রায়পু‌রে জন্মদাতা পিতা‌কে পি‌টি‌য়ে জখ‌মের অ‌ভি‌যোগ

মোঃ জহির হোসেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে ছে‌লে কতৃক জন্মদাতা পিতা‌কে পি‌টি যখ‌মের অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে। ছে‌লের নির্যাত‌নে  পিতা রায়পুর স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে  চি‌কিৎসা‌ধিন র‌য়ে‌ছেন ব‌লে জানা যায়।

ঘটনা‌টি ঘ‌টে রায়পুর উপ‌জেলার উত্তর সাগরদী ৯ নং ওয়া‌র্ডে। অ‌ভিযুক্ত ম‌নোয়ার (৩৮) হা‌ফেজ মোঃ সোলাইমান (৮৪) এর মে‌ঝো ছে‌লে ব‌লে জানান। জানা যায় ক‌য়েক বছর যাবত সম্প‌ত্তি নি‌য়ে বাপ ছে‌লের মা‌ঝে বি‌রোধ ছি‌লো। হা‌ফেজ মোঃ ‌সোলাইমান অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন ম‌নোয়ার তাকে এর আ‌গে ও ক‌য়েকবার শারী‌রিক ভা‌বে লাঞ্চিত  করে।

ছে‌লের বিরু‌দ্ধে অ‌ভি‌যোগ কা‌রি বাবা সোলাইমান জানান তার ৪ ছে‌লে ১ মে‌য়ে।  ‌তি‌নি অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন মে‌ঝো ছে‌লে ম‌নোয়ার ক‌য়েক বছর পূ‌র্বে জ‌মি অ‌ন্যের না‌মের কের্ড হ‌য়ে‌ছে তা সং‌শোধ‌নের জন্য মি‌থ্যে কথা ব‌লে বাবা সোলাইমান এবং তার মা‌য়ের স্বাক্ষর নেয় স্টাম্পে। এর কিছু দিন পর জান‌তে পা‌রেন ছে‌লে তার সম্প‌ত্তি  হেবা রে‌জি‌স্ট্রি ক‌রে নি‌য়ে‌ছে এ‌তে অ‌ভিযুক্ত ছে‌লে ম‌নোয়ার, বাবা সোলাইমান‌কে জ‌মির কা‌ছে যে‌তে বাধা দিত ব‌লে জানান।

পুনরায় মঙ্গলবার (২২ মার্চ ) পুনরায় ছে‌লে ম‌নোয়ার তার বাবা সোলাইমান‌কে মার‌ধোর ক‌রে যখম ক‌রে ব‌লে অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন । এ বিষ‌য়ে জানার জন্য অ‌ভিয‌ুক্ত ম‌নোয়া‌রের সা‌থে যোগা‌যো‌গের ‌চেষ্টা ক‌রে পাওয় যায়‌নি। মনোয়া‌রের স্ত্রী  ব‌লেন তার স্বামীর বিরু‌দ্ধে সকল অ‌ভি‌যোগ মি‌থ্যে এবং ভি‌ত্তিহীন।

এবিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া  বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি,  তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গলে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি (গ্রাসরুটস) এর ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন আজ ২৭ ও আগামীকাল ২৮ মার্চ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হবে। “নারী পুরুষের সমান অধিকার”, কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি, সামাজিক বৈষম্য নিরসন” এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে দেশের ৫০ এর অধিক জেলা থেকে দুই শতাধিক প্রতিনিধি নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই জাতীয় সম্মেলন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন আব্দুস শহীদ এমপি, জোহরা খানম এমপি, এডভোকেট শারমিন খানম এমপি, শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, রাজনীতিবিদ মোস্তফা আলমগীর রতন, ভারতের এসএজিডিএফ এর সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব মোহাম্মদ, এএসএফআই দিল্লির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপশিতা ধর, দিল্লির জহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মোতাল্লেব হোসেন জুয়েল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দিপক শীল।

শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম সম্মেলন উপলক্ষে আগামীকাল ২৮ মার্চ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলন সফল করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীর নিকট সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

মুরাদনগরে অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন কাটাবাড়িয়া লাভবান ঠিকাদার : ভোগান্তিতে গ্রাহক

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের ভূবনঘর থেকে দড়িকান্দি পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রায় ১৬শ’ ফুট অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এতে বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়া প্রায় ৩শ’ পরিবারের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এ সময় স্থানীয় জনগন কাঙ্খিত এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে মুরাদনগর উপজেলার সকল স্থানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের নিকট দাবি করেন। তবে রহস্যজনক কারনে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উক্ত অবৈধ গ্যাস লাইন নির্মানে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গেল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লিমিটেডের অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করান অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার সুমাইয়া মমিন। এতে বাখরাবাদের প্রায় ৩০ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছে।

দড়িকান্দি গ্রামের গ্রাহক কফিল উদ্দিন ও সহিদ মিয়াসহ ১০/১২ জন বলেন, ২০১৫ সালে আমরা ৮১ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা দিয়ে প্রতিটি রাইজার সংগ্রহ করেছেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তি ঠিকাদার হারুন অর রশিদ। গ্যাস কতৃপক্ষ অবৈধ ভাবে যারা গ্যাস সংযোগ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু লাইন বিচ্ছিন করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। লাইন তারা অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল শিক্ষকসহ একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দালাল চক্র বাখরাবাদ গ্যাস ডিসট্রিবিউশন দেবিদ্বার জোনাল অফিস ও জেলা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট উপজেলার ভূবনঘর, দড়িকান্দি, দুলারামপুর ১১হাজার ফুট, বোরারচর জাহাপুর ৩০হাজার ফুট, দড়িকান্দি ১ কিলোমিটার, করকটিয়া, সোনাপুর ২কিলোমিটার, সুবিলারচর ২কিলোমিটার, কোম্পানীগঞ্জ ৩কিলোমিটার, রানীমুহুরী, বড়ইয়াকুড়ি, বোরারচর ৬কিলোমিটার, নোয়াকান্দি ৯শ’ ফুট, ধামঘর ৩৫০ ফুট, পালাসুতা ৬০০০ফুট, পায়ব ২কিলোমিটার, শুশুন্ডা ৩কিলোমিটার, কুলুবাড়ি, বাখরনগর ৫কিলোমিটার, মধ্যনগর, করিমপুর ৩কিলোমিটার, নবীপুর ৩কিলোমিটার, নগরপাড় দেড় কিলোমিটার, গুঞ্জর ৩কিলোমিটার, পৈয়াপাথর দেড় কিলোমিটার ও নহল, রামনগর, ধামঘর ৩৬০০ফুট গ্যাস লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাসের আবাসিক সংযোগ দিয়ে সাধারন নিরীহ গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি তালিকাসহ একটি অভিযোগ বাখরাবাদ গ্যাস ডিসট্রিবিউশন, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়।

যার পরিপ্রেক্ষিতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিসট্রিবিউশন ও পেট্রোবাংলার প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং সংশ্লিষ্ঠ দফতরে রির্পোট প্রধান করা হলেও অভিযোক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও অবৈধ গ্যাস লাইন গুলোর বিষয়ে কোন প্রকার প্রদক্ষে না নেওয়ায় জনগনের মধ্যে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।

অভিযুক্ত ঠিকাদার হারুন অর রশিদ বলেন, আমি কোন ঠিকাদার নই। আমার নামে কোন লাইসেন্স নেই। ভূবনঘর থেকে দড়িকান্দি পর্যন্ত গ্যাস লাইনটি আজিজুর রহমান রনির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস মতি এন্টার প্রাইজ করেছে। আমি শুধু মধ্যস্থতা হিসেবে কাজ করেছি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লিমিটেডের কুমিল্লা দপ্তরের ভিজিলেন্স শাখা জানান, দুইজন উপ-মহাব্যবস্থাপকের উপস্থিতিতে অভিযানে ১৩টি রাইজার ও এক হাজার ফুট পাইপ জব্দ করা হয়েছে। আরো প্রায় অর্ধশতাধিক রাইজার ছিল। অভিযানের খবর পেয়ে গ্রাহকরা সরিয়ে ফেলে। সব অবৈধ গ্যাস লাইন পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। নিয়মিত এ অভিযান চলবে। সংযোগ যারা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

ফটিকছড়ির গোপাল ঘাট্টায় শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে শহীদদের স্মরন

সিএনবিডি ডেস্কঃ গত ২৫ শে মার্চ ২০২২ ইং তারিখে রাত ১০ টায় ফটিকছড়ির গোপাল ঘাট্টায় লেলাং ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ও উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী জকু ও ফাহাদ মুহুরির ব্যাবস্তাপনায় ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এ বর্বর পাক বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া শহীদদের স্মরণে এক স্মরন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত স্মরন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন মুহুরি।

সভাশেষে উপস্থিত নেতা কর্মীরা গোপাল ঘাট্টা উচ্ছ বিদ্যালের মাঠে শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে শহীদদের স্মরন করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরেত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন লেলাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মাওলানা জাহাঙ্গীর।

স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন-আওয়ামীলীগ নেতা নাদের খান, মাওলানা জাহাঙ্গীর, শাহরিয়ার সাজু, বাহাদুর চৌধুরী আবীর, জাকারিয়া চৌধুরী জকু, জাহেদুর রহমান ও ফাহাদ মুহুরি সহ অনেকে।

মৌলভীবাজারে সরকারীভাবে ১ম বারের মত তারা মিয়া স্মরনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালে ২৭ মার্চ মৌলভীবাজারে মুক্তিযোদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গুলিতে প্রথম প্রহরে শহীদ হওয়া শাহবন্দরের কৃতি সন্তান শহীদ তারা মিয়ার স্মৃতি বিজোড়িত স্থান শাহবন্দর শ্রীরাইনগর শহীদ মীনারে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর মতামতের বৃত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীনা রহমান এর উপস্থিতিতে প্রথম বারের মত  সরকারি ভাবে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে গত ২৫ শে মার্চ সকাল ৯ ঘটিকায় শাহবন্দর শ্রীরাইনগর শহীদ মিনারে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমান এর নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হুসেন এর পক্ষে থেকে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমান সহ ছিলেন ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কাউট দল, একটি মাদরাসার বিগ্রেড দল ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাব দলসহ তাদের শিক্ষক বৃন্দ, প্রতিষ্ঠান গুলো হল, শাহ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়, শাহবন্দর কে জি এন্ড গালর্স হাই স্কুল, শাহবন্দর আর রোকন হাফিজিয়া মাদরাসা, শাহবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরদারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহবন্দর যুব সংস্থা শাযুস, ৮নং কনকপুর ইউনিয়ন পরিষদ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ ব্যানারে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমান, শাযুস প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদ চৌধুরী, সাবেক উপজেলা কমান্ডা আনছার আলী,সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডা আনোয়ার খান, শাহ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন খান, ৮নং কনকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জুলহাস আহমদ লিটন, ইউ.পি সদস্য শাহানা আক্তার বেলা, সেলিম আহমদ, শাযুস সভাপতি সাংবাদিক এ এড শাহ মোহাম্মদ রাজুল আলী, শাযুস সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান ইকতিয়ার, শহীদ তারা মিয়ার নাতি ও শাযুস অর্থ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম ফরাজ, সাংবাদিক এস এম ফজলু, শাযুস সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহ পরান তালহা সহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারি শিক্ষক বৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ প্রমুখ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বক্তব্যে বলেন জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে পেরে আজ আমরা ধন্য এবং যেহেতু সরকারি ভাবে প্রথম প্রহরে শহীদ তারা মিয়ার স্মৃতি স্থানে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়েছে তাই প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান চলমান থাকবে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাস আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক হেলাল খাঁন এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন খোকন গত ২১ মার্চ কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাস এর ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেন।

কমিটিতে মো: কামাল পারভেজ (ডালিম) কে আহবায়ক এবং এস এম মিজানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ডাঃ মো. জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক মাছুদ রানা মাসুম, জিন্নাত আলী, আলমগীর কবির, কাউসার আহমেদ, মো. আবুল কাশেম, মাহমুদ হোসেন মিয়াজী, এইচএম জাকির হোসেন সওদাগর, আমিরুল ইসলাম আমির, কবির হোসেন ভূঁইয়া ও সামির হোসেন।

ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার ৮৪তম মাহফিলে মাদ্রাসার নবনির্বাচিত সভাপতিকে ক্রেস্ট প্রদান

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার সভাপতি মোহম্মদ ফিরোজকে ক্রেস্ট দিচ্ছেন মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি, মুহাদ্দিছ,মাওলানা আবু তাহের মোঃ ছালেহ উদ্দিন পীর সাহেব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইসমাইলসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার স্বনামধন্য ধর্মীয় বিদ্যাপিঠ ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার ৮৪তম ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন। গেল মঙ্গলবার (২২মার্চ) আছর থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়ে ওলামা পীর মাশায়েখদের আলোচনার মধ্যে দিয়ে অর্ধরাত্রিতে আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে মাহফিল শেষ হয়।

ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসা’র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল লতিফ এর সঞ্চালনায় মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসাবে আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ গাজীপুর- টঙ্গী আবদুর রহমান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শরীফুজ্জামান রাজিবপুরী। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসা সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি, মুহাদ্দিছ,মাওলানা আবু তাহের মোঃ ছালেহ উদ্দিন পীর সাহেব। তিনি বাদ মাগরিব থেকে তাসবীহ তায়ালিমসহ গুরুত্বপূর্ণ নসিহতের বয়ান পেশ করেন।

রধান বক্তার আলোচনার পূর্বে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফিরোজ’কে ক্রেস্ট প্রদান করেন ছৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসা সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি, মুহাদ্দিস, আবু তাহের মোঃ ছালেহ উদ্দিন পীর সাহেব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ইছমাইল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বড়শালঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল, ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাকারিয়া ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্বাধীনতার ৫১ বছর পুর্ন হলো আজ। আজকের এই দিনেই বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পেয়েছে সবুজ জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লক্ষ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাঁথা গণবীরত্বের ইতিহাস।

পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে উপমহাদেশের জনগণ পেয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বাঙালিদের নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানি হানাদারদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৪৮-এ বাংলা ভাষার দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পথ বেয়ে ৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ৫৬-এর সংবিধান প্রণয়নের আন্দোলন, ৫৮-এর মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলন ৬২-এর শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬-এর বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফার আন্দোলন, ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফা ভিত্তিক ৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম খ্যাত কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভূত ঘটনা প্রবাহের মধ্য স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সর্বস্তরের জনগণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধিনে পরিচালিত দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।

বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের এই ধারাবাহিক সংগ্রামে জীবনের ৪ হাজার ৬৭৫ দিন জেলে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কয়েকবার ফাঁসির কাষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, অসংখ্য মিথ্যা মামলায় অসংখ্যবার কারাবরণ করার পরও স্বাধীনতা অর্জনের প্রশ্নে আপোস করেননি। তিনি বাংলার মানুষকে দিয়েছেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, জাতীয় সংগীত, সংবিধান, বিশ্বের বুকে গর্বিত পরিচয়।

বাংলা, বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু একই বৃন্তে তিনটি চেতনার ফুল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে গরিব-দুঃখী-মেহনতী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি জেল-জুলুম-হুলিয়া, শত যন্ত্রণা, দুঃখ-কষ্ট-বেদনাকে সহ্য করে বাংলার কৃষক-শ্রমিক জনতার মুখে হাসি ফোটাতে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধু চিরদিন অম্লান থাকবেন এবং বাংলার জনতার হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচিঃ অনেক প্রাপ্তি নিয়ে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। গত বছর এমন একটি সময়ে দিবসটি উদযাপিত হয়েছিল, যখন বাংলাদেশসহ চারদিকে ছিল বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের থাবা। বর্তমানে মহামারি অনেকটা নিয়ন্ত্রনে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে তাই এবার স্বত:স্ফুর্ততা থাকবে বেশি।

আজ দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।

এ দিবসে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদকদল বাদ্য বাজাবেন।

এই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ফেডারেশন মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে। অনলাইন, ই-মেইল, ডাকযোগে, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সিনেমা হলসমূহে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। দেশের সকল হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশুদিবা যত্ন কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ দুপুর ২টা হতে ঐদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

এছাড়া সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে।

ডিজিটাল বাংলা নিউজডিআর /এমআর

আজ রাতে এক মিনিট অন্ধকারে থাকবে দেশ

জাতীয় ডেস্কঃ আজ শুক্রবার (২৫ মার্চ) গণহত্যা দিবসে এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক আউট) থাকবে সারাদেশ। এদিন রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। এ সময় সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। তবে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জা করা যাবে। কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাগুলো ব্ল্যাক আউটের আওতামুক্ত থাকবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার পর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যা এ বছরই ৫০ বছর পূর্ণ করল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম অপারেশন সার্চলাইট।

এদিকে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চ (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন এক  রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

যুক্তরাজ্য আরও ৬ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ইউক্রেনকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনকে আরও প্রায় ৬ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) এ ঘোষণা দিয়েছেন যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রাসেলসে ন্যাটো ও জি-৭ নেতাদের বৈঠকে জনসন ইউক্রেনীয় সৈন্য এবং পাইলটদের বেতন প্রদানে অর্থ সহায়তা হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের (তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার) তহবিলও ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য সরকার বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে ওই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ান ভাষার সার্ভিসকে সহায়তা করার জন্য ৪১ লাখ পাউন্ড প্রদান করবে।

বরিস জনসন বলেন, ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াতে যুক্তরাজ্য আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে। এই সংকটের এক মাসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে- আমরা ইউক্রেনে স্বাধীনতার শিখা জ্বালিয়ে রাখতে পারি নাকি এই শিখা নিভে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে ইউরোপ ও বিশ্ব।

ব্রিটেন বলেছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রায় ৪ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলেন, ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৪০ কোটি পাউন্ডের বাইরে থাকছে নতুন এই তহবিল।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো।

কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৫ হাজার ৬০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৯২৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র : বিবিসি।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি