বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

সিএনবিডি ডেস্কঃ গ্যাসের পাইপ লাইনে জরুরি কাজের জন্য বিতরণ গ্যাস লাইন ও সার্ভিস গ্যাস পাইপ লাইনের জরুরি কাজের জন্য আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকায় চার ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

গতকাল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারাবো হতে আড়াই হাজার পর্যন্ত সকল শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

এদিকে এর আগে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হ্রাসকৃত হারে গ্যাস সরবরাহের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

পাহাড়জুড়ে শুরু হয়েছে বৈসাবি’র আমেজ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দেশের পাহাড়জুড়ে শুরু হয়েছে বৈসাবি’র আমেজ। এরমধ্যে রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপি বৈসাবি মেলা। তবে এখনও উৎসবের বাকী আরো ৬ দিন। ইতিমধ্যে পাহাড়িরা তাদের সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক- বিষু-বিহু’র জন্য কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছে। পাহাড় মেতেছে বৈসাবি’র আনন্দে।

আসছে আগামী ১৩ এপ্রিল মূল বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু’র দিন দেখা যাবে সকাল থেকেই ছোট-বড় যুবক যুবতি হাতে হাত মিলিয়ে এবাড়ী ও বাড়ী ঘুরছে আর খাচ্ছে সুস্বাধু প্রধান খাদ্য পাঁজন (সবজী) ও সুরা (মদ)। সকালে শহর গ্রামে দেখা যাবে যুবক যুবতিরা ঘুরছে আর কোন কোন যুবক বলছে একটু পাঁচন, একটু সুরা ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ঘুরবো পাড়া, উ-হু-হু-হু।

আগামী ১২ এপ্রিল ভোর সকালে নদীতে ফুল ভাসিয়ে ফুল বিজু-সাংগ্রাই- বৈসুক-বিষু-বিহু’কে স্বাগত জানাবে যুবক যুবতি ও অবাল বৃদ্ধ বনিতারা। ফুল ভাসিয়ে এসে শুরু হবে নিজ নিজ বাড়ীর প্রধান প্রবেশ দ্ধারে ফুল দিয়ে সাজানোর পালা। সারাদিন নিজ বাড়ীতে বসে যুবতিরা অতিথি আপ্যায়নের সকল ব্যবস্থা করে রাখবে। ১৩ এপ্রিল হবে এ উৎসবের মূল পর্ব অর্থাৎ খাওয়া দাওয়া। খাদ্যের তালিকায় প্রধান হলো বিভিন্ন সবজী দিয়ে তৈরী সুস্বাধু ঐতিহ্যের পাঁজন। এটি খেতে যেমন স্বাদ তেমন তৈরীতেও যথেষ্ট ব্যয় বহুল। তাই অনেকেই রাত জেগে এ পাঁজন তৈরী করেন।

এর সাথে রয়েছে বিরানী, মিষ্টিজাত দ্রব্য, ঐতিহ্যবাহী পিঠা, বাহারী ফলের সমাহার, নানা রকমের সুস্বাদু নাস্তা, আর নিজেদের তৈরী সুরা (মদ) বিঝুর দিনে পাঁজনের পাশাপাশি এ সুরা অবশ্যই অবশ্যই থাকবে এটি না থাকলে যেন পুর্নতা পায়না বিজুর আনন্দ।

মূল বিজুর দিন সকাল থেকেই পাহাড়ী বাঙ্গালী ভেদাভেদ ভুলে বিজু- সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু’র আনন্দ ভাগ করতে এবং ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু পাঁজন খেতে বাড়ী বাড়ী ভীর করবে সকল বয়সের মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬টি ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে বড়–য়া জনগোষ্ঠীও এটিকে বিহু পরব এবং হিন্দু জনগোষ্ঠী চৈত্র সংক্রান্তি হিসেবে হিসেবে পালন করে আসছে আদিকাল থেকেই আর সকল জনগোষ্ঠীরাই খাদ্যের তালিকায় প্রথম ও প্রধান খাদ্য হলো পাঁজন (সবজী)।

আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষকে বরণ করবে, পাশাপাশি আগের দিন বৈসাবীর আনন্দ শেষে ১৪ এপ্রিল গজ্যা পজ্যা দিন হিসেবেও পালন করবে। ভোরে বৌদ্ধ মন্দিরে অথবা নিজ গৃহে বুদ্ধের প্রতিমূর্তির সামনে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে, সকল প্রাণীর সুখ শান্তি কামনা করবে এবং বয়ো বৃদ্ধদের স্লান করাবে।

এভাবেই প্রতি বছর বিজু’র অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী বাঙ্গালীর চলে আনন্দের মিলন মেলা। এবারও দেখা যাবে মুল বিজু-সাংগ্রাই- বৈসুক-বিষু-বিহু’তে সকাল থেকেই ছোট-বড় যুবক যুবতি হাতে হাত মিলিয়ে এবাড়ী ও বাড়ী ঘুরবে খাবে সুস্বাধু ও প্রধান খাদ্য পাঁজন (সবজী) ও ঘরে তৈরী সুরা (মদ) আর বলবে একটু পাঁজন, একটু সুরা ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ঘুরবো পাড়া, উ-হু-হু-হু।

কাঁচা বাজারের সাথে বেঁকে বসেছে কলার দাম

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রামাজান’কে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। শাক, সবজি থেকে শুরু করে লেবুসহ কলার বাজারেও যেন রীতিমত আগুন।
অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজারে কাচা বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পাইকারী বাজার দামের দোহাই দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে দ্বিগুন টাকা। ফলে সাধারণ জনগন প্রতিনিয়ত প্রতারনার স্বীকার হচ্ছেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে”
কয়েক ক্রেতার কাছে জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদক’কে জানান, বাজারে লেবু কিনতে গিয়েছিলাম দাম শুনে মাথায় হাত প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে। বেগুন ৮০ টাকা, শষা ৮০ টাকা এছাড়াও কাচা বাজারে অন্যান্য নিত্যপণ্যেও রয়েছে লাগামহীন মূল্য। এমন অবস্থা যদি বাজারের হয় তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ কিভাবে চলবে? রোজি নেই কিন্তু বাজারের এমন অবস্থায় হতাশ ক্রেতারা।
কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, ভানুগাছ ও স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে  হঠাৎ করে কলার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। সরকারিভাবে কলার দাম নির্ধারণ না থাকায় দোকানিরা নিজেদের মত করে দাম নিচ্ছে।  এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন  সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন স্থানে স্থানে ব্যবসায়ীরা কলা সাজিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে চম্পা কলা ও সাগর কলার সংখ্যাই বেশি। পাকা কলার পাশাপাশি গাছ থেকে কেটে আনা কাচা কলার ছড়িও রাখা হয়েছে। তবে সেগুলো গর্তে রেখে কিংবা কেমিক্যালের মাধ্যমে পাকানোর পর চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট সাইজের এক ডজন পাকা চম্পা কলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার এক হালি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাগর কলার ক্ষেত্রে এক হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বাজারের এসব কলার অধিকাংশই কৃত্রিমভাবে পাকানো ও নিম্নমানের বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
শমশেরনগর বাজারে কলা কিনতে এসেছিলেন জমশেদ আলী । তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও যে চম্পা কলার হালি ছিল ১৫ টাকা, রমজান মাস শুরু হতে না হতেই এখন সেই কলার হালি ৩০ টাকা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,  কলা ব্যবসায়ীদের কেউ তদারকি না করায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো  দাম আদায় করে নিচ্ছে। এতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের রোজাদার লোকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শমশেরনগর বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, সুযোগ বুঝে যে যার মতো রোজদারী ক্রেতাদের কাছ থেকে কলার দাম আদায় করে নিচ্ছেন। তবে এসব বিষয় দেখভালের দায়িত্ব আমাদের নয়।
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন বলেন, আসলে বাজার ঘুরে দেখা গেছে কলার দাম বেশি। তবে সরকারিভাবে কলার দাম নির্ধারণ করা না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরেও কোথাও অতিরিক্ত কলার দাম নেয়া হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি সময় থাকতে বাজার এখনি লাগাম টেনে ধরুন।
এদিকে পুরো জেলা জুরে প্রতিদিন চলছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের অভিযান। অভিযানে এসবের সত্যতাও পাওয়া গিয়েছে ফলে ভোক্তা অধিদপ্তর জরিমানাও করা হচ্ছে প্রতিদিন। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি অতি তাড়াতারি মৌলভীবাজারের প্রত্যেক উপজেলার পাইকারী ও খুচরা কাঁচা বাজার গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হোক এতে করে সাধারণ জনগণ দুমুঠো খেয়ে মরতে পারবে এমনটাই দাবি সাধারণ জনগণের।

শ্রীমঙ্গলে কলেজ ছাত্র’কে ছুড়িকাঘাত: ২জন শ্রীঘরে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঝগড়া থামাতে গিয়ে কলেজছাত্রসহ দু’জনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন পৌর শহরের সুরভি পাড়ার সুরুজ মিয়ার ছেলে রায়হান উদ্দিন (৩০) ও মান্নান মিয়ার ছেলে বেলাল মিয়া (২২)।

এর আগে গেলো রোববার দুপুরে শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বিরাইমপুরের সুরভিপাড়ায় নুরুন বেগমের ছেলে রায়হানের সাথে তার স্ত্রীর পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পাশ্ববর্তী কলেজছাত্র নাইমুর রহমান নাহিদ, তার বন্ধু জাবেদ মিয়া ও ফেরদৌস হাসান রাসেল বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এগিয়ে গেলে রায়হানসহ আসামিরা তাদেরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় এলাকাবাসী নাহিদ, রাসেল ও জাভেদকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হলে নাহিদ ও জাভেদকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠালে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় গত সোমবার আহত কলেজছাত্র নাইমুর রহমান নাহিদের মামা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করেন।

শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত জানান, শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, হামলায় ব্যবহৃত ১টি ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে তৎপর রয়েছে।

দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্র‌নের ল‌ক্ষ্যে রায়পু‌রে ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিযান

‌মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্র‌নে রাখার ল‌ক্ষে ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিযান প‌রিচা‌লিত হ‌য়ে‌ছে। মঙ্গলবার (০৫ এ‌প্রিল) রমজান মাস‌কে পুঁ‌জি ক‌রে কোন অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতা‌দের ঠ‌কি‌য়ে নিয়ম ব‌র্হিভুত ব্যবসা না কর‌তে পা‌রে সে ল‌ক্ষে উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার অঞ্জন দাশ এর নেতৃ‌ত্বে ভ্রাম্যমান আদালত প‌রিচা‌লিত হয়।

এসময় উপ‌স্থিত ছি‌লেন সহকা‌রি ক‌মিশনার (ভূ‌মি)  রা‌সেল ইকবাল, পৌর মেয়র গিয়াস উ‌দ্দিন রু‌বেল ভাট, রায়পুর থানা পু‌লিশ ও আনসার সদস্যগন।

অ‌ভিযানকা‌লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ ধারা ও দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায়  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, রায়পুর জনাব অঞ্জন দাশ কর্তৃক ২০,০০০ টাকা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, রায়পুর জনাব রাসেল ইকবাল কর্তৃক  ৪৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদানসহ মোট ০৯টি মামলায় সর্বমোট ৬৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে আদায় করা হয়।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর  উপর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে ব‌লে জানান।

সরকারের কাছে একটি ঘর চান নবাবগঞ্জের অন্ধ হাফিজুল ইসলাম

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দৃষ্টিহীন যুবক  হাফিজুল ইসলাম জন্ম থেকেই তিনি তার চোখের  দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি অন্ধত্ব সহ  স্ত্রী এবং ছয় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন। কিন্তু ছয় ছেলেমেয়ে হলেও তাদের থাকার ঘর একটি। তাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে হয় সেই একটি ঘরেই। আর এজন্যই তিনি একটা ঘর উপহার চান সরকারের কাছে।

হাফিজুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহামুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পারা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। সে নিজ গ্রামেই একটি ঘরে স্ত্রী ও ছয় ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকছেন। তবে তিনি অন্ধ হলেও চলাফেরা করতে তেমন সমস্যা হয় না তার। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে একাই পড়তে পরেন তিনি। এছাড়াও গোসল সহ খাওয়া-দাওয়া একাই করতে পারেন।

হাফিজুল ইসলাম জানান, সরকারের দেওয়া প্রতিবন্ধি কার্ডের টাকা প্রতি তিন মাসে পান ২ হাজার ২শ ৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরছ বহন করা তো সম্ভব নয় বরং সংসারের খরচ চালাতেও হিমসিম খেতে হয়। তাই প্রায় সময় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয় তাকে। এর মধ্যে আবার বসতঘরটিও ভেঙে রয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরে। টাকার জন্য ঘরটি ঠিকও করতে পারছেন না তিনি। তাই সরকারের কাছে দাবি নতুন  একটি ঘর করে দেওয়া হোক তাকে।

হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী জানান, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটি ঘরে থাকতে কষ্ট হয় তাদের। সরকার যদি তাদের একটি ঘর উপহার দিতেন তাহলে সেখানেই তাদের মাথা গুজার ঠাঁই হতো।

তবে হাফিজুল ইসলাম অন্ধ হলেও ভিক্ষা করতে চায় না। যদি ভিক্ষা করতেন তিনি তাহলে সন্তানের উপর তার প্রভাব পরত। তাই তিনি জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন। যাতে তাকে স্থায়ীভাবে একটা কিছু করে দেয়া হয়। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ ০১৭২৩৭৪৩৯৩৪ বিকাশ, রকেট, নগদ  ডাচ্ বাংলা ও উপায়।

এ বিষয়ে ৮ নং মাহামুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান মোঃ সালাউদ্দিন মাসুম বলেন, সরকারি ঘর বরাদ্দের সময়ে হাফিজুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না তবে নতুন করে ঘর বরাদ্দ এলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই তাকে একটা ঘর দেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রমজান মাস উপলক্ষে লেবু বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। গত সোমবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’র মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার ও সোনার বাংলা সড়কে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মো. আল-আমিন জানান, অতিরিক্ত দামে লেবু বিক্রি করা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংগ্রহ না করা, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা ও তা আদায় করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকারের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া হাটে ড্রেন সংস্কারের অভাবে চরম জনদূর্ভোগ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম বড় গড়েয়া হাটটি প্রতি বছর এক কোটি টাকার উপরে সরকারি ভাবে ডাক হয় তার পরেও গড়েয়া হাটের ড্রেন গুলো সংস্কারের অভাবে জনদূর্ভোগ কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও হাট ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে। সদর উপজেলা এই হাটের পানি নিস্কাসনের জন্য হাটের অর্থায়নে হাটের পূর্ব পার্শ্বে একটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়দের দাবী ড্রেনটি কালভর্টসহ কাজ টি করার কথা থাকলেও তা করেনি, সেই ড্রেনের কাজে অনিয়ম করায় স্থানীয় লোকজন ও স্থানীয় ওয়াড আওয়ামী লীগের নেতা এবং  ব্যবসায়ীরা কাজটি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতে হাটের রাস্তা গুলোতে এক হাটু পানি জমে থাকে। বিশেষ করে হাট কমিটির পক্ষ থেকে বছরে এক বারও হাটের ড্রেন গুলো পরিস্কার করা হয়না বলে জানান হাটের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান যারা গড়েয়া হাট ইজারা নিয়ে থাকেন তার শুধু নিজের স্বার্থে হাটটি ইজারা নেন, হাটের সরকারি জায়গায়  তাদের এক এক জনের ২৫/৩০টি দোকান ঘর রয়েছে। তাদের দোকান পাটে যেন কোন রকমের উপরী চাপ না আসে তাই সরকার দলীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে হাটের ডাক নেওয়া হয়। তারপরে হাটের সরকারি পতিত জায়গা দখল করে একাধিক দোকান ঘর নির্মাণ বানিজ্য চলে। হাটের ড্রেন পরিস্কার ও সংস্কারের জন্য সরকারি ভাবে টাকা বরাদ্দ থাকলেও কথাকার টাকা কোথায় যায় কেউ জানেনা।

ব্যবসায়ীরা বলেন,গড়েয়া হাটের ড্রেনের বিষয়ে হাট কমিটির লোকজন কে জানালে তারা এ বিষয়ে কোনরকমে কর্ণপাত করেন না।

ড্রেনের বিষয়ে গড়েয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও হাট কমিটির সভাপতি  রইছ উদ্দিন সাজুর কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন আমি নতুন চেয়ারম্যান। এখনো কোন বরাদ্দ আসেনি কোন বরাদ্দ আসলে আগে হাটের ড্রেন গুলো পরিস্কার ও সংস্কারের কাজ করা হবে।

এ ব্যপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  বলেন, সংশ্লিষ্ঠ প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্তের জন্য বলা হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুলাউড়ার উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের কমিটি ঘোষণা

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সংগঠন উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত সোমবার ফারজানা আক্তার শারমিনকে সভাপতি ও ইয়াছিনুর রহমান নাঈমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক।

আগামী এক বছরের জন্য ঘোষণা করা কমিটির অন্যান্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি কায়কোবাদ কায়ছার তারেক, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন খান, সাইদুল হক মিতুল, আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, মো. সুমন আহমদ, মো. হিমেল রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব শ্রাবণ, মেহেদি হাসান সাঈদ, তৌহিদুল ইসলাম তায়েফ, তপন দাস, জুবায়ের আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন, সোলেমান আহমদ, মিফতা আহমদ রাফি, মাহফুজ আহমদ, প্রচার সম্পাদক সাদিক হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক: জায়েদ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক নায়িম আহমদ, উপ দপ্তর সম্পাদক সোহান আহমদ, কোষাধ্যক্ষ নাহিদ হাসান, উপ কোষাধ্যক্ষ: ওয়ালিদ আহমদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রনি আহমদ, উপ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তুহিন আহমদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু সাহিদ আব্দুল্লা, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাহফুর আল সফর, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক রওসনারা আক্তার রিয়া, উপ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান ফাহাদ, উপ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সিজিল আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইমাদ উদ্দিন, উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আতিক আল হাসান, ক্রীড়া সম্পাদক হাবিবুর রহমান সোহান, উপ ক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ আহমদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফারহানা আহমেদ রিমি, জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক লিমন আহমদ ও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সুবেল আহমদ, কামরুল আহমদ, ইয়ামিম আতিক খান তামিম, মিজান আহমদ ও শাওন আহমদ প্রমুখ।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ছেলের হাতে বাবা খুন, ঘাতক গ্রেফতার

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ছেলে আব্দুল জলিল (২৭) এর হাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন বাবা পয়ার উদ্দিন (৫৭)। এ সময় বাঁচাতে গিয়ে মা জুলেখা বেগমও (৪৫) মারাত্বক আহত হয়েছেন। গত রবিবার ৩ এপ্রিল উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখা সলিমবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত সোমবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা পয়ার উদ্দিন মারা যান। ঘাতক ছেলে আব্দুল জলিলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন উর রশীদ জানান, ৩ মাস পূর্বে আব্দুল জলিলের ৩য় স্ত্রী তাকে তালাক দেন এবং তার বিরুদ্ধে নারী  নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করেন। আসামী হওয়ায় এই মামলায়  পয়ার উদ্দিন ও তার স্ত্রী জুলেখা বেগম জামিনে রয়েছেন। আর ছেলে আব্দুল জলিলের  বিরুদ্ধে ঝুলছে গ্রেফতারী পরোয়ানা। এ অবস্থায় তৃতীয় স্ত্রীর সাথে দফারফার চেষ্টা করছিলেন আব্দুল জলিল। এজন্য পিতা পয়ার উদ্দিনকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। এ নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পিতামাতার সাথে তার বাক-বিতন্ডতা হয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিতাকে আঘাত করে জলিল। ধারালো অস্ত্রের এলোপাথারী আঘাতে ঘটনাস্থলেই  লুটিয়ে পড়েন পিতা পয়ার উদ্দিন। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী জুলেখা বেগমও আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে রাত ৯টার দিকে গুরুতর আহত পয়ার উদ্দিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও মাথায় ও বাম হাতে আঘাতপ্রাপ্ত জুলেখা বেগমকেও চিকিৎসা দেয়া হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে পয়ার উদ্দিন মারা যান।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  জানান, রাতেই নিহতের স্ত্রী জুলেখা খাতুন বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।  সোমবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা  হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।