ভূয়া পরিচয়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করেছিলেন হারিছ চৌধুরী?

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের পাদ্রী-বাংলা রোডে ‘আব্দুল হাফিজ’ নামে‘মাহমুদুর রহমানের’ পিতা পরিচয়ে কোনও ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। মা পরিচয়ে মেলেনি ‘রাবেয়া বেগম’ নামে কোনও নারীর সন্ধান। শ্রীমঙ্গলের পাদ্রী-বাংলা রোডে খোঁজ পাওয়া যায়নি আত্মীয়তার সংযোগও। কিন্তু এই নাম-ঠিকানা দেখিয়েই ‘মাহমুদুর রহমান’ নামে দুইবার (রিনিউসহ) পাসপোর্ট নিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী। পাসপোর্ট নিতে ব্যবহার করেছিলেন একটি সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়পত্রে দেওয়া ঠিকানাটিও ছিল ভুয়া। সরকারি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘মাহমুদুর রহমান’ নামে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। পাসপোর্ট অধিদফতরের সূত্রে খোঁজ মিলেছে ২০১৩ সালে করা তার প্রথম পাসপোর্টেরও। কিভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছিলেন হারিছ চৌধুরী ওরফে মাহমুদুর রহমান। কোন নম্বর ব্যবহার করে তিনি পেয়েছিলেন পাসপোর্ট? নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ও শ্রীমঙ্গলের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সম্মতিপত্রই বা কোন প্রক্রিয়ায় এসেছিল?

হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা চৌধুরী দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, তার বাবা মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে ঢাকাতেই ছিলেন ১৪ বছর। আর ছদ্মপরিচয়েই গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। দাফন করা হয়েছে সাভারের জালালাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসার গোরস্থানে। প্রমাণ হিসেবে সামিরা দেখিয়েছেন একটি পাসপোর্ট ও সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি। ছদ্মনামে পাসপোর্ট ও সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন হারিছ চৌধুরী। পাসপোর্ট তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছিলেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাদ্রী-বাংলা রোডের ঠিকানা। ঠিকানায় ছিল না কোনও বাড়ি বা বাসার নম্বর। তবে স্পাউস নেম হিসেবে নিজের স্ত্রীর প্রকৃত নাম জোসনা বেগমই উল্লেখ করেছিলেন হারিছ। একইসঙ্গে ইমার্জেন্সি কনটাক্ট হিসেবে ‘ছেলে’ পরিচয়ে ইকবাল হোসেন, ঠিকানা পাদ্রী-বাংলা রোড, শ্রীমঙ্গল ও একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন তিনি। খোঁজে বেরিয়ে এসেছে এই ইকবাল আহমেদকে ‘ছেলে’ হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি ছিলেন হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে করা প্রথম পাসপোর্টের (BA0115662) মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে তিনি রিনিউ করতে আবেদন করেন ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। এই পাসপোর্টের নম্বর (BW0952982)। উভয় পাসপোর্টে ইমার্জেন্সি কনটাক্ট পারসন হিসেবে ইকবাল আহমেদ নামে ব্যক্তি ও তার ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। পাসপোর্টে আবেদনকারী হিসেবে যে ফোন নম্বর দিতে হয়, সেখানে এই নম্বরই ব্যবহার করেন হারিছ চৌধুরী।

তার ভাই কামাল চৌধুরী সোমবার (৭ মার্চ) জানান, ইকবাল আহমেদ হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আর হারিছের স্ত্রীর নাম জোসনা বেগম। মা হলেন মৃত সুরুতুন্নেসা ও বাবা মৃত শফিকুল হক চৌধুরী। জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল আহমেদের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘উনি যখন ছিল, এলাকার হিসেবে সম্পর্ক ছিল। উনার সঙ্গে যোগাযোগ হয় নাই। আমি জানছি, তিনি মারা গেছেন ঢাকাতেই, শুনেছি।

হারিছ চৌধুরীকে কখনও পাসপোর্ট করে দেননি দাবি করে ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘তাই নাকি। উনি লিখছে ছেলে হিসেবে? আচ্ছা, দিতে পারেন উনি। উনি তো খুব স্নেহ করতেন আমাকে।মাহমুদুর রহমান’ নামের প্রথম পাসপোর্ট ‘এন-রোলমেন্ট’ হয় ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বরে। আবেদনে উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলা ও অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চকে তদন্ত করতে ফরোয়ার্ড করা হয়। স্থায়ী ঠিকানার তদন্ত দায়িত্ব শ্রীমঙ্গল থানার। থানায় ওই সময় এসবির ফিল্ড তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন লিয়াকত আলী মোল্লা।

বাংলা ট্রিবিউনকে লিয়াকত আলী মোল্লা জানান, ৮ বছর আগের ঘটনা তিনি নিশ্চিতভাবে স্মরণ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘ভেরিফিকেশন কীভাবে হয়েছে, তা বলা মুশকিল। ২০১৪ সালে আমার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। এজন্য এখন কিছুই মনে করতে পারি না। মনে নেই কীভাবে হয়েছিল।

পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর নম্বর ও ইমার্জেন্সি কনটাক্ট হিসেবে ইকবাল আহমেদের নম্বর উল্লেখ করা হলেও এসবি থেকে কোনও ফোন যায়নি? এমন প্রশ্নে ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘মনে হয় না, মনে পড়তেছে না। শ্রীমঙ্গলের পাদ্রী-বাংলা রোডে কোনও কিছু চিনি না। হারিছ সাবের বোনের কাছ থেকে তার মেয়ের খোঁজ-খবর নিয়েছি, উনার মৃত্যুর খবর শোনার পর।

এ বিষয়টি নিয়ে এসবি ঢাকা ব্রাঞ্চের কোনও দায়িত্বশীল মন্তব্য করতে চাননি। সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত খোঁজ পেতে সময় লাগছে। হারিছ চৌধুরী ছদ্মবেশে মাহমুদুর রহমান নামে যে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন সেটির নম্বর ১৯৫৫২৬৯৪৮১৩০০০০৪৫। তিনি নিজেই নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ছবি তুলে আইডি তৈরি করেন। সেই পরিচয়ে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয় ‘৫৬/এ মনিপুর-মিরপুর’। স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয় শ্রীমঙ্গলের পাদ্রী-বাংলা রোডের নাম। ২০১৩ সালের আগে করা সাময়িক পরিচয়পত্রে তিনি ‘৫৬/এ মনিপুর-মিরপুর’ অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও বাস্তবে এমন কোনও ঠিকানা নেই।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দুপুরে মনিপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫৬/এ নামে কোনও ঠিকানা নেই। গুগল ম্যাপ অনুযায়ী, সরেজমিন পাওয়া গেছে দক্ষিণ মনিপুর সড়কের একটি এলাকা। পাশে দেখা গেছে খালি একটি প্লট।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল মনে করেন, ২০১৩ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা খুব কঠিন ছিল না। যেকোনোভাবে জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করে দিলে তা সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর বলেন, এটা আপনার কাছ থেকে শুনলাম। বিষয়টি আমার জানা নেই। যাচাই-বাছাই করে দেখি। যদি বলার মতো কিছু হয়, তাহলে আমরা বলবো।

সোনাক্ষী সিনহার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ৩৭ লাখ রুপি নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু পরে তিনি আর সেখানে যাননি। এই অভিযোগে ইভেন্ট প্ল্যানার প্রোমোদ শর্মা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রোমোদ শর্মা অভিযোগে জানিয়েছেন, ৩৭ লাখ টাকা নিয়েও সেই অনুষ্ঠানে তিনি হাজির না হওয়ায় অভিনেত্রীর কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন সোনাক্ষীর ম্যানেজার। একাধিকবার অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো লাভ না হওয়ায় থানায় প্রতারণার অভিযোগ করেন প্রোমোদ।

এদিকে প্রতারণার মামলা দায়েরের পর একবার নিজের বয়ান রেকর্ড করে আসেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু তার পর থেকে আর কোনো খোঁজ না মেলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তবে এক বিবৃতিতে সোনাক্ষী সিনহা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। এই ভুয়া খবরকে কোন রকমের গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন সবাইকে।

তিনি আরও বলেন, কেউ নিজের স্বার্থের জন্য আমার উপর দোষারোপ করছেন। আমার এত বছরের তৈরি ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়ে সেই ব্যক্তি অর্থ এবং জনপ্রিয়তা পেতে চাইছে। সেই জন্যই সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের খবর ছড়াচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় গত কয়েক দিনে এই বিষয়টির সত্যতা কেউ যাচাই করেননি। এ খবর পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত।

ক্রিকেটে বেশ কিছু নতুন নিয়ম এনেছে এমসিসি

স্পোর্টস ডেস্কঃ চলতি বছরের জন্য ক্রিকেটে নতুন নিয়ম আনল ক্রিকেটের নিয়ম প্রচলনকারী সংস্থা দ্য মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আজ বুধবার  (৯ মার্চ) ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষ্যে নতুন আরও কিছু নিয়মের পরিবর্তন এনেছে প্রাচীন এই ক্রিকেট সংস্থাটি।

এমসিসির আইন প্রণেতা ফ্রেজার স্টুয়ার্ড বলেন, ২০১৭ সালের নতুন নিয়ম প্রকাশের পর, ক্রিকেট খেলায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিছু ক্ষুদ্র পরিবর্তন এনে ২০১৯ সালে সেই ধারার দ্বিতীয় এডিশন পাবলিশ হয়। তবে এবার ২০২২ সালে ক্রিকেটের নিয়মে বড় কিছু পরিবর্তন এসেছে।

নতুন এসব নিয়মের মধ্যে মানকাড আউট বদলে রান আউটে পরিবর্তিত হওয়া ছাড়াও ডেড বল এবং ওয়াইড দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম বদলে গেছে। এখন থেকে ফিল্ডারদের ভুলে ডেড বল হলে ব্যাটিং সাইড পাঁচ রান পেনাল্টি পাবে। এ ছাড়াও ওয়াইড দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে ব্যাটারের অবস্থান দেখা হবে। শট করার সময় ব্যাটার যে অবস্থানে থাকবে তার ওপর বিবেচনা করে ওয়াইড ডাকা হবে।

আন্তর্জাতিক থেকে ক্লাব পর্যায় সব জায়গায় নতুন এই নিয়ম আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। তবে চাইলে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতা-নির্দিষ্ট খেলার ওপর চাইলে কিছু নিয়ম না মেনে খেলাতে পারবে।

একনজরে দেখে নিন ক্রিকেটের কয়েকটি নয়া নিয়মগুলোঃ

  • ধারা ২৭ দশমিক ৪ এবং ২৮ দশমিক ৬- ফিল্ডারদের অবৈধ মুভমেন্টের জন্য বল ডেড ডাকা হলে ব্যাটিং সাইড ৫ রান পেনাল্টি পাবে।
  • ধারা ৩৮ দশমিক ৩- ৪১ ধারার মানকাডিং আউট পরিবর্তিত হয়ে ৩৮ ধারার রান আউটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
  • ধারা ৪১ দশমিক ৩- বলে লালা ব্যবহার সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে লালা ব্যবহার বলের আকার নষ্ট করার উপায় হিসেবে অবৈধ পন্থা বলে গণ্য করা হবে।
  • ধারা ১- নতুন ব্যাটার সব সময় স্ট্রাইকে আসবে। ব্যাটাররা ক্রিজ ক্রস করলেও এই নিয়ম থাকবে। তবে ওভারের শেষ হলে আলাদা বিষয়।
  • ধারা ২০-৪-২-১২- কোনো মানুষ, প্রাণী অথবা কিছুর কারণে খেলার মাঝে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট হলে বল ডেড ঘোষণা করা হবে।
  • ধারা ২২ দশমিক ১- শট করার সময় ব্যাটারের অবস্থানের ওপর ওয়াইড বল নির্ধারিত হবে।

আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ সমঝোতা স্মারক সই

জাতীয় ডেস্কঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৪টি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) বিকেলে দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। সে সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।

পরে এক বিবৃতিতে সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, চারটি সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চতর শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ে সহযোগিতা; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিআইআইএসএস) এবং এমিরেটস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস অ্যান্ড রিসার্সের (ইসিএসএসআর) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ ও আমিরাতের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সমঝোতা, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিজ (এফবিসিসিআই) ও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

এর আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পৌঁছান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর।বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং ২১ সদস্যের একটি চৌকস দল তাঁকে স্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩০২-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে ২ অপহরনকারী আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়ার এর নির্দেশে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান টিম এর সহায়তায় গত ৬ মার্চ গভীর রাতে ভিকটিম রবিনকে উদ্ধার করে মোবাইল লোকেশন সনাক্তের মাধ্যমে ২ অপহরনকারীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ৬নং একাটুনা ইউনিয়নের মনোহরকোনা গ্রামের জুনেদ আহমদ এর পুত্র রুবেল আহমদ (২৪) ও ১২নং গিয়াস নগর ইউনিয়নের আকবরপুর গ্রামের তারেক মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা জমসেদ আলী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা (নং- ১১/৫৬, তারিখ: (৬/৩/২২ইং) দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে- উপজেলার ৩নং কামাল পুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের জমসেদ আলীর পুত্র ভিকটিম রবিন আলী (১৯) গত ৫ মার্চ সকালে প্রাইভেট কার যার রেজি: নং- মৌলভীবাজার- গ- ১১-০০৩৬ নিয়ে বাড়ী হইতে মৌলভীবাজার কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কাজ শেষে তার ছেলে ও তার নাতনী নাফিজা সুলতানা আকবরপুর অবস্থিত আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা ইনিষ্টিটিউট আকবরপুর এর সামনে রাস্তার পাশে প্রকৃতির কাজ সারানোর জন্য প্রাইভেট কার থেকে নামলে কতিপয় ব্যক্তি রবিনকে জিম্মি করে। অপহরণকারী মো: জায়েদ আহমদ (২৭) প্রাইভেট কারটি চালিয়ে নিয়ে শ্রীমঙ্গল রেল গেইটের সামনে নাফিজা সুলতানাকে নামিয়ে দিয়ে রবিনকে নিয়ে দ্রুত গাড়ীটি ঘুরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রবিন এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭০৬৫৩৭৭৬২ হতে তার বন্ধু আফনান আল ওহি এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭৪৩৩০৯২৯৩ এ ফোন করে বলে যে, তাকে কতিপয় লোক অপহরন করেছে এবং মুক্তিপন হিসাবে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছে। যা বিকাশ নাম্বার ০১৬৪০০১৬৭৫১ এ টাকা পাটানোর জন্য বলে। জমসেদ আলী তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ০১৭৯১৫৬৯৬৬৮ নাম্বার হতে প্রেরিত বিকাশ নাম্বারে ১৪ হাজার ৭শত টাকা প্রদান করেন এবং বাকি টাকা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে বলে তাদেরকে জানান।

পরবর্তীতে উক্ত বিষয়টি পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিলে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সম্পর্কে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মৌলভীবাজারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তাৎক্ষনিক জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযান টিম-এর সহায়তায় উক্ত অপহৃত রবিনের মোবাইল লোকেশন সনাক্তের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল হতে জড়িত ৬নং একাটুনা ইউনিয়নের মোঃ কামাল উদ্দিন এর পুত্র মোঃ জাযেদ আহমদ (২৭) পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করে।

আটককৃত অপহরণকারী ২ জনকে গ্রেপ্তার পূর্বক মঙ্গলবার (৮ মার্চ) আদালতে হাজির করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

৭ ই মার্চের ভাষনের তাৎপর্য

১লা মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দেয়। সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পরে প্রতিবাদে। ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করবেনা তা বঙ্গবন্ধু বুঝে গিয়েছিলেন। ১ তারিখেই ছাত্ররা দাবী তুলে স্বাধীনতা চাই। ২রা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তলন করে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে ফেলে। ৩ তারিখে পল্টনের জনসভাতেও লক্ষ জনতার কন্ঠে স্বাধীনতার দাবী প্রতিধ্বনীত হয়। এই দাবী গনদাবী হয়ে উঠে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এমন সন্ধিক্ষনে স্বাধীনতা ঘোষনা দেওয়া ছিল নির্ঘাত সংঘাত। বঙ্গবন্ধু ডাক দিলেন ৭ ই মার্চ তিনি গুরত্বপুর্ন ভাষন দিবেন রেসকোর্স ময়দানে। ছাত্র জনতার দাবী ৭ তারিখেই স্বাধীনিতার ঘোষনা চাই। ইয়াহিয়াও মনে করেছে জনতার চাপে মুজিব এমন ঘোষনাই দিবেন। স্বাধীনিতার ঘোষনা দিলেই ইয়াহিয়া দেশদ্রোহিতার অপরাধে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করবে। বাঙালীর মুক্তির দাবী চিরতরে স্তব্দ করে দিবে। বিশ্ববাসীও মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষনা মেনে নিবেনা। সৈন্যরাও প্রস্তুত,নির্দেশ পেলে গুলি চালাবে সভাস্থলেই। মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তেজীত জনতাকে শান্ত করলেন বঙ্গবন্ধু তার বাগ্মিতায়। ২৩ বছরের ইতিহাসের বর্ননা দিলেন কবিতার ছন্দে। ৪ টি শর্ত দিলেন ইয়াহিয়াকে। সেনাপতিরা বুঝতেই পারেনি কি বলে গেলেন মুজিব। শর্ত মানলে মুজিবের হাতে ক্ষমতা আর না মানলে স্বাধীনতাই বাঙালীর লক্ষ্য। ইয়াহিয়া -ভুট্টো ঢাকায় এসে আলোচনার নামে সৈন্য জমা করছে, আর মুজিব প্রস্তুত করছে যুদ্ধের দিনক্ষন।মুজিব চেয়েছেন ইয়াহিয়াই প্রথমে আক্রমন করুক। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। যেভাবে বক্তৃতায় বলেছেন ” আমি যদি হুকুম দেবার না’ও পারি তোমাদের যা কিছু আছে তা’ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো”। ঠিক সে ভাবেই প্রথম গুলি ছোড়ার পর পরই ডাক দিলেন ” শেষ শত্রুটিকে বিতারিত করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও”। ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এটি ছিল সুপরিকল্পিত রণকৌশল। সাড়ে সাত কোটি জনতাকে বিবেধ ভুলে সম্পৃক্ত করেছেন যুদ্ধে। দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাইতো ৭১ এর যুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। এই ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করে গেছেন মুজিব। অনেক দেশই এই যুদ্ধে বাঙালীর পক্ষে ছিলনা কিন্তু সে দেশের জনগন সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশকে।

৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষনেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আর প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে। সমরবিদদের রণকৌশল হার মেনেছে মুজিবের কাছে। এই রণকৌশলে বিন্দুমাত্র ভূল হলে বাঙালীর অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যেত। তাই ৭ই মার্চের বক্তৃতা ছিল হাজার বছরে বাঙালীর গৌরব। বক্তৃতার প্রতিটি শব্দ ছিল ছন্দময় আর অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত প্রজ্জলিত। বঙ্গবন্ধু অবিস্মরনীয় দিগন্ত উম্মোচন করে প্রমান করেছেন তিনি বিশ্ব নেতা। এখন অনেকেই স্বাধীনতার ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেন কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষন ছাড়া স্বাধীনতার ইতিহাস অপুর্ন। স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে হলে ৭ই মার্চের ভাষনের তৎপর্যটি বুঝতে হবে আগে।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

জুড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘর পুড়ে ছাই, অক্ষত “পবিত্র কোরআন শরীফ”

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অগ্নিকান্ডে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও প্রায় অক্ষতই রয়েছে “পবিত্র কোরআন শরীফ”।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দিকে উপজেলার জুড়ী-ফুলতলা সড়কের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে ফাতেমা বেগমের বসত ঘরে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রনে আনেন। দুই মহিলা ও ৩জন শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় তারা আগুনের ধ্বংস স্তূপ থেকে একটি পবিত্র কোরআন শরীফ উদ্ধার করেন।

সরেজমিনে থাকা জনসাধারণ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র গ্রন্থটির চার দিকে কিছু কিছু পুড়ে গেলেও লেখাগুলো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কোরআন শরীফটি স্থানীয় মসজিদে নিয়ে রাখা হলে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখার জন্য সেখানে অসংখ্য মানুষ সেখানে ভীড় করছেন বলেও জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ওয়েছ আহমদ, হাফিজ শামছুল ইসলাম, মিসবাউল হক, আর কে শিবলু, আব্দুল আজিজ রুহেদ প্রমুখ বলেন- যেহেতু আল্লাহ বলেছেন কোরআনের হেফাজতকারী আল্লাহ নিজে। এটি তার একটি উদাহরণস্বরূপ হয়ে থাকলো।

কুড়িগ্রামে ড্রাইভার হত্যার দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে মাইক্রোবাস ছিনতাই ও ড্রাইভারকে হত্যার দায়ে মাহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ এবং তৌহিদুল ইসলাম নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো.আব্দুল মান্নান এ আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে প্রত্যেককের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি মাহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ রংপুর শহরের নিউ শালবন এলাকার মোস্তফা হোসেনের ছেলে এবং তৌহিদুল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার শালটি গোপালপুর এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়া খানপাড়া এলাকার বাদশা খানের ছেলে শহিদুর রহমান মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৯ জুন রংপুর যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাস ভাড়া নেন আসামিরা। পথে শহিদুর রহমানকে হত্যা করে উলিপুর উপজেলার কাজলডাঙ্গা এলাকায় মরদেহ ফেলে যান তারা। এ সময় শহিদুর রহমানের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পাওয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করলে স্বজনরা এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ৩০ জুন রাতে কুড়িগ্রাম জেলা শহর কলেজ মোড় এলাকায় ধরা পড়েন সন্দেহভাজন রবিউল ইসলাম ও মাহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ। এসময় তৌহিদুল ইসলাম নামে অপর একজন পালিয়ে যান। একই বছর জুলাই মাসের ১ তারিখ নিহতের ভাই ছাইদুর রহমান খান বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামি করে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরপরে দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে মাহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ এবং তৌহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে খালাস করে দেওয়া হয়।

চার বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান হত্যার চার বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হুমায়ূন কবিরকে গ্রেপ্তার করেছেন র‍্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা।

সোমবার (৭ মার্চ) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ূন কবির নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে। হুমায়ূন কবির নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন।

সোমবার বিকেলে র‍্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অ্যাডিশনাল এসপি রফিউদ্দীন মোহাম্মদ জোবায়ের জানান, ২০১৭ সালের ১৫ মে সাবেক চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান হত্যা মামলা ঘোষণার পর থেকে হুমায়ূন কবির পলাতক ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইব্রাহিমপুরে বাড়ি কিনে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে আত্মগোপন করে বসবাস করতে থাকেন। সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহিমপুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি’তে তা (৮ মার্চ) মঙ্গলবার গনমাধ্যমকে জানান ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অ্যাডিশনাল এসপি রফিউদ্দীন মোহাম্মদ জোবায়ের।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর বাজারের মালিকানাধীন ভূমি ভরাট করে সেখানে ৬৪টি ভিটি বিক্রির টাকা নিয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরোধ চলে আসছিলো। ২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর কুড়িঘর বাজারে হামলার শিকার হয়ে মারা যান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এই হামলা হয়। মামলায় উল্লেখ করে জিল্লুর রহমানের ছেলে থানায় মামলা করেন।

রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করার দাবি ইউক্রেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়ার একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করার দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, খারকিভ শহরের কাছাকাছি এক সংঘর্ষে ওই পদস্থ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। খবর-বিবিসি।

বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের এ দাবি যাচাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং রাশিয়াও কিয়েভের এ দাবির ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খারকিভের কাছ এক সংঘর্ষে রাশিয়ার ৪১তম বাহিনীর উপ কমান্ডার মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভ নিহত হয়েছেন।

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ওই সংঘর্ষে আরো কয়েকজন রুশ সেনা কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, জেনারেল গেরাসিমভ দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সিরিয়ায় রাশিয়ার সেনা অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন। তাকে সম্মানজনক সামরিক পদকও প্রদান করা হয়।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা টুইটারে এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তাকে জেনারেল গেরাসিমভ বলে দাবি করেছেন। তার ছবির নীচে লাল কালিতে লেখা হয়েছে ‘ভবলীলা সাঙ্গ করা হয়েছে’।

তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে গেরাসিমভকে হত্যা করার দাবি করেছে তিনি রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ নন। যদিও কোনো কোনো পশ্চিমা গণমাধ্যমে তেমনটিই দাবি করা হয়েছে।