ইউক্রেনের যুদ্ধ

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করবে অনুমান করা গেছে আগে থেকেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হুশিয়ারী দিয়েছিল রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করলে ন্যাটো বসে থাকবেনা। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করেছে তিনদিন হয়ে গেছে। ন্যাটো বা আমেরিকা অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। ইতিমিধ্যে ইউক্রেনের রাজধানীও দখল হয়ে গেছে। মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সাবওয়ের ভিতরে। বহু মানুষ পোল্যন্ডে চলে গেছে। জার্মানীর কাছে সাহায্য চেয়ে পাঁচ হাজার হেলমেট ছাড়া কিছুই পায়নি ইউক্রেন।

টেলিভিশনে যুদ্ধের বিভৎসতা দেখে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত। একমাত্র যুক্তরাজ্য ছাড়া আমেরিকার সমর্থনে ন্যাটো দেশ থেকে আর কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। চীন রাশিয়াকে সমর্থন দিয়েছে প্রথম দিনেই। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চিঠি দিয়েছে কাতারকে। বিশ্ব তেলের বাজার ৭১℅ নিয়ন্ত্রন করে রাশিয়া, কাতার এবং ইরান। ইউরোপের বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহ করে রাশিয়া। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলে অনেক দেশেরই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এক দিনের যুদ্ধেই শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। তেলের মূল্য বেড়ে দাড়িছে ব্যরেল প্রতি ১০৫ ডলারে। যুদ্ধ চলতে থাকলে পৃথিবীর অর্থনীতি ভেঙ্গে পরবে।

এখন ভয়টি হল ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে বিশ্বযুদ্ধ হবে নিশ্চিত। এমন সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর দক্ষিণপুর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরন শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশী বিপদে ভারত। ভারত যদি আমেরিকার সঙ্গে যায় তাহলে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের অবনতি হবে। এই সুযোগ চীন ছাড়বেনা। ইরান চীনের মতই রাশিয়ার সঙ্গে যাবে। ইউরোপেও ভেনিজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে। রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দিলে ফ্রান্স জার্মানী সহ ইউরোপের অনেক দেশই সঙ্কটে পরবে। ন্যাটোর সদস্যরা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এক মত হতে পারবেনা। আমেরিকা যুক্তরাজ্যকে নিয়ে এমন অবস্থায় যুদ্ধে যাওয়ার সাহস করবেনা।

যুদ্ধ পরিস্থিতি যা হবার হয়ে গেছে কিন্তু বাংলাদেশও এখন সঙ্কটে। গার্মেন্টসের মুল বাজারটি ইউরোপে। গার্মেন্টস শিল্পে ধস নামবে দ্রুতই। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ঝুকির মুখে। ন্যাটো হয়ত শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়াবেনা, কিন্তু বিশ্ববাণিজ্য ঝুকির মধ্যে পরবে নিশ্চিত। জাতিসংঘ কোন যুদ্ধই থামাতে পারেনি। বৃহৎ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটি নিস্কৃয় সবসময়। করোনার পরে ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে কোথায় নিয়ে যাবে তা নির্ভর করবে বিশ্ব নেতাদের উপর।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

একদল নিখাদ রাজনীতিবিদের কড়চা

রাজনীতি হলো মানব সেবার কার্যকর উপায়। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং মানুষের কল্যাণে দেশ ও এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করাই রাজনীতি। আজ পাঠকদের এমনই কয়েকজন রাজনীতিবিদের কথা জানাবো।

১। বাড়িওয়ালা ভাড়া না দেওয়ায় ৯৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। বৃদ্ধের কাছে একটি পুরানো বিছানা, কিছু অ্যালুমিনিয়ামের বাসন, একটি প্লাস্টিকের বালতি এবং একটি মগ ইত্যাদি ছাড়া কোনো জিনিসপত্র ছিল না। বৃদ্ধ ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে অনুরোধ করলেন ভাড়া পরিশোধের জন্য তাকে কিছু সময় দেওয়ার জন্য, প্রতিবেশীরাও বৃদ্ধের প্রতি করুণা করেছিল এবং তারা বাড়িওয়ালাকে ভাড়া পরিশোধের জন্য কিছু সময় দিতে রাজি করিয়েছিল। ফলে বাড়িওয়ালা অনিচ্ছায় বৃদ্ধ ভাড়াটিয়াকে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে কিছুদিন সময় দেন। বৃদ্ধ তার জিনিসপত্র ভিতরে নিয়ে গেলেন।

পাশ দিয়ে যাওয়া এক সাংবাদিক পুরো দৃশ্য দেখেন। তিনি ভেবেছিলেন বিষয়টি তার পত্রিকায় প্রকাশ করলে উপকার হবে। এমনকি তিনি একটি শিরোনামও ঠিক করেছিলেন, “নিষ্ঠুর বাড়িওয়ালা টাকার জন্য বৃদ্ধ ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়”। তারপর পুরনো ভাড়াটিয়ার কিছু ছবি তুললেন এবং ভাড়া বাড়ির কিছু ছবিও তুললেন।

সাংবাদিক অফিসে গিয়ে তার সম্পাদককে ঘটনাটি জানালে ছবিগুলো দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। সাংবাদিককে তিনি প্রশ্ন করেন, বৃদ্ধাকে চেনেন? সাংবাদিক বললেন, না।

পরের দিন পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় খবর ছাপা হয়, শিরোনাম ছিল “গুলজারীলাল নন্দা, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন”। সংবাদে আরও লেখা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেন বাড়ি ভাড়া দিতে পারলেন না এবং কীভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হল। আজকাল ফ্রেশাররাও প্রচুর টাকা আয় করে বলে মন্তব্য করা হয়। যেখানে একজন ব্যক্তি যিনি দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন, তার নিজের কোন বাড়িও নেই।

পরদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের গাড়ির বহর দিয়ে গুলজারীলাল নন্দার ভাড়াবাড়িতে পাঠান । এত ভিআইপি-র গাড়ির বহর দেখে বাড়িওয়ালা হতবাক হয়ে গেলেন। তখনই তিনি জানতে পারলেন যে তার ভাড়াটিয়া মিঃ গুলজারীলাল নন্দা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাড়িওয়ালা তৎক্ষণাৎ গুলজারীলাল নন্দের পায়ে মাথা নত করেন তার দুর্ব্যবহারের জন্য।

আগত ভিআইপিরা গুলজারীলাল নন্দাকে সরকারি বাসস্থান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। মিঃ গুলজারীলাল নন্দা তাঁদের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এই বলে যে, এই বৃদ্ধ বয়সে এমন সুযোগ-সুবিধা তার দরকার নেই। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন।

গুলজারীলাল নন্দা, ১৮৯৮ সালের ৪ জুলাই বৃটিশ ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ এবং ১৯৬৩ সালে তিনি কাজ করেন কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী হিসেবে। পরে, ১৯৬৩-৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালের ২৭ মে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। পরে, তাশখন্দে শ্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ বাক্য পাঠ করেন। ১৯৯৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছিল। ১৯৯৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ৯৯ বছর বয়সে বর্তমান ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে মৃত্যুবরণ করেন।

২। নব্বই দশকের শেষ দিকে আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (বাকসু ৮৮-৮৯)-র সাধারণ সম্পাদক। সেই সময় বাংলাদেশের ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মধ্যে শুধু বাকসু (৮৮-৮৯)- ই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একক প্যানেলে নির্বাচিত হয়েছিল। সেই সুবাদে  দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল পরিচিতি সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সুবাদে মফস্বলের অনেক গুণীজনের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এমনি একটি প্যানেল পরিচিতি সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায় গিয়েছিলাম।

আমি বিশেষ অতিথি, প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামসুল হক যিনি গোলাপ মিয়া নামে পরিচিত । ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাকে নিয়ে গেল সংসদ সদস্য গোলাপ মিয়ার বাড়িতে । বাড়িটি একটি পুরাতন ভাঙ্গা দালান। তবে আভিজাত্যের ছোঁয়া লেগে আছে। আমি প্রবেশ করতেই প্রধান ফটক পর্যন্ত এসে আমাকে রিসিভ করতে ভুলেননি সেই প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা সৈনিক ও সংসদ সদস্য একেএম শামসুল হক গোলাপ মিয়া। ভিতরে যেতে যেতে যতগুলো কথা বলেছেন, প্রতিটি কথায় তিনি তার পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিচয় দিয়েছেন। ঘরের ভেতরের পুরাতন আসবাবপত্রগুলোতেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ। আতিথেয়তার জন্য পুরাতন কাপ-প্রিচে পরিবেশন করেল দোকান থেকে কিনে আনা গ্লুকোজ বিস্কুট ও চা।

তিনি অতি বিনয়ের সাথে বললেন, ‘আপনি ঢাকার ছেলে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের ভোটে নির্বাচিত ছাত্রনেতা। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি, আপনি আমার মেহমান হয়েছেন’। চা পর্ব শেষ করে আমরা দুজনে একই রিকশায় চড়ে অনুষ্ঠানস্থল অভিমুখে যাত্রা শুরু করলাম। দুই দিক থেকে এক লাইন ধরে রিক্সা চলাচল করতে পারে এমনি একটি মফস্বলের রাস্তায় আমরা দুজন চলছি। হাতে সময় নেই। অনুষ্ঠানের সময় ঘন্টাখানেক বাকি। আমাদের দ্রুত যেতে হবে। কিন্তু আমরা এগুতেই পারছিনা। বিপরীতমুখী প্রতিটি রিক্সা থামিয়ে চালক ও আরোহীদের প্রত্যেকে তাদের প্রিয়নেতা গোলাপ ভাই এর সাথে কুশলাদি বিনিময় করছেন, হ্যান্ডশেক করছেন বা হাত ধরে মুসাফা করছেন, অনেকেই পা ছুঁয়ে সালাম করছেন। পেছনে লম্বা লাইন পরে গেছে। কেউই বাদ পরছেন না। এই হলো মানব সেবক রাজনৈতিক নেতা।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা সৈনিক ও  সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামসুল হক গোলাপ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এই নেতা কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মহান এই নেতা একেএম শামসুল হক ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৩। নাটোরের কালামানিক মমতাজউদ্দিন আহমেদের কথা আমাদের অনেকেরই জানা আছে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকী দায়িত্বে থাকলেও অতি সাধারণ মানুষের মত সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তিনি প্রায়ই সুধাসদনে আসতেন। সাধারণ সাদা ৩৫/৬৫ টেট্রন কাপড়ের পাজামা-পাঞ্জাবী, বাটা কোম্পানির অতি সাধারণ চামড়ার স্যান্ডেল পায়ে আসতেন। সবসময়ই মুখে পান থাকতো। মাথায় ব্যবহৃত তেল কানের দুই পাশ দিয়ে বেয়ে পরতে থাকতো। বিএনপি সরকারের শাসনামলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যা করেছিল।

জনপ্রিয় নেতা মমতাজ ভাই এর শোকসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ঐ শোকসভায় যাওয়ার পথে মাননীয় নেত্রীর গাড়িতে আমিও ছিলাম। মাননীয় নেত্রী বলেছিলেন, ‘বাহিরে তাকিয়ে দেখ, ধানক্ষেতের আইল বেয়ে পিঁপড়ার মত লাইন ধরে মানুষ আসছে, একেই বলে জননেতা’।

৪। আশির দশকের মাঝামাঝি ছাত্র রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের ‘বদিউজ্জামান বাদশা‘ নামটির সাথে পরিচয় থাকার কথা। এক সময় মেধা, বিস্তর পড়াশুনা আর অনর্গল তথ্যে-উপাত্তে বক্তৃতা দেবার সক্ষমতায় ছাত্র রাজনীতিতে কিছু অভিজাত নেতার দেখা মিলতো, বদিউজ্জামান বাদশা ছিলেন তাঁদের অন্যতম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রাঞ্জল শব্দচয়নে, সমৃদ্ধ তথ্যে বক্তৃতা দিয়ে দর্শক শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধের মত আটকে রাখার সক্ষমতা একজন ছাত্র নেতাকে কতোটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে আশির দশকে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে আমরা যেন তারই কালের সাক্ষী আর আইকনটি ছিল জনাব বদিউজ্জামান বাদশা।

দুরারোগ্য ব্যাধি অগ্নাশয় ক্যান্সারে  আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২২ নভেম্বর রবিবার দিবাগত রাত ২ টা ৪৫ মিনিটে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। প্রাণহীন বদিউজ্জামান বাদশাকে নিয়ে আমিও গিয়েছিলাম শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, তাঁর জন্মভূমিতে। আমি গত ২২ নভেম্বর ২০২১ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একজন জননেতার জানাজা দেখলাম। নকলা-নালিতাবাড়ীর মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন তিনি। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল। লোকে লোকারণ্য উপজেলা সদর এলাকা। গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে দলে দলে আসছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। তারাগঞ্জ হাই স্কুলের বিশাল মাঠে তিল ধারনের ঠাঁই নাই। স্থানীয় নেতারা, জনপ্রতিনিধিরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরছেন।

বক্তারা বলছেন, ‘একজন মানুষের মৃত্যু হলে তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিন্তু কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার মৃত্যুতে নকলা-নালিতাবাড়ীর সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হলো। মানুষের সেবা করাই ছিল বাদশা’র নেশা’।

এই নেতার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা-র রাজনীতির চারণক্ষেত্র শেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক বলেছেন, ‘মর্মে মর্মে আমি উপলব্ধি করছি, ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর পারে গারো পাহাড়ের পাদদেশে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, যিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন’।

মৃত্যুর অল্প কয়েকদিন পূর্বে অসুস্থ অবস্থায় এক জনসভায় জননেতা বদিউজ্জামান বাদশা বলেছেন, ‘আপনাদের কষ্টের কথা আমার জানা আছে । যতদিন আমি জীবিত থাকবো বন্ধুগণ, ভাইয়েরা আমার, ততদিন আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। যদি কিছু নাও দিতে পারি, অসুখে-বিসুখে আমার রক্তটুকুও যদি কাজে লাগে, আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই রক্তটুকু দিয়ে হলেও আপনাদের ভালবাসার ঋণ শোধ করতে চেষ্টা করবো। আর আপনারা আমার কাছে আমার জীবিত অবস্থায় কেউ কোন কাজে আসেন, আমার সাধ্যের ভিতরে থাকে, আমার ঘরের লোক হিসেবে আমি সেটিকে পূরণ করতে চেষ্টা করবো। বন্ধুগণ, আমি আর কথা বলতে পারছি না, আমার কথা আড়ষ্ট হয়ে আসছে। ভাইয়েরা আমার,…, আজকে আমার ডাকে যারা সমবেত হয়েছেন নেতৃবৃন্দসহ, প্রত্যেকের কাছে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করি, বঙ্গবন্ধুর কন্যার জন্য দোয়া করবেন, … উনি মুজিবের কন্যা, সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে আমার সংক্ষিপ্ত নিবেদন শেষ করলাম।’


ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

বড়লেখায় টিকা দানে বাঁধা, কর্মকর্তা’কে মারধর!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনার টিকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর অফিস সহায়ক প্রনব চন্দ্র দাস (২৬) নামে ১জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রোজ বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে। এ ঘটনায় আহত হাসপাতাল কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র দাস ঘটনাকারী মাশরাফি আলম মাহীকে প্রধান ও ৭/৮জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফোটেজ দেখে পুলিশ অন্যান্য হামলাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো  বৃহস্পতিবার  সকাল নয়টা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২-১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় তলায় করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। অফিস সহকারী প্রনব চন্দ্র দাস ছাত্র- ছাত্রীদের টিকাদান কক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন কালিন সময়ে মাশরাফি আলম মাহীসহ ৭/৮ যুবক জোর পুর্বক এই কক্ষে ঢুকে টিকানেয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় প্রনব চন্দ্র দাস তাদেরকে শিক্ষার্থী ব্যতিত অন্যদের টিকা এই কক্ষে দেয়া হচ্ছেনা বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অফিস সহকারি প্রণব চন্দ্র দাস, টিকা কার্যক্রমে নিয়োজিত নার্স ও ব্রাদারদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হাসপাতালের নিচে চলে যায়। প্রায় আধঘন্টা পর মাশরাফি আলম মাহী প্রণব দাসকে ডেকে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে আরো ৭/৮ যুবকসহ তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রণব দাসকে দুস্কৃতিকারীদের থেকে উদ্ধার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্বদ্বীপ বিশ্বাস জানান, জোরপূর্বক টিকা নিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধভাবে হাসপাতালের এক কর্মকর্তাকে ব্যাপক মারধর করেছে। এতে করে ঐ কর্মকর্তার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় আহত অফিস সহকারি প্রণব চন্দ্র দাস থানায় অভিযোগ করেছেন।

বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) রতন চন্দ্র দেবনাথ সাথে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতাল কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামি সনাক্তের জন্য হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অন্যান্য আসামীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে আটক করা হয়নি। আটকের জন্য পুলিশি অভিযান পরিচালনা চলছে।

ফুলবাড়ীতে ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ ও ৯৯ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার-৩

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ এবং ৯৯ বোতল ফেনসিডিল সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর, উত্তর কাশিপুর এলাকা এবং শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের নন্দিরকুটি এলাকা থেকে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে গাঁজাগুলো জব্দ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মন্ডলের ছেলে নাজিনুর রহমান নাজুর বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। এসময় তার ঘর থেকে চারটি পোটলায়  মোট ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী নাজিনুর রহমান নাজু ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম কৌশলে পালিয়ে যান। পরে  জব্দকৃত গাঁজা গুলো থানায় এনে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে ওই ইউনিয়নের উত্তর কাশিপুর কাজীর মোড় এলাকা থেকে ৪ বোতল ফেনসিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে । আটককৃত ব্যবসায়ীর নাম  আফছার আলী।  তিনি ওই এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের নন্দিরকুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আতিকুর রহমান (২৬) এবং খায়রুজ্জামানের ছেলে ফারুক মিয়া (৩৩)কে ৯৫ বোতল ফেনসিডিল সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফজলুর রহমান জানান, পলাতক আসামী এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক  মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলায় শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হঠাৎ আট থেকে নয় মিনিটের শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন স্তবির হয়ে পড়ে এবং মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শহরের পথঘাট সাদা বরফে ঢেকে গিয়েছে।

শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কবলে ব্যহত হয়েছে স্বাভাবিক চলাফেরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলমান শিলা বৃষ্টিতে ঢেকে গেছে শত শত হেক্টর ফসলের জমি। এতে গম, ভুট্টা,সরিষা, আম, জামসহ বিভিন্ন গাছের মুকুল ও অন্যান্য রবিশস্যের চরম ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এ সময় আবার শহরের রাস্তায় নেমে অনেককে বরফের সাথে ছবি তুলছে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন কৃষকেরা।

শহরে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান বলেন,”আমার জীবনে এমন শিলা বৃষ্টি হতে দেখিনি। যেন কয়েক মিনিটের শিলা বৃষ্টি ও বাতাসে গাছ পালার সকল পাতা ও মুকুল আঘাতে ছিড়ে পড়ছে। বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ, রাস্তা ঘাট সব সাদা হয়ে গেছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ভারি মাপের শিলা বৃষ্টি হয়েছে শহরে। এমন শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আমার কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের ক্ষতির সঠিক পরিমান নিরূপণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জে বোরো চাষে উৎকণ্ঠা চাষীদের

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বোরো চাষে পর্যাপ্ত সেচ ও পানির ব্যবস্থা থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে কিছু এলাকায় আগাম বোরো চাষ করায় সেসব খেতে ধান কালো রং ধারণ করেছে। এমন অবস্থায় ভালো ফলনের সম্ভাবনার পাশাপাশি উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষকেরা জানান, যাঁরা আগাম বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন তাঁদের ফসল কালো রং ধারণ করেছে। ধানে মাজরা পোকা দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করছেন তাঁরা। এদিকে সেচে খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরো চাষ করতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লাখ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চলতি মৌসুমে লাখ মাত্র ছাড়িয়ে গেছে। কিছু এলাকায় এখনো বোরো ধানের আবাদ কারা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমি দুই একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। কয়েক দিন আগে পোকা আক্রমণ করেছিল, কৃষি ঘর থেকে কীটনাশক স্প্রে করার পর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা পেয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় সেচে অনেক খরচ বেড়ে গেছে।’

উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় দুই একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। একর প্রতি সেচ খরচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা হচ্ছে।’ পোকার আক্রমণ ও রোগ বালাই যদি না আসে তা হলে ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন এই কৃষক।

পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার খাঁন বলেন, ‘কেওলার হাওরে বোরো ধানের চারা রোপণ করা প্রায় শেষের দিকে। মৌসুমের শুরুতে নদীতে পানি বাড়ার কারণে হাওরে চারা রোপণ করতে আমাদের কিছু বিলম্ব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১ একর জমিতে বোরোধান চাষ করেছি। ভারী বৃষ্টি, আগাম বন্যা ও পোকায় আক্রমণ না করলে আশা করছি আমাদের বোরোধান ভালো হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খাঁন জানান, বোরো চাষে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে উপজেলায় আমাদের লাখ মাত্র ছাড়িয়ে গেছে, মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক কাজ করছে আমাদের টিম। তবে তাঁরা পোকার আক্রমণের খবর পাননি বলে জানান।

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু-১

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)  সোহরাব আলী (৩৯) নামের এক ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। এদিন সকালে সদর উপজেলার শিবগঞ্জের মাদারগঞ্জ রেললাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত সোহরাব উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাকডোব গ্রামের মৃত: মশিরউদ্দীনের ছেলে।
ঠাকুরগাঁও রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আকতারুজ্জামান আক্তার স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাদারগঞ্জ এসে পৌঁছালে সেখানে কাটা পড়েন সোহরাব। খবর পেয়ে নিহত সোহরাবের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নিহতের পরিবারের লোকজন দাবী করেন, সোহরাব ভারসাম্যহীন ও মানসিক রোগী ছিলেন।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রেন কর্তৃপক্ষ।

শ্রীমঙ্গলে মার্চের শুরু থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: চায়ের রাজধানী খ্যাত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পৌর এলাকায় পহেলা মার্চ থেকে সকল ব্যাটারি চালিত বাহন চলতে দেয়া হবে না বলে ঘোষনা দিয়েছেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম অর রশিদ তালুকদার।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যানজট নিরসন করতে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল করে ভাসমান ব্যবসা পরিচালনা, পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানে সময় একথা বলেন তিনি।

ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭ ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. নেছার উদ্দিন। এর আগে সকাল ১১ টা থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে অভিযানে নামে শ্রীমঙ্গল পুলিশ প্রশাসন।

অভিযানকালে শহরে ব্যস্ততম এলাকা চৌমোহনা থেকে হবিগঞ্জ সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়। এসময় শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম অর রশীদ তালুকদার বলেন, শহরের যানজট নিরসনে আগামী ১ মার্চ থেকে পৌর শহরে সব ধরণের ব্যটারি চালিত অটো রিকশা চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের সতর্ক করে বলেন আবারো ফুটপাথ দখল ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করে শহরে যানজট সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, পর্যটকরা অভিযোগ করছেন, এক শ্রেণীর সিএনজি অটো চালকরা তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে মৌলভীবাজারের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহফুজ আলম, ট্রাফিক ইনস্পেক্টর অমিতাভ শেখর চৌধুরী, বাইজিদ মাহফুজ, শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির, পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফুলবাড়ীতে ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ, ফেনসিডিল সহ আটক-১

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ এবং ৪ বোতল ফেনসিডিল সহ একজন গ্রেফতার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর ও উত্তর কাশিপুর এলাকায় এ পৃথক অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়,বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মন্ডলের ছেলে নাজিনুর রহমান নাজুর বাড়ীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় তার ঘর থেকে চারটি পোটলায়  মোট ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী নাজিনুর রহমান নাজু ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে  উদ্ধারকৃত গাঁজা গুলো থানায় এনে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথক এক অভিযানে  কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর কাশিপুর কাজীর মোড় এলাকা থেকে ৪ বোতল ফেনসিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যবসায়ীর নাম মোঃ আফছার আলী।  তিনি ওই এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফজলুর রহমান জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফুলবাড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অরক্ষিত বধ্যভূমি রক্ষায় নির্মাণ হচ্ছে “মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ”

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রবিরবাজারে অরক্ষিত বধ্যভূমি রক্ষায় নির্মাণ হচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ’। মুক্তিযোদ্ধের পাঁচ দশক পর উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয়ের চৌমুহনী রবিরবাজার চত্বরের পাশে অবস্থিত গণহত্যার স্মৃতিবিজিড়িত এ বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)  দুপুরে স্থানীয় রবিরবাজার এলাকায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভাগ (এলজিইডি) এর সিএইচএসএমএমপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রবিরবাজার এলাকায় জেলা পরিষদের জায়গায় পদ্মদিঘীরপাড় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে দায়িত্ব পায় মৌলভীবাজারের মেসার্স জেরিন এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয়ের চৌমুহনী চত্বরের পাশে অবস্থিত বধ্যভূমিতে পৃথিমপাশার অক্ষয় দেব ও কৃতিময় দেব নামে দুজন মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো নাম না জানা অনেককে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়েছে। পৃথিমপাশার রবিরবাজারের এ বধ্যভূটি জায়গাটি ছিল অরক্ষিত ও অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা পরিষদের মধ্যে এই বধ্যভূমি নিয়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ছিলো। এটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সচেতনমহল ও মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলন করেন।

প্রায় ৪ বছর আগে তৎকালীন সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন কুলাউড়ার বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেন। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আজিজুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর বধ্যভূমি সংরক্ষণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলায় প্রথম সরকারি উদ্যোগে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্থর অনুষ্ঠানের আলোচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক সাংসদ অ্যাড. নওয়াব আলী আব্বাছ খান, কুলাউড়া পৌর মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, জেলা এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুশীল চন্দ্র দে, আওয়ামী লীগ নেতা আলী ওয়াজেদ খান বাবু, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিমিউর রহমান চৌধুরী ফুল মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন, নবাব আলী সাজ্জাদ খান প্রমুখ।