বসন্তের কোকিলদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না : কাদের

রাজনীতি ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বসন্তের কোকিলদের নেতা বানালে দল দুর্বল হয়ে যাবে। আর খারাপ লোকদের কোনো ভাবেই নেতা বানানো যাবে না। বসন্তের কোকিলদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

গতকাল শনিবার পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। যদি না নিজেরা নিজেদের পরাজিত করে। আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের ঐক্যই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি।

পাশাপাশি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সকলকে এগিয়ে যেতে হবে। দলকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।

ওইদিন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রেজাউল রহিম লালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ দলের কেন্দ্রীয় এবং পাবনার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

পরিবেশ মন্ত্রীর এলাকায় পরিবেশ ধ্বংসের চিত্র বেড়েই চলেছে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বর্তমান সরকারের বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাংসদ। একজন পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসাবে এলাকায় ও জাতীয়ভাবে পরিচিত লাভ করেছেন তিনি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে তার আলাদা গ্রহনযোগ্যতা। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাহাব উদ্দিনকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অত্যন্ত সততার সাথে তিনি গত তিন বছর থেকে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ৷

কিন্তু সম্প্রতি তার ইমেজ নষ্ট করার লক্ষ্যে তার এলাকায় টিলা খেকো চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি টিলার মাটি কেটে বিক্রি করছে তারা৷ এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। তবে টিলাখেকো চক্রকে ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন। যেখানেই টিলা কাটা বা পরিবহনের খবর পাচ্ছেন সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম হাজির হচ্ছে। রাত কিংবা দিন টিলা খেকোদের ধরতে যেকোনো সময় প্রস্তুত উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জিরো টলারেন্স নীতি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে টিলাখেকো চক্রের বি’রুদ্ধে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে ৷ যার মধ্যে ৪টিতে ২ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং বাকিগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে টিলা খেকো চক্র পালিয়ে যায়, ফলে স্পটে কাওকে না পাওয়ায় এ ব্যাপারে নিয়মিত মা’মলা করা হয়েছে ৷ ৪ টি অভিযানের মধ্যে দুইটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী ও দুইটি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম পরিচালনা করেন। আর এই সব অভিযান পরিচালনা কালে সহযোগিতা করেন বড়লেখা থানা পুলিশের দল।

অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত রামরায় দিঘী

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার  প্রাচীন ও সর্ব বৃহৎ রামরায় দিঘীটি যেন অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত। এসব পাখি দেখতে প্রতিদিন ভীড় করছে অনেক দর্শনার্থী।

সরেজমিনে গিয়ে এসব দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরো দিঘির জলাশয় পানি ও পাখিতে সেজেছে নতুন সাজে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাখি ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। প্রতিবছর শীত এলেই এসব পাখি এখানে আসে। আবার শীতের শেষে চলে যায় আপন আপন ঠিকানায়। পাখিদের কলকাকলিতে পুরো এলাকা মুখরিত। পাখি প্রেমি ও সৌন্দর্য পিপাসুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত পর্যটন কেন্দ্র’র পাখিগুলোকে দেখার জন্য ছুটে আসেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি দেখা যায়।

রামরায় দিঘিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে থাকছে অতিথি পাখির দল। পাখিদের মুহুর্মুহু কলতানে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে পাখির স্বর্গরাজ্যে। সন্ধ্যা নামলেই দিঘীপাড়ের লিচু বাগানে আশ্রয় নেয় এসব পাখি। পাখিদের এই মুহুর্মুহু কলতানের টানে প্রতিদিনই দূর দুরান্ত থেকে রামরাই দিঘিতে ছুটে আসছেন পাখি প্রেমী পর্যটকরা।

এ দেশের নদ-নদী, হাওর-বাওড়ের ভালোবাসার টানে লক্ষ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রামরায় দিঘীতে আসে তারা। উপজেলা শহর থেকে ৪ কিমি দূরে উত্তরগাঁও গ্রামের নিকটেই বরেন্দ্র অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাশয় রামরায় দিঘীর অবস্থান। শহর থেকে যে কোন যানবাহনে ১০ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া নেয়। যেতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।

রেখা নামের একজন দর্শনার্থী জানান, রামরায় দিঘিটি এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগের থেকে এখন অনেক সুন্দর হয়েছে। রামরায় দীঘিতে অতিথি পাখি এসেছে শুনে দেখতে এসে বেশ ভালো লাগলো। প্রতিবছরে পাখির আগমনে রামরায়-দিঘী সৌন্দর্য যেন আরো দ্বিগুন হয়ে ওঠে।

মৎস্য চাষী নওরোজ কাউসার কানন, জানান অতিথি পাখির আগমনে আমরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারপরও আমরা পাখিদের যেন সুন্দর একটি অভয়ারণ্য গড়ে ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখছি। কেউ যেন পাখি শিকার না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনসহ আমরা সর্বদা নজরদারি করছি।

জানা গেছে, রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য এবার নতুন করে একটি সুন্দর গেট, বসার জায়গা, গেস্ট হাউজ তৈরীসহ পুকুর ঘাটের সিঁড়ি মেরামত করেছে। এতে আগের চেয়ে পুকুরের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যাও বেড়ে গেছে বহুগুণ।

মৌলভীবাজারে বর্ষিজোড়া ইকো পার্কের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে দেশ-বিদেশী বহু দর্শানর্থীদের আগমন ঘটে। এ জেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওরসহ ১৯২টি চা বাগান রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে সবুজ অরণ্যে অবস্থিত বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। এটিকে সরকারিভাবে ইকোপার্ক ঘোষনা করা হয় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে। রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষনা করা হয় ১৯১৬ সালে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আয়তনে ৮৮৭ একর ভূমি নিয়ে অবস্থিত বর্ষিজোড়া ইকোপার্কটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় অবস্থিত। উত্তরে বর্ষিজোড়া এলাকা, দক্ষিণে বিমান বাহিনীর রাডার স্টেশন, প্রেমনগর চা বাগান, পূর্বে দেওড়াছড়া চা বাগান ও পশ্চিমে জগন্নাথপুর। চিরসবুজ এই বনে রয়েছে শাল, গর্জন, শিমুল, বনাক, সেগুন, জারুল, লোহাকাট, আমলকিসহ আরো হরেক রকমের বৃক্ষ। জীবজন্তুদের মধ্যে রয়েছে বানর, হনুমান, শিয়াল, মেছাবাঘ, উঁদ, কাঠবিড়ালী, সজারু, বনরুই, কাঁকড়া, খরগোশ, অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতীর জীবজন্তু।

সরেজমিনে সম্প্রতি গেলে দেখা যায়, পার্কটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। পাশের ছোট একটি ফটক দিয়ে ইকোপার্কটির ভেতর দিয়ে স্থানীরা যাতায়াত করেন। পার্কের ভিতরের একটি স্থাপনায় কর্তব্যরত কর্মচারীরা থাকলেও ঘরটি তালাবদ্ধ। বনের একটু ভেতরে গেলে দেখা যায় দুই টিলার দুই ধারে দুটি কটেজ রয়েছে। কটেজে গেলে দেখা যায়,  প্রায় নতুন করে নির্মিত এই স্থাপনার দরজা-জানালা ভেঙ্গে চৌচির। কটেজে কোন আসবাবপত্র নেই। উন্মুক্ত কটেজ দুটিতে মরিচিকা ধরেছে। এখানের স্থানীয়দের গরু-বাচুর ও বন্য প্রাণীদের আবাসস্থলে পরিনত হয়েছে দুটি কটেজ। বনের ভেতরের বিশাল আয়তনের যতদূর চোখ যায়, এখানকার কর্তব্যরত কোন চৌকিদার কিংবা গার্ডদের কাউকে দেখা যায়নি।

পার্কের ভেতরে একটি ক্যান্টিনে চা বিক্রি করেন এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এই ক্যান্টিন সরকারি। আমি শুধু কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছি। তিনি বলেন, এটি ইকোপার্ক নামে ঘোষনা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি এখনো। এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এখানে আসার পরিবেশ থাকলে পর্যটক অবশ্যই আসতো। এখনো আসার পরিবেশ হয়নি।

তবে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্ষিজোড়া ইকো পার্কে ২০০৬ সাল থেকে উল্যেখযোগ্য তেমন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। এখনো অনেক কাজ করতে হবে। ইতিপূর্বে সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। সামান্য কাজ ছাড়া আর কিছুই করা যায়নি। কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, এই পার্কটিকে আধুনিকায়ন করতে এর আগে চেষ্টা করা হয়েছে তবে প্রজেক্ট পাশ করানো সম্ভব হয়নি।

বনের ভেতরের অংশে গেলে দেখা যায়, প্রায় শত বছর বয়সী মুল্যবান শত শত বৃক্ষ ঠায় দাড়িয়ে আছে ঠিলায় ঠিলায়। স্থানীয় অনেকের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে তারা জানান, এই পার্কে লোকবলের অভাব। রাতের বেলা বনের যে কোন যায়গা থেকে বৃক্ষ কেটে নিলে মানুষ তো দূরের কথা কোন কাক-পক্ষীও টের পাবে না। এই সুযোগে দিনের পর দিন কেটে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকার গাছ। সরেজমিনে বনের ভেতর ঘুরে যত দূর চোখ যায়, সেখানে প্রায় দেড় হাজার জারুল, মেহগনি ও সেগুন গাছ চোখে পড়ে। প্রতিটি বৃক্ষের দাম সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা করে ধরা হলে দেড় হাজার গাছের দাম পড়ে ৬ কোটি টাকা। ধারনা করা হয়, বনের অন্যান্য বৃক্ষ মিলে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বৃক্ষ রয়েছে বর্ষিজোড়া ইকো পার্কে।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে’র বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করীম চৌধুরীর সাথে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক নিয়ে আলাপচারিতা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, দর্শনার্থী এখানে আসতে পারেন। ইতিপূর্বে আমরা কিছু কাজ করেছি। আরো সাজিয়ে কিছু কাজ করতে হবে। এর আগে আমরা হাতেই নিয়েছিলাম। সামন্য কাজ ছাড়া আর কিছুই করতে পারি নাই্।

এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি স্বীকার করেন “দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে আমরা কোন উন্নয়ন করতে পারিনি”। তিনি বলেন, এখানে অবৈধভাবে কোন গাছ কাটা হয় না। দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও কেন এর উন্নতি হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জাববে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। “কিছু মূল্যমানের কাজ যাচাই বাচাই চলছে, তবে সময় লাগবে।”

বনে মাদকসেবি, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রবের বিষয়ে তিনি বলেন, “এরকম কোন ঘটনা সম্প্রতি ঘটেনি। ছিনতাই ও হয়নি। শহরতলীতে বন আছে। মাদকসেবি আসতেও পারে। তারা আসলে আমাদের চক্ষুর অগুচরে আসা যাওয়া করতে পারে । আসেই না এটা বলাটা ও খুব কঠিন।

ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের তাণ্ডবে ৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঘূর্ণিঝড়টি কর্নওয়ালে আছড়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডেের পশ্চিম অংশে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে- লন্ডনে, লিভারপুলে, হ্যাম্পশায়ারে, বেলজিয়ামে ও আয়ারল্যান্ডে একজন রয়েছেন। নেদারল্যান্ডসে গাছ উপড়ে পড়ে ৩ জনের প্রাণ গেছে। এছাড়া এক ব্রিটিশ ব্যক্তি তার নৌকা থেকে পানিতে পড়ে মারা গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড়টি ১৯৬ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে। এতে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য প্রাচীন গাছ। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন লক্ষাধিক মানুষ। ঝড়ের বেগে লন্ডনের ও-টু অ্যারেনা স্টেডিয়ামের ছাদ উড়ে গেছে। কেঁপে উঠে ক্যানারি ওয়ার্ফের বহুতল ভবনগুলোও।

এদিকে ঝড়ের কারণে একের পর এক বিমান বাতিল করা হয়েছে। ফলে লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দরগুলোতে সব মিলিয়ে ২ লাখ মানুষ আটকে পড়েন।

সূত্র: আলজাজিরা। 

অমর একুশে উপলক্ষে শহীদ মিনারে ৬ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে : ডিএমপি

জাতীয় ডেস্কঃ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি; জাতীয় শহীদ দিবস  ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম।

আজ শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, বোম ডিজপোজাল ইউনিট, ডিবি, র‌্যাব ও সোয়াটের টিম থাকবে।

তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে আসবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা আসবেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেই সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, শহীদ মিনার কেন্দ্রীক চারিদিকে যে রাস্তা রয়েছে তার প্রত্যেকটিতে পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে। চেকপোস্টের বাইরের এলাকা ও ভেতরের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় কেউ কোনো ধরনের ব্যাগ বহন করতে পারবে না। নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রতিবছর এই শহীদ মিনার এলাকা থেকে প্রচুর মোবাইল ফোন চুরি হয়। শত শত মানুষ লাইনে থাকে। এতে করে মোবাইল চুরির বিষয়টি ধরা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজন একসঙ্গে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক পরিধান করতে হবে।

ঢাবি উপাচার্য আরো বলেন, এদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে টিএসসি ও বকশিবাজার, দোয়েল চত্ত্বর থেকে চারখারপুল এবং ফুলার রোড বন্ধ থাকবে। শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পলাশী মোড় থেকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে দিয়ে এসে জগন্নাথ হলের পেছন দিয়ে যেতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চানখারপুল ও দোয়েল চত্ত্বর হয়ে বের হবেন শহীদ মিনারে আগতরা।

কর্ণাটকে হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ৫৮ ছাত্রী বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল শুক্রবার ভারতের কর্ণাটকে শিবমোগা জেলায় হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় একটি স্কুলের ৫৮ ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই ছাত্রীরা হিজাব নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল। তারপরই তাদের বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে স্কুল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও নিজেদের দাবিতে অনড় ছাত্রীরা। তারা বলেন, হিজাব আমাদের অধিকার। আমরা মৃত্যুবরণ করতে রাজি। কিন্তু হিজাবের সঙ্গে আপস করব না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে , বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীদের অনির্দিষ্টকাল স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাদের পাশাপাশি বাকিদের বিরুদ্ধেও ১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগেও মামলা দায়ের হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, গত তিন দিন ধরেই পুলিশ ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাত্র-ছাত্রীদের হিজাব না পরার নিয়মের কথা জানাচ্ছিলেন।

অন্যদিকে, হিজাব বিতর্কে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের তুমাকুরুর জৈন পিইউ কলেজের চাঁদনী নামের এক ইংরেজি প্রভাষক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়টি তিনি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ তাকে হিজাব খুলতে বলেছেন কলেজের অধ্যক্ষ। যা তার আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে। এ সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ বছর ধরে কলেজটিতে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করছিলেন চাঁদনী। কিন্তু কখনোই তার হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি জানায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এবারই প্রথম তকে হিজাব খুলতে বলা হয়েছে।

চাঁদনী পদত্যাগের ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন, আমি ৩ তিন বছর ধরে জৈন পিইউ কলেজে শিক্ষকতা করছি। হিজাব পরার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি আমি। কিন্তু গতকাল অধ্যক্ষ আমাকে বলেন যে, আমি পড়াতে গিয়ে হিজাব বা কোনো ধর্মীয় প্রতীক পরতে পারবো না। আমি গত তিন বছর অন্যদের হিজাব পরা শিখিয়েছি। নতুন এই সিদ্ধান্ত আমার আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে। এ কারণেই আমি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে, চাঁদনীর করা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ কে টি মঞ্জুনাথ বলেন, ওই নারী প্রভাষককে কখনো হিজাব খুলতে বলা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে একদিকে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছেন মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন। কর্ণাটকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে গত মাসে উদুপি জেলার সরকারি বালিকা পিইউ কলেজে ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসতে বাধ্য করার পর। সেই সময় কলেজ প্রশাসন জানায়, ইউনিফর্মের অংশ নয় হিজাব এবং ওই ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ছাত্রীদের ক্লাসে হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায় স্থানীয় ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও তাদের ছাত্র সংগঠন। উদুপির এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের মান্দিয়া এবং শিভামোগগা এলাকায়। সেখানকার কলেজ কর্তৃপক্ষ হিজাব নিষিদ্ধ করে। যদিও আইনে হিজাব পরে মুসলিম ছাত্রীদের ক্লাসে আসতে কোনও বাধা নেই।

তৃতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

স্পোর্টস ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের ফাইনালে বরিশালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে তৃতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা। নারাইন-ঝড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দেওয়া ১৫২ রানের টার্গেটে নেমে ১৫০ রানেই থেমে যায় বরিশালের ইনিংস। আর তাতেই ১ রানেই জিতে বিপিএলে এ নিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতল কুমিল্লা।

ফাইনালে এর আগে দুইবার (২০১৫ ও ২০১৯) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস জয় লাভ করে।

শুক্রবার রাতে মিরপুরের শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনালের মহারণে কুমিল্লার দেয়া ১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরিশালের ওপেনার মুনিম শাহারিয়ার দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলে। শহিদুল ইসলামকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন বৃত্তের ভেতরে থাকা ফাফ ডু প্লেসির হাতে। মুনিমের বিদায়ের পর ক্রিস গেইলকে নিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সৈকত আলী। মাত্র ২৬ বলে দশটি চার ও এক ছয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রান করে ক্যাচ দেন ইমরুল কায়েসের হাতে তানভির ইসলামের বলে। আর গেইল ৩১ বলে ২ ছক্কা ও এক চারে ৩৩ রান করে এলবিডব্লু হন স্বদেশী সুনীলের বলে। গেইল-সৈকতের জুটি থেকে আসে ৫১ বলে ৭৪ রান।

দলীয় ১০৭ রানে গেইলের বিদায়ের পর বরিশালের দরকার ছিল ৪৫ রান। ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ৭ বলে ৭ রান করে ক্যাচ দেন তানভির ইসলামের বলে। পয়েন্টে থাকা মোস্তাফিজ দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে চাপে ফেলেন বরিশালকে। চাপটা আরও বেশি বেড়ে যায় দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় সোহানের রান আউট। ১৩ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফিরে বিপাকে ফেলেন দলকে। তাতে পেন্ডুলামের মতো সমানতালে ম্যাচ ঝুঁকে যায় দু’দলের দিকে। এক রান পর ১৩৪ রানের মাথায় ডোয়াইন ব্রাভোকে ১ রানে এলবিডব্লু করে ফেরান সুনীল নারিন।

জিততে হলে শেষ দুই ওভারে ১৬ রান লাগত বরিশালের। মোস্তাফিজের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শান্ত সাজঘরে ফেরেন ১২ রানে এলবিডব্লু হয়ে। এই ওভারে মোস্তাফিজ দেন ৫ রান। শেষ ওভারে ১০ রান লাগত বরিশালের। স্ট্রাইকে থাকা তৌহিদ হৃদয় সোজা মারলেও ঠেকিয়ে দেন বোলার শহিদুল। পরের বলে অফ সাইডে বল ঠেলে ১ রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন হৃদয়। তৃতীয় বলে এক রান নেন মুজিব। পরের বলটা ওয়াইড হলেও চতুর্থ বলে দুই রান নেন হৃদয়। পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দিলেও হাত ফসকে যায় তানভিরের। শেষ বলে ৩ রান আর নিতে পারেননি কুমিল্লা। শেষ বলে রান আউট হন মুজিব। ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে থামে কুমিল্লা।

কুমিল্লার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন সুনীল নারিন ও তানভির ইসলাম। ১টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম। আর বরিশালের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মুজিব ও শফিকুল। ১ উইকেট করে নেন সাকিব, ব্রাভো ও মেহেদী।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে শূন্য গ্যালারিতে শুরু হয়েছিল এবারের বিপিএল। এলিমিনেটর ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরে দর্শক। আর ফাইনালে নামে দর্শকের ঢল। স্টেডিয়ামের ওপরের তোলার গ্যালারির প্রায় পুরোটাই ছিল ভর্তি। তাদের বাঁধভাঙা উল্লাসের মাঝে বিপিএলে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা ঘরে তোলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

হোমনায় নির্বাচনী শত্রুতায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মো. নাছির উদ্দিন, হোমনা কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার হোমনায়  নির্বাচনী শত্রুতার জের ধরে সালাহ উদ্দিন ওরফে জহির(২৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ঘনিয়ারচর – তেভাগিয়া ষ্টীল ব্রীজের পাশে যুবলীগ নেতা সালাহ উদ্দিন জহিরকে একা পেয়ে কুপিয়ে মৃত্যু হয়েছে মনে করে ফেলে যায়। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত সালাহ উদ্দিন জহির আছাদপুর  ইউনিয়নের ঘনিয়ারচর  গ্রামের মো. রেনু  মিয়ার ছেলে। ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী ও ওয়াইফাই ব্যবসায়ী।

এলাকাবাসি সূত্রে জানাযায়, গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে  একই গ্রামের ৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। মো.  সিদ্দিকুর রহমান( নৌকা), জালাল উদ্দিন পাঠান (আনারস) ও মুকবল হোসেন পাঠান (ঘোড়া) প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। নির্বাচনে  জালাল উদ্দিন পাঠানকে ও তার ভাতিজা মুকবল হোসেন পাঠান সমর্থন দিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানকে পরাজিত করে। এতে  স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দিন পাঠান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর থেকে মুকবল পাঠানের ইন্ধনে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেষ্ঠা করে আসছে। এতে এক পক্ষ অপরের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা মামলা করছে।

নিহত সালাহ উদ্দিন জহির পরাজিত প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থক। পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ পুর থেকে  বাড়ি আসার পথে তেভাগীয়া ষ্টীল ব্রীজের নিকটে তাকে  দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত ও পা কেটে ফেলে মৃত্যু হয়েছে মনে করে  ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরন করা হয়। রাতেই তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তার লাশ দাফন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। থানায় এ ব্যাপারে হত্যা মামলা হয়েছে।

এদিকে নিহত সালাহ উদ্দিন জহিরের বাবা মো. রেনু মিয়া ছেলের শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের দাবি নির্বাচনকে ঘিরে শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।

নিহতের চাচা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. শহিদ মিয়া জানান, নির্বাচনী শত্রুতায় আমার ভাতিজাকে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে  নির্বাচিত চেয়ারম্যান জালাল পাঠান ও তার ভাতিজা মুকবল পাঠানের ইন্ধনে তাদের লোকজন  প্রকাশ্য নৌকার কর্মীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সালাহ উদ্দিন জহির মারা যাওয়ার আগে, বলেগেছে ১০/১৫ জনের  একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তাকে কুপিয়েছে। এর মধ্যে ইয়াসিন, শামীম, সেলিম, বাছির সহ কয়েক জনের নাম বলতে পেরেছে।

তিনি আরো বলেন, জালাল উদ্দিন পাঠান যুবলীগ নেতা মুসলেম হত্যা মামলার আসামী ও মুকবল পাঠান একাধিক নারী পাচার মামলার  আসামী। ইউপি চেয়ারম্যান মুঠো ফোন  রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে মুকবল হোসেন পাঠান জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে এর সাথে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন তিনি।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি

কুলাউড়া পুলিশের জালে পলাতক ধর্ষক গ্রেপ্তার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আসামী রাজু চামটা দাস (২৬), নামে এক ধর্ষন মামলার পলাতক আসামি আটক করেছে পুলিশ। কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা বাগানের মৃত রাম দরিয়া দাস এর পুত্র চামটা দাস বলে জানা যায় পুলিশ সূত্রে।

বরমচাল চা বাগানের কিশোরী ভিকটিম (১৫)‘কে মাটি কাটার কাজে নিয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কুলাউড়া থানাধীন ২নং ভূকশিমইল ইউপির অন্তর্গত বাদে ভূকশিমইল গ্রামের পানাই নদীর পশ্চিম পাড়ে ধানী জমিতে নিয়ে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষন করে।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষন রায় এর সার্বিক দিক নির্দেশনায়, উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জীবান গত ১৭ ফেব্রুয়ারী রাত্রিবেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বরমচাল চা বাগান এলাকা হইতে ধর্ষক রাজু চামটা দাসকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুলাউড়া থানার মামলা নং-১৮(০২)২০২২ ইং মূলে বিজ্ঞ আদালতে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রেরন করা হয়। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।