ইউক্রেন সেনাদের হাতে জিম্মি ৫ বাংলাদেশী

সিএনবিডি ডেস্কঃ ইউক্রেন সেনাদের হাতে ৫ বাংলাদেশী জিম্মি হয়েছেন বলে ঢাকায় রাশিয়া দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও সম্বলিত এমন খবর প্রকাশ করেছে। শুক্রবার ওই একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জিম্মি ওই বাংলাদেশিরা তাদের উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।

ভিডিওতে রিয়াদুল মালিক নামে এক বাংলাদেশি তাদের উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে বলেন, আমরা ইউক্রেনের একটি ক্যাম্পে আটক রয়েছি। এখানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আছেন। একজন দরজায় পাহারা দিচ্ছেন। তাদের সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা একটি মোবাইল ফোন লুকিয়ে রেখেছি। এই শিবিরকে ইউক্রেনের সেনারা ঘাঁটি বানিয়েছে। রাশিয়া সেনাঘাঁটি দেখে দেখে বোমা ফেলছে।

রিয়াদুল মালিক বলেন, আমরা অনেক ভয়ে আছি। আমাদের আটকে রেখেছে জিম্মির মতো করে। ১০০ এর ওপর মানুষ আছে। রাত হলে বোমা ও গুলির শব্দ শুনতে পাই। লাইট বন্ধ করে দিই। আমরা যেখানে তিনজন মানুষ থাকি, সেখানে ১০ জন এনে রেখেছে। আমাদের মারে। আমাদের অনেক মারতেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মারছে। ইউক্রেনের অন্য ক্যাম্পগুলোর সবই বোমা ফেলে উড়িয়ে দিয়েছে এরই মধ্যে। এ শিবিরটা শুধু আছে। আমরা জানি না, আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কতটুকু আছে। আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের এখান থেকে উদ্ধার করার জন্য। আমাদের জীবনের এখন এক মিনিটেরও নিশ্চয়তা নেই। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমরা বেলারুশ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে আছি। যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হতে পারে।

ইউক্রেনে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। প্রতিবেশী পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস ইউক্রেনে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখভাল করে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে কেউ সেখানে গিয়ে কাউকে উদ্ধারের সুযোগ নেই।

তবে ইউক্রেনের কারাগারে বা বন্দিশিবিরে থাকা বাংলাদেশিদেরও উদ্ধার করে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে কাজ করছে।

সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের ভিডিও লিংকঃ <<<দেখতে ক্লিক করুন>>>

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্কঃ সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জেতার পর এবার সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি এটি। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় তিনটায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি। দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬১ রানের সহজ জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে টিম টাইগার। এই ম্যাচ জিতলে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ।

এই ম্যাচের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আগের ম্যাচে অভিষিক্ত ইয়াসির আলি রাব্বি। তার পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন চোটের কারণে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খেলতে না পারা মুশফিকুর রহিম। এটি তার ক্যারিয়ারের শততম টি-টোয়েন্টি।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মুনিম শাহরিয়ার, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মাহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাঈম শেখ, শরীফুল ইসলাম, মুশফিকুর রহিম।

আফগানিস্তান একাদশ: হযরতউল্লাহ জাজাই, রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), উসমান গণি, দারউইশ রাসুলি, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবি (অধিনায়ক), আজমতউল্লাহ ওমারজাই, করিম জানাত, রশিদ খান, ফজল হক ফারুকি, শারাফউদ্দিন।

ইউরোপীয় জনগণকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলার প্রচেষ্টায় জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপীয় জনগণকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলার প্রচেষ্টায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভাষণে বলেছেন, রাশিয়ার হাতে ইউক্রেনের পতন হলে গোটা ইউরোপের পতন হবে। তিনি গতরাতে (শুক্রবার রাতে) জুম প্ল্যাটফর্মে ভাষণ দেন যা ইউরোপের বিভিন্ন শহরের জায়ান্ট স্ক্রিনে একযোগে প্রচারিত হয়।

ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আবেগময়ী কথাবার্তা বলে ইউরোপীয় জনগণকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টায় বলেন, আমরা যদি এ যুদ্ধে জয়লাভ করি তবে তা হবে গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য একটি সার্বজনীন বিজয়। আর এতে আমাদের পতন হলে ইউরোপের কোনা দেশ বাঁচত পারবে না।

এ পর্যন্ত যুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইউরোপীয় নাগরিকদেরকে কিছুক্ষণ নীরবতা পালনের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, যারা নিহত হয়েছেন তারা আপনাদেরই মহাদেশ- ইউরোপকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার দেশের সেনারা যে আগ্রাসন প্রতিহত করছে তা ব্যর্থ হলে ওই আগ্রাসন থেকে ইউরোপের কেউ রক্ষা পাবে না।

প্রসঙ্গত, জেলেনস্কি গত এক সপ্তাহেরও বেশি  সময় ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পশ্চিমা দেশ তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তাই এবার তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সাধারণ জনগণের আবেগকে কাজে লাগানোর পন্থা বেছে নিয়েছেন। জেলেনস্কি ইউরোপীয় জনগণকে রাজপথে নেমে রুশ বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তাদের সরকারগুলোকে বাধ্য করার আহ্বান জানান।

নিয়মিত শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন, দেহে ও মনে সর্বক্ষণ সুস্থ থাকুন

সুস্থ থাকতে প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি। সুস্থ জীবন যাপনে পুষ্টিকর খাদ্যের (Nutritious food) বিকল্প নাই। রোগ প্রতিরোধেও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। করোনা মহামারীকালে যেহেতু করোনা প্রতিরোধে কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি, তাই চিকিৎসকগণ করোনা সংক্রমণরোধে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দেহের শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পুষ্টি উপাদান খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা জরুরি। শাক-সবজিতেই রয়েছে সকল প্রকার পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান, যা মানবদেহের সুষ্ঠু গঠনসহ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

‘নিরাপদ সবজি চাষ, স্বাস্থ্য পুষ্টি বারোমাস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছিল ‘জাতীয় সবজী মেলা ২০২২’। এই মেলায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে ‘পুষ্টি নিরাপত্তা ও কৃষির রূপান্তরে সবজির অবদান’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক ও আলোচকগন বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজীর মাধ্যমে সকল প্রকার পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের উদ্যোগে শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় শাকসবজি গ্রহণ করতে পেরেছে। ফলে শিশুদেরও দৈহিক বৃদ্ধি তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে‘।

উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান তাঁর আলোচনায়,  ২০০৭ ও ২০১৮ সালে ৫ বছরের নীচের বয়সী বাচ্চাদের পুষ্টি নির্ভর দৈহিক বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে পৃথক দুটি তুলনামূলক গবেষণার ফলাফল থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘২০০৭ সালে বয়সের তুলনায় ৪৩% বাচ্চার শারিরীক উচ্চতা কম ছিল। ২০১৮ সালে এই পার্থক্য কমে ৩১% এ নেমেছে। শারিরীক ওজনের ক্ষেত্রেও ব্যত্যয় ঘটেনি। ২০০৭ সালে বয়সের তুলনায় ৪১% বাচ্চার শারিরীক  কম ছিল, যাহা ২০১৮ সালে ২২% এ নেমে এসেছে। গবেষণায় এমন তথ্যও বেরিয়ে এসেছে যে, দৈহিক উচ্চতা ঠিক আছে কিন্তু ওজন কম। এমন বাচ্চার সংখ্যা ২০০৭ সালে ছিল ১৭%, ২০১৮ সালে হয়েছে ৮%‘।

আলোচকদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সবুজ রং এর সবজি রোগ প্রতিরোধে এবং লাল, হলুদ ও অন্যান্য রঙিন সবজি ফলমূল ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সবুজ সবজি যেমন- ব্রোকলি, লেটুস, বিভিন্ন ধরনের পাতা জাতীয় শাক (গিমাকলমি, সবুজ ডাটা শাক, পালংশাক ইত্যাদি), মটরশুঁটি, শিম, সবুজ বাঁধাকপি, শসা, ঢেঁড়স ইত্যাদিতে থাকা পুষ্টি উপাদান Vitamin-K, Fallic Acid, Patassium, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শারিরীক কার্যকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে।

ব্রোকলি আমাদের দেশের শীতকালীন একটি সবজি যা দেখতে অনেকটা সবুজ ফুলকপির মতো। ব্রোকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এ সবজিটি চোখের রোগ ও অস্থিবিকৃতিসহ প্রভৃতি উপসর্গ দূর করে ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

শীতকালীন সবজি মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি; প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায় ১২৫ কিলোক্যালরি। উদ্ভিজ আমিষের বড় ভাণ্ডার হল শিম। শিমে আমিষ ছাড়াও স্নেহ ও ফাইবার জাতীয় খাবার অংশ থাকে। শিমের আঁশ খাবার পরিপাকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে দূর করে। রক্তে কোলেস্টরোলের মাত্রা কমায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে পাকস্থলী ও প্লিহার শক্তি বাড়ায়। লিউকোরিয়াসহ মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, শিশুদের অপুষ্টি দূর করে এবং পুষ্টি প্রদান করে থাকে।

বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। শরীরের হাড় শক্ত ও মজবুত রাখতে এবং ওজন কমাতে বাঁধাকপির জুড়ি নেই। তাছাড়া বাঁধাকপি আলসার প্রতিরোধে সক্ষম। আর পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, আয়রন ও ফলিক এসিড, যা আমাদের দেহের জন্য জরুরি। পালং শাক আমাদের শরীরে আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ছাড়াও হৃদরোগ এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

লাল রংয়ের সবজী যেমন- টমেটো, মুলা, বিট, মিষ্টি মরিচ (লাল), লেটুস পাতা ইত্যাদিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান লাইকোপেন, অ্যান্থোসায়ানিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি, ফ্লাভোনয়েড ইত্যাদি ক্যান্সার ও টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে, প্রষ্টেটজনিত সমস্যা দূর করে।

ক্যালরিতে ভরপুর টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি যা মানবদেহের হাড় ও দাঁত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত স্কার্ভি ও চর্মরোগ প্রতিরোধে টমেটো বেশ কার্যকরী। টমেটোতে বিদ্যমান অন্য এক উপাদান হল লাইকোপেন যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এ জন্য টমেটোকে অনেকে বলেন ‘Intestinal antiseptic‘। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রকৃতির আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির বিরুদ্ধে কাজ করে।

কমলা রংয়ের সবজি যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, স্কোয়াশ, মিষ্টি মরিচ (কমলা রং) ইত্যাদির পুষ্টি উপাদান আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ইত্যাদি এবং পার্পেল রং এর সবজি যেমন মিষ্টি মরিচ, বাঁধাকপি, শিম ইত্যাদিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ইত্যাদি ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, চর্মরোগ কমায়, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, রক্ত প্রবাহের নালী-উপনালী উন্নত করে। গাজর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চোখ ও দাঁতের সুরক্ষায়, লিভার সুস্থ রাখতে ও ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে খেতে পারেন শীতকালীন সবজি গাজর। এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, থায়ামিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে, ফাইবার, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। গাজরে বিদ্যমান বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং গাজরে প্রয়োজনীয় ক্যারোটিনয়েড ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। বেশি বেশি গাজর খেলে পেট ভরবে কিন্তু বেশি ক্যালরি যোগ হবে না। তাই শরীরের ওজন কমাতে ও সুস্থ ত্বক পেতে খাবারের সাথে বেশি বেশি গাজর গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাদা সবজি যেমন ফুলকপি, মুলা, মাশরুম, শালগম, সাদা বেগুন ইত্যাদিতে থাকা পুষ্টি উপাদান এলাইল সালফাইড, এলিসিন পটাশিয়াম মানব দেহকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে, কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

ফুলকপিতে এমন কিছু উপাদান আছে যা কিডনির পাথর গলায় ও ক্যান্সার নিরাময়ে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। ফুলকপিতে কোনো চর্বির মাত্রা নেই। শীতকালীন সবজি ফুলকপি প্রায় সবারই পছন্দের। ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড ও পানি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার রয়েছে। ফুলকপি শরীরের বর্ধনে বিশেষ উপযোগী।

বছরের প্রায় সবসময় কমবেশি শাক-সবজি ও ফলমূল হয়ে থাকে। তবে ষড়ঋতুর আবর্তে বাংলাদেশে শীতকালই শাক-সবজি ও ফলমূলের জন্য উপযুক্ত সময়। শীতকালে এসব মৌসুমি শাক-সবজি বা ফল গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই শরীরের চাহিদা মোতাবেক পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকালের শাক-সবজি এবং ফলের স্বাদ ও পুষ্টি বেশি থাকে। শীতকালীন শাক-সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ই; যা শরীরে স্থূল হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করে আনে এবং চুলপড়া রোধ করে।

প্রায় সব শাক-সবজিতেই থাকে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ত্বকের বার্ধক্যরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের সজীবতা ধরে রাখে। এ ছাড়া প্রায় সব শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা দেহের পানির ঘাটতি পূরণে সক্ষম।

শাক-সবজির এন্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। শাক-সবজির আঁশ ও এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান খাদ্যনালির ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পুষ্টিগুণে লালশাক ও পালংশাক অন্য শাকগুলোর তুলনায় একটু এগিয়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে রয়েছে প্রায় ৩৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; অন্যান্য পুষ্টিগুণও অন্য শাকের তুলনায় লালশাকে বেশি। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে উন্নত দেশের লোকজন টমেটো ও টমেটোজাত খাদ্য, পালংশাক, মিষ্টি আলু ইত্যাদি খাবার প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকে।

ধনিয়াপাতা এখন সারা বছর পাওয়া গেলেও মূলত এটি শীতকালীন সবজি। ধনিয়াপাতা সরাসরি সালাদ হিসেবে এবং রান্না করে উভয়ভাবে খাওয়া হয়। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে ও ফলিক এসিড রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের জন্য যথেষ্ট প্রয়োজনীয়। ধনিয়াপাতার ভিটামিনগুলো আমাদের ত্বকে প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, চুলের ক্ষয়রোধ করে, হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে এবং মুখের ভেতরের নরম অংশগুলোকে রক্ষা করে।

বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেলসের সহজ ও সস্তা উৎস হল ফল। ফল রান্না ছাড়াই খাওয়া যায় বলে এসবের উপাদান অবিকৃত অবস্থায় দেহ কর্তৃক গৃহীত হয় যা আমাদের বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের মিনারেলস যেমন- ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস এসব দেহের বিপাকীয় কার্যাবলি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও ফল অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন-শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, পানি এসব দেহে সরবরাহ করে দেহকে সুস্থ রাখে।

শীত মৌসুমে বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন জাতের কুল বা বরই, কমলালেবু, জলপাই, আমলকি, আপেল, সফেদা, ডালিম ইত্যাদি পাওয়া যায়। শীতের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে নানা জাতের কুল বা বরই। বরই হরেক রকম হয়ে থাকে যেমন- নারকেলি কুল, আপেল কুল, বাউকুল ইত্যাদি। শীতকালীন এই ফলটি বেশ উপকারী ও পুষ্টি গুণসম্পন্ন।

কমলায় রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ফাইবার ও মিনারেলস যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। কমলালেবুকে ক্যান্সার প্রতিরোধক বলা হয়ে থাকে। শীতকালীন ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল হচ্ছে জলপাই। উচ্চরক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাকস্থলীর কোলন ক্যান্সার দূর করতে জলপাইয়ের জুড়ি নেই। এন্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর এ ফলে আরও রয়েছে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই।

ভিটামিন-সি’র রাজা হিসেবে খ্যাত শীতকালীন ফল আমলকি। ত্বক সুরক্ষা, মাড়ি মজবুত করতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমলকি। সারা বছর পাওয়া গেলেও শীতকালে বেশি পাওয়া যায় প্রচুর আঁশযুক্ত ফল আপেল। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি১২, ভিটামিন-বি৬ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট।

আপেল কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। শীতকালীন আর একটি ফল হল সফেদা। পুষ্টিগুণের কারণে আমাদের দেশে এই ফলটি প্রিয় ফলের তালিকায় চলে এসেছে। ক্যান্সার প্রতিরোধক, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর, কিডনি সুরক্ষা ও সতেজ ত্বক ছাড়াও সফেদা কোলোস্টরোল ও ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। সফেদায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, কপার, আয়রন ও ফাইবার।

শীতকালীন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও রসালো ফলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেদানা বা আনার; অনেকে এটিকে ডালিমও বলে থাকে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-সি। বেদানার রস কুষ্ঠরোগ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট ভালো রাখতে বেশ উপকারী। তাই সবার উচিত, সহজপ্রাপ্য শীতকালীন শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা এবং নিজেকে সুস্থ-সবল রাখা। পরিশেষে একটি কথাই বলতে হয়- নিয়মিত টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন, দেহে ও মনে সর্বক্ষণ সুস্থ থাকুন।


ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

রাণীশংকৈল পৌরসভার আয়োজনে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন রাণীশংকৈল পৌরসভা। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক।

অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, সাবেক সাংসদ ইয়াসিন আলী, উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক, মহিলা আ’লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের প্রমুখ।

এছাড়াও কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, উপজেলা আ’লীগ সহ- সভাপতি মুক্তার আলম মুক্তা, পৌর কাউন্সিলর মতিউর রহমান, রুহুল আমীন, জুয়েল রানা, আ’লীগ নেতা গোলাম সারওয়ার বিপ্লব, রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অবদান সম্পর্কে বক্তব্য দেন। পরে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে এক মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক প্রশান্ত বসাক।

লালমনিরহাটে আলোচিত প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের হোতা ঢাকা থেকে গ্রেফতার

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ জেলার কালীগঞ্জের ব্যপক আলোচিত চাঞ্চল্যকর প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামি আঃ রহিম বাদশাকে (৩০) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব- ১৩ এর গোয়েন্দা টিম। শুক্রবার ৪ মার্চ র‍্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া ও গনমাধ্যম) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গোপন সুত্রের খবর অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে ঢাকার সাভারে হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আঃ রহিম প্রায়ই সময় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। এতে রাজি না হওয়ায় তার ক্ষতি করার জন্য সুযোগের সন্ধানে থাকে। তার এক পর্যায়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এসময় তার বাবা-মা বাড়ির পাশে ফসলের জমিতে কাজ করা অবস্থায় চিৎকার শুনে দৌড়ে বাড়িতে আসে। তাদেরকে দেখে রহিম সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এবং প্রভাবশালী মহল দিয়ে চাপ দিয়ে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম এবং অত্র এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে কিশোরীর বাবা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মূলত এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব তদন্ত শুরু করলে প্রযুক্তির মাধ্যমে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অভিযান প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মোঃ রহিম বাদশা (৩০) কে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রহিম ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানায়। তাকে ইতিমধ্যে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় র‍্যাবের সহযোগিতায় তথ্য- প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঃ রহিমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ঠাকুরগাঁও অনলাইন প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ চলছে ঋতুরাজ বসন্তকাল। ঠিক এমনি সময়ে নান আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও অনলাইন প্রেসক্লাবের বার্ষিক  বনভোজন  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ মার্চ ) দিনব্যাপি সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে অবস্থিত চৌধুরী পার্ক (স্বপ্ন জগত) বিনোদন কেন্দ্রে  ঠাকুরগাঁও  অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে জাঁকজমক পূর্ণভাবে এ অনুষ্ঠানের  আয়োজন করা হয়।

প্রথম অধিবেশনে সকালের নাস্তা দিয়ে শুরু করে পরে শিশুদের ৫০ মিটার দৌড়, কিশোরদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, প্রেসক্লাব সদস্যদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ ও মহিলাদের বলটি ধরো প্রতিযোগিতাসহ নানা রকম খেলাধু্লা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় অধিবেশনে ঠাকুরগাঁও অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি বিধান চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখেন।

পরে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শেষে লটারি ও বিভিন্ন খেলায় বিজয়ী প্রতিযোগীদেরকে পুরস্কার দেয়া হয়। লটারী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যবুলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য দেবাশীষ দত্ত সমীর।

এসময় ঠাকুরগাঁও অনলাইন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহীন ফেরদৌস, সংগঠনের সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ও প্রশান্ত কুমার দাস সহ সংগঠনের সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মুরাদনগর থানার কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ মুরাদনগরে কর্তব্যরত অবস্থায় মোকাদ্দেস হোসেন (৪৯) নামে থানার এক পরিদর্শকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মোকাদ্দেস হোসেন মুরাদনগর থানার পরিদর্শক তদন্ত এবং ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি বাবা মা স্ত্রী এক ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করছেন বলে জানা গেছে।

মুরাদনগর থানা সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে মুকাদ্দেস হোসেন বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে কুমিল্লা স্থানান্তর করেন। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এদিকে তার মৃত্যুর খবর মুরাদনগর থানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তথা জনসাধারণের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয়রা জানায়, সদা হাস্যজ্জল, পরিচ্ছন্ন এবং উদার মনের মানুষ ছিলেন মোকাদ্দেস হোসেন। পরিদর্শক মোকাদ্দেস এর আগে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ মে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে মুরাদনগর থানায় যোগদান করেন।

তাঁর মৃত্যুত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহম্মেদ, মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাশিমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। তার মৃত্যুতে মুরাদনগর সহকর্মী সহ এ উপজেলার বিভিন্ন বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন শোক প্রকাশ করেছেন।

মুরাদনগর থানর অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম বলেন, আমরা একজন উদার মনের ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষকে হারিয়েছি। সহকর্মী মোকাদ্দেস হোসেনের মৃত্যুতে মুরাদনগর থানা পুলিশের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা মোকাদ্দেস হোসেনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

নওগাঁর আত্রাইয়ে ৭মার্চ, জাতীয় শিশু ও স্বাধীনতা দিবস পালনে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিন ও জাতীয় শিশু দিবস, স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১৭মার্চ থেকে ২৩ মার্চ মেলা, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩রা মার্চ) সকাল ১০টায় থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই সব অনুষ্ঠান উদযাপনে প্রস্তুতি মূলক সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল সহ- সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্কাছ আলী, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর, উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা সাবেক কমন্ডার আকতারুজ্জামান আকতার, বীর মুক্তি যোদ্ধা খালেকুজ্জামান বুলু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রোকসানা হ্যাপী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, পাঁচুপুর ইউপি চেয়ারম্যান খবিরুল ইসলাম, বিশা ইউপি চেয়ারম্যাম তোফাজ্জল হোসেন তোফা, ভোঁপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মন্ডল, আহসানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক নাজমুল হক নাদিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি-২০০০ ব্যাচ “আমরাই কিংবদন্তী” ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকালে সদর উপজেলার মোলানী একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, এসএসসি-২০০০ ব্যাচ আমরাই কিংবদন্তীর সদস্য বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আনাম, পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান সোহাগ, একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করার লক্ষ্যে কিছু সেলাই মেশিন ও যাতায়াতের সুবিধার্থে লেগুনা গাড়ি মেরামত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। শেষে ৬ শতাধিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে উন্নতমানের খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়।