শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর মনোরঞ্জন বৈদ্য আর নেই

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সমাজ হিতৈষী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রাক্তন কমিশনার ও প্যানেল চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র বৈদ্য অরফে মনোরঞ্জন বৈদ্য আর নেই। সোমবার বিকেলে ৪টার দিকে সিলেটের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি ৪ ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। মনোরঞ্জন বৈদ্য তাঁর দীর্ঘ জীবনকালে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক পদে আসিন ছিলেন। বর্তমানে তিনি শ্রীমঙ্গল সবুজবাগ রাধামাধব জিউর আখড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি, শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিনিয়র সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। জীবনকালে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্টানে পারিবারিকভাবে ভূমি দানসহ আর্থিক সহায়তা করেগেছেন। তিনি শ্রীমঙ্গল বৈদ্যবাড়ি সড়কের সার্বজনীন কালী বাড়ীর প্রতিষ্টাতা, শ্রীমঙ্গল সারকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা, এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন সড়কেরও ভুমিদাতা। এ ছাড়াও বহু বছর হবিগঞ্জ রোডে তার বিল্ডিংএ শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয় ছিল।

মনোরঞ্জন বৈদ্যের বড় ছেলে সুজিত বৈদ্য শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন, তার ২য় ছেলে সঞ্চয় বৈদ্য একজন ব্যবসায়ী, ৩য় ছেলে চয়ন বৈদ্য ফ্রান্স প্রবাসী, ৪র্থ ছেলে  সুমন বৈদ্য, তাঁর বড় মেয়ে বাবলী বৈদ্য লন্ডন প্রবাসী, ছোট মেয়ে সীমা বৈদ্য ডেনমার্ক প্রবাসী।

এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসীন মিয়া মধু, শ্রীমঙ্গল পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

নওগাঁর আত্রাইয়ে চকতেমূখ ইসলামগাঁথী খাল পূনঃ খনন কাজের উদ্বোধন

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে চকতেমূখ ইসলামগাঁথী খাল পূনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় প্রকৌশল এলজিইডি আওতায় প্রকল্প বান্তবায়নে ৭,০৫,৭৪,০২০ টাকা ব্যয়ে সমস পাড়া স্লুইজগেট সংলগ্ন গুড়নদীর মহনা হতে বড় সাঁওতা হয়ে নাগর নদী মহনা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিঃ মিঃ সরকারী এ খাল পূনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ। অন্যান্যোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জোনায়েত আলম, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম আজাদ, চ্যানেল আই নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি ও নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইমরুল কায়েস, আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক কামাল উদ্দিন টগর, বিশা ইউনিয়ন
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চকতেমূখ ইসলামগাঁথী পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ, চকতেমূখ ইসলামগাঁথী পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বিশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা বিউটি বেগম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদিকা ও চকতেমূখ ইসলামগাঁথী পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোছাঃ জাহেদা বেগম, সদস্য ফিরোজ হোসেন,শাহজাহান আলী প্রমূখ।

নওগাঁ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ জানান, ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে কৃষি কাজে সেচ সম্প্রসারণ করা এ প্রকল্পের লক্ষ্য। চকতেমূখ ইসলামগাঁথী সমসপাড়া স্লুইজগেট সংলগ্ন গুড়নদীর মহনা হতে বড় সাঁওতা হয়ে নাগর নদী মহনা পর্যন্ত এ খাল পূনঃ খনন কাজ শেষ হলে পূনঃখননকৃত খালে পঞ্চাশ হাজার ঘন মিটার কিউসেক পানি সংরক্ষণ হবে। এ পানি দিয়ে এক দিকে দেশীয় মাছের প্রজনন ও কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং শুকনো মৌসুমে কৃষকের সেচ কাজে এ পানি ব্যবহার করতে পারবেন।

রাণীশংকৈলে গম ক্রয়ের জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে এগারোটায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাবরুমে গম ক্রয়ের জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এ উম্মুক্ত লটারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ।  এ সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসকে আব্দুলাহ, কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ, উপ-খাদ্য পরিদর্শক নবাব আলী, ওসি এল এসডি সুমাইয়া খানম, কৃষক প্রতিনিধি সহকারি অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম,পি আই ও সামিয়েল মার্ডি,যুব-উন্নয়ন অফিসার নজরুল ইসলাম, কৃষকবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এবার গম প্রতি কেজি ২৮ দর মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিজন কৃষক ৩ মেট্রিক টন গম দিতে পারবে। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এবার ছেলের অভিনয় নিয়ে চঞ্চল চৌধুরীর মন্তব্য!

বিনোদন ডেস্কঃ বাংলাদেশের অভিনয় জগতের জনপ্রিয় একজন তারকা চঞ্চল চৌধুরী। টিভি নাটক, সিনেমা ও ওয়েব প্ল্যাটফর্ম; তিন মাধ্যমেই তার আলাদা দাপট রয়েছে। এবার এই সফল তারকার একমাত্র সন্তান অভিনয়ে পা রাখতে যাচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। বৃন্দাবন দাসের রচনা ও দীপু হাজরার পরিচালনায় ‘সুশীল ফ্যামেলি’ নাটকে এবার দেখা যাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার খ্যাত এই তারকার ছেলে শুদ্ধকে।

চঞ্চল চৌধুরী এবার ছেলের অভিনয়ের বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, শুদ্ধর জাস্ট প্রথম টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো! ব্যাপারটা আহামরি কিছু না। গিয়েছিল পুবাইলে এবারের ঈদের নাটকের শুটিং দেখতে। সাথে ওর মা-ও ছিল। ইম্প্রোভাইজড ছোট ছোট চার পাঁচ ডায়লগের ছোট্ট একটা সিকোয়েন্স। কো আর্টিস্ট দিব্য সৌম্য।

ছেলের অভিনয় করা অপরিকল্পিতভাবে হলেও অভিনয়ের আগ্রহের কথা জানিয়ে চঞ্চল বলেছেন, শুদ্ধর যথেষ্ট ইচ্ছা আছে অভিনয়ের। শুধু ইচ্ছায় তো আর কাজ হবে না। আগে তো শুটিং দেখতে হবে, তারপর অভিনয়টা শিখতে হবে। তারপর তো অভিনয়। চঞ্চল চৌধুরীর ছেলে বলেই যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েই খুব সহজে অভিনেতা হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এরকম নয়।

শুদ্ধ বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে, ওর বয়স এখন ১২ বছর।  চঞ্চল বলেন, যদি ওর যোগ্যতা ও নিয়তি আমার মত ওকেও ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসে, তখন হয়তো এই ছবি গুলোই একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে। বৃন্দাবন দাসের রচনায় ‘সুশীল ফেমিলি’ নামক ঈদ নাটকে দেখা যাবে শুদ্ধকে। দীপু হাজরার পরিচালনায় নাটকটি প্রচারিত হবে গাজী টিভিতে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমার অজান্তেই কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় বা ফেসবুকে এই খবরটি প্রচার হয়ে গেছে, তাই অতি প্রত্যাশা ও বিভ্রান্তি এড়াতে আমি নিজে থেকেই সঠিক তথ্যটা জানিয়ে দিলাম। ছেলের জন্য সকলের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে তিনি বলেন, শুদ্ধকে সবাই আশীর্বাদ করলেই আমি খুশী।

কমলগঞ্জে বঙ্গবন্ধু মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: শহর-গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য নিরসন এবং অবহেলা-অনাদরে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২২ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহার পারভীনসহ অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার ১০ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে ৩টি গ্রুপে ৪টি বিষয়ে মোট ১২ জন প্রতিযোগী উপজেলায় শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করে। বিজয়ীরা আগামী ২৫ এপ্রিল জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

বড়লেখায় গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিষপান করে লতিফা বেগম (৩৪) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির শুয়ারারতল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত লতিফা দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির শুয়ারারতল এলাকার হাবিবুর রহমানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে লতিফা বেগম বাড়িতে বিষপান করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে লতিফা মারা যান। পারিবারিক কলহের জেরে লতিফা বিষপান করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাসুক মিয়া সোমবার রাতে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের আঘতের কোনো চিহ্ন মেলেনি। লতিফার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মুরাদনগরে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

মুরাদনগর, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নারী উদ্যোক্তা এবং নারী নেত্রী শাহিন আক্তার মায়াকে হুমকি-ধমকি আপত্তিকর অডিও ভাইরাল সহ নানা অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থা মুরাদনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ত্রিশ এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ই-কমার্স ফ্যাশন ডিজাইন, ইনটোরিয়াল ডিজাইন, বিউটি পার্লার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আড়াই শতাধিক নারী উদ্যোক্তা এবং প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় একটি প্রতারকচক্র ফাঁদ পেতে সংস্থার চেয়ারম্যান শাহীন আক্তার মায়ার কল রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান মায়া দীর্ঘদিন যাবৎ নারীদের অধিকার রক্ষা তাদেরকে প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি প্রতারক চক্র ষড়যন্ত্র করে তার আপত্তিকর একটি অডিও ভাইরাল এবং প্রচার করে। আপত্তিকর এ কল রেকর্ডকে পুঁজি করে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয় বিষয়টি নিয়ে ওই উপজেলার নারী উদ্যোক্তাসহ সচেতন মহলের চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভায় নারী উদ্যোক্তারা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এতে বক্তব্য রাখেন মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণার্থী আমেনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, ঝড়না বেগম, আয়েশা সিদ্দিকা, তাহমিনা আক্তার প্রমুখ।

উজানচর নূরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর নূরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে  ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।  ১৬ই রমজান রোজ সোমবার সন্ধায় উজানচর নূরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ছাত্র, শিক্ষক মাদ্রাসার কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের  উপস্থিতিতে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, পূর্ব মুহূর্তে  সকলের সুখ শান্তি বাংলাদেশ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

উক্ত ইফতার মাহফিলে উপস্হিত ছিলেন গাউছিয়া হামিদিয়া সুন্নিয়া নজীবা বেগম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো.গিয়াস উদ্দিন, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউ পি সদস্য মো.ওয়ারিশ মিয়া,সাবেক স্কুল মেম্বার অদুধ মিয়া, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা গাউছিয়া কমিটি সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাও. আব্দুল ওয়াদুদ আল-ক্বাদরী, উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি ধর্মীয় শিক্ষক মুফতি মাও.ইব্রাহিম খলিল আল-ক্বাদরী, বাঁশগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুফতি মাও.দ্বীন ইসলাম আল-ক্বাদরী, কল্যাণপুর আব্দুল হালিম আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আবুল কাশেম সালেহী, কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মাজহারুল ইসলাম, নূরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো.নজরুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো. ইকবাল, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা নুরমোহাম্মদ আল-ক্বাদরী,সভাপতি মো. মুকবল হাসান (মোক্তার), সহ সভাপতি মাওঃ উসমান গনি আল ক্বাদরী, উজানচর নূরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সহকারি কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী (পলাশ) মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর (রুমি) উপদেষ্টা মো.ফরিদ মিয়া, সহকারি পরিচালক মো.সেলিম মিয়া, গাউছিয়া হামিদিয়া সুন্নিয়া নজীবা বেগম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাও.মো.সাজ্জাতুল ইসলাম (সাদ্দাম) প্রমূখ।

ডোমারের চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত  হয়েছে। সোমবার (১৮  এপ্রিল) নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে  জাঁকজমকপূর্ণভাবে চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবকদের স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, ডোমার উপজেলার চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনী তফসীল অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল ভোট গ্রহনের তারিখ নির্ধারন করা হয়।

চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালেয়ের ভোটার সংখ্যা ১২১৪ জন। উক্ত নির্বাচনে অভিভাবক পদে পুরুষ ১২ জন  মহিলা ২ জন অংশগ্রহণ করেন।

ভোট গ্রহন সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। ১৪ জনের মধ্যে লিটন ,আজম আলী, রশিদুল আলম ও মিজানুর রহমান চৌধুরী সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। মহিলার মধ্যে  জয়লাভ করেন জিন্নাতুন বেগম।

নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আবু রাহাত সোহেল (রানা), উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার উক্ত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আনোয়ারুল ইসলাম, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জনাব এস এম হাবিব মর্তুজা ও পোলিং অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বড়লেখা পৌরবাসী

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। প্রায় সাড়ে ১১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতকরণ কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্বকালে পৌরসভায় যেমন ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে পৌরবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আজও পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলার (ভাগাড়) নিজস্ব কোন জায়গা নির্ধারণ করতে পারেননি দুই মেয়াদের মেয়র কামরান। বর্তমানে পৌরসভার শেষ প্রান্ত কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আইলাপুর নামক স্থানে বর্জ্য ফেলছেন। আন্তঃজেলা রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসি ও কয়েক হাজার পথচারীরা মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলার দাসেরবাজার, নিজ বাহাদুরপুর, তালিমপুর ও বর্ণি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের বড়লেখা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের এই সড়কের পাশেই ময়লার ভাগাড়টি গড়ে ওঠেছে। এই ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে ভুক্তভোগিরা নাক-মুখ চেপে চলাফেরা করছেন। এনিয়ে সাধারণ মানুষ মেয়রের উপর বেজায় ক্ষিপ্ত। পৌর কর্তৃপক্ষের সৃষ্ঠ পরিবেশ দূষণের অত্যাচার থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।

এছাড়া বর্ষায় ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় পৌরশহরের কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। দোকান পাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হন। জলাবদ্ধতার শিকার কয়েক হাজার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। পৌরমেয়র জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কয়েকটি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করলেও উত্তর চৌমুহনি হতে কলেজ রোডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ দিয়ে ষাটমাছড়া পর্যন্ত বয়ে যাওয়া নালা দখলমুক্ত ও সংস্কার না করায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের আজও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌরবাসীকে জলাবব্ধতার হাত থেকে মুক্তি দিতে মেয়রের সাম্প্রতিক লংলীছড়া, দিনেশ্বরী, নিখড়িছড়া, চাঁদনিছড়াসহ কয়েকটি খাল খনন প্রশংসিত হলেও উপজেলা চত্তর হয়ে টিটিডিসি প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন খালটি অপরিকল্পিত ও অত্যাধিক গভীরভাবে খননে পৌরসভার রাস্তাটি হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।

পৌর শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। আর এই তীব্র যানজটের ভোগান্তি থেকে কোনমতেই রেহাই পাচ্ছেন না পৌরশহরের মানুষজন। সড়কের দুইপাশের ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা, ভাসমান দোকান ও সড়কে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি বলে ভুক্তভোগিরা মনে করছেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন ও মেয়রের যৌথ উদ্যোগে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় পৌরবাসির মধ্যে স্বস্তি ফিরে। কিন্তু উচ্ছেদের মাত্র কয়েকদিন পর থেকেই পুনরায় অবৈধ স্থাপনা বসানো শুরু হওয়ায় পৌরবাসি উদ্বিগ্ন। ভুক্তভোগীরা নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

বর্ষা মৌসুম আসলেই পৌরশহরে চোখ রাঙায় মশা। বিভিন্ন নালা ম্যানহোলের ঢাকনা খুলা থাকায় সেখানে অপ্রতিরোধ্যভাবে মশার প্রজনন হচ্ছে। পৌরকর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শহরের প্রত্যেকটি বাসা বাড়িতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীরা দোকানপাটে মশার কয়েল জ্বালিয়েও বসতে পারেন না। এছাড়া আরও নানা সমস্যায় জর্জরিত বড়লেখা পৌরসভা। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেও এখনও পৌরসভার নিজস্ব ঠিকানা হয়নি।

পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, পৌরবাসীর জন্য জিওবি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছেন। পরিবেশমন্ত্রীর ঐকান্তিক সহযোগিতায় দেশের ৩০ টি পৌরসভার সাথে সুপেয় পানি প্রকল্পে বড়লেখা পৌরসভাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিটুমিন দিয়ে তৈরি রাস্তা অল্পদিনে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পৌরসভার প্রত্যেকটি রাস্তা উন্নতমানের আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকাকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ রাস্তা আরসিসি ঢালাইয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং বাকি রাস্তার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া বড়লেখা পৌরসভা ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেনিতে উন্নীত করার জন্য কাঙ্খিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বড়লেখা পৌরসভা। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতকরণ কার্যক্রম মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন। বড়লেখা পৌরশহরে অন্যতম সমস্যা যানজট। এই যানজট নিরসনে পৌরশহর থেকে কাঁচা বাজার সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ঠ একটি স্থানে কাঁচা বাজার সরিয়ে নেয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে বসতে না পারেন এবং যানজট সৃষ্টি না হয়। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে পৌরসভার প্রতিটি রাস্তার পাশে পরিবেশ বান্ধব কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও সোনালী গাছ লাগিয়েছেন। আগামি ফেব্রুয়ারী ও মার্চে এসব গাছে যখন ফুল ফুটবে তখন পৌরসভার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে।

এছাড়া করোনাকালে পৌরসভা এবং মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসংখ্য মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা করেছেন। মেয়র ও কাউন্সিলরদের তিন মাসের সম্মানি ভাতা একত্রিত করে ত্রাণ সহযোগিতা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একটি সবুজ ও আধুনিক বসবাস উপযোগী পৌরসভা নির্মাণে তিনিসহ কাউন্সিলররা কাজ করছেন।

মেয়র বলেন, আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়েছে সাথে সীমাবদ্ধতাও। আমরা পৌরবাসীকে সর্বোচ্চ নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার চেষ্ঠা করছি। তারপরও কাঙ্খিত কিছু সুবিধা দিতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। বর্তমানে পৌরসভার যেসব সমস্যা রয়েছে অচিরেই তা সমাধান করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।