মুরাদনগরে ট্রাক্টর খাদে পড়ে ইটভাটার ৩ শ্রমিক নিহত

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে ইটভাটার একটি ট্রাক্টর খাদে পড়ে চালকসহ তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের মুরাদনগর-শ্রীকাই সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের বল্লভ বাড়িয়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে টুটুল (২২), শাহ আলমের ছেলে বাবুল (২২) ও ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে হাছান (২৩)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতি দিনের মতো শনিবার সকালে উপজেলার বাখরনগর থেকে শ্রীকাইল ইউনিয়নের আশা-মতি ইটভাটার শ্রমিকরা একটি ট্রাক্টরে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে মোচাগড়া নামক স্থানে পৌছার পর ট্রাক্টরটি পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ইটভাটার তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। পরে লাশ উদ্ধার করি। কোন অভিযোগ না থাকায় লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের শাশুড়ি আর নেই

স্পোর্টস ডেস্কঃ ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের শাশুড়ি নার্গিস বেগম না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে সাকিব আল হাসানের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গাছে, শাশুড়ি মারা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসতে পারছেন না সাকিব। কারন ওখানে  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলায় গত ১ এপ্রিল বড় মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি। সেখানে মেয়েকে একা রেখে আসা সম্ভব নয় বলে দেশে আর ফেরা হচ্ছে না বাঁহাতি অলরাউন্ডারের। তবে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির বর্তমানে বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন।

সুত্রে জানা গেছে, শনিবার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে সাকিবের শাশুড়ির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মারা যান সাকিবের শ্বশুর মমতাজ আহমেদ। তখন অবশ্য দেশেই ছিলেন সাকিব।

ইউক্রেনে ক্রামতোর্স্ক রেল স্টেশনে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামতোর্স্ক শহরের রেলওয়ে স্টেশনে রুশ বাহিনীর রকেট হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এছাড়া হামলায় স্টেশনের পাশে রাখা চারটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধাপরাধ বলে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কারণে দক্ষিণের বন্দর শহর ওডেসাতে কারফিউ জারি করেছে শহটির কর্তৃপক্ষ।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ক্রামতোর্স্ক রেলস্টেশনে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

শহরের মেয়র আলেকসান্দের হনশারেঙ্কো জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার সময় রেলস্টেশনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ ছিল।

তিনি জানান, তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে এটি একটি রাশিয়ান রকেট ছিল এবং রকেটটি যে স্টেশনে আঘাত করেছিল, তার আশপাশে কোনো ইউক্রেনীয় সামরিক লক্ষ্য ছিল না।

হামলার জন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করা হলেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার কথা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিন্দা জানিয়ে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি ‘ভয়াবহ’ হামলা।

অপরদিকে, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রাশিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ ১৫ মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে মস্কো।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আসছে ২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

অর্থ ও বানিজ্য ডেস্কঃ এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০ এপ্রিল থেকে ৩২টি ব্যাংকের মাধ্যমে বাজারে নতুন টাকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদে অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) নতুন নোট বিনিময় করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি ঈদেই নতুন টাকার চাহিদা থাকে। এসব চাহিদা বিবেচনায় এবারের ঈদে ২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চাহিদা বাড়লে যেন কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থাও রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার কাউন্টারের মাধ্যমে নতুন নোট বিতরণ বা বিনিময় করা হবে। এসব নোটের মধ্যে থাকবে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নোট। তবে একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবেন না।এ ছাড়া একইসময়ে ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের ৩২টি শাখার মাধ্যমেও নতুন নোট দেওয়া হবে।

যেসব ব্যাংকের শাখায় নতুন নোট পাওয়া যাবেঃ এনসিসি ব্যাংক যাত্রাবাড়ী শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব করপোরেট শাখা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, ঢাকা ব্যাংকের উত্তরা শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা, জনতা ব্যাংকের আব্দুল গণি রোড করপোরেট শাখা, উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, জনতা ব্যাংকের রাজারবাগ শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কাকরাইল শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, ব্যাংক এশিয়ার বনানী-১১ শাখা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচার শাখা, ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখা, দি সিটি ব্যাংকের বেগম রোকেয়া সরণী শাখা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নন্দীপাড়া শাখা, প্রাইম ব্যাংকের এ্যালিফেন্ট রোড শাখা, সোনালী ব্যাংকের জাতীয় সংসদ ভবন শাখা, ইসলামী ব্যাংকের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, ইউসিবিএল’র গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, উত্তরা ব্যাংকের সাভার শাখা, এবি ব্যাংকের প্রগতি সরণী শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা, এক্সিম ব্যাংকের শিমরাইল শাখা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাভার শাখা এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ শাখা।

চলতি বছর জনপ্রতি ফিতরার হার জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জাতীয় ডেস্কঃ চলতি বছর পবিত্র মাহে রমজানে বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১০ টাকা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় এই হার নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ছিল ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ফিতরা ছিল ২ হাজার ৩১০ টাকা।

বড়লেখায় পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যুবককে খুনের অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় রুবেল আহমদ (২৮) নামে যুবককে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মেম্বার সাবুল আহমদ ও তার ভাই নবাব আহমদ গংদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউপির কেছরিগুল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহত রুবেলের ভাই সুমন আহমদ (১৭) আহত হয়েছেন। নিহত রুবেল সদর ইউপির কেছরিগুল গ্রামের মৃত সইফ উদ্দিনের ছেলে। রুবেল পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন।
নিহত রুবেলের চাচাতো ভাই এমরান আহমদ শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার (৮ এপ্রিল) জুমার নামাজের সময় আমাদের এলাকার (কেছরিগুল) মসজিদে প্রতিবেশী জনৈক জামাল আহমদের সঙ্গে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মেম্বার সাবুল আহমদ ও তার ভাই নবাব আহমদ গংদের কথা কাটাকাটি হয়।
পরে স্থানীয় এলাকার লোকজন বিষয়টি সমাধান করে দেন। আসরের (শুক্রবার) নামাজের সময় জামাল আহমদের ছেলে ও ভাতিজাদের সঙ্গে সদর ইউপির মেম্বার সাবুল আহমদের ভাই নবাব আহমদ গংদের ছেলে ও ভাতিজাদের হাতাহাতির ঘটনা হয়। ঘটনার সময় আমার চাচাতো ভাই রুবেল আহমদ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে (রুবেলকে) জনৈক জামাল আহমদের পক্ষের লোকজন ভেবে আটকে রেখে মারধর শুরু করেন ইউপি মেম্বার সাবুল আহমদ ও তার ভাই নবাব আহমদ গংরা। একপর্যায়ে দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। রুবেলকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাই সুমন আহমদও আহত হন। পরে স্থানীয়রা রুবেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাবুল আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। সাবুল মেম্বার ও তার ভাই-ভাতিজা মিলে একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আটক করে আনা হয়েছে।

ময়মনসিংহে জেলা পুলিশের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে ইফতার মাহ্ফিল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ময়মনসিংহে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জেলা পুলিশের “আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত” মতবিনিময় ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে এ আয়োজনটি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলটি জেলা পুলিশ সুপার মোহা: আহমার উজ্জামানের সভাপতিত্বে স্থানীয় সকল সাংবাদিক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ সময় পুলিশ সুপার মোহা: আহমার উজ্জামান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা আমার তৃতীয় নয়ন হিসেবে কাজ করেন। আমাদের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও তারা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেন।

এ ছাড়া পুলিশের সকল ভালো কাজের সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আমাদের আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করেন। আজ সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করি। এ যেন সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান সহসম্পাদক ও ময়মনসিংহ জেলার সাধারন সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান আরজু, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবীর সজল, মহানগর প্রেসক্লাব ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, রায়হানুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শাহীন ফকির (সদর সার্কেল), কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্ত ওসি ফারুক হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাত: সাংবাদিক শ্রীঘরে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৭নং ফুলতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ও জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহবুবুল আলম রওশন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে ভাতা আত্মসাতের মামলায় মৌলভীবাজার জেল হাজতে আছেন। রওশনের বিরুদ্ধে মৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলনের প্রমান পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করেন। গত ২৮ মার্চ থেকে তিনি আত্নসাতের মামলায় কারাভোগ করেছেন। এ দিন তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কাগজ জাল জালিয়াতি করে মাহবুব আলম রওশন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ও ভাতা আত্মসাত করে আসছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে মাহবুবুল আলম রওশন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার ভুয়া সন্তান সেজে জুড়ী উপজেলার ৭নং ফুলতলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মাহবুবুল আলম রওশন ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। এ ঘটনায় কালেঙ্গা গ্রামের মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল মিয়া বাদী হয়ে বিগত ২৯-৩-২০২১ইং তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মৌলভীবাজার (মামলা নং- সি.আর-৩৮/২০২১ (জুড়ী) দায়ের করেন। এরপর থেকেই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধার সন্তান মোঃ কামাল মিয়াকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধমকি প্রদান অব্যাহত রাখেন। ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার স্ত্রী আজিরুন বেগম। আজিরুন বেগম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দাবীদার মাহবুবুল আলম রওশন একজন প্রতারক, মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, বীরমুক্তিযুদ্ধা স্বামী বিগত ১১,১২,২০০৬ইং তারিখে কালেঙ্গা গ্রামের বর্তমান ঠিকানায় মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় ২ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানকে রেখে মারা যান। বিগত ২০০৭ ইংরেজীর জুলাই মাস হইতে নিয়মিত স্বামীর উত্তরাধীকারী সূত্রে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করিয়া অদ্যাবধি পর্যন্ত আসিতেছেন। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, তার স্বামীর ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযুদ্ধা ভাতা উত্তোলন করিতেছেন মাহবুবুল আলম রওশন।

তিনি আরো জানান, মাহবুবুল আলম রওশনের চাচারা হলেন, উকিল মিয়া, মুক্তার মিয়া, মৃত রফিক মিয়া, ময়ুর মিয়া এবং তার ফুফুদের ভোটার আইডিতে তাদের পিতার নাম রেজান আলী উল্লেখ রয়েছে। কিভাবে তার দাদার নাম রেজান আলীর স্থলে আজন মিয়া করলেন ? পিবিআই এর সুষ্ঠু সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জালিয়াতির তথ্য বের হয়ে এসেছে।

জায়গা নিয়ে বিরোধে সন্ত্রাসী হামলায় তিনজনকে কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে মানববন্ধন

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের মূছা-মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন অংশগ্রহন করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন- ব্যবসায়ী সফিক মুন্সি, মেহেদী হাছান পাঠান, নুরুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন, মো: ইয়াছিন, পল্লী চিকিৎসক মনিরুল হক প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- মূছামার্কেট গ্রামের মনিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন বসত বাড়ীর জায়গা নিয়ে একই এলাকার কফিল উদ্দিনের পুত্র দেলোয়ার হোসেনের  বিরোধ চলে আসছিল। দেলোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন ভুয়া দলিল বানিয়ে এ জায়গা দখল নিতে বহুবার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ এ জায়গা  নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যাহার মামলা নং- সি. আর ২৬৫/২২ এবং ফৌজধারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় আদালত কর্তৃক এ জায়গা স্থগিতাদেশ বিদ্যমান রয়েছে। তারপরও সোমবার (২৮ মার্চ) দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী রাম দা, হকিস্টিক, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা মনিরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বৃদ্ধ মা, বোন, স্ত্রীকে রক্তাক্ত জখম করে। এবং মনিরুল ইসলামের বসত ঘরটি ভেঙে ঘরের টিন, টাকা পয়সা ও আসাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

পরে এ হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ কফিল উদ্দিন ও তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও ছোটভাই সাইফুল ইসলামকে আটক করে কারাগারে প্রেরন করে।  বর্তমানে এ মামলার আসামী কফিল উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম জামিনে এসে ভোক্তভুগী পরিবারকে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এবং মনিরুল ইসলাম তার বসতবাড়ীর জায়গা স্বেচ্ছায় না ছারলে তার প্রাননাশ করবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন আসামীরা।

তাছাড়া আসামীরা তাদের নিজ বাড়িতে হামলা করে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিল নকশা তৈরি করছেন। আমরা আসামীদের সকল মিথ্যা ষরযন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মনিরুল ইসলামের পরিবারের উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাই।

জুড়ীর সন্তান যমজ দুই ভাইয়ের মেধার কৃতিত্ব

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের টালিয়াউরা গ্রামের সফল যমজ দুই ভাই। তারা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া দুই যমজ ভাই হলেন-মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ হোসাইন। তাদের বাবা আব্দুল কাইয়ুম একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। মা জোসনা বেগম একজন গৃহিণী। তাদের বড় বোন নুসরাত জাহান সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস অধ্যায়নরত তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

যমজ দুই ভাই সিলেট ব্লু বার্ড স্কুল থেকে ২০১৯ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০২১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তারা।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘পড়াশোনার বিষয়ে মা-বাবার কোনো চাপ ছিল না। দিনের পুরো সময় পড়াশোনায় কেটেছে।’

মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসকের পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে চাই। এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই।

জুড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ বলেন, যমজ দুই ভাইয়ের সফলতা আমাদের অহংকার। আমরা আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাস তারা এলাকার মানুষের সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সেবা পাবে।