ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রলীর চাকায় পিষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে কাঠবোঝাই পাওয়ার টিলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে নীরব রায় (১১) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত নীরব  আকচা তাতীপাড়া গ্রামের নরোত্তম রায়ের ছেলে ও স্থানীয় ব্রাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি ওই পাওয়ার টিলারটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে চাকা ও ইঞ্জিন আগুনে পুড়ে যায়। রবিবার (৬ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে রুহিয়া রোডের কাশিডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কাঠবোঝাই পাওয়ার টিলারের পেছন পেছন বাইসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন নীরব।এসময় পাওয়ার টিলারটিকে ওভারটেক করতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে চাকার নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুু তার হয়। এসময় চালক ট্রলী রেখে পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ জনগণ পাওয়ার টিলারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ও আগুনে পুড়ে যাওয়া পাওয়ার টিলারটি উদ্ধার করে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পাওয়ার টিলারের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি, ঘাতক গাড়ীটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাওয়ার টিলারের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি, ঘাতক গাড়ীটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগরে খুপড়ি ঘরেই অসহায় ভূমিহীন দুই বিধবার দুই যুগ পার, কেউই পায়না ভাতা

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ দারিদ্র্যের কষাঘাতে দূর্বিষাহ জীবনযাপন করছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রফিয়া এবং তার বোন ৬৫ বছর বয়সী বিধবা নারী জায়েদা।২৫ বছর আগে স্বামীর অকাল মৃত্যুতে বিধবা হয়েছেন তিনি। স্বামীর পরিবারের কেউ না থাকায় তিনি স্বামীর মৃত্যুর পরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। দরিদ্র পিতামাতা তাদের মেয়েকে রক্তের টানে দূরে ঠেলে না দিয়ে নিজ ভিটায় তুলে দিয়েছেন একটি ছোট্ট ঘর।বসবাসের ঘরটা তাউ আবার ভাই করম আলীর জায়গায়।

জানতে চাইলে জায়েদা ডিজিটাল বাংলা নিউজ কে জানান, একটি বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ২৫ বছর অপেক্ষায় রয়েছি। কেউ একটু খোজ নিয়েও দেখেনি। জায়েদা মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নং নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুনজর গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের বিলকান্দা আলগাবাড়ীর করম আলীর বোন। দরিদ্র পরিবারের এই বিধবা নারীর কোন ছেলে মেয়ে নাই।

জায়েদা আরো জানান, শুনেছি কত মানুষ ভাতার কার্ড পায়।আমার কার্ড কেউ করে দেয় না। যার কাছে গিছি সেই বলে কার্ড হবে। ভোটের কার্ড নেছে কতবার। পরে আর কোনো খবর নেয় না। কার্ড যদি না করেই দিবি তাহলে আইডি কার্ড কেন নেয়। এখন এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অসহায় বিধবা নারী জায়েদার মনে।

রফিয়ার ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ অনুসারে তার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় একটি ঘর তো দূরের কথা, পান না বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতাও। তাই তাকে ভিক্ষাবৃত্তি করে আধপেট খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি এক বেলা আহার যোগাড় করে দু-বেলা খেয়ে জীবন কাটান। যাযাবর না হলেও থাকেন যাযাবরের মতো। সামান্য বাতাসে দুলছে খুপড়ি ঘরটি। বর্তমানে রোগে-শোকে কাতর তিনি। হারিয়ে ফেলেছেন মানসিক ভারসাম্যও।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে দেশের কোন মানুষ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না বলে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন মুজিববর্ষে একটা মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। কিন্তু গ্রামের রফিয়া ও জায়েদার দিকে তাকায়নি ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় কেউ।

ঘরে ঢুকে দেখা গেল একটি চোকির উপর একটি বালিশ। একটি কাঠের তাকে উপর দুটি খালি পাতিল । পাটি পাতা ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঘেরা ঘরে দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাহিরের সূর্য ও আকাশ। প্রচণ্ড শীতে যখন যুবকরা ও কাবু তখন আমেনা খাতুনকে থাকতে হয় খুপড়ি ঘরে। হিমেল বাতাস, কুয়াশায় ঢেকে যায় খুপড়ি ঘরটি।

এখন তারা নিজেদের জন্য সরকার এবং সকলের নিকট সাহায্য এবং সহযোগিতা কামনা করছেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ফুলবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাববেশ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে রুখে দিতে বিএনপি-জামায়াত চক্রের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে একটি প্রতিবাদ মিছিল ফুলবাড়ী সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর উপজেলা সদরের তিনকোনা মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বকসীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা দুলাল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক মিলন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক মিলন প্রমূখ।

প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ : ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ধাতাইলগাঁও গ্রামে শব্দকর এক প্রতিবন্ধী (২০) কে ধর্ষন করার অভিযোগ উঠেছে ২সন্তানের জনক উবাহাটা গ্রামের প্রতিবেশী রজত ধর (৫৫) এর বিরুদ্ধে। প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণে ৭ মাসের অন্তঃসত্বা হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শব্দকর দরিদ্র পরিবারে প্রতিবন্ধী ঐ নারীর পেটে অপর শিশুর জন্মের ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের সাহস পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী পরিবারটি। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রতিবন্ধী মেয়েটির ধর্ষক হিসেবে রজত ধরকে দায়ী করছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছেন।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা,বাবা ও তার ভাইসহ নিকট আত্বীয়রা জানান, শব্দকর দিন মজুর এ পরিবারটির গ্রামে তাদের কোনো ভিটেমাটি নেই। মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় সে রজত ধর এর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সেই ধর্ষণের ফলে মেয়েটি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্বা।

মেয়েটির বাবা জানান, এমন ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। রজত ধর আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছি। এবং আমরা তাকে উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে পরীক্ষা করাই। সেখানে ৭ মাসের অন্তঃসত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রজত ধর বলেন- প্রতিবন্ধী নারী আমার ঘরে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। কিভাবে ৭ মাসের অন্তঃসত্বা হয়েছে সেই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আদর মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অমানবিক। প্রতিবন্ধী ও দিন মজুর পরিবারের সাথে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ তরফদার ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যান্য গন্যমান্য লোকজন অবগত রয়েছেন।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান বলেন- বিষয়টি আমি অবগত নয়। পরিবারকে বলেন মামলা করতে। তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হবে।

মুরাদনগরে ১০ কেজি গাজাঁসহ দুই নারী পাচারকারী আটক

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দশ কেজি গাজাঁসহ দুই জন নারী পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুর ১টার সময় মুরাদনগর উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনে কোম্পনীগঞ্জ-মুরাদনগর সড়ক হতে তাদেরকে আটক করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

আটককৃত নারী মাদক পাচারকারী সদস্যরা হলো, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার শরাতলা গ্রামের মৃত্যু রেজাউলের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৫০) ও রফিক মিয়ার স্ত্রী রাশিদা বেগম (৫০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক দিয়ে মুরাদনগর সদর হয়ে একটি মাদকের চালান যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার এসআই আবু হেনা মোস্তফা রেজার নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনের মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটিতে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাসী চালায়। এ সময় দুইজন নারী সড়কের পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। দাড়িয়ে থাকা নারীদের পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তাদেরকে তল্লাসি কালে ১০ কেজি গাজাঁ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম জানান, আটককৃত মহিলার কাছ থেকে ১০ কেজি গাজাঁ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনের ৩৬(১) এর ১৯(খ) দারায় মামলা হয়েছে। আটককৃতদের সোমবার সকালে তাকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

৭ই মার্চ

দিনটি এখন একটি অনুষ্ঠান মাত্র। কিন্তু ৭১ সালের এই দিনটিই ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপুর্ন। এই দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ দিয়েছিলেন সরোওয়ার্দী উদ্যানে (তখন রমনা রেসকোর্স)। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলে দিয়েছিলেন। কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণাটিও দিয়েছিলেন। এই ৭ই মার্চই ছিল পাকিস্তানি শাসকদের শেষ দিন। এই দিনের পর বাংলাদেশের কোথাও পাকিস্তানি শাসন চলেনি। এই ভাষণ এখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলির মধ্যে স্থান পেয়েছে।

আমরা তখন যাত্রাবাড়িতে থাকি। নারায়নগঞ্জ, ডেমরা এবং চিটাগাং যাওয়ার তখন একটাই মাত্র রাস্তা ছিল যাত্রাবাড়ির উপর দিয়ে। সকাল থেকে রাস্তায় কোন যান চলাচল করেনি। মানুষের মিছিল ছিল সর্বত্র। আদমজী বাওয়ানী থেকে আসা মিছিলে আমরা পানি সরবরাহ করেছি। কথা ছিল রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হবে। যে কারনে সেদিন অনেকেই মাঠে না গিয়ে রেডিও নিয়ে বসেছিল দল বেঁধে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রেডিওতে প্রচার হবে এটাও একটি ভিন্ন রকম আগ্রহ ছিল। গুজব ছড়িয়েছিল সভাস্থলে প্লেন থেকে বোমা ফেলা হবে। তাই অনেকে ভয়েও যায়নি মাঠে। না হয় রমনায় উপস্থিতি সংকুলান হতনা। বড়রা আমাদেরকে বাঁধা দিয়েছে মিটিং এ যেতে। আমরা কয়েকজন লুকিয়ে চলে গেছি মাঠে। ৩ টার আগেই গেছি কিন্তু কোথাও দাঁড়াবার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। যেখানেই দাঁড়াই সেখান থেকে মঞ্চ দেখা যায়না। অনেক ঘুড়ে সরোওয়ার্দী এবং শের এ বাংলার মাজারের কাছে একটি গাছে চড়ে বসেছি। দূরে হলেও একেবারে মঞ্চের মুখোমুখি।

তারপর যা দেখেছি/ শুনেছি তা অবিশ্বাস্য। এখন যে রেকর্ডকৃত বক্তৃতাটি শুনি সেদিন আরও কিছু কথা ছিল। সেগুলি কাটছাট করা হয়েছে। ফিরতি পথে এক আনা দিয়ে একটি টেলিগ্রামও কিনে এনেছি (তখন বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা হলেই ইত্তেফাক এক পাতার একটি পত্রিকা বের করত, সবাই কিনত)। মিটিং শেষে মিছিলের সাথে ফিরে গেছি যাত্রাবাড়ি। পরদিন বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ রেডিওতে প্রচার হয়েছে। সেদিন যাদের সাথে রেসকোর্স ময়দানে গিয়েছিলাম তাদের সবাই এখন আর বেঁচে নেই। দু’জন মুক্তিযুদ্ধে মারা গেছে। এদেরই একজন ছিলেন ফারুক ভাই। ফারুক ভাই সরোওয়ার্দী কলেজের (তখন কায়েদ ই আজম কলেজ) বি এ ক্লাশের ছাত্র ছিলেন। তার নামেই এখন শহীদ আল ফারুক সড়কটি নামকরণ করা হয়েছে।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় ডেস্কঃ আজ সোমবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৭ মার্চ) সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ দেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য মোনাজাতের মাধ্যমে দোয়া করা হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানীর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল সমাবেশের সামনে স্বাধীনতার নবযুগ সৃষ্টিকারী ভাষণ দেন। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার স্বৈরাচারী ও দমনমূলক শাসন থেকে মুক্তির সংগ্রামে পুরো বাঙালি জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাদুমন্ত্রের মতো কাজ করেছিল বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ।

ওইদিন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সূত্র : ইউএনবি।

আজ ৭ই মার্চ ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোষহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে এক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যে ভাষণের মূলে ছিল এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমিঃ ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়।

বঙ্গবন্ধু ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়। পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। সেদিন বিকাল আড়াইটা বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

এদিন বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়, “ যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।  ”

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্র-নিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের  ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৷ বিশ্বের যে কয়েকটি রাজনৈতিক ভাষণ উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।  এই ভাষণের ভাষা ও শব্দের অলংকারে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের স্বনামধন্য পত্রিকা নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আর ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে নিবন্ধন করে নিয়েছে। এবং এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে পৃথিবীতে সংরক্ষিত হবে। ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড  রেজিস্টারে এ পর্যন্ত ৫২৭টি ডকুমেন্ট রেজিস্টার করা হয়েছে।

এছাড়া লেখক ও ইতিহাসবিদ এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই সেল ফাইট অন দ্য বিস: দ্য স্পিচ দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। এতে বিশ্ব দরবারে জাতির পিতা ও বাঙালি জাতির মর্যাদা এক অনন্য স্থানে পোঁছে গেছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহর অবকাশ নেই।

রাষ্ট্রপতির বাণীঃ রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ গতকাল এক বাণীতে বলেছেন, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যেই নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল বাঙালির নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক বাণীতে বলেছেন, গত বছর আমরা এই মহাভাষণের সুবর্ণজয়ন্তী এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। এ বছর আমরা ভাষা-আন্দোলনের ৭০ বছর এবং মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। এমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধায় প্রথমেই স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোন এবং অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে- যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি আজ বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল সম্মান ও গৌরবের স্মারক। ’৭৫ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত এ দেশে এই ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ ছিল, যেমনটা করেছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী। তারাও সেদিন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ ভাষণ প্রচার করতে দেয়নি। কিন্তু সত্য সর্বদাই অনিরুদ্ধ। তাই নিপীড়িত-নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্তির এই মহামন্ত্র শুধু বাংলাদেশেই নয়- বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।

৭ই মার্চ উপলক্ষে কর্মসুচিঃ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশজুড়ে মাইকে বাজানো হবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়াও এদিন সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে আওয়ামী লীগের সব শাখা কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ ও পালন করবে।

ভুুুরুঙ্গামারীতে ট্রাক চাপায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৃত্যু

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাথর বোঝাই ট্রাক চাপায় ‌জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ‍্যায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট সেতুর পশ্চিমে তালতলা নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কর্মকর্তার নাম আনিছুর রহমান (৩৭)। তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

নিহতের ভাগ্নে আবেদ আলী জানান, শনিবার সন্ধ‌্যা পৌনে ৭টায় আনিছুর তার বোনের বা‌ড়ি শা‌হীবাজার থেকে ‌মোটরসাইকেল যোগে বা‌ড়ি‌ ফির‌ছিলেন। মোটরসাইকেল টি সোনাহাট সেতুর পশ্চিমে তালতলা নামক এলাকায় পৌছিলে পিছন দিক থেকে আসা এক‌টি পাথর বোঝাই ট্রাক (রংপুর মেট্রো-ট- ১১০০১৭) মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হ‌ন আনিছুর। এসময় ট্রাক ফেলে চালক পালিয়ে যান।  পরে স্থানীয়রা আনিছুর কে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ঘাতক ট্রাক‌টি আটক করা হয়েছে। নিহতের প‌রিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাণীশংকৈলে ধর্ষক শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে শনিবার ৫ মার্চ দুপুরে পাইলট হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ধর্ষক শিক্ষক তহিদুল ইসলামের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে ছাত্র সালাউদ্দিন,  বসিরউদ্দিন, মেঘনা আকতার, সুমাইয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

থানায় অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সহোদর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক তহিদুল ইসলাম (২৩) পৌর শহরের ভান্ডারা মহল্লার গফুর আলীর ১০ম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আফরোজ বৃষ্টিকে প্রাইভেট পড়াত। এই সুবাদে তহিদুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বৃষ্টির সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তহিদুল বৃষ্টির বাড়িতে যাওয়া-আসাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরেন ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনা জানাজানি হলে বৃষ্টির বাবা তহিদুলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। তহিদুল ঘটনা অস্বীকার করলেও ১৫ লক্ষ টাকা যৌতুক চেয়ে বিয়ে করতে রাজী হন। বৃষ্টির বাবা এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় বৃষ্টির বন্ধুরা তাকে তহিদুলের বাড়িতে নিয়ে গেলে তহিদুল তাদেরকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।

এরমধ্যে তিনি অন্যত্র বিয়ে করার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় লোকজন বৃষ্টিকে ৩ মার্চ তহিদুলের বাড়িতে রেখে আসে। বৃষ্টি তহিদুলের বাড়িতে অবস্থান নিলে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরদিন ৪ মার্চ শুক্রবার বৃষ্টির বাবা এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরদিন শনিবার ওই স্কুলের ২ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপজেলা গেটের সামনে মানববন্ধন করে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

এ ব্যাপারে থানার তদন্ত ওসি আব্দুল লতিফ শেখ  বলেন, বাদি গফুর আলীর লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে তদন্তে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক আছে।