রাণীশংকৈলে সাংবাদিক শিল্পীর বাবার ইন্তেকাল ও দাফন সম্পন্ন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাব (পুরাতনের) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম শিল্পীর বাবা নজরুল ইসলাম (৮৮) গত বুধবার বিকালে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন )। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৩ ছেলে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার উত্তর সন্ধ্যারই নিজ গ্রাম জামে মসজিদ সংলগ্ন কাঠাল বাগান মাঠে মরহুমের জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সাংবাদিক শিল্পীর বাবা নজরুল ইসলামের  মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা।

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁও জেলা অনলাইন প্রেসক্লাব, পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাব, পরিবারসহ রাণীশংকৈল উপজেলার আ.লীগ, বিএনপি’সহ নানা অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংকৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বড় ছেলে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনি উপস্থিত সকলের নিকট তার বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় রাণীশংকৈল আবাদ তাকিয়া কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ হিল বাকী হুজুরের পরিচালনায় দোয়া করা হয়।

পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

ডিবিএন ডেস্কঃ পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে ফেসবুক ও টিকটকে ভিডিও পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে জড়িত আরও এক তরুণ মাহদী হাসান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দুপুরে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান রাজধানীতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বুধবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে মাহদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করেছে এবং মাদরাসায় পড়াকালীন শিবিরকর্মী ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পরের দিন যখন সেতু উন্মুক্ত করা হয় তখন মাহদী রেঞ্জ দিয়ে সেতুর নাট-বল্টু খোলেন। আর সে নাট-বল্টু খোলার পরিকল্পনা করেই সেতুতে যান। যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নাট বল্টু খোলার কথা স্বীকার করেছে। তারপরও তাকে রিমান্ডে নিয়ে এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত থাকতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মাহদীসহ তার সঙ্গীরা সেতুর নাট খুলতে রেঞ্জ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে  জানিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান।

নওগাঁয় সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পৃথক পৃথক অভিযানে আটককৃত আসামীদের নিকট হতে পাওয়া নগদ টাকা ও মাদকের পরিমান এজাহারে কম দেখিয়ে উদ্ধারকৃত টাকা আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৮ টার দিকে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নওগাঁ সদর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের কামাল হোসেনের স্ত্রী বিউটি আক্তার (৪৫) কে আটক করে। এক নারী কস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে চার পুলিশ কর্মকর্তা এ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন এস আই মাহফুজার রহমান, এস আই আব্দুল মান্নান, এস আই সাইফুল ও এস আই আব্দুল মজিদ। অভিযানে মাদক ব্যাবসায়ী বিউটি আক্তারের বাড়ি তল্লাশি করে ২০ কেজি পানি ধারনের সাইজের দুই পাতিল ও একটি প্লাস্টিকের জারকিন ভর্তি চোলাইমদ সহ বিছানার নিচে হতে ৪০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

পরে পাতিলে রাখা চোলাই মদ বাড়ির বাহিরে ঢেলে ফেলে দিয়ে প্লাস্টিকের জারকিন ভর্তি চোলাই মদসহ ৪০ হাজার টাকা ও আসামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু এজাহারে মাত্র ৫ লিটার চোলাই মদ দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও জব্দ তালিকায় ৪০ হাজার টাকার কোন উল্লেখ নেই। এজাহারে উদ্ধারকৃত মদের পরিমান কম দেখিয়ে জব্দকৃত ৪০ হাজার টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া গত ৭ জুন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় আরজি নওগাঁ লাটপাড়া মোড়ে স্টার মায়া গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ২১ জন জুয়ারীকে আটক করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ওসি তদন্ত রাজিবুল ইসলাম, ওসি অপারেশন মোঃ আব্দুল গফুর, এস,আই নাজমুল হোসেন, এস,আই হানিফ, এস,আই কৃষ্ণ, এস,আই হুমায়ুন। এসময় জুয়ার বোর্ড থেকে ২১ জন জুয়ারীদের নিকটে থাকা ২ লক্ষাধিক টাকা জব্দ করা হয়। কিন্তু মামলায় মাত্র ১৪,৮৩৯ টাকা জব্দ দেখিয়ে বাকি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে।

চোলাই মদসহ আটককৃত বিউটি আক্তারের মেয়ে ফাল্গুনী আক্তার বলেন, ঈদের পর ছোট বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ৪০ হাজার টাকা বুর‍্যো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিয়ে ঘরে বিছানার নিচে রেখেছিলাম। তল্লাশির সময় এস আই মাহফুজার ওই টাকা নিয়ে নেয়। ফেরত দেওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়নি। আর এস আই মান্নান মাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করেন।

প্রতিবেশী লিপি আকতার বলেন, পুলিশ বাড়িতে তল্লাশী করে ২০/২৫ কেজি পানি ধারনের দুই পাতিল ও এক কন্টেনার চোলাই মদ বের করে বাহিরে আনে। পরে পাতিলেরগুলো মাটিতে ঢেলে ফেলে দেওয়া হয় এবং কন্টেনার সঙ্গে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত এস,আই মাহফুজার রহমান বলেন, শুক্রবারে কুশাডাঙ্গা গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী বিউটী বেগমকে ৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করা হয় সেখানে কোন টাকা উদ্ধার হয়নি।

এস,আই আব্দুল মান্নান বলেন, বিউটীর বাড়ী থেকে টাকা নেওয়ার দাবী সঠিক নয়। আসামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি জন্য আমাদের বিরুদ্ধে এসব গুজব রটাচ্ছে।

শহরের লাটাপাড়া মহল্লায় জুয়া বোর্ডে পুলিশের অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে আটকের পর তাঁদের কাছে থাকা জুয়া খেলার প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা জব্দ করা হয়। এরপর প্রায় ১ ঘন্টা তাঁদেরকে ওই গ্যারেজের ভেতর আটক করে রাখা হয়। ওই সময় পুলিশ বাহিরে এসে স্থানীয়দের কাছে সাক্ষী হবার জন্য অনুরোধ করে। কয়েকজনকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে সাক্ষী বানিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়। তবে কত টাকা জব্দ করেছে তার কোন পরিমান সাক্ষীদের দেখানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটক জুয়ারীদের একজন বলেন, জুয়াবোর্ডে পুলিশ এসে প্রথমেই আমাদের যার কাছে যত টাকা ছিলো তার সম্পূর্ণ জমা নিয়েছে। মারধরও করা হয়েছে আমাদের। আমার নিজেরই পাঁচ হাজার টাকা ছিলো। বোর্ড থেকে দুই লক্ষ টাকারও বেশি জব্দ করা হয়েছে। অথচ আমাদের আদালতে পাঠানোর পর জানলাম তাঁরা মাত্র ১৪ হাজার ৮৩৯ টাকা জব্দ দেখিয়েছে। এটা অভিযানের নামে পুলিশদের পকেট ভর্তির কৌশল ছাড়া আর কিছুই না।

জুয়ার মামলার বাদী এস,আই হুমায়ুন কবির বলেন, ৭ জুন আরজী নওগাঁয় অভিযানের সময় ওসি তদন্তস্যারসহ ৭/৮ জন অফিসার উপস্থিত ছিলাম। আমাদের সামনে পাবলিক স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে টাকা গণনা করে জব্দ তালিকা করা হয়েছে। এখানে টাকা আত্নসাতের কথা সঠিক নয়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মাদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান বলেন, এই দুটি ঘটনার মামলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবো। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিবিয়ায় মরুভূমি থেকে ২০ মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লিবিয়ার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ জুন) রাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায় মঙ্গলবার (২৮ জুন) তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার একজন ট্রাক ড্রাইভার মৃতদেহগুলো দেখতে পান এবং পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনাস্থলটি কুফরা থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও শাদের সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কুফরা অ্যাম্বুলেন্সের প্রধান ইব্রাহিম বেলহাসান ফোনে জানিয়েছেন, গত ১৩ জুন মোবাইল ফোনে শেষ কলের পর অর্থাৎ প্রায় ১৪ দিন আগে দলটি মরুভূমিতে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মৃতদেহগুলোর মধ্যে দু’জন লিবিয়ান এবং অন্যরা চাদ থেকে লিবিয়ায় আসা অভিবাসী।

লিবিয়ার এই অঞ্চলে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা নিয়মিতই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ফারেনহাইট) ওপরে দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে একটি পিকআপ ট্রাকের কাছে মরুভূমির বালিতে পচনশীল মৃতদেহগুলো দেখা যায়।

উল্লেখ্য, মূলত উন্নত জীবনের আশায় মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগর জুড়ে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে অভিবাসীরা। কিন্তু সাহারা মরুভূমিসহ বিপজ্জনক এই রুট পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় অনেকেই।

 

নেত্রকোণায় বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগ

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মদন ও খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব কামরুল আহসান সরকার রাসেল।

গত (২৮ জুন) মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মদন ও খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ঔষধসহ ১ হাজার বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সুমন আহমেদ শান্ত বাবু, এস এম আলমগীর হোসেন, আহবায়ক কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ মালম, কাইয়ুম সরকারসহ গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আরো অনেকে।

দীর্ঘ ১০ বছর পর চাপাতা চুরির মামলায় সাজা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: প্রায় ১০ বছর আগের ১৪ হাজার কেজি চা পাতা চুরির ঘটনায় করা দুটি মামলায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সহ ছয়জনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুমিননেছা এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের তৎকালীন জিএম শফিকুল ইসলাম, সহকারী ম্যানেজার মেহেদী হাসান ও কোহিনূর আলম, ফ্যাক্টরি হেড ক্লার্ক আব্দুল হক।

এ ছাড়া চোরাই চা পাতা কেনার জন্য শ্রেষ্ঠ ভূমিকায় শ্রীমঙ্গলের আজিজ খাঁন এবং চা পাতা বহনের জন্য শায়েস্তাগঞ্জের আক্কেল আলীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে চা পাতা সংরক্ষণকারী চট্টগ্রামের মনিরুজ্জামান মিন্টু মিয়াকে খালাস দেন বিচারক।

মামলার এজাহার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট হা-মীম গ্রুপের পরিচালনাধীন লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের হাজীনগর ফ্যাক্টরি থেকে এক ট্রাক ও বাগানের গুদাম থেকে ২৬ আগস্ট আরো এক ট্রাক চা পাতা চুরি হয়। দুই ট্রাকে চা পাতার পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার কেজি।

বাগান মালিকের পক্ষে সুদীপ চক্রবর্তী ও রেজাউল করিম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাত জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশের অভিযানে মনিরুজ্জামান মিন্টুর বাসা থেকে ১১ হাজার কেজি চা পাতা ও ফ্যাক্টরির হেড ক্লার্ক আব্দুল হকের বাড়ি থেকে চা পাতা বিক্রির নগদ দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুই মামলার রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় সাত আসামি আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজাপ্রাপ্ত ছয় জনকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জয়নুল হক, ইকবাল হোসেন, সঞ্জিত পাল ও গোবিন্দ মোহন পাল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দুই মামলার সাত আসামির মধ্যে ছয় জনের প্রত্যেককে একেক মামলায় দুই বছর করে চার বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। এদিকে আসামি মনিরুজ্জামান মিন্টুকে মামলাদ্বয় থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।’

রাণীশংকৈলে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ সদস্য পদে ২০১ জনের নমিনেশনপত্র জমা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় অসমাপ্ত ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নমিনেশন দাখিলের শেষদিন ২৮ জুন এ ৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী মোট ২০১ জন তাদের নমিনেশনপত্র নির্বাচন অফিসে জমা করেছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৪৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৩৮ জন।

জানাগেছে, চেয়ারম্যান পদে হোসেনগাঁও ইউনিয়নে, নমিনেশনপত্র জমা করেছেন আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিক প্রার্থী এবং ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি এমজি গোলাম রব্বানী, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মমতাজ আলী মাস্টার ও আদিবাসী নেতা সুজন মুর্মু।

বাচোর ইউনিয়নে, আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক প্রার্থী ও ওই ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক জীতেন্দ্রনাথ বর্মন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি আজিজুল ইসলাম, সতন্ত্র প্রার্থী আকতারুল ইসলাম শালমান শাহ, জ্যোতিষ চন্দ্র রায় মাস্টার ও আরজুনা বেগম।

নন্দুয়ার ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনিত নৌকা প্রতিক প্রার্থী ও ওই ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি আবু সুলতান, ইউনিয়ন আ.লী সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ইকবাল, ইউনিয়ন আ.লীগ সহ-সভাপতি দিগেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আ.লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বাকী, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি জমিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা আলম এবং জামাত সমর্থিত নেতা শহিদুল্লাহ হাফেজ।
এদিকে আওয়ামী লীগ এই ৩টি ইউনিয়নে দলীয় প্রতিকে মনোনয়ন দিলেও দুটি ইউনিয়নে আ.লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় চলছে রমরমা খোস গল্প এবং বিপাকে পড়েছে আ.লীগের নেতাকর্মিরা। অপরদিকে বিএনপি দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে না গেলেও তাদেরও তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে ৪ জন প্রার্থী।
উপজেলা নির্বাচন অফিসসূত্রে জানা গেছে আগামী ২৭ জুলাই নির্বাচন উপলক্ষে ৩ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নমিনেশন জমা করেছেন ১৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪৪ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৩৮ জন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নমিনেশন যাচাই-বাছাই হবে ৩০ জুন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ জুলাই প্রতিক বরাদ্দ ৮ জুলাই এবং ভোট গ্রহণ ২৭ জুলাই। এ উপজেলায় এই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলেও নির্বাচন অফিসার জানান।

বন্যায় শ্রমজীবীদের হাহাকার চারিদিকে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বন্যায় হাওর পাড়ের শ্রমজীবীরা কর্মহীন। ঘরবাড়ি নেই। চাল নেই, ভাত নেই। চুলা নেই, পানিও নেই। শুধুই নেই আর নেই। আছে যা তা কেবল বন্যার পানি আর হাহাকার। গতকাল হাকালুকি হাওর তীরের বেলাগাঁও, শাহপুর, সাদিপুর, মিরশংকর, মহেশঘরি, কালেশার, কানেহাত ও বাদে ভূকশিমুল গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভে কষ্টে তাদের দুর্ভোগ, দুর্দিন আর চলমান বন্যার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন। জানালেন তাদের চরম অসহায়ত্বের কথা। বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাকালুকি হাওর পাড়ের শ্রমজীবীরা। তারা জানালেন চলমান এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বন্যা শুরু হওয়ার প্রায় ১২ দিন। কিন্তু পানি কমছে খুবই কম। উজানের পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টি থেমে থেমে অব্যাহত থাকায় জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বন্যা দুর্ভোগ।

আবহাওয়ার অবস্থা এই ভালো এই খারাপ। এমন অবস্থায় বন্যা পরিস্থিতির কখনো কিছুটা উন্নতি হলেও আবার তা অবনতি হচ্ছে। হাকালুকি হাওর তীরের তিন উপজেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা প্রায় ২৫টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ঘরবাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয় এখনো পানিবন্দি। প্রায় ৩ লাখ মানুষ বানের পানিতে রয়েছেন দুর্দশায়। ঘরবাড়ি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। হাওর তীরের কৃষি আর শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন থাকায় নেই আয় রোজগারও। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে তারা এখন অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। আরও বিপদ তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে। চরম অসহায় বানভাসিরা রাত পোহালেই ত্রাণের আশায় পথের দিকে চেয়ে থাকছেন। কিন্তু তারা হতাশ হচ্ছেন। কারণ তারা দুর্দিনে পাচ্ছেন না আশানুরূপ সাহায্য। সরকারি তরফে যে সহযোগিতা আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না।

আর এবারের বন্যায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে কম। জানা যায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নদী তীরবর্তী এলাকায় অনেকটা উন্নতি হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে হাওর তীরবর্তী এলাকায়। হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওর তীরের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর ও মৌলভীবাজার এই পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। প্রায় ২৫টি ইউনিয়নে বন্যা জলাবদ্ধতায় স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বানের পানি কিছুটা কমলেও তা স্থির থাকছে না। প্রতিদিনই কম বেশি বৃষ্টি হওয়ায় তা আগের অবস্থায় চলে আসছে। জানা যায়, এ পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার। এ ছাড়া দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত থাকায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক মৎস্য খামার। বন্যায় মৌসুমী সবজি ও আউশ ধানেরও ক্ষতি হয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্কাউটস এর সম্পাদক হলেন শিক্ষক-সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশ স্কাউটস ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সাধারণ  সভায় ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাসের সভাপতিত্বে  সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার সামছুল আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী সরকার, কুড়িগ্রাম জেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ফারুক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল হাই রকেট, ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজু , সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমানসহ উপজেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৬ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সম্পাদক ছাড়াও সভাপতি, কমিশনার সহ ২৮টি পদে উপজেলা স্কাউটের কর্মকর্তা নির্বাচিত করা হয়।

বন্যা কবলিত এলাকায় ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: হাকালুকি হাওরপারের পশ্চিম গগড়া গ্রামের বাসিন্দা অপর্ণা রানী দাসের বাড়ির আঙিনা আর রান্নাঘরে বন্যার পানি উঠেছে। পানি মাড়িয়ে তিনি বাড়ির কাজকর্ম করেছেন। এখন তার পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে ঘা হতে শুরু করেছে। একই গ্রামের ভ্যানচালক অনন্ত দাসের ঘরে ও বাড়ির আশপাশে বন্যার পানি উঠেছে। বন্যার পানি মাড়িয়ে তিনি চলাচল করছেন। তার পায়ে গুটি বসন্তের মতো রোগ হয়েছে।এই দাগ কিভাবে হলো তার কারণ জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, বন্যার পানিতে সব কিছু ডুবে গেছে। পানিতে পচা দুর্গন্ধ। এখন পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। গায়ে পানি লাগলে চুলকায়। আর বসন্তের মতো দাগও পানি লাগায় হয়েছে।

সরকারিভাবে কোনো ওষুধ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো ওষুধ এখনো পাইনি।’শুধু অর্পণা রানী বা অনন্ত দাস নন, তাদের মতো মৌলভীবাজারের বড়লেখার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ এখন পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকার মানুষ কোনো চিকিৎসাসেবা না পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মেডিক্যাল টিম বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিপাত না হলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাকালুকি হাওরে আকস্মিকভাবে বন্যা দেখা দেয়। এতে বড়লেখা উপজেলার ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে গেছে। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। বন্যার পানিতে এসব এলাকায় নলকূপ তলিয়ে রয়েছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকে বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বন্যার পানিতে গোসল করছে, পান করছে। ফলে তারা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পর থেকে তাদের কারো জ্বর উঠেছে, কারো পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা হয়েছে, কারো আবার পায়ে গুটি বসন্তের মতো রোগ হয়েছে।তালিমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য গগড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজিত দাস বলেন, বন্যায় তাদের এলাকা তলিয়ে গেছে। তাদের ঘরে পানি উঠেছে। তারা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। পানি পায়ে লেগে তার পায়ে বসন্তের মতো দাগ হয়েছে। তাতে  চুলকায়। তিনি বলেন, ‘শুধু যে আমার এই রোগ হয়েছে তা নয়, এলাকার অনেকে আছে তাদের কারো পা ঘা হচ্ছে, কারো শরীরের বসন্তের মতো দাগ হচ্ছে। কেউ কেউ ডায়রিয়া রোগে ভুগছে।’

বড়লেখা উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রেসহ ১৫টি নলকূপের প্ল্যাটফর্ম উঁচু করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। যেখানে দরকার সেখানেই বিতরণ করা হচ্ছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় আমাদের মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। পানিবাহিত রোগের ঔষুধের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ এলে আমরা মানুষের মাঝে ওষুধ বিতরণ করব।’