১৫ দিন নয়, পুরো রমজানেই প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের দাবি

শিক্ষা ডেস্কঃ ১৫ দিন নয়, পুরো রমজানেই প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দীন গণশিক্ষা সচিব বরাবর এক চিঠিতে এ আবেদন করেন।

তিনি বলেন, রমজানে প্রচণ্ড গরমে রোজা রেখে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের খুবই কষ্টসাধ্য হবে। ৮০ ভাগ নারী শিক্ষক সেহরি প্রস্তুত করে সংসারের কাজ করে স্কুলে আসেন। সারাদিন স্কুল শেষে আবার ইফতারের সকল প্রস্তুতি ও সংসার পরিচালনা খুবই কষ্টকর হবে।

এ ছাড়া রমজানে কোমলমতি অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়। তারা বিদ্যালয়ে না এসে কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে চলে যায়। তাই, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখবেন এটাই ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রত্যাশা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, করোনায় পিছিয়ে পড়ায় শিখন ঘাটতি কাটাতে এবার রোজার ছুটি কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন রোজায় ছুটির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) থেকে সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুল ও কলেজে রোজার ছুটি শুরু হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোজার ছুটি শুরু হবে আগামী ৭ এপ্রিল। অর্থাৎ রমজানে প্রাথমিক স্কুলে ১৫ দিন পর্যন্ত ক্লাস চলবে।

বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল ট্রানজিট চুক্তি

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধায় যানবাহন চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বুধবার (২২ মার্চ) ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এই  চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যুগান্তকারী চুক্তি দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিড চুক্তি হলে উভয় দেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারত হয়ে সরাসরি  চলাচল করতে পারবে। ফলে ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে বাড়তি সুফল পেতে হলে রাস্তা-ঘাটসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নতি করতে হবে। মূলত অর্থনৈতিক দিক বিবেচনার থেকে মানবিক দিক বিবেচনার কারণেই ভুটানকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তবে এখানে উভয় দেশের ট্রানজিট শুধু নয়, তৃতীয় দেশও রয়েছে। এতে কলকাতা বন্দর ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে ভুটান। এর মাধ্যমে ভুটানের তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূমিকা রাখবে। আর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের বন্দর ও পরিবহন ব্যবহার করলে আমাদের রাজস্ব আয় বাড়বে৷

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখন পর্যন্ত সীমিত। আমদানি রপ্তানি মিলিয়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের মতো। যেখানে আমাদের রপ্তানি বেশি আমদানি তুলনামূলক ভাবে কম। ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হলে সেখানে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেহেতু তৃতীয় দেশ ব্যবহারের সুয়োগ থাকছে এতে আমদানি ও রপ্তানি ব্যয় কমে আসবে।

তিনি বলেন, ভুটান থেকে যে সকল পণ্য আমদানি হয় তার মধ্যে পাথর ও কৃষিজাত পণ্য বেশি। এতে ট্রানজিট সুবিধা পেলে আমদানিকৃত পণ্যে মান ঠিক রাখাসহ অপচয় ও সময় কম লাগবে যা উভয় দেশে সুবিধা পাবে। এছাড়া তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের যে সুবিধা পাবে সেটা একটা নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যে বন্দরগুলো ভুটান ব্যবহার করবে সেখানে আয় বাড়বে। এক্ষেত্রে সরকারকে যে বিষয়ে নজর দিতে হবে সেটা হলো, বাংলাদেশের যে বন্দরগুলো কম ব্যবহৃত হয় যেমন মোংলা ও পায়রা বন্দরগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যে যানবাহন ব্যবহার হবে সেখানেও রাজস্বের একটা বিষয় রয়েছে। এজন্য সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে যে ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে উভয় দেশের বা শুধু বাংলাদেশের ট্রান্সপোর্টকে যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমন যদি হয় তাহলে পরিবহন খাতে পজিটিভ প্রভাব পড়বে। এতে করে বেসরকারি খাত উৎসাহী হতে পারে।

ট্রানজিট যদি ইতিবাচকভাবে ঘটে তাহলে বিবিআইএন এর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল এই চার দেশের মধ্যে মোটরভ্যাইকেল যে এগ্রিমেন্ট হওয়ার কথা ছিল। যেটা ভুটানের আপত্তির কারণে আলোর মুখ দেখেনি। এই ট্রানজিট চুক্তি বিবিআইনএন চুক্তি স্বাক্ষরে ভুটানকে উৎসাহী বা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন তিনি।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে আমদানি-রপ্তানি উভয় ধরনের পণ্য পরিবহনের সুবিধা পায়। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের ট্রানজিট চুক্তি হলে উভয় দেশেই যান চলাচল করতে পারবে। এচুক্তি কার্যকর হলে সড়ক, রেলপথ, আকাশপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নৌপথেও পণ্য পরিবহন বাড়বে। এতে দেশের কিছু রপ্তানিসহ রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে অর্থনৈতিক সুবিধাসহ ভুটানের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক দৃঢ় হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর অর্থনৈতিক যে সুযোগ আছে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। যদিও ভুটানের লোকসংখ্যা মাত্র ৭ লাখের কিছু বেশি। এতে নতুন করে কী আর রপ্তানি হবে। ট্রানজিড সুবিধা বাড়াতে অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে৷ এছাড়া এই ট্রানজিট চুক্তি বিবিআইএন চুক্তি করতে ভুটানকে উৎসাহী করবে।

খবরঃ ইউএনবি।

ওয়াজে বয়ানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারে একটি ওয়াজ মাহফিলে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ানরত অবস্থায় মঞ্চেই মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক ইমাম। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। ওই ইমামের মৃত্যুতে পুরো কুলাউড়ায় মুসল্লী ও আলেমদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বায়তুল মা’মুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব  মাওলানা আব্দুল মালিক আল মনসুরী (৬৫), এশার নামাজের ইমামতি শেষ করে ২১ মার্চ (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের স্থানীয় রাজাপুর জামে মসজিদে আসন্ন রামাদ্বান উপলক্ষে দ্বারুল ক্বেরাত মাজিদিয়া ফুলতলি ট্রাস্টের প্রস্তুতি মূলক বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়াজ পেশ করতে যান।

Google Newsডিজিটাল বাংলা নিউজ” অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বয়ান শুরু করে দূরুদশরীফ পাঠ করা অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাইকের উপর পড়ে জান। সবাই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই আলেমের আকস্মিক মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাজার সহ পুরো কুলাউড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মো:মমদুদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,  উনার গ্রামের মসজিদে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে ওই আলেম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন, ওয়াজ শুরুর মিনিট দুয়েকের মধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সাথে সাথে তিনি নিজে গাড়ী চালিয়ে ওই আলেমকে স্থানীয় মুসলিম এইড হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশির হারানো মালামাল উদ্ধার করলো কলকাতা পুলিশ

২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশির হারানো মালামাল উদ্ধার করেছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা থেকে দেশে ফেরার পথে গোপাল দাস নামে ওই বাংলাদেশি লক্ষাধিক টাকা ও ব্যাগপত্র হারায়। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় ওই বাংলাদেশি অভিযোগ করলে কলকাতা পুলিশ গোপালের হারানো টাকা-পয়সা ও ব্যাগ উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ।

গেলো ২০ মার্চ (সোমবার) কোলকাতা পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার (১৭ মার্চ) কলকাতা নিউমার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কলকাতা পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুকের পোস্ট থেকে জানা যায়, গোপাল দাস দেশে ফিরে আসার সময় মির্জা গালিব স্ট্রিটে এক বন্ধুর সঙ্গে কিছু কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ দেখেন, নিজের সাইড ব্যাগের চেন খোলা এবং ভেতর থেকে আরেকটি ছোট ব্যাগ উধাও। ব্যাগে ছিল আনুমানকি ৫০০ মার্কিন ডলার, ৪০ হাজার বাংলাদেশি টাকা এবং ৬ হাজার ভারতীয় মুদ্রা। এদিকে গোপালের হাতে ২৪ ঘণ্টাও নেই। তার দেশে ফেরার বিমান ছিল ১৮ মার্চ রাতে। এরপরেই গোপাল দ্রুত নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গেই কাজে লেগে যান পুলিশ। প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে চিহ্নিত করে ফেলেন দুই সন্দেহভাজনকে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাতভর তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তারও করে ফেলেন তাদের। তারপর উদ্ধার হওয়া টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র আদালতের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হয় গোপালকে।

১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ২৭ তরুণ-তরুণী

১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেয়েছেন নড়াইলের ২৭ জন তরুণ-তরুণী। ‘চাকরি নয় সেবা’ শ্লোগানে স্মার্ট পুলিশ তৈরি করতে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

গতকাল বুধবার (২২ মার্চ) সকালে নড়াইল জেলা পুলিশ লাইনস ড্রিলশেডে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা পুলিশের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন।

পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন বলেন, মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে স্বপ্ন পূরণ হলো নড়াইলের ২৭ তরুণ-তরুণীর। কোনোরকম ঘুষ-তদবির ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নে পুলিশে চাকরি হয়েছে তাদের। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী করে স্মার্ট পুলিশিং ব্যবস্থা বিনির্মাণের প্রত্যয়ে বিদ্যমান কনস্টেবল পদে নিয়োগ পদ্ধতির আধুনিকায়ন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্যতম প্রার্থীকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। যে সকল প্রার্থী প্রতিটি পরীক্ষায় নিজ নিজ যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে শুধুমাত্র তারাই নিয়োগযোগ্য হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম, এস এম কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতে চা সংশ্লিষ্টরা মহানন্দে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: গত তিন দিন ধরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত চায়ের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে চা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত। প্রনিং (আগা ছাঁটাই) করা চা গাছে দ্রুত গজাতে শুরু করবে কুঁড়ি। এই বৃষ্টিপাতের কারণে চা সংশ্লিষ্টরা মহাখুশি। চা শিল্পাঞ্চলে বইছে আনন্দের বন্যা।

২০২৩ সালে চা উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ১০২ মিলিয়ন কেজির বেশি ধরা হয়েছে। ২০২২ সালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০ মিলিয়ন কেজি। শ্রমিক কর্মবিরতির কারণে সেখান থেকে একটু কম হয়েছে। তিন-চার সপ্তাহ চা শ্রমিকরা কাজ না করায় চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় এর প্রভাব পড়েছে।

শ্রীমঙ্গলসহ চা শিল্পাঞ্চলে রোববার সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত তিন দফায় ১৯.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  সোমবার (২০ মার্চ) সকাল ৩টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৪ মিলিমিটার।  ঠিক একই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও আশানুরূপ বৃষ্টির দেখা মিলেছে  বলে জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে কাংখিত বৃষ্টিপাত চায়ের জন্য সুফল বয়ে আনবে। ২০২৩ সালের এই মওসুমে চা উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ১০২ মিলিয়ন কেজির বেশি ধরা হয়েছে। মার্চের এই বৃষ্টিপাত আমাদের চা সংশ্লিষ্টদের কাছে আশির্বাদ সরূপ। টিপিং এর কাজটি হবে যথাযথ। ফলে চায়ের গুণগত মানও অক্ষুন্ন থাকবে। কাংখিত ধারায় বৃষ্টিপাত হলে চা উৎপাদনে এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আমি আশাবাদী।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত হওয়াতে চা শিল্পের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। বৃষ্টি হওয়ায় এখন চা গাছে দ্রুত নতুন কুঁড়ি চলে আসবে। টিপিং দ্রুত হবে। এরপর প্লাকিংও শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লক্ষ্যে মাত্রার ওপরে চা উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে ১৩০ মিলিয়ন কেজি চা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা হবে এবং বাকি ১০ মিলিয়ন কেজি চা বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদিতে ২৩ মার্চ থেকে রোজা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবে পবিত্র রজমান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে আগামী ২৩ মার্চ থেকে রমজান মাস শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সৌদির সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের কোথাও পবিত্র রজমান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে দেশটিতে ২২ মার্চ হবে শাবান মাসের শেষ দিন। আর রমজান মাস শুরু হবে আগামী ২৩ মার্চ।

মুসলিমরা চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে। চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আরবি ১২ মাসে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই আরবি ক্যালেন্ডারের নবম এই রমজান মাস শুরু হয়।

জানা গেছে, রমজানের চাঁদ দেখা নিশ্চিত করতে বুধবারও সৌদির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে।

ইসলামে প্রত্যেক সুস্থ ও সবল মুসলিমের জন্য রোজা পালন ফরজ। মুসলিমরা রমজান মাসকে আত্মিক পরিশুদ্ধির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। পবিত্র এই মাসেই কোরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়।

রমজানে খেজুরের বাজারের ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্কঃ এবছর রমজানে খেজুরের দাম পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে রোজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ খেজুর কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে, কপালে পড়ছে ভাঁজ। আগে যেসব ক্রেতা পাঁচ কেজি খেজুর কিনতেন তারা এখন কিনছেন ১ থেকে ২ কেজি।

তবে আমদানিকারকরা বলছেন: খেজুরের দাম বাড়েনি। তিন-চার বছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে খেজুরের দাম যা ছিলো এখন আবারও সে অবস্থায় ফিরেছে। মাঝের বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে সৌদিতে হাজীদের যাওয়া সীমিত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে খেজুরের চাহিদা কম ছিলো। যার কারণে দাম পড়ে গিয়েছিলো। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় খেজুরের আন্তর্জাতিক বাজার দর আগের অবস্থানে ফিরেছে।

‘দেশের বাজারে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন। আগে ১ ডলার বাণিজ্যিক ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য ছিলো ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা। এখন সেখানে আমদানিকারকদের পরিশোধ করতে হচ্ছে ১০৮ থেকে ১০৯ টাকা পর্যন্ত। এখানেই খেজুরের বেড়ে গেছে শতকরা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। আবার আমদানি পণ্যের ওপর সরকারি ডিউটি-ট্যাক্সও ডলার রেট বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে গেছে। যেখানে আগে একটা ক্যারেটের জন্য খরচ হতে ৩০০ টাকা এখন সেটা ৫০০ টাকা।’

আমদানিকারকরা বলছেন, সব মিলিয়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে শতকরা ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে খেজুরের দাম কয়েক বছর আগের দাম থাকলেও দেশের বাজার বাড়তি।

পাকিস্তান-আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। এরই মধ্যে পাকিস্তানে ৯ জন এবং আফগানিস্তানে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ মার্চ) পাকিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে এ ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি)।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপের (ইউএসজিএস) বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটি ১৮৭ কিলোমিটার (১১৬ মাইল) গভীরতায় আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের জুর্ম শহরের ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে।

ভূমিকম্পে ইসলামাবাদ, লাহার, কুয়েত্তা, রাওয়ালপিন্ডি, পেশওয়ারসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রদেশ কেঁপে ওঠে।

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৩ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি কম্পনের ঘটনা ঘটে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া। সেখানকার আঞ্চলিক উদ্ধার সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কোথাও কোথাও ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগের প্রাণই গেছে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে।

ভারতের নয়াদিল্লি, আফগানিস্তানের কাবুল এবং কাশ্মীরেও এ কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এসব অঞ্চলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল ফাইজি বলেন, সোয়াত উপত্যকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার হাসপাতালে অন্তত ২৫০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের ভূমিকম্প পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন।

এর আগে ইসলামাবাদে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং ১৯ জানুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ার কয়েকটি জেলায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়ঃ প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার (২২ মার্চ) দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের কাছে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কোনো মানুষ ঠিকানাহীন থাকবে না। শুধু থাকার ব্যবস্থাই নয়, সেই সঙ্গে পানির ব্যবস্থা, ঋণসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সহায়তা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, একটি উপজেলায়ও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। দুর্যোগে কেউ ভূমিহীন হলে তাকেও ঘর করে দেওয়া হবে। ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসিই বড় পাওয়া।

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যদি ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকে আপনার তার তালিকা করবেন। আমরা তাদেরও ঘর করে দেব।