ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৯১ জন। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের চার দিন পর ব্রাজিলের শহর পেট্রোপলিসে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে শনিবার বেশ কয়েকবার জরুরী সেবা স্থগিত করতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুব কম বলে জানান তারা।

বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুল ও আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয় ৯ শতাধিক মানুষকে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসে পাহাড়ি এলাকার অন্তত ৮০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হ্যান্ড টুলস এবং চেইনসো দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, সঙ্গে ৪১টি স্নিফার কুকুর দিয়েও সহায়তা করা হচ্ছে।

স্থানীয় দমকল বাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দলের কো-অর্ডিনেটর রবার্তো আমারাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এখানে ভারী যন্ত্রপাতি আনা অসম্ভব। সুতরাং আমাদের মূলত পিঁপড়ার মতো কাজ করতে হবে, একটু একটু করে যেতে হবে।

এ ঘটনার পর রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারো শুক্রবার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করে বলেন, শহরটি যুদ্ধের দৃশ্যের মতো বিশাল ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েেছ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর এটিই রিও ডি জেনিরোতে সবচেয়ে বড় বন্যা। তবে সে সময় প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ৭০০ মানুষের।

“জয় বাংলা”কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্কঃ আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভায় বৈঠকে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা ও প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

তিনি আরো জানান, দেশের সব সাংবিধানিক কর্মচারী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জাতীয় স্লোগান হিসেবে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ড. বশির আহমেদ ও ২০১২ সালে আবদুল বাতেন ‘জয় বাংলা’-কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এরপর ২০২০ সালের ১৯ মার্চ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুন আহসান এবং বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার রায় দেন। তিন মাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা থাকলেও তা হয়নি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি কাজী রোজী না ফেরার দেশে

সিএনবিডি ডেস্কঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রোজী (৭৩) না ফেরার দেশে চলে গেছেন। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক এই সংসদ সদস্য মারা যান। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কোভিড পজিটিভ হওয়ায় তাকে আইসোলেশন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, কাজী রোজীর মরদেহ হাসপাতাল থেকে সেগুনবাগিচার বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে মিরপুরে দাফন করা হতে পারে।

এদিকে, কাজী রোজীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এ উপলক্ষে পৃথক শোকবার্তা প্রদান করেন।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, কাজী রোজী তার লেখনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে কাজ করে গেছেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবিতার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তার সাহসী ভূমিকা স্মরণীয় থাকবে।

এছাড়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কাজী রোজীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কাজী রোজী ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

গত শতাব্দির ষাটের দশকে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন কাজী রোজী। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- ‘লড়াই’, ‘পথঘাট মানুষের নাম’, ‘আমার পিরানের কোনো মাপ নেই’ প্রভৃতি। কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০২১ সালের বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।

কবিতা চর্চা ছাড়াও তিনি সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন, ২০০৭ সালে তথ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা জেলার জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কিংবদন্তী অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান চলে যাওয়ার ১ বছর

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশ বরেণ্য, জনপ্রিয়, কিংবদন্তী অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, পাঁচ দশকের বেশি সময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় জগতে ছিল যার পদচারণা। সেই কিংবদন্তী অভিনেতা গত বছরের আজকের তারিখে (২০ ফেব্রুয়ারী) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দর্শকনন্দিত এই অভিনেতার আজ রোববার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ফজরের নামাজের পর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে এ টি এম শামসুজ্জামান তাঁর নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন। জুরাইন কবরস্থানে বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর আগে সন্তানদের কাছে এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার কথা বলে যান তিনি।

কিংবদন্তী অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড়বাড়ি। ঢাকায় থাকতেন পুরান ঢাকার দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পোগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাইস্কুলে। তাঁর বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। মা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ছিলেন একাধারে পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। ১৯৬১ সালের শুরুতে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এ টি এম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। লিখেছেন শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী। তিনি প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

তাঁর অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। যা ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

উল্লেখ্য, বরেণ্য এই অভিনেতা অভিনয়ের জন্য একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ২০১৯ সালে পেয়েছেন ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কার।

২০২২ সালের একুশে পদক পেলেন ২৪ বিশিষ্টজন

জাতীয় ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২৪ বিশিষ্ট নাগরিককে ২০২২ সালের একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশিষ্টজনদের হাতে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত না থাকতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের শুভেচ্ছা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক হস্তান্তর করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

একুশে পদকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পদক হস্তান্তর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পদক পাওয়া ২৪ বিশিষ্টজনেরা হলেন-‘ভাষা আন্দোলন’ ক্ষেত্রে  মোস্তফা এম. এ. মতিন (মরণোত্তর) ও মির্জা তোফাজ্জল হোসেন (মুকুল) (মরণোত্তর)। ‘শিল্পকলা’য় পদক পাচ্ছেন জিনাত বরকতউল্লাহ (নৃত্য), নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর) (সংগীত), ইকবাল আহমেদ (সংগীত), মাহমুদুর রহমান বেণু (সংগীত), খালেদ মাহমুদ খান (খালেদ খান) (মরণোত্তর) (অভিনয়), আফজাল হোসেন (অভিনয়), মাসুম আজিজ (অভিনয়)। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরণোত্তর), কিউ এ বি এম রহমান, আমজাদ আলী খন্দকার। ‘সাংবাদিকতা’য় এম এ মালেক, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’তে মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। ‘সমাজসেবা’য় এস এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথের। ‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ একুশে পদক পেয়েছেন।

এ ছাড়া ‘গবেষণায়’ ড. মো. আবদুস সাত্তার মন্ডল এবং উচ্চফলনশীল জাতের ধান আবিষ্কারের জন্য দলগতভাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. এনামুল হক (দলনেতা), ড. সহানাজ সুলতানা ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস একুশে পদক পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখা ব্যক্তি, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ ৪ লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়ে থাকে।

ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পরে পম্পি রাণী দেব (২২) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে।
শনিবার (১৯ শে ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটগামী পারাবত আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সে মারা যায়। পম্পি কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মৃত শশাঙ্ক দেবের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র মতে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে পম্পির বাবা মারা যাবার পর গত দুই সপ্তাহ আগে মা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন থেকেই সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ভেঙে পরে। রোজ শনিবার দুপুরে মা-বাবার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে বাড়ির লোকজনের অজান্তে টিলাগাঁও রেললাইনে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে পম্পি আত্মহত্যা করে।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি অঞ্জন কুমার পালের সঙ্গে এবিষয়ে জানতে চাইলে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি অঞ্জন কুমার পাল বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে কোভিডি-১৯ গণটিকার প্রস্তুতিমূলক সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি কোভিড-১৯ এর গণটিকা দেয়া ও বাস্তবায়নের লক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে  অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মামুন ভূইয়া, জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল,জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ,জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, ঠাকুরগাঁও প্রেস কাব সভাপতি মনসুর আলী।

আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ’লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা,চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গণটিকা কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন হবার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব, প্রশাসন নীরব

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ আদালতের মামলা কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে মুচলেকা কোনো কিছুতেই তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সুরুজ্জামাল মিয়া ও তার ছেলেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর চরের গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে পাশাপাশি ৪টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব ড্রেজার মেশিনের পাইপের সাথে ৫ থেকে ১০টি করে অতিরিক্ত শ্যালো মেশিন সংযোগ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় আওয়ামী লীগ নেতার এই বালু উত্তোলন ব্যবসায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। তারা মিথ্যা মামলায় পড়ার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহসটুকু পায় না। আর এই সুযোগে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে নিচ্ছেন সুরুজ্জামাল মিয়া ও তার ছেলেরা।
আরো অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীরের ধনারচর চরের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ্জামাল মিয়ার দুই ছেলে আতিকুর রহমান ও আজিজুর রহমানসহ ৪২ জন ড্রেজার মালিকের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম রৌমারী আমলী আদালত একটি আদেশ জারি করেন এবং পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। তদন্ত করে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে তাদের করা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন।
এর আগে, ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম ফেরদৌস এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় আওয়ামীলীগ নেতা সুরুজ্জামাল, তার ছেলে আজিজুর রহমান, আব্দুল আলীম ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর চড়াও হয়। ঘটনার সময় তিনজনকেই ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করে এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপগুলো ধ্বংস করে দেন। পরে ড্রেজার মেশিন না চালানোর শর্তে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু তা বন্ধ না করে উল্টো ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা বাড়িয়ে একাধিক স্থানে বালু উত্তোলন ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন তারা।
বালু ব্যবসায়ী গোলাবাড়ি আকন্দপাড়া গ্রামের মোকবুল হোসেন বলেন, গত বছর আদালতে আত্মসমর্থন করে বালু না তোলার শর্তে আদালত সবাইকে জামিন দেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সন্তানরাসহ ৫-৬ জন এখনও বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর আলী বলেন, সুরুজ্জামাল কয়েক বছর আগে একটি “স” মিলের ব্যবসা করতেন। কিন্তু মাত্র এই ২-৩বছরের মাথায় সে বালুর ব্যবসা, সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কেউই কথা বলতে পারেন না। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে এলাকার মানুষকে একরকম কোণঠাসা করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ্জামাল মিয়া বলেন, আমার একজন শ্যালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পার্সনোল গোয়েন্দা। একজন দেওয়ান গঞ্জের সাংবাদিক। এসব নিয়ে তো নিউজ করার দরকার নেই। খরচাপাতি থাকলে নিয়ে আসো মিলমিশ করে দেই। একলা তো আর বড়লোক হওয়া যায় না। দশে মিলে করি কাজ হারিজিতি নাহি লাজ, বোঝেন নাই?
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, এই বিষয়ের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করেন তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, আমার কাছে যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও কেউ যদি ড্রেজার মেশিন চালু করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীমঙ্গলে মশক নিধন কর্মসূচি কার্যক্রম শুরু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে পৌর শহরে মশক নিধন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র মহসীন মিয়া ।

এডিস ও কিউলেক্স মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান হিসেবে ‘মশক নিধন কর্মসূচি’র উদ্যোগ নিয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌর মেয়র মহসীন মিয়া মধু।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের কালীঘাট রোড এলাকা থেকে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেন। পৌর মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু জানান, আজ থেকে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করেছি পর্যায়ক্রমে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সব কটি এলাকায় এডিস নিধনের ঔষধ ছিটিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হবে।

এডিস মশা নির্মূলের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা ঔষুধ ও ৩টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এডিস মশার ঔষুধ ছিটানো হবে। এসময় তিনি পৌরবাসিকে পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মশা প্রতিরোধে  প্রত্যেক নাগরিক’কে সচেতন হতে হবে। নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল জব্বার আজাদ, ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মোছাঃ তানিয়া আক্তার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে মশক নিধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাহাইল আছির শাখার নব গঠিত কমিটি ঘোষণা

প্রবাসী ডেস্কঃ সৌদি আরবের আওতাভূক্ত আছির প্রদেশে বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাহাইল আছির শাখার নব গঠিত কমিটি ঘোষণার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে এক অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

নবগঠিত কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিরাজ উদ্দিন আশেকের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মোহাম্মদ এরফানের সুললিত কন্ঠে পবিত্র কোরান পাক থেকে তেলোওয়াতের মধ্যে দিয়ে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনায় আনন্দঘন পরিবেশে মুজিবাদর্শের সারথীদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয় অনুষ্ঠানস্থল।

সভায় প্রধান অথিতির আসন অলংকৃত করে মুল্যবান বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ আছির প্রদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু বকর কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ আছির প্রদেশ কেন্দ্রীয় কমিঠির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস. এম. জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আজাদ রহমানসহ সভাপতি আব্দুল করিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কায়ছার মিঞা।

প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাহাইল আছির শাখা। বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তৃতা  রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাহাইল আছির শাখার সিনিয়র সহসভাপতি নুরুচ্ছাফা, সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রমিজউদ্দীন যুগ্ন সাধার সম্পাদক মোঃ নবাব, সাংগাঠনিক সম্পাদক নাজেম উদ্দিন ও সিনিয়র সদস্য জাকের হোছাইন।

আরো উপস্থিত ছিলেন নাছির উদ্দিন, উপদেষ্টা আহমদ ছাপা, উপদেষ্টা মোহাম্মদ রশিদ, উপদেষ্ঠা নুরুল হোছাইন। সহসভাপতি মোহাম্মদ সেলিম, সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহ সভাপতি নুরুল কবির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম, মামুনর রশিদ, মোহাম্মদ হোছাইন। সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকরিয়া, অর্থ সম্পাদক কামাল হোছাইন, সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক নাজেম উদ্দিন, আবুল কালাম, মোহাম্মদ রাশেদ সহ অসংখ্য নেতা কর্মী।

হাজী মোহাম্মদ সেলিম কে সভাপতি ,আজিজুল হক আজিজকে সাধারণ সম্পাদক ও মনিরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত করে ৭৩ সদস্য বিশিষ্ট মাহাইল আছির পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলীক কমিটি ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ আছির প্রদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আবু বকর কামাল।