ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে ১৯জন নিহত

অনলাইন ডেস্কঃ মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। আজ রোববার (১৯ মার্চ) সকালে ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক জানান, নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ জন। হতাহত বহু রয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে।

স্থানীয়রা জানান, খুলনা থেকে ঢাকা আসছিল ইমাদ পরিবহনের বাসটি। পদ্মাসেতুর আগে কুতুবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় দুমড়ে মুচড়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ জন। এর পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৫জনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। আহতদের নেয়া হয় আশাপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে। গুরুতর আহতদের পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে।

শিবচর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহন সড়কের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।

দুই দিনে ৫ফিলিস্তিনিকে হত্যা ইসরায়েলি বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গত দুই দিনে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সবশেষ গতকাল শুক্রবার (১৭ মার্চ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি একটি ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন। খবর আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম ইয়াজান ওমার জামিল খাসিব (২৩)। শুক্রবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের কাছে উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথ এল-বাইরেহতে তাকে গুলি করে হত্যা করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।

তবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো সদস্যেরই কোনো ক্ষতি হয়নি। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘একজন সন্দেহভাজনকে দেখতে পান এবং তার পরিচয় জানতে চান’। তখন একটি ছুরি বের করেন ইয়াজান এবং তাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করতে গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই যুবককে এল-বাইরেহ’র নিকটবর্তী ফিলিস্তিনি গ্রাম বেইতিনের কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) এক কিশোরসহ চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে তাদের হত্যা করা হয়।

দীর্ঘ ২০ বছর অতিবাহিত করে এমবিবিএস পাস জামালের!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান জামাল। ইচ্ছে ছিল চিকিৎসক হয়ে গরিব দুঃখী মানুষের সেবা করবেন। ‌কিন্ত ২০০১ সালে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার আগ মুহূর্তে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। দেওয়া হয়নি ফাইনাল পরীক্ষা। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর নানা বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আর মানসিক রোগকে জয় করে ২০২২ সালে প্রায় ২০ বছর পর এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্ব নিয়ে পাস করেন‌ মেধাবী আর অদম্য হার না মানা জামাল। ‌

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা শিক্ষক আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুল করিম জামাল। আব্দুল মতিন জীবদ্দশায় উপজেলা সদরের জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। জামাল সেই বিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে ঢাকা তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হন।‌

জামাল জানান, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন তিনি  জটিল মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভোগছিলেন।‌ এ রোগে মানুষের চিন্তাধারা এবং অনুভূতি প্রকাশের মধ্যে সঙ্গতি থাকে না। চিকিৎসার সময় দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে মেডিকেল কলেজ তাঁর ভর্তি বাতিল করে দেয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি  ভর্তির জন্য মেডিকেল কলেজে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নিজের আগ্রহের কথা জানান।‌ পরে নানা‌ দপ্তরে যোগাযোগ করে দৌড়ঝাঁপ শেষে ছাত্রত্ব ফেরত পেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্তে মতামতের অনুমতি দিলে ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি এমবিবিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। যার ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের গত ৪ মার্চ।

এক প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল করিম জামাল বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া আমি ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছি। দীর্ঘ বিরতির পর লেখাপড়া করে পরীক্ষা দেওয়া সহজ ছিল না। তবে মানুষ চাইলে সবকিছুই সম্ভব। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে যারা তাকে সাহস যোগিয়েছেন, পাশে থেকেছেন- তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ‌ চিকিৎসক হিসেবে আজীবন গরিব দুঃখী মানুষের সেবা করে যেতে চান তিনি।  জামালের মা বাবা এখন আর বেঁচে নেই। সাত ভাই ও চার বোনের একজন জামাল। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী ও চার বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে তাঁর।

জামালের এই সাফল্যের কথা শুনে জুড়ীর কৃতি সন্তান, বাংলাদেশের বিশিষ্ট কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আব্দুল মনাফ বলেন, জামাল অনেক কঠিন কাজ করেছেন। অদম্য ইচ্ছা আর প্রচন্ড মানসিক শক্তি না থাকলে এটা কখনো সম্ভব হতো না।‌ আমি তাঁকে শুভেচ্ছা জানাই আর তাঁর সফলতা কামনা করি। আগামী দিনগুলো মানবসেবায় নিয়োজিত থেকে সেবা দান করতে পারে।

কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করছেন ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।

এর আগে বৃহস্প‌তিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় উপ‌জেলার সদর ইউ‌নিয়‌নের সাদ্দাম মোড় এলাকার খবিরুল ইসলাম না‌মের এক চা‌ল ব‍্যবসায়ীর গোডাউন থে‌কে সরকারি ১৪৮ মন চাল জব্দ ক‌রেন ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধ‌রে খবিরুল ধানচাল কেনাবেচার সাথে হতদ‌রিদ্রদের মা‌ঝে বিতরণ করা চালসহ সরকা‌রের বি‌ভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ক্রয় করে বি‌ক্রি কর‌তেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ এর নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এ‌ সময় (সাদ্দাম মোড়) কামাত আঙ্গারীয়া এলাকায় চা‌লের ব‍্যবসায়ী খবিরুল এর গোডাউন থে‌কে ১৪৮ মন (৫৯২০কেজি) চাল জব্দ ক‌রা হয়।

Google Newsডিজিটাল বাংলা নিউজ” অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

স্থানীয়রা বলেন, আটক ব‍্যক্তি চাল ব‍্যবসায়ী। তার নিজস্ব  গোডাউন থেকে চালগুলো আটক করেছে পুলিশ। ভিজিডি/ ভিজিএফ এর চাল মানুষ বিক্রি করেছে আর ওই ব‍্যক্তি পাইকারি দামে কিনে গোডাউনে রেখেছেন চড়াদামে খুচরা বিক্রির জন্য।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি চালসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সুখবর

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় কারও শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। তবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।

গতকাল শুক্রবার (১৭ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিভাগের ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন এবং অন্যান্য বিভাগে ভর্তি আছেন ৭ রোগী।

এ ছাড়া এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৭৯৬ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ৩৮৯ জন এবং ঢাকার বাইরে রয়েছেন ৪০৭ রোগী। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬৬ জন।

পুলিশ সুপার ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন পুলিশ লাইন্স একাদশ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপার ফুটবল টুর্নামেন্ট কাপ ২০২৩ এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পুলিশ লাইন্স একাদশ। শুক্রবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪ ঘটিকায় মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ লাইন্স একাদশ এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেল একাদশ ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয়।

মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া পুলিশ লাইন্স একাদশের পক্ষে মাঠে নামেন। খেলায় এক অনাড়ম্বর পরিবেশে টানটান উত্তেজনায় খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে খেলা ২-২ গোলে অমীমাংসিত থাকে। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে পুলিশ লাইন্স একাদশ ৬-৫ গোলে শ্রীমঙ্গল সার্কেল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহসিন এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

রমজানে রোগীদের জন্য রোজা পালনের নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ অনেকেরই স্বাস্থ্য সমস্যা থাকায় রোজা রাখতে চাইলেও রাখতে পারেন না। যারা এমন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে, অধিকাংশ রোগব্যাধি নিয়েই রোজা রাখা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে চলতি ওষুধগুলোর ব্যবহারবিধি কিংবা ধরন পরিবর্তন করতে হতে পারে। চলুন, জেনে নিই কিছু রোগের ক্ষেত্রে যেভাবে রোজা রাখা যাবে:

শ্বাসকষ্টঃ রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নেওয়া যাবে কি না, এ ব্যাপারে সারা বিশ্বের ইসলামী চিন্তাবিদরা যে মতামত দিয়েছেন তাতে রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নিলে রোজার ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়নি। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা চাই, কেবল সঠিক নিয়মে ইনহেলার নিলেই রক্তে ওষুধ মিশতে পারে না বা নগণ্য পরিমাণ মেশার সম্ভাবনা থাকে। তবে সেহরি ও ইফতারের সময় ইনহেলার ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগঃ যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। মাঝেমধ্যে রক্তচাপ মেপে দেখুন। ওলট-পালট হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডাইইউরেটিকস–জাতীয় ওষুধ যারা সেবন করেন, তাদের পানিশূন্যতা হতে পারে বেশি।

পেপটিক আলসার বা অ্যাসিডিটিঃ পেপটিক আলসারের রোগীদের প্রধান কাজ হলো নিয়মিত খাবার খাওয়া, ঘুমানো এবং ওষুধ গ্রহণ। রোজায় মানুষের জীবন একটা নিয়মে চলে আসে বিধায় এ সময় অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। পাশাপাশি অবশ্যই ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিসঃ যেসব ডায়াবেটিক রোগী বিশেষ খাবার এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তাদের জন্য রোজা রাখা খুব সহজ ও উপকারী। যারা মুখে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখছেন তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে পারবেন, তবে ব্যায়াম করার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে, যাতে ব্যায়ামের ধকল বেশি না হয়। আর ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে রোজা রাখবেন। সেহরির সময় রুটি খাওয়া বেশ ভালো। কেননা তা দীর্ঘ সময় পেটে থাকায় রক্তের গ্লুকোজ হঠাৎ করে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তবু রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে বা হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক এক গ্লাস শরবত পান করাতে হবে।

কিডনিঃ কিডনি রোগে রোজা রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিডনি ফেইলিউর রোগীদের সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয়, নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, এমনকি পানি খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হয়। তাই রোজা রাখার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অল্প থেকে মধ্যম মাত্রার কিডনি ফেইলিউর রোগীরা রোজা রাখলে কোনো ক্ষতি হয় না। সামান্য যা হয়, রোজার মাস শেষ হয়ে গেলে ১৫ দিনের মধ্যেই তা আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে যাদের কিডনি ফেইলিউরের মাত্রা একেবারে শেষ পর্যায়ে, তাদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয়। তেমনি যারা ডায়ালাইসিসের রোগী অথবা ইতোমধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন, ঘড়ির কাঁটা দেখে ওষুধ খেতে হয় বলে তাদের পক্ষেও রোজা রাখা প্রায় অসম্ভব।

তবে শারীরিক অবস্থা যা-ই থাকুক না কেন, সর্বাবস্থায় আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধুর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে সারা দেশের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়। শুক্রবার ১৭ মার্চ দিনব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, আ.লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি পালনে সূর্যদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়। জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে ও মুজিববর্ষ চত্বরে পুস্পমাল্য অর্পন করে

জেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পরে জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম বিডি হল প্রাঙ্গনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন। এ সময় বিশাল একটি কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হয়।

এরপর জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম বিডি হলে আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা আ.লীগের সভাপতি মুহ. সাদেক কুরাইশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুন ভুইয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্মন, জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দিন আল আজাদ, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, সহ- সভাপতি মাহাবুবুর রহমান খোকন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেন ইমন প্রমুখ।

শেষে অতিথিরা বিভিন্ন ইভেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ পত্র বিতরণ করেন।

নওগাঁয় বঙ্গবন্ধুর ‘১০৩ তম জন্মবার্ষিকী’ ও ‘জাতীয় শিশু দিবস’ পালিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নানা কর্মসূচীর মধ‍্যে দিয়ে নওগাঁয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম  জন্মবার্ষিক ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়েছে। সকাল ৯টায় সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ‍্যে দিয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সদর উপজেলা পরিষদ, মেডিক‍্যাল কলেজসহ জেলা পর্যায়ের সকল সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, বেসরকারি দপ্তরসমূহ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান। আলোচনাসভায় পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম‍্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক, অবসরপ্রাপ্ত অধ‍্যক্ষ প্রফেসর মো: শরিফুল ইসলাম খান এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো: আফজাল হোসেন আলোচনা করেন।

এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ  শিশু একাডেমি নওগাঁ শাখা এবং সরকারি গণ গ্রন্থাগার আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ‍্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন সমূহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

শ্রীমঙ্গলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ই মার্চ) সকাল ৯.৪০ মিনিটের সময়  শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমপ্লেক্সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জগৎজ্যোতি ধর শুভ্র, যুগ্ম সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক তহিরুল ইসলাম মিলন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ উপরু মিয়া, প্রচার সম্পাদক দেবাংশু সেন, পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুল আনাম চেমন, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল হক, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ শহিদুর রহমান শহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল আমিন, পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন, সম্পাদক সালেহ আহমদ, ছাত্রলীগ ও উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আশিকুর রহমান কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাবের আহমেদসহ অঙ্গ-সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও ছোটছোট ছেলেমেয়েদের মাঝে বিতরণ করা হয়। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনী ও শিশু দিবসের তাৎপর্য  নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন। পরিশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছোট ছেলে মেয়েরা গান,নৃত্য পরিবেশন করা হয়।