রাজনীতি:

বর্তমান সরকারের মেয়াদ পুর্ন হবে ২০২৩ সালের ডিসম্বরে। অর্থাৎ দেড় বছর বাকি রয়েছে নির্বাচনের। সঙ্গতভাবেই নির্বাচনী আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সকলেই বলছে আগামী নির্বাচন কঠিন হবে। যারা প্রতিদিন সরকার পতনের হুঙ্কার দেয় তাদের কারোই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হবার সক্ষমতা নেই। তাদের দাবীর পক্ষে জনগনকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি।

অপরদিকে টানা ৩ মেয়াদে সরকার দেশে ব্যপক উন্নয়নের সাফল্য দেখিয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান করে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ এখন অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থানে। তার পরেও অনেকের ক্ষোভের কারনটি দলীয় বিশৃংখলা। এম পি মন্ত্রীদের উদাসীনতা। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। সরকারী দলের কর্মী হয়েও দলের পরীক্ষিত কর্মীরা হামলা মামলার ভয়ে এলাকায় নেই। দেশের সব পর্যায়ে সম্মেলন হলেও অনেক ত্যগী কর্মী জায়গা পায়নি দলে। এম পি মন্ত্রীদের পকেট কমিটিতে স্থান পেয়েছে বহু বহিরাগতরা। এদের মধ্যে জামাত বি এন পি’র সদস্যরাও রয়েছে। এলাকায় এখন তারাই ক্ষমতাবান এবং দল পরিচালিত হয় নব্য আওয়ামী লীগারদের দারা।

অনেক নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে দলের ত্যগী কর্মীবাহিনী নিস্কৃয় থাকলে ফলাফল ভিন্ন রকম হবে। সুযোগটি নিবে জামাত বি এন পি সহ আওয়ামী লীগের শত্রুরা। দলের অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রস্তুতি নিতেও শুরু করেছে। জামাতের নিবব্ধন নেই আর বি এন পি সংগঠিত নয়। কিন্তু তাদের ভোট ব্যংক বিদ্রোহীদের দখলে। নির্বাচনে জোট হবে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে। অবস্থা অনুমান করে জাতীয় পার্টিও এখন এককভাবে নির্বাচন করার শ্লোগান দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির এককভাবে সরকার গঠনে সমর্থ নয় কিন্তু বিদ্রোহীদের সাথে ঐক্য হলে ভোটের চিত্র বদলে দিতে পারবে।

জি এম কাদের ক্যরেশম্যটিক নেতা নয় তবে চালাক এবং বুদ্ধিমান। ১৪ বছর আওয়ামী লীগের সংগে থেকে সুবিধা ভোগ করেছে। প্রস্তাব পেলে ভিন্ন জোটে যাবেনা তা গ্রান্টি দিয়ে বলা যাবেনা। জামাতেরও একটি ভোট ব্যংক রয়েছে। সেই ভোট কখনোই আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবেনা। জামাতের সদস্যরাও কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে নিশ্চিত। ড: কামাল হোসেন, ডা: জাফরুল্লাহ, ডা: বদিরুদ্দোজা এবং ড: ইউনুসরা বিদেশীদের সাথে আতাত অব্যহত রেখেছে। আ স ম আব্দুর রব আর মাহামুদুর রহমান মান্নারা সরকার বিরোধী প্রচারনায় লিপ্ত। সরকারী দলের নেতারা কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা। বরং আবার নির্বাচিত হতে শত্রু পক্ষের সাথে গোপন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ দলের বিশাল কর্মী বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে সবাই মিলেও আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকাতে পারবেনা।

কুমিল্লার মেয়র নির্বাচনে এম পি বাহারের ভুমিকা নিয়ে গনমাধ্যমেই আলোচনা হয়েছে এবং শাক্কু নিজেই দাবী করেছে সে বাহারের প্রার্থী। বহু নাটকীয়তার পর বাহার নীরব হলেও আরফানুল হক রিফাত মাত্র ১৩৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। বি এন পি’র দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মিলে যে ভোট পেয়েছে আরফানুল হক তার অর্ধেক ভোট পেয়েছে।

একই চিত্র নারায়নগঞ্জেও ছিল। আইভি প্রকাশেই দাবী করেছে তৈমুরকে দাড় কিরিয়েছে শামিম ওসমান। তৈমুর নিজেও নিজেকে শামীমের লোক বলেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়নগঞ্জে গিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় শামিম ওসমানকে হুমকি ধমকি দিয়েছে। তার পরেও তৈমুর যত ভোট পেয়েছে শামীম আইভির সঙ্গে নির্বাচন করে তত ভোট পায়নি। ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিল। এমন চিত্র জাতীয় নির্বাচনে হলে নির্বাচনের ফলাফল ভীতির কারন বটে।

বি এন পি শ্লোগান দিয়ে গোপনে বিদ্রোহীদের সাথে আতাত করছে না বলা যাবেনা। জামাতও অর্থ লগ্নি করবে নির্বাচনে। তাদের উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল নয়, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা। সেই লক্ষ্য পুরনে যে কোন দলকেই তারা অর্থ দিবে। বিশাল অর্থ নিয়ে জামাত মাঠে নেমেছে। এখন দেশে নয় বিদেশে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে জামাত। তাদের লক্ষ্য দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিনত করা। বিদেশে তারেক এখন জামাতের টাকায় বন্দী। বি এন পি নেতাদের অনেকেরই সংসার চলে জামাতের টাকায়। শুধু বি এন পি নয় জামাত টাকা নিয়ে হানা দিয়েছে আওয়ামী লীগেও। অনেক নেতার সঙ্গেই জামাতের সখ্যতা বেড়াছে। মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে যারা কথা বলেন তারাও অনেকে অর্থলোভে ভিন্ন সুরে কথা বলেন। জামাতের অর্থ আর কুটকৌশলে ধরাশায়ী শিক্ষিত সুশিল সমাজের অধিপতিরাও। ভয়টি এখানেই।

দেশের জনগন শেখ হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। এই নেতারা নমিনেশন পেলে ফলাফল হবে দু:খজনক। আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এখনোই প্রার্থী নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ হবে। ত্যগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা জরুরী। আগামী নির্বাচন জাতির জন্য গুরত্বপুর্ন। জাতীয় নেতৃত্ব বিষয়টি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে দল এবং দেশ দুটোই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।


 

ইউক্রেনে মার্কিন নির্মিত হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবী রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনে মার্কিন নির্মিত হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবী করেছে রাশিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার সেনারা জাহাজ বিধ্বংসী হারপুন ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি ইউনিট ধ্বংস করে। কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইউক্রেনকে এই হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে থাকে মার্কিন অস্ত্রনির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানবোয়িং।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার জন্য স্বল্প পাল্লার ইসকান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, ওডেসা বন্দরনগরী থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে বেরেযান গ্রামের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার মোতায়েন ছিল।

এর আগে, রোববার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছিল, তারা ইউক্রেনের অধীনে থাকা মার্কিন নির্মিত এম-৭৭৭ হাউয়িটজার ধ্বংস করেছে। এছাড়া, গত ৬ জুলাই ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর হাতে মজুদ থাকা মার্কিন নির্মিত হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের দুটি ইউনিট ধ্বংস করে রাশিয়ার সেনারা।

এদিকে মস্কো আগেই ঘোষণা করে রেখেছে যে, ইউক্রেনে পাঠানো পশ্চিমা অস্ত্রের চালান হবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান ও বৈধ লক্ষ্য বস্তু। পার্সটুডে।

এন আই ডি কার্ড

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বসবাস করছে। প্রতি বছর না হলেও প্রায় বছরই এদের অনেকে দেশে যায়। যারা স্থায়ীভাবে বিদেশে আবাসন গড়েছে তাদের সংখ্যাটিও কমনা। দেশে গিয়ে একটি ফোনের সিম কিনতেও এন আই ডি লাগে। ব্যংক একাউন্ট খুলতে হলেও বিদেশী পাসপোর্ট দেখাতে হয়। এই কার্ড ছাড়া জায়গা জমী বিক্রি করাও কঠিন। নাগরিক হিসাবে বিদেশী পাসপোর্টে যেতে No Visa Required সীল দেয়। কিন্তু দেশের নাগরিকত্বের সনদ নেই কারোই। এই বিশাল জনগোষ্ঠী নাগরিক সুবিধা ছাড়াও ভোটাধিকার বঞ্চিত। অথচ দেশের রেমিটেন্স উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীরাই এগিয়ে।

প্রতিবছর বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এই রেমিটেন্স প্রাপ্তির কথা গর্ব করে বলেন। কিন্তু প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদানের কোন উদ্যোগ আজও গ্রহন করা হয়নি। দেশ এখন ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে বলে সরকার সাফল্য বিবেচনা করে। কিন্তু দেড় কোটি বাংলাদেশী কে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে সরকার কোন আগ্রহ নেই। প্রবাসে বহুবার এই দাবী উঠেছে, এবং সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের কর্ত্তাব্যক্তিদের সাথেও মতবিনিময় হয়েছে। শুধু আশ্বাস দেওয়া ছাড়া কোন কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। বিষয়টি জটিল নয় তবে ব্যয়সাপেক্ষ। এক কালীন অর্থ ব্যয় করে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করা হলে দেশ বরং লাভবানই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। প্রাবাসীরা দেশে লগ্নি খাটাতে আগ্রহী হলে বিদেশী ঋনের নির্ভরতা লাঘব হবে। সরকার উদ্যোগ নিলে কাজটি করা কঠিন কিছু নয়। জন্ম নিবন্ধন যদি দুতাবাস দিতে পারে, জাতীয় পরিচয় পত্র দেওয়াও সম্ভব হবে।

বহু দেশের প্রবাসী নাগরিক বিদেশ থেকেই ভোট প্রদানের সুযোগ পায়। প্রযুক্তির যুগে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করার কাজটি মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগের। বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মান করে প্রযুক্তির সক্ষমতা দেখিয়েছে। জাতীয় পরিচয় প্রদানের প্রযুক্তি সফল হবেনা তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আশাকরি সরকার এবং সংশ্লিষ্ঠ কর্ত্তাব্যক্তিরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।


ডিজিটাল বাংলা নিউজডিআর / মোস্তাফিজুর রহমান

“বেলী” – কি পবিত্র মুখটা!

বেলী – কি পবিত্র মুখটা!

[উৎসর্গঃ Shapna Yesmin আপনাকে ঈদের সামান্য উপহার ]

গপ্পে- আবু শামা (শ্যামা)

লেইস ফিতা! লেইস ফিতা! কিনবেন লেইস ফিতা! লাল নীল সবুজ! বিভিন্ন কালারের লেইস ফিতা! এই বাবু কিনবি লেইস ফিতা?  মাত্র দশ টাকা, একটা নে না বাবু, তোর ভালোবাসার মানুষের জন্য একটা লেইস ফিতা নে। কিন্তু এ সময় টা তে আমি যে কোথায় আছি ঠাঁই দাঁড়িয়ে নিজেকে হাড়িয়ে, আমার চোখের সামনে শুধু একটা মমতাময়ী মায়াবী হরিণীর অসম্ভব সুন্দর চোখ, ভাবনাতে শুধুই – কি পবিত্র মুখটা!

হঠাৎ এতটা ধাক্কায় চেতনা ফিরে পেলাম, কি রে বাবু কিছু বলছিস না, নিলে নে, না নিলে চলে যাই, এমন ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে চেয়ে আছিস, খেয়ে ফেলবি নাকি আমাকে, যা রাস্তা ছাড় সময় নষ্ট করবি নাহ।

আমি মুখে কোন কিছু না বলে হাতটা বাড়িয়ে দিলাম সে আমার হাতে পাঁচটা লেইস ফিতা তুলে দিলো আমি পকেট থেকে পঞ্চশ টাকা বেড় করে দিতেই সে হারিয়ে গেলো নিমিষেই। আমি লেইস ফিতা হাতে নিয়ে দেখলাম লাল, নীল, সবুজ, হলুদ আর কালো রঙের পাঁচটা লেইস ফিতা।

আমার পাশে দাড়িয়ে থাকা বন্ধু শাহিন বললো, কিরে লেইস ফিতা তো কিনলি এখন কাকে দিবি, আমি হঠাৎ বলে উঠলাম, যার টা তাকেই দিবো, শাহিন কৌতুহলী হয়ে বললো, যার টা তাকে দিবি না মানে কি, কিছু তো বুঝলাম না।

আমি বললাম, তোকে কিছু বুঝতে হবে না আগে চল মেয়ে টা কে খুঁজে বের করি। শাহিন বললো, কোন মেয়ে, কে? আমি বললাম, এই যে গেলো মেয়েটা তাকে। শাহিন বললো, কি বলিস সে তো ফিতাওয়ালী। আমি শাহিনের মুখ চেপে ধরে বললাম, খবরদার এভাবে বলবি নাহ, ও তে বেলীফুল মানে আমার বেলী।

শাহিন বললো, কিরে রাজিব তুই কি পাগলটাগোল হলি নাকি! বেলী টা আবার কে? কোন দিন তো নামই শুনি নাই। তোর সাথে ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ চলছে এক সাথে হলের এক রুমে আছি, কোন দিন তো বলিস নাই। আমি হাতের লেইস ফিতা দেখিয়ে বললাম এর মালিক বেলী।

শাহিন বিরক্ত হয়ে বললো, কিছুই মাথায় ডুকছে না ইউনিভার্সিটি এত এত সুন্দর মেয়ে তোর পিছনে ছুটেছে সেগুলো রেখে তুই এই ফিতাওয়ালী পিছনে ছুটবি, তোর রুচি এত নিচে নামছে রাজিব জানা ছিলো নাহ। এবার আমি শাহিনের উপর বিরক্ত হয়ে বললাম, ঠিক আছে তুই থাক আমি গেলাম।

অনেকটা পথ পেরিয়ে যাবার পর শাহিন পিছনে থেকে দৌড়ে এসে বললো, রাজিব কি সব পাগলামি শুরু করলি তুই প্রথম আমাদের চলনবিলে এসেছিস। কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবি পরে রাস্তা হারিয়ে কোথায় যাবি ঠিক নাই। বেলা দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে এবার বাড়ি চল, পরে ফিতাওয়ালী কে খুঁজতে বের হবো বিকালে। চল, মা তোর পছন্দের সব খাবার রান্না করেছে। এবার চল বন্ধু মাথা ঠান্ডা করো চল।

আমি আর শাহিন তাদের বাড়ির দিকে রওনা হলাম।

শাহিন বললো, বন্ধু সত্যি করে বলতো বিষয় টা কি! তোর চরিত্রে তো এমন কিছু আমার চোখে পড়েনি, তুই কি আগে থেকে মেয়ে টা কে চিনিস? আমি বললাম সত্যি তাকে চিনি না কিন্তু মনে হচ্ছে সে আমার হাজার বছরের চেনা আমার স্বপ্নের বেলীফুল আমার বেলী।

আমি শাহিনের হাত চেপে ধরে বললাম, বন্ধু চল না বেলী কে খুঁজে দেখি পরে যদি আর কোন দিন বেলী কে খুঁজে না পাই। তখন শাহিন মুচকি হেসে বললো, সত্যি তুই পাগল হয়ে গেছিস। আচ্ছা তোর পাগলামির ঔষধ আমার কাছে আছে। আমি বললাম কিভাবে?

তখন শাহিন বললো, শুন এই ফিতাওয়ালী কোথায় থাকে আমি জানি, তোকে সন্ধ্যায় তার কাছে নিয়ে যাব, আমি খপ করে শাহিনের হাত চেপে ধরে বললাম সত্যি জানিস তার কাছে আমাকে নিয়ে যাবি? শাহিন বললো, তোকে বুঝিয়ে বলছি, এই ফিতাওয়ালী হচ্ছে এক প্রকার বেদেনী, তারা বর্ষাকালে আমাদের এলাকায় নৌকা নিয়ে আমাদের এলাকায় আসে। লেইস ফিতা রেশমি চুরি এসব বিক্রি করে ফেড়ি করে। সারাদিন ফেড়ি করে সন্ধায় বেদেবহরে ফিরে আসে, সন্ধায় তোকে নিয়ে যাবো এবার বাড়িতে চল।

যথারীতি আমরা বিকেলে বেড়িয়ে পরলাম বেলী কে খুঁজতে, অনেকক্ষন ধরে খোঁজার পর তাদের বেদেবহর খুঁজে পেলাম, গাংঙের পারে ঠিক গোধুলির আলো-আঁধারে বেলীর মুখটা সোনায় মোড়ানো কি পবিত্র মুখটা দেখে আমার মনটা পুলকিত হতে লাগলো, কোমরে রুপার বৃছা, কান্খে কোলশী, মেঘকালো চুলে বেণীগাঁথন আমার স্বপ্নের বেলীফুলের সৌরভ ছড়ানো সেই বেলী, যাকে খুঁজে ফিরছি জীবনভর।

আমি বেলীর দিকে যেন ছুটে চলেছি, হঠাৎ পিছন থেকে শাহিন হাত চেপে ধরলো, বললো রাজিব কি করছিস? আমি বললাম, কেন বেলীর সাথে কথা বলতে যাচ্ছি। শাহিন বললো, নিজেকে সামলা রাজিব, এটা করা ঠিক হবে না। এখন চল, পরে আবার আসবো। আমাকে এক প্রকার জোর করে শাহিন নিয়ে এলো সেখান থেকে।

খুব সকালে শাহিন আমাকে ঘুম থেকে জাগালো, বললো এবার চল রাজিব। আমি তো সকাল দশটার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারি না, শাহিন কে বলে দিলাম জ্বালাবি না ৷ যেখানে ইচ্ছে যা, ঘুমাতে দে। শাহিন ব্যপারটা বুঝতে পেরে, আমার কানের কাছে এসে বললো, বেলী এসেছে। আমি লাফিয়ে উঠে বলি বেলী মানে? কি বলিস কোথায়? কোথায়?

শাহিন বললো, বেলীর কাছে যাবি না? সারারাত যেভাবে আমার উপর অত্যাচার করছি, একফোঁটা ঘুমাতে দিস নাই। বললাম, কেন কি করছি? শাহিন বললো, কি করেছিস? আমাকে বেলী বানিয়ে সারারাত যা করেছিস, লোকে শুনলে জুতা পেটা করবে।  এবার আমার সাথে চল।

আমি কিছু না বলে শাহিনের পিছনে পিছনে হাটতে থাকলাম। মনে হলো শাহিন তাদের চলনবিলের একপান্ত থেকে অন্য পান্তে নিয়ে গেলো। তারপর গ্রামের একপান্তে বেলীফুলের সন্ধান পেলো, দু’জন মিলে ইচ্ছে মত বেলীফুল তুলে নিয়ে সটকে পরলাম।

আমি শাহিন কে বললাম। কি করছি এসব? শাহিন বললো আরে গ্যাদা বেলীর কাছে খালি হাতে যাবি? নে এবার মালা গাঁথ। আমি বোকার মত বেলীফুলের মালা গাঁথতে লাগলাম। আর শাহিন বলতে লাগলো, শুন বন্ধু, তুই এই বেলীফুলের মালা বেলী কে উপহার দিবি, দেখবি মেয়ে টা অনেক খুশি হবে।

তো মালা গাঁথা শেষ আমরা গাংঙের পারে বেলীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমার অপেক্ষা আর শেষ হয় না। বারবার অধৈর্য হয়ে শাহিন কে বলতে লাগলাম, কখন আসবে বেলী? শাহিন বললো, একটু ধৈর্য ধর বন্ধু আসবে!

অতঃপর আমার অপেক্ষার পালা শেষ হলো। বেলী তার সখি কে নিয়ে বেদেবহর থেকে বেড়িয়ে এলো, এদিকে আমার বুকের কাঁপন দেখে কে! বেলী বেদেবহর থেকে অনেকটা পথ যাবার পর আমরা পিছনে ছুটছি। এবার শাহিন পিছন থেকে ডাকতে লাগলো, এই ফিতাওয়ালী, ফিতাওয়ালী! এই দিকে এসো। বেলীর সখি পিছনে ফিরে এলো আর আমি এগিয়ে গেলাম, তারপর বেলীর কাছে গিয়ে কোন কথা না বলেই হাতটা বাড়িয়ে দিলাম।

বেলী বললো, কি রে বাবু আজও লেইজ ফিতা নিবি, কাল তো নিলি। বুঝেছি তোর মনের মানুষ আমার লেইজ ফিতা অনেক পছন্দ করেছে তো, জানি জানি এই সখির লেইজ ফিতা যে একবার নিছে সে বারবার নিতে আসবে এত কম দামে এমন সুন্দর লেইস ফিতা কারো কাছে পাবি নাহ!

বেলী লেইস ফিতা আমার হাতে দিতেই বললো, কিরে বাবু তুই এমন করে ঘামছিস কেন? আবার তোর গাঁ তো কাঁপছে রে, তোর কি শরীর খারাপ? বলতেই আমার কপালে তার হাত টা স্পর্শ করলো, বললো কিরে বাবু জ্বরে তোর গাঁ পুরে যাচ্ছে।

বেলীর হাতের প্রথম স্পর্শে আমার সারাশরীর শীতল হয়ে গুনগুনিয়ে মনে দোলা দিয়ে প্রশান্তিতে ছেয়ে গেলো, আমি চুপ করে পকেট থেকে বেলীফুলের মালা টা বেলীর দিকে এগিয়ে দিলাম, বেলী মালাটা হাতে দিতেই চিৎকার দিয়ে, আমার বন্ধু শাহিন কে ডাকতে লাগলো। এই বাবু এদিকে আয় তাড়াতাড়ি, আমার তো ভয়ে পা কাঁপতে লাগলো, জানি না আজ কপালে কি আছে। শাহিন কাছে আসার পর বললো, বাবু তোর বন্ধু কি নিয়ে যা, তার গাঁ জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা।

কি আর করা শাহিন আমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালো। সুস্থ হয়ে আবার সন্ধায় বেলী কে দেখতে গাংঙের পারে বেদেবহরে লুকিয়ে বেলীকে দেখতে লাগলাম। দেখি বেলী আমার দেওয়া বেলীফুলের মালা টা তার খোঁপায় পড়ে তার সখির সাথে হাসি তামাশায় মত্ত আছে, শাহিন বললো দোস্ত কাজ তো হয়ে গেছে। বললাম কিসের কাজ? শাহিন বললো, আরে গ্যাদা তোর বেলী বেলীফুলের মালা তার খোঁপায় পড়ে আছে দেখ, তার মানে সে তোকে পছন্দ করেছে। দেখনা মালাটা পড়ে কত আনন্দে আছে।

আমি বললাম, চল কথা বলি বেলীর সাথে, এখনও তো একটা কথাই বেলীর সাথে বলতে পারলাম না। শাহিন বললো, আরে না ভুল পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, ধৈর্য ধরে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে সব শেষ হয়ে যাবে বুঝলি গ্যাদা। কাল সব কথা বলবো, কাল আবার গাঁয়ে জ্বর তুলবি না ঠিক আছে। এখন চল বাড়ি যাই।

পরের দিন সকালে একটা চিঠি লিখে নিয়ে গেলাম যদি কথা বলতে না পারি তো চিঠি টা দিয়ে আসবো। যথারীতি আমরা গাংঙের পাড়ে গিয়ে হাজির হলাম, কিন্তু বেদেবহরের আর কিছুই নেই। মনটা বিষাদে ভরে গেল, কি করবো বুঝতে পারছি না।

শাহিন আমাকে দেখে বললো রাজিব তোর চোখে পানি কিসের! আমি শিশুর মত শাহিন কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম, বন্ধু আমি বুঝি আমার বেলী কে হারিয়ে ফেললাম। শাহিন রেগে গিয়ে বললো, রাজিব গ্যাদা ছাওয়ালের মত করিস না তো, এখান থেকে অন্য কোথায় গেছে হয়তো। চল, খুঁজে দেখি, নিঃশ্চয়ই খুঁজে পাবো।

তারপর সারাদিন চলনবিলের এক পান্ত থেকে অন্য পান্ত ছুটে বেড়িয়েছি কোথাও বেলী কে খুঁজে পেলাম না। এভাবে প্রতিদিন সকালে বের হই আর সন্ধায় ফিরে আসি কিন্তু কোথাও বেলীর দেখা নাই। এভাবে সাতদিন।

তারপর ঢাকায় ফিরে গেলাম। তারপর সাত বছর, বর্ষাকাল এলেই ছুটে যাই চলনবিলে বেলীকে একবার দেখা পেতে, কিন্তু খোদার আমায় একটু করুণা করে নাই তাই হয়তো একবারও বেলীর দেখা পাইনি।

জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়- টঙ্গি তে একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে এইচআর ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছি, অফিসে একটা মিটিং শেষ করে আমার রুমে ঢুকতেই চমকে গেলাম! আজ কি সূর্য পর্শ্বিম দিকে উঠেছে? গরীবের উঠানে হাতির পারা? বলতেই স্বপ্না আমার দিকে তেড়ে এলো, রাজিব এভাবে আর একটা কথা বললে এখনি তোমার অফিস থেকে বেড়িয়ে যাব। বললাম, আচ্ছা এই কানে ধরছি আর এভাবে বলবো নাহ।

আমার চেয়ারে বসে স্বপ্না কে বললাম, এখন বলতো, কি মনে করে অফিসে এলে। যদিও কখনও আসোনি তাই হাতির পারা বলছি।

স্বপ্না বললো, দেখ রাজিব তুমি সবসময়ই আমাকে খোঁচা মেড়ে কথা বলো। আমার ভাই বিসিএস ক্যাডার সরকারি বড় অফিসার, আমি তো কিছু নই তবুও কেন আমাকে কষ্ট দাও রাজিব, আমার অপরাধ কি? আমার ভাইয়ের ঢাকায় বাড়ি গাড়ি আছে, তাতে আমার কি, তাতে তো আমি তোমায় কষ্ট দিয়ে কথা বলি না, আর তুমি এটা নিয়ে আমাকে কষ্ট দিয়ে কথা বলো রাজিব,

আর ভাইয়া তো তোমারি সব চেয়ে কাছের একমাত্র বন্ধু, আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না তোমাদের বন্ধুদের মধ্যে কি এমন আছে যে এটার জন্য আমাকে অবহেলা করো।

আমি বললাম আরে পাগলি, তুমি এমন করে ভাবছো কেন? আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক আগের মতই আছে, তুমি না বুঝে এমন বলছো স্বপ্না।

ও হ্যাঁ স্বপ্না হচ্ছে আমার প্রাণের বন্ধু শাহিনের ছোট বোন, খুব লক্ষী একটা মেয়ে, খুব সাদাসিধা আমার সাথে অনেকটাই মিলে যায়, খুব অভিমানী, খুব অল্পতেই কেঁদে দেয় শিশুর মত! ভারি সুন্দর মুখশ্রী বড্ড মায়া লাগে মেয়েটার জন্য। ওকে যখন থেকে চিনি তখন সে পুতুল খেলতো, আমি তো ওদের বাড়ি গিয়ে একবার তার পুতুল লুকিয়ে রেখেছিলাম, ওমা সে কি কান্না,

শেষমেশ আমি তার পুতুল এড়িয়ে দিতেই পুতুল হাতে নিয়েই আমার দিকে ছুঁড়ে মারলো তো, আমার নাক ফেটে রক্ত বেড় হতে লাগলো, কারণ পুতুল টা ছিলো মাটির হাতে বানানো।

কথাটা মনে হতেই নাক চেপে ফিক করে হেঁসে দিলাম, স্বপ্না অবাক হয়ে বললো কি হলো রাজিব তুমি হাসছো কেন? পাগল-টাগোল হলে নাকি! আমি বললাম, আরে না, সে রকম কিছু নাহ, তোমার পুতুল লুকিয়ে রাখার কথা মনে আছে? কথাটা বলতেই দুজনে অট্টোহাসিতে ফেটে পরলাম।

আচ্ছা স্বপ্না, এবার আসল কথায় আসো, হঠাৎ আমার ছোট অফিসে তোমার আগমনের কারণ টা বল তো শুনি। স্বপ্না বললো,  তোমাকে নিয়ে আজ কিছু কেনাকাটা করবো, সময় নষ্ট না করে চলো এখনই বের হবো। ভাইয়ার গাড়ি নিয়ে এসেছি আবার তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। বললাম, আরে কেনাকাটা করবে আগে বলবে না, আমার কাছে তো টাকাই নেই।

স্বপ্না বললো, আরে সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হতে না, ভাইয়া আজ অনেক টাকা দিয়েছে তোমার জন্য কেনাকাটা করার জন্য, বললাম তাই নাকি ভালো তো। এবার বল তো স্বপ্না কিছু দিন হলো তুমি আমার নাম ধরে ডাকছো, এখন অফিসে এসেও বলছো, অফিসের লোক জন শুনলে কি ভাববে হ্যাঁ?

স্বপ্না বললো, কেন সমস্যা কি? সবাই তো জানেই, ভাইয়া তো ক’দিন আগে তোমার অফিসে এসে শুভ সংবাদ টা দিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে গেছে, আর এই যে (হাতের আংটি দেখিয়ে) তোমার দেওয়া আমার অধিকার, এই অধিকারের জন্যই তো এখন রাজিব বলে ডাকি। সারাজীবন তো তোমাকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডেকে মুখে ফেনা তুলেছি, বুড়ো খোঁকা আমার।

আমি বললাম, স্বপ্না আমি কি সত্যি বুড়ো হয়ে গেছি? স্বপ্না বুড়ো হওনি তো কি, চুল দাঁড়ি অর্ধেক পাঁকিয়ে ফেলেছো, আর তোমার বন্ধু বিয়ে করে দুই বাচ্চার বাপ।

আমার অবশ্য তোমার পাকা চুলের জন্য সমস্যা নাই, তুমি তো আমার জন্যই চুল দাঁড়ি পাঁকিয়েছো তাইনা। তুমিই তো আমার পড়ালেখা শেষ হবার অপেক্ষায় ছিলে, তাছাড়া তোমার মত এমন স্বচ্ছ সুন্দর মনের মানুষ কে স্বামী হিসাবে পাওয়া তো আমার জন্য বড় ভার্গ্যের ব্যাপার। এখন কথা বন্ধ করে চলো, অনেক বেলা হলো অনেক কেনাকাটা করতে হবে।

আমি খেয়াল করলাম, স্বপ্নার হাতে একটা চিঠির খাম নিয়ে নাড়াচাড়া করছে আর কথা বলছে। আমি স্বপ্না কে থামিয়ে দিয়ে বললাম, তোমার হাতে ওটা কি, স্পেশাল কিছু ওর ভিতরে নিয়ে এসেছো নাকি? স্বপ্না বললো, আরে না, কি আর আনবো, এটা তো তোমার টেবিলেই ছিলো।

আমি স্বপ্নার হাত থেকে চিঠির খাম টা হাতে নিলাম, খুব সাদাসিধা একটা চিঠির খাম, এটা তো আমার অফিসের কোন খাম না, এমন খাম বাইরে দোকানে পাওয়া যায়। আমি চিঠির খামটা হাতে নিতেই কি যেন একটা শিহরণে আমার গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। খাম টা ছিঁড়তেই খাম টা খুলে গেলো, ঠিক মত খাম লাগেনি, মনে হচ্ছে বেশিক্ষন আগে লাগানো হয়নি। ভিতরে তাকাতেই কলিজাতে খোঁচা দিয়ে গেলো। এটা কি, কি করে সম্ভব। নিজের অজান্তেই বলে উঠলাম “বেলী”?

তখন স্বপ্না বললো, কি হলো রাজিব, বললাম কিছু না স্বপ্না। তুমি একটু বসো, আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি।

তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে খামটা খুলে দেখলাম, আমার বেলী কে দেওয়া সেই বেলীফুলের মালা। আমার নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে, কলিজা শুকিয়ে আসছে। আমার বেলী বেঁচে আছে আর সে আমার কাছাকাছিই আছে, চিঠির খামটা আশেপাশের দোকান থেকে কেনা, খামের গাঁয়ে গামটা এখনও ভেজা, তারমানে বেলী আশেপাশে আছে। আর আমাকে একবার দেখা দেইনি, কিন্তু কেন আমাকে তো সে ভুলেও যায় নি, আর ভুলে গেলে তো আজো আমার দেওয়া বেলীফুলের মালা টা এত যত্ন করে রাখতো না সাতটা বছর ধরে। যে করে হোক আমার বেলী কে খুঁজে বেড় করতেই হবে। এতটা বছর ধরে বেলী কে সাড়া বাংলাদেশ খুঁজেছি, যার জন্য ক্যারিয়ারের পিছনে কখনো ছুটিনি, ছোট একটা চাকরি করছি তার ফাঁকে ফাঁকে বেলী কে খুঁজেতে থাকি প্রতি মাসে পাগলের মত ছুটে চলি দেশে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া।

আফসোস! বেলী তুমি কতটা নিঃঠুর হলে আমার সাথে এমন করতে পারো কেন হাড়িয়ে গিয়েছিলে, আর কেন আমার কাছাকাছি থেকেও একবার দেখা দাও নাই, কেন কেন বেলী, কেন এমন শাস্তি দিচ্ছো বেলী।

আমি ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসতেই স্বপ্না ছুটে এলো, রাজিব তুমি ঠিক আসো সোনা, কি হয়েছে তোমার? তুমি আধাঘন্টা ওয়াশরুমে কি করছিলে? কি হয়েছে? সোনা বলো আমাকে, বলেই স্বপ্না আমাকে জড়িয়ে ধরলো। রাজিব মাঝেমধ্যে তোমার কি হয়? আমাকে কোনদিন কিছু বলো না, কিসের কষ্ট তোমার বুকে চেপে রাখ? একবার বলো আমাকে। আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবো, একবার বল সোনা, শুধু একবার বলো। রাজিব তোমার শুকনো মুখটা আমি সইতে পারি না রাজিব আমার খুব কষ্ট হয়, বলতে বলতে স্বপ্না আমার মুখে হাত বুলাতে লাগলো।

আবার বলতে লাগলো, রাজিব তুমি প্রতি মাসে আমাদের গ্রামের বাড়িতে ছুটে যেতে। সেটা তো আমার জন্যই সোনা হ্যাঁ, আমার জন্যই তো রাজিব আমাকে দেখেতেই তো আমাদের বাড়িতে যেতে, সেই ছোট বেলা থেকে তোমাকে পাগলের মত ভালোবেসেছি, কই কখনও তো জোর করিনি, আমি কখনও কষ্ট দেইনি। তোমার আমার পরিবারের সবাই মিলেই তো আমাদের বিয়ে ঠিক করেছে, শুধু তো আমার ইচ্ছেতে নয় তুমিও মত দিয়েছো, তুমি যতবার আমাদের বাড়িতে গিয়েছো, তোমার চোখে আমি একটা অপূর্ণতা দেখেছি, কি যেন সারাক্ষণ খুঁজে ফিরেছে। এই চোখ হ্যাঁ, এই চোখ দিয়ে তুমি কখনও আমাকে দেখনি, তোমার চোখে অন্য কেউ আছে, তুমি অন্য কাউকে খুঁজেতে থাকো রাজিব, আমি সব বুঝতে পারি রাজিব, আজ বলবে রাজিব, আজ তোমাকে বলতেই হবে, সব বলবে। কি কষ্ট তুমি বুকে চেপে রেখেছো বছরের পর বছর বল রাজিব বলো, একবার বলো।

আমি বললাম, পাগলামি করো না স্বপ্না, আমার তেমন কিছুই হয়নি, তুমি শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছো, এখন চলো কেনাকাটা করবে বলে, চল যাই, চলো। স্বপ্না আমাকে আঁটকে দিয়ে বললো, রাজিব আজ আর কোন কিছু লুকাতে পারবে না, ক’দিন পর আমাদের বিয়ে, আর তোমার চোখ যদি অন্য কাউকে খুঁজে ফিরো, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে নাহ। এর পরও যদি তুমি আমাকে বিয়ে করো, সেটা তো বিয়ে নয় আমাকে করুণা করা হবে, আর করুণা নিয়ে আমি সারাজীবন বেচে থাকতে চাইনা রাজিব। এত বড় অন্যায় আমার সাথে করতে পারো না রাজিব, করতে পারো নাহ।

তুমি তো বেশ স্বাভাবিক ছিলে, এই চিঠির খাম টা তোমাকে এলোমেলো করে দিলো, কি আছে ঐ চিঠিতে কার চিঠি রাজিব বল। বল কার চিঠি, বলতে বলতে আমার বুকে কাঁদতে লাগলো। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, রাজিব তুমি চিঠির খামটা ছিঁড়েই একটা নাম বলেছিলে, কি যেন নামটা? হ্যাঁ মনে পড়ছে, বেলী, হ্যাঁ বেলীই বলেছিলে, এখন বলো রাজিব বেলী কে?

বলো, বলো। আমাকে স্বপ্না ঝাকাতে লাগলো, আমি কিছুই বলতে পারছি না, অজান্তেই আমার চোখ বেয়ে পানি বেড়িয়ে এলো।

স্বপ্না আমার মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো রাজিব, আমি তোমাকে পাগলের মত করে ভালোবেসেছি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তাই বলে করুণা পেতে নয়, এই স্বপ্না করুণা পাত্র হতে ভালোবাসেনি রাজিব। চোখ মুছতে মুছতে বললো, শুন রাজিব যাকে সারাজীবন ধরে খুঁজছো নিঃশ্চয়ই এই চিঠির খামে সে আছে। সমস্যা নেই, কোন সমস্যা নেই, আমার সব অধিকার ছেড়ে দিলাম। বিনিময়ে তুমি সুখি হও, শুধু মনে রেখো, এই স্বপ্না শুধু একজন পুরুষ কে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলো, আর সেই নামটি রাজিব।

তারপর স্বপ্না আমার রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো, আমি একটু পানি খেয়ে নিলাম, তারপর দেখি আমার টেবিলের উপর স্বপ্না আমাদের বিয়ে আংটি ফেলে গেছে, আমার চেতনা ফিরে পেলাম, দৌড়ে অফিস থেকে বের হয়ে দেখলাম, স্বপ্না তার গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গেছে।

আমার অফিসের গেটের পাশেই একটা ছোট দোকান, দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার দোকানে চিঠির খাম আছে, থাকলে একটা দাও। দোকানদার একটা চিঠির খাম দিলো দেখলাম। বেলীর দেওয়া খামের সাথে এই খামটার মিল আছে, আমি দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আজ কেউ এরকম খাম নিয়েছে? দোকানদার বললো, জ্বি স্যার একটা মেয়ে নিয়েছে দুপুরে। বললাম, তার নাম জানো? না নাম জানি না স্যার, তবে এই দিক থেকে প্রতিদিন অফিসে আসে। তারপর আমি সেই দিকে হাটতে থাকলাম, সামনে একটা সিগারেট কিনে টানছি আর হাটছি।

হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা টিনসিটের ছোট্ট ধরে, কিন্তু ঘরটা বেশ গোছানো, কেউ নেই পাশে, হঠাৎ একটা মেয়ে হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো।

আমি কোথায়? আপনি কে? আমি এখানে কি করে এলাম? মেয়ে টা বললো, স্যার সব বলছি, আপনার শরীর টা অনেক ক্লান্ত দুধটা খেয়ে নিন, তারপর সব বলছি। আমি দুধটা খেয়ে নিলাম। তারপর আমার ব্লেজার টা খুঁজতে লাগলাম, মেয়ে টা বললো স্যার ভয় পাবেন না। আপনার আমানতের খেয়ানত করিনি। সব ঠিক আছে।

ব্লেজার টা আমার হাতে দিয়ে বললো, আপনি আমাদের রাস্তার পাশে একেবারে আমাদের বাসার সামনে পড়ে ছিলেন। আমরা আপনাকে বাসায় নিয়ে এসেছি, একজন সারারাত আপনাকে সেবা করে সুস্থ করেছে, আপনি এখন যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শুনেই আমি চমকে উঠলাম। মেয়ে টা আবার বললো, ভয় পাবেন না স্যার, আপনার অফিসে আমরা চাকরি করি। একটা অনুরোধ করবো স্যার। বললাম, বলুন শুনছি। মেয়ে টা বললো, স্যার আপনার পকেটে একটা চিঠির খাম আছে, দেখুন তো ঠিক আছে কিনা, আমি খামটা বের করে দেখলাম ঠিক আছে।

মেয়ে টা বললো স্যার, চিঠিটা কার? আমি বললাম, আমার বেলী যাকে আমি সাত বছর ধরে পাগলের মত করে খুঁজে ফিরছি। মেয়ে টা বললো, স্যার তাকে কি গতকালও খুঁজেতে বেড়িয়ে ছিলেন? আমি বললাম হ্যাঁ তাকেই খুঁজছিলাম। তারপর ব্লেজারে আরও কিছু খুঁজেতেছিলাম। মেয়ে টা বললো স্যার আরও কি খুঁজছেন? বললাম লেইস ফিতা।

মেয়ে টা বললো স্যার, সেটা ওখানে নেই, আমি বললাম নেই মানে? ওটা আমার আমানত, সাত বছর ধরে সঙ্গে রেখেছি, দয়া করে ফেরত দিন। মেয়ে টা বললো, যার জিনিস তার কাছে আছে।

তারপর, এই লেইস ফিতাওয়ালী ভিতরে চলে আয়! সাথে সাথে একটা মেয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করলো, আমি দেখলাম লেইস ফিতা দিয়ে চুলের বেণী গেঁথেছে। শুধু মনে হলো- কি পবিত্র মুখটা!

আমি বিছানায় বসে আছি। মেয়েটি আমার সামনে এসে বললো, লেইস ফিতা, লেইস ফিতা, মাত্র দশ টাকা কিনবি বাবু, তোর মনের মানুষকে দিবি, নে না একটা লেইস ফিতা।

আমি বললাম বেলীফুল, আমার বেলী!

আগের মেয়ে টা বললো সখি তোরা কথা বল, আমি অফিসে যাই, দেরি হলে আবার বেতন কাটা যাবে। তারপর মেয়ে টা চলে গেলো।

আমি কোন কথা বলতে পারছি না, বেলী সামনে বসে বললো, দেখত বাবু তোর লেইস ফিতা দিয়ে বেণী গেঁথেছি কেমন লাগছে।

আমি তখনও ঘামছি। হঠাৎ বেলী তার হাতটা আমার কপালে স্পর্শ করে দিয়ে বলল্‌ আর কখনও তোর জ্বর আসতে দেবো না বাবু, আর ভয় পাবি না, আমি তোর বেলী আজ বাস্তবেই বেলী হয়ে এসেছি।

আমি বললাম, বেলী কেন আমার সাথে এমন করলে? তখন বেলী কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো, ওগো আমি তোমাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দেইনি, সেদিন রাতে সাঁপে কামড়ে আমার বাবা মারা যায়, আর সেই রাতেই আমরা চলে আসি। বাবা মারা যাবার পর মা কসম দিয়ে বলেছিলো, যে দেশে আর যে পেশা তোর বাবা কে কেড়ে নিছে সেই দেশে আর সেই পেশাতে আবার গেলে তোর মার মরা মুখ দেখবি।

বিশ্বাস করো বাবু, একবার বিশ্বাস করো বাবু, আমি একটি দিনও তোমাকে ভুলে থাকিনি, তোমার বেলি ফুলের মালা টা যেমন করে আগলে রেখেছি বুকের মাঝে, তোমার ভালোবাসার স্মৃতি করে।

বললাম, তাহলে আমার ভালোবাসার স্মৃতি টুকু কেন গতকাল ফেরত দিলে, বললো, গতকাল যখন শুনলাম তুমি বিয়ে করছো, বিয়ে আংটি পড়িয়েছো অন্য মেয়ে কে, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি ৷ ভাবলাম আমার বাবুর স্মৃতি আগলে রেখে আর কি লাভ, তাই গোপনে ফেরত দিয়ে এসেছি।

আমি বললাম, তুমি আমাকে চিনতে তাহলে কেন আমাকে দেখা দিলে না বেলী। বেলী বললো, আমি তোমাকে চিরতরে হারাতে চাই নি, তুমি একজন বড় অফিসার আর তোমার অফিসের সামান্য গার্মেন্টস কর্মী তুমি যদি আমাকে ফিরিয়ে দাও, সইতে পারবো নাহ।

তাছাড়া লোকে জানলে তোমার সন্মান থাকবে না, আমি কারো কাছে তোমাকে ছোট হতে দিতে পারি না বাবু। তাই এক বছর হলো তুমি আমাদের অফিসে আসলেও তোমার সামনে যাই নি। আমি বললাম, তোমরা যেখানে কাজ করো সেথানে তো আমি ভিজিট করতে যাই, কখনও তো তোমাকে দেখি নি।

বেলী বললো, তোমাকে হারানোর পর থেকে আমি বোরকা পড়ি, আমি চাইনি অন্য কেউ আমার মুখ দেখুক। আমি আল্লাহর কাছে নামাজে সবসময়ই দোয়া করতাম, আল্লাহ একদিন তুমি আমার বাবু কে আমার কাছে ফিরিয়ে দিও। যখন তোমাকে আমাদের বাসার সামনে পড়ে থাকতে দেখলাম, অফিস থেকে ফেরার পথে, তারপর বাসায় এনে সারারাত সেবা করে কিছু টা সুস্থ হলে, তখন আমার মনে হলো, তোমার ব্লেজার টা পরিস্কার করা উচিৎ।

তখন তোমার পকেটে আমার দেওয়া লেইজ ফিতা দেখতে পেলাম, তখন বিশ্বাস হলো, আমি যেমন আমার বাবুর বেলীফুলের মালা যত্নে রেখেছি, ঠিক তেমন করেই আমার বাবু আমার লেইজ ফিতা ভালোবেসে আগলে রাখছে।

বাবু, আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, হাত জোর করছি আমাকে ক্ষমা না করলে আমি যে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো নাহ। বেলী আমার মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, বাবু একবার শুধু ক্ষমা করো বিনিময়ে যা চাও তাই করবো, আমি তোমার দাসী হয়ে খাকবো বাবু, একবার ক্ষমা করো।

তখন আমার নিজের অজান্তেই মুখ থেকে একটি শব্দ বের হয়ে গেলো “আশ্রয় “। বেলী আমার মুখের দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে, বললো, আশ্রয়! আমি বললাম, হ্যাঁ বেলী, আশ্রয়, আমাকে একটু আশ্রয় দিবে। তখন বেলী আমাকে ঝাপটে আমাকে তার বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো, বাবু এই যে আমি তোমায় বুকে আশ্রয় দিলাম। আর কখনও ভয় পাবে নাহ, আমি তোমার কন্ঠ টা শুনার জন্য সাত বছর অপেক্ষা করেছি, নামাজে আল্লাহর কাছে পার্থনা করেছি, জীবনে শুধু একবার আমার বাবুর কন্ঠ শুনার তৌফিক দান করো। আলহামদুলিল্লাহ আজ প্রথম তোমার কন্ঠ শুনলাম। এত বছর প্রতিদিন তোমার বেলী ফুলের মালার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কথার উত্তর পায়নি।

এবার আমি বেলী কে বললাম, এখন থেকে আমরা সব সময়ই কথা বলবো। বেলীর মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম আর কাঁন্না নয়। এবার একটু হাসো বেলীফুল আমার নয়নের মণি, হরিণীর ঐ সুন্দর চোখ দিয়ে আমাকে একটু দেখো আমার প্রাণের বেলী!

তারপর বেলী তার সহজাত মায়াবীর মায়া, মমতাময়ী সুন্দর মুখে হাসি ফুটলো, ঠিক যেন বেলীফুলের কলি থেকে সদ্য বেলীফুল ফুটছে বেলীর পূর্ণতা পেলো। আর আমার কলিজাটা শীতলতা অনুভব করলো। শুকরিয়া, খোদার তরে, বেলীর নিস্পাপ সুন্দর হাসিতে আমার অন্তরাত্মা প্রশান্তিতে ভবে গেলো।

বেলীর চোখে চোখ রেখে বললাম, আহহা- কি পবিত্র মুখটা!


 

আজ বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা আয়শার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: আজ বুধবার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিলো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ছতিয়া গ্রামের মৃত আজাদ মিয়ার কন্যা আয়শা আক্তারের (১৮) এর। মঙ্গলবার রাতে হওয়ার কথা ছিলো গায়ে হলুদ। ইতিমধ্যেই বিয়ের কার্ড ছেপে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে স্বজন প্রতিবেশীদের। কিন্তু বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না আয়েশা আক্তার নামের এই তরুণীর, এর আগেই লাশ হতে হলো তাকে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিহত আয়েশার লাশ বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের স্বজন ও প্রতিবেশীদের গগনবিদারী কান্নায় ভারী হয়ে উঠে এলাকার পরিবেশ।

গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে আয়েশাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী সিরাজ মিয়া ও তার ভাই-স্বজনরা। ঈদের আগের দিন শনিবার দুপুরে হামলার এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আয়েশা। সে স্থানীয় আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী। প্রতিবেশী মৃত কদ্দুস মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন সুমনের সঙ্গে বিয়ের কথা ছিলো তার। সুমন পেশায় কভার্ডভ্যান চালক।

শনিবারের হামলায় আয়েশা আক্তারের মা কনিজা বেগমও আহত হন। মেয়ের মৃত্যুর সংবাদে মৌলভীবাজার হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরেন তিনি। তার মাথায় রয়েছে একাধিক সেলাই। শরীরে রয়েছে অনেক আঘাতের চিহ্ন। কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছিলো। মেয়ের বিয়ের কথা বলতে গিয়ে বুকফাটা আর্তনাদে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ছতিয়া গ্রামের মৃত আজাদ মিয়ার ১ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে আয়েশা আক্তার দ্বিতীয়। কিছু দিন আগে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় একই গ্রামের মৃত জহুর মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়া। বিয়ের সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন আয়েশার পরিবার ও তার চাচা নওশাদ মিয়া। পরে গত ১ জুলাই প্রতিবেশী সালাউদ্দিন সুমনের সাথে তার বিয়ে ঠিক করা হয়। বিয়ের দিন তারিখ ছিলো বুধবার। এ নিয়ে আয়েশার পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো রিয়াজের পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার আয়শা আক্তারের চাচা নওশাদ মিয়া স্থানীয় ভানুগাছ বাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির একটি গরু কিনেন। শনিবার দুপুরে খুঁটিতে রশি দিয়ে বাঁধা গরুটি ছুটে গিয়ে প্রতিবেশী রিয়াজের ভাইয়ের ধান খায়। এ নিয়ে নওশাদের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটির হলে এগিয়ে আসে আয়েশা। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত সিরাজ, সামাদ ও রিয়াজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আয়শাসহ নওশাদের পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে আহত করে। হামলায় উভয়পক্ষের আহত হন ৮ জন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহতদের মধ্যে আয়শা আক্তারসহ ৪ নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আহত আয়েশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার।

এ ঘটনায় রোববার দুপুরে নওশাদ মিয়া বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে ওইদিন রাতে মামলার ১ ও ২নং আসামি সামাদ ও সিরাজকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ২ আসামিকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাজীবপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন আলহাজ্ব আজিম মাষ্টার!

সাকিব আল হাসান রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব আজিম উদ্দীন মাষ্টার । তিনি রাজীবপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ক্যাটাগরিতে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে উপজেলা বাছাই কমিটি।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন বৃদ্ধি করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার সহযোদ্ধা একঝাঁক আদর্শ শিক্ষক ও গভর্নিং বডি’র সুদক্ষ সভাপতি এবং সদস্যদের নিয়ে। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের বদৌলতে ওই হাইস্কুলের শিক্ষার ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তিনি মানসম্মত শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে রুটিন কাজের পাশাপাশি বিভিন্নমুখী উদ্যোগী কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকেন। যে উদ্যোগগুলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তিনি ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন।

তিনি হাই স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম, ক্লাস রুটিন, ক্লাসরুম পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। তিনি নিজেই ভিন্ন ভিন্ন ক্লাসরুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্য এবং শিক্ষক মন্ডলীদের সাথে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় করেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নসহ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এর আগেও তিনি উপজেলা পর্যায়ে তিনবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আজিম উদ্দীন মাষ্টার  বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সব সময় চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। আমাকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার এ অর্জন আমার সকল ছাত্র/শিক্ষকসহ রাজীবপুরবাসীর জন্য উৎসর্গ করলাম।’

শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট ও গণআন্দোলনের মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার।

আজ বুধবার (১৩ জুলাই) শ্রীলঙ্কান পার্লামেন্টের স্পিকারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তাকে শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ৩৭.১ অনুচ্ছেদে নিয়োগের কথা জানিয়েছেন। তবে রাজাপাকসের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো কথা বলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি সামরিক বিমানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে মালদ্বীপ পালিয়ে যান বলে জানান দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তারা। বুধবার (১৩ জুলাই) সকালে মালদ্বীপে পৌঁছান তিনি। ভেলানা বিমানবন্দরে মালদ্বীপের সরকারি কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া, তার স্ত্রী ও এক দেহরক্ষীসহ চার যাত্রী নিয়ে সামরিক বিমান অ্যান্তোনভ–৩২ মঙ্গলবার মধ্যরাতে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের প্রশাসনকে দায়ী করে দেশটির মানুষ। কয়েক মাস ধরে তারা প্রতিদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের মতো মৌলিক জিনিসের ঘাটতির কারণে ভুগছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কাউকে বিচারের আওতায় আনা যায় না। নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পরে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা এড়াতে পদত্যাগ করার আগে গোতাবায়া বিদেশে পালিয়ে গেলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মুরাদনগরে তূণমূল আওয়ামীলীগ কর্তৃক ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা  প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্তৃক ঈদ পূর্ণমিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ ই জুলাই) বিকেলে উপজেলার চত্বরে ঈদ পূর্ণমিলনী ও আলোচনা সভার কুমিল্লা (উঃ) আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সদস্য শ্রী অশ্বিনী বাবুর সভাপতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন, প্রধান বক্তা ও সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার।

উপজেলার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের এর সঞ্চালনা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন-কুমিল্লার  উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তমাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজিব, (উঃ) জেলা সাবেক ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ গোলাম সারোয়ার চিনু, (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু নাছের, উত্তর জেলা সদস্য আব্দুল কাইয়ুম খসরু, (উঃ)আ: লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক রানা, উত্তর জেলা সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার, উওর জেলা কূষকলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী দত্ত, উপজেলা আ: লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি মোঃ জাকির হোসেন, বাঙ্গরা বাজার থানা আ: লীগের সভাপতি তৌহিদ এলাহি, কুমিল্লা উঃ জেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য সচিব রাজিব মুন্সী, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি মুরাদনগর  উপজেলার ঈদ পূর্ণমিলনীতে বক্তব্য তৃণমূল আওয়ামীলীগসহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠন নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা পালন করে দলীয় নেতা কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার আহবান জানান।

ঈদ পুনর্মিলনী সফল করতে আলোচনা সভায় যোগদান করেন উপজেলার ইউপি সকল চেয়ারম্যান তূণমূল আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাবের দেয়া বিবৃতিতে বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণকে ঈদ শুভেচ্ছা ও পাশাপাশি বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রেসক্লাবের পক্ষে থেকে উপজেলার পৌর শহরের গুহ রোডস্থ কার্যালয় থেকে এই বিবৃতি প্রকাশ করেন।

আজ রোববার সকালে পৌর প্রেসক্লাবের পক্ষে আজির উদ্দিন সিহাব সাধারণ সম্পাদক দেশে প্রবাসে অবস্থান রত সকলকে এই শুভেচ্ছা বার্তা পড়ে শুনান ‌ এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবেদ হোসেন তানভীর,সহ সভাপতি জবর আলী রানা, সহ সভাপতি শেখ সোহেলসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য বৃন্দরা।

আরো বলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে যেমন- স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনে তাদের স্মরণ করা হয় তেমনি আজ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় মাধ্যমে সকলের দোয়া নিয়ে এ পৌর প্রেসক্লাব কে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে।

দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ মনে করেন সদ্য উদ্বোধনকৃত স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশের সুষম অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পরিশেষে তারা জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। পৌর প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আরো অনেক দুর এগিয়ে চলুক এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা কাম্য।

কুলাউড়ায় সারের জন্য হাহাকার; ২-৫ টাকা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে গত ২০ দিন ধরে সার নেই। সারের জন্য এক ধরনের হাহাকার চলছে। আশপাশের ইউনিয়ন থেকে কেউ কেউ সংগ্রহ করছেন। সেখানে প্রতি কেজিতে আবার ২-৫ টাকা বেশী।কৃষি অফিস বলছে সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবের সাথে এই দাবির মিল নেই।

সোমবার সকালে হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা গ্রামে গেলে এই চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কৃষকের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার কারণে আমরা সার পাচ্ছি না।

হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা গ্রামের মোবারক আলী জানান, গত ১৯ জুন থেকে সার পাচ্ছি না।আউশে সার দিতে পারিনি। এখন রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পরে পাশের টিলাগাঁও ইউনিয়নের ডিলার সৈয়দ আলীর কাছ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে ৭ কে জি সার এনেছি।

কটারকোনা বাজারের কৃষক আরশ্বাদ আলী জানান, ১৮ টাকা করে সার সংগ্রহ করেছি।

হাজীপুর ইউনিয়নের সারের ডিলার হেদায়েত উল্ল্যা ডিজিটাল বাংলা নিউজ ডট কম কে জানান, গত ২৬ জুন আমি সারের চালান জমা দিয়েছি এখনো সার পাইনি।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী ও কুলাউড়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতিবেদক’কে বলেন, কুলাউড়ায় সারের কোনো সংকট নেই। তবে বিষয়টি জানান, খতিয়ে দেখছি।