বাংলাদেশ থেকে ফের রাশিয়ার আলু আমদানি শুরু

সিএনবিডি ডেস্কঃ আগের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফের আলু আমদানি শুরু করতে যাচ্ছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার (৭ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশনের ফেডারেল সার্ভিস ফর ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি সার্ভিল্যান্স পূর্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আলু আমদানি শুরু করবে। এ সিদ্ধান্ত রাশিয়ান ফেডারেশন ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ফাইটোস্যানিটারি চাহিদা অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে উদ্ভিদ সংগনিরোধ ও সুরক্ষায় দায়িত্বশীল বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মানতিতস্কির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি পরিসর সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেনের তৃতীয় দফা বৈঠকের ফলাফল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক কোনো ধরণের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যদিও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে পালানোর চেষ্টাকারী বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ করিডোর দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। গতকাল সোমবার (৭ মার্চ) বেলারুশে দুই দেশের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, মানবিক করিডোরের সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সংঘাত অবসানের উপায় বের করতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এর আগে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মানবিক করিডোর তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত গোলাগুলির কারণে ভেস্তে যায়।

বৈঠক শেষে রাশিয়ান প্রতিনিধি দলের শীর্ষ আলোচক ভ্লাদিমির মেডিনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মানবিক করিডোর মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু তিনি পরবর্তী ধাপের বৈঠক আরও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

মেডিনস্কি বলেন, বৈঠক থেকে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কিন্তু আমরা আশাবাদী, পরেরবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হব। আলোচনা চলবে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফার বৈঠক এবং ৩ মার্চ দ্বিতীয় দফার বৈঠক বেলারুশে অনুষ্ঠিত হয়।

আসন্ন রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

সিএনবিডি ডেস্কঃ প্রতি বছর পবিত্র রমজান নিয়ে আসে রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা। যা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস।মহান রবের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশ্বের মুমিনগণ ৩০ দিন রোজা পালন করেন। এবার পবিত্র রমজান মাস চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুরু হবে আগামী ৩ বা ৪ এপ্রিল। রমজান শুরুর সময় ৩ এপ্রিল ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে।

গত ৫ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৪৪৩ হিজরির রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের এ সময়সূচি চূড়ান্ত করে। আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সময়সূচি ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে www.islamicfoundation.gov.bd প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সাহরির শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবহে সাদিকের ৩ মিনিট আগে ধরা হয়েছে এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় সুবহে সাদিকের ৩ মিনিট পরে রাখা হয়েছে। অতএব, সাহরির সতর্কতামূলক শেষ সময়ের ৬ মিনিট পর আজান দিতে হবে। এ ছাড়াও সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলকভাবে তিন মিনিট বাড়িয়ে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১১ মিনিট পর্যন্ত যোগ করে ও ১০ মিনিট পর্যন্ত বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সেহরি ও ইফতার করবেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ১০০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করেছে । আটক মাদক ব্যবসায়ীর নাম শফিকুল ইসলাম শফি (৪০)। তিনি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মধ্যরাবাইতারী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ফুলবাড়ী থানার  এসআই রাহাত ও এসআই ইয়াসিনের যৌথ নেতৃত্বে পুলিশের একটি  অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যরাবাইতারী এলাকায় অভিযান চালায়।  এসময় শফিকুলের মাছের খামারের ঘর থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে তাকে হাতেনাতে আটক করে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুর রহমান জানান, আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে  নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুল তথ্য দিবেননা প্লিজঃ

৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণটি ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ। ১৯ মিনিটের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু ২৩ বছরের ইতিহাস বর্ননা করেছেন নিখুঁতভাবে। নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তি যুদ্ধের। জাতিকে প্রস্তুত করে দিয়েছেন যুদ্ধের জন্য। বক্তৃতার প্রতিটি শব্দ ছিল যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক এবং সঠিক। ৪ টি শর্ত দিয়েছিলেন পাকিস্তানি শাসকদের জন্য। এই শর্তই ছিল স্বায়ত্ব শাসনের প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত। সেই দিন থেকে ইয়াহিয়ার শাসন চলেনি পূর্ব পাকিস্তানে। শুধু গভর্নর হাউস আর ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া কোথাও পাকিস্তানি পতাকা উড়েনি। দেশ চলেছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। নেতৃত্বের এমন সাহস আর কেউ দেখাতে পারেনি। এই জন্যই বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা।

ইদানিং অনেকেই দাবী করেন তারা নাকি এই বক্তৃতা লিখে দিয়েছেন। কিন্তু সত্যটি হল এর কোনটাই সত্য নয়। এটা ঠিক বঙ্গবন্ধু দিনভর মিটিং করেছেন। অনেকেই অনেক পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছেন ” আমি জনগনের নেতা, আমি জানি কি বলতে হবে”। লেখা বক্তৃতা বঙ্গবন্ধু পড়েননি। যে ছবিটি প্রচার হয় সেখানেও দেখা যায় বঙ্গবন্ধু জনতার দিকে চেয়েই বক্তৃতা করছেন। অসত্য দাবী করে যারা বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করেন তারা ইতিহাস বিকৃত করছেন জেনে শুনেই। এরা রাজনীতির আলোচনায় ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কারনেই।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশে বিদেশে প্রচুর রিসার্চ হয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে প্রচুর। সব বিশ্লেষনেই বঙ্গবন্ধুকে শতাব্দির সেরা নেতৃত্ব দাবী করা হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও একবারের জন্য বিচলিত হননি বঙ্গবন্ধু। বাঙালীর স্বাধীনতাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। লোভ লালসার উর্ধে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই ছিল বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য। যারাই ইতিহাস বলেন কিংবা লেখেন অনুগ্রহ করে সত্য লিখুন। ইতিহাসে মিথ্যা স্থায়ী হয়না। রাজনীতি করুন কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল ব্যখ্যা দিবেন না প্লিজ।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

রাণীশংকৈলে তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষক মাঠ দিবস

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায়(৭ মার্চ সোমবার)বিকালে হোসেনগাঁও ইউনিয়নের রাউত নগর মধ্যপাড়া গ্রামে তেলজাতিয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। সরিষাসহ তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই কৃষক মাঠ দিবস।

উপজোলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্নার সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ প্রদিপ কুমার গুহ।  বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশিক্ষন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম,জেলা বীজ প্রত্যায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, দিনাজপুর অঞ্চল মনিটরিং কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ সঞ্চয় দেবনাথ।

আরো বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব  সভাপতি ফারুক আহমেদ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পী, কৃষক সুজিত আলী, উপ সহকারি কৃষি অফিসার এনামুল করিম প্রমুখ। মাঠ দিবসে প্রায় শতাধিক কৃষক কৃষাণি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারি কৃষি কমকর্তা সাদেকুল ইসলাম।

রৌমারীতে চাকুরী নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিল এক এনজিও কর্মকর্তা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার স্থানীয় এনজিও সেন্টার ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট কুড়িগ্রাম-সিএসডিকর নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, পিইডিপি-৪ শিক্ষা প্রকল্পের ‘আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২০ সালে সহযোগী এনজিও হিসেবে কাজ পায় সিএসডিকে। পরে বিভিন্ন পদের বিপরীতে উপজেলায় মোট ১৬২ জনের নিয়োগ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
এর মধ্যে প্রোগ্রাম ম্যানেজার ২ জন, হিসাবরক্ষক ২ জন, প্রোগ্রাম সুপারভাইজার ১৪ জন, শিক্ষক ১৪০ জন, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর ২ জন ও অফিস সহায়ক পদে ২ জন।  এসব পদে আবেদন করেন প্রায় চার শতাধিক চাকরি প্রার্থী। আবেদনকারী সবার মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় নিয়োগ বাণিজ্য। ’ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৬২ জনকে নিয়োগের কথা থাকলেও চার শতাধিক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ নেন আবু হানিফ।
ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতি শিক্ষক পদের জন্য ৫০ হাজার, সুপারভাইজার পদে ১ লাখ টাকা করে ঘুষ নেন সিএসডিকের নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফ। যারা নিয়োগপত্র পেয়ে পাঠদান করছেন তারাও ১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী লিমা খাতুন, বিউটি খাতুন, বাছিরন আক্তার, সাবানা খাতুন, আখি আক্তার, নাছিমা খাতুন, আনোয়ার হোসেন ও সাহাদৎ হোসেনের কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য।
এ ব্যাপারে সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফ বলেন, ‘ঘটনা সত্য না মিথ্যা এ বিষয়টি ইউএনও দেখবেন। ওরা (ভুক্তভোগীরা) অফিসে আসছিল, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।’
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুড়িগ্রামে বিয়ে বাড়ীতে ছুরিকাঘাতে বরের বন্ধু নিহত

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন হরিজন পল্লীর এক বিয়ে বাড়িতে নাচা-নাচিকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে রাহুল বাসফোর (১৯) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক গাইবান্ধা শহরের কাচারীবাজার এলাকার প্রদীপ বাসফোরের ছেলে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশ সেখানে অবস্থান করে।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন হরিজন পল্লীর সুমন হরিজনের মেয়ে অন্তরা রানী বাসফোর (১৭) সঙ্গে গাইবান্ধা জেলা সদরের কাচারীপাড়া এলাকার স্বপন বাসফোরের ছেলে রনি বাসফোরের বিয়ের আয়োজন চলছিল। রনি পুলিশে চাকরিরত। কন্যা বিদায়ের সময় উভয়পক্ষের লোকজন আনন্দ-উৎসব করছিল। এসময় নাচানাচি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বরের বন্ধু রাহুল বাসফোর নামের ওই যুবককে ছুরিকাঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ৪/৫ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গাইবান্ধা হরিজন সম্প্রদায় কমিটির সভাপতি কীর্তন বাসফোর জানান, রাহুল বাসফোর নামে বরের এক বন্ধুর বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার জানান, গাইবান্ধা থেকে গত ৬ মার্চ ১০টি মাইক্রোবাসে ১৫০ জন বরযাত্রী আসে। সোমবার সকালে বিয়ে শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে নাচ-গান করার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন মারা যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এখানও মামলা হয়নি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আজ ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

সিএনবিডি ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। পৃথিবীর সব নারীর অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় এবং তা যথাযথভাবে পালনের জন্য পৃথিবীর সব রাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়। প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৮ মার্চ একটি স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে পালিত হয়ে আসছে। কোনো কোনো দেশে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবেও পালিত হয়। যেমন- রাশিয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম, ইউক্রেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ। আবার চীন, মেসিডোনিয়া, নেপাল ও মাদাগাস্কারসহ অনেক দেশে এ দিনটিতে কেবল নারীরা সরকারি ছুটি ভোগ করেন। যদিও বাংলাদেশে এ দুটি ব্যবস্থার কোনোটিই নেই; তবে র‌্যালি, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মধ্যে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘নারীর সুস্বাস্থ্য ও জাগরণ।’ এই মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- ‘টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য।’

কীভাবে এলো নারী দিবস?

নারীর আজকের যে জয়যাত্রা, তার পেছনে আছে সীমাহীন ত্যাগ। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে নানা দমন-পীড়ন ঠেলে নারী উঠে এসেছে আপন মহিমায়। যে নারী দিবস নারীর অগ্রযাত্রার প্রতীক সেটাও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর  জন্য পোড়াতে হয়েছে অনেক কাঠ-খড়।

    • ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদে।
    • ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম-অধিকারের দাবি তোলেন।
    • ১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন।
    • ১৯০৮ সালে ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    • ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে ১৭ দেশের ১০০ প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন।
    • ১৯১১ সাল থেকে ৮ মার্চ দিনটিকে ‘নারীর সম-অধিকার দিবস’ হিসেবে পালিত হয় ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে।
    • ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়। এদিন সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।
    • ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।
    • ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে।
    • ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৮ মার্চকে নারী দিবস পালনের জন্য বিল অনুমোদন পায়।
    • ১৯৮৪ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এবং শেষমেশ ২০০৯-এ বিশ্বের ২৯টি দেশে সরকারি ছুটিসহ প্রায় ৬০টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে এবং এখন তা পুরো বিশ্বজুড়ে পালন হচ্ছে।

বাংলাদেশে নারী দিবসঃ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পৃথক এক বাণীতে বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। সারাবিশ্বে তাই আজ বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারীর কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এদেশের নারী-পরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেমন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তেমনিভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলাও সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ নারী দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচজন জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করবে। তাঁরা ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছ থেকে সম্মাননা পদক, ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করবেন।

এ বছর অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার মোসা. সানজিদা আক্তার শিমু, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হোসনে আরা আরজু, সফল জননী হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের খোশনাহার বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের জেসমিন আক্তার ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় রংপুর বিভাগের মোছা. রোকেয়া বেগম শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পাচ্ছেন।

দিবসটি উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে। দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং এ বিষয়ে প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। পাক্ষিক অনন্যা আজ বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘উইমেন অব এক্সিলেন্স বাই র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন’।

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ দিবস উপলক্ষে ‘ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই স্লোগান সামনে রেখে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন রয়েছে।

‘কর্মজীবী নারী’ সকাল ১০টায় মিরপুর-১৩-এর হারম্যান মেইনার স্কুলের পাশে মানববন্ধন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস সুনীতি প্রকল্পের আওতায় সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে বিলস সহযোগী জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতারা, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহশ্রমিকরা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া নারী মৈত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় ভ্যান শোভাযাত্রা, ইউসেপ বাংলাদেশ- এর উদ্যোগে মিরপুরে আলোচনাসভা, হ্যালোটাস্ক-এর উদ্যোগে গৃহশ্রমিক নিয়োগকারীদের নিয়ে আলোচনাসভা এবং রেড অরেঞ্জের উদ্যোগে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ‘আমরাই পারি জোট’ গতরাত থেকে সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা ও সম-অংশীদারি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি নারীর জন্য প্রতিটি স্থান, প্রতিটি সময়, প্রতিটি মুহূর্তকে নিরাপদ করার দাবিতে বিশেষ হ্যাশট্যাগ (#) ক্যাম্পেইন ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ শুরু করেছে।

ফুলবাড়ীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যথাযোগ‍্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ‍্যে সকাল ৯ টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, ফুলবাড়ী থানা পুলিশ, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  আলোচনা সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম‍্যান গোলাম রব্বানী সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, ওসি ফজলুর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।  সভাশেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলালীগ এর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।