হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯০ স্বর্ণের বার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিমানের ভেতর থেকে প্রায় সাড়ে ১০ কেজি ওজনের ৯০টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল। জব্দ ওই ৯০টি স্বর্ণের বারের বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ওই স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রউফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের দুবাই ফেরত একটি ফ্লাইট থেকে কাস্টমস গোয়েন্দা প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ৯০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করে। যার ওজন সাড়ে ১০ কেজি।

এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরো বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন নিয়ে যে ২১টি বিষয় জানিয়েছেন

সিএনবিডি ডেস্কঃ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই ১৮-৫০ বছর বয়সীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভার্চ্যুয়ালি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯- ২০ অর্থবছরে বাজেটে আনা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় এখন এটা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৫০ সালে দেশের মানুষের আয়ুষ্কাল হবে ৮০ বছর। আগামী ৩ দশক পরে মানুষ অবসর গ্রহণের পরেও আরও ২০ বছর বাঁচবে। সে সময়ে তার আয় না থাকলেও সরকার তার দায়িত্ব নেবে। আর ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রবাসীরাও এ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে। শুরুতে এ পদ্ধতি ঐচ্ছিক। তবে পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক করা হবে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ওপর একটি কৌশলপত্র তৈরি করে গত বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে শিগগিরই আইন প্রণয়ন করতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ২১টি দিক তুলে ধরেন।

এগুলো হলো—

১. ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব কর্মক্ষম নাগরিক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

২. বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীগণও এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

৩. সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের আপাতত নতুন জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

৪. জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক পেনশন হিসাব খুলতে পারবেন।

৫. প্রাথমিকভাবে এ পদ্ধতি স্বেচ্ছাধীন থাকবে, যা পরবর্তী সময়ে বাধ্যতামূলক করা হবে।

৬. ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়া সাপেক্ষে মাসিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

৭. প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি আলাদা পেনশন হিসাব থাকবে। ফলে চাকরি পরিবর্তন করলেও পেনশন হিসাব অপরিবর্তিত থাকবে।

৮. সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে কর্মী বা প্রতিষ্ঠানের চাঁদা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেবে।

৯. মাসিক সর্বনিম্ন চাঁদার হার নির্ধারিত থাকবে। তবে প্রবাসী কর্মীরা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা জমা দিতে পারবেন।

১০. সুবিধাভোগীরা বছরে ন্যূনতম বার্ষিক জমা নিশ্চিত করবেন। অন্যথায় তাঁর হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে বিলম্ব ফিসহ বকেয়া চাঁদা দেওয়ার মাধ্যমে হিসাব সচল করতে হবে।

১১. সুবিধাভোগীরা আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে চাঁদা হিসেবে বাড়তি অর্থ (সর্বনিম্ন ধাপের অতিরিক্ত যেকোনো অঙ্ক) জমা করতে পারবেন।

১২. পেনশনের জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা অর্থাৎ ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন তহবিলে পুঞ্জীভূত লভ্যাংশসহ জমার বিপরীতে নির্ধারিত হারে পেনশন দেওয়া হবে।

১৩. পেনশনধারীরা আজীবন অর্থাৎ মৃত্যুর আগপর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।

১৪. নিবন্ধিত চাঁদা জমাকারী পেনশনে থাকাকালে ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে জমাকারীর নমিনি বাকি সময়কালের (মূল জমাকারীর বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) জন্য মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।

১৫. পেনশন কর্মসূচিতে জমা করা অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না। তবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমা করা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে উত্তোলন করা যাবে, যা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

১৬. কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে নিবন্ধিত চাঁদা দানকারী মারা গেলে জমা করা অর্থ মুনাফাসহ তাঁর নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

১৭. পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে এবং মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়করমুক্ত থাকবে।

১৮. এ ব্যবস্থা স্থানান্তরযোগ্য ও সহজগম্য অর্থাৎ কর্মী চাকরি পরিবর্তন বা স্থান পরিবর্তন করলেও তার অবসর হিসাবের স্থিতি, চাঁদা প্রদান ও অবসরসুবিধা অব্যাহত থাকবে।

১৯. নিম্ন আয়সীমার নিচের নাগরিকদের ক্ষেত্রে পেনশন কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারে।

২০. পেনশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সরকার নির্বাহ করবে।

২১. পেনশন কর্তৃপক্ষ তহবিলে জমা করা টাকা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বিনিয়োগ করবে (সর্বোচ্চ আর্থিক রিটার্ন নিশ্চিতকরণে)।

শহীদ দিবসঃ

২১ শে ফেব্রুয়ারী এখন আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দিবসটি পালিত হয়েছে। অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধানরাও বানী দিয়েছে গুরত্ব উল্লেখ করে। প্রবাসী বাঙালীরাও প্রথম প্রহরে পুষ্পার্ঘ দিয়ে সম্মান জানিয়েছে ভাষা শহীদদের। টরন্টোসহ পৃথিবীর বহু শহরেই এখন শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। টরন্টোতে কিছু মানুষ পরিশ্রম করেছেন এই শহীদ মিনার নির্মানে। শৈত্য প্রবাহ আর তুষারপাত উপেক্ষা করে টরন্টোবাসী শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারের গেছে। গণমাধ্যম প্রথম প্রহরের এই অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। স্থানীয় পত্রিকা গুলি বিশেষ ক্রোড়পত্র ছেপেছে।

এক দিনের এই অনুষ্ঠান ভাষার প্রতি কতটা সম্মানের তা এখন বিশ্লেষনের সময় এসেছে। যে দেশটির জন্ম হয়েছিল ভাষার জন্য সেই ভাষাই এখন সবচেয়ে বেশী অবহেলিত বাংলাদেশে। ফেব্রুয়ারী মাস এলেই ভাষার গুরত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অথচ বিদেশী শিক্ষার উৎসব চলছে সর্বত্র। মহল্লায় মহল্লায় ইংলিশ স্কুলের ছড়াছড়ি। পাঠ্যপুস্তকে দেশীয় কৃষ্টির চিহ্ন নেই। ষষ্ঠ ঋতুর বদলে কোমলমতি শিশুরা এখন বিদশী ঋতুর গল্প পড়ে। হেলোইন আর ক্রিষ্টমাস পালন করে ঘটা করে ৷ বৈশাখী মেলা, ঘুড়ি, মাটির খেলনা আজকের শিশুদের অজানা। সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ নেই ছেলেমেয়েদের। ফালগুন মাসটিও এখন ভেলেনটাইনের মতোই একটি প্রেম দিবস। বিদেশী ভাষা শিক্ষা জরুরী তবে দেশীয় কৃষ্টিকে ভুলে নয়। এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ঠ নয়। অনুপ্রবেশ ঘটেছে বিদেশী সংস্কৃতির। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অনেক উন্নয়ন হয়েছে দেশে। কিন্তু সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশ ঠেকানো না গেলে স্বাধীনতার আদর্শটি রক্ষা করা যাবেনা।

এখন ছেলেমেয়েরা বাঙলা সাহিত্য পড়েনা। ভাষাটিও ভুলে যাচ্ছে। কথা বলে ইংরেজী উচ্চারনে। যে দেশটির জন্ম হয়েছে ভাষার জন্য সেই ভাষা রক্ষায় সরকারের যথেষ্ঠ উদ্যোগ নেই। শিক্ষানীতিটিও দ্বৈত ভাবে সমান্তরাল। বিষয়টি নিয়ে দেশের গুণীজনদের ভাবনার সময় এসেছে। ভাষা ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে না পারলে স্বাধীনতার আদর্শটি ধরে রাখা যাবেনা। সংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ভাষার গুরত্ব নিয়ে যথেষ্ঠ ভুমিকা রাখতে পারেনি। বাংলা একাডেমি বই মেলাতেই আটকে গেছে। বিষয়টি নিয়ে এখন একটি উম্মুক্ত আলোচনা হওয়া জরুরী।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

একই দিনে রাণীশংকৈলে দু’জনের আত্মহত্যা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নে একই দিনে দু’জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার ২২ ফেব্রুযারি সকালে রাঘবপুর ও রনগাও গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাণীশংকৈল থানার ওসি( তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের  রাঘবপুর গ্রামের কৃষ্ণ কুমারের ছেলে চন্দন (১৪) ঢাকা বেড়াতে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল। তার বাবা টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় চন্দন অভিমানে গত মঙ্গলবার ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে সকলের অগোচরে নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে বাঁশের শরে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরদিন বুধবার ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারে লোকজন তাকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। তারা ঘরে চন্দনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চন্দনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে, রনগাও গ্রামের আতিয়া রায়ের বিবাহিত ছেলে ঘামানু রায় (৩১) পারিবারিক কলহের জেরে একই দিনে সকালে নিজ বাড়িতে ইঁদুর মারা ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে ওই দিনেই প্রথমে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রংপুরে নেয়ার পথে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মারা যান।

ওসি (তদন্ত) গতকাল জানান, দুই পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এডিএম’র অনুমতি সাপেক্ষে মৃতদের শেষকৃত্য করা হয়। থানায় দুটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণকে সংবর্ধনা দিলেন খাদ্যমন্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর সাপাহারে নব-নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণকে সংবর্ধনা প্রদান করলেন বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাপাহার উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টে উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

এসময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হতে মনোনয়ন প্রাপ্ত ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা প্রদান শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্যেশ্য পরামর্শমূলক বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা শাখা আ’লীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহাজাহান হোসেন মন্ডল, সাধরণ সমম্পাদক মাসুদ রেজা সারোয়ার সহ আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।

এসময় আ’লীগ, যুবলীগ, মহিলালীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের নের্র্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রকোনার সীমান্ত থেকে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় শাড়ী, লেহেঙ্গা এবং সেভেন ওয়েল জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ার) গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া

বিজ্ঞপ্তি মারফত জানা যায়, বুধবার রাত ৩টার দিকে ৩১ বিজিবি’র অধীনস্থ ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়ায় দক্ষিন মাইজপাড়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া বিওপি হতে বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এ এস এম জাকারিয়া, পিএসসি এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি টহল দল কর্তৃক পরিত্যক্ত মালিকবিহীন অবস্থায় ১টি পিকআপ ও ১টি মোটরসাইকেলসহ ১৯০ পিস ভারতীয় শাড়ী, লেহেঙ্গা-৩৫০ পিস এবং সেভেন ওয়েল ২৫০ পিস জব্দ করে। যার সর্বমোট সিজার মূল্য-৪৩,২৮,০০০/- (তেতাল্লিশ লক্ষ আঠাশ হাজার) টাকা।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত চোরাচালানী মালামাল নেত্রকোনা কাষ্টমস্ অফিসে জমা করা হয়েছে।

দ্রব‍্য মূল্যের উর্ধ্ব গতিতে বিপাকে ভূরুঙ্গামারীর নিম্ন আয়ের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দ্রব‍্য মূল্যের উর্ধ্ব গতিতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে দফায় দফায় বাড়ছে নিত‍্য পণ‍্যের দাম। লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে বেকায়দায় পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ গুলোর জীবনে পড়েছে হতাশার ছাপ। সংসার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দফায় দফায় নানা বিধি-নিষেধে কর্মহীন হয়ে পড়ে শ্রমজীবী মানুষ। এর প্রভাবে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। ইতোমধ্যে হু হু করে বেড়ে চলেছে ভোগ্য পণ্যসহ বিভিন্ন জিনিসিপত্রের দাম। এমন দামের কারণে একেবারই বেসামাল সাধারণ মানুষ। তাদের ব্যয় বাড়লেও, বাড়ছে না আয়। ফলে সংসার চলাতে হাঁসফাঁস উঠেছে তাদের।

ভূরুঙ্গামারী বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, পেঁয়াজ ও বেগুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়াও প্রতিকেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা, ছাগলের (খাসি) মাংস ৭৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল ৪৫ টাকা, আটাশ চাল ৫৩ টাকা, ইলিশ মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্প জাতীয় (এক কেজি ওজনের) প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, সোয়াবিন তেল (খোলা) ১৭০ টাকা, ঘানি টানা সরিষা তেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, বিভিন্ন ডাল ১০০-১২০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা, শাক-সবজি (প্রকার ভেদে) ২৫-৫০ টাকা, পোল্ট্রি মুরগির ডিম খুচরা প্রতি হালি ৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। জিরাসহ সকল প্রকার মসলার দাম বেড়েছে। অধিক দামে পণ্যসামগ্রী কেনা ভুক্তভোগীদের বোবা কান্না যেনো দেখার কেউ নেই।

রিক্সা চালক আমজাদ হোসেন জানান, যেভাবে জিনিসের দাম বেড়েছে, সে তুলনায় আয় বাড়েনি তার। তিন বছর আগে রিক্সার সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১০ টাকা। এখনও তাই আছে। এতে করে পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

মুদি দোকানদার মাইদুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল-ডাল, তেল, মসলাসহ সব ধরনের জিনিপত্রের দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় বাজার কমিয়ে পরিমাণে অল্প জিনিস কিনছেন।

এ ব‍্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মার জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার কবলে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেইনের দুই অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেনা পাঠানোর নির্দেশের পর নিষেধাজ্ঞার বানে জর্জরিত হচ্ছে রাশিয়া। মঙ্গলবার রাশিয়ার উপর সবার প্রথমে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে যুক্তরাজ্যের। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও। রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। কানাডাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেলত বলেছেন, ইউক্রেনের দু’টি প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার রুশ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইইউভুক্ত দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে নেটো অঞ্চলের এক ইঞ্চি ভূমিও ছাড়বে না।

ভিন্ন পন্থায় ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর অভিযোগ তুলে রাশিয়ার ওপর প্রথম ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা। রাশিয়ার স্বীকৃত রাষ্ট্র লুহানস্ক এবং দনেস্কে সব ধরনের অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।

বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার তিনটি ব্যাংক এবং তিন ধনকুবেরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রোসিয়া, আইএস ব্যাংক, জেনারেল ব্যাংক, প্রোমসভায়াজ ব্যাংক এবং ব্ল্যাক সি ব্যাংকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জনসন। আর তিন ধনকুবের হচ্ছেন- গেনেদি তিমচেনঙ্কো, বরিস রোটেনবার্গ এবং ইগোর রোটেনবার্গ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাজ্যে তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং দেশটিতে তাদের ভ্রমণও নিষিদ্ধ থাকবে। যুক্তরাজ্যের কোনো নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কিংবা সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ইউক্রেইন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোতে যোগ দিতে চাওয়ার পর থেকে উত্তেজনা চলছে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে। রাশিয়া কোনোভাবেই তাদের পাশের দেশে নেটোকে জায়গা দিতে চায় না। টানটান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার রাশিয়া ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। এরপর সেখানে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। সোমবার দোনেৎস্ক শহরের ভেতর দিয়ে রাশিয়ার ট্যাংক এবং সামরিক বহর যেতে দেখা যাওয়ার খবর মেলার পরপরই রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার খবর আসতে থাকে বিবিসি, সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।

আজ ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ৫৩ বছর

সিএনবিডি ডেস্কঃ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আজ সেই উপাধি অর্জনের ৫৩ বছর।

আগরতলা মামলায়  ১৯৬৬ সালের ৮ মে গভীর রাতে ৬ দফা কর্মসূচি দেওয়ার অভিযোগে দেশরক্ষা আইনে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৩৩ মাস পর ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন তিনি। আর আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির পর ফিরে আসা শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি সেদিনের রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ জনতার ঢল নেমেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ওই বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসু’র সভাপতি, শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই।

রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দু’হাত তুলে সমর্থন করেন তাঁকে। এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান।

পরবর্তীকালে এই উপাধি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। জাতির পিতার নামের অংশ হয়েছে এবং আজকে তো শুধু ‘বঙ্গবন্ধু’ বললে সারা বিশ্বের মানুষ এক ডাকে চেনে। আর বাঙালি জাতির ইতিহাসে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। যতদিন বাঙালিরা বেঁচে থাকবে হৃদয়ের গভীরে লালিত এ দিনটিকে স্মরণ করবে।

বুড়িচংয়ে ১১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নে খারেরা এলাকা থেকে ১১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তির নাম কবির হোসেন(৩৮)।  সে বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে।

বুড়িচং থানার (ওসি) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি আলমগীর হোসেন জানান,  মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ফকিরবাজার খারেরা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে আবুল হাসেমের পরিত্যক্ত একটি সেমীপাকা ঘরে বিপুল পরিমান গাঁজা রাখা হয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস,আই বিনোদ দস্তিদার, এস,আই আব্দুল জব্বার, এএসআই ওয়াহিদ উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স গিয়ে অভিযান পরিচালানা করে ৫৫ টি কসটেপ মোড়ানো গাঁজার প্যাকেট করে উদ্ধার করে। এসময় ১১০ কেজি গাঁজাসহ একজন কারবারিকে আটক করে।

কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার গণমাধ্যমকে জানান, এর আগেও বুড়িচং থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। ভবিষতে মাদক অভিযানে আরো জোরদার করা হবে এবং অভিযান চলমান থাকবে।