেতাকর্মীরা যেমন সুযোগ পাবে, দলও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয় নিশ্চিত করবে। অন্য জোটেও এই পদ্ধতি অনুসরন করলে জনগনের রায়েই সরকার গঠনের যোগ্যতা নিশ্চিত হবে। আদর্শহীন জোটের রাজনীতি বন্ধ হওয়া জরুরী।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।


 

শ্রীলঙ্কা নয় এবার আরব আমিরাতে হবে এশিয়া কাপ!

স্পোর্টস ডেস্কঃ চলতি বছর এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ ছিল শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও এশিয়া কাপ আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। তবে এবার এসএলসির সেক্রেটারি মোহন ডি সিলভা দিলেন ভিন্ন তথ্য। তার দাবি- শ্রীলঙ্কায় নয়, এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৬ দিনের টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২৬ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর আসরটি হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্রিকবাজের খবরে জানা যায়, লঙ্কান বোর্ড টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে রাজি ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিন হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি পালিয়ে গেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন। বিক্ষোভে উত্তাল পুরো দেশে।

এসিসির একজন সদস্য ক্রিকবাজকে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা ঠিক নয়।

অবশ্য এসএলসি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সফলভাবে একটি পূর্ণ সিরিজ আয়োজন করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা চলছে।

এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের প্রথম কাজ হলো শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন করা এবং সেখানে এশিয়া কাপ খেলা। যদি এই টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কায় না হয়, তাহলে এটা তাদের বিরাট ক্ষতি হবে। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সফর কোনো সমস্যা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তান সফর নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

ধানী জমির ফসল কীটনাশক দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্ব শক্রুতার জের হিসাবে বর্গাচাষি মোঃ বশির মিয়ার রোপনকৃত ধানী জমি ঘাস মারার ঔষদ ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিপক্ষ উপজেলার করিমপুর গ্রামের জমির মিয়া (৪৫), কায়েছ মিয়া (২২), গোপাল নগর গ্রামের সুশীতল দেব (৫৫) এর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোঃ বশির মিয়া জানান, গত ১২ জুলাই ভোর ৬টার দিকে জমির মিয়াসহ গংরা সম্মিলিত ভাবে তার রোপনকৃত ধানী জমি ঘাস মারার ঔষদ ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। প্রতিবাদ করায় জমির মিয়ার হাতে থাকা রামদা দিয়ে তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। ঐ সময় ১নং স্বাক্ষী হিসেবে শফিক মিয়াসহ অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিষয়টি উক্ত ভূমির মালিক শ্রীমঙ্গল শহরের উম্মে সালমা বেগমকে অবগত করেন। এ ঘটনায় জমির মিয়া গংদের অভিযুক্ত করে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভূক্তভোগী এবং সরেজমিনে উপজেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার অধীনস্থ একজন কৃষি কর্মকতা ও কমলগঞ্জ থানার পুলিশি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, জমির মিয়া, কায়েছ মিয়া, সুশীতল দেব ও তার সহযোগীরা সুদখোর, ভূমি জবরদখল, নারীদেরকে যৌন হয়রানীসহ একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত পাশাপাশি বাজে প্রকৃতির মানুষ বটে। তাদের এহেন জঘন্য আচরন এলাকার লোকজন অতিষ্ট। এমন কোন অপরাধ নেই যাহা তাদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। কিন্তু এলাকায় মানুষ ভয়ে মুখ খুলছে রাজি না। বর্তমানে পরিবারের লোকজন নিয়ে ভয়ে নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বিষয়টি সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে সচেতন মহলসহ উচ্চপদস্থ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব বলে দাবী রেখে সকল প্রকার সহায়তা প্রার্থনা কামনা করেন।