সংবাদকর্মীর উপর হামলা ও মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের নিন্দা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সেন্ট্রাল রোডস্থ লালকিল্লা হোটেল এর সামনে গত ২৫ এপ্রিল রাতে দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার ও খামার ব্যবসায়ী কাজী রায়হান (২৬) এর উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মশাহিদ আহমদসহ নেতৃবৃন্দরা।

সাংবাদিক নেতারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান‌। হামলাকারীদের বিরুদ্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করার সিদ্বান্ত গ্রহন করা হয়।

উক্ত ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা। অবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ শে এপ্রিল মৌলভীবাজার সদর থানাধীন সেন্ট্রাল রোডস্থ লালকিল্লা হোটেলের সামনে রাত আনুমানিক ১২টার সময় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুত্বর আহত হন কাজী রায়হান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত রায়হানকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করেন।

এ ঘটনায় আহত রায়হান এর মা সৈয়দা বেগম (৫৫) বাদী হয়ে কনকপুর গ্রামের জুয়েল খান, এনায়েত খাঁন ও  ছায়েম মিয়া, ফরিদ মিয়া ও শিবলু মিয়াসহ আরো ৩/৪জনকে আসামী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা ( নং- ৩৫, ২৮,৪,২০২২ ) জি.আর-১২৭) দায়ের করেন। এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি সদর মডেল থানা পুলিশ। গুরুতর আহত রায়হান মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সরল, মনা ও চিরকুট!

ছোট গল্পঃ গপ্পে- শ্যামা!

গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে খুব সহজেই বৈশাখী বাসের সিট পেয়ে গেলাম সচারাচর বৈশাখী লোকাল বাস হওয়ায়, বাসের সিট পাওয়া যায় না আমার গন্তব্য বাড্ডা আমার বাসায় ফেরা।
কি অদ্ভুত বৈশাখী বাসে বসে আছি আবার এখন বৈশাখ মাস চলছে বৈশাখ মাসে বৈশাখী বাসে ভ্রমণ করা বেশ লাগছে তো, আবার রমজান মাস শেষ মানে কাল পবিত্র ঈদ ঊল ফিতর।
বাসে বসে বই পড়ে সময় কাটানোর জন্য আমার পুরানো অভ্যাস তাই ব্যাগ থেকে বইটা বের করতেই একটা চিরকুট পরে গেলো, চিরকুটটা হাতে নিয়েই থোমকে গেলাম।
মনার হাতের লেখা চিরকুট!
সরল-!
তোমার নামটা কিভাবে সরল রাখা হয়েছে সেটা জানতে চাইনি কখনও কিন্তু তুমি যে কখনোই সরল ছিলে না তা আমার চেয়ে পৃথিবীর কেউ যে জানে না, তোমার সরলতার আড়ালে যে কতশত জিলাপির প্যাঁচ তা তোমাকে প্রথম থেকেই জানতাম। কিন্তু কখনও বলিনি যেমন করে তুমি নিজেকে লুকিয়েছো আজ পর্যন্ত আমার থেকে।
ভেবেছিলাম তোমার সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না, তবুও দেখ হয়ে গেল, সরল তুমি শুধু নিজেকেই ভালোবেসেছো মনা কে নয়, আর মনা কে তো নিঃলজ্জের মত গলা চেপে মেরে ফেলেছো যেদিন মনা কে ছেড়ে নিরবে পালিয়ে গিয়েছিলে। সরল কে ছাড়া তো মনার কোন অস্তিত্ব নেই, সে মনা কি করে বেঁচে থাকে বল, যে মনা কে জীবন কি, কেমন আর কতটা সুন্দর শিখিয়েছিলে, বুঝতে শিখিয়েছিলে প্রেম আর ভালোবাসা কিভাবে মানুষকে বাঁচতে শেখায় সেই সরল, হ্যাঁ তুমিই মনা কে ভালোবাসতে শিখিয়ে আবার মেরেও ফেলেছিলে, বুঝিয়ে দিয়েছিলে ভালোবাসার মানুষটি জীবনে না থাকলে জান্ত মরা হয়ে বেঁচে থাকে- সরল আমি তোমাকে আর তোমার ভালোবাসা ছাড়া আজ সত্যি জান্ত মরা হয়েই বেঁচে আছি – মনা!
চিরকুট টা পড়া শেষ হতে না হতেই হাত থেকে পরে গেলো, শুধু হাত নয় পুরো শরীরটাই যেন অবোস হয়ে গেলো, দম আঁটকে গেলো বোধহয়, শুধু মনে হলো এত বছর পর কি করে এই মনার সাথে সারাটাদিন কাটালাম।
শুরুটা দিনের প্রথম প্রহর, ঠিক আটটায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ট্রেনের কেবিনে বসে কেবলই কবিতার বইটা হাতে নিয়ে পড়তে যাবো, উদাসী মনে জানালার দিয়ে আকাশ দেখছি, হঠাৎ মনে হলো কেউ আমাকে ডেকে বলছে একটু ঠিক হয়ে বসবেন প্লিজ, একটু বাচ্চাটাকে ধরুন আমি সুটকেসটা উপরে রাখবো তাহলে বসতে সুবিধা হবে, উচ্চস্বরে বলে উঠলো কি শুনতে পাননা নাকি,সরে বসুন একটু জায়গা দিন। চিরদিনই আমি বেখেয়ালি তার কথার কোন কর্নপাত না করে আগের মতই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। এবার ভদ্র মহিলা রেগে গিয়ে বললো এই যে ভদ্রলোক আপনি কি দিনের বেলা আকাশের তারা শুনছেন, আমি বলে উঠলাম হুম, দেখতে পারলে তো বেশ ভালো হতো।
আর হ্যাঁ আপনি নিজের কাজ রেখে কেন আমাকে বিরক্ত করছেন বলুন তো, বলতেই ভদ্র মহিলাকে দেখে কপালে চোখ আটকে গেলো- মনা তুমি, তুমি এখানে কি করে এলে মনা!
হঠাৎই যেন আমার সমস্ত হৃদযন্ত্র থেমে গেলো যেন মুখের কথা চিরতরে থেমে গেলো, আমি কোন কিছু না বলে নিরবে আবার জানালা দিয়ে আকাশ দেখা শুরু করলাম, আমার মনের কোণে জমে থাকা সমস্থ ব্যথা যেন সাগরের ঢেউয়ের মত উপরে এসে আমার বুকেই আচরে পরলো, শুধু মনে হতে লাগলো এত বছর পর তুমি কেন মনা, কেন এভাবে আমার সামনে, আর এভাবেই একদিন আমার সামনে এসে আমার সমস্ত পৃথিবী উলটপালট করে দিয়েছিলে, তারপর থেকে আর আমার জীবন স্থিতিশীলতা ফিরে পাইনি, খুব মনে পড়ছে সেই প্রথম দিনের কথা। বৈশাখী ঝড়ের বিকালে জলোচ্ছ্বাসের মতই আমার সামনে এলে তোমার মামার সাথে করে, আমি তখন ঢাকা থেকে আমাদের গ্রামের বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাড়ি যাবার জন্য ভ্যনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম হঠাৎ তুমি জুয়েলের সাথে এসে হাজির হলে, আমার ছোটবেলার বন্ধু জুয়েল তো আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরলো, বন্ধু তুই এতদিন পর কোথায় ছিলি এতদিন, তোর সাথে কতদিন পর দেখা, তোর কথা ক’দিন ধরে ভাবছিলাম, যাক খুব ভালো হলো, এবার আমার একটা চিন্তা কমলো, আমি বললাম কিসের চিন্তা তোর?
আরে চিন্তা তো নিজেকে নিয়ে না রে পাগলা, যত চিন্তা তো সব এই মনা কে নিয়ে, সেই প্রথম তোমার নামটা জানা হলো, মনা শুনতেই কলিজায় একটা কাটা দিয়ে উঠলো, “মনা” বাহ বেশ সুন্দর নাম, যদিও তখনো তোমার মুখটা তেমন করে দেখা হয়নি, কারণ আমি বরাবরের মতোই নিজের মধ্যে থাকি, কিন্তু তুমি যখন আঁর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে তখন নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল, কারণ আমার যে হ্যানলাপাতলা শরীর তার উপর মাথার চুলের অবস্থা খুব করুন মানে উত্তরাধিকার সূত্রে আমি টাকওয়ালা মানে টাকলা মামা, মানে বন্ধুরা এভাবেই ডাকে আর কি, তাই সত্যি নিজের মধ্যে একটা অস্বস্তি কাজ করে সব সময়।
হঠাৎ জুয়েলের হাতের ধাক্কায় নিজেকে ফিরে পেলাম, বলছে বন্ধু সরল তোকে একটা উপকার করতেই হবে, আমি বললাম কি উপকার করবো আগে তো বলবি, বললো তাহলে শুন এই যে এটা মনা আমার বড় আপার বড় মেয়ে তখন তুমি আমাকে সালাম দিলে আমি তোমার সালামের উত্তর দিলাম, জুয়েলের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা একটু ভিন্ন রকম হয়, যাইহোক বন্ধুদের মধ্যে জুয়েল সবসময়ই অনেক পপুলার আর খুব মন খোলা ভালো মানুষ ছিল আর কি।
বন্ধুদের মধ্যে আমি কেন জানি কিছুটা অবহেলিত ছিলাম কিন্তু জুয়েল আমাকে বুকে টেনে নিয়েছিল তার সকল কাজে আমাকে ছাড়া চলতই না, আমাকে যেমন সবার চেয়ে ভালোবাসতো তেমনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতো।
যাইহোক জুয়েল আমাকে সরাসরি বলে ফেললো আজ থেকে মনা কে তোর কাছে আমানত রাখলাম, আমি বললাম কি বলিস এসব কিছুই বুঝলাম না, জুয়েল বললো শুন পরশু দিন মনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আমি চাই তুই মনার সব দেখভাল করবি, আমি তো তোকে অনেক দিন হলো এজন্যই খুঁজছিলাম, যাক আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন, দেখ তোকে পেয়ে গেলাম, কাল তুই মনা কে নিয়ে ঢাকায় যাবি, মনার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবি আর তোদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ভর্তি হওয়া তো মনার স্বপ্ন, কিরে তুই মনার স্বপ্ন পূরণ করে দিবি না, তোর কাছে এই অনুরোধ করতে পারি না, আমি বললাম ঠিক আছে আল্লাহ ভরসা, আমি চেষ্টা করবো।
জুয়েল বললো, চেষ্টা করবি মানে তোর সব কিছু করতে হবে, আরে আমি তোর জন্য কি করিনি ভুলে গেলি নাকি, আমি তখন খুবই লজ্জা পেলাম, বললাম ঠিক আছে আমি তোর আমানতের সন্মান রাখবো ইনশাআল্লাহ।
যথারীতি পরের দিন সকাল বেলা মনা কে নিয়ে সিরাজগন্জ রোড থেকে বাসে উঠে ঢাকার উদেশ্য রওনা হলাম।
হঠাৎ মাঝপথে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে আমার বাম কাঁদে মাথা রেখে। তোমার ঘুমন্ত মায়াবী মুখটা দেখতে দেখতে অজান্তেই কখন যেন একটা মায়ায় বাঁধা পড়ে গেলাম, বললাম আহা কি নিঃপাপ পবিত্র চোখটা ঘুমিয়ে আছে, এ জীবনে প্রথম কোন এক অপ্সরী এই হতভাগ্যের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে, নিজের অনিচ্ছায় কত কি যে সেদিন স্বপ্ন মত লাগছিল তা আর প্রকাশের ভাষা জানা নাই।
হঠাৎ আমার হাতে ধরে একটা বাচ্চা টান দিয়ে বলছে আঙ্কেল এই আঙ্কেল তোমার কি খুব মন খারাপ, তুমি কাঁদছো কেন, আমি বললাম না তো, তো তোমার কেন মনে হলো আমি কাঁদছি, বাচ্চাটা বললো এই যে তোমার চোখে পানি কেন তাহলে, আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম আরে বাবা নাহ আসলে জানালার পাশে বসে আছি তো একটা পোকা চোখে পড়েছে তাই।
বাচ্চাটা বলছে ওহ তাই, এসো আমি তোমার চোখের পোকা বের করে দেই, আমি বললাম ধন্যবাদ বাবা পোকাটা এতক্ষণে বের হয়ে গেছে।
তখন ভদ্র মহিলা বাচ্চা টাকে টান দিয়ে ধরে বলছে শ্রভ্র অনেক হয়েছে এবার দুষ্টুমি থামাও, ভদ্রলোক টাকে আর বিরক্ত করো নাহ, বাচ্চাটা বলছে আম্মু তুমি চুপ থাকো, দেখছো না আমি আঙ্কেলের সাথে গল্প করছি, জানো আঙ্কেল, আম্মু আমাকে কারো সাথে মিশতে দিতে চায় না, আম্মু খুব পঁচা, আমি বললাম তোমার আম্মু তো ঠিকই বলেছেন সব মানুষের সাথে মিশতে হয়না বাবা।
বলতেই ভদ্র মহিলা বাচ্চাটাকে ধরে টান দিতেই কাছে এসে গেলো, ভদ্র মহিলা আমাকে দেখে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো, বেশ কিছুক্ষণ পর বললো, সরল তুমি! সরল এখানে কি করে এলে, আমি বললাম এই অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ টাকে কখনও আপনার সামনে আশা করেননি তা-ই তো।
মনা নিজের অজান্তেই বলে ফেললো, হ্যাঁ ঠিক তাই, কখনও আশা করিনি তোমাকে দেখবো।
তারপর অনেকক্ষণ কেটে গেলো দুজনে চুপচাপ আমি সেই বেখেয়ালি মনে জানালার পাশে বসে আকাশ দেখছি, হঠাৎ মনা বলে উঠলো সরল কফি খাবে আমি কোনকিছু না ভেবেই বলে দিলাম না, জানো না আমি কফি খাই না৷ তখন মনা ভ্যগাচ্যাপা খেয়ে বলে উঠলো, ও আচ্ছা আমি তো ভুলেই গিয়েছিল তুমি কফি খাও না, তোমার তো চা চাই ৷ আর চায়ের সাথে ট্রা লাগে মানে চায়ের সাথে সিগারেট ছাড়া চলে না, আচ্ছা তোমার কি এখনও একটা চায়ের সাথে দুটা সিগারেট খাও নাকি চা ছেড়ে তিনটা করে সিগারেট খাও সরল?
আমি কোন কথা খুজে পেলাম না। মনে পড়ে গেলো একবার টিএসসিতে চায়ের সাথে দুটা সিগারেট খেতে দিয়ে তোমার সাথে তুমুলঝগড়া শুরু হয়ে গেলো আমি তো রাগ করে বাসায় চলে এসেছিলাম তাতে তুমি দুইদিন না খেয়ে ছিলে, তখন আমি তো তোমার রুমমেটকে দিয়ে অনেক অনুরোধ করে হল থেকে তোমাকে বের করে নিয়ে এসে রেস্তোরাঁয় নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছিলাম তোমায়। তোমার সে কি কান্না, সেই কান্নায় প্রায় সব খাবার তোমার চোখের পানিতে ভিজে দিয়েছিল আমি তো, তোমার এই অবস্থা দেখে রেস্তোরাঁর ভিতরেই কান ধরে ওঠবস করেছিলাম, আর তোমার সাথে এমন করে ঝগড়া করবো না, তুমি তখন হাসতে হাসতে আমাকেও নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছিলে কারণ তুমি জানতে আমিও দুই দিন হলো কিছু খাইনি।
এটা নিয়ে তোমার বান্ধবী থেকে শুরু করে সব রুমমেটরা তোমাকে খ্যাপাতো হা হা হা।
ভাবতে ভাবতেই অট্রোহাসিতে ফেটে পরলাম তখন তুমি ট্রেনের কেবিনে বসে কফি খাচ্ছিলে আমার হাসি দেখে তুমি অবাক হয়ে বললে, কি সরল পাগল হলে নাকি, আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম না না ঠিক আমি।
হঠাৎ একটা কথা মনে হলো তাই, হঠাৎ মনা বলে উঠলো রেস্তোরাঁয় তোমার কান ধরে ওঠবস করার কথা মনে পললো বুঝি সরল।
তখনই মনে হলো তুমি আমার ভেতরটা এখনও বুঝতে পারো মনা। ভাবতেই মনটা বিষাদে ভরে গেলো।
তুমি বললে, শুন সরল ট্রেনে ক্যন্টিনে যাও সেখানে একটা রং চায়ের সাথে দুটা সিগারেট খেয়ে মাথা ঠিক করে আসো তোমার সাথে অনেক গল্প আসে, যাও তাড়াতাড়ি আসবে আর আসার পথে শ্রভ্র এর জন্য একটা চকলেট আর আইসক্রিম নিয়ে এসো, ও হ্যাঁ টাকা আছে তো! না থাকলে নিয়ে যাও।
আমি বললাম টাকা নেই মানে আমাকে কি ভিখারি মনে করো নাকি মনা। টাকা আছে যথেষ্ট পরিমাণে আছে হুম।
মনা বললো এই ডায়লগ টা আর ছাড়োনি বলেই পাঁচশো টাকা হাতে নিয়ে বললো যাও তাড়াতাড়ি আসো, অনেক কথা আসে, আমি সেই সুবোধ বালকের মত টাকাটা নিয়ে নিলাম।
ট্রেনের ক্যন্টিনে চায়ের সাথে সিগারেট টানতে টানতে বইয়ের পাতার মত অতীতের সব কথা মনে পড়ে গেলো মনার সাথের।
হঠাৎ করেই মনা কে নিয়ে ঢাকায় চলে এলাম আমি তো মহসিন হলে থাকি মনা কে কোথায় রাখবো, তখন সুমির কথা মনে হলো আমার খুব কাছের বান্ধবী সে রোকেয়া হলে থাকে অনেক কষ্টে মনা কে রোকেয়া হলে থাকার ব্যবস্থা করলাম পরের দিন মনা কে নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে সোজা চলে গেলাম মসজিদে।  নামাজ পড়ে আল্লাহ তাআলার কুদরতি পায়ে সিজদাহ্ লুটিয়ে পড়ে পার্থনা করলাম, আল্লাহ মনা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করে, আমার বন্ধু জুয়েলকে দেওয়া কথা রাখতে পারি, আর আমাকে বিশ্বাস করে মনা কে আমার কাছে আমানত রেখেছে তার সন্মান যেন রাখতে পারি।
আল্লাহর রহমতে মনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান সাবজেক্টে ভর্তি হয়ে হলো, তারপর তাকে হলে সিট পাইয়ে দিলাম।
ততদিনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা সামনে চলে এলো একদিন হঠাৎ মনা আমার ডিপার্টমেন্ট এসে কান্না জুড়ে দিলো, বললো সরল মামা তাড়াতাড়ি চলো এখনই বাড়ি যেতে হবে। আমি বললাম কেন কি হয়েছে বলো তো মনা, মনা বললো বাড়ি থেকে ফোন এসেছে বাবা খু্ব অসুস্থ, আমি বললাম বলো কি মনা, চল এখনি চল যাই।
মনা বললো আমাকে তুমি বাসে উঠিয়ে দিয়ে এসো আমি একাই যেতে পারবো। আমি বললাম, কেন? কোন দিন কি একা বাড়ি গেছো?  চলো, আমি তো আছি। মনা বললো, সরল মামা তোমার তো ক’দিন পর ফাইনাল পরীক্ষা তুমি থাকো আমাকে শুধু বাসে উঠিয়ে দিয়ে এসো। আমি বললাম, আরে না পরীক্ষা কোন ব্যাপার না, তোমাকে একা ছাড়তে পারি না।
যেই বলা সেই কাজ, মনা কে নিয়ে সিরাজগঞ্জে রওনা হলাম। মনা রাস্তায় খুব কাঁন্নাকাটি করছিলো, তার মন যে কিভাবে জানতে পেরেছিলো এটাই তার বাবাকে শেষ দেখতে যাওয়া।
বাড়ি যাওয়ার পরে দিন মনার বাবা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। তার কিছু দিন পর মনা কে নিয়ে আবার ঢাকায় রওনা দিলাম। বাসে সারাটাপথ মনা আমার বুকে মাথা রেখে ডুকরে ডুকরে কেঁদেই চলছে, আমি বারবার মনা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মনে হলো মনার মার কথা। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করেন। আসার সময় তিনি আমাকে বললেন, সরল ভাই আমার, তুমি আমার ছোট ভাই জুয়েল তোমার ভালো বন্ধু,  তোমাকে বিশ্বাস করে মনা কে তোমার কাছে আমানত রেখেছি আজ মনার বাবা নাই, আজ থেকে ঢাকাতে তুমি ছাড়া মনার কেউ নাই। এখন তুমিই মনার অভিভাবক মনার সব দায়দায়িত্ব তোমার সরল, এর একটু অবহেলা করো নাহ, আমানতের খিয়ানত করো নাহ। এবার যাও তোমার দায়িত্ব পালন করো এটা এক মায়ের আদেশ।
নিজের অজান্তেই কখন যে অশ্রু ঝরে গেলো চোখ থেকে, আমার চোখের অশ্রুতে মনার কপাল ভিজে গেছে, মনা আমার বুক থেকে উঠে বলছে সরল তুমি কাঁদছো কেন, কি হয়েছে আমাকে বলো, মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে আমাকে দেখছে, এমন করে মনা কে তাকিয়ে থাকতে কখনও দেখিনি।
মনার কথা কোন জবাব না দিয়ে মনা কে বুকে সাথে শক্ত করে চেপে ধরে শিশুর মত কেঁদে দিলাম।
আমার হাতের সিগারেটের আগুনে আমার হাতের আঙুল পুড়ে গেছে টেরই পাইনি, টের পেলাম ক্যন্টিনবয় এসে যখন বিল চাইলো মামা বিল দিন সিগারেটের।
মনার ছেলে শুভ্র এর জন্য চকলেট আর আইসক্রিম নিয়ে ক্যবিনে এলাম মনা তো একপ্রকার চিৎকার চেচামেচি শুরু করলো, বললো সরল তোমার বোধবুদ্ধি কি এখন হয়নি সেই কখন গেলে, ছেলেটা আমার কখন থেকে চকলেটের জন্য আমাকে পাগল করে দিচ্ছে, বলেই আমার হাত থেকে চকলেটটা ছিনিয়ে নিয়ে শুভ্র কে দিলে বললো এই নে শুভ্র সবগুলো খাবি তারপর আমাকে খাবি।
মনার এই রুপ আমি কখনও দেখিনি আমি বললাম মনা তুমি এমন করছো কেন, আমার মনা তো কক্ষনও এমন ছিলো না, ততক্ষণে মনা জানালার ধরে চোখের পানি ছেড়ে দিছে, আমি মনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম মনা, এমন করো না একটু শান্ত হয়,
যতক্ষণ তোমার পাশে আছি আমার শান্ত লক্ষী মনা কে দেখতে চাই, প্লিজ মনা দয়া করে শান্ত হও।
আচ্ছা ঠিক আছে আমি যদি তোমার বিরক্তির কারণ হয়ে থাকি আমি কিছুক্ষণ বাইরে থেকে ঘুরে আসি। তখন মনা চোখ মুছতে মুছতে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, না যাবে না সরল আমার কাছে এসে বসো। আমি মনার কাছে গিয়ে বসতেই মনা বললো তোমার হাতটা দাও। আমার হাত বাড়িয়ে দিতেই হাত ধরে বললো তোমার হাত পুড়লো কি করে সরল বলো, আমাকে বলো, আর কত নিজেকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে সরল বলো, বলো কেন এমন করো কেন কেন? বলতে বলতে ব্যাগ থেকে Ice max বের করে আমার হাতে লাগিয়ে দিলো, তখন বুঝলাম তোমার পাগলামির কারণ, আমার পোড়া হাত তোমাকে অশান্ত আর পাগল করে দিয়েছে।
মনা বলছে কোথায় গিয়েছিলে সরল, বললাম কক্সবাজারে একটা বিশেষ কাজে গিয়েছিলাম এখন ঢাকায় যাচ্ছি, আর তুমি মনা, মনা বললো সে তার মার বাড়িতে যাচ্ছে, আমি আর কিছু জানতে না চাইলেও মনা তার কথা বলতে লাগলো।
সরল শুন আমি কোথায় আছি কি করছি তা তুমি যে জানতে চাইবে না তা আমি জানি তবুও বলছি, আমি কক্সবাজার কলেজের শিক্ষিকা আর আমার স্বামী UNHCR কক্সবাজারের দায়িত্বে আছে। বড় ছেলেটা বাবার সাথে কক্সবাজারেই ঈদ করবে আর আমি ছোটটাকে নিয়ে মার বাড়ি যাচ্ছি। আমি বললাম তোমার মা কেমন আছেন মনা? মনা বললো তেমন ভালো না যদি পারো একবার দেখে এসো, তুমি তো দেশে যাওনা তবুও নাহয় মা কে শেষ বার দেখে এসো।
আচ্ছা সরল তোমার ক’টা ছেলে মেয়ে, আমি বললাম নেই, মনা অবাক হয়ে বললো তোমার বউ কোথায়, আমি বললাম নেই, মনা বললো মানে কি সরল, আমি বললাম শান্ত হয়না বলছি। হঠাৎ করে আমার মা আমাকে বিয়ে দিয়েছিল তার তিন মাস পর বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, মনা জানতে চাইলো তোমার বউ কেন ছেড়ে গেল সরল?
আমি শুধু বললাম, আমি তাকে ভালোবাসতে পানিনি তাই।
তারপর এক নিঃস্তব্ধতা ছেয়ে গেলো আমাদের দুজন কে। ততক্ষণে আমরা ঢাকাতে পৌঁছে গেলাম তারপর মনা কে সিরাজগঞ্জের বাসে উঠিয়ে দিয়ে এলাম।
মনার জবানিকা-
সাঁই সাঁই বেগে ছুটে চলছে আমাদের গাড়িটা আমি জানালার পাশে মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছে বাতাসের তীব্র ঝাপটা আমার বুকটা চুর্ণবিচুর্ণ করে দিবে কিন্তু আমার কলিজায় যে ঝড় বইছে বাইরের এই কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা আমার কাছে খুবই নগন্য।
এমনই একদিন কালবৈশাখী ঝড়ের বিকালে তুমি আমার জীবনে এসেছিলে সরল, জুয়েল মামা সেদিন তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন তখন মনে মনে হাসি পাচ্ছিল লোকটা নাম সরল কিন্তু শরীর তো বাঁকাতেড়া, কি শুকনা আবার মাথায় টাকপরা, আর এই মরাডাংঙা লোকটার কাছে মামা আমাকে আমানত হিসাবে তুলে দিচ্ছে সেদিন সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি। কাল আমাকে এই লোকটার সাথে ঢাকা যেতে হবে আবার তার আশ্রয়ে থাকতে হবে কিন্তু আমার সমস্ত অহংকার আর সংশয় পরের দিনই কেটে গেলো যখন আমি ক্লান্ত হয়ে বাসের মধ্যে এই লোকটার কাঁধে মাখা রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। তখনও খুব অস্বস্তি লাগছিলো কিন্তু রাস্তায় অনেক দুর যাবার পর আমার যখন প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো আমি সরল মামাকে বললাম, মামা আপনার কাছে কি মাথা ব্যথার ঔষধ আছে? তিনি তো ভেবে পাচ্ছিলেন না কি করবেন কারণ তার কাছে ঔষধ নেই।
হঠাৎ বলে উঠলেন আচ্ছা ঔষধ তো নেই আমি তোমার মাথা টিপে দেই, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম তিনি কেন সরল, তার চোখ বলছিলো তার মধ্যে কোন পাপ নেই, আছে শুধু অসুস্থ মানুষ কে একটু সেবা করার ইচ্ছে।
তখন আমি মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে দিলাম মাথাটা টিপে দিন।
হ্যাঁ সেই দিন থেকে তুমি শুধু আমার সরল, শুধু আমার সরল, কারণ তুমি পরম মমতায় জড়িয়ে আমার মাথায় হাত রেখে যেভাবে যত্ন নিয়েছিলে সরল, পৃথিবীতে এমন যত্ন কেবল আমার মা ই নিয়েছিলো, মনে হয়েছিলো সরলের ভেতরের সরলকে জুয়েল মামা ঠিকই চিনতেন তাই সরলের কাছে এই মনা কে আমানত হিসাবে তুলো দিয়েছিলেন নিঃসন্দেহে, বিশ্বাস করে।
আর আমিও সেদিন থেকে তোমার সাথে চলা প্রতিটা দিন তোমাকে যতটা আপন করেছিলাম তার চেয়ে শতগুণ উশুল করে তুমি আমার যন্ত্র নিয়েছিলে সরল।
আমি ভুলিনি সরল যেদিন তুমি হাপাতে হাপাতে আমার সামনে এসে বলেছিল দেখ মনা দেখো, আমি অষ্ট্রলিয়ার ক্সলারশিপ পেয়েছি, বলেই সব কাগজপত্র জমা দিলে আমার হাতে আমি কাগজপত্র গুলো দেখে মন ভার করেছিলাম নিজের অজান্তেই, তুমি বলেছিলে মনা আমার ক্সলারশিপের জন্য তুমি খুশি হওনি?
আমি শুধু মন ভার করে বলেছিলাম সরল তুমি অষ্ট্রলিয়াতে চলে গেলে আমি যে একা হয়ে যাবো, কে দেখবে আমায় সরল, তুমি সাথে সাথে কাগজপত্র গুলো ছিড়ে ফেললে আর বলছিলে মনা তুমি একা হবে মানে, আর তোমাকে দেখার কেউ থাকবে না মানে কি এই আমি তোমাকে দেখবো আমি তোমার সরল, হ্যাঁ তোমার সরল তোমাকে ছাড়া জান্নাতেও যেতে রাজি তো নয়ই, অষ্ট্রলিয়া তো খুব নগন্য মনা।
তুমি শিশুর মত হাসতে হাসতে কাগজপত্র ছিঁড়ছিলে আর কথা গুলো বলছিলে, তোমার মাঝে বিন্দু মাত্র অনুশোচনাও দেখিনি, সেদিন তুমি শুধু অষ্ট্রলিয়ার ক্সলারশীপের কাগজপত্র ছিঁড়োনি সেদিন তোমার সব স্বপ্ন গুলো ছিঁড়েছিলে সরল। কারণ তুমি অর্থনীতির সব চেয়ে ভালো রেজাল্ট করা ছাত্র ছিলে তুমি প্রায়ই বলতে অষ্ট্রলিয়া থেকে ক্সলারশীপ নিয়ে এসে দেশের জন্য কাজ করবে দেশের অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করে দেশের অর্থনীতির অমুল পরিবর্তন করে দেশকে উন্নত করবে, দেশের সেবা করে দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দেবে।
অথচ আমার সেদিনের গোমড়ামুখের জন্য তোমার সব স্বপ্ন গুলো কুটিকুটি করে ছিঁড়েছিলে সরল শুধু আমাকে দেখাশোনার জন্য আমার কাছে থাকার জন্য।
মনে আছে সরল তোমার যখন পড়ালেখা শেষ হলো তুমি হল ছেড়ে ছোট্ট একটা বাসা নিলে তখন তুমি বেশ ক’টা টিউশনি করো আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমাদের রোকেয়া হলের সামনে দাড়িয়ে থাকো আমাকে একবার দেখার জন্য মাঝে মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলে রাত দুইটা নাই তিনটা নাই, প্রায়ই সময় তুমি হলের পিছনে আমার বারান্দার সামনে দাড়িয়ে থাকতে কতবার হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে মাঝে মধ্যে তো কান ধরে ওঠবস করতে, কতভাবে আমাকে জ্বালিয়েছো সরল।
তোমার চারপাঁচটা সরকারি চাকরি হলো যখনই পোস্টিং ঢাকার বাইরে হলো সবগুলো এ্যাপোয়েন্টলেটার তুমি আমার সামনে ছিঁড়েছো সরল, শুধু ঢাকাতে আমাকে একা ছেড়ে যেতে পারবর না বলে।
তুমি আমাকে তোমার বুকের মাঝে কতটা যত্নে আগলে রোখেছিলে তা কেবল আমিই জানি পৃথিবীর কেউ জানে না সরল শুধু আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানেন।
আমি একদিন তোমাকে জরুরি খরব পাঠালাম তুমি সন্ধ্যায় হলের সামনে আসলে। তুমি আসার পর বললে মনা তোমাকে এমন অস্থির লাগছে কেন বল কি হয়েছে খুলে বলো, দেখলাম আমার মুখ দেখে তুমিই বেশি অস্থির হয়েছিলে সরল।
আমি বললাম সরল খবর খুব খারাপ জুয়েল মামা মানে তোমার বন্ধু বিরাট এক কান্ড ঘটিয়েছে। তুমি বললে কি হয়েছে আগে খুলে বল মনা। মামা আমার বিয়ে ঠিকঠাক করে ফেলেছে, আজ ফোন করেছিলো কাল ঢাকায় এসে আমাকে নিয়ে যাবে। তুমি একটা কিছু করো সরল। তুমি হাসতে হাসতে বলেছিলে আরে এটা তো খুব ভালো খবর। যাক আমার জমানো সব টাকা দিয়ে তোমার পছন্দের সব গিফট কিনবো। হা হা হুম।
আমি চিৎকার করে বললাম সরল ফাজলামো রাখো সিরিয়াস হও, সত্যি মামা কাল আসছে আমাকে নিয়ে গিয়ে সত্যি বিয়ে দেবে, তুমি বললে সমস্যা কোথায় বিয়ে তো একসময় করবেই এখন করলে সমস্যা কি মনা।
আমি বললাম সমস্যা বিরাট আমার সামনে মাসে ফাইনাল পরীক্ষা এই সময় বিয়ে করতে পারবো না।  তুমি বললে তাহলে এখন কি করবে মনা। বললাম আমার একটা পরিকল্পনা আছে, তুমি কাল ভোরে আমাকে নিয়ে অনেক দুর নিয়ে যাবে যেখানে আমাদের কেউ খুঁজে পাবে না।
তারপর মামা আমাদের আর সারাদিন খুঁজে না পেয়ে বাড়ি চলে যাবে আর বিয়ে থেকে আমি বেচে যাব, কেল্লাফতে।
আমার পরিকল্পনা তোমার ভালো লাগলো না তুমি ছাপ জানিয়ে দিলে এটা করা ঠিক হবে না, তোমার মামা অনেক কষ্ট পাবে, তারচেয়ে তোমার মামা কে বুঝিয়ে বল, প্রয়োজনে আমি জুয়েল কে বুঝিয়ে বলবো যেনে তোমার ফাইনাল পরিক্ষার পরে বিয়ে ব্যবস্থা করে চিন্তা করো না মনা। সব ঠিক করে দেবো।
আমি তখন অন্ধকারে তোমাকে বুকে ঝাপিয়ে পরে ডুকরে ডুকরে কেঁদে ফেলেছিলাম, তোমাকে অনুরোধ করছিলাম সরল একটা কিছু করো আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।
আমি বললাম সরল আমার সিধান্ত ফাইনাল আমি তোমার বাসায় কাল সকালে রেডি হয়ে আসবো তুমি তৈরি থেকো, আর কোন কথা বলবে না সরল এবার যাও, মনে রেখো কাল সকালে আমি তোমার বাসায় আসবো, নইলে তোমার মনা কে চিরতরে হারাবে, এবার যাও। তুমি কিছু একটা বলতে চাইছিলে সরল বলতে দেইনি, তুমি চলে গেলে।
পরের দিন সকালে আমি তোমার বাসায় গিয়ে হাজির হলাম, দেখলাম তোমার চিলেকোঠার দরজায় বড় একটা তালা ঝুলছে, আর তালার সাথে একটা চিরকুট, চিরকুট টা হাতে নিতেই আমি থঁ হয়ে দরজার সামনে বসে পড়লাম, শুধু মনে হলো সরল তুমি পারলে তুমি কি করে পারলে সরল৷ কি করে?
মনা-
তুমি আজ নিঃশ্চয়ই বুঝতে শিখেছো জীবন আর বাস্তবতা কি, তাই বলছি এবার আমার ছুটি নেবার পালা তোমার মামার আমানত আজ সহিসালামতে ফেরত দিলাম। আর যদি এতটুকুন ক্ষতি করে থাকি তো কখনও ক্ষমা করো না মনা,—- তোমার সরল!
বারবার মনে হলো সরল তুমি শুধু আমার মামা আর মায়ের আমানতের কথা চিন্তা করলে সরল, চিন্তা করলে না আমাকে সরল, একটাবার আমার কথা ভাবলে নাহ, তোমার মনার কথা ভাবলে না, কি করে ভাবলে যে তোমাকে ছাড়া মনা অন্য কারো বউ হবে এক অচেনা মানুষ কে বিয়ে করেব, যে মনার বেচে থাকা আর সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সরল আর সরলের ভালোবাসা, সরলকে ছাড়া মনার একটাদিনও চিন্তা করা হারাম সেই মনা চিরদিনের মত সরল কে ছাড়া অন্য মানুষ কে বিয়ে করে সুখে থাকবে, সরল ফিরে এসো, ফিরে এসে সরল, তোমার মনা সব ছেড়ে আজ তেমার কাছে চলে এসেছে ফিরে এসো সরল।
আমার সেদিনের কাঁন্নাতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে গিয়েছিলো, সেদিন আমি কতটা অসহায় ছিলাম সেই অসহায়ত্ব আজ তোমাকে হতে দেখলাম সরল, যখন তুমি ট্রেনের ক্যন্টিনে সিগারেট খেতে গেলে আমি তোমার পিছুপিছু গিয়েছিলাম, যা দেখলাম তা কেমল আমার সেই দিনের অসহায়ত্বের কথা মনে করে দিচ্ছিল, তুমি এক হাতে চা আর অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে অসহায়ের মত ক্যন্টিনের জানালার পাশে দাড়িয়ে আছো আর তোমার সিগারেটের আগুনে হাত পুড়ে যাচ্ছে তাতে তোমার কোন ভূক্ষেপ নাই।
তখনও তোমাকে ক্ষমা করতে পারিনি আর কখনও তোমাকে ক্ষমা করার প্রশ্ন আসে না সরল!
হঠাৎ আমার ছেলে শুভ্র এর হাত আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলছে আম্মু জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ট্রেনের আঙ্কেলর মত একই রকম করে কাঁদছো কেন – সেই আঙ্কেল টা কে?
শুভ্র এর দিকে না তাকিয়ে বললাম – তিনি আমার সরল মামা!
[ উৎসর্গ- সন্মানিতা জান্নাতি পাপিয়া আপনাকে! ]

খেলাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী খেলোয়াড়দের আটকে মারধরের অভিযোগ

তিমি‌র বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েকজন আদিবাসী যুবককে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠেছে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ডিমাই এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন- উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল খাসিয়া পুঞ্জির রাজেশ খাসিয়া (২২), ওয়ান কে মেন (২৮) ও বিবার জেন (২৬)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত রাজেশ খাসিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ডিমাই এলাকায় স্থানীয় আদিবাসী আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর খাসিয়া পুঞ্জির মুখোমুখি হয় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জি। খেলা চলাকালে পেনাল্টি কিক নিয়ে রেফারির সঙ্গে কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির খেলোয়াড়দের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় মাঠে প্রবেশ করে পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি জানান কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজার বয়োজ্যেষ্ঠ সুখমন খাসিয়া। একই সময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকা বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিনও খেলার মাঠে প্রবেশ করেন। তখন তিনি কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজারকে পেনাল্টি মেনে নিতে জোরাজুরি করলে খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজার সুখমন তা প্রত্যাখান করে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন টিম ম্যানেজার সুখমন খাসিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চেয়ারম্যান তাকে লাথি মারেন। বাবাকে মারতে দেখে সুখমনের ছেলে এগিয়ে এসে সিরাজ উদ্দিনকে ধাক্কা দেন। এরপর সিরাজ উদ্দিনের পক্ষের লোকজন মিলে কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির খেলোয়াড়দের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং কয়েকজনকে মারধর করেন।

পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির খেলোয়াড়দের উদ্ধার করে।

কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজার সুখমন খাসিয়া বলেন, রেফারি খেলায় ৫ নম্বর খাসিয়া পুঞ্জির খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। প্রথমে আমার দলের খেলোয়াড়রা তাতে আপত্তি জানায়। পরে আমি মাঠে গিয়ে আপত্তি জানালে খেলায় অতিথি হিসেবে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন পেনাল্টি মেনে নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি তার কথা প্রত্যাখান করে আমার দল নিয়ে মাঠ থেকে বেরুবার চেষ্টা করলে সিরাজ উদ্দিন আমাকে কলার চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন। এসময় আমি মাটিতে পড়ে যাই। তখন তিনি আমাকে লাথি মারেন। আমাকে বাঁচাতে আমার ছেলে এগিয়ে আসলে চেয়ারম্যানসহ তার পক্ষের লোকজন আমাদের অবরুদ্ধ করে মারপিট করেছে। এতে আমাদের দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও সমর্থক আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। এরমধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি কল না ধরায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

উত্তর শাহবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় পেনাল্টি নিয়ে বড়লেখা সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন আমার ইউপির কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজার সুকমন খাসিয়াকে থাপ্পড় ও লাথি মারেন। বাবাকে মারতে দেখে সুকমনের ছেলে সিরাজ উদ্দিনকেও আঘাত করেন। এরপর স্থানীয় লোকজন কুমারশাইল খাসিয়াপুঞ্জির টিম ম্যানেজার, খেলেয়াড় ও সমর্থকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং কয়েকজনকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমি থানার ওসি সাহেবসহ পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করেছি। আহতদের একজনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, দুই আদিবাসী দলের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। খেলায় পেনাল্টি কুমারশাইল পুঞ্জির বিপক্ষে যায়। এটা তারা মানেনি। এনিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন কুমারশাইল পুঞ্জির একজনকে চড় মেরেছেন। তারাও চেয়ারম্যানকে ধাক্কা মেরেছেন। এনিয়ে উত্তেজনা ছিল। পরে পুলিশ পাঠিয়ে উত্তেজনা নিরসন করা হয়েছে। উত্তর শাহবাজপুরের চেয়ারম্যান থানায় আসছিলেন। ঈদের পরে উভয়পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি বসে সমাধান করা হবে।

ঈদের ছুটিতে মনোরম পরিবেশ হাতছানি দিয়ে ডাকছে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ঈদে ঘুরা হয়নি গত দুই বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের বিধিনিষেধের জন্য। এই দীর্ঘ সময় পর ভিন্ন আমেজে চলছে এবছর  ঈদের প্রস্তুতি। মহামারি নেই, নেই বাঁধা বিধিনিষেধ। তাই অনেকেই চাচ্ছেন একটু ঘুরতে বের হবেন। সত্যি যদি তাই হয় তবে আর দেরি নয়। এখনই প্রস্তুতি নেন। চলতি ঈদে ঘুরে যান দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে। এখানের  অন্তত ৫০ টি পর্যটন কেন্দ্র গেলেই দু’চোখ ভড়ে মনোরম দৃশ্য, নিতে পারবেন মন খোলে বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস যার পর আনন্দ আর আনন্দ।

এখানের সব চেয়ে আকর্ষণীয় স্পট মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার মাঝামাঝি মাধবকুণ্ডে পাথরিয়া পাহাড় থেকে নেমে এসেছে  জলরাশি। এখানের অবিরাম ঝর্ণাধারা যে কাউকে বিমোহিত করে। আছে উঁচু নিচু টিলা আর দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরাজি।

দেশের যেকোনো স্থান থেকে মৌলভীবাজার জেলা সদর ও  কুলাউড়া থেকে  সহজে এখানে যাওয়া যায়। আর থাকা খাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গলের  ফাইভ স্টার ‘গ্র্যান্ড  সুলতান টি রিসোর্ট  এন্ড গলফ’সহ  ও মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়া পৌর এলাকায় এলাকায় রয়েছে অনেক টু ত্রি ও ফাইভ স্টার  হোটেল।

এখানের  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আরেক আকর্ষণীয় স্পট । কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাঝামাঝি ভানুগাছ রিজার্ভ ফরেস্টে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ন্যাশনাল পার্কের অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১ শ ৭১ কিলোমিটার দূরের এই বনে ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস  এবং জুনে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। লাউয়াছড়ায় ৪ শ’ ৬০ প্রজাতির জীব বৈচিত্র্য রয়েছে। ২শ’ ৪৬ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বিচরণ এই বনে। এছাড়া এই ক’বছরে বন বিভাগ ১ শ’ ৬৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী এই বনে অবমুক্ত করেছে ।

মাধকুণ্ডের পর আরেক দর্শনীয় স্পট ‘ হাম হাম জলপ্রপাত’। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে এই স্পটে গেলে আর ফিরে আসতে মন চাইবে না। এখানের ঝর্ণাধারা অবারিত । তবে অতি  বয়স্ক এবং রোগাক্রান্ত  ব্যক্তিদের জন্য এই স্পটে যাওয়ার বেলায় কিছু ঝুঁকি রয়েছে। স্পট পর্যন্ত  যেতে ৩-৪  কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে যেতে হয় । অতিরিক্ত গরম থাকায় বয়স্ক ও রোগাক্রান্তদের  জন্য স্পট পর্যন্ত যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার ।

হাকালুকি হাওরের পালের মোরা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে সহজে হাওড়ের বড় অংশ দেখা যাবে।এছাড়া ডিঙি ও ইঞ্জিনের নৌকায় হাওর ঘুরে দেখা যেতে পারে।

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ‘কালা পাহাড়’ আর  ইস্পাহানী টি কোম্পানির গাজীপুর চা বাগানে অবস্থিত গগণ টিলা তারো সুন্দর স্পষ্ট। সেখানে একবার উঠলে আর নামার ইচ্ছে হবে না।বিশেষ করে  চারদিকে শুধু সবুজের সমাহার। পাশাপাশি আপনার  কাছে মনে হবে পৃথিবীটা শুধু বৃক্ষরাজি । ঘরবাড়ি ও জনবসতির অবস্থিত খুঁজে পাবেন না।

মাধবপুর লেকের অবস্থান কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে। এই জায়গাটা জেলার অন্যতম সুন্দর একটি এলাকা। এখানের বিশাল লেক আর  নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।

শমসেরনগর বিমান ঘাঁটি। কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর বাজারের পাশে এই বিমান ঘাঁটির রানওয়ে এক সময় দেশের সবচেয়ে বড় ছিলো। এছাড়া আছে বিমান বাহিনীর  সার্ভাভাইভাল স্কুল এবং রিকরুট ট্রেনিং সেন্টার। রয়েছে আমা কাঁটাল লিচু পেয়ারা আনারস ও লেবুর বিশাল বিশাল বাগান। অসংখ্য নার্সারি। এখানের ফুল ফল ও ঔষধি গাছের চারা নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন ভিড় জমায়। যা দেখলে যে কারো  দুই নয় জড়িয়ে যায়।

এছাড়া কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার সিআরপি গেস্ট  হাউস। এখানে রয়েছে সিরাজ নগর চা বাগান। পড়ন্ত  বিকেলে এখানে ছবি তুলে যে কেউ আনন্দে পায়। আছে মৌলভীবাজার টু কুলাউড়া এবং শ্রীমঙ্গল -শমসেরনগর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক আর গাছগাছালি।

এমনকি কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা  ইউনিয়নে রয়েছে অর্ধশতাধিক আদিবাসী পল্লী। যেখানে  গাছে গাছে পান । অনেক সুপারি গাছের চূড়ায় উঠেছে অনেক পানগাছ। এখানের  খাসিয়া গারো মারমা মনিপুরী  জনগোষ্ঠী এবং তাদের আলাদা কৃষ্টি কালচার, ভাষা ও সংস্কৃতি অনেক আনন্দদায়ক।

এছাড়া মৌলভীবাজারে আছে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বধ্যভূমি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ। সাতগাঁও পাহাড়, লাঠিটিলা কমলা লেবুর বাগান, চাতলাপুর স্থল বন্দরসহ অর্ধশতাধিক আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট।

আর থাকা খাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফসহ অসংখ্য টু ত্রি ও ফাইব স্টার হোটেল ও রিসোর্ট।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও  প্রশাসন ) হাসান মোহাম্মদ রিকাবদার এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদক’কে বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় আগত পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাফেরায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো  হয়েছে। এছাড়া যানজট মোকাবেলায় শ্রীমঙ্গল থেকে বড়লেখা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি যেন নির্বিঘ্নে জনসাধারণ চলাচল করে আনন্দে কাটাতে পারে সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত।

মুরাদনগরে ট্রাক্টর উল্টে নিহত পরিবারের পাশে কোম্পানীগঞ্জ মিডিয়া সেন্টার

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ মুরাদনগরে ট্রাক্টর উল্টে ডোবায় পড়ে নিহত শ্রমিক রাসেলের পরিবার যখন জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ মিডিয়া সেন্টার।

শুক্রবার সকালে মিডিয়া সেন্টারের সংবাদকর্মীগণ নিহত রাসেলের স্ত্রী তানজিনার সাথে কথা বলে জানতে পারেন- তার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে নেমে এসেছে আরো অভাব। এযেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। তাদের কোন জমিজমা নেই। শশুড়ের দেওয়া একশতক জায়গায় ছোট একটি ঘর। শশুর অন্ধ । তিনি ভিক্ষা করেন। সৎ-শাশুড়ি নিয়ে আলাদা থাকেন।

শশুর সাহায্য করেন কিনা এমন প্রশ্নে তানজিনা বলেন, তিনি নীজেই চলতে পারেন না আমাকে দিবে কোথায় থেকে? ছয় মাসের শিশু সন্তানকে নিয়েই আমি এই ভাঙ্গা করে থাকি। আয় রোজগারের কোন ব্যবস্থা নেই। প্রতিবেশীরা দিলে খাই আর না দিলে এভাবেই পড়ে থাকি। কিভাবে বাঁচব এই ভেবে জীবনের কোন কুল কিনারা পাইনা। রাত হলেই ছেলে বাবার জন্য কেঁদে উঠে।

তার এমন করুন পরিস্থিতির কথা শুনে মিডিয়া সেন্টারের পক্ষ থেকে সংগ্রহীত নগত ছয় হাজার টাকা তুলে দেন সাংবাদিক এস এ শাহেদ এসময় সাথে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মমিনুল ইসলাম মোল্লা , খোরশেদ আলম ও আলমগীর হোসেন।

মিডিয়া সেন্টারের সংবাদকর্মী এন এ মুরাদ বলেন, আমরা তাকে আজকে যেই সহায়তা দিয়েছি ওটা সাময়ীক অভাব দূর হলেও সে চিরস্থায়ী গরীব থেকে যাবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিহত রাসেলের স্ত্রী তানজিনাকে সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি মেশিন কিনে দেওয়া হবে। এতে করে সে স্বনির্ভর হয়ে নীজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

উল্লেখ্য গত (০৯ এপ্রিল) শনিবার ভোর ৫ টায় উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের মোচাগাড়া দরিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন দুর্ঘটনায় নিহত হন উপজেলার ১৪ নং- নবীপুর প‚র্ব ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের অন্ধ শাহ-আলমের ছেলে রাসেল মিয়া (২২), শহিদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩), ও একই গ্রামের বাবুল ড্রাইভারের ছেলে টুটুল মিয়া (২২) । তাদের মধ্যে দুইজন ছিল বিবাহিত। ড্রাইভার টুটুল মিয়া ছিল অবিবাহিত।

বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু: স্ত্রীসহ হত্যাকারী আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১লা মে) সকাল সাড়ে ৯টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য গ্রামে প্রয়াত ইন্তাজ আলীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিতে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রীসহ হত্যাকারীকে আটক করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় শ্রীসূর্য্য গ্রামের প্রয়াত ইন্তাজ আলীর ছেলে মানিক মিয়া (৬০) তার ছোট ভাই খালেদুর রহমান (৪২)-কে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকাল ৩টার দিকে খালেদুর রহমানের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শমশেরনগর ফাঁড়ির পুলিশ নিহতের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন ও অভিযুক্ত মানিক মিয়াকে আটক করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় ভাই মানিক মিয়ার লাঠির আঘাতে ছোট ভাই খালেদুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক মিয়া ও নিহতের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনকে বিকালে নিজ বাড়ি হতে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে মহান আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলায় রবিবার ১ মে মহান আন্তর্জাতিক মে দিবস পালিত হয়েছে। এদিন সকালে উপজেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ( রাজ-৮৮) ও অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির(এস-১১৩৮৭) যৌথ আয়োজনে পৌর শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি করা হয়। পরে কলেজ বাজারে ওই সংগঠনের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সামসুল হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। প্রধান বক্তা ছিলেন আ’লীগ সভাপতি অধ্য সইদুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন আ’লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হোসেন বিপ্লব, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সবুজ।

এ ছাড়াও সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক নেতা-কর্মি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো বক্তব্য দেন-  প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ওই সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী এবং বর্তমান সম্পাদক আব্দুল মান্নান প্রমুখ। উপস্থাপনা করেন শ্রমিক নেতা হযরত আলী।

পরে ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১১ শ’ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দিনাজপুর-৬ আসনের জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন – এমপি শিবলী সাদিক

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিনাজপুর-৬ আসনের সর্বস্তরের জনগণকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিনাজপুর -৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শিবলী সাদিক ।

১মে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিবলী সাদিক বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিনাজপুর -৬ আসনের সর্বস্তরের জনগণ ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ,সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক। পবিত্র ঈদুল ফিতর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও শান্তি।

তিনি বলেন, রমজানের দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নেক বান্দাদের জন্য ঈদুল ফিতর হলো পুরস্কার।

পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে এক কাতারে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

তিনি আবারও বলেন, দিনাজপুর -৬ আসনের সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।

মানাপের নওগাঁয় ঈদ উপহার পেল অর্ধশতাধিক দুস্থ পরিবার

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অর্ধশতাধিক অসহায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ মানব অধিকার নাট্য পরিষদ (মানাপ) নওগাঁ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের চাউলা বাজার মানাপ জেলা শাখার অফিস প্রাঙ্গনে বিকেল ৪ টায় এসব ঈদ উপহার সামগ্রী শহরের গরীব অসহায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানাপ এর নওগাঁ জেলা শাখার উপদেষ্টা মানবতাবাদী প্রকৌশলী চন্দন কুমার দেব, মো. জাহেদুর রহমান বাবু, মানাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি উত্তম সরকার, সহ-সভাপতি রাবেয়া খাতুন বেলী, এস এম আলমগির হোসেন, এ কে এম ফজলে মাহমুদ চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকী সিটু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তর আহমেদ, প্রচার সম্পাদক ইবনুল সাঈদ ইমন, মানাপ পৌর শাখার মো. রায়হান আলি, সাধারণ সম্পাদক অভিজিত দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সহ জেলা ও পৌর কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখীর তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ টি উপজেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী গতকাল শুক্রবার ২৯ এপ্রিল রাতে তান্ডব চালিয়েছ । এতে লন্ডভন্ড হয়েছে উপজেলা, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, পীরগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রাম। এ ঝড়ো বৃষ্টিতে আম, ধান, ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গেল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হালকা বৃষ্টি হওয়ার পর থেমে যায়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় এসব গ্রাম। কোথাও কোথাও ঘর-বাড়ির ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে অনেক স্থাপনা। তবে বৃষ্টির পানির চেয়ে ঝড়ো হাওয়া ছিল খুব বেশী৷ তখন থেকে সারারাত এবং পরের দিন রাত ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিছিন্ন ছিল।

জানা যায়, বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও ঘূর্ণিঝড় বাতাসের বেগ বেশি ছিল। কোথাও কোথাও ভারী বজ্রপাতও হয়েছে। অনেক মানুষের থাকার একমাত্র স্থাপনার সবকিছু বাতাসে উড়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙে পড়েছে কাঁচা-পাকা ঘর। উড়ে গেছে ঘরের চালা। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ঝড়ে ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে, গাছের ডাল পড়ে, প্রাচীরের ইট পড়ে বিভিন্নভাবে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

দুই শতাধিক গবাদি পশু আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে হারিয়ে গেছে। ধান, ভুট্টা ও কলার উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর গ্রামের আব্দুল গফুর বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে আমরা চারপাশে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। ঘরের টিনের চালাগুলো উড়ে চলে গেছে। যেটুকু আবাদ করেছিলাম, সে স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেল। এখন কীভাবে এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠব বুঝে উঠতে পারছি না।

সদর উপজেলার হাজিপাড়ার হারুন রশীদ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে গ্রামের মানুষের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি এবারে আমরাও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের অনেকগুলো প্রাচীর ভেঙে পড়ে গেছে৷ অনেক ঘরের ওপরে গাছ পরে গেছে। কয়েক মিনিটের অপ্রত্যাশিত ঝড়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বলেন, এমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়া কালবৈশাখী ঝড় খুব কম দেখেছি। এর আগে একটা এলাকা বা কয়েকটা এলাকাকে কেন্দ্র করে হতো। এবারে পুরো জেলাজুড়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সমাজকর্মী আশরাফুল ইসলাম বলেন, রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে গ্রামের মানুষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের একমাত্র থাকার ঘর বিধস্ত হয়ে গেছে। পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সেসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মকবুল হোসেন বলেন, আমরা ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করছি। প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। শহরে চারটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। এগুলো সরানো হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ঝড়ের কারণে আম-লিচু বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে । কৃষির সব মৌসুমি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ পরিমাপ করার জন্য কৃষি অধিদপ্তর কাজ করছে।