রাণীশংকৈল উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক নির্বাচনের নেতৃত্বে আলামীন-সুমন

হুমায়ন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-১১৮৯ এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি আলামীন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে সুমন পাটোয়ারী নির্বাচিত হয়েছেন। গত শুক্রবার ৫ মার্চ রাণীশংকৈল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে এদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসার জিয়াউর রহমান ও চারটি বুদে ৮ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের নিবির তত্বাবধায়নে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও সংবাদকর্মিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।

জানা গেছে, এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকসহ ৭ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৪টি পদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। চারটি পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আল আমিন ছাতা প্রতিকে ৮০২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুবেল হোসেন চেয়ার প্রতিকে পান ৬৭০ ভোট।

এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলম সর্দার মিকচার মেশিন প্রতিকে ৮২৭ ভোটে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুজ্জামান হাতুরি প্রতিকে পান ৫৪৩ ভোট। প্রচার সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন গোলাপ ফুল প্রতিকে ৭১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহিরুল ইসলাম মাইক্রোবাস প্রতিকে পান ৬২৮ ভোট। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে আল আমিন দেওয়াল ঘড়ি প্রতিকে ৮৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেলাল বাদশা ক্রিকেট ব্যাট বল প্রতিকে পান ৪৮০ ভোট।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে সুমন পাটোয়ারী, অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাজল, সহ-সভাপতি মনির হোসেন,সহ-সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল হোসেন, কার্যকরী সদস্য নিরেন চন্দ্র রায় ও দপ্তর সম্পাদক মো. দুলু।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ ও গননা শেষে সন্ধায়  প্রিজাইডিং অফিসার সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া ও সদস্য সচিব খুরশিদ আলম শাওন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

সংগঠনের নির্বাচন কমিশনার রমজান আলী বলেন, মোট ১১ পদের মধ্যে ৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন প্রার্থীরা। বাকি চারটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সুষ্ঠু সুন্দর এবং কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ২১০০ এবং ভোট কাস্ট হয়েছে ১৪৭০ টি।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ফুলবাড়িতে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং সর্বগ্রাসী দূর্নীতির প্রতিবাদে  বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপি। শনিবার সকাল ১১ টায় ফুলবাড়ী উপজেলার আদম মার্কেটের  সামনে এ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকু’র  সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকল।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন  উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাবুর রহমান পাশা, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন,নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান মজি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, সদস্য সচিব অপূর্ব লালসেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।

ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে সরকার

জাতীয় ডেস্কঃ অতি মুনাফার লোভী এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভোজ্যতেল মজুত করছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন-মিলার বা বড় বড় কোম্পানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা। আর মূল্যবৃদ্ধি করতে মিল পর্যায়ে পরিকল্পিত ভাবে গত সপ্তাহ থেকে ভোজ্যতেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সুয়োগ কাজে লাগিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করতে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বাজার থেকে তেল সরিয়ে ফেলেছেন। পরিস্থিতি এখন এমন যে বাজারে খোলা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলেরও এখন হদিশ নাই। ১ লিটার বোতলজাত পাওয়া গেলেও বিক্রেতারা সরকারের বেঁধে দেওয়া দর মানছে না। বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৮০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়।

আজ রবিবার (৬ মার্চ) থেকে সরকারের ১৪টি সংস্থার তদারকি টিম পরিস্থিতি সামাল দিতে সাঁড়াশি অভিযানে মাঠে নামছে। সংস্থাগুলো তেলের সরবরাহ, মজুত, পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে সংকটের কারণ খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলো থেকে তেলের সরবরাহ কমার কারণ পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি আমদানি কত হয়েছে তা জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযানকালে অনিয়ম পেলে জরিমানা, প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ অসাধুদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এরইমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে সয়াবিন তেলের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মজুদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে। এটি তৈরি করতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বিভিন্ন কোম্পানিগুলো থেকে তথ্য নিয়েছে। এতে কোন জেলায় কি পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হয়েছে সে তথ্যও রয়েছে। এসব তথ্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আলোকে সরকারি সংস্থাগুলো অভিযানে নামবে। এর মধ্যে-বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চারটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গঠন করেছে আরো ৬টি বিশেষ টিম।

এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিমসহ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার বাহিনী মাঠে নামবে। এর বাইরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম, বিএসটিআই, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ মোট ১৪ সংস্থা মাঠে থাকবে।

সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে-সয়াবিন তেলের বেআইনি মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কারণে এবারের অভিযানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলার পাশাপাশি জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে। সয়াবিনের বেআইনি মজুত করার দায়ে নিয়োমিত বাজার তদারকিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, রবিবার থেকে কঠোরভাবে অভিযান শুরু হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিশেষ ৬টি টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চারটি বিশেষ তদারকি টিম কাজ করবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও শিল্প মন্ত্রনালয়ের তদারকি টিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিটি করপোরেশনের টিম অভিযান পরিচালনা করবে। তাদের সঙ্গে পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার বাহিনী কাজ করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাঠে থাকবে। এর বাইরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করবেন।

তিনি আরো জানান, কে কোথায় তেল মজুত করেছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে আমাদের কাছে তথ্য চলে এসেছে। আমরা সেই তথ্য ধরে ধরে অভিযান পরিচালনা করব। এ অসাধুতার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাব তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কঠোর শাস্তির আওতায় জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও অসাধুদের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে সার্বিক তদারকিতে ভোক্তা অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও মিল সাময়িক সময়ের জন্য সিলগালা করা হয়েছে। এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, সরবরাহ সংকটের কারণে গত বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম গড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। দুপুরের দিকে প্রতি লিটার ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় ১৯০ থেকে ২০৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে গিয়ে একই চিত্র দেখা যায়। ওইদিন প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে ক্রেতাকে ১৮০-২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যায় করতে হয়েছে। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেল নেই। শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন নেই। বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা।

আরেক দফা বাড়লো ডিমের দাম

সিএনবিডি ডেস্কঃ হটাৎ করে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও অনলাইন শপগুলোতে  ডিমের দাম আরেক দফা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি পিস ফার্মের মুরগির ডিম ১০ টাকা, হালি ৪০ টাকা এবং ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

কাওরান বাজারের এক ডিম বিক্রেতা বলেন, আমরা বেশি দামে কিনছি ডিম, দাম আরও বাড়বে। পাইকারিতে আমাদের কেনা পড়ে বেশি তাই খুচরাতেও বেশি দামে বিক্রি করছি।

এদিকে দীর্ঘদিন উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিমের দাম কম থাকায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে এখন চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন অনেক কম। সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে। এক ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ, একটি হাঁসের ডিম কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা।

অন্যদিকে আড়তদাররা বলছেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিমের দাম কম থাকায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে এখন চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন অনেক কম। সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে।.

আর ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংসের পর এবার ডিমও চলে যাচ্ছে নিম্নবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। শহরে প্রতিটি ডিম ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৮ টাকা দামে খেয়ে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষ। যে ডিম কয়েক মাস আগেও হালি মিলতো ২৮ থেকে ৩২ টাকায়, সেটাই হালিতে বেড়েছে ১০-১২ টাকা। সবকিছুতেই দাম বৃদ্ধির কারনে এখন আমাদের না খেয়ে মরার মতো অবস্থা হবে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গমের বাম্পার ফলন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে যা গম চাষের নির্ধারীত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দিগন্ত জোড়া মাঠে সবুজের সমারোহ শেষে ফালগুনী বাতাসে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ঢেউ খেলছে গমের সোনালী শীষ। আর তাতে লাভের আশায় স্বপ্ন বুনছে কৃষক। গম কেটে নিয়ে পাট চাষের সুযোগ থাকায় এবং বর্তমানে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা এখন গম চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গমের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের জনপ্রতি ২০ কেজি উন্নত জাতের গমবীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের কৃষক দল গঠন, নতুন জাতের গমের প্রদর্শনী প­ট স্থাপন, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ, সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান ও বালাই দমন এবং হাইব্রিড জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ফলে গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, গম চাষে খরচ কম হয়। ভালো দাম ও ফলনের আশায় তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি।গমের কোনো কিছুই ফেলতে হয় না। গম বিক্রির পর গমের আটি বিক্রি করেও টাকা আসে।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ইশ্বর বড়ুয়া গ্রামের কৃষক আবু বক্কর জানান, উঁচু জমিতে গম ভালো হয়। গম গাছে রোগবালাই কম হয়। সেচসহ অন্যান্য খরচ কম লাগে। চার বিঘা জমিতে গম বুনেছেন। গম কেটে ওই জমিতে পাট চাষ করবেন তিনি। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না হলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় গম চাষের খরচ কম। দাম ভালো পাওয়ায় গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে একিই পরিবারের ৪ সন্তানই প্রতিবন্ধী

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার  ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর গ্রামের হত দরিদ্র বাইসাইকেলের মেকার জব্বার আলীর ঘরে পর পর চারটি সন্তানই প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন। সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।

জানা গেছে, ওই ৪ সন্তানের জননী বিশ্রামপুর গ্রামের আব্দুর জব্বারের স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তিনি পরিবারের আলোর মুখ দেখতে চারটি সন্তানের জন্ম দেন।  বড় সন্তান লথিফা আক্তার (২৪),  মেঝো সন্তান আব্দুল সামাদ(১৮) এবং ছোট দুই  জমজ সন্তান জেসমিন (১৪) ও জসিম (১৪)।

৪ প্রতিবন্ধী সন্তানের জননী সুফিয়া বলেন, আমার ৪ টি সন্তান জন্মগত প্রতিবন্ধী আমি এক অভাগিনী বিয়ের পর প্রথম মেয়ে সন্তান জন্ম দিই কিন্তু জন্মের পরে দেখা যায় শারীরিক প্রতিবন্ধী এভাবে চারটি সন্তানই জন্ম গ্রহণ করে। তারপর আমরা স্বামী ও স্ত্রী চিন্তা করছি কি হবে আমাদের সংসারে। পাঁচ বছর আগে আমার দেবর শাহাজাহান আলীর একটি ছেলে মোস্তফা মাসুদ কে পোষ্য হিসেবে নেই। এভাবেই চলছে আমাদের সংসার আমি চিন্তা করছি আমরা তো বৃদ্ধ হতে চলছি আমরা মারা গেলে পরবর্তীগে কি হবে আমার চারজন সন্তানের।

সরকারি ভাতা ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চার প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা জব্বার আলীর কাছ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এক এক করে চারটি সন্তান নিলাম কিন্তু ভাগ্য আমার এতো খারাপ চারটি সন্তানই জন্মগত ভাবে প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে। চারজনই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে তাদের চিকিৎসাই হচ্ছে না । আমি চারটি সন্তান নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি আমার চারটি সন্তানের জন্য বিশেষ কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, জব্বার আলীর চারটি সন্তানই প্রতিবন্ধী এটা আসলেই খুব দুঃখজনক। তবে চারটি সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে কিন্তু তাদের পরিবারে সেই টাকা দিয়ে কোনমতে জীবন যাপন করছে। তাই এলাকার বৃত্তবান ও সরকারি ভাবে আরও কিছু সুবিধা পেলে জব্বারের পরিবারটা হয়তো একটু সচ্ছল ভাবে চলতে পারবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফিরোজ সরকার বলেন, ইতোমধ্যে আমরা তাদেরকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় এনেছি। এবং যদি তারা অসুস্থ হয় তাহলে চিকিৎসা বাবদ সরকারি ভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

মুরাদনগরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সন্তানের মাকে ধর্ষণ

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক সন্তানের মাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ভুক্তভোগী নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে ভিকটিম নারী বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন।

উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের হাটাশ গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষক জনি দেবনাথ (২৯) উপজেলার হাটাশ গ্রামের দুলাল দেবনাথের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর পূর্বে মুরাদনগর উপজেলার হাটাশ গ্রামের এক সন্তানের জননীর হবিগঞ্জ জেলার ছোটানখোলা গ্রামের আজয় দেবনাথের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে জীবনে তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রতিবেশী জনি দেবনাথ দীর্ঘদিন চেষ্টার পর ওই জননীর সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পক গড়ে তুলেন এবং নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে ও স্বামীর-স্ত্রী মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটনা ঘটান। কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদ করার পর থেকে জনি দেবনাথ বিয়ে করতে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে ওই নারীকে জোরপূর্বক জনি দেবনাথের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং গোপনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে বা এই ঘটনা অন্য কাউকে জানালে ধর্ষণের ভিডিও সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে জনি দেবনাথ।

পরে বিষয়টি ভুক্তভোগী নারী তার পরিবারকে জানান এবং ঘটনাটি সামাজিকভাবে জানাজানি হলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ভিকটিম নারী তার রুমে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১ মার্চ ভিকটিম নারী বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা জেলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

ভিকটিম নারী মুঠোফোনে অভিযোগ করে জানান, এই ঘটনার পর থেকে আসামীর কর্তৃক তাদের পুরো পরিবার চরম হুমকির মুখে আছেন এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে দিনযাপন করছেন। আদালতের মাধ্যমে এই ঘটনার তিনি ন্যায-বিচার প্রত্যাশা করেন।

লোহাগাড়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৮  হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

আজ শনিবার (৫ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার চুনতি জাইল্ল্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং ডি ক্যাম্পের মৃত সোলতান আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ বশির আহমদ (৩০) এবং একই এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পের লাল মিয়ার ছেলে সৈয়দ হোসেন (৩০)।

লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা বলেন, শনিবার (৫ মার্চ) সকালে উল্লেখিত এলাকায় এসআই সামছুদ্দৌহার সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীবাহি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২জনকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এবং একইদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাদের চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৮ ডলার ছাড়িয়েছে

সিএনবিডি ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এখন আগুন লেগে গেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েই চলেছে। সংকট চলতে থাকলে আগামী ৩ মাসের মধ্যে এর দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার ছাড়াবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন। খবর-বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, শুক্রবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭ দশমিক ৬৫ ডলার। দিন শেষে এর দর আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ দশমিক ১১ ডলার, যা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮ দশমিক ০১ ডলার বা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ১১৫ দশমিক ৬৮ ডলারে, যা ২০০৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

রয়টার্সের এক জরিপ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে রুশ তেল আমদানি নিষিদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য পরবর্তী ধাপের নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে টার্গেট করতে পারে। স্বদেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় এখন পর্যন্ত এই পথে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে কানাডা। রুশ তেলের বৃহত্তম আমদানিকারক চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডেসের মতো দেশগুলোতে অনেক পরিশোধনকারীই নিষেধাজ্ঞার ভয়ে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনে অনীহা দেখাতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনর্বহালে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা প্রায় সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমা মন্ত্রীরা। এটি কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে দৈনিক আরও ১০ লাখ ব্যারেল তেল যোগ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানি তেল দিয়ে রাশিয়ার ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক রাশিয়া। তারা দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে থাকে। ফলে মস্কোর ওপর জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে তা সংকট আরও বাড়িয়ে দেবে।

ঠাকুরগাঁয়ে স্কুলে মাঠ গমের আবাদ; খেলাধুলায় প্রতিবন্ধকতা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার হরিণমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ জুড়ে গমের আবাদ করা হয়েছে।খেলাধুলায় প্রতিবন্ধকতার শিকার শিক্ষার্থীরা। শনিবার ৫ মার্চ সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৯২ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে বেশ বড় বড় গমের গাছে পূর্ণ পুরো মাঠ। সীমানা প্রাচীরের ভেতরের মাঠটি দেখলে কোনো আবাদি জমি মনে হবে। পশ্চিম পাশে থাকা শহীদ মিনার ঘেঁষে সামান্য জায়গা রাখা হয়েছে ভবনে প্রবেশের জন্য। অনেক ছাত্রছাত্রী বলেন গম ক্ষেতের জন্য টিফিন প্রিয়ডে মাঠে খেলতে পারিনা। যখন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দোলনা ও স্লিপারসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে শিশুদের বিনোদনের জন্য জন্য। ঠিক তখনি হরিণমারী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের মাঠ জুড়ে করা হয়েছে গমের আবাদ। এ যেন রীতিমতো উল্টো চিত্র। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠ না থাকায় ভবনের বারান্দাতেই সহপাঠীদের সাথে খেলাধুলা করছে শিশুরা।

স্কুলে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর বাবা রিপন আহমেদ জানান, শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি যদি স্কুলে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে শিশুরা উৎসাহ পায়। স্কুলে আসতে ভালো লাগে তাদের। কিন্তু এখানে সহপাঠিদের সাথে খেলার জন্যে মাঠ নেই। এই কারণে আমার সন্তানসহ এলাকার অনেক শিশুই এখন স্কুলে যেতে চায় না।

জানা যায়, ১৯৫৪ সালে স্থানীয় সমাজ সেবক খোস মোহাম্মদ ও তার তিন ভাই মিলে হরিণমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২.৩ একর জমি দান করেন। তবে সম্প্রতি দাতাদের উত্তরসূরিরা গমের চাষাবাদ করা অংশটুকু নিজেদের বলে দাবি করছে। তাই জমি দখলে রাখার জন্যেই সেখানে আবাদ শুরু করেছে তারা।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জমির মালিক দাবিদার ও গম আবাদকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

ওই স্কুলের প্রাধান শিক্ষক আনজুমান আরা বেগমের সঙ্গে কথা বললে, তিনি বলেন, আমাদের স্কুলের জমি নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। এই অংশের দাবিদাররা এখানে আবাদ করেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আবাদ শুরু করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তখন তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করে প্রাথমিকের ভারপ্রাপ্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজমল আজাদ বলেন, আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। একটি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে এরকম চাষাবাদ কখনোই কাম্য নয়। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শুরুতেই ওই বিষয়টি আমি জানতে পারি। দুই দিন আগে ভালমতো জেনেই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যােগ নিয়েছি। তবে এখানে সহকারী শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকের কিছুটা গাফিলতি আছে।