শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাবের ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাব।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিকরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, নূর হোসেন, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামিম অর রশিদ তালুকদার, শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবেদ হোসেন তানভীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি তিমির বনিক, সাধারণ সম্পাদক শিহাব রেজা, সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল আহমেদ, সদস্য স্বপ্নিল দাস, জুবায়ের আহমেদ, আরিফুল হক, সাহারাব রুহিন প্রমুখ।
শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন আওয়ামী,যুব লীগ, ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সকল স্তরের জন সাধারণ।

রাণীশংকৈলে শিক্ষক সমিতির ঘর মেরামতে বাধা; ২ শিক্ষক আহত থানায় অভিযোগ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব। রবিবার ২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির পুরনো ঘর মেরামত করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ২ শিক্ষক আহত হয়।

এ নিয়ে থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার দিন শিক্ষক সমিতির যুগ্ন আহবায়ক আহসান হাবীবের মৌখিক ও এজাহার সূত্রে জানাযায়, মহলবাড়ি মৌজার ১৩৬ নং দাগে ১৯৮২ সালের পূর্ব থেকে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি দখলে ছিল। ১৯৮০ সালে জেলা প্রশাসক এটিকে লীজ প্রদান করেন। নিয়ম অনুযায়ি ডিসিয়ার নেওয়া হয়।

এরপর হতে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করে সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। সমিতির সম্পাদকের মৃত্যু হলে একটি চক্র এ সুযোগে জায়গাটি দখলে নেয়ার চেষ্ঠা করে। তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মৌসুমী আফরিদা রাতের আধারে দখল কারিদের উচ্ছেদ করেন।

আবারও ক্রমন্বয়ে জমির মালিক দাবী করে সম্প্রতি আরেকটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধে। দোশিয়া গ্রামের মুকুল নামীয় এক ব্যক্তির সহায়তাকারি হিসাবে মফিজুল ও তার লোকজন জমিটি দখল নেওয়ার চেষ্ঠা করে। শিক্ষক সমিতির লোকজন সেই পুরনো ঘর মেরামত করতে গেলে মফিজুল বাঁধা দেয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মফিজুল ও তার সঙ্গীয় লোকজন শিক্ষকদের উপর হামলা চালায়। এতে সহকারি শিক্ষক মকবুল হোসেন, আজিজার রহমান আহত হয়ে রাণীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি হয়। শিক্ষক সমিতির যুগ্ন আহবায়ক আহসান হাবীব বাদী হয়ে মফিজুল ইসলাম ও উসমান গনি সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষক সমাজ মেনে নিতে পারছেন না।

ভান্ডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রাধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির আহবায়ক গপেনদ্রনাথ বলেন, আগামীকাল আমরা সকল শিক্ষক বসে মানববন্ধন করার ব্যাপারে সিদ্ধান নিবো।

এদিকে বিবাদী মফিজুল ইসলাম বলেন, এ জমি নিয়ে মামলা চলচ্ছে। তাই আমি কাউকে দখল করতে দিবো না।

এ প্রসঙ্গে থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, অভিযোগটি আমি পেয়েছি, সার্কেল স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা চক্রের ২ চোর গরুসহ গ্রেফতার

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ জন সদস্য, ১টি ষাড় গরু ও তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২১/০২/২০২২ইং বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের এসআই কাজী শাহনেওয়াজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে টনকী ইউনিয়নের চৈনপুর পূর্ব পাড়া কবরস্থানের পাশ থেকে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের ২জন সদস্যকে আটক করেন। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ১টি ষাড় গরু ও চোর চক্রের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান (কুমিল্লা-ন: ১১-০০৫৮) গাড়ীটি উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্য হলেন মুরাদনগর উপজেলার মেটংঘর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৭) এবং দেবিদ্বার উপজেলার মির্জাপুর গ্ৰামের মজিব মিয়ার ছেলে মোঃ সোহাগ (২১)।

উদ্ধারকৃত চুরি হওয়া গরুর মালিক টনকী গ্রামের তোফায়েল মিয়ার স্ত্রী সাহেনা খাতুন বাদী হয়ে বাংগরা বাজার থানায় আটককৃত চোরদের নামে পেনাল কোড ৩৮০/৪১১/৪৫৭ ধারায় (নং ০৬/২২) মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার জানান: আটককৃত আন্তঃজেলা দুই চোর চক্রের সদস্যকে কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আসামীদের মধ্যে আল-আমিনের নামে থানায় পূর্বে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।

মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশী যুবককে এখনও ফেরত দেয়নি বিএসএফ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাতারী সীমান্ত দিয়ে পথ ভুলে ভারতে প্রবেশ করায় মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশী যুবককে আটকের দশদিন পরেও ফেরত দেয়নি বিএসএফ। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম লুৎফর রহমান (২২)। তিনি উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামের রাজমিস্ত্রি সেলিম মিয়ার ছেলে।

লুৎফরের বাবা সেলিম মিয়া জানান, আমার ছেলে লুৎফর ৭/৮ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেক চিকিৎসা করালেও সে স্বাভাবিক হয়নি। তখন থেকে কাউকে কিছু না বলে মাঝে মধ্যেই বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে আবারো নিখোঁজ হয় সে। অনেক জায়গায় খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করে ছেলের ফোন থেকে কল আসে। ফোনে হিন্দিতে কথা বলে ভারতীয় বিএসএফের পরিচয় দেয়। ফোন পাওয়ার পর আমি নিশ্চিত হই যে আমার ছেলে পথভুলে ভারতে প্রবেশ করায় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে। পরে বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পে বিএসএফের হাতে ছেলে আটকের বিষয়টি জানাই।
স্থানীয় নুর হোসেন, আলমগীর হোসেন, মজনু মিয়া জানান, বালাতারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক ৯৩১ নম্বর মেইন পিলারের ২ নম্বর সাব পিলারের পাশ দিয়ে পথভুলে ভারতে প্রবেশের সময় কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার অধীন নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে। এ নিয়ে শনিবার সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নের্তৃত্ব দেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি’র অধীন বালারহাট ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুল হানিফ ও বিএসএফের পক্ষে নের্তৃত্ব দেন ৯০ ব্যাটালিয়নের অধীনের করলা ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর এসআই বিশ্বনাথ।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে লুৎফর নামের এক মানসিক রোগী যুবক বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে বলে শুনেছি। সে ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করেছে। বিজিবি ছেলেটিকে ফেরত আনার চেষ্টা করছে। ছেলেটি পরিবারের কাছে ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা করছি।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি’র অধীন বালারহাট ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুল হানিফ জানান, আটক যুবকের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বিএসএফের সাথে কথা হয়েছে। আটক যুবক দিনহাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মানসিক রোগীর সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে।

কুলাউড়ার গোগালীছড়া বাঁধ নির্মাণের কাজ নিয়ে ঠিকাদারদের গড়িমসি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার গোগালী ছড়া খালের ৩ স্থানের ভাঙন মেরামত কাজের গড়িমসিতে এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার ৭ মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি গোগালীছড়া খালটি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড হয়ে হাকালুকি হাওরে মিলিত হয়েছে। পাহাড় থেকে ছড়ার উৎপত্তি হওয়ায় গত বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ছড়ার দু’কুল উপচে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। গত বছর ২০২১ সালে নদীর দু’কুলের ৩টি স্থানে ভাঙন দেয়ায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দুই তৃতীয়াংশ গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি, স্কুল, মাদরাসা, গবাদি পশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

গত বছরের ২৬ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্যোগ বিবেচনায় জরুরি মেরামতের নির্দেশ দেন। অবশেষে কাজটি সম্পন্নের জন্য গত ২৯ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকার রাহাদ কন্সট্রাকশনকে ৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার কার্যাদেশ প্রদান করে। কিন্ত কার্যাদেশ প্রদানের ৭ মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি কাজ শুরু করেনি।

কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা ও উদাসীনতাকে দায়ী করেন।

তিনি জানান, আর এক মাস পর আবার বৃষ্টি বাদল শুরু হলে কাজ শেষ করা কঠিন হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার তাগদা দেয়া সত্ত্বেও কাজ সম্পন্ন করেনি বা উক্ত প্রতিষ্ঠানকে কোনো টাকা-পয়সা দেয়া হয়নি।

তবে উক্ত ঠিকাদার কাজ শুরু না করলে ১ মাসের মধ্যে অপর কোন ঠিকাদার দিয়ে ভাঙন মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।

আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মায়ের ভাষার জয়ের দিন

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আজকের এই দিনেই জয় হয়েছিল মায়ের ভাষা, বাংলা ভাষার। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। শোক ও গৌরবের অমর একুশের আজকের দিনে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্ণ হলো।

যাদের কারনে জয় হলো মাতৃ ভাষারঃ 

১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১মার্চ ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এদিন সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। ১৫ মার্চ তারা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মুজিবুর রহমান। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। ১৯ এপ্রিল আবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসের শেষে মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। কারাগার থেকেই তার দিকনির্দেশনায় আন্দোলন বেগবান হয়। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

এদিকে, ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

২১ ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত ২০০০ সাল থেকে দিবসটি সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে।

আজ জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

দিবসটি সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এছাড়া, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্পবক অর্পণ করার নিয়ম করা হয়েছে এবার। শহীদ মিনারের সকল প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হয়েছে। মাস্ক পরা ব্যতীত কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচীঃ 

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে শহীদ দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

কর্মসূচির মধ্য রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন।

এ ছাড়া ২২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টায় দলের পক্ষ থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটেনে ২ লাখের বেশী ঘরবাড়ি এখনো বিদ্যুৎবিহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের তাণ্ডবে ব্রিটেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে দেশটির দুই লাখের বেশি মানুষ এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। গত শুক্রবার দেশটিতে প্রচণ্ড শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইউনিস আঘাত হানে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ এনার্জি নেটওয়ার্ক এসোসিয়েশন প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে তবে রবিবার পর্যন্ত ২ লাখের বেশী মানুষ বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। এদের বেশিরভাগই ব্রিটেনের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা। অবশ্য, দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ ওয়েলসের বহু মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ব্রিটেন ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইউনিসে’ লণ্ডভণ্ড হয়েছে সবকিছু। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে ইউরোপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

ব্রিটিশ আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইউনিস শুক্রবার অ্যাজোরস দ্বীপপুঞ্জ এলাকা হয়ে ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে আছড়ে পড়ে। লন্ডনে প্রচণ্ড বাতাসের কারণে বিনোদনকেন্দ্র ‘ও টু অ্যারেনা’র ছাদের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইউনিসকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে ৪৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

এদিকে ওয়েলস, কর্নওয়েল, ডেভন, সামারসেট, উইল্টশায়ার, হ্যাম্পশায়ার, ডোরসেট এবং ব্রিস্টলে শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশজুড়ে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ডেভন বন্দরে জাহাজ চলাচল আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক অপার সম্ভাবনায় পর্যটন স্পট বাঁশঝাড়িয়া মিনি সুন্দরবন!

খুলনা প্রতিনিধিঃ সহজেই সুন্দরবনের সেই ছোঁয়া পেতে চান তাহলে যেতে হবে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের কালিন্দী নদীর পাড়ে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আগতরা সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সুন্দরবনের এই অপরূপ সৌন্দর্য। হ্যা, বাস্তবেই এমন বাঁশঝাড়িয়া মিনি সুন্দরবন!

সুন্দরবনের মূল ভূখন্ড থেকে ৪০/৫০ কিঃ মিঃ উত্তরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশঝাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন কালিন্দী নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরে ৬’শ একরের অধিক চরভরাটে জমি ইতিমধ্যে মিনি সুন্দরবন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানকার বিস্তীর্ণ চর জুড়ে গড়ে উঠেছে সবুজ অরণ্য।

সুন্দরবনের অসংখ্যা প্রজাতির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রকার গাছের দেখা মিলবে এখানে। নদীর মাঝখানে সবুজ সুন্দরী বৃক্ষের সারি আর বনের চারিপাশে জলরাশি যা সকলের মনকে আপ্লুত করবেই। প্রতিদিন প্রকৃতি প্রেমী অসংখ্য মানুষ অবসর সময় কাটাতে ও ছবি তুলতে এখানে আসেন। এই বনে মৌমাছিরা মধু আহরণ করে তৈরি করছে মৌচাক।

পাখিদের বসবাসের জন্য অভয়ারণ্য বলা হয় এই বনকে। সুন্দরী, কেওড়া বাইন গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি পাখি ও বন্য প্রানীদের কারণে ইতিমধ্যে মিনি সুন্দরবন নামে যার পরিচিতি পেয়েছে জেলা জুড়ে। এখানে এলে গাছের শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাস সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় ভ্রমণ পিপাসুদের। এই মিনি সুন্দরবনকে ঘিরে এ অঞ্চালে আসার আলো দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম ম্যানগ্রোভ বন হিসাবে এটি বিস্তৃতি লাভ করায় অনেকটা সম্ভবনার দ্বার খুলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। চারপাশে পানি বেষ্ঠিত এ বনভূমিটি সৌর্ন্দয্য পিপাসু ব্যাক্তির জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। সরকার বাহাদুর যথাযথ ব্যবস্থা নিলে বাঁশঝাড়িয়া মিনি সুন্দরবন হতে পারে দেশের অন্যতম একটি সম্ভাবনার পর্যটন স্পট ও পিকনিক কর্নার।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, ১৯২৬ সালের দিকে বাঁশঝাড়িয়া মৌজায় প্রায় ৩’শ একর জমি কালিন্দীর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এর ১৫ বছর পর ১৯৪০ সালের দিকে কালিন্দী নদীর বাংলাদেশের সীমানায় জেগে ওঠে একটি বিশাল চর। তখন থেকে বাঁশঝাড়িয়া চর নামে এই মিনি সুন্দর বনের আত্ন প্রকাশ ঘটে। ভূতপূর্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ থাকা কালে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মাসুদ হোসেন এ মিনি সুন্দরবন পরিদর্শন করেন।

এসময় স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সাথে ছিলেন। স্থানীয় গ্রামবাসিরা আকবার আলী গাজী (৮০) ও পিয়ার আলী গাইন (৭৫) বলেন, তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের কাঠুরিয়ারা বাঁশঝাড়িয়া বনে নির্বিঘ্নে কাঠ কাঠতো।

১৯৭৭ সালের দিকে সহস্রাধিক ভারতীয় মৎস্য শিকারী বন জবর দখলের জন্য বাঁশঝাড়িয়া বনে একতরফা ভাবে অনুপ্রবেশ করে। এসময় মৎষ্য শিকারের সুবিধার্থে তারা বাংলাদেশের সীমানায় বাঁধ দিতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্ঠি হলে ১৯৭৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে বিডিআর ও বিএসএফ‘র মহাপরিচালক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সিধান্ত হয় যতদিন পর্যন্ত উভয় দেশের মধ্যে যৌথ সীমানা জরিপ সম্পন্ন না হবে ততদিন পর্যন্ত বিরোধপূর্ন ঐ বনভূমির মালিকানা কেউ দাবী করতে পারবে না। সেই থেকে ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সম্পন্ন হয়নি সীমানা জরিপের কাজ। ফলে বাঁশঝাড়িয়া বনভূমি সংক্রান্ত বিরোধেরও কোন নিস্পত্তি হয়নি। তবে চর ও বনভূমি নিয়ে বর্তমানে কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নেই বলে বাঁশঝাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ক্যাম্প কমান্ডার আশরাফুল ইসলাম জানান।

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় একটি শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। খবর রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় শনিবার সোমালিয়ার বেলেদওয়েনে হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বেলেদওয়েনের একটি রেস্তোরাঁয় আত্মঘাতী এক বোমা হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই রেস্তোরাঁয় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকরা ছিলেন।

পুলিশের মুখপাত্র দিনি রোবেল আহমেদ জানিয়েছেন, অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা সাইট ইনটেলিজেন্স বলেছে, সোমালিয়ার বেলেদওয়েনে শহরে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব। দেশটিতে গত দুই সপ্তাহে অন্তত দু’বার হামলা চালিয়েছে এই জঙ্গিগোষ্ঠী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় সোমালিয়ার জাতীয় টেলিভিশন বলছে, বেলেদওয়েনে হামলায় আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন।

রেস্তোরাঁয় আত্মঘাতী বোমা হামলার কারণে হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ এবং স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলায় হতাহতের পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি তারা।

অপহরণের দায়ে উপজেলা যুবদল নেতা গ্রেফতার

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম আঙ্গুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপহরণের মামলায় রোববার ভোর রাতে পাশ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এর আগে শনিবার রাতে তার বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন এক শিক্ষক। জাহাঙ্গীর আলম আঙ্গুর ওই উপজেলার দক্ষিন ঘনেশ্যাম এলাকার রবিউল ইসলামের পুত্র বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর আলম আঙ্গুর গত ১৫ ফেব্রুয়ারী এক নারীকে জোর পুর্বক অপহরন করেন এমন অভিযোগ তুলে ওই নারীর পিতা থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার ভোর রাতে পাশ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহবায়ক সাইদুর রহমান মিঠুল জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম আঙ্গুরকে অপহরণের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বিষয়টি সকালে শুনেছি। দলীয় ফোরামে তার বিষয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রসুল গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।