চিহ্নিত মাদক কারবারি ইয়াবাসহ ডিবির জালে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আনোয়ার মিয়া নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। শুক্রবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীমঙ্গল-নবীগঞ্জ সড়কের মির্জাপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃদ আনোয়ার মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউদা গ্রামে।

মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আটক আনোয়ারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ শনিবার (১৯ মার্চ) আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন আনোয়ার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। অতীতেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর নির্দেশ মৌলভীবাজার জেলা মাদক নির্মূলে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলাকে মাদক মুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে চান।

নীলফামারীতে মুরগির খামারে বৈদ্যুতিক ফাঁদে চিতা বাঘের মৃত্যু

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারী সদরের চওড়া বড়গাছায় ইউনিয়নে মুরগির খামারে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে এক বাঘের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর চিতা বাঘটিকে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে উল্লাস করেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (১৮ মার্চ) ভোরে সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের কাঞ্চনপাড়া এলাকা থেকে মৃত চিতা বাঘটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, কাঞ্চনপাড়ার অলিয়ার রহমান মুরগি ব্যবসায়ী। প্রায়ই কোনো না কোনো প্রাণী তার খামারের মুরগি খেয়ে ফেলে। এ কারণে তিনি খামারের পেছনে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় ফাঁদে জড়িয়ে বাঘটির মৃত্যু হয়।

অলিয়ার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমার খামারের পেছন দিকে জঙ্গল। মুরগি বাঁচাতে ওদিকে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা ছিল। আজ ভোরে চিৎকার শুনে দেখি বাঘ পড়ে আছে।

পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এই খামারের পাশের ভুট্টাখেতটি আমার। সকালে জানতে পারি অলিয়ার ভাইয়ের খামারের বিদ্যুতের ফাঁদে জড়িয়ে একটি বাঘ মারা গেছে। আর একটি বাঘ আমার ভুট্টাখেতে আছে। তখন থেকে এখানে আছি।

বাঘ দেখতে আসা শাহিনা বেগম বলেন, বাঘ মরার কথা শুনে এসে দেখি, বাঘটাকে রাস্তায় ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। ভয়ও কাজ করছে। আরেকটা বাঘ আছে, কখনবা এলাকার মানুষের ওপর আক্রমণ করে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, সকালে জানতে পারি, দুটি বাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে। একটি বাঘ বৈদ্যুতিক ফাঁদে মারা গেছে। আরেকটা পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে আছে। সেটিকে উদ্ধার করার জন্য রংপুর থেকে স্পেশাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসছে। আমি এখানকার মানুষজনকে অনুরোধ করব, অতি উৎসাহী না হয়ে আমরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখি।

জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মোনায়েম খান সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি লেপার্ড। ভারতীয় হতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রংপুর থেকে ঘটনাস্থলে আসছেন। আমরা যত দ্রুত আর একটি বাঘকে নিরাপদে নিতে পারবো। আপনাদের পরে বিস্তারিত জানাবো।

কুড়িগ্রামে সরকারী ঔষধ পাচারের সময় নারী আটক

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে হাসপাতাল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধ পাচারের সময় এক নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম শাহেদা বেগম (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের টাপুরচর গ্রামের ফজল উদ্দিনের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারী পেলটকস-২ ও পেনটিড মেগাপিল এর ৩৭০টি ইনজেকশন ট্রাভেল ব্যাগে ভরে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।  এসময় স্থানীয় লোকজন  সন্দেহ বশত তার ব্যাগ তল্লাশী করে ইনজেকশন গুলো পেয়ে তাকে আটক করে হাসপাতাল ক্যাম্পাসের  পুলিশ বক্সে সোপর্দ করে।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের স্টোর কিপার মমিনুল ইসলামের সাথে  যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না। আপনারা এ বিষয়ে তত্বাবধায়ক স্যারের সাথে কথা।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: শহিদুল্লাহ্ লিংকন জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পুলক কুমার সরকারকে বাদী করে ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আর এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে পৃথক ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই এলাকা থেকে এক নারীর মরদেহ ও এক নারীর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গেল শনিবার  সকালে কালীগঞ্জ উপজেলায় দলগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর দলগ্রাম (পাটোয়াটারী) ও মদাতী ইউনিয়নের উত্তর মুশরত মদাতী এলাকা থেকে ওই লাশ দুইটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর দলগ্রামে যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুর, শাশুড়ীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। উক্ত ঘটনায় স্বামী সুজন মিয়া (৩০) ও তার বাবা শাহাজাহান আলী মা ফরিফা বেগম বাড়িতে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন থানায় নিয়ে আসেন।

অপরদিকে উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের উত্তর মুশরত মদাতী এলাকা থেকে রূপালী খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূ নারীর মরদেহ সুপারী বাগান থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উত্তর মুশরত মদাতী ৬নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। নিহত ওই নারী তালাক প্রাপ্ত হয়ে বাবা বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তার মা আঞ্জুআরা বলেন, রাতে মেয়েসহ নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছি সে কখন উঠে বাগানবাড়িতে গেছে এটা আমি বলতে পারি না।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম গোলাম রসূল পৃথক ঘটনা দুইটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। লালমনিরহাট থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিদগ্ধ ওই নারী মরদেহ উদ্ধার করে।

আত্রাইয়ে একএক করে গরু পড়ছে আর মরছে, দিশেহারা খামারি

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে অজ্ঞাত রোগে এক এক করে গরু পড়ছে আর মরছে। এভাবে খামার উজাড় হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামার মালিক আনোয়ার হোসেন হিরো। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে।

জানা যায়, ওই গ্রামের যুবক আনোয়ার হোসেন হিরো আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে গড়ে তোলেন গরুর খামার। ওই খামারে দেশি বিদেশি উন্নত জাতের প্রায় ১৫ টি গরু প্রতিপালন শুরু করেন। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি গরুর বাছুর হয়ে তার খামারে প্রায় ২২ টি গরু হয়। হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার থেকে খামারে গরু মরা শুরু হয়।

প্রথম দিনে ২ টি বাছুর মারা গেলেও গত বুধবার ও গত বৃহস্পতিবারে অজ্ঞাত রোগে মারা যায় আরও ১৬ টি গরু। খামারের ২২ টি গরুর মধ্যে ১৮ টি গরু মারা যাওয়ায় ২৫/২৬ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন খামারি আনোয়ার হোসেন হিরো।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা বলেন, আমার নিজ গ্রামে মার্মান্তিক এ ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্থ খামারিকে সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। এদিকে সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের লোকজন অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসাসেবা দিয়েও গরুগুলো বাঁচাতে পারেননি।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ডা. ওয়ালি-উল-ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর থেকে আমরা ব্যাপকভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। কিন্তু কোনভাবেই গরুগুলোকে রক্ষা করা যায়নি। সম্ভবত খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারনেই এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। তারপরও আমরা গরুর ব্লাডসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে জয়পুরহাট ল্যাবে পাঠিয়েছি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মূল বিষয়টি জানা যাবে।

ফুলবাড়ীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষে মুখোমুখি সভা অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষে সেবা গ্রহীতা ও সেবা দানকারীর অংশগ্রহণে মুখোমুখি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১ টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সুমন কান্তি সাহা।

এসময় শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিয়া সোহেল, ভাঙ্গামোড় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শেখ, কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল ম্যানেজার শামসুজ্জামান সিদ্দিকী, মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সংস্থার ফুলবাড়ী উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।

সভায় সেবাদাকারী ও সেবাগ্রহনকারী উভয় পক্ষ ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদান ও সেবাগ্রহন করার জন্য স্কোরিং করেন এবং  তাদের সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সেবার মান উন্নয়নের সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন।

ভূরুঙ্গামারীতে বিলেতি মদ ও ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সহ বিক্রেতা আটক

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের অভিযানে ৪৫ বোতল  মদ ও ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৫০০ টাকাসহ এক মাদক বিক্রেতা আটক হয়েছে। আটক ওই মাদক বিক্রেতার নাম এনাম হোসেন (৪৫)। তিনি উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের হেলিপ্যাড এলাকার আচা মামুদের ছেলে।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু জাফরের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার রাতে ভূরুঙ্গামারীর পাইকেরছড়া ইউনিয়নের হেলিপ্যাড এলাকার এনাম হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তার বাড়ি থেকে ৪৫ বোতল বিলেতি মদ ও নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে তাকে হাতেনাতে আটক করে।

কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিদর্শক আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে আটককৃত আসামীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের হাতে আটক ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে। গেল বৃহস্পতিবার তাকে কুড়িগ্রাম জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাণীশংকৈলে ৪৭৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার-১

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভবানন্দপুর( গরুহাটি) গ্রাম থেকে গত শনিবার ১৯ মার্চ রাতে ৪৭৫ পিস ইয়াবাসহ আমির হোসেন(৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমির ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি এস এম জাহিদ ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশদল ওইদিন রাত দশটার দিকে আমিরকে তার বাড়ি থেকে ওই ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এনিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে পরদিন ২০ মার্চ জেলা জেলহাজতে পাঠানো হয়।

১৭ই মার্চ

৭১ সালের ১৭ই মার্চ বাঙ্গবন্ধু তৎকালিন প্রেসিডেন্ট হাউস (মিন্টু রোড) থেকে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করে বেড়িয়েছেন। উৎসুক জনতা সহ বহু সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরেছে। ভিড় ঠেলে এক সাংবাদিক সামনে এসে প্রশ্ন করলো ” আজ আপনার জন্মদিন, কিভাবে উদযাপন করবেন এই জন্মদিন?”। বঙ্গবন্ধু বললেন ” আমি জন্মদিন পালন করিনা। আমি আমার জীবন এ দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছি”- এটাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং এ জন্যই তিনি জাতির পিতা।

একবার টরন্টোতে ১৭ই মার্চ উপলক্ষে আমরাও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেননা) জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। আমরা সকলেই বঙ্গবন্ধুর জীবন উল্লেখ করে বক্তৃতা করেছি। নেত্রী আমাদের বক্তৃতা শুনে ভাবাবেগে সিক্ত হয়েছিলেন। বক্তৃতা করতে গিয়ে নেত্রী তার নিজের কথা বললেন ” ১৫ই আগষ্ট আমরা দুই বোন ছিলাম বিদেশে। বহু প্রতিকুলতা এড়িয়ে আমরা জার্মানীতে যাই। সেখানে বাংলাদেশের হাই কমিশনারের বাসায় আশ্রয় নেই (জার্মানীতে তখন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ছিলেন হাই কমিশনার)। ঘরে বন্ধি জীবন আর কান্নাকাটি করে আমরা নির্জীব হয়ে পরেছি। একদিন মিসেস চৌধুরী আমাদেরকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে। আমরা একটা মলে ঢুকে হাটাহাটি করছি। একজন জার্মান মহিলা আমার ছেলেকে দেখে কাছে আসে আদর করলেন। আমার সঙ্গে হ্যন্ড শেক করে জানতে চাইলেন কোন দেশ থেকে এসেছি। হয়ত আমার বিষন্ন চেহারা দেখে তারও মায়া হয়েছে! আমি বললাম বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সঙ্গে সঙ্গে মহিলাটি আমার হাতটি ছেড়ে ঘৃনার চোখ নিক্ষিপ্ত করে বলে উঠলেন ” যাও! তোমার সঙ্গে কথাই বলবোনা, তোমরা শেখ মুজিবকে মেরে ফেলেছো”। আমি নির্বাক মহিলাটির দিকে চেয়ে থেকেছি। বলতে পারিনি আমি মুজিবেরই অভাগা মেয়ে।

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালিত হচ্ছে সারা দেশে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন করছে ঘটা করে। অথচ ৭৫ এর পরে বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসটিকেও মিথ্যা জন্মোৎসব বানিয়ে উপহাস করেছে- কেউ প্রতিবাদ করেনি। সেই বাঙালী আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মোৎসব নিয়ে মাতামাতি করছে দেখে খটকা লাগতেই পারে। এ দিনটি কি শুধুই জন্মোৎসব? বঙ্গবন্ধু বাঙালীর লালিত স্বপ্ন স্বাধীন একটি দেশে এনে দিয়েগেছেন। জীবনের ১৩টি বছর নিত্য সম্মুখিন হয়েছেন ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার। সাধারন জীবনযাপন করেছেন অন্য দশজন নাগরিকের মত। শৈশব থেকে যৌবন আর প্রতিদিন বাঙালীর ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বুনেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করেছেন স্বাধীনতা যূদ্ধের জন্য। ৭০ এর নির্বাচনে বাংলাদেশ মানুষ পুর্ন সমর্থন দিয়েছে মুজিবকে। চাইলে মুজিব অনায়েশেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সুখভোগ করতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু তা করেননি। নির্ঘাত মৃত্যু জেনেও পাকিস্তানি সৈন্যদের আক্রমনের প্রতিবাদে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন ও বলেছেন, শেষ শত্রুটি বিতারিত করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও। পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে বন্দী হয়ে ৯ মাস জেলে বসে মৃত্যুকে দেখেছেন প্রতিদিন।

যারা দিবসটিতে গরম বক্তৃতা করে মঞ্চ কাঁপাবেন তারা অনেকেই জানেনা কেমন করে খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হলেন শেখ মুজিব! কি নির্যাতন সয়েছেন বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিনত করতে! তাই মুজিবকে জানার চেষ্টাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান দেখানো- কেক কেটে জন্মোৎসব নয়।

জয় বাংলা

জয়তু বঙ্গবন্ধু


আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

আজ ১৭ই মার্চ মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির মশাল, জাতির জনক ‍”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” এর ১০২ তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ডিবিএন ডেস্কঃ আজ ১৭ই মার্চ মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির মশাল, জাতির জনক ‍”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” এর ১০২ তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস।

আজ এ দিনেই নদীমাতৃক সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামল বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলো এক অগ্নি স্ফুলিঙ্গ, এক মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি না থাকলে হয়তো বিশ্ব মানচিত্রের বুকে জন্ম হতো না ছোট্ট এক বাংলাদেশের।

তিনি সেই অবিসংবাদিত নেতা যার জন্যই বাঙালি আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে বিশ্ব দরবারে, বুকভরা গর্ব নিয়ে বলতে পারে আমরা বাঙালি, পেয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ। তিনিই ইতিহাসের মহানায়ক, বাঙালি জাতির স্রষ্টা জাতির জনক ‍”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আজ এই দিনে কবি শাহ বোরহান মেহেদীর সাথে সুর মিলিয়ে সব বাঙালি বলতে চাই-

“হে পিতা, বিনীত পুরুষ
তুমি জন্মেছিলে বলে শব্দবর্ণে আমি বাঙ্গালী
কোটি কোটি বাঙ্গালীর অংশ আমি, রক্ত ঢেলে
লাল গালিচা অভ্যর্থনা দেই তোমাকে।
তোমাকে স্মরণ করি, হৃদয় প্রণতির অক্ষরে
সোনার বাংলার পদাবলীর বিনম্র সুরে সুরে।”

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বঙ্গবন্ধু ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকিটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াকু এই নেতাকে বাংলার মানুষ ভালোবেসে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’- এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব-প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

তারপর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। পৃথিবীর মানচিত্রের বুকে জেগে উঠে এক দেশ, নাম তার বাংলাদেশ।

তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।

বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে পেয়েছেন স্বীকৃতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা এক মহা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশি ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন।

বিগত শতাব্দীর কিংবদন্তি কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর সাক্ষাৎ হওয়ার পর ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন, আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি।

শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।’

জাতীয় অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, “১৯৪৭ থেকে ‘৭১ এই সময়টুকুতে অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। যাদের অবদান কম নয়। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান।”

বিবিসির এক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন।

যতদিন বাংলাদেশ রবে, বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রবে ক্ষণজন্মা এই মহা পুরুষকে জাতি স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধায়। তাঁর দেখানো আদর্শের পথ ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন আর মানব উন্নয়নে এখন রোল মডেল বাংলাদেশ। অফুরন্ত সম্ভাবনার পথে ছুটে চলা বাংলাদেশের গতি এখন দুর্বার। এগিয়ে যাবে বীরদর্পে নিজ ক্ষমতাবলে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে।

জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আ.লীগের কর্মসূচিঃ

সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারাদেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায়ও তার জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস. এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, ইকবাল হোসেন অপু ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ।

১৮ মার্চ দুপুর আড়াইটায় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন দল। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ।

সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সকাল ৯টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (৩/৭-এ সেনপাড়া, পবর্তা, মিরপুর-১০)-এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে সারাদেশে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উৎযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।