লোকালয়ে মগডালে অজগর

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় গাছের ডালে একটি অজগর সাপের দেখা মিলেছে। শনিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমতৈল গ্রামের দেবাশীষ দাশের বাড়ীর একটি আগর গাছের ডালে অজগর সাপটিকে দেখা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় পাহাড়ি ঢলের সাথে সাপটি এখানে ভেসে এসেছে। পরে খাদ্যের সন্ধ্যানে লোকালয়ে উঠে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। শনিবার রাত হয়ে পরায় সাপটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্ধার করতে পারেনি।

তবে রবিবার (২৬ জুন) দুপুরে দেবাশীষ দাশ জানান, রাতের কোন এক সময় অজগর সাপটি আগর গাছ থেকে নেমে অনত্র চলে গেছে। সকাল থেকে আমরা খোঁজ করে সাপটিকে আর পাইনি।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিকেল থেকে স্থানীয় একজনের একটি ছাগল পাওয়া যাচ্ছিল না। এলাকাবাসীর ধারনা অজগর সাপটি ছাগলটিকে খেয়ে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে সাপটিকে উদ্ধার করার জন্য ঘটনাস্থলে আমরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের’কে পাঠিয়েছিলাম। পরে সন্ধ্যা হয়ে পরায় সাপটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্ধার করতে পারেনি। সকালে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সাপটি এ এলাকায় আর নেই।

পদ্মা সেতুতে নাট-বল্টু খোলা সেই টিকটকার যুবক আটক, যা জানালো সিআইডি

ডিবিএন ডেস্কঃ পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে টিকটক বানানো সেই যুবককে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির সাইবার ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।

আজ সোমবার (২৭ জুন) মালিবাগে অবস্থিত সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেছেন, পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জেনেছি, এত বড় একটা স্থাপনার নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা যাবে না। এতে বোঝা যায় নাট-বল্টু হাতে দিয়ে খোলা হয়নি, নাট-বল্টু খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ আরো বলেন, পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলা ওই যুবকের নাম বায়েজিদ তালহা। তার বাড়ি পটুয়াখালীতে। তিনি রাজধানীতে বেসরকারি চাকরি করেন।

প্রসঙ্গত, Kaisar71 নামক একটি টিকটক অ্যাকাউন্টের ৩৬ সেকেন্ডের সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক পদ্মা সেতুর কংক্রিটের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লোহার রেলিংয়ের দুটি নাট খুলছেন। এই নাট দুটি দিয়ে লোহার রেলিংটি আটকানো রয়েছে কংক্রিটের রেলিংয়ের সঙ্গে। এরপর সেই যুবক নাট দুটি বাঁহাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুলে ডানহাতে নেন এবং আবার বাঁহাতের ওপর রাখেন।

ভিডিও ধারণকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই লুজ দেহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দেহ।’ নাট হাতে নিয়ে বায়েজিদ বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু, আমাদের… পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’

এ সময় পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, নাট খুলে ভাইরাল করে দিয়েন না।

বায়েজিদের টিকটক অ্যাকউন্টে ভিডিওটি আপলোড করার পর ফেসবুকেও সেটি ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ওই যুবকের এমন কাণ্ড দেখে অনেকেই তার শাস্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গেল শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের সরিয়ে দেন। পরদিন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। আর এরই ফাঁকে আলোচিত ভিডিওটি করেন বায়েজিদ।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক বন্যায় বিপর্যস্ত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার (২৬ জুন) দুপুরে শুরু হওয়া মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে বড়লেখা উপজেলার ৯নং সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি ও ৭নং তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা ও ইসলামপুরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০০ পানিবন্দি অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বন্যা মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন আইন-শৃঙ্খলা রাক্ষায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে জেলা পুলিশ মৌলভীবাজার। বন্যার্ত মানুষেকে সহায়তা, দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য ‘বন্যা মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’।

ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী, ৭ হাজার ৯শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ঔষধসামগ্রী ও বিভিন্ন সময়ে ১০ হাজার বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার সেই রাত অব্দি বিতরণ করা হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

ফুলবাড়ীতে বন্যা কবলিত প্রান্তিক পশু পালনকারীদের মাঝে গো খাদ্য বিতরণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যা কবলিত প্রান্তিক পশু পালনকারীদের মাঝে ত্রাণ হিসেবে গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৬০ জন প্রান্তিক পশু পালনকারীদের মাঝে জনপ্রতি ২৫ কেজি গো খাদ্য বিতরণ করা হয়।

এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুল হাসান, বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু, ভাঙ্গামোর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শেখ, শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিয়া সোহেল, ফুলবাড়ী সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বুলবুল, সাঃ সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিক মিলন, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রকোণায় ঋণের আতঙ্কে ভুগছেন মৎস্য খামারিরা

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় মৎস্য খামারগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে পুকুর থেকে বেরিয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার নানা প্রজাতির মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য খামার ঘিরে গড়ে ওঠা কলা বাগান, সবজি বাগানেরও।

বন্যার কারণে নেত্রকোণায় মোট ২৬হাজার ৪১৭টি পুকুর, দীঘি, মৎস্য খামারের সম্পুর্ণ মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। মৎস্য চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। কোন কোন খামারী ব্যাংক সহ বিভিন্ন পর্যায়ে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিল। স্বপ্ন বোনছিলো তাদের উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে এবং তাদের সমস্ত ঋণ শোধ হবে। কিন্তু আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন। কারো কারো স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। নিজেদের বসতঘরেও উঠেছিল পানি। বর্তমানে পানি নেমে গেলেও এর ক্ষতচিহ্ন নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছে মৎস্য চাষীরা। এর মধ্যেই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে ঝুলে আছে ব্যাংক ঋণ। তারা এখন দিশেহারা। বুঝে উঠতে পারছেন না কিভাবে এই ঋণ শোধ করবেন।

নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে নিপা এগ্রো ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী মোঃ রোকনুজ্জামান খান খোকনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তিনি ৭০ কাটা পুকুরে পাবদা, তেলাপিয়া, শিং, রুই, কাতল সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করেছিলেন। মাছ প্রায় বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। বিক্রি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আশা করছিলেন প্রায় ৩০লক্ষ টাকার মাছ ও পোনা বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু বিধিবাম, এর আগেই আকস্মিক বন্যায় সব মাছ ভেসে গেছে। পুকুরের চারপাশে কলা ও সবজি চাষ করেছিলেন। সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন ১২ লক্ষ টাকা। ভেবেছিলেন মাছ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। এখন ভেবে পাচ্ছেন না কিভাবে এই ঋণ শোধ করবেন।

আরো দু’জন মৎস্য খামারী মোঃ আরিফুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান। তারা দু’জন মিলে বাউসি, আসমা ও সাহতা ইউনিয়নে মোট ৩৪ একর পুকুরে পাবদা, গুলশা, তেলাপিয়া, সিং, রুই, কাতল, কার্ফু ও সিলভার মাছের চাষ করেছিলেন। তারা জানান, কিছু কিছু মাছ তারা বিক্রি শুরু করেছিলেন। ২ কোটি টাকার উপরে মাছ বন্যার কারণে খামার থেকে বেরিয়ে গেছে। তারা প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফা ব্যাংক থেকে মাছ চাষের জন্য তারা ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এই ঋণ তারা কবে কিভাবে শোধ করতে পারবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

বাউসি ইউনিয়নের অন্য এক মৎস্য চাষী মোঃ ইলিয়াছ তালুকদার জানান, আমরা এখন ঋণের আতঙ্কে আছি। সব শেষ হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম ঘুরে দাঁড়াবো। সে আশা তো এখন বাদ। কিভাবে কি যে হবে! কৃষি ব্যাংক থেকে ১১ লক্ষ টাকা  ঋণ নিয়ে ছিলাম। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্য জায়গা থেকেও ঋণ নিয়েছি। মোট ৩০ লক্ষ টাকা ফিসারিতে ইনভেস্ট করেছিলাম। বন্যার কারণে আমাদের চাষের মাছ সব পুকুর থেকে চলে গেছে। পাঁচটি পুকুরে তেলাপিয়া, পাবদা ও গুলশান মাছ চাষ করেছিলাম। ভাবছিলাম বিক্রি করে ঋণ শোধ করে লাভবান হব। এখন দেখছি ঋণ শোধ করতে করতেই জীবন পার করতে হবে। ঋণশোধের আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। ব্যাংক যদি বর্তমান পরিস্থিতি আমলে নিয়ে আমাদেরকে একটু দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ দেয় তাহলে খুব ভালো হবে।

জেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর জানিয়েছেন, বন্যার কারণে জেলার ১৫ হাজার ৮২৬ জন মৎস্য চাষী ও খামার মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মোট ২৬ হাজার ৪১৭টি পুকুর, দীঘি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আয়তন ৩ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৯৪ হেক্টর। ভেসে-যাওয়া মাছ ও পোনার পরিমান যথাক্রমে ৮ হাজার ২৪৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন ও ৩ হাজার ৭৪১ দশমিক ৮৯ লক্ষ। ভেসে-যাওয়া মাছ ও পোনার মূল্য যথাক্রমে ৭৬৭ দশমিক ৫৪ লক্ষ টাকা ও ২৩০ দশমিক ৩২ লক্ষ টাকা। অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ১৯৬.৫৪ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ১৫৭ দশমিক ৭৭ লক্ষ টাকা।

দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় বন্যায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গত দুই দিন ধরে দুই উপজেলায় বৃষ্টি না হলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কবে খুলবে, সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দুই উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরাত সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জুন থেকে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়ে যায়। কুলাউড়ার ভূকশিমইল, কাদিপুর ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা প্লাবিত। এ ছাড়া ১২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় পানি উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দী লোকজন ঠাঁই নিয়েছেন।

এ দিকে জুড়ীর সদর জায়ফরনগর, পশ্চিম জুড়ী ও গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা বন্যাপ্লাবিত। সেখানেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

রোববার দুপুরে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, কুলাউড়ার রাবেয়া আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে হাঁটুসমান পানি। প্রতিষ্ঠানের একটি ভবনের দোতলায় আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০টি পরিবার উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আবদুস ছালাম বললেন, তিন দিন আগে সামান্য পানি কমেছিল। তবে এরপর থেকে আর কমছে না। নিচতলার শ্রেণিকক্ষ ও অফিসেও এখনো হাঁটুসমান পানি। কবে যে এ দুর্দশা কাটবে, সেটা নিয়ে সবাই চিন্তিত।

কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখায়ের হোসেন ভূঁইয়া জানান, প্রতিদিনই বন্যা প্লাবিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে কোথাও পানি কমার খবর মেলেনি।

দুই উপজেলার বন্যা প্লাবিত বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের এলাকায় বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানি হাকালুকি হাওরে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে তা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কুশিয়ারা নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু, কুশিয়ারা নদীতে এখন পানি বেশি। এ কারণে হাওরের পানি ধীরগতিতে কমছে। এ কারণে দুই উপজেলায় বন্যা প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামছে না।

এদিকে জুড়ীর বেলাগাঁও, শাহপুর, নিশ্চিন্তপুর, দীঘলবাগ, তালতলা-খাকটেকা ও হরিরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ-ছয় ফুট পানি দেখা গেছে। এর মধ্যে বেলাগাঁও, শাহপুর ও হরিরামপুর বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বেলাগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানটি হাকালুকি হাওর ঘেঁষা এলাকায় পড়েছে। এলাকার সব শিক্ষার্থীদের বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থীর পরিবার বিদ্যালয়ের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

জুড়ীর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া তিনি তার বক্তব্যে বললেন, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো পানি আছে। পানি পুরোপুরি না নামলে সেখানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। পানি নেমে গেলে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের উদ্দেশ্য মূলত ফিলিস্তিনকে কোণঠাসা করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের এ ‍উদ্দেশ্যের কথা জানায়।

গতকাল রোববার (২৬ জুন) গাজায় এক বক্তৃতায় হামাসের গণমাধ্যমবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা তাহির আল-নুনু জানান, ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য যে ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা ব্যর্থ হবে এবং অবৈধ এ রাষ্ট্রের পতন হবে। পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এর নাগরিকদের সম্পদ এবং এখানকার এক টুকরো জমিও দখলদার ইসরাইলের নয়। কাজেই ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ন্যায়সংগত অধিকার আদায় করে ছাড়বে।

জুলাইয়ের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইল ও সৌদি আরব সফর করবেন বলে কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আরব দেশকে নিয়ে ইরানবিরোধী সামরিক জোট গঠনের দাবি জানানোর পর বাইডেনের এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর মতে, সফরে ইসরাইলকে আরব দেশগুলোর আরও কাছে আনার একটি ‘কৌশলগত সুযোগ’ সৃষ্টি হতে পারে। এ সম্পর্কে হামাস নেতা নুনু বলেন, কিছু আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তার ফলে ফিলিস্তিন স্বাধীন করার প্রতিরোধ আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয় ইসরাইল। এরপর সুদান ও মরক্কো তেল আবিবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানায় সৌদি আরব। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী যে আরব দেশটি তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সেটি সৌদি আরব।

 

ভূরুঙ্গামারীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রাতের আঁধারে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে নৃশংসভাবে এক যুবককে ‍ হত‍্যা করা হয়েছে। ওই যুবকের নাম ফিরোজ আলম (১৮)। সে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গালেরকুটি গ্রামের মুল্লুক চানের ছেলে। শনিবার (২৫ জুন) মধ‍্যরাতে এ ঘটনাটি ঘটে। রবিবার (২৬ জুন) সকালে পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন‍্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করে। এঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন‍্য দুইজনকে আটক করেছে কচাকাটা থানা পুলিশ।

বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার রাতে ফিরোজ আবুল মোড়ে তার গালামালের দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাওয়ার পথে জোনাব আলীর বাড়ির সন্নিকটে বাঁশঝাড়ের কাছাকাছি পৌছলে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত একাধিক ব‍্যক্তি তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সে রক্তাক্ত যখম অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। মাটিতে পড়ে থাকাবস্থায় পথচারীরা দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককে ডেকে আনলে তিনি তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ব্যাপারে কচাকাটা থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রোভিং সেমিনার’ অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে রবিবার (২৬ জুন) সকালে কৃষি ভবন মিলনায়তনে রোভিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য প্রযুক্তি উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায়’ কৃষিই সমৃদ্ধি, বদলাচ্ছে জলবায়ু, বদলাচ্ছে কৃষি,বাঁচতে হলে করতে হবে লড়াই দিবানিশি ‘ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান শেফালী বেগম, উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম প্রমূখ।

সেমিনারে কৃষকদের বন্যা, খরা, ঠান্ডা, গরম, বজ্রপাত, কিংবা জ্বলোচ্ছাস থেকে ফসল বাঁচিয়ে উৎপাদনের জন্য অনলাইনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার প্রয়োজনীয় ধারণা প্রদানসহ কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক অপারেশনাল কার্যক্রম যেমন ফসল আবহাওয়া পঞ্জিকা, বালাই আবহাওয়া পঞ্জিকা, সিজনাল ও সাবসিজনাল পূর্বাভাস, সয়েল ময়েশ্চার নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রকল্পের গুরুত্বারোপ তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) নইমুল হুদা সরকার।

কেন এই অসভ্যতা?

প্রথম দিনেই পদ্মা সেতুতে হিসু করার এই অসভ্যতা কেন হলো? এ কি ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত? কারা এই পরিকল্পনা করেছে এবং কেন?

একটি বিষয় এখন পরিস্কার যে দেশে এক শ্রেনীর মানুষ এই সেতু নির্মান চায়নি। বিশ্ব ব্যংকের টাকা ফেরৎ নিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। কানাডার আদালত যখন দুর্নীতির প্রমান পায়নি বলে মামলা খারিজ করে দেয় তখন থেকেই কিছু নেতা এবং ব্যক্তি অবিরাম মিথ্যাচার করেছে পদ্মা সেতু নিয়ে। এখনো তারা দাবী করে দুর্নীতি হয়েছে এই সেতু নির্মানে। সরকার সেতুর হিসাবও প্রকাশ করেছে। তবুও মিথ্যাচার বন্ধ হয়নি। দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে দাবী করতে চাই, কোথায়, কিভাবে এবং কত টাকা দুর্নীতি হয়েছে তা জনস্মমুখে প্রকাশ করুন। কারা কারা এই দুর্নীতিতে জড়িত (জানা থাকলে) তাদের নামও প্রকাশ করতে হবে। আইনও তাই বলে। বাদীকেই সত্যটি প্রমান করতে হবে।

সেতু নির্মিত হওয়ায় যাদের অন্তরে কষ্ট অনুভুত হচ্ছে, তারাই সেতুর উপর হিসু করার দু:সাহস দেখিয়েছে। বিষয়টি নেহায়েৎ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল হবে। তদন্ত করে মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠিন সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। পদ্মা সেতু শুধু সেতু নয় ১৭ কোটি বাঙালীর সাহসিকতার প্রতীক। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অন্যতম অর্জন। কারও কারও অন্তরে জ্বালা ধরালেও সত্যটি হলো শেখ হাসিনাই এই সেতুর রূপকার। দেশ যে ভাবে উন্নত হয়েছে তারও কৃতত্ব শেখ হাসিনার। যারা প্রতিহিংসার অনলে পুরে যতই চিৎকার করুন, দেশের মানুষ পদ্মা সেতু পেয়ে আনন্দিত। হিসু করে বা নাট বল্টু খুলে এই সেতুর কিছুই করা যাবেনা। দেশের ১৭ কোটি মানুষ এই সেতুকে রক্ষা করবে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।