লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

মোঃ খোরশেদ আলম :  মুসলমানদের কাছে ‘লাইলাতুল কদর’ একটি মহিমান্বিত রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ পালন করা হয়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতটি কাটান।

এ রাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি শবে-কদরে। শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এই রাতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা কদর)

লাইলাতুল কদরের নামাজ : লাইলাতুল কদরের রাতে নামাজ দুই রাকাত করে যত সুন্দর করে পড়া যায়, ততই ভালো। নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা কদর বা সূরা তাকাছুর মিলিয়ে পড়তে পারেন। এভাবে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি আদায় করতে পারলে ভালো।

এছাড়া, এই রাতে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। বেশি বেশি দোয়া পড়তে পারেন। তওবা করতে পারেন। সবই করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ত : “নাওয়াইতুআন উছল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা- রাক‘আতাই ছালাতি লাইলাতুল কদরনাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কা‘বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার”।

অর্থাৎ ‘আমি ক্বেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দু‘রাকআত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবার”।

লাইলাতুল কদরের দোয়া : হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, লাইলাতুল কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উচিত?’ রাসূল (সা.) বলেন,‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’

অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুনানে ইবনে মাজা)।

মৌলভীবাজারে পালিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: “গতিসীমা মেনে চলি, নিরাপদে বাড়ি ফিরি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার থেকে জেলায় সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২২ পালিত হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া’র নেতৃত্বে জেলা পুলিশ ও জেলা ট্রাফিক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ২৬ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত পালিত হবে সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ।

সড়ক নিরাপত্তা ট্রাফিক আইন ও ট্রাফিক সিগনাল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মনসুর নগর ট্রাফিক চেকপোস্টে জেলার উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সমন্বয়ে বিশেষ কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। চালক ও যাত্রীদের মাঝে সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া উপস্থিত থেকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে চালক ও যাত্রীদের সড়কে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রচারণা চালান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) হাসান মোহাম্মদ হাসান নাসের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম, টিআই প্রশাসন মোহাম্মদ মাহফুজ আলম ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) আনুমানিক বিকাল ৫ টায় পৌরশহরের প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের সামনে  হেঁটে যাওয়ার সময় থ্রি হুইলার (পাগলু) গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সালমুউদ্দিন জাতরু( ৮৩) নামে এক বৃদ্ধ দুর্ঘটনার শিকার হন। সাথে সাথে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত অবস্থায় এদিন আনুমানিক রাত ৯ টায় সে মারা যায়। জাতরুর বাড়ি রাণীশংকৈল বিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে।

বলিদ্বারা হঠাৎপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে লিটন আলী (২০) গতকাল সন্ধায় বলিদ্বার নলদিঘি নামক স্থানে থ্রি হুইলার পাগলুর সাথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আজ বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মারা যায়।

অন্যদিকে উপজেলার কাতিহার এলাকার সুভাস রায়ের ছেলে জিসান রায় (১৬) বুধবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধা ৭ টায় কাতিহার বিশমাইলে মোটরসাইকেল নিয়ে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়। পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

এদিন বিকালে উপজেলার নেকমরদ নয়া মার্কেট নামক স্থানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার করিয়া গ্রামের আব্দুস সালামের ৭ বছরের মেয়ে রাস্তা পাড়াপাড়ের সময় মহেন্দ্র ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে  নেয়ার পথে মারা যায়।

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম জাহিদ ইকবাল সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে নিহতদের পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নেত্রকোণায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২২ পালিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ “বিনা খরচে নিন আইনি সহায়তা, শেখ হাসিনার সরকার দিচ্ছে এই নিশ্চয়তা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২২। দিবসটি উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা নেত্রকোণা জেলা কমিটির আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে রঙিন বেলুন উড়িয়ে দিবসটির সূচনা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির।

পরে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়ে পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো আদালত প্রাঙ্গণে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির। এ সময় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, পৌর মেয়রসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দগণ।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মুরাদনগরে জিজিএস কমিটির মানববন্ধন

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, গৃহ-নির্মাণ সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য উর্ধ্বগতি ও বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার জিজিএস কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট সড়কে জিজিএস কমিটির মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জিজিএস কমিটির মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিটি দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। সরকারের উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা। তা না হলে আগামী নির্বাচনে মানুষ এ সরকারের ওপর আস্থা নাও রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরার জন্য বাজার মনিটরিং আরোও জোরদার করতে হবে।

ফুলবাড়ীতে ১০০ বোতল ফেনসিডিল সহ তিনজন গ্রেফতার

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের  ফুলবাড়ী থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০০ বোতল ফেনসিডিল সহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মনজুরুল ইসলাম ও এএসআই আব্দুস সামাদ সহ পুলিশ সদস্যরা উপজেলার উত্তর কাশিপুর এলাকার বেড়াকুটি-ছিলাখানা গামী পাঁকা রাস্তায় অটো রিক্সা সহ তাদের হাতেনাতে আটক করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন জেলার চিলমারী থানার নয়াবাড়ী গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (২৮), একই গ্রামের আব্দুল আজিতের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (২৬) এবং একই উপজেলার রমনা খামার গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে নাজমুল হুদা নয়ন (২৫)।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সারওয়ার পারভেজ জানান, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ  আইনে মামলা দায়ের করে আটককৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রসাশক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মিছবাহুর রহমান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়ে জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক মিছবাহুর রহমান কাছে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। জেলা পরিষদ মানুষের জন্য কাজ করার একটি উত্তম জায়গা। আমার বিশ্বাস চেয়ারম্যান হিসেবে বিগত দিনে যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে  আগামীতেও সেভাবেই কাজ করে যাবো।

তিনি দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল শাখা উপ- শাখার নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেম্বার চেয়ারম্যানদের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ৫ ধারা অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় পরিষদসমূহ বিলুপ্ত করা হয়। একই আইনের ৮২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁয় পূর্বশত্রুতার জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া মৌজার মুন্সিপাড়া গ্রামের মৃত শ্রী নরেস চন্দ্র দাসের বাড়িতে গত ২৫ এপ্রিল রাত আটটার সময় সন্ত্রাসী কায়দায় দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র সজ্জিত হইয়া সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি গ্রামের মো. গাজীর ছেলে মো. ডিপজল হোসেন (৩০), মো. রোহান রোসেন ( ২৭), মো. গাজী (৫০) মো. হায়দার এর ছেলে মো. রায়হান হোসেন (৩৬) মো. হায়দার মো. লিয়ন (২৫) মো. শাহাজান হোসেন সহ অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে বাসার দরজা না খুললে বাড়ির নিরাপত্তা প্রাচীর টিনের বেড়া ভাঙচুর করে বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের থাকা মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।

মৃত শ্রী নরেস চন্দ্র দাসের স্ত্রী রিতা রানী (৪০) বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বাড়িতে রাতের বেলা হামলা চালায় আমার মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়িতে দুই লক্ষ টাকা রাখা ছিল সে টাকাগুলো লুটপাট করে নিয়ে যায় ও বাড়ির আসবাবপত্র মালামাল ভাঙচুর করে। আমরা নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি ও আমার মেয়ে রাতের বেলা ছাদে গিয়ে ছাদের উপর থেকে নিচে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাই। তবে আমার মেয়ে ছাদে থেকে লাফ দেওয়ার কারনে আঘাত পেয়েছে সে এখন অসুস্থ চিকিৎসাধীন অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। কিছুদিন পূর্বে আমার ছেলেকেও হত্যার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দিলে হাত দিয়ে ধরলে হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলে হাসপাতালেও তারা চিকিৎসা করতে দেয় নাই আমার ছেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ঢাকাতে আছে। ডিপজল হোসেন ও তার বাহিনী চলে যাওয়ার পরে বাসায় এসে দেখি আমার ঘরের সবকিছু জিনিস পত্র ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এলাকাবাসী অনিমা দাস বলেন, রাতের বেলা কিছু লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ সীমানাপ্রাচীরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপাইতে দেখি এমন অবস্থায় আমরা এগিয়ে আসতে চাইলে আমাদেরকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আসতে নিষেধ করে আমরা জীবনের ভয়ে আর এগিয়ে যায় নাই। এভাবে গ্রামে রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র সহ কিছু লোক এসে একটি বাড়িতে হামলা চালাবে এটা ঠিক না আমরা গ্রাম বাসী এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ একটি পেয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বি এন পি ব্যর্থঃ

রাজনীতিতে যে দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম তারা দাবী করে বেশী। তারা জানে তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। সম্ভাব্য ক্ষমতার দল কথা বলে হিসাব করে। ক্ষমতায় গিয়ে দাবী পুরণ করতে না পারলে জবাব দিতে হয়। বি এন পি সহ অনেক দলের দাবী শুনেই তাদের গ্রহনযোগ্যতার প্রমান মিলে। বিগত ১৩ বছর ধরে সরকারের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ করা ছাড়া বিরোধী দলের রাজনৈতিক কোন সাফল্যই নেই। দুর্নীতির অভিযোগ সব সরকারের আমলেই হয়েছে এবং হবে। কিন্তু বি এন পি সরকারের কোন দুর্নীতিবাজ নেতার বিচার হয়নি। বর্তমান সরকার দলের দুর্নীতিবাজ অনেকে নেতাকে জেলে দিয়েছে। বিরোধী দলের উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ সত্য হলে তা প্রকাশ করে না কেন? প্রমান না হলে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে! তবে এত দুর্নীতি হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হল কিভাবে?

আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী হবেন সে কথা না ভেবেই বলা যায়। কিন্তু বি এন পি বিজয়ী হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা জানার অধিকার সকলেরই আছে। বি এন পি সেই নামটি গোপন রাখছে কেন? শোনা যাচ্ছে দলে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল এখন তুঙ্গে। দলের অবস্থা জেনেই কি তাহলে বি এন পি নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে? জামাত ইস্যু নিয়েও দলের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। জামাতের বিষয়ে নেতাদের আপত্ত্বির পরেও সখ্যতার করনটি বি এন পি পরিষ্কার করতে পারছেনা। জামাত বি এন পি’কে চালায় নাকি বি এন পি’ জামাতকে এমন প্রশ্নও এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। নেতারা নির্বাচনে যেতে চায় কিন্তু দল আগে থেকেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়ে রেখেছে। নির্বাচন বিষয়ে দ্বন্দ করে দলটি ভেঙ্গে গেলে দায়টি নেতৃত্বকেই নিতে হবে। কর্মীবাহিনীরা নিরাশ হয়ে অন্য দলে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মীবাহিনীর হতাশার কারনে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাটি এখন পরিষ্কার। বহু ত্যগী নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন শুধু মাত্র তারেককে খুশী করতে না পেরে। তারেক খুশী হন টাকা পেলে। আর তাই বি এন পি রাজনীতিতে পিছিয়ে পরেছে। নির্বাচনে না গেলে অস্তিত্ব সঙ্কটেও পরবে অনুমান করছে বিশ্লেষকরা।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা।


 

নবাবগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে নগদ অর্থ প্রদান করলেন সাংসদ শিবলী সাদিক

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০০ বাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। ক্ষতি হয়েছে দেড় শতাধিক বিঘা ফসলের। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর স্থানীয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের নগদ সহায়তা দেন।

কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম সবুজ  বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এতে ইউনিয়নের গিলা ঝুঁকি, ছাবেদগঞ্জ, মাহাতাবপাড়া, শাল্টিপাড়া, ঘোনাপাড়া গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রায় দুই সহস্রাধিক কাঁচা ও আধা পাকা বাড়ি ভেঙে পড়ে। এতে আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক রাতেই ঝড়ে আক্রান্ত গ্রামগুলোতে ছুটে যান। সারারাত জেগে নিজ গাড়িতে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো মেরামতের চেষ্টা করেছেন অনেকে। আবার অনেকে আহাজারি করছেন। কিছু কিছু জায়গায় টিনের চালা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ঝুলে আছে।

সাবেদগঞ্জের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন,গ্রামের লোকজন প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরবাড়ির ইটের ও মাটির দেওয়াল ঘুমন্ত গ্রামবাসীর ওপর ভেঙে পড়ে।

পাশের বাড়ির সাবিনা বিবি বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামান্য বৃষ্টি শুরু হয়। এর মিনিট খানেক পরেই আচমকা দমকা হওয়া শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাকা দেওয়ালের নিচে আমি ও এক ছেলে চাপাপড়ি। ঝড়ে আমার স্বামী ও আরও দুই ছেলে আহত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে।

কুষ্টিয়াপাড়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব আজগর আলী বলেন, আমার জীবনে এমন ঝড় দেখিনি। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ঝড় এলাকা তছনছ করে দিয়েছে। আমার এক নাতির হাত ভেঙে গেছে। আমাদের থাকার জায়গা নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এসে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে যাই। আহতদের উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। নিজ অর্থায়নে গ্রামে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়িতে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।